কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
كتاب السنن للإمام أبي داود
২. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ১১৬৫ টি
হাদীস নং: ৯১১
আন্তর্জাতিক নং: ৯১১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭২. নাক দ্বারা সিজদা করা সম্পর্কে।
৯১১. মুয়াম্মাল ইবনুল ফাদল (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা জামাআতের সাথে নামাযের পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কপাল ও নাকে মাটির পরিলক্ষিত হয়।
كتاب الصلاة
باب السُّجُودِ عَلَى الأَنْفِ
حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا عِيسَى، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رُئِيَ عَلَى جَبْهَتِهِ وَعَلَى أَرْنَبَتِهِ أَثَرُ طِينٍ مِنْ صَلاَةٍ صَلاَّهَا بِالنَّاسِ . قَالَ أَبُو عَلِيٍّ هَذَا الْحَدِيثُ لَمْ يَقْرَأْهُ أَبُو دَاوُدَ فِي الْعَرْضَةِ الرَّابِعَةِ .
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৯১২
আন্তর্জাতিক নং: ৯১২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৩. নামাযের মধ্যে কোন দিকে দৃষ্টিপাত করা সম্পর্কে।
৯১২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... জাবের ইবনে সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে প্রবেশ করে দেখেন যে, লোকেরা আকাশের দিকে হাত উত্তোলন করে নামায আদায় করছে। তা দেখে তিনি বলেন, যারা আকাশের প্রতি দৃষ্টিপাত করে নামায পড়ছে। তারা যেন স্ব-স্ব দৃষ্টি অনতিবিলম্বে ফিরিয়ে আনে। অন্যথায় তাদের চক্ষু কখনই তাদের দিকে ফিরে আসবে না।
كتاب الصلاة
باب النَّظَرِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، - وَهَذَا حَدِيثُهُ وَهُوَ أَتَمُّ - عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ طَرَفَةَ الطَّائِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، - قَالَ عُثْمَانُ - قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسْجِدَ فَرَأَى فِيهِ نَاسًا يُصَلُّونَ رَافِعِي أَيْدِيهِمْ إِلَى السَّمَاءِ - ثُمَّ اتَّفَقَا - فَقَالَ " لَيَنْتَهِيَنَّ رِجَالٌ يَشْخَصُونَ أَبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ - قَالَ مُسَدَّدٌ فِي الصَّلاَةِ - أَوْ لاَ تَرْجِعُ إِلَيْهِمْ أَبْصَارُهُمْ " .
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯১৩
আন্তর্জাতিক নং: ৯১৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৩. নামাযের মধ্যে কোন দিকে দৃষ্টিপাত করা সম্পর্কে।
৯১৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, লোকদের কি হয়েছে যে, তারা চক্ষু উপরের দিকে উঠিয়ে নামায আদায় করছে? এ সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করে তিনি বলেন, তারা অবশ্যই যেন উপরের দিকে দৃষ্টিপাত করা থেকে বিরত থাকে। অন্যথায় তাদের চক্ষুসমূহ উপড়িয়ে ফেলা হবে।
كتاب الصلاة
باب النَّظَرِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، حَدَّثَهُمْ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَرْفَعُونَ أَبْصَارَهُمْ فِي صَلاَتِهِمْ " . فَاشْتَدَّ قَوْلُهُ فِي ذَلِكَ فَقَالَ " لَيَنْتَهُنَّ عَنْ ذَلِكَ أَوْ لَتُخْطَفَنَّ أَبْصَارُهُمْ " .
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯১৪
আন্তর্জাতিক নং: ৯১৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৩. নামাযের মধ্যে কোন দিকে দৃষ্টিপাত করা সম্পর্কে।
৯১৪. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ডোরাদার পশমি কাপড় পরিধান করে নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি বলেন, এই কাপড়ের নকশা আমাকে নামায হতে অন্যমনস্ক করেছে। তোমরা এই কাপড়টি আবু জাহামের নিকট নিয়ে যাও এবং তার নিকট হতে নকশা বিহীন কম্বল নিয়ে আস।
كتاب الصلاة
باب النَّظَرِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي خَمِيصَةٍ لَهَا أَعْلاَمٌ فَقَالَ " شَغَلَتْنِي أَعْلاَمُ هَذِهِ اذْهَبُوا بِهَا إِلَى أَبِي جَهْمٍ وَأْتُونِي بِأَنْبِجَانِيَّتِهِ " .
