হারাম শরীফে জুমার ওয়াক্ত, মাযহাব ভিন্নতা ও কাবলাল জুমার সুন্নতের হুকুম
প্রশ্নঃ ১০১৬৪৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, মক্কায় জুমার ওয়াক্ত হওয়ার ২৮ মিনিট পূর্বে আজান হয়েছে। এখন একজন বলতেছে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী ওয়াক্ত হয় নাই, শাফেয়ী মাজহাব মতে নাকি ওয়াক্ত হয়েছে। আসর ছাড়া অন্য কোন ওয়াক্তে কি হানাফী, শাফেয়ী নামাযের ওয়াক্ত আলাদা হয়?
এছাড়া, জুমার দিন বাইতুল্লায় প্রথম যে আজান দেওয়া হয়—অনেকে এই আযানের পর কাবলাল জুমার ৪ রাকাত সুন্নত নামায পড়েন। ওয়াক্ত যদি না হয়ে থাকে তাহলে কি তা আদায় হবে? মূল ওয়াক্ত হবার পরপরই আযান ও খুতবা শুরু হয়ে যায়—এ অবস্থায় করণীয় কী?
১ মে, ২০২৫
ঢাকা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
শুধুমাত্র আসরের শুরু ওয়াক্ত নিয়ে মাযহাবের মত পার্থক্য রয়েছে। জুমার ওয়াক্তের আরম্ভ হওয়া বিষয়ে সব মাযহাবের মতামত একই রকম। জুমার নামাযের সময় আর যুহরের সময় একই—অর্থাৎ সূর্য ঢলে যাওয়ার পর শুরু হয়।
হারামাইন শরীফাইনে ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আধা ঘন্টা আগে জুমার আযান দিয়ে দেয়। এই আযানের পরে (মাকরুহ সময় ছাড়া) নফল পড়া যাবে। তবে কাবলাল জুমা পড়তে হলে ওয়াক্ত আরম্ভ হওয়ার পরে পড়তে হবে। সুতরাং যারা ওয়াক্ত হওয়ার আগে নফল পড়বেন, সেগুলো সাধারণ নফল হিসেবে গণ্য হবে; জুমার সুন্নত হিসেবে নয়।
ওয়াক্ত আরম্ভ হওয়ার পরে খতিব সাহেব সালাম দেন এবং দ্বিতীয় আজানের পরে খুতবা আরম্ভ হয়ে যায়, ফলে সুন্নত পড়ার জন্য সময় দেওয়া হয় না। তাই ওয়াক্ত হওয়ার পরে যদি খুতবার আগে চার রাকাত সুন্নত পড়ার মতো পর্যাপ্ত সময় না থাকে, তাহলে তা ফরজের পরে পড়ে নিতে হবে।
অতএব জুমার পরে পূর্বের ছুটে যাওয়া সুন্নত আদায় করে নেবে। ফরজের পরে প্রথমে বা’দাল জুমা (পরের সুন্নত), এরপর কাবলাল জুমা (চার রাকাত) আদায় করা উত্তম।
হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا لَمْ يُصَلِّ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ صَلاَّهُنَّ بَعْدَهُ . রাসূলুল্লাহ ﷺ যুহরের পূর্বে চার রাকআত (সুন্নত) আদায় না করতে পারলে যুহরের পর তা আদায় করতেন। সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৪২৬।
ফাতাওয়া শামি (১/৪২১)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
ইসহাক মাহমুদ
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া
খতীব, নবোদয় সি ব্লক জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর
ইমাম, বায়তুল ওয়াহহাব জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া
খতীব, নবোদয় সি ব্লক জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর
ইমাম, বায়তুল ওয়াহহাব জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১