অমুসলিমের পক্ষ থেকে ইফতার সামগ্রী বা ইফতারের জন্য টাকা গ্রহণ
প্রশ্নঃ ১৩৯৭৫৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, শায়েখ কোন ইহুদী যদি ইফতার করাতে অথবা ইফতার করানোর জন্য টাকা দিতে চায় তাহলে তা দ্বারা ইফতার সহীহ হবে
২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
RQJ২+M৬৩
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই!
রমযান মাসে মুসলমানদের জন্য অমুসলিমদের পক্ষ থেকে দেওয়া ইফতারের খাবার গ্রহণ করতে কোনো অসুবিধা নেই। অনুরূপভাবে, ইফতারের আয়োজনের জন্য কোনো অমুসলিমের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করাতেও কোনো সমস্যা নেই। কারণ, সর্বোচ্চ যা বলা যেতে পারে তা হলো, এটি একটি উপহার বা হাদিয়া। আর রাসূলুল্লাহ ﷺ কিছু কাফিরের কাছ থেকে উপহার গ্রহণ করেছিলেন।
যেমন,
عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ:
«كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ، فَأَهْدَى لَهُ مَلِكُ أَيْلَةَ بَغْلَةً بَيْضَاءَ، وَكَسَاهُ بُرْدًا…»
আবূ হুমাইদ আস-সা‘দী (রাঃ) বলেন: “আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর সাথে গাজওয়ায়ে তাবুকে ছিলাম। তখন আইলার রাজা নবী ﷺ–কে একটি সাদা খচ্চর উপহার দিয়েছিল এবং তাঁকে একটি পোশাকও পরিয়ে দিয়েছিল।” (সহীহুল বুখারি: ২৯৯০)
অনুরূপভাবে,
عَنْ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ:
«… وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَئِذٍ عَلَى بَغْلَتِهِ الْبَيْضَاءِ الَّتِي أَهْدَاهَا لَهُ فَرْوَةُ بْنُ نُفَاثَةَ الْجُذَامِيُّ …»
আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) হুনাইন যুদ্ধ সম্পর্কে বলেন: “সেদিন রাসূলুল্লাহ ﷺ একটি সাদা খচ্চরের ওপর ছিলেন, যা তাঁকে ফারওয়া ইবন নুফাসা আল-জুযামী উপহার দিয়েছিল।” (সহীহ মুসলিম: ১৭৭৫)
এছাড়াও
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ:
«أَهْدَى أُكَيْدِرُ دُومَةَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَوْبَ حَرِيرٍ، فَأَعْطَانِيهِ، فَقَالَ: شَقِّقْهُ خُمُرًا بَيْنَ الْفَوَاطِمِ»
সাইয়্যিদুনা আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ) বলেন: “দুমাতুল জান্দালের রাজা উকায়দির নবী ﷺ–কে রেশমি কাপড় উপহার দিয়েছিল। তখন তিনি ﷺ তা আলী (রাঃ)–কে দিয়ে বললেন: ‘এটি ফাতিমা নামের নারীদের মধ্যে ওড়না বানিয়ে বণ্টন করে দাও।’” (সহীহুল বুখারি: ২৪৭২; সহীহ মুসলিম: ২০৭১)
ইমাম নববী (রহ.) বলেন: “এই হাদিসে প্রমাণ রয়েছে যে, কাফিরের কাছ থেকে উপহার গ্রহণ করা যেতে পারে।” (শরহ মুসলিম: ১৪/৫০-৫১)
এছাড়াও
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ:
«أَنَّ امْرَأَةً يَهُودِيَّةً أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَاةٍ مَسْمُومَةٍ، فَأَكَلَ مِنْهَا…»
আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেন: “এক ইহুদি নারী রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর কাছে বিষমিশ্রিত বকরির গোশত নিয়ে এলো, আর তিনি তা থেকে কিছু অংশ খেয়েছিলেন।” (সহীহুল বুখারি: ২৪৭৪; সহীহ মুসলিম: ২১৯০)।
অতএব, কাফিরদের উপহার গ্রহণে কোনো অসুবিধা নেই, তাদের বাড়িতে গিয়ে খেতেও কোনো অসুবিধা নেই। তবে শর্ত হলো—মুসলমানদের সাথে তাদের শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক থাকতে হবে। যদি কোনো ধরনের আশঙ্কা বা ভয় থাকে, তাহলে দাওয়াত গ্রহণ করা যাবে না। আরেকটি শর্ত হলো—সে উপহার তাদের কোনো ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট না হওয়া; যেমন জন্মদিন ইত্যাদি। কারণ কাফিরদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে তাদের কাছ থেকে উপহার গ্রহণ করা যাবে না।”
ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব* (২৪/২), মাকতাবা শামিলা
তবে তাদেরকে বন্ধু বানানো ও তাদের দেয়া হাদীয়া রীতিমতো গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা জরুরী।
এমনিভাবে তাদের হাদীয়া দ্বারা যদি তাদের ধর্মীয় কোন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণের বাধ্যবাধকতার বিষয় থাকে, তাহলেও উক্ত টাকা গ্রহণ করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা জরুরী।
ইমদাদুল ফতোয়া ২/৬৬৪; ফতোয়ায়ে দারুল উলুম ৬/
৪৯৪; ইযাহুল মাসালেক ৮৩
শরঈ দলীলঃ
کمافي الهندية: قال محمد: ويكره الأكل والشرب في أوانى المشركين قبل الغسل ومع هذا لو أكل أو شرب فيها قبل الغسل جاز ولا يكون اكلا ولا شاربا حراما وهذا إذا لم يعلم بنجاسة الأواني فأما اذا علم فانه لا يجوز أن يأكل ويشرب منها قبل الغسل (الی قوله)وحكى عن الحاكم الإمام عبد الرحمان الكاتب انه ان ابتلى به المسلم مرة أو مرتين فلا بأس به وأما الدوام عليه فيكره كذا في المحيط اھ(5/347)۔
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১