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯১৫
আন্তর্জাতিক নং: ৯১৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৩. নামাযের মধ্যে কোন দিকে দৃষ্টিপাত করা সম্পর্কে।
৯১৫. উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু জাহমের নিকট হতে মোটা চাদর গ্রহণ করার পর তাঁকে বলা হয়, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আপনার) নকশাদার চাদরটি মোটা চাদর হতে উত্তম ছিল।
كتاب الصلاة
باب النَّظَرِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي الزِّنَادِ - قَالَ سَمِعْتُ هِشَامًا، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، بِهَذَا الْخَبَرِ قَالَ وَأَخَذَ كُرْدِيًّا كَانَ لأَبِي جَهْمٍ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ الْخَمِيصَةُ كَانَتْ خَيْرًا مِنَ الْكُرْدِيِّ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯১৬
আন্তর্জাতিক নং: ৯১৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৪. এ বিষয়ে শিথিলতা সম্পর্কে।
৯১৬. আর-রবী ইবনে নাফি (রাহঃ) ..... সাহল ইবনে হানযালিয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফজরের নামাযের ইকামত দেয়ার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযের অবস্থায় দুই পাহাড়ের মধ্যস্থিত সুড়ঙ্গ পথের দিকে নজর করেন।
كتاب الصلاة
باب الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ
حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سَلاَّمٍ - عَنْ زَيْدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَلاَّمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي السَّلُولِيُّ، - هُوَ أَبُو كَبْشَةَ - عَنْ سَهْلِ ابْنِ الْحَنْظَلِيَّةِ، قَالَ ثُوِّبَ بِالصَّلاَةِ - يَعْنِي صَلاَةَ الصُّبْحِ - فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَهُوَ يَلْتَفِتُ إِلَى الشِّعْبِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَانَ أَرْسَلَ فَارِسًا إِلَى الشِّعْبِ مِنَ اللَّيْلِ يَحْرُسُ .
হাদীস নং: ৯১৭
আন্তর্জাতিক নং: ৯১৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৫. নামাযের মধ্যে যে কাজ বৈধ।
৯১৭. আল-কানবী (রাহঃ) ..... আবু কাতাদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় কন্যা যয়নাবের মেয়ে উমামাকে কাঁধে নিয়ে নামায পড়ছিলেন। তিনি সিজদার সময় তাকে নামিয়ে রাখতেন এবং যখন দাঁড়াতেন তখন উঠিয়ে নিতেন।
كتاب الصلاة
باب الْعَمَلِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي وَهُوَ حَامِلٌ أُمَامَةَ بِنْتَ زَيْنَبَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَهَا وَإِذَا قَامَ حَمَلَهَا .
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯১৮
আন্তর্জাতিক নং: ৯১৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৫. নামাযের মধ্যে যে কাজ বৈধ।
৯১৮. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আবু কাতাদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা উপস্থিত থাকাকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উমামা বিনতে আবুল আসকে নিয়ে আমাদের নিকট আসেন, যার মাতা ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কন্যা যয়নাব (রাযিঃ)। এ সময় তিনি (উমামা) শিশু ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে কাঁধে নিয়ে আসেন এবং ঐ অবস্থায় নামায আদায় করেন। তিনি রুকু করার সময় তাকে নামিয়ে রাখতেন এবং দাঁড়ানো থাকাবস্থায় তাকে কাঁধে উঠিয়ে নিতেন। এইভাবে তিনি নামায সমাপ্ত করেন।
كتاب الصلاة
باب الْعَمَلِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ - حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا قَتَادَةَ، يَقُولُ بَيْنَا نَحْنُ فِي الْمَسْجِدِ جُلُوسٌ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَحْمِلُ أُمَامَةَ بِنْتَ أَبِي الْعَاصِ بْنِ الرَّبِيعِ وَأُمُّهَا زَيْنَبُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ صَبِيَّةٌ يَحْمِلُهَا عَلَى عَاتِقِهِ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ عَلَى عَاتِقِهِ يَضَعُهَا إِذَا رَكَعَ وَيُعِيدُهَا إِذَا قَامَ حَتَّى قَضَى صَلاَتَهُ يَفْعَلُ ذَلِكَ بِهَا .
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯১৯
আন্তর্জাতিক নং: ৯১৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৫. নামাযের মধ্যে যে কাজ বৈধ।
৯১৯. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) ..... আমর ইবনে সুলায়ম (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু কাতাদা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উমামা বিনতে আবুল আসকে কাঁধে নিয়ে জামাআতে নামায আদায় করেন। তিনি সিজদার সময় তাকে নামিয়ে রাখতেন।
كتاب الصلاة
باب الْعَمَلِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ مَخْرَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا قَتَادَةَ الأَنْصَارِيَّ، يَقُولُ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي لِلنَّاسِ وَأُمَامَةُ بِنْتُ أَبِي الْعَاصِ عَلَى عُنُقِهِ فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَهَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَلَمْ يَسْمَعْ مَخْرَمَةُ مِنْ أَبِيهِ إِلاَّ حَدِيثًا وَاحِدًا .
হাদীস নং: ৯২০
আন্তর্জাতিক নং: ৯২০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৫. নামাযের মধ্যে যে কাজ বৈধ।
৯২০. ইয়াহয়া ইবনে খালাফ (রাহঃ) ..... রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবী আবু কাতাদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা যোহর অথবা আসরের নামায আদায়ের জন্য আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অপেক্ষায় ছিলাম। এ সময় বিলাল (রাযিঃ) তাঁকে নামাযের জন্য আহবান করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উমামা বিনতে আবুল আসকে কাঁধে নিয়ে আগমন করেন। অতঃপর তিনি ইমামতির জন্য স্বীয় স্থানে দাঁড়ান এবং আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়াই এমতাবস্থায় যে, উমামা তাঁর কাঁধেই ছিল। তিনি আল্লাহু আকবার বলার পর আমরাও তাকবীর বলি।
রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকু করার ইরাদা করলে তাকে নীচে নামিয়ে রেখে রুখু ও সিজদা আদায় করেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে তাকে কাঁধে উঠিয়ে নেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি রাকআতে এরূপ করতে থাকেন।
রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকু করার ইরাদা করলে তাকে নীচে নামিয়ে রেখে রুখু ও সিজদা আদায় করেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে তাকে কাঁধে উঠিয়ে নেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি রাকআতে এরূপ করতে থাকেন।
كتاب الصلاة
باب الْعَمَلِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ - عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، صَاحِبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ نَنْتَظِرُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلصَّلاَةِ فِي الظُّهْرِ أَوِ الْعَصْرِ وَقَدْ دَعَاهُ بِلاَلٌ لِلصَّلاَةِ إِذْ خَرَجَ إِلَيْنَا وَأُمَامَةُ بِنْتُ أَبِي الْعَاصِ بِنْتُ ابْنَتِهِ عَلَى عُنُقِهِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مُصَلاَّهُ وَقُمْنَا خَلْفَهُ وَهِيَ فِي مَكَانِهَا الَّذِي هِيَ فِيهِ قَالَ فَكَبَّرَ فَكَبَّرْنَا قَالَ حَتَّى إِذَا أَرَادَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَرْكَعَ أَخَذَهَا فَوَضَعَهَا ثُمَّ رَكَعَ وَسَجَدَ حَتَّى إِذَا فَرَغَ مِنْ سُجُودِهِ ثُمَّ قَامَ أَخَذَهَا فَرَدَّهَا فِي مَكَانِهَا فَمَا زَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ بِهَا ذَلِكَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ حَتَّى فَرَغَ مِنْ صَلاَتِهِ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯২১
আন্তর্জাতিক নং: ৯২১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৫. নামাযের মধ্যে যে কাজ বৈধ।
৯২১. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, কষ্টদায়ক কাল রংয়ের সাপ ও বিচ্ছুকে তোমরা নামায রত অবস্থায়ও হত্যা করবে।
كتاب الصلاة
باب الْعَمَلِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ ضَمْضَمِ بْنِ جَوْسٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْتُلُوا الأَسْوَدَيْنِ فِي الصَّلاَةِ الْحَيَّةَ وَالْعَقْرَبَ " .
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯২২
আন্তর্জাতিক নং: ৯২২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৫. নামাযের মধ্যে যে কাজ বৈধ।
৯২২. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘরের দরজা বন্ধ করে নামায আদায় করছিলেন। এ সময় আমি এলে তিনি দরজা খুলে দিয়ে পুনরায় নামাযে রত হন। হাদীসে আরও উল্লেখ আছে যে, দরজাটি কিবলামুখী ছিল।
كتاب الصلاة
باب الْعَمَلِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَمُسَدَّدٌ، - وَهَذَا لَفْظُهُ - قَالَ حَدَّثَنَا بِشْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُفَضَّلِ - حَدَّثَنَا بُرْدٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ أَحْمَدُ - يُصَلِّي وَالْبَابُ عَلَيْهِ مُغْلَقٌ فَجِئْتُ فَاسْتَفْتَحْتُ - قَالَ أَحْمَدُ - فَمَشَى فَفَتَحَ لِي ثُمَّ رَجَعَ إِلَى مُصَلاَّهُ . وَذَكَرَ أَنَّ الْبَابَ كَانَ فِي الْقِبْلَةِ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯২৩
আন্তর্জাতিক নং: ৯২৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৬. নামাযে রত থাকাকালে সালামের জবাব দেয়া।
৯২৩. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তিনি নামাযরত থাকাবস্থায় সালাম দিতাম এবং তিনি এর জবাব দিতেন। পরবর্তীকালে আমরা যখন হাবশার বাদশাহ নাজ্জাশীর নিকট হতে ফিরে এসে তাঁকে নামাযের মধ্যে সালাম প্রদান করি, তখন তিনি এর জবাব প্রদান করেন নাই। বরং এসময় তিনি বলেন, অবশ্যই নামাযের মধ্যে (কিরাত, তাসবীহ ইত্যাদি) জরুরী করণীয় কাজ রয়েছে।
كتاب الصلاة
باب رَدِّ السَّلاَمِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا نُسَلِّمُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي الصَّلاَةِ فَيَرُدُّ عَلَيْنَا فَلَمَّا رَجَعْنَا مِنْ عِنْدِ النَّجَاشِيِّ سَلَّمْنَا عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْنَا وَقَالَ " إِنَّ فِي الصَّلاَةِ لَشُغْلاً " .
হাদীস নং: ৯২৪
আন্তর্জাতিক নং: ৯২৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৬. নামাযে রত থাকাকালে সালামের জবাব দেয়া।
৯২৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নামাযরত অবস্থায় সালাম দিতাম এবং আমাদের জরুরী কাজের কথা বলতাম। পরবর্তীকালে আমি হাবশা হতে প্রত্যাবর্তনের পর একদা তাঁকে নামাযের মধ্যে সালাম দিলে তিনি এর উত্তর দেননি। ফলে আমার মনে পুরাতন ও নতুন কথা স্মরণ হয় এবং সালামের জবাব না পাওয়ায় আমি শঙ্কিত হয়ে পড়ি।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায শেষে আমাকে বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা যখন যা ইচ্ছা করেন, তখন তাই নির্দেশ প্রদান করেন। এখন আল্লাহ তাআলা নামাযের মধ্যে কথা না বলার নির্দেশ জারী করেছেন”। একথা বলার পর তিনি আমার সালামের জবাব দেন।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায শেষে আমাকে বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা যখন যা ইচ্ছা করেন, তখন তাই নির্দেশ প্রদান করেন। এখন আল্লাহ তাআলা নামাযের মধ্যে কথা না বলার নির্দেশ জারী করেছেন”। একথা বলার পর তিনি আমার সালামের জবাব দেন।
كتاب الصلاة
باب رَدِّ السَّلاَمِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا نُسَلِّمُ فِي الصَّلاَةِ وَنَأْمُرُ بِحَاجَتِنَا فَقَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُصَلِّي فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَىَّ السَّلاَمَ فَأَخَذَنِي مَا قَدُمَ وَمَا حَدُثَ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاَةَ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ يُحْدِثُ مِنْ أَمْرِهِ مَا يَشَاءُ وَإِنَّ اللَّهَ جَلَّ وَعَزَّ قَدْ أَحْدَثَ مِنْ أَمْرِهِ أَنْ لاَ تَكَلَّمُوا فِي الصَّلاَةِ " . فَرَدَّ عَلَىَّ السَّلاَمَ .
হাদীস নং: ৯২৫
আন্তর্জাতিক নং: ৯২৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৬. নামাযে রত থাকাকালে সালামের জবাব দেয়া।
৯২৫. ইয়াযিদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... সুহাইব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে হাজির হয়ে তাঁকে নামাযরত অবস্থায় দেখতে পাই সালাম দেই। এ সময় তিনি আঙ্গুলের ইশারায় এর জবাব দেন।
كتاب الصلاة
باب رَدِّ السَّلاَمِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مَوْهَبٍ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، أَنَّ اللَّيْثَ، حَدَّثَهُمْ عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ نَابِلٍ، صَاحِبِ الْعَبَاءِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ صُهَيْبٍ، أَنَّهُ قَالَ مَرَرْتُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُصَلِّي فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرَدَّ إِشَارَةً . قَالَ وَلاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ قَالَ إِشَارَةً بِأُصْبُعِهِ وَهَذَا لَفْظُ حَدِيثِ قُتَيْبَةَ .
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৯২৬
আন্তর্জাতিক নং: ৯২৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৬. নামাযে রত থাকাকালে সালামের জবাব দেয়া।
৯২৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আন-নুফাইলী (রাহঃ) ..... জাবের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা আমাকে মুস্তালিক গোত্রের নিকট প্রেরণ করেন। সেখান হতে প্রত্যাবর্তনের পর আমি তাঁকে উটের উপর নামায (নফল) আদায় করতে দেখি। এ সময় আমি তাঁর সাথে কথা বলি এবং তিনি ইশারায় আমার কথার জবাব দেন। এ সময় আমি তাঁকে কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করতে শুনেছি এবং তিনি ইশারায় রুকু সিজদা আদায় করেন। তিনি নামায শেষে আমাকে বলেন, আমি তোমাকে যেজন্য পাঠিয়েছিলাম তার খবর কী? আমি নামাযরত থাকার কারণে এতক্ষণ তোমার সাথে বাক্যালাপ করি নাই।
كتاب الصلاة
باب رَدِّ السَّلاَمِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ أَرْسَلَنِي نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى بَنِي الْمُصْطَلِقِ فَأَتَيْتُهُ وَهُوَ يُصَلِّي عَلَى بَعِيرِهِ فَكَلَّمْتُهُ فَقَالَ لِي بِيَدِهِ هَكَذَا ثُمَّ كَلَّمْتُهُ فَقَالَ لِي بِيَدِهِ هَكَذَا وَأَنَا أَسْمَعُهُ يَقْرَأُ وَيُومِئُ بِرَأْسِهِ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ " مَا فَعَلْتَ فِي الَّذِي أَرْسَلْتُكَ فَإِنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أُكَلِّمَكَ إِلاَّ أَنِّي كُنْتُ أُصَلِّي " .
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯২৭
আন্তর্জাতিক নং: ৯২৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৬. নামাযে রত থাকাকালে সালামের জবাব দেয়া।
৯২৭. আল-হোসাইন ইবনে ঈসা আল-খুরাসানী আদ-দামিগানী (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ কুবার মসজিদে নামায আদায়ের জন্য গমন করেন। এ সময় মদীনার আনসারগণ আগমন করে তাঁকে নামাযে রত থাকাবস্থায় সালাম প্রদান করেন।
রাবী বলেন, তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথী বিলাল (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, তিনি নামাযে থাকাবস্থায় সালামের জবাব কিভাবে দিলেন? বিলাল (রাযিঃ) বলেন, এভাবে দিয়েছেন। রাবী জাফর ইবনে আওন এর (ইশারার) নমুনাস্বরূপ স্বীয় হাতের তালু প্রদর্শন করেন, যার পৃষ্ঠদেশ উপরে এবং বক্ষদেশ নিম্নে অবস্থিত ছিল।
রাবী বলেন, তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথী বিলাল (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, তিনি নামাযে থাকাবস্থায় সালামের জবাব কিভাবে দিলেন? বিলাল (রাযিঃ) বলেন, এভাবে দিয়েছেন। রাবী জাফর ইবনে আওন এর (ইশারার) নমুনাস্বরূপ স্বীয় হাতের তালু প্রদর্শন করেন, যার পৃষ্ঠদেশ উপরে এবং বক্ষদেশ নিম্নে অবস্থিত ছিল।
كتاب الصلاة
باب رَدِّ السَّلاَمِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عِيسَى الْخُرَاسَانِيُّ الدَّامَغَانِيُّ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا نَافِعٌ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يَقُولُ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى قُبَاءَ يُصَلِّي فِيهِ - قَالَ - فَجَاءَتْهُ الأَنْصَارُ فَسَلَّمُوا عَلَيْهِ وَهُوَ يُصَلِّي . قَالَ فَقُلْتُ لِبِلاَلٍ كَيْفَ رَأَيْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرُدُّ عَلَيْهِمْ حِينَ كَانُوا يُسَلِّمُونَ عَلَيْهِ وَهُوَ يُصَلِّي قَالَ يَقُولُ هَكَذَا وَبَسَطَ كَفَّهُ . وَبَسَطَ جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ كَفَّهُ وَجَعَلَ بَطْنَهُ أَسْفَلَ وَجَعَلَ ظَهْرَهُ إِلَى فَوْقٍ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯২৮
আন্তর্জাতিক নং: ৯২৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৬. নামাযে রত থাকাকালে সালামের জবাব দেয়া।
৯২৮. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নামাযে এবং সালামে কোন ক্ষতি নেই।
রাবী আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন, এর অর্থ এই যে, তুমি কাউকে সালাম প্রদান করলে এবং সে উত্তর না দিলে তোমার কোন ক্ষতি নেই। অপর দিকে ধোঁকা হল এই যে, নামাযী ব্যক্তি কত রাকআত নামায আদায় করেছে তাতে সন্দিহান, এতেও কোন ক্ষতি নেই।
রাবী আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন, এর অর্থ এই যে, তুমি কাউকে সালাম প্রদান করলে এবং সে উত্তর না দিলে তোমার কোন ক্ষতি নেই। অপর দিকে ধোঁকা হল এই যে, নামাযী ব্যক্তি কত রাকআত নামায আদায় করেছে তাতে সন্দিহান, এতেও কোন ক্ষতি নেই।
كتاب الصلاة
باب رَدِّ السَّلاَمِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ غِرَارَ فِي صَلاَةٍ وَلاَ تَسْلِيمٍ " . قَالَ أَحْمَدُ يَعْنِي فِيمَا أُرَى أَنْ لاَ تُسَلِّمَ وَلاَ يُسَلَّمَ عَلَيْكَ وَيُغَرِّرُ الرَّجُلُ بِصَلاَتِهِ فَيَنْصَرِفُ وَهُوَ فِيهَا شَاكٌّ .
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯২৯
আন্তর্জাতিক নং: ৯২৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৬. নামাযে রত থাকাকালে সালামের জবাব দেয়া।
৯২৯. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাবী বলেন, এই হাদীসটি মারফু, অর্থাৎ নবী করীম(ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নামাযের মধ্যেও সালামে কোন ক্ষতি নেই।
كتاب الصلاة
باب رَدِّ السَّلاَمِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ - أُرَاهُ رَفَعَهُ - قَالَ " لاَ غِرَارَ فِي تَسْلِيمٍ وَلاَ صَلاَةٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ ابْنُ فُضَيْلٍ عَلَى لَفْظِ ابْنِ مَهْدِيٍّ وَلَمْ يَرْفَعْهُ .
হাদীস নং: ৯৩০
আন্তর্জাতিক নং: ৯৩০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৭. নামাযরত অবস্থায় হাঁচির জওয়াব দেওয়া।
৯৩০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... মুআবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে নামায আদায় করি। এ সময় এক ব্যক্তি হাঁচি দিলে আমি “ইয়ারহামুকাল্লাহ” (আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন) বলি। তখন অন্যান্য লোকেরা আমার প্রতি বক্র দৃষ্টিতে তাকায়। তখন আমি অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে তাদের বলি, তোমরা আমার প্রতি এরূপ বক্র দৃষ্টিতে তাকাচ্ছ কেন? তখন তারা আমার রানের উপর হাত মারছিল, ফলে আমি বুঝতে পারি যে, তারা আমাকে চুপ করতে বলেছে।
রাবী উসমান (রাহঃ) বলেন, আমি যখন বুঝতে পারলাম যে, তারা আমাকে চুপ থাকে বলেছে, তখন আমি নিজেই চুপ করে থাকলাম। নামায সমাপ্তির পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে মারেন নাই আমাকে ধমক বা গালিও দেন নাই। অতঃপর তিনি বলেন, মনে রাখবে এটা নামায, এর মধ্যে কথাবার্তা বলা অনুচিত। বরং নামাযের মধ্যে কেবল তাসবীহ, তাকবীর, কুরআনের আয়াত পাঠ করা যেতে পারে। অথবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অনুরূপ কিছু বলেছেন।
তখন আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি অন্ধকার যুগের অতি নিকটের লোক, আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহ করে আমাদের দ্বীন ইসলামের গ্রহণের সুযোগ দিয়েছেন। আমাদের মধ্যে এখনও অনেক লোক এরূপ আছে যারা গণকের নিকট গমন করে থাকে। জবাবে তিনি বলেন, এটা এমন একটা ধারণা যা তাদের অন্তরে সৃষ্টি হয়ে থাকে, তা যেন তাদেরকে কোন কাজ থেকে বিরত না রাখে। তখন আমি বলি আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে, যারা রেখা টেনে ভাগ্য-বিধি নির্ধারণ করে থাকে। জবাবে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী কোন কোন নবীও এর সাহায্য নিয়েছেন, কাজেই যার রেখা তার ভাগ্যের অনুকূল হবে, তা তার জন্য যথেষ্ট। তখন আমি বলি, আমার একটি দাসী আছে যে ওহুদ ও জাওনিয়াহ নামক স্থানে বকরী চরায়।
একদা আমি সেখানে গিয়ে দেখি নেকড়ে একটি বকরী নিয়ে গেছে এবং আমি আদম সন্তান হিসাবে এজন্য দুঃখিত ও রাগান্বিত হয়ে তাকে চপেটাঘাত করি। তা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটাকে ঘোরতর অপরাধ হিসাবে গণ্য করেন। তখন আমি বলি, আমি কি তাকে আযাদ করে দিব? তখন নবী করীম (ﷺ) সেই দাসীকে তাঁর নিকট আনার নির্দেশ দেন। তখন আমি তাকে তাঁর খিদমতে উপস্থিত করলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেন; আল্লাহ তাআলা কোথায় অবস্থান করেন? জবাবে সে বলে, আসমানে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেন, আমি কে? জবাবে দাসী বলে, আপনি আল্লাহর রাসূল। তখন তিনি বলেন, তাকে আযাদ করে দাও, কেননা সে একজন ঈমানদার স্ত্রীলোক।
রাবী উসমান (রাহঃ) বলেন, আমি যখন বুঝতে পারলাম যে, তারা আমাকে চুপ থাকে বলেছে, তখন আমি নিজেই চুপ করে থাকলাম। নামায সমাপ্তির পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে মারেন নাই আমাকে ধমক বা গালিও দেন নাই। অতঃপর তিনি বলেন, মনে রাখবে এটা নামায, এর মধ্যে কথাবার্তা বলা অনুচিত। বরং নামাযের মধ্যে কেবল তাসবীহ, তাকবীর, কুরআনের আয়াত পাঠ করা যেতে পারে। অথবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অনুরূপ কিছু বলেছেন।
তখন আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি অন্ধকার যুগের অতি নিকটের লোক, আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহ করে আমাদের দ্বীন ইসলামের গ্রহণের সুযোগ দিয়েছেন। আমাদের মধ্যে এখনও অনেক লোক এরূপ আছে যারা গণকের নিকট গমন করে থাকে। জবাবে তিনি বলেন, এটা এমন একটা ধারণা যা তাদের অন্তরে সৃষ্টি হয়ে থাকে, তা যেন তাদেরকে কোন কাজ থেকে বিরত না রাখে। তখন আমি বলি আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে, যারা রেখা টেনে ভাগ্য-বিধি নির্ধারণ করে থাকে। জবাবে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী কোন কোন নবীও এর সাহায্য নিয়েছেন, কাজেই যার রেখা তার ভাগ্যের অনুকূল হবে, তা তার জন্য যথেষ্ট। তখন আমি বলি, আমার একটি দাসী আছে যে ওহুদ ও জাওনিয়াহ নামক স্থানে বকরী চরায়।
একদা আমি সেখানে গিয়ে দেখি নেকড়ে একটি বকরী নিয়ে গেছে এবং আমি আদম সন্তান হিসাবে এজন্য দুঃখিত ও রাগান্বিত হয়ে তাকে চপেটাঘাত করি। তা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটাকে ঘোরতর অপরাধ হিসাবে গণ্য করেন। তখন আমি বলি, আমি কি তাকে আযাদ করে দিব? তখন নবী করীম (ﷺ) সেই দাসীকে তাঁর নিকট আনার নির্দেশ দেন। তখন আমি তাকে তাঁর খিদমতে উপস্থিত করলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেন; আল্লাহ তাআলা কোথায় অবস্থান করেন? জবাবে সে বলে, আসমানে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেন, আমি কে? জবাবে দাসী বলে, আপনি আল্লাহর রাসূল। তখন তিনি বলেন, তাকে আযাদ করে দাও, কেননা সে একজন ঈমানদার স্ত্রীলোক।
كتاب الصلاة
باب تَشْمِيتِ الْعَاطِسِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - الْمَعْنَى - عَنْ حَجَّاجٍ الصَّوَّافِ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَطَسَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ فَقُلْتُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ فَرَمَانِي الْقَوْمُ بِأَبْصَارِهِمْ فَقُلْتُ وَاثُكْلَ أُمِّيَاهُ مَا شَأْنُكُمْ تَنْظُرُونَ إِلَىَّ فَجَعَلُوا يَضْرِبُونَ بِأَيْدِيهِمْ عَلَى أَفْخَاذِهِمْ فَعَرَفْتُ أَنَّهُمْ يُصَمِّتُونِي - فَقَالَ عُثْمَانُ - فَلَمَّا رَأَيْتُهُمْ يُسَكِّتُونِي لَكِنِّي سَكَتُّ قَالَ فَلَمَّا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - بِأَبِي وَأُمِّي - مَا ضَرَبَنِي وَلاَ كَهَرَنِي وَلاَ سَبَّنِي ثُمَّ قَالَ " إِنَّ هَذِهِ الصَّلاَةَ لاَ يَحِلُّ فِيهَا شَىْءٌ مِنْ كَلاَمِ النَّاسِ هَذَا إِنَّمَا هُوَ التَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ " . أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا قَوْمٌ حَدِيثُ عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ وَقَدْ جَاءَنَا اللَّهُ بِالإِسْلاَمِ وَمِنَّا رِجَالٌ يَأْتُونَ الْكُهَّانَ . قَالَ " فَلاَ تَأْتِهِمْ " . قَالَ قُلْتُ وَمِنَّا رِجَالٌ يَتَطَيَّرُونَ . قَالَ " ذَاكَ شَىْءٌ يَجِدُونَهُ فِي صُدُورِهِمْ فَلاَ يَصُدُّهُمْ " . قُلْتُ وَمِنَّا رِجَالٌ يَخُطُّونَ . قَالَ " كَانَ نَبِيٌّ مِنَ الأَنْبِيَاءِ يَخُطُّ فَمَنْ وَافَقَ خَطَّهُ فَذَاكَ " . قَالَ قُلْتُ جَارِيَةٌ لِي كَانَتْ تَرْعَى غُنَيْمَاتٍ قِبَلَ أُحُدٍ وَالْجَوَّانِيَّةِ إِذِ اطَّلَعْتُ عَلَيْهَا إِطْلاَعَةً فَإِذَا الذِّئْبُ قَدْ ذَهَبَ بِشَاةٍ مِنْهَا وَأَنَا مِنْ بَنِي آدَمَ آسَفُ كَمَا يَأْسَفُونَ لَكِنِّي صَكَكْتُهَا صَكَّةً فَعَظَّمَ ذَاكَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ أَفَلاَ أُعْتِقُهَا قَالَ " ائْتِنِي بِهَا " . قَالَ فَجِئْتُهُ بِهَا فَقَالَ " أَيْنَ اللَّهُ " . قَالَتْ فِي السَّمَاءِ . قَالَ " مَنْ أَنَا " . قَالَتْ أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ . قَالَ " أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ " .