(Debit Card) ডেবিট কার্ডের সুবিধা গ্রহণ জায়েজ নাকি নাজায়েজ?
প্রশ্নঃ ১৩৫১৫১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আসঃআলঃ আশিদক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী।এখানে বাধ্য হয়ে সুদী ব্যাংকের ডেবিট কার্ড ব্যবহার করতে হয়।বর্তমানে আমি কি কিস্তিতে পরিশোধ ও ডিসকাউন্ট সুবিধার জন্য ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারব? যেখানে বার্ষিক ফি ছাড়া সময়মতো পরিশোধ করলে বাড়তি সুদ দিতে হয় না। ডেবিট কার্ডের মতো এখানেও কি প্রয়োজনে ব্যবহারের সুযোগ আছে?
১৬ মার্চ, ২০২৬
대한민국 경기도 화성시 서신면 상안리 ২৭০-১ (KR)
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই!
ডেবিট (Debit Card) কার্ড তৈরি করা এবং তা ব্যবহার করা মূলত জায়েজ। কারণ এটি গ্রহণ করার জন্য কোনো ধরনের সুদভিত্তিক চুক্তি করা হয় না। বরং অ্যাকাউন্টধারীর অ্যাকাউন্টে যত টাকা থাকে, সে কেবল সেই পরিমাণ টাকাই ব্যবহার করতে পারে।
ডেবিট কার্ড ব্যবহার করার ফলে যে ডিসকাউন্ট (Discount) পাওয়া যায়, তা জায়েজ বা নাজায়েজ হওয়ার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে—
১. ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করার কারণে যদি কোনো ছাড় বা ডিসকাউন্ট পাওয়া যায় এবং সেই ছাড় ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়, তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে সেই ডিসকাউন্ট গ্রহণ করা নাজায়েজ হবে। কারণ, এ ছাড়টি ব্যাংক তার গ্রাহককে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকার কারণে দিচ্ছে। শরিয়তের দৃষ্টিতে ব্যাংকে জমা রাখা অর্থ ঋণের হুকুমে গণ্য হয়। আর ঋণের কারণে যে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া গেলে তা সুদের (রিবা) অন্তর্ভুক্ত হয়।
২. যদি এই ছাড়টি সেই প্রতিষ্ঠান বা দোকানের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়, যেখান থেকে কোনো পণ্য কেনা হয়েছে বা যেখানে খাবার খাওয়া হয়েছে, তাহলে এটি তাদের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও সৌজন্য হিসেবে গণ্য হবে। তাই এ ক্ষেত্রে এ ধরনের ডিসকাউন্ট গ্রহণ করা জায়েজ।
৩. যদি ডিসকাউন্টের একটি অংশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এবং আরেকটি অংশ দোকান বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়, তাহলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেওয়া অংশটি জায়েজ হবে না।
৪. যদি এই ছাড়টি না ব্যাংকের পক্ষ থেকে হয়, আর না সেই প্রতিষ্ঠান থেকে যেখানে কেনাকাটা করা হয়েছে; বরং ডেবিট কার্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়, তাহলে দেখতে হবে—সেই প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ লেনদেন যদি জায়েজ হয় এবং তাদের আয় সম্পূর্ণ বা অধিকাংশ হালাল উৎস থেকে আসে, তাহলে এ ক্ষেত্রে সেই ডিসকাউন্ট থেকে উপকৃত হওয়া জায়েজ হবে।
৫. আর যদি জানা না যায় যে এই ডিসকাউন্ট কোন পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে, তাহলে এ ধরনের ডিসকাউন্ট গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা উত্তম।
উল্লেখ্য, উপরোক্ত বিধান মূলত সুদভিত্তিক ব্যাংকের ডেবিট কার্ড সংক্রান্ত। আর সুদমুক্ত (ইসলামি) ব্যাংকের লেনদেন সাধারণত আলেমগণ তত্ত্বাবধান করে থাকেন এবং তারা এ ধরনের ডিসকাউন্টের ক্ষেত্রে শরিয়তের নীতিমালা অনুসরণ করেন। সুতরাং যেসব ব্যক্তির সেই আলেমদের উপর আস্থা আছে, তাদের জন্য এ ধরনের ডিসকাউন্ট গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে।
শরঈ দলীল:
القرآن الکریم: (المائدة، الآیۃ: 2)
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحِلُّوا شَعَائِرَ اللَّهِ وَلَا الشَّهْرَ الْحَرَامَ وَلَا الْهَدْيَ وَلَا الْقَلَائِدَ وَلَا آمِّينَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنْ رَبِّهِمْ وَرِضْوَانًا وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ أَنْ صَدُّوكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَنْ تَعْتَدُوا وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِo
تفسیر القرطبی: (46/6، ط: دار الکتب المصریة)
الثالثة عشرة- قوله تعالى: (وتعاونوا على البر والتقوى) قال الأخفش: هو مقطوع من أول الكلام، وهو أمر لجميع الخلق بالتعاون على البر والتقوى، أي ليعن بعضكم بعضا، وتحاثوا على ما أمر الله تعالى واعملوا به، وانتهوا عما نهى الله عنه وامتنعوا منه، وهذا موافق لما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (الدال على الخير كفاعله).
مصنف ابن ابی شیبة: (327/4، ط: مکتبة الرشد)
حدثنا خالد الاحمر، عن حجاج، عن عطاء، قال: کانو یکرھون کل قرض جر منفعۃ۔
المحیط البرھانی: (394/5، ط: دار الکتب العلمیة)
ذكر محمد رحمه الله في كتاب الصرف عن أبي حنيفة رضي الله عنه: أنه كان يكره كل قرض فيه جر منفعة، قال الكرخي: هذا إذا كانت المنفعة مشروطة في العقد۔
عمدة القاری شرح صحیح البخاری: (106/12، ط: دار احیاء التراث العربی)
رواه أبو داود في (سننه) من رواية خالد بن أبي عمران عن القاسم عن أبي أمامة عن النبي، صلى الله عليه وسلم، قال: من شفع لأخيه شفاعة فأهدى له هدية عليها، فقد أتى بابا عظيما من أبواب الربا، وهذا معنى ما ورد: كل قرض جر منفعة فهو ربا۔
تنقیح الفتاوی الحامدیة: (کتاب البیوع، 500/1، ط: قدیمی)
الدیون تقضیٰ بأمثالها۔
فقہ البیوع: (440/1)
الاشباہ و النظائر: (226/1، ط: دار الکتب العلمیة)
کل قرض جر نفعا حرام۔
الھندیۃ: (343/5، ط: دار الفکر)
آكل الربا وكاسب الحرام أهدى إليه أو أضافه وغالب ماله حرام لا يقبل، ولا يأكل ما لم يخبره أن ذلك المال أصله حلال ورثه أو استقرضه، وإن كان غالب ماله حلالا لا بأس بقبول هديته والأكل منها، كذا في الملتقط.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১