মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা

হাদীস নং: ১৯৯
পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সাজ-সজ্জা
কাপড় পরার মুস্তাহাব, জায়িয এবং হারাম সীমানা।
১৯৯। আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আকীল (র) সূত্রে ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এক প্রকার রেশমের ডোরাকাটা পোশাক পরতে দেন। বাদশাহ ফায়রূয তাকে এটা উপহার দিয়েছিলেন। তখন আমি ইযার পড়লাম। তার দৈর্ঘ্য প্রস্থ আমাকে ঘিরে নিয়েছিল। এর ফলে আমি সেটা ঝুলিয়ে হাটতাম। এবং আমি চাদরও পড়লাম। তা দ্বারা আমি (শরীর) আবৃত করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার ঘাড়ে ধরে বললেন, হে আবদুল্লাহ। ইযার উঁচু কর। কেননা, ইযারের যে অংশ মাটিতে লাগবে, সেখান থেকে টাখনুর নীচ পর্যন্ত অংশ জাহান্নামে যাবে। আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ (র) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে কঠিনভাবে কাপড় গুটিয়ে রাখতে অন্য কোন মানুষকে দেখি নি।
দ্বিতীয় সূত্রে তার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমর (রা)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে একটি কুবতী (মিশরীয় কাপড়) পরতে দেন আর উসামা (রা)-কে রেশমের ডোরাকাটা পোশাক পরতে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি আমাদের দিকে তাকালেন। আমাকে দেখলেন যে, আমি কাপড় (টাখনুর) নীচে ঝুলিয়ে পরেছি। তখন তিনি আমার নিকটে এসে আমার কাঁধে ধরে বললেন, হে ইবন উমর। যে অংশ মাটিতে লাগবে, তা জাহান্নামে যাবে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর হতে আমি ইবন উমর (রা)-কে গোছার অর্ধাংশ পর্যন্ত ইযার পরতে দেখেছি।
(হাদীসটি হায়ছামী বর্ণনা করে বলেছেন, হাদীসটির সনদে বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবন আকীল দুর্বল। এ ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب اللباس والزنية
باب ما جاء فى الحد المستحب للثوب والجائز والحرام
199- عن عبد الله بن محمد بن عقيل عن ابن عمر قال كسانى رسول الله صلى الله عليه وسلم حلة من حلل السيراء أهداها له فيروز فلبست الازار فاغرقنى طولا وعرضا فسحبته ولبست الرداء فتقنعت به فأخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم بعاتقى فقال يا عبد الله ارفع الازار، فان ما مست الارض من الازار الى ما أسفل من الكعبين فى النار، قال عبد الله بن محمد فلم أر انسانا قط أشد تشميرا من عبد الله بن عمر
(وعنه من طريق ثان قال سمعت ابن عمر رضى الله عنه عنهما يقول كسانى رسول الله صلى الله عليه وسلم قبطية وكسا أسامة حلة سيراء قال فنظر فرآني قد اسبلت، فجاء فاخذ من بمنكبى وقال يا ابن عمر، كل شئ مس الارض من الثياب ففى النار، قال فرأيت ابن عمر يتزر الى نصف الساق

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীছটিতে টাখনুর নিচে লুঙ্গি পরিধানের পরিণাম সম্পর্কে কঠিন সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে। বলা হয়েছে, লুঙ্গির যতটুকু অংশ টাখনুর নিচে থাকবে, ততটুকু জাহান্নামে যাবে। এর দু'টি অর্থ হতে পারে। এক অর্থ হল পায়ের সেই অংশ অর্থাৎ টাখনুর নিচের অংশ, যা পরিধানের কাপড় দ্বারা ঢাকা হয়েছে, জাহান্নামে যাবে। বলাবাহুল্য কোনও ব্যক্তির এক অংশ জাহান্নামে যাবে আর বাকি অংশ জান্নাতে, এরূপ হতে পারে না। এক অংশ যখন জাহান্নামে যাবে, তখন বাকি অংশও অবশ্যই জাহান্নামেই যাবে। তার মানে লুঙ্গি টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরা জাহান্নামে যাওয়ার একটি কারণ।

দ্বিতীয় অর্থ হতে পারে এরকম যে, লুঙ্গি টাখনুর নিচে নামিয়ে পরার কাজটি জাহান্নামীদের কাজের মধ্যে গণ্য। অর্থাৎ এভাবে লুঙ্গি পরে তারাই, যারা জাহান্নামে যাবে। কাজেই কোনও মুমিন-মুসলিম ব্যক্তির এভাবে লুঙ্গি পরা উচিত নয়।

উল্লেখ্য, এ সতর্কবাণী কেবল লুঙ্গির জন্যই নির্ধারিত নয়; বরং এটা জামা ও পায়জামার জন্যও প্রযোজ্য। অর্থাৎ পরিধেয় যে-কোনও বস্ত্র নিচের দিকে সর্বোচ্চ টাখনু পর্যন্ত নামানো যাবে, এর নিচে নয়। পুরুষের সতর যেহেতু হাঁটু পর্যন্ত, তাই হাঁটুর নিচে নামাতে হবে অবশ্যই। তার মানে পরিধেয় বস্ত্র হাঁটু ও টাখনুর মাঝামাঝি যে-কোনও স্থান পর্যন্ত নামানো যাবে।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

পরিধেয় কাপড় অর্থাৎ লুঙ্গি, পায়জামা, ফুলপ্যান্ট ও জুব্বা টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরা যাবে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান