ডাক্তারদের জন্য ঔষধ কোম্পানির গিফট গ্রহণ করার বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৭৩০৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি একজন ইন্টার্ন চিকিৎস ক হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় বিভিন্ন সময়ে,সেমিনারে ওষুধ কোম্পানি আমাদের খাবারের ব্যবস্থা করে থাকে। পাশাপাশি ছোটখাট গিফট এবং রোগী ভর্তির দিন থাকে সেদিন আমাদের এক বেলা বা দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা করে থাকে। এসব কি খাওয়া যাবে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
একজন চিকিৎসকের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত রোগীর কল্যাণ নিশ্চিত করা। কোম্পনির পক্ষ থেকে বাড়তি সুবিধা ভোগ করার ইচ্ছায় রোগীর কল্যাণের কথা চিন্তা না করে এক কোম্পানির ঔষধই বারবার লেখার মতো গর্হিত কাজ করা চিকিৎসকের জন্য শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ নয় এবং মানবিক দিক থেকেও এটি মারাত্মক অপরাধ। ওষুধ কোম্পানি যদি এ উদ্দেশ্যে গিফট বা খাবারের ব্যবস্থা করে যে, চিকিৎসক তাদের কোম্পানির ওষুধ লিখবেন—তবে শরীয়তের পরিভাষায় এটি সরাসরি 'ঘুষ' (রিশওয়াত) হিসেবে গণ্য হবে। আর যেকোনো অবস্থায় ঘুষ গ্রহণ করা সম্পূর্ণ হারাম।
আর যদি ওষুধ লেখার কোনো বাধ্যবাধকতা বা চুক্তি না থাকে, বরং কোম্পানি থেকে শুধুই সাধারণ সৌজন্যমূলক উপহার দেওয়া হয় বা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়, তবে তা গ্রহণ করার অবকাশ রয়েছে। তবে বাহ্যিকভাবে শর্তহীন মনে হলেও এ ধরনের লেনদেনে সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের অবকাশ থেকে যায়। তাই নিজের দ্বীনদারী, পেশাগত নিরপেক্ষতা ও আমানতদারী রক্ষার্থে এসব গ্রহণ করা থেকে যতটা সম্ভব বিরত থাকাই উত্তম ও নিরাপদ।
سنن أبي داود ت الأرنؤوط (5/ 433)
3580 - - باب في كراهية الرشوة
عن عبدِ الله بن عمرو، قال: لَعَنَ رسولُ الله - صلَّى الله عليه وسلم - الراشِيَ والمُرْتَشِي
7174 صحيح البخاري
أخبرنا أبو حميد الساعدي، قال: استعمل النبي صلى الله عليه وسلم رجلا من بني أسد يقال له ابن الأتبية على صدقة، فلما قدم قال: هذا لكم وهذا أهدي لي، فقام النبي صلى الله عليه وسلم على المنبر - قال سفيان أيضا فصعد المنبر - فحمد الله وأثنى عليه ثم قال: " ما بال العامل نبعثه فيأتي يقول: هذا لك وهذا لي، فهلا جلس في بيت أبيه وأمه، فينظر أيهدى له أم لا، والذي نفسي بيده، لا يأتي بشيء إلا جاء به يوم القيامة يحمله على رقبته، إن كان بعيرا له رغاء، أو بقرة لها خوار، أو شاة تيعر «، ثم رفع يديه حتى رأينا عفرتي إبطيه» ألا هل بلغت " ثلاثا
الموسوعة الفقهية الكويتية (33/ 306
الهدية للقاضي:
35 - يحرم على القاضي قبول الهدية من الخصمين، أو من أحدهما.
أما من ليست له خصومة فإن كان من خواص قرابته أو صحبته أو جرت له عادة بمهاداته قبل القضاء فلا بأس، وإن لم تجر له عادة بذلك لم يجز له القبول، والأولى إن قبل الهدية - ممن ليست له خصومة - أن يعوض المهدي عنها، ويحسن به سد باب قبول الهدايا من كل أحد؛ لأن الهدية تورث إدلال المهدي وإغضاء المهدى إليه، إلا الهدية من ذوي الرحم المحرم - ممن ليست له خصومة - فالأولى قبولها لصلة الرحم؛ ولأن في ردها قطيعة للرحم وهي حرام.
- وأما الرشوة فحرام بلا خلاف لحديث: لعن الله الراشي والمرتشي في الحكم
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
রেফারেন্স উত্তর :
প্রশ্নঃ ৬৯৪২৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ঔষধ কোম্পানি তাদের প্রচারণার অংশ হিসেবে ডাক্তারদের বিভিন্ন কিছু দিয়ে থাকে। এগুলো গ্রহণ না করলেও রোগীরা তার ফায়দা পায় না,বরং কোম্পানি অধিক লাভবান হয়, এর স্বরুপ গুলো হলো ১. ঔষধের স্যাম্পল ২, বিভিন্ন গিফট সামগ্রী ৩. নগদ টাকা ৪. দেশে বিদেশে সেমিনার অংশগ্রহন এ সহায়তা ৫. নির্দিষ্ট ঔষধের উপর গিফট / টাকা,ইত্যাদি এগুলো গ্রহণ করা কী আমার জন্য জায়েজ হবে। ওয়াসিম আহমাদ, সহকারী অধ্যাপক ( মেডিসিন)
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলামী শরীয়তের মূলনীতি হল, একটি কাজের জন্য দুই পক্ষ থেকে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা বা সুবিধা ভোগ করা জায়েজ নয়।
কেননা এর কারণে ব্যক্তি ন্যায় নিষ্ঠা বজায় রাখতে পারে না। পক্ষপাতিত্বের দায়ে দুষ্ট হয়ে যায়।
ঔষধ কোম্পানির পক্ষ থেকে বিভিন্ন উপহার উপঢৌকন ও সুবিধা পেয়ে ডাক্তার সাহেব কখনো রোগীর প্রয়োজন না থাকলেও তার কোম্পানির ঔষধ রোগীকে লিখে দেন। আবার কখনো ঔষধ মানসম্মত না হলেও জেনে বুঝে তা থেকে ভালো ঔষধ বাজারে থাকা সত্ত্বেও গুনগত মানহীন ঔষধ লিখে দেন। কখনো টার্গেট ফিলাপ করার জন্য অতিরিক্ত ঔষধ লিখতে থাকেন। অপরদিকে ডক্টরের চাহিদা পূরণ করার জন্য ঔষধ কোম্পানি ঔষধের বাজারের সাথে পাল্লা দেওয়ার জন্য কম দামে ঔষধ বাজারে ছাড়ে অপরদিকে ব্যয় সংকোচনের জন্য ঔষধের মান খারাপ করে, যার ফলে রোগী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কোনো রুগী যখন ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা ফি প্রদানের মাধ্যমে চিকিৎসা নেয়, তখন যে কোম্পানির ঔষধ রোগীর জন্য উত্তম ও কল্যাণকর, সেই ঔষধ লিখে ব্যবস্থাপত্র দেয়া ডাক্তারের দায়িত্ব হয়ে যায়। এই দায়িত্বের বিনিময়েই মূলত ডাক্তাররা রোগী থেকে ফি নিয়ে থাকে। সুতরাং এ দায়িত্ব পালনের জন্য, ঔষধ কোম্পানি থেকে বিনিময় নেওয়া, তা যে নামেই হোক; ঘুষের অন্তর্ভুক্ত। আর ঘুষ নেয়া যেমন হারাম, তেমনি ঘুষ দেয়াও জঘন্য রকমের হারাম।
আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত আবু দাউদ (৩৫৮০) এবং তিরমিজি শরীফের ১৩৩৭)
হাদিসে এসেছে,
لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم الراشي والمرتشي. -رواه أبو داود (3580) الترمذي (1337) وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া
খতীব, নবোদয় সি ব্লক জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর
ইমাম, বায়তুল ওয়াহহাব জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন