মৃত ব্যক্তির জন্য রোজা রাখা
প্রশ্নঃ ১৩২৪৬০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, মৃত বেকতির জন্য রোজা রাখা জাবে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় ভাই, নফল রোজা রেখে মৃত ব্যক্তির জন্য সওয়াব পৌঁছানো (ঈসালে সওয়াব) করা তো জায়েজ, কিন্তু মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে তার জীবদ্দশায় ছুটে যাওয়া কাজা রোজাগুলো আদায় করা জায়েজ নয়।
"الأصل أن كل من أتى بعبادة ما،له جعل ثوابها لغيره وإن نواها عند الفعل لنفسه لظاهر الأدلة۔۔۔ (العبادة المالية) كزكاة وكفارة (تقبل النيابة) عن المكلف (مطلقا)۔۔۔ والبدنية) كصلاة وصوم (لا) تقبلها."
(فتاوی شامی , كتاب الحج، باب الحج عن الغير، ج: 2 ص: 595-598، ط: دار الفكر بيروت)
"أن عبد الله بن عمر كان يسأل: هل يصوم أحد عن أحد أو يصلي أحد عن أحد؟ فيقول: «لا يصوم أحد عن أحد ولا يصلي أحد عن أحد»."
(موطا امام مالک, كتاب الصيام، باب النذر في الصيام والصيام عن الميت، ج: 1، ص: 303، ط: دار إحياء التراث العربي)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
রেফারেন্স উত্তর :
প্রশ্নঃ ১৯৬২৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আসসালামুয়ালাইকুম১/ একজন ব্যক্তি মারা গেলেন কিন্তু তিনি অনেক বছর যাবত নামাজ ঠিক মতন পরেন নি তার নামাজ টার কাফফারা কিভাবে আদায় করব। আর কিছু বোঝাও বাকি এগুলো কাফফারা কিভাবে আদায় করব?২/আর এই কাফফারাগুলো কি কোন এতিম মাদ্রাসায় দেয়া যাবে কি?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
(১)--- যদি মৃত ব্যক্তি তার সম্পদ থেকে তার নামায বা রোযার কাফফারা আদায়ের জন্য অসিয়ত করে যায়, আর তার নিজের মালও ছিল। তাহলে তার এক তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে কাফফারা আদায় করতে হবে।
আর যদি তার কোন সম্পদ না থাকে, বা সে মাল রেখে গেছে কিন্তু কোন কাফফারা আদায়ের অসিয়ত করে যায়নি। তাহলে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কাফফারা আদায় করা আত্মীয়দের উপর জরুরী নয়। তবে স্বজনদের কাফফারা আদায় করে দেয়াই উত্তম। এর দ্বারা মৃত ব্যক্তি শান্তি পায়।
নামাযের ফিদিয়া!
যদি কোন ব্যক্তি নামাযের কাযা আদায় না করেই মুমূর্ষ অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। কিংবা মারা যায়, তাহলে তার ইতোপূর্বের কাযা নামাযের ফিদিয়া দেয়ার বিধান আপতিত হয়।
প্রতিদিনকার কাযা করা বিতরসহ ছয় ওয়াক্ত নামায হিসেব করে প্রত্যেক ওয়াক্তের জন্য পৌনে দুই সের গম বা আটা অথবা এর বাজার মূল্য গরীব মিসকিনকে মালিক বানিয়ে দান করে দিতে হবে। অথবা প্রতি ওয়াক্তের বদলে একজন গরীবকে দুই বেলা তৃপ্তি সহকারে খানা খাওয়াতে হবে। যা সদকায়ে ফিতির এর টাকা পরিমাণ হয়। {ফতাওয়া শামী-২/৭২}
সহজ কথায়, প্রতিটি নামাযের জন্য সদকায়ে ফিতির পরিমাণ টাকা গরীবকে দান করে দিতে হবে।
(وَلَوْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صَلَوَاتٌ فَائِتَةٌ وَأَوْصَى بِالْكَفَّارَةِ يُعْطَى لِكُلِّ صَلَاةٍ نِصْفَ صَاعٍ مِنْ بُرٍّ) كَالْفِطْرَةِ (وَكَذَا حُكْمُ الْوِتْرِ) وَالصَّوْمِ، وَإِنَّمَا يُعْطِي (مِنْ ثُلُثِ مَالِهِ) (الدر المختار-2/72
রোযার ফিদিয়া!
যদি কাযা করা রোযা রাখা সুযোগ আর বাকি না থাকে এমন অসুস্থ্য হয়ে পড়ে, বা মারা যায়, তাহলে তার রোযার ফিদিয়া দেবার বিধান আপতিত হয়।
এক্ষেত্রে প্রতি রোযার জন্য গরীবকে দুই বেলা খানা খাওয়াতে হবে। বা এর সমমূল্য দান করতে হবে। যার পরিমাণও সদকায়ে ফিতির পরিমাণ।
أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۚ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ۖ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ ۚ وَأَن تَصُومُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ [[٢:١٨٤]
গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার। [সূরা বাকারা-১৮৩-১৮৪]
(২)--- জী, যাবে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন