জুমার দিন যে কোন সময় সূরা কাহফের আমল করা যায়
প্রশ্নঃ ১৫১১৪০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি বিগত ৩/৪ বছর ধরে সূরা কাহাফ এর আমল করে আসছি। আমার প্রশ্ন হলো, আমি বৃহস্পতিবার মাগরিব এর পর ইনফেরাদি আমল এর পর পর ই,সূরা কাহাফ পড়ে ফেলি । যেহেতু আমি জানি, জুম্মার নামাজের আমল গুলা, বৃহস্পতিবার মাগরিব এর পরথেকেই শুরু হয়ে যায়, এই পদ্ধতি টা কি ঠিক আছেন কিনা?
১ মে, ২০২৬
ঢাকা ১২১২
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
জুমার দিন সূরা কাহফের ফযীলত সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, এ আমলের মাধ্যমে আলোকিত হবে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়।
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
إِنَّ مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْكَهْفِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَضَاءَ لَهُ مِنَ النُّورِ مَا بَيْنَ الْجُمُعَتَيْنِ.
যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহফ তেলাওয়াত করবে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার জন্য আলো প্রজ¦লিত করা হবে। অর্থাৎ তার জীবন চলার পথ হেদায়েতের নূরে আলোকিত হবে।
-মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস নং ৩৩৯২; সুনানে কুবরা বায়হাকী, হাদীস নং ৫৯৯৬
হাদীসের আলোকে বোঝা যায়, জুমার দিন সূরা কাহফ তেলাওয়াত করা একটি ফযীলতপূর্ণ আমল। তবে এ আমলটি জুমার দিন কোন সময় করা হবে তা হাদীসে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। তাই জুমার দিন যে কোন সময় আমলটি করলে এর ফযীলত পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। আর জুমার দিন হলো, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত। এই ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে জুমার নামাযের আগে বা পরে যে কোন সময় আমলটি করা যায়। অতএব আপনার বৃহস্পতিবার দিবাগত মাগরিবের পরে সূরা কাহফ তেলাওয়াত করা ঠিক আছে। এতে কোন অসুবিধা নেই।
-মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস নং ৩৩৯২; সুনানে কুবরা বায়হাকী, হাদীস নং ৫৯৯৬; রদ্দুল মুহতার : ২/১৬৪
** السنن الكبرى للبيهقي : رقم 5996
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْكَهْفِ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ أَضَاءَ لَهُ مِنَ النُّورِ مَا بَيْنَ الْجُمُعَتَيْنِ ".
** الدر المختار مع رد المحتار : (2/164)
(قوله قراءة الكهف) أي يومها وليلتها، والأفضل في أولهما مبادرة للخير وحذرا من الإهمال وأن يكثر منها فيهما للخبر الصحيح أن الأول يضيء له من النور ما بين الجمعتين ولخبر الدارمي أن الثاني يضيء له من النور ما بينه وبين البيت العتيق ابن حجر
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুহাম্মাদ আশরাফুল আলম
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১