মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ২৫৪ টি

হাদীস নং: ১৮১
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ ঘরে, কাপড়ে, বিছানায় এবং এ জাতীয় বস্তুসমূহে ছবি এবং (ক্রুশ সদৃশ) নকশা থাকার বিধান।
১৮১। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার ঘরের দরজায় একটি পর্দা ঝুলিয়ে ছিলাম। তাতে অনেক ছবি ছিল। যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘরে প্রবেশ করার জন্য আসলেন, তখন সেদিকে তাকালেন এবং সেটা খুলে ফেললেন। আয়েশা (রা) বলেন, এরপর আমি সেটা নিয়ে কেটে ফেললাম এবং তা দ্বারা দু'টি গদি তৈরী করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু'টিতে আরাম করতেন।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء فى الصور والتصاليب تكون فى البيت وفى الستور والثياب والبسط ونحو ذلك
181- عن عائشة رضى الله عنها قالت جعلت على باب بيتى سترا فيه تصاوير، فلما أقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم ليدخل نظر اليه فهتكه قالت فاخذته فقطعت منه نمرقتين فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يرتفقهما
হাদীস নং: ১৮২
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ ঘরে, কাপড়ে, বিছানায় এবং এ জাতীয় বস্তুসমূহে ছবি এবং (ক্রুশ সদৃশ) নকশা থাকার বিধান।
১৮২। হিশাম ইবন উরওয়া (র) তার পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি একটি চাঁদর খরিদ করেছিলেন। তাতে অনেক ছবি ছিল। তিনি এটা দ্বারা ঘর সাজাতে চেয়েছিলেন। তখন নবী তাঁর নিকট গেলে তিনি তাকে সেটা দেখিয়ে জানালেন যে, তিনি এটা দ্বারা ঘর সাজাতে চান। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি এটা কেটে দুটি বালিশ তৈরী কর। আয়েশা (রা) বলেন, আমি তাই করলাম। তারপর আমি এ দু'টিকে বালিশ হিসেবে ব্যবহার করতাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও বালিশ হিসেবে ব্যবহার করতেন।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء فى الصور والتصاليب تكون فى البيت وفى الستور والثياب والبسط ونحو ذلك
182- عن هشام بن عروة عن أبيه عائشة رضى الله عنها أنها اشترت نمطا فيه تصاوير فارادت أن تصنعه حجلة فدخل عليها النبى صلى الله عليه وسلم فأرته إياه واخبرته أنها تريدان تصنعه حجلة، فقال لها اقطعيه وسادتين، قالت ففعلت فكنت أتوسدهما ويتوسدهما النبى صلى الله عليه وسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৩
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ ঘরে, কাপড়ে, বিছানায় এবং এ জাতীয় বস্তুসমূহে ছবি এবং (ক্রুশ সদৃশ) নকশা থাকার বিধান।
১৮৩। বুসর ইবন সা'ঈদ (র) যায়দ ইবন খালিদ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) - এর সাহাবী আবু তালহা (র) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ফেরেশতাগণ এমন ঘরে প্রবেশ করেন না। যেখানে কোন ছবি থাকে। বর্ণনাকারী বুসর (র) বলেন, এরপর তিনি (যায়দ ইবন খালিদ জুহানী) অসুস্থ হলে আমরা তাকে দেখতে এলাম। সে সময় তার ঘরের দরজায় ছবিযুক্ত একটি পর্দা দেখলাম। তখন আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) -এর সহধর্মিণী মায়মুনা (রা)-এর পালকপুত্র উবায়দুল্লাহ খাওলানী (র)-কে বললাম, তিনি কি বিগত দিনে আমাদেরকে (ছবি সম্বন্ধে) জানান নি এবং ছবির বিষয়ে আলোচনা করেন নি? তখন উবায়দুল্লাহ (র) বললেন, আপনি কি তাকে বলতে শুনেন নি। 'তবে কাপড়ে নকশা হলে তা ব্যতিক্রম? বর্ণনাকারী হাশিম (র) বলেন, যায়দ (র) কি বিগত দিনে আমাদেরকে (ছবি সম্বন্ধে) সংবাদ দেন নি এবং ছবির বিষয়ে আলোচনা করেন নি? তখন উবায়দুল্লাহ (র) বললেন, আপনি কি তাকে বলতে শুনেন নি, 'তবে কাপড়ে নকশা হলে তা ব্যতিক্রম? বর্ণনাকারী ইউনুস (র)ও এটা বলেছেন।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء فى الصور والتصاليب تكون فى البيت وفى الستور والثياب والبسط ونحو ذلك
183- عن بسر بن سعيد عن زيد بن خالد عن أبى طلحة صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا تدخل الملائكة بيتا فيه صورة، قال بسر ثم اشتكى فعدناه فاذا على بابه ستر فيه صورة فقلت لعبيد الله الخولانى ربيب ميمونة زوج النبى صلى الله عليه وسلم ألم يخبرنا ويذكر الصور يوم الأول فقال عبيد الله ألم تسمعه يقول قال إلا رقما في ثوب قال هاشم ألم يخبرنا زيد عن الصور يوم الأول؟ فقال عبيد الله ألم تسمعه حين قال إلا رقما فى ثوب وكذا قال يونس
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৪
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ ঘরে, কাপড়ে, বিছানায় এবং এ জাতীয় বস্তুসমূহে ছবি এবং (ক্রুশ সদৃশ) নকশা থাকার বিধান।
১৮৪। উবায়দুল্লাহ ইবন আবদিল্লাহ (র) থেকে বর্ণিত যে, একদা তিনি আবু তালহা আনসারী (রা)- কে দেখতে যান। তিনি বলেন, তখন আমরা তার নিকট সাহল ইবন হুনায়ফ (রা)-কে পেলাম। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আবূ তালহা (রা) এক লোককে ডেকে তাঁর নীচে বিছানো চাদরটি উঠিয়ে ফেলেন। সাহল (রা) তাকে বললেন, এটা কেন উঠিয়ে ফেলছেন? তিনি বললেন, কেননা, এতে অনেক ছবি আছে। আর এ সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা বলেছেন, তা তো আপনি জানেন। সাহল (রা) বলেন, তিনি কি এ কথা বলেন নি যে, তবে কাপড়ে নকশাকৃত হলে সেটা ব্যতিক্রম? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তবে আমি আমার নিজের জন্য এটাকেই (চাদর উঠিয়ে ফেলা) অধিক ভাল মনে করি।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর সনদ সহীহ।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء فى الصور والتصاليب تكون فى البيت وفى الستور والثياب والبسط ونحو ذلك
184- عن عبيد الله بن عبد الله أنه دخل على أبى طلحة الأنصارى يعوده قال فوجدنا عنده سهل بن حنيف، قال فدعا أبو طلحة انسانا فنزع نمطا تحته فقال له سهل لم تنزعه؟ قال لأن فيه تصاوير، وقد قال فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم ما قد علمت قال سهل أو لم يقل إلا رقما فى ثوب؟ قال بلى ولكنه أطيب لنفسى
হাদীস নং: ১৮৫
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ ঘরে, কাপড়ে, বিছানায় এবং এ জাতীয় বস্তুসমূহে ছবি এবং (ক্রুশ সদৃশ) নকশা থাকার বিধান।
১৮৫। শু'বা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মিসওয়ার ইবন মাখরামা (রা) ইবন আব্বাস (রা)-কে দেখতে গেলেন। ইবন আব্বাস (রা) ব্যাথায় আক্রান্ত ছিলেন। সে সময় তাঁর গায়ে মোটা রেশমের একটি চাদর ছিল। আমি বললাম, হে ইবন আব্বাস। এই রূপ কাপড় আপনার গায়ে কেন? তিনি বললেন, এটার কি হয়েছে? মিসওয়ার (রা) বললেন, এটা তো মোটা রেশমের তৈরী? ইবন আব্বাস (রা) বললেন, আল্লাহর শপথ। আমি তো এ সম্বন্ধে কিছু জানি না। আর আমি মনে করি, নবী (ﷺ) এটা হতে কেবল এজন্য নিষেধ করেন যে, এর দ্বারা দম্ভ ও অহমিকা সৃষ্টি হয়। আল্লাহর শুকর। আমরা এরূপ নই। মিসওয়ার (রা) বললেন, তবে চুলায় এসব ছবি কেন? তিনি বললেন, তুমি কি দেখছ না, আমরা এগুলো আগুন দ্বারা জ্বালিয়ে দিয়েছি। (বর্ণনাকারী বলেন,) এরপর মিসওয়ার (রা) বের হয়ে গেলে ইবন আব্বাস (রা) বললেন, তোমরা আমার শরীর হতে এই কাপড়টি খুলে ফেল এবং এসব ছবির মাথা কেটে দাও। লোকেরা বলল, হে ইবন আব্বাস। যদি মাথাসহ এগুলো নিয়ে বাজারে যান তবে সর্বাগ্রে বিক্রি হবে। তিনি বললেন, না। তারপর তিনি ছবিগুলোর মাথা কেটে ফেলার নির্দেশ দেন।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর সনদ হাসান।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء فى الصور والتصاليب تكون فى البيت وفى الستور والثياب والبسط ونحو ذلك
185- عن شعبة ان المسور بن مخرمة دخل على ابن عباس يعوده من وجع وعليه برد استبرق فقلت يا أبا عباس ما هذا الثوب؟ قال وما هو؟ قال هذا الاستبرق قال والله ما علمت به وما أظن النبى صلى الله عليه وسلم نهى عن هذا حين نهى عنه الا للتجبر والتكبر ولسنا بحمد الله كذلك، قال فما هذه التصاوير فى الكانون قال ألا ترى قد أحرقناها بالنار فلما خرج المسور قال انزعوا هذا الثوب عنى واقطعوا رؤوس هذه التماثيل، قالوا يا أبا عباس لو ذهبت بها إلى السوق كان أنفق لها مع الرأس؟ قال لا، فأمر بقطع رءوسها
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৬
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ সুন্দর পোশাক পরার অনুমতি রয়েছে, তবে এ ক্ষেত্রে বিনয় কাম্য। খ্যাতি লাভের উদ্দেশ্যে এবং (টাখনুর নীচে) ঝুলিয়ে পরা মাকরূহ।
(সুন্দর পোশাক পরার অনুমতি রয়েছে, তবে এ ক্ষেত্রে বিনয় কাম্য।)
১৮৬। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তির অন্তরে শস্যদানা পরিমাণ ঈমান থাকবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। আর যে ব্যক্তির অন্তরে শস্যদানা পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। সে সময় এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! নিশ্চয় আমার এটা ভাল লাগে যে, আমার কাপড় পরিষ্কার হোক, মাথার চুল তৈলাক্ত হোক, জুতার ফিতা নতুন হোক, এবং সে আরো কিছু বস্তু তুলে ধরল। এমনকি তার লাঠির হাতলও উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এটি কি অহংকার হবে? তিনি বললেন, না। এটা হল, সৌন্দর্য। নিশ্চয় আল্লাহ সুন্দর। তিনি সৌন্দর্যকে ভালবাসেন। অহংকার হল, সত্যকে অস্বীকার করা এবং মানুষকে ঘৃণা করা।
(মুসলিম, আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ)
كتاب اللباس والزنية
أبواب الرخصة فى اللباس الجميل واستحباب التواضع فيه وكراهة الشهرة والإسبال - باب ما جاء فى استحباب اللباس الجميل والتواضع فيه
186- عن عبد الله بن مسعود قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يدخل النار من كان فى قلبه مثقال حبة من إيمان، ولا يدخل الجنة من كان فى قلبه مثقال حبة من كبر، فقال رجل يا رسول الله انى ليعجبنى ان يكون ثوبى غسيلا ورأسى دهينا وشراك نعلى جديدا وذكر أشياء حتى ذكر علاقة سوطه أفمن الكبر ذاك يا رسول الله؟ قال لا ذاك الجمال إن الله جميل يحب الجمال ولكن الكب من سفه الحق وازدرى الناس
হাদীস নং: ১৮৭
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ সুন্দর পোশাক পরার অনুমতি রয়েছে, তবে এ ক্ষেত্রে বিনয় কাম্য। খ্যাতি লাভের উদ্দেশ্যে এবং (টাখনুর নীচে) ঝুলিয়ে পরা মাকরূহ।
(সুন্দর পোশাক পরার অনুমতি রয়েছে, তবে এ ক্ষেত্রে বিনয় কাম্য।)
১৮৭। সাহল ইবন মু'আয আনাস জুহানী (র) সূত্রে তার পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার জন্য বিনয় প্রকাশের নিমিত্তে (সুন্দর) পোশাক পরিত্যাগ করে; অথচ সে এরূপ পোশাক পরিধান করার সামর্থ রাখে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তাকে সৃষ্টিকুলের মধ্যে খ্যাত করবেন এবং তাকে যে কোন ঈমানী পোশাক পরিধান করার ইখতিয়ার দিবেন।
(তিরমিযী, হাকিম)
(তিরমিযী (র) হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। আর হাফিয (র) সহীহ বলেছেন। এর সূত্রে বর্ণনাকারী আবদুর রহীম ইবন মায়মুন সম্বন্ধে নাসাঈ (র) বলেছেন, তার ব্যাপারে কোন আপত্তি নেই। কিন্তু ইবন মা'ঈন (র) তাকে দুর্বল বলেছেন।)
كتاب اللباس والزنية
أبواب الرخصة فى اللباس الجميل واستحباب التواضع فيه وكراهة الشهرة والإسبال - باب ما جاء فى استحباب اللباس الجميل والتواضع فيه
187- عن سهل بن معاذ بن أنس الجهنى عن أبيه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من ترك اللباس وهو يقدر عليه تواضعا لله تبارك وتعالى دعاه الله تبارك وتعالى يوم القيامة على رؤوس الخلائق حتى يخيره فى حلل الايمان أيها شاء
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৮
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ সুন্দর পোশাক পরার অনুমতি রয়েছে, তবে এ ক্ষেত্রে বিনয় কাম্য। খ্যাতি লাভের উদ্দেশ্যে এবং (টাখনুর নীচে) ঝুলিয়ে পরা মাকরূহ।
(সুন্দর পোশাক পরার অনুমতি রয়েছে, তবে এ ক্ষেত্রে বিনয় কাম্য।)
১৮৮। ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে খ্যাতি অর্জনের লক্ষ্যে পোশাক পরবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাঁকে অপমানের পোশাক পরাবেন।
(নাসাঈ, ইবন মাজাহ) হাদীসটির সনদ সহীহ।
তারই সূত্রে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, (অতীতকালে) জনৈক ব্যক্তি অহংকারবশত স্বীয় ইযার ঝুলিয়ে হাঁটছিল। এ জন্য তাকে মাটিতে ধসিয়ে দেওয়া হয়েছে। সে কিয়ামত পর্যন্ত মাটিতে ধসতে থাকবে।
(বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)
كتاب اللباس والزنية
أبواب الرخصة فى اللباس الجميل واستحباب التواضع فيه وكراهة الشهرة والإسبال - باب ما جاء فى استحباب اللباس الجميل والتواضع فيه
188- عن ابن عمر قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من لبس ثوب شهرة فى الدنيا البسه الله ثوب مذلة يوم القيامة وعنه أيضا ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بينما رجل يجر ازاره من الخيلاء خسف به فهو يتجلجل فى الأرض الى يوم القيامة
হাদীস নং: ১৮৯
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ খ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্যে এবং টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে পরা নিষিদ্ধ এবং এরূপ কাজের প্রতি কঠোরবাণী।
১৮৯। আবূ হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে ।
(বুখারী, মুসলিম)
كتاب اللباس والزنية
باب النهى عن الشهرة والإسبال ووعيد من فعل ذلك
189- عن أبى هريرة عن النبى صلى الله عليه وسلم نحوه
হাদীস নং: ১৯০
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ খ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্যে এবং টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে পরা নিষিদ্ধ এবং এরূপ কাজের প্রতি কঠোরবাণী।
১৯০। মুসলিম ইবন ইয়ান্নাক (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা)-এর সঙ্গে 'বনু আবদিল্লাহর' মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় কুরাঈশ গোত্রের এক যুবক স্বীয় ইযার (টাখনুর নীচে) ঝুলিয়ে গমন করল। তখন আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) তাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কে? সে বলল, আমি বনু বকর গোত্রের লোক। তিনি বললেন, তুমি কি চাও যে. কিয়ামতের দিন আল্লাহ তোমার দিকে দৃষ্টিপাত করুন। সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তবে তোমার ইযার উঁচু কর। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি স্বীয় ইযার (টাখনুর নীচে) ঝুলিয়ে চলবে, আর তার উদ্দেশ্য থাকবে কেবল অহংকার প্রকাশ করা, তবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না।
(বুখারী, মুসলিম, ইমাম চতুষ্ঠয় ও অন্যান্য)
كتاب اللباس والزنية
باب النهى عن الشهرة والإسبال ووعيد من فعل ذلك
190- عن مسلم بن يناق قال كنت جالسا مع عبد الله بن عمر رضى الله عنهما فى مجلس بنى عبد الله فمر فتى مسبلا ازاره من قريش، فدعاه عبد الله بن عمر فقال ممن انت؟ فقال من بنى بكر، فقال تحب ان ينظر الله تعالى اليك يوم القيامة؟ قال نعم، قال ارفع ازارك فانى سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من جر ازاره لا يريد الا الخيلاء لم ينظر الله عز وجل اليه يوم القيامه
হাদীস নং: ১৯১
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ খ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্যে এবং টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে পরা নিষিদ্ধ এবং এরূপ কাজের প্রতি কঠোরবাণী।
১৯১। হাসান (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবু হুরায়রা (রা) তাঁর শিষ্যদের সামনে হাদীস বর্ণনা করছিলেন। সে সময় এক ব্যক্তি মজলিস হতে উঠে আবূ হুরায়রা (রা)-এর দিকে এগিয়ে গেল। তার গায়ে এক বিশেষ পোশাক ছিল। সে এটা নিয়ে গর্ব করতে করতে আবূ হুরায়রা (রা) পর্যন্ত গেল। সে বলল, হে আবূ হুরায়রা। আমার এই পোশাক সম্বন্ধে কি আপনার বিশেষ কোন ফতওয়া আছে? তখন তিনি তার দিকে মাথা উচিয়ে তাকালেন এবং বললেন, আমার বন্ধু পরম সত্যবাদী আবুল কাসিম (ﷺ) বলেছেন, অতীতকালে জনৈক ব্যক্তি দু'টি জামা পরে অহংকার প্রকাশ করছিল। তখন আল্লাহ মাটিকে নির্দেশ দিলে মাটি তাকে গিলে ফেলল। আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার আত্মা! নিশ্চয় সে কিয়ামত পর্যন্ত মাটিতে ধসতে থাকবে।
(হায়ছামী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেছেন যে, এটা আহমাদ, বাযযার একাধিক সূত্রে বর্ণনা করেছেন। বাযযারের একটি সূত্রের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب النهى عن الشهرة والإسبال ووعيد من فعل ذلك
191- عن الحسن قال بينما ابو هريرة يحدث أصحابه اذ أقبل رجل الى أبى هريرة وهو فى المجلس فاقبل وعليه حلة له فجعل يميس فيها حتى قام على أبى هريرة، فقال يا أبا هريرة هل عندك فى حلتى هذه من فتيا: فرفع رأسه اليه وقال حدثنى الصادق المصدوق خليلى أبو القاسم صلى الله عليه وسلم قال بينما رجل ممن كان قبلكم يتبختر بين بردين فغضب الله عليه فأمر الأرض فبلعته، ذو الذى نفسى بيده انه ليتجلجل الى يوم القيامة، اذهب أيها الرجل الى يوم القيامة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯২
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ খ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্যে এবং টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে পরা নিষিদ্ধ এবং এরূপ কাজের প্রতি কঠোরবাণী।
১৯২। আবূ সা'ঈদ (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে।
(হাদীসটি হায়ছামী (র) বর্ণনা করে বলেছেন, হাদীসটি আহমাদ ও বাযযার একাধিক সূত্রে বর্ণনা করেছেন, বাযযার-এর এক সূত্রের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب النهى عن الشهرة والإسبال ووعيد من فعل ذلك
192- عن أبى سعيد عن النبى صلى الله عليه وسلم مثله
হাদীস নং: ১৯৩
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ খ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্যে এবং টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে পরা নিষিদ্ধ এবং এরূপ কাজের প্রতি কঠোরবাণী।
১৯৩। আসলাম আবু ইমরান (র) সূত্রে নবী (ﷺ)-এর সাহাবী হুবায়ব ইবন মুগফিল গিফারী (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি মুহাম্মাদ কুরাশী নামক এক ব্যক্তিকে স্বীয় ইযার মাটিতে ঝুলিয়ে পরতে দেখলেন। (অন্য শব্দে। সে তার ইযার মাটিতে হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে যাচ্ছিল এবং সেটাকে পদদলিত করছিল। হুবায়ব (রা) তার দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি অহংকারবশত স্বীয় ইযার ঝুলিয়ে পদদলিত করবে, তাকে জাহান্নামে পিষ্ট করা হবে। (অন্য শব্দে। যে ব্যক্তি অহংকারবশত স্বীয় ইযার পদদলিত করবে, তাকে জাহান্নামের আগুনে পিষ্ট করা হবে।)
(হাদীসটি হায়ছামী (র) বর্ণনা করে বলেছেন, এটা আহমাদ, আবু ইয়া'লা, তাবারানী বর্ণনা করেছেন। আহমাদ (র)-এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب النهى عن الشهرة والإسبال ووعيد من فعل ذلك
193- عن أسلم أبى عمران عن هبيب بن مغفل الغفارى صاحب النبى صلى الله عليه وسلم انه رأى محمدا القرشى قام يجر ازاره (وفى لفظ يجر رداءه خلفه ويطؤه) فنظر اليه هبيب فقال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من وطئه خيلاء وطئه فى النار (وفى لفظ) من وطئ على إزاره خيلاء وطئ فى نار جهم
tahqiq

তাহকীক:

explanationহাদীসের ব্যাখ্যা
rabi
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ১৯৪
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ খ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্যে এবং টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে পরা নিষিদ্ধ এবং এরূপ কাজের প্রতি কঠোরবাণী।
১৯৪। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবুল কাসিম (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি অহংকারশত স্বীয় ইযার (টাখনুর নীচে) ঝুলিয়ে চলবে, আল্লাহ তা'আলা তার দিকে তাকাবেন না।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য)
كتاب اللباس والزنية
باب النهى عن الشهرة والإسبال ووعيد من فعل ذلك
194- عن ابى هريرة قال قال أبو القاسم صلى الله عليه وسلم لا ينظر الله عز وجل إلى من جر إزاره بطرا
হাদীস নং: ১৯৫
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ খ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্যে এবং টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে পরা নিষিদ্ধ এবং এরূপ কাজের প্রতি কঠোরবাণী।
১৯৫। হুমায়দ ইবন হিলাল (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আবু কাতাদা (র) উবাদা কুরস অথবা কুরত (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সম্প্রতি তোমরা এমন কিছু কাজ করছ যা তোমাদের চোখে চুল অপেক্ষা অধিক সূক্ষ্ম। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর যুগে আমরা এগুলোকে ধ্বংসাত্মক মনে করতাম। (বর্ণনাকারী বলেন,) আমি আবু কাতাদা (র)-কে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যদি আমাদের যামানা পেতেন তবে কী অবস্থা হতো? তিনি বললেন, তা হলে তিনি এরচেয়ে আরো অধিক কঠোরবাণী উচ্চারণ করতেন।
দ্বিতীয় সূত্রে তার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উবাদা ইবন কুরত (রা) বলেছেন, সম্প্রতি তোমরা এমন কিছু কাজ করছ যা তোমাদের চোখে চুল অপেক্ষা অধিক সূক্ষ্ম। অথচ (ﷺ) রাসূলুল্লাহর (ﷺ) -এর যুগে আমরা এগুলোকে ধ্বংসাত্মক মনে করতাম। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা এ কথাটিকে মুহাম্মাদ (ইবন সীরীন)-এর নিকট আলোচনা করলে তিনি বললেন, তিনি সত্য বলেছেন এবং আমি ইযার ঝুলিয়ে পরাকে এর অন্তর্ভুক্ত মনে করি।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب النهى عن الشهرة والإسبال ووعيد من فعل ذلك
195- عن حميد بن هلال ثنا أبو قتادة عن عبادة بن قرص أو قرط انكم لتعملون اليوم أعمالا هيلا أدق فى أعينكم من الشعر كنا نعدها على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوبقات، فقلت لأبى قتادة لكيف لو أدرك زماننا هذا؟ فقال أبو قتادة لكان لذلك أقول (وعنه من طريق ثان) قال قال عبادة بن قرط انكم تأتون أشياء هى أدق فى أعينكم من الشعر كنا نعدها على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم الموبقات قال فذكر ولمحمد قال فقال صدق أرى جر الإزار منه
হাদীস নং: ১৯৬
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ খ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্যে এবং টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে পরা নিষিদ্ধ এবং এরূপ কাজের প্রতি কঠোরবাণী।
১৯৬। আতা ইবন ইয়াসার (র) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় জনৈক ব্যক্তি স্বীয় ইযার (টাখনুর নীচে) ঝুলিয়ে সালাত আদায় করছিল। সে সময় নবী (ﷺ) তাকে বললেন, যাও, ওযু কর। বর্ণনাকারী বলেন, সে চলে গেল এবং ওযু করল। তারপর সে আবার আসলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, যাও, ওযু কর। বর্ণনাকারী বলেন, সে চলে গেল এবং ওযু করল। তারপর সে আবার আসলে লোকেরা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনার কী হল যে, আপনি তাকে ওযু করার নির্দেশ দিলেন, তাকে আর কিছু বললেন না? তিনি বললেন, এই ব্যক্তি স্বীয় ইযার (টাখনুর নীচে) ঝুলিয়ে সালাত আদায় করছিল। আর আল্লাহ সে বান্দার সালাত কবুল করেন না, যে স্বীয় ইযার (টাখনুর নীচে) ঝুলিয়ে রাখে।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর সনদ সহীহ।)
كتاب اللباس والزنية
باب النهى عن الشهرة والإسبال ووعيد من فعل ذلك
196- عن عطاء بن يسار عن بعض أصحاب النبى صلى الله عليه وسلم قال بينما رجل يصلى وهو مسبل ازاره إذ قال له النبى صلى الله عليه وسلم اذهب فتوضأ، قال فذهب فتوضأ ثم جاء فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم اذهب فتوضأ، قال فذهب فتوضأ ثم جاء فقالوا يا رسول الله مالك أمرته ان يتوضأ ثم سكت عنه؟ قال انه كان يصلى وهو مسبل ازاره إن الله لا يقبل صلاة عبد مسبل ازاره
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৭
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ খ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্যে এবং টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে পরা নিষিদ্ধ এবং এরূপ কাজের প্রতি কঠোরবাণী।
১৯৭। ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইযার (টাখনুর নীচে) ঝুলিয়ে পরবে, আল্লাহ তার দিকে (অনুগ্রহের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না।
(নাসাঈ)
(হাদীসটির সনদ সহীহ।)
كتاب اللباس والزنية
باب النهى عن الشهرة والإسبال ووعيد من فعل ذلك
197- عن بن عباس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان الله لا ينظر إلى مسبل
হাদীস নং: ১৯৮
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ খ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্যে এবং টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে পরা নিষিদ্ধ এবং এরূপ কাজের প্রতি কঠোরবাণী।
১৯৮। খুরায়ম ইবন ফাতিক আসাদী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমারে বলেছেন, হে খুরায়ম তুমি খুব ভাল লোক। যদি তোমার ভিতর দুটি গুণ না থাকত। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! দুটি গুণ কী? তিনি বললেন, ইযার ঝুলিয়ে রাখা এবং মাথার চুল লম্বা করা।
كتاب اللباس والزنية
باب النهى عن الشهرة والإسبال ووعيد من فعل ذلك
198- عن خريم بن فاتك الاسدى قال قال لى رسول الله صلى الله عليه وسلم نعم الرجل أنت يا خريم لولا خلتان قال قلت وما هما يا رسول الله؟ قال اسبالك ازارك وارخاؤك شعرك
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৯
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ কাপড় পরার মুস্তাহাব, জায়িয এবং হারাম সীমানা।
১৯৯। আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আকীল (র) সূত্রে ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এক প্রকার রেশমের ডোরাকাটা পোশাক পরতে দেন। বাদশাহ ফায়রূয তাকে এটা উপহার দিয়েছিলেন। তখন আমি ইযার পড়লাম। তার দৈর্ঘ্য প্রস্থ আমাকে ঘিরে নিয়েছিল। এর ফলে আমি সেটা ঝুলিয়ে হাটতাম। এবং আমি চাদরও পড়লাম। তা দ্বারা আমি (শরীর) আবৃত করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার ঘাড়ে ধরে বললেন, হে আবদুল্লাহ। ইযার উঁচু কর। কেননা, ইযারের যে অংশ মাটিতে লাগবে, সেখান থেকে টাখনুর নীচ পর্যন্ত অংশ জাহান্নামে যাবে। আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ (র) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে কঠিনভাবে কাপড় গুটিয়ে রাখতে অন্য কোন মানুষকে দেখি নি।
দ্বিতীয় সূত্রে তার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমর (রা)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে একটি কুবতী (মিশরীয় কাপড়) পরতে দেন আর উসামা (রা)-কে রেশমের ডোরাকাটা পোশাক পরতে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি আমাদের দিকে তাকালেন। আমাকে দেখলেন যে, আমি কাপড় (টাখনুর) নীচে ঝুলিয়ে পরেছি। তখন তিনি আমার নিকটে এসে আমার কাঁধে ধরে বললেন, হে ইবন উমর। যে অংশ মাটিতে লাগবে, তা জাহান্নামে যাবে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর হতে আমি ইবন উমর (রা)-কে গোছার অর্ধাংশ পর্যন্ত ইযার পরতে দেখেছি।
(হাদীসটি হায়ছামী বর্ণনা করে বলেছেন, হাদীসটির সনদে বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবন আকীল দুর্বল। এ ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء فى الحد المستحب للثوب والجائز والحرام
199- عن عبد الله بن محمد بن عقيل عن ابن عمر قال كسانى رسول الله صلى الله عليه وسلم حلة من حلل السيراء أهداها له فيروز فلبست الازار فاغرقنى طولا وعرضا فسحبته ولبست الرداء فتقنعت به فأخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم بعاتقى فقال يا عبد الله ارفع الازار، فان ما مست الارض من الازار الى ما أسفل من الكعبين فى النار، قال عبد الله بن محمد فلم أر انسانا قط أشد تشميرا من عبد الله بن عمر
(وعنه من طريق ثان قال سمعت ابن عمر رضى الله عنه عنهما يقول كسانى رسول الله صلى الله عليه وسلم قبطية وكسا أسامة حلة سيراء قال فنظر فرآني قد اسبلت، فجاء فاخذ من بمنكبى وقال يا ابن عمر، كل شئ مس الارض من الثياب ففى النار، قال فرأيت ابن عمر يتزر الى نصف الساق
হাদীস নং: ২০০
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
পরিচ্ছেদঃ কাপড় পরার মুস্তাহাব, জায়িয এবং হারাম সীমানা।
২০০। যায়দ ইবন আসলাম (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমর (রা)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি অহংকারবশত স্বীয় ইযার ঝুলিয়ে চলবে, আল্লাহ তার দিকে (অনুগ্রহের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না। বর্ণনাকারী যায়দ (র) বলেন, ইবন উমর (রা) হাদীস বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) তাকে একটি নতুন ইযার পরিহিত অবস্থায় দেখলেন। তিনি সেটি (টাখনুর নীচে) ঝুলিয়ে চলার কারণে শব্দ করছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এইলোক কে? (ইবন উমর (রা) বলেন,) আমি বললাম, আমি আবদুল্লাহ। তিনি বললেন, যদি তুমি আল্লাহর বান্দা হও, তবে তোমার ইযার উঁচু কর। ইবন উমর (রা) বলেন, তখন আমি ইযার উঁচু করলাম। তিনি বললেন, আরো উঁচু কর। ইবন উমর (রা) বলেন, আমি আরো উঁচু করলাম। এভাবে পায়ের গোছার অর্ধাংশ পর্যন্ত পৌঁছল। ইবন উমর (রা) বলেন, এরপর তিনি আবু বকর (রা)-এর দিকে তাকিয়ে বললেন, যে ব্যক্তি অহংকারবশত স্বীয় কাপড় ঝুলিয়ে চলবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দিকে (অনুগ্রহের দৃষ্টিতে তাকাবেন না। এরপর আবু বকর (রা) বললেন, অনেক সময় আমার ইযার ঝুলে পরে? নবী (ﷺ) বললেন, তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত নও।
(হাদীসটি হায়ছামী (র) বর্ণনা করে বলেছেন, এটা আহমাদ ও তাবারানী বর্ণনা করেছেন। আহমাদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء فى الحد المستحب للثوب والجائز والحرام
200- عن زيد بن أسلم سمعت ابن عمر رضى الله عنهما يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من جر ازاره من الخيلاء لم ينظر الله عز وجل اليه، قال زيد وكان ابن عمر يحدث أن النبى صلى الله عليه وسلم رآه وعليه ازار يتقعقع يعنى جديدا فقال من هذا؟ فقلت أنا عبد الله، فقال ان كنت عند الله فارفع ازارك، قال فرفعته قال زد، قال فرفعته حتى بلغ نصف الساق، قال ثم التفت إلى أبى بكر رضى الله عنه فقال من جر ثوبه من الخيلاء لم ينظر الله اليه يوم القيامة، فقال أبو بكر رضى الله عنه انه يسترخى إزارى أحيانا؟ فقال النبى صلى الله عليه وسلم لست منهم