মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৫৪ টি
হাদীস নং: ২৮০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খন্দক বা আহযাবের যুদ্ধ এবং বনু কুরায়যার যুদ্ধ
এই যুদ্ধকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুবই গুরুত্ব দিয়েছিলেন, এই যুদ্ধে মদীনার চতুস্পার্শ্বে পরিখা খনন করা হয়, পরিখা খননে আনসার ও মুহাজিরদের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সশরীরে অংশ নেন। এতে তাঁর কতক মু'জিযা ও অলৌকিক শক্তির প্রকাশ ঘটে।
এই যুদ্ধকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুবই গুরুত্ব দিয়েছিলেন, এই যুদ্ধে মদীনার চতুস্পার্শ্বে পরিখা খনন করা হয়, পরিখা খননে আনসার ও মুহাজিরদের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সশরীরে অংশ নেন। এতে তাঁর কতক মু'জিযা ও অলৌকিক শক্তির প্রকাশ ঘটে।
২৮০. আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন এক শীতের সকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুজরা শরীফ থেকে বের হয়ে দেখলেন মুহাজির ও আনসার সাহাবিগণ পরিখা খনন করছে। তখন তিনি আবৃত্তি শুরু করলেন-
اللَّهُمَّ إِنَّ الْخَيْرَ خَيْرُ الْآخِرَهُ فَاغْفِرْ لِلْأَنْصَارِ وَالْمُهَاجِرَهُ.
হে আল্লাহ্ প্রকৃত ও যথার্থ কল্যাণ হল আখিরাতের কল্যাণ-আপনি আনসার ও মুহাজিরগণকে ক্ষমা করুন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আবৃত্তি শুনে সাহাবিগণ আবৃত্তি করলেন-
نَحْنُ الَّذِينَ بَايَعُوْا مُحَمَّدًا عَلَى الْجِهَادِ مَا بَقِيْنَا أَبَدًا
আমরা সে সব লোক যারা মুহাম্মদ (ﷺ) এর হাতে বায়আত করেছি-অঙ্গীকার করেছি জিহাদে অবিচল থাকার যতদিন জীবিত থাকি।
আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে অপর বর্ণনায় এসেছে। তিনি বলেছেন যে, এক শীতের সকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাহিরে বের হলেন এবং দেখতে পেলেন যে, মুহাজিরগণ পরিখা খনন করছেন। আনাস (রা) বলেন, এসময়ে তাদের কোন খাদেম ও সেবাকর্মী ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, "হে আল্লাহ্ বস্তুত প্রকৃত কল্যাণ হল আখিরাতের কল্যাণ-আপনি আনসার ও মুজাহিরগণকে ক্ষমা করে দিন। পূর্বোক্ত ভাষায় তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আবৃত্তির জবাব দিলেন। তবে সেখানে এটুকু অতিরিক্ত আছে যে, পলায়ন নয়, পলায়ন নয়, পলায়ন নয়।
اللَّهُمَّ إِنَّ الْخَيْرَ خَيْرُ الْآخِرَهُ فَاغْفِرْ لِلْأَنْصَارِ وَالْمُهَاجِرَهُ.
হে আল্লাহ্ প্রকৃত ও যথার্থ কল্যাণ হল আখিরাতের কল্যাণ-আপনি আনসার ও মুহাজিরগণকে ক্ষমা করুন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আবৃত্তি শুনে সাহাবিগণ আবৃত্তি করলেন-
نَحْنُ الَّذِينَ بَايَعُوْا مُحَمَّدًا عَلَى الْجِهَادِ مَا بَقِيْنَا أَبَدًا
আমরা সে সব লোক যারা মুহাম্মদ (ﷺ) এর হাতে বায়আত করেছি-অঙ্গীকার করেছি জিহাদে অবিচল থাকার যতদিন জীবিত থাকি।
আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে অপর বর্ণনায় এসেছে। তিনি বলেছেন যে, এক শীতের সকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাহিরে বের হলেন এবং দেখতে পেলেন যে, মুহাজিরগণ পরিখা খনন করছেন। আনাস (রা) বলেন, এসময়ে তাদের কোন খাদেম ও সেবাকর্মী ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, "হে আল্লাহ্ বস্তুত প্রকৃত কল্যাণ হল আখিরাতের কল্যাণ-আপনি আনসার ও মুজাহিরগণকে ক্ষমা করে দিন। পূর্বোক্ত ভাষায় তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আবৃত্তির জবাব দিলেন। তবে সেখানে এটুকু অতিরিক্ত আছে যে, পলায়ন নয়, পলায়ন নয়, পলায়ন নয়।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في غزوة الخندق أو الاحزاب وغزوة بني قريظة
واهتمامه - صلى الله عليه وسلم بهذه الغزوة وحفر خندق حول المدينة واشتراكه - صلى الله عليه وسلم - مع الأنصار والمهاجرين في حفره وظهور بعض معجزاته
واهتمامه - صلى الله عليه وسلم بهذه الغزوة وحفر خندق حول المدينة واشتراكه - صلى الله عليه وسلم - مع الأنصار والمهاجرين في حفره وظهور بعض معجزاته
عن انس بن مالك (5) قال خرج النبى - صلى الله عليه وسلم - فى غداة قرة أو باردة (6) فاذا المهاجرون والانصار يحفرون الخندق فقال
اللهم أن الخير خير الآخرة ... فاغفر للأنصار والمهاجرة
فاجابوه ... نحن الذين بايعوا محمدا ... على الجهاد ما بقينا أبدا
(وعنه من طريق ثان) (7) قال خرج رسول الله - صلى الله عليه وسلم - والمهاجرين يحفرون الخندق فى غداة باردة قال أنس ولم يكن لهم خدم (8) فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - اللهم إنما الخير الخ (9) فأجابوه بنحو ما تقدم وزاد فيه ولا نفر ولا نفر ولا نفر
اللهم أن الخير خير الآخرة ... فاغفر للأنصار والمهاجرة
فاجابوه ... نحن الذين بايعوا محمدا ... على الجهاد ما بقينا أبدا
(وعنه من طريق ثان) (7) قال خرج رسول الله - صلى الله عليه وسلم - والمهاجرين يحفرون الخندق فى غداة باردة قال أنس ولم يكن لهم خدم (8) فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - اللهم إنما الخير الخ (9) فأجابوه بنحو ما تقدم وزاد فيه ولا نفر ولا نفر ولا نفر
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খন্দক বা আহযাবের যুদ্ধ এবং বনু কুরায়যার যুদ্ধ
২৮০. আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন এক শীতের সকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুজরা শরীফ থেকে বের হয়ে দেখলেন মুহাজির ও আনসার সাহাবিগণ পরিখা খনন করছে। তখন তিনি আবৃত্তি শুরু করলেন-
اللَّهُمَّ إِنَّ الْخَيْرَ خَيْرُ الْآخِرَهُ فَاغْفِرْ لِلْأَنْصَارِ وَالْمُهَاجِرَهُ.
হে আল্লাহ্ প্রকৃত ও যথার্থ কল্যাণ হল আখিরাতের কল্যাণ-আপনি আনসার ও মুহাজিরগণকে ক্ষমা করুন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আবৃত্তি শুনে সাহাবিগণ আবৃত্তি করলেন-
نَحْنُ الَّذِينَ بَايَعُوْا مُحَمَّدًا عَلَى الْجِهَادِ مَا بَقِيْنَا أَبَدًا
আমরা সে সব লোক যারা মুহাম্মদ (ﷺ) এর হাতে বায়আত করেছি-অঙ্গীকার করেছি জিহাদে অবিচল থাকার যতদিন জীবিত থাকি।
আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে অপর বর্ণনায় এসেছে। তিনি বলেছেন যে, এক শীতের সকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাহিরে বের হলেন এবং দেখতে পেলেন যে, মুহাজিরগণ পরিখা খনন করছেন। আনাস (রা) বলেন, এসময়ে তাদের কোন খাদেম ও সেবাকর্মী ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, "হে আল্লাহ্ বস্তুত প্রকৃত কল্যাণ হল আখিরাতের কল্যাণ-আপনি আনসার ও মুজাহিরগণকে ক্ষমা করে দিন। পূর্বোক্ত ভাষায় তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আবৃত্তির জবাব দিলেন। তবে সেখানে এটুকু অতিরিক্ত আছে যে, পলায়ন নয়, পলায়ন নয়, পলায়ন নয়।
اللَّهُمَّ إِنَّ الْخَيْرَ خَيْرُ الْآخِرَهُ فَاغْفِرْ لِلْأَنْصَارِ وَالْمُهَاجِرَهُ.
হে আল্লাহ্ প্রকৃত ও যথার্থ কল্যাণ হল আখিরাতের কল্যাণ-আপনি আনসার ও মুহাজিরগণকে ক্ষমা করুন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আবৃত্তি শুনে সাহাবিগণ আবৃত্তি করলেন-
نَحْنُ الَّذِينَ بَايَعُوْا مُحَمَّدًا عَلَى الْجِهَادِ مَا بَقِيْنَا أَبَدًا
আমরা সে সব লোক যারা মুহাম্মদ (ﷺ) এর হাতে বায়আত করেছি-অঙ্গীকার করেছি জিহাদে অবিচল থাকার যতদিন জীবিত থাকি।
আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে অপর বর্ণনায় এসেছে। তিনি বলেছেন যে, এক শীতের সকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাহিরে বের হলেন এবং দেখতে পেলেন যে, মুহাজিরগণ পরিখা খনন করছেন। আনাস (রা) বলেন, এসময়ে তাদের কোন খাদেম ও সেবাকর্মী ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, "হে আল্লাহ্ বস্তুত প্রকৃত কল্যাণ হল আখিরাতের কল্যাণ-আপনি আনসার ও মুজাহিরগণকে ক্ষমা করে দিন। পূর্বোক্ত ভাষায় তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আবৃত্তির জবাব দিলেন। তবে সেখানে এটুকু অতিরিক্ত আছে যে, পলায়ন নয়, পলায়ন নয়, পলায়ন নয়।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في غزوة الخندق أو الاحزاب وغزوة بني قريظة
عن انس بن مالك (5) قال خرج النبى - صلى الله عليه وسلم - فى غداة قرة أو باردة (6) فاذا المهاجرون والانصار يحفرون الخندق فقال
اللهم أن الخير خير الآخرة ... فاغفر للأنصار والمهاجرة
فاجابوه ... نحن الذين بايعوا محمدا ... على الجهاد ما بقينا أبدا
(وعنه من طريق ثان) (7) قال خرج رسول الله - صلى الله عليه وسلم - والمهاجرين يحفرون الخندق فى غداة باردة قال أنس ولم يكن لهم خدم (8) فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - اللهم إنما الخير الخ (9) فأجابوه بنحو ما تقدم وزاد فيه ولا نفر ولا نفر ولا نفر
اللهم أن الخير خير الآخرة ... فاغفر للأنصار والمهاجرة
فاجابوه ... نحن الذين بايعوا محمدا ... على الجهاد ما بقينا أبدا
(وعنه من طريق ثان) (7) قال خرج رسول الله - صلى الله عليه وسلم - والمهاجرين يحفرون الخندق فى غداة باردة قال أنس ولم يكن لهم خدم (8) فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - اللهم إنما الخير الخ (9) فأجابوه بنحو ما تقدم وزاد فيه ولا نفر ولا نفر ولا نفر
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খন্দক বা আহযাবের যুদ্ধ এবং বনু কুরায়যার যুদ্ধ
২৮১. সাহল ইবন সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে পরিখা খনন এলাকায় ছিলাম। সাহাবিগণ মাটি খনন করছিলেন আর আমরা ঘাড়ে করে মাটিগুলো অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছিলাম। সে সময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন
اَللَّهُمَّ لَا عَيْشَ إِلَّا عَيْش الْآخِرَةِ، فَاغْفِرْ لِلْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ
হে আল্লাহ্! পরকালীন জীবন ছাড়া প্রকৃত জীবন নেই। আপনি মুহাজির ও আনসারগণকে ক্ষমা করে দিন।
ইব্ন আওন (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি হাসান থেকে তিনি তদীয় মাতা থেকে এবং তিনি উম্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন খন্দক পরিখা খনন দিবসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বক্তব্য আমি ভুলিনি। তিনি খননকারীদেরকে ইট সরানোতে সহযোগিতা করছিলেন, মাটিতে তাঁর বুকের পশম বালিময় হয়ে পড়েছিল। তিনি বলছিলেন
اللَّهُمَّ إِنَّ الْخَيْرَ خَيْرُ الْآخِرَهُ فَاغْفِرْ لِلْأَنْصَارِ وَالْمُهَاجِرَهُ
আল্লাহ্ আখিরাতের কল্যাণ ছাড়া প্রকৃত কল্যাণ নেই। আপনি আনাসার ও মুহাজিরগণকে ক্ষমা করে দিন।
একপর্যায়ে তিনি আম্মার (রা) কে দেখে বলে উঠলেন হায়, সুমাইয়ার পুত্র! এক সত্যদ্রোহীদল তাকে খুন করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এটি মুহাম্মদ ইব্ন সীরীনের নিকট উত্থাপন করেছিলাম। তিনি বললেন, হাসান কি এটি তার মাতা থেকে বর্ণনা করেছে? আমি বললাম হাঁ, তাই। হাসানের মাতা হযরত উম্মে সালামা (রা) এর ক্রীতদাসী ও সেবিকা ছিল।
اَللَّهُمَّ لَا عَيْشَ إِلَّا عَيْش الْآخِرَةِ، فَاغْفِرْ لِلْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ
হে আল্লাহ্! পরকালীন জীবন ছাড়া প্রকৃত জীবন নেই। আপনি মুহাজির ও আনসারগণকে ক্ষমা করে দিন।
ইব্ন আওন (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি হাসান থেকে তিনি তদীয় মাতা থেকে এবং তিনি উম্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন খন্দক পরিখা খনন দিবসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বক্তব্য আমি ভুলিনি। তিনি খননকারীদেরকে ইট সরানোতে সহযোগিতা করছিলেন, মাটিতে তাঁর বুকের পশম বালিময় হয়ে পড়েছিল। তিনি বলছিলেন
اللَّهُمَّ إِنَّ الْخَيْرَ خَيْرُ الْآخِرَهُ فَاغْفِرْ لِلْأَنْصَارِ وَالْمُهَاجِرَهُ
আল্লাহ্ আখিরাতের কল্যাণ ছাড়া প্রকৃত কল্যাণ নেই। আপনি আনাসার ও মুহাজিরগণকে ক্ষমা করে দিন।
একপর্যায়ে তিনি আম্মার (রা) কে দেখে বলে উঠলেন হায়, সুমাইয়ার পুত্র! এক সত্যদ্রোহীদল তাকে খুন করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এটি মুহাম্মদ ইব্ন সীরীনের নিকট উত্থাপন করেছিলাম। তিনি বললেন, হাসান কি এটি তার মাতা থেকে বর্ণনা করেছে? আমি বললাম হাঁ, তাই। হাসানের মাতা হযরত উম্মে সালামা (রা) এর ক্রীতদাসী ও সেবিকা ছিল।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في غزوة الخندق أو الاحزاب وغزوة بني قريظة
عن سهل بن سعد (1) رضي الله عنه قال كنا مع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بالخندق وهم يحفرون ونحن ننقل التراب علي أكتافنا فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - اللهم لا عيش الا عيش الآخرة (2) ... فاغفر للمهاجرين والأنصار
عن ابن عون (4) عن الحسن عن أمه عن أم سلمة رضي الله عنها قالت ما نسيت قوله - صلى الله عليه وسلم - يوم الخندق وهو يعاطيهم اللبن وقد أغبر شعر صدره وهو يقول.
اللهم ان الخير خير الآخرة ... فاغفر للأنصار والمهاجرة
قال فرأي عمارا فقال ويحه ابن سمية تقتله الفئة الباغية، قال فذكرته لمحمد يعني ابن سيرين فقال عن أمه؟ (5) قلت نعم، أما انها كانت تخالطها تلج عليها
عن ابن عون (4) عن الحسن عن أمه عن أم سلمة رضي الله عنها قالت ما نسيت قوله - صلى الله عليه وسلم - يوم الخندق وهو يعاطيهم اللبن وقد أغبر شعر صدره وهو يقول.
اللهم ان الخير خير الآخرة ... فاغفر للأنصار والمهاجرة
قال فرأي عمارا فقال ويحه ابن سمية تقتله الفئة الباغية، قال فذكرته لمحمد يعني ابن سيرين فقال عن أمه؟ (5) قلت نعم، أما انها كانت تخالطها تلج عليها
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খন্দক বা আহযাবের যুদ্ধ এবং বনু কুরায়যার যুদ্ধ
২৮২. বারা ইবন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমদেরকে পরিখা খননের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরিখার এক জায়গায় আমরা একটি বড় পাথরের মুখোমুখি হই। শাবল সেখানে কোন কাজ করছিল না। বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জানানো হল। তিনি ঘটনাস্থলে এলেন এবং অতিরিক্ত কাপড় খুলে পরিখার মধ্যে নেমে পড়লেন। শাবল হাতে নিয়ে আল্লাহ্ নাম নিয়ে তিনি পাথরে আঘাত করলেন। সেটির ১/৩ অংশ ভেঙ্গে গেল। তিনি আল্লাহু আকবার বলে উঠলেন এবং বললেন আল্লাহর কসম আমাকে সিরিয়ার চাবিগুলো দেয়া হয়েছে। এখান থেকে আমি সেখানকার লাল প্রাসাদগুলো দেখতে পাচ্ছি। তিনি বিসমিল্লাহ্ বলে ২য় আঘাত করলেন। এবার ১/৩ অংশ ভেঙ্গে গেল। তিনি বললেন, আল্লাহু আকবার পারস্যের চাবিগুলো আমাকে দেয়া হয়েছে। আল্লাহর কসম আমি এখান থেকে মাদায়েন ও তার শুভ্র প্রাসাদগুলো দেখতে পাচ্ছি। এরপর তিনি বিসমিল্লাহ্ বলে পুনঃ আঘাত করলেন। তাতে পাথরের অবশিষ্টাংশ উঠে এল। তিনি বললেন, আল্লাহু আকবার ইয়ামেনের চাবিগুলো আমাকে দেয়া হয়েছে। আল্লাহর কসম এখান থেকে আমি সানাআ'এর প্রবেশ পথগুলো দেখতে পাচ্ছি।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في غزوة الخندق أو الاحزاب وغزوة بني قريظة
عن البراء بن عازب (6) رضي الله عنه قال أمرنا رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بحفر الخندق قال وعرض لنا صخرة في مكان من الخندق لا تأخذ فيها المعاول، قال فشكوها الي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فجاء رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قال عوف واحسبه قال وضع ثوبه ثم هبط الي الصخرة فأخذ المعول فقال بسم الله فضرب ضربة فكسر ثلث الحجر، وقال الله أكبر أعطيت مفاتيح الشام والله اني لأبصر قصورها الحمر من مكاني هذا، ثم قال بسم الله وضرب أخري فكسر ثلث الحجر، فقال الله أكبر أعطيت مفاتيح فارس والله اني لأبصر المدائن وأبصر قصرها الأبيض من مكاني هذا، ثم قال بسم الله وضرب ضربة أخري فقلع بقية الحجر، فقال الله أكبر اعطيت مفاتيح اليمن والله اني لأبصر ابواب صنعاء من مكاني هذا
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আহযাবের যুদ্ধে মুজাহিদগণের বীরত্ব ও সাহসিকতা প্রদর্শন: একপর্যায়ে তাঁদের নামায ছুটে যায় এবং এই যুদ্ধে শত্রুসেনাদের জন্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বদ দু'আ
২৮৩. আমির ইবন সা'দ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, পরিখার যুদ্ধে এক ব্যক্তি ঢাল ব্যবহার করছিল। কখনো সে সেটিকে নাকের উপরে রাখছিল আবার কখনো নীচে নামাচ্ছিল। এমতাবস্থায় আমি আমার ঝুড়ি থেকে একটি রক্তমাখা তীর বের করি এবং সেটিকে ধনুকের মধ্যে স্থাপন করি। একবার সে ঢালটি নীচে নামানোর সাথে সাথে আমি তাকে লক্ষ্য করে আমার তীর নিক্ষেপ করি। আমার তীরের বাঁট তার ঢালের একটা স্থানে গিয়ে পড়েছিল যা আমি এখনো ভুলিনি। তীরটি মাটিতে পড়ে গিয়েছিল। সে ওই তীরকে পায়ে মাড়াচ্ছিল। ঘটনা প্রত্যক্ষ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেসে উঠেছিল। বর্ণনাকারী বলেন যে, মুল বর্ণনাকারী সম্ভবতঃ এটাও বলেছিলেন যে, হাসির সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দাঁত মুবারক দেখা গিয়েছিল। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেসেছিলেন কেন? তিনি বললেন ঢাল ব্যবহারকারী ব্যক্তিটির কর্মকাণ্ড দেখে তিনি হেসেছিলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فيما ابداه المجاهدون من الشجاعة والاستبسال في القتال
عن عامر بن سعد عن أبيه قال لما كان يوم الخندق ورجل يتمرس (1) جعل يقول بالترس هكذا فوضعه فوق أنفه ثم يقول هكذا يسفله بعد قال فأهويت الي كنانتي فأخرجت منها سهما مدماً (2) فوضعته في كبد القوس فلما قال هكذا يسفل الترس رميت فما نسيت وقع القدح (3) علي كذا وكذا من الترس قال وسقط فقال برجله (4) فضحك نبي الله - صلى الله عليه وسلم - أحسبه قال حتي بدت نواجذه قال قلت لم؟ قال لفعل الرجل
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আহযাবের যুদ্ধে মুজাহিদগণের বীরত্ব ও সাহসিকতা প্রদর্শন: একপর্যায়ে তাঁদের নামায ছুটে যায় এবং এই যুদ্ধে শত্রুসেনাদের জন্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বদ দু'আ
২৮৪. আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সুলায়মান ইব্ন সুরাদকে শুনেছি। তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খন্দকের যুদ্ধের দিন বলেছেন আজ আমরা শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব এরপর ওরা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না-যুদ্ধ করতে পারবে না।
হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, খন্দকের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন শত্রুপক্ষ আমাদেরকে মধ্যম নামায-আসরের নামায থেকে উদাসীন করে রেখেছিল, মহান আল্লাহ্ তাদের বাসস্থান ও কবরগুলো আগুনে ভরপুর করে দিন।
হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, খন্দকের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন শত্রুপক্ষ আমাদেরকে মধ্যম নামায-আসরের নামায থেকে উদাসীন করে রেখেছিল, মহান আল্লাহ্ তাদের বাসস্থান ও কবরগুলো আগুনে ভরপুর করে দিন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فيما ابداه المجاهدون من الشجاعة والاستبسال في القتال
عن أبي اسحق (5) قال سمعت سليمان بن صرد (رضي الله عنه) قال قال رسول الله صلي الله عليه وسلم يوم الأحزاب اليوم نغزوهم ولا يغزونا (6) (ز) (عن علي رضي الله عنه) (7) قال قال رسول الله صلي الله عليه وسلم يوم الأحزاب شغلونا عن الصلاة الوسطي صلاة العصر ملأ الله قبورهم وبيوتهم ناراً
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আহযাবের যুদ্ধে মুজাহিদগণের বীরত্