বিনা ওযরে মসজিদের জামা‘আত ছেড়ে বাড়িতে জামা‘আত করা
প্রশ্নঃ ১৪১৩৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, হযরত, আমার জানার বিষয় হলো—আমি যদি কোনো ওযর ছাড়া মসজিদে না গিয়ে বাড়িতে আমার বিবিকে নিয়ে জামা‘আতে নামায আদায় করি, তাহলে কি আমার নামায আদায় হবে? এভাবে বাড়িতে জামা‘আত করা কি আমার জন্য জায়েয হবে? আর মসজিদের জামা‘আতের যে ফযীলত রয়েছে, বাড়িতে বিবিকে নিয়ে জামা‘আতে নামায আদায় করলে কি সেই ফযীলতও পাওয়া যাবে? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
পুরুষদের জন্য বিনা ওজরে মসজিদের জামাত ত্যাগ করা না জায়েয। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসব লোকদের ব্যাপারে কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
কেবলমাত্র বৃষ্টি, অসুস্থতা ইত্যাদি ওযরের কারণে মসজিদে আসতে অপারগ হলে বাসাবাড়িতে পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে নামাজের জামাত করতে পারেন।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ. لَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنِ الصَّلاَةِ إِلاَّ مُنَافِقٌ قَدْ عُلِمَ نِفَاقُهُ أَوْ مَرِيضٌ إِنْ كَانَ الْمَرِيضُ لَيَمْشِي بَيْنَ رَجُلَيْنِ حَتَّى يَأْتِيَ الصَّلاَةَ - وَقَالَ - إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَّمَنَا سُنَنَ الْهُدَى وَإِنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى الصَّلاَةَ فِي الْمَسْجِدِ الَّذِي يُؤَذَّنُ فِيهِ .
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি.) বলেন, আমরা দেখেছি যে, সেই সমস্ত মুনাফিক, যাদের মুনাফিকী সম্পর্কে জানাজানি হয়ে পড়েছিল তারা এবং রোগী ব্যক্তিরা ব্যতীত অন্য কেউ জামাআতে অনুপস্থিত থাকে না; যে সব রোগী দুই জনের কাঁধে ভর করে চলতে সক্ষম তারাও জামাআতে শরীক হতো। তারপর আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে হিদায়াতের রীতিনীতি শিক্ষা দিয়েছেন। এই সকল রীতিনীতির একটি হল সেই মসজিদে নামায আদায় করা যেখানে আযান দেয়া হয়েছে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৬৫৪
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ، قَالَ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَلْقَى اللَّهَ غَدًا مُسْلِمًا فَلْيُحَافِظْ عَلَى هَؤُلاَءِ الصَّلَوَاتِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ فَإِنَّ اللَّهَ شَرَعَ لِنَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم سُنَنَ الْهُدَى وَإِنَّهُنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى وَلَوْ أَنَّكُمْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ كَمَا يُصَلِّي هَذَا الْمُتَخَلِّفُ فِي بَيْتِهِ لَتَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ وَمَا مِنْ رَجُلٍ يَتَطَهَّرُ فَيُحْسِنُ الطُّهُورَ ثُمَّ يَعْمِدُ إِلَى مَسْجِدٍ مِنْ هَذِهِ الْمَسَاجِدِ إِلاَّ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ خَطْوَةٍ يَخْطُوهَا حَسَنَةً وَيَرْفَعُهُ بِهَا دَرَجَةً وَيَحُطُّ عَنْهُ بِهَا سَيِّئَةً وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلاَّ مُنَافِقٌ مَعْلُومُ النِّفَاقِ وَلَقَدْ كَانَ الرَّجُلُ يُؤْتَى بِهِ يُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى يُقَامَ فِي الصَّفِّ .
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, আগামীকাল বিচার দিবসে সে মুসলমান হিসাবে আল্লাহ সাক্ষাত লাভ করবে, তার উচিত এই নামাযসমুহের সংরক্ষণ করা, যেখানে নামাযের জন্য আহবান করা হয়। কারণ, আল্লাহ তোমাদের নবীকে হিদায়াতের সকল পথ বাতলে দিয়েছেন। আর এই সমস্ত নামায হল হিদায়াতের পথ সমুহের অন্যতম। তোমরা যদি এই সকল নামায ঘরে আদায় কর, যেমন একদল লোক জামাআত ছেড়ে ঘরে নামায আদায় করে, তাহলে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নতকে ছেড়ে দিলে। তোমরা যদি নবীর সুন্নত ছেড়ে দাও, তাহলে তোমরা অবশ্যই গুমরাহ হয়ে যাবে। যে উত্তমরূপে পবিত্র হয়ে এই সকল মসজিদের একটির দিকে অগ্রসর হবে তার প্রত্যেক কদমের জন্য একটি করে নেকী লেখা হবে এবং তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং একটি গুনাহ মাফ করা হবে। তারপর একমাত্র প্রকাশ্য মুনাফিক ছাড়া আর কাউকে জামাআত থেকে বাদ পড়তে আমরা দেখিনি। অনেক লোক দু’ জনের কাঁধে ভর করে হেচঁড়িয়ে হেচঁড়িয়ে মসজিদে আসত এবং তাদের সারিতে দাঁড় করিয়া দেয়া হতো। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৬৫৪
عَنْ هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ فِتْيَتِي فَيَجْمَعُوا حُزَمًا مِنْ حَطَبٍ ثُمَّ آتِيَ قَوْمًا يُصَلُّونَ فِي بُيُوتِهِمْ لَيْسَتْ بِهِمْ عِلَّةٌ فَأُحَرِّقُهَا عَلَيْهِمْ " . قُلْتُ لِيَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ يَا أَبَا عَوْفٍ الْجُمُعَةَ عَنَى أَوْ غَيْرَهَا قَالَ صُمَّتَا أُذُنَاىَ إِنْ لَمْ أَكُنْ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَأْثِرُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا ذَكَرَ جُمُعَةً وَلاَ غَيْرَهَا
হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি কিছু সংখ্যক যুবককে কাষ্ঠ সংগ্রহের নির্দেশ দেই। অতঃপর যারা বিনা কারণে নামাযের জামাআতে অনুপস্থিত থাকে তাদের ঘর-বাড়ি জালিয়ে ভষ্মিভূত করে দেই।
রাবী বলেন, আমি ইয়াযীদ ইবনে আসিমকে জিজ্ঞাসা করি, হে আবু আওফ! এ দ্বারা কি কেবলমাত্র জুমআর জামাআতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? বলেন, তা আমি সঠিকভাবে জ্ঞাত নই। কেননা আবু হুরায়রা (রাযি.ৃ) রাসূলুল্লাহ্ ﷺ হতে জুমআ অথবা অন্য কোন নামাযের জন্য নির্দিষ্ট ভাবে বলতে শুনিনি (অতএব এ দ্বারা স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় যে, পাঁচ ওয়াক্তের নামাযের জন্য জামাআতে হাযির হওয়া কর্তব্য।
—সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৫৪৯
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন