কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

كتاب السنن للإمام أبي داود

২. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১১৬৫ টি

হাদীস নং: ৯৩১
আন্তর্জাতিক নং: ৯৩১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৭. নামাযরত অবস্থায় হাঁচির জওয়াব দেওয়া।
৯৩১. মুহাম্মাদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... মুআবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে আগমনের পর আমাকে শরীয়তের হুকুম আহকাম সম্পর্কে শিক্ষাদান করা হয়। এ সময় আমায় এরূপ শিক্ষা দেয়া হয় যে, যখন তুমি হাঁচি দিবে তখন “আলহামদু লিল্লাহ” বলবে এবং যখন অন্য কাউকে হাঁচি দেয়ার পর “আলহামদু লিল্লাহ” বলতে শুনবে, তখন তুমি “ইয়ারহামুকাল্লা” বলবে। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে নামায আদায় করা কালে এক ব্যক্তি হাঁচি দিয়ে “আলহামদুলিল্লাহ” বললে আমি তার জবাবে উচ্চস্বরে “ইয়ারহামুকাল্লা” বলি। তখন উপস্থিত জনগণ আমার প্রতি বক্র দৃষ্টিতে তাকাতে থাকে, যা আমার জন্য খুবই কষ্টদায়ক ছিল। তখন আমি তাদের সম্বোধন করে বলি: তোমরা প্রতি এরূপ দৃষ্টিতে কেন তাকাচ্ছ?

রাবী বলেন, অতঃপর লোকেরা তাসবীহ ও সুবহানাল্লাহ বলেন। অতঃপর নামায সমাপান্তে নবী করীম (ﷺ) বলেন, নামাযের সময় কে কথা বলেছ? জবাবে তাঁকে জানানো হয় যে, এই বেদুঈন লোকটি কথা বলেছে। রাবী বলেন, তখন নবী করীম (ﷺ) আমাকে কাছে ডেকে বলেনঃ মনে রেখ, নামাযের মধ্যে কেবল মাত্র কুরআন পাঠ ও আল্লাহর যিক্‌রই হয়ে থাকে। কাজেই যখন তুমি নামায আদায় করবে, তখন তোমার এরূপ অবস্থা হওয়া দরকার। রাবী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে অধিক দয়ালু ও বিনয়ী কোন শিক্ষক কখনও দেখি নাই।
كتاب الصلاة
باب تَشْمِيتِ الْعَاطِسِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ النَّسَائِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ، قَالَ لَمَّا قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عُلِّمْتُ أُمُورًا مِنْ أُمُورِ الإِسْلاَمِ فَكَانَ فِيمَا عُلِّمْتُ أَنْ قَالَ لِي " إِذَا عَطَسْتَ فَاحْمَدِ اللَّهَ وَإِذَا عَطَسَ الْعَاطِسُ فَحَمِدَ اللَّهَ فَقُلْ يَرْحَمُكَ اللَّهُ " . قَالَ فَبَيْنَمَا أَنَا قَائِمٌ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلاَةِ إِذْ عَطَسَ رَجُلٌ فَحَمِدَ اللَّهَ فَقُلْتُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ رَافِعًا بِهَا صَوْتِي فَرَمَانِي النَّاسُ بِأَبْصَارِهِمْ حَتَّى احْتَمَلَنِي ذَلِكَ فَقُلْتُ مَا لَكُمْ تَنْظُرُونَ إِلَىَّ بِأَعْيُنٍ شُزْرٍ قَالَ فَسَبَّحُوا فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاَةَ قَالَ " مَنِ الْمُتَكَلِّمُ " . قِيلَ هَذَا الأَعْرَابِيُّ فَدَعَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِي " إِنَّمَا الصَّلاَةُ لِقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ وَذِكْرِ اللَّهِ جَلَّ وَعَزَّ فَإِذَا كُنْتَ فِيهَا فَلْيَكُنْ ذَلِكَ شَأْنَكَ " . فَمَا رَأَيْتُ مُعَلِّمًا قَطُّ أَرْفَقَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯৩২
আন্তর্জাতিক নং: ৯৩২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৮. ইমামের পিছনে আমীন বলা সম্পর্কে।
৯৩২. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) .... ওয়াইল ইবনে হুজর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) “ওয়ালাদ্দল্লীন” পাঠ করার পর জোরে “আমীন” বলতেন।
كتاب الصلاة
باب التَّأْمِينِ وَرَاءَ الإِمَامِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ، عَنْ حُجْرٍ أَبِي الْعَنْبَسِ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَرَأَ ( وَلاَ الضَّالِّينَ ) قَالَ " آمِينَ " . وَرَفَعَ بِهَا صَوْتَهُ .
হাদীস নং: ৯৩৩
আন্তর্জাতিক নং: ৯৩৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৮. ইমামের পিছনে আমীন বলা সম্পর্কে।
৯৩৩. মাখলাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ...... ওয়াইল ইবনে হুজর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পিছনে নামায আদায় করা কালে তিনি উচ্চ স্বরে আমীন বলেন এবং (নামায শেষে) ডান ও বাম দিকে সালাম ফিরান এভাবে যে, আমি তাঁর গণ্ডদেশের সাদা অংশ পরিষ্কারভাবে দেখি।
كتاب الصلاة
باب التَّأْمِينِ وَرَاءَ الإِمَامِ
حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ الشَّعِيرِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ حُجْرِ بْنِ عَنْبَسٍ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، أَنَّهُ صَلَّى خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَهَرَ بِآمِينَ وَسَلَّمَ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ خَدِّهِ .
হাদীস নং: ৯৩৪
আন্তর্জাতিক নং: ৯৩৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৮. ইমামের পিছনে আমীন বলা সম্পর্কে।
৯৩৪. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর চাচাত ভাই আবু আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) “গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দল্লীন” পাঠের পর এমন জোরে আমীন’ বলতেন যে প্রথম কাতারে তাঁর নিকটবর্তী লোকেরা এই শব্দ শুনতে পেত।
كتاب الصلاة
باب التَّأْمِينِ وَرَاءَ الإِمَامِ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، عَنْ بِشْرِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ عَمِّ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا تَلاَ ( غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ ) قَالَ " آمِينَ " . حَتَّى يَسْمَعَ مَنْ يَلِيهِ مِنَ الصَّفِّ الأَوَّلِ .
হাদীস নং: ৯৩৫
আন্তর্জাতিক নং: ৯৩৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৮. ইমামের পিছনে আমীন বলা সম্পর্কে।
৯৩৫. আল কানবী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যখন ইমাম “গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দল্লীন” বলবে, তখন তোমরা আমীন’ বল। কেননা যার আমীন’ শব্দটি ফিরিশতার আমীন শব্দের সাথে মিশ্রিত হবে, তার অতীত যাবতীয় (সগীরা বা ছোট) গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।
كتاب الصلاة
باب التَّأْمِينِ وَرَاءَ الإِمَامِ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قَالَ الإِمَامُ ( غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ ) فَقُولُوا " آمِينَ " . فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .
হাদীস নং: ৯৩৬
আন্তর্জাতিক নং: ৯৩৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৮. ইমামের পিছনে আমীন বলা সম্পর্কে।
৯৩৬. আল কানবী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যখন ইমাম আমীন বলবে, তখন তোমরাও আমীন বলবে। কেননা যে ব্যক্তির আমীন শব্দ ফিরিশতার আমীন শব্দের সাথে মিলবে তার পূর্ব-জীবনের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।

ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও আমীন’ বলতেন।
كتاب الصلاة
باب التَّأْمِينِ وَرَاءَ الإِمَامِ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَمَّنَ الإِمَامُ فَأَمِّنُوا فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " آمِينَ " .
হাদীস নং: ৯৩৭
আন্তর্জাতিক নং: ৯৩৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৮. ইমামের পিছনে আমীন বলা সম্পর্কে।
৯৩৭. ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... বিলাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার আগে আমীন’ বলবেন না।
كتاب الصلاة
باب التَّأْمِينِ وَرَاءَ الإِمَامِ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ رَاهَوَيْهِ، أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ بِلاَلٍ، أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لاَ تَسْبِقْنِي " بِآمِينَ " .
হাদীস নং: ৯৩৮
আন্তর্জাতিক নং: ৯৩৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৮. ইমামের পিছনে আমীন বলা সম্পর্কে।
৯৩৮. আল-ওয়ালীদ ইবনে উতবা আদ-দিমাশকী (রাহঃ) ..... আবু মুসাব্বিহ আল মাকরাঈ (রাহঃ) বলেন, আমরা আবু যোহাইর আন নুমাইরী (রাযিঃ) এর খিদমতে বসতাম এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একজন প্রিয় সাহাবী ছিলেন। তিনি উত্তম হাদীস সমূহ বর্ণনা করতেন। অতঃপর আমাদের মধ্যকার কোন ব্যক্তি যখন কোনরূপ দু'আ করত তখন তিনি বলতেন, তোমরা আমীন শব্দের উপর দু'আ শেষ করবে। কেননা আমীন শব্দটি ঐশী গ্রন্থের মোহর বা সিলস্বরূপ। এ প্রসঙ্গে আমি তোমাদের কাছে একটি ঘটনা বর্ণনা করতে চাই।

এক রাতে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে বাইরে গমন করি। এসময় আমরা এমন এক ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হই, যিনি অনেক অনুনয়-বিনয় সহকারে দু'আ করেন। নবী করীম (ﷺ) তার কথা শ্রবণের জন্য সেখানে দণ্ডায়মান হন। তখন নবী করীম (ﷺ) বলেন, যদি সে শেষ করে তবে তার দু'আ কবুল হবে। এ সময় সমবেত লোকদের মধ্য হতে কোন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলঃ সে কোন জিনিসের উপর দু'আ শেষ করবে? তিনি বলেন তিনি বলেন, যদি সে আমীনের উপর দু'আ শেষ করে। কেননা যদি সে আমীনের উপর তার দু'আ সমাপ্ত করে তবে তবে তার দু'আ কবুল হবে। অতঃপর প্রশ্নকারী ব্যক্তি দু'আয় রত ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হয়, যিনি তখন দু'আর মধ্যে মশগুল ছিলেন। তখন তিনি তাকে বলেন, তুমি আমীন শব্দের উপর তোমার দু'আ শেষ কর এবং সাথে সাথে দু'আ কবুল হওয়ার সুসংবাদ গ্রহণ কর।
كتاب الصلاة
باب التَّأْمِينِ وَرَاءَ الإِمَامِ
حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عُتْبَةَ الدِّمَشْقِيُّ، وَمَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، عَنْ صُبَيْحِ بْنِ مُحْرِزٍ الْحِمْصِيِّ، حَدَّثَنِي أَبُو مُصْبِحٍ الْمَقْرَائِيُّ، قَالَ كُنَّا نَجْلِسُ إِلَى أَبِي زُهَيْرٍ النُّمَيْرِيِّ - وَكَانَ مِنَ الصَّحَابَةِ - فَيَتَحَدَّثُ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ فَإِذَا دَعَا الرَّجُلُ مِنَّا بِدُعَاءٍ قَالَ اخْتِمْهُ بِآمِينَ فَإِنَّ آمِينَ مِثْلُ الطَّابَعِ عَلَى الصَّحِيفَةِ . قَالَ أَبُو زُهَيْرٍ أُخْبِرُكُمْ عَنْ ذَلِكَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَأَتَيْنَا عَلَى رَجُلٍ قَدْ أَلَحَّ فِي الْمَسْأَلَةِ فَوَقَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَسْتَمِعُ مِنْهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَوْجَبَ إِنْ خَتَمَ " . فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ بِأَىِّ شَىْءٍ يَخْتِمُ قَالَ " بِآمِينَ فَإِنَّهُ إِنْ خَتَمَ بِآمِينَ فَقَدْ أَوْجَبَ " . فَانْصَرَفَ الرَّجُلُ الَّذِي سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَى الرَّجُلَ فَقَالَ اخْتِمْ يَا فُلاَنُ بِآمِينَ وَأَبْشِرْ . وَهَذَا لَفْظُ مَحْمُودٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْمَقْرَاءُ قَبِيلٌ مِنْ حِمْيَرَ .
tahqiq

তাহকীক:

explanationহাদীসের ব্যাখ্যা
rabi
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৯৩৯
আন্তর্জাতিক নং: ৯৩৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৯. নামাযের মধ্যে হাতে তালি দেওয়া।
৯৩৯. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, নামাযের মধ্যে ইমামের কোনরূপ ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে পুরুষেরা “সুবহানাল্লাহ” বলবে এবং স্ত্রীলোকেরা হাতের উপর হাত তালি মেরে শব্দ করবে।
كتاب الصلاة
باب التَّصْفِيقِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " التَّسْبِيحُ لِلرِّجَالِ وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ " .
হাদীস নং: ৯৪০
আন্তর্জাতিক নং: ৯৪০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৯. নামাযের মধ্যে হাতে তালি দেওয়া।
৯৪০. আল কানবী (রাহঃ) ..... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বনু আমর ইবনে আউফ গোত্রের বিবাদ মীমাংশা জন্য গমন করেন। তখন নামাযের সময় উপস্থিত হলে মুয়াযযিন [বিলাল (রাযিঃ)] আবু বকর (রাযিঃ)-কে বলেন, আপনি কি জামাআতে নামাযের ইমামতি করবেন? তখন তিনি স্বীকৃতি প্রদান করায় ইকামত দেয়া হলে আবু বকর (রাযিঃ) নামায শুরু করেন। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যাবর্তন করেন যে, তখন নামায আরম্ভ হয়ে গিয়েছে। অতঃপর তিনি পিছনের কাতার হতে সামনের কাতারে গিয়ে দণ্ডায়মান হন। মুসল্লীরা তাকে দেখে হাতের উপর হাত রেখে শব্দ করছিল, কিন্তু আবু বকর (রাযিঃ) এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেন নাই। অতঃপর শব্দ অধিক হওয়ার কারণে তিনি সে দিকে খেয়াল করতেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দর্শন করেন (এবং সাথে সাথেই পিছনের দিকে সরে আসতে চেষ্টা করেন)।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশারায় স্বীয় স্থানে অবস্থানের নির্দেশ দেন। তখন আবু বকর (রাযিঃ) স্বীয় হস্তদ্বয় উপরে উত্তোলন করে, এজন্য আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং পশ্চাতে ফিরে এসে কাতারে শামিল হন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইমামের স্থানে গমন করে নামায সমাপান্তে আবু বকর (রাযিঃ)-কে বলেন, হে আবু বকর! আমার নির্দেশ সত্যেও কিসে তোমাকে ইমামের স্থানে অবস্থান করতে বাধা দিয়েছে? জবাবে তিনি বলেন, আবু কুহাফার পুত্রের (আবু বকর) জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্মুখে দণ্ডায়মান হয়ে ইমামতি করা শোভা পায় না।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সমবেত মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা হাতের উপর হাত মেরে নামাযের মধ্যে এত বেশী শব্দ করলে কেন? যদি ইমামের কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয় তবে তোমরা “সুবহানাল্লাহ” বলবে। কেননা তোমাদের ‘সুবহানাল্লাহ' বলা শুনলে ইমাম সেদিকে খেয়াল করবে। নামাযের মধ্যে হাতের উপর হাত মেরে শব্দ করা কেবলমাত্র মহিলাদের জন্য নির্ধারিত।
كتاب الصلاة
باب التَّصْفِيقِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي حَازِمِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَهَبَ إِلَى بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ لِيُصْلِحَ بَيْنَهُمْ وَحَانَتِ الصَّلاَةُ فَجَاءَ الْمُؤَذِّنُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ - رضى الله عنه - فَقَالَ أَتُصَلِّي بِالنَّاسِ فَأُقِيمَ قَالَ نَعَمْ . فَصَلَّى أَبُو بَكْرٍ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسُ فِي الصَّلاَةِ فَتَخَلَّصَ حَتَّى وَقَفَ فِي الصَّفِّ فَصَفَّقَ النَّاسُ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ لاَ يَلْتَفِتُ فِي الصَّلاَةِ فَلَمَّا أَكْثَرَ النَّاسُ التَّصْفِيقَ الْتَفَتَ فَرَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَشَارَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنِ امْكُثْ مَكَانَكَ فَرَفَعَ أَبُو بَكْرٍ يَدَيْهِ فَحَمِدَ اللَّهَ عَلَى مَا أَمَرَهُ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ ذَلِكَ ثُمَّ اسْتَأْخَرَ أَبُو بَكْرٍ حَتَّى اسْتَوَى فِي الصَّفِّ وَتَقَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " يَا أَبَا بَكْرٍ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَثْبُتَ إِذْ أَمَرْتُكَ " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ مَا كَانَ لاِبْنِ أَبِي قُحَافَةَ أَنْ يُصَلِّيَ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا لِي رَأَيْتُكُمْ أَكْثَرْتُمْ مِنَ التَّصْفِيحِ مَنْ نَابَهُ شَىْءٌ فِي صَلاَتِهِ فَلْيُسَبِّحْ فَإِنَّهُ إِذَا سَبَّحَ الْتُفِتَ إِلَيْهِ وَإِنَّمَا التَّصْفِيحُ لِلنِّسَاءِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا فِي الْفَرِيضَةِ .
হাদীস নং: ৯৪১
আন্তর্জাতিক নং: ৯৪১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৯. নামাযের মধ্যে হাতে তালি দেওয়া।
৯৪১. আমর ইবনে আওন (রাহঃ) .... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনু আমর ইবনে আউফ গোত্রের মধ্যে সংঘর্ষের খবর নবী করীম (ﷺ) এর নিকট পৌঁছানোর পর তিনি যোহরের নামায আদায় করে তাদের মধ্যে সন্ধি প্রতিষ্ঠার জন্য গমন করেন এবং বিলাল (রাযিঃ)-কে বলেন, আমি যদি আসরে সময় ফিরে আসতে না পারি, তবে আবু বকর (রাযিঃ)-কে নামায পড়াতে বলবে। অতঃপর আসরের নামাযের সময় হলে বিলাল (রাযিঃ) আযান ও ইকামত দেয়ার পর আবু বকর (রাযিঃ)-কে ইমামতি করার অনুরোধ করেন। আবু বকর (রাযিঃ) ইমামতির স্থানে দণ্ডায়মান হয়ে নামায শুরু করেন।

রাবী হাদীসের শেষাংশে মহানবী (ﷺ) এর কথাও বর্ণনা করেছেন যে, যখন তোমরা নামাযে ইমামের কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখতে পাও তখন পুরুষেরা “সুবহানাল্লাহ” এবং স্ত্রীলোকেরা “হাতে তালি দিয়ে” শব্দ করবে।
كتاب الصلاة
باب التَّصْفِيقِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ كَانَ قِتَالٌ بَيْنَ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَاهُمْ لِيُصْلِحَ بَيْنَهُمْ بَعْدَ الظُّهْرِ فَقَالَ لِبِلاَلٍ " إِنْ حَضَرَتْ صَلاَةُ الْعَصْرِ وَلَمْ آتِكَ فَمُرْ أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ " . فَلَمَّا حَضَرَتِ الْعَصْرُ أَذَّنَ بِلاَلٌ ثُمَّ أَقَامَ ثُمَّ أَمَرَ أَبَا بَكْرٍ فَتَقَدَّمَ قَالَ فِي آخِرِهِ " إِذَا نَابَكُمْ شَىْءٌ فِي الصَّلاَةِ فَلْيُسَبِّحِ الرِّجَالُ وَلْيُصَفِّحِ النِّسَاءُ " .
হাদীস নং: ৯৪২
আন্তর্জাতিক নং: ৯৪২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৭৯. নামাযের মধ্যে হাতে তালি দেওয়া।
৯৪২. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... ঈসা ইবনে আইয়ুব (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, স্ত্রীলোকদের জন্য হাতে হাত মেরে শব্দ করার পদ্ধতি এই যে, তারা ডান হাতের আঙ্গুলি দ্বারা বাম হাতের তালুতে মারবে।
كتاب الصلاة
باب التَّصْفِيقِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنْ عِيسَى بْنِ أَيُّوبَ، قَالَ قَوْلُهُ " التَّصْفِيحُ لِلنِّسَاءِ " . تَضْرِبُ بِأُصْبُعَيْنِ مِنْ يَمِينِهَا عَلَى كَفِّهَا الْيُسْرَى .
tahqiq

তাহকীক:

rabi
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৯৪৩
আন্তর্জাতিক নং: ৯৪৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮০. নামাযের মধ্যে ইশারা করা সম্পর্কে।
৯৪৩. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) নামাযের মধ্যে বিশেষ প্রয়োজনে ইশারা করতেন। (যেমন কেউ সালাম করলে তিনি মাথার ইশরায় তার জবাব দিতেন। অবশ্য তা নফল নামায আদায়ের সময় করতেন)।
كتاب الصلاة
باب الإِشَارَةِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَبُّويَةَ الْمَرْوَزِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُشِيرُ فِي الصَّلاَةِ .
হাদীস নং: ৯৪৪
আন্তর্জাতিক নং: ৯৪৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮০. নামাযের মধ্যে ইশারা করা সম্পর্কে।
৯৪৪. আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, নামাযের মধ্যে (ইমামের ত্রুটি-বিচ্যুতি জ্ঞাতার্থে) পুরুষগণ “সুবহানাল্লাহ” বলবে, এবং স্ত্রীলোকেরা “হাতের উপর হাত মারবে”। এ ধরনের ইশারার দ্বারা ইমাম তার নামাযের ত্রুটি-বিচ্যুতি সম্পর্কে সজাগ হয়ে তা সঠিকভাবে আদায় করবে।
كتاب الصلاة
باب الإِشَارَةِ فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ الأَخْنَسِ، عَنْ أَبِي غَطَفَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " التَّسْبِيحُ لِلرِّجَالِ " . يَعْنِي فِي الصَّلاَةِ " وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ مَنْ أَشَارَ فِي صَلاَتِهِ إِشَارَةً تُفْهَمُ عَنْهُ فَلْيَعُدْ لَهَا " . يَعْنِي الصَّلاَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا الْحَدِيثُ وَهَمٌ .
হাদীস নং: ৯৪৫
আন্তর্জাতিক নং: ৯৪৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮১. নামাযের মধ্যে পাথর অপসারণ সম্পর্কে।
৯৪৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আবু যর (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (নবী করীম সা) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ নামাযে রত হয়, তখন তার সম্মুখভাগ হতে রহমত নাযিল হয়। অতএব নামাযী ব্যক্তি যেন সম্মুখ ভাগের পাথর (ইত্যাদি) অপসারণ না করে।
كتاب الصلاة
باب فِي مَسْحِ الْحَصَى فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، - شَيْخٍ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ - أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا ذَرٍّ، يَرْوِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلاَةِ فَإِنَّ الرَّحْمَةَ تُوَاجِهُهُ فَلاَ يَمْسَحِ الْحَصَى " .
হাদীস নং: ৯৪৬
আন্তর্জাতিক নং: ৯৪৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮১. নামাযের মধ্যে পাথর অপসারণ সম্পর্কে।
৯৪৬. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... মুয়াইকিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেন, তোমরা নামাযে রত অবস্থায় (সিজদার স্থান হতে) কিছু অপসারিত করবে না। অবশ্য বিশেষ প্রয়োজনে একবার পাথর-কণা সরিয়ে সমতল করতে পার।
كتاب الصلاة
باب فِي مَسْحِ الْحَصَى فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ مُعَيْقِيبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَمْسَحْ وَأَنْتَ تُصَلِّي فَإِنْ كُنْتَ لاَ بُدَّ فَاعِلاً فَوَاحِدَةً تَسْوِيَةَ الْحَصَى " .
হাদীস নং: ৯৪৭
আন্তর্জাতিক নং: ৯৪৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮২. নামাযের সময় কোমরে হাত রাখা।
৯৪৭. ইয়াকুব ইবনে কাব (রাহঃ) .... মুয়াইকিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযের মধ্যে “ইখতিসার” করতে নিষেধ করেছেন।
كتاب الصلاة
باب الرَّجُلِ يُصَلِّي مُخْتَصِرًا
حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ كَعْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ الاِخْتِصَارِ فِي الصَّلاَةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ يَعْنِي يَضَعُ يَدَهُ عَلَى خَاصِرَتِهِ .
হাদীস নং: ৯৪৮
আন্তর্জাতিক নং: ৯৪৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৩. লাঠির উপর ভর করে নামাযে দাঁড়ানো।
৯৪৮. আব্দুস সালাম ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) ...... হেলাল ইবনে ইয়াসাফ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যখন শাম (সিরিয়া) দেশের রাক্কা নামক শহরে যাই, তখন আমার কোন একজন সাথী আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, নবী করীম (ﷺ) এর কোন সাহাবীর সাথে সাক্ষাতের আগ্রহ আছে কি? আমি বলি, এটা-তো আমার জন্য গনিমত স্বরূপ। তখন তিনি আমাকে ওয়াবিসা (রাযিঃ) এর খেদমতে নিয়ে যান। আমি আমার সঙ্গীকে বলি, আমরা প্রথমে বেশভূষার প্রতি নজর করব। আমরা তাঁকে মস্তকের সাথে মিলিত একটি টুপি পরিহিত অবস্থায় দেখতে পাই, যার দুই দিক কানের মত উঁচু ছিল এবং রেশম ও পশম দ্বারা তৈরী ছিল। তিনি (বয়োবৃদ্ধির কারণে) লাঠিতে ভর দিয়ে নামায আদায় করছিলেন।

(নামায শেষে) সালাম ফিরানোর পর আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, (আপনি লাঠিতে ভর দিয়ে কিরূপে নামায আদায় করলেন এটা কি জায়েয)? তিনি বলেন, উম্মে কায়েস বিনতে মিহসান (রাযিঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বয়োবৃদ্ধির ফলে যখন তাঁর শরীরের গোশত ঢিলা হয়ে যায়, তখন (দুর্বলতার কারণে) তিনি নামায আদায়ের জন্য তাঁর জায়নামাযের নিকট লাঠি রাখেন এবং তাতে ভর দিয়ে নামায আদায় করতেন।
كتاب الصلاة
باب الرَّجُلِ يَعْتَمِدُ فِي الصَّلاَةِ عَلَى عَصًا
حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْوَابِصِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، قَالَ قَدِمْتُ الرَّقَّةَ فَقَالَ لِي بَعْضُ أَصْحَابِي هَلْ لَكَ فِي رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ قُلْتُ غَنِيمَةٌ فَدَفَعْنَا إِلَى وَابِصَةَ قُلْتُ لِصَاحِبِي نَبْدَأُ فَنَنْظُرُ إِلَى دَلِّهِ فَإِذَا عَلَيْهِ قَلَنْسُوَةٌ لاَطِئَةٌ ذَاتُ أُذُنَيْنِ وَبُرْنُسُ خَزٍّ أَغْبَرُ وَإِذَا هُوَ مُعْتَمِدٌ عَلَى عَصًا فِي صَلاَتِهِ فَقُلْنَا بَعْدَ أَنْ سَلَّمْنَا . فَقَالَ حَدَّثَتْنِي أُمُّ قَيْسٍ بِنْتُ مِحْصَنٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا أَسَنَّ وَحَمَلَ اللَّحْمَ اتَّخَذَ عَمُودًا فِي مُصَلاَّهُ يَعْتَمِدُ عَلَيْهِ .
হাদীস নং: ৯৪৯
আন্তর্জাতিক নং: ৯৪৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৪. নামাযের মধ্যে কথা বলা নিষেধ।
৯৪৯. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ..... যায়দ ইবনে আকরাম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (ইসলামের সূচনাকালে) আমরা নামাযের মধ্যে পার্শ্ববর্তী ব্যক্তির সাথে কথোপকথন করতাম। এ সময় আল-কুরআনের এই আয়াত নাযিল হয়, “তোমরা আল্লাহর একান্ত অনুগত বান্দা হিসাবে (নামাযের মধ্যে) দণ্ডায়মান হও”। এ সময় আমাদেরকে নামাযের মধ্যে নীরবতা পালনের নির্দেশ দেয়া হয় এবং কথা বলতে নিষেধ করা হয়।
كتاب الصلاة
باب النَّهْىِ عَنِ الْكَلاَمِ، فِي الصَّلاَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ شُبَيْلٍ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ كَانَ أَحَدُنَا يُكَلِّمُ الرَّجُلَ إِلَى جَنْبِهِ فِي الصَّلاَةِ فَنَزَلَتْ ( وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ ) فَأُمِرْنَا بِالسُّكُوتِ وَنُهِينَا عَنِ الْكَلاَمِ .
হাদীস নং: ৯৫০
আন্তর্জাতিক নং: ৯৫০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৮৫. বসে নামায আদায় করা সম্পর্কে।
৯৫০. মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করা হয়েছিল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, বসে নামায আদায় করলে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করার অর্ধেক সাওয়াব পাওয়া যায়। (তা শুনে) আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর আমি তাঁর খিদমতে হাজির হয়ে তাঁকে বসে নামায আদায় করতে দেখি। তা দেখে আমি আশ্চর্যান্বিত হয়ে মাথায় হাত রাখি। এ অবস্থায় তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, হে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর! তোমার কি হয়েছে? জবাবে আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার নিকট হাদীস বর্ণিত হয়েছিল যে, আপনি বলেছেন যে, বসে নামায আদায়কারী অর্ধেক সাওয়াব প্রাপ্ত হয়, অথচ আপনি নিজেই বসে নামাযা আদায় করেছেন। জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি এরূপ বলেছি, কিন্তু আমি তোমাদের তুল্য নই।
كتاب الصلاة
باب فِي صَلاَةِ الْقَاعِدِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ بْنِ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلٍ، - يَعْنِي ابْنَ يِسَافٍ - عَنْ أَبِي يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ حُدِّثْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةُ الرَّجُلِ قَاعِدًا نِصْفُ الصَّلاَةِ " . فَأَتَيْتُهُ فَوَجَدْتُهُ يُصَلِّي جَالِسًا فَوَضَعْتُ يَدَىَّ عَلَى رَأْسِي فَقَالَ مَا لَكَ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو قُلْتُ حُدِّثْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَّكَ قُلْتَ " صَلاَةُ الرَّجُلِ قَاعِدًا نِصْفُ الصَّلاَةِ " . وَأَنْتَ تُصَلِّي قَاعِدًا قَالَ " أَجَلْ وَلَكِنِّي لَسْتُ كَأَحَدٍ مِنْكُمْ " .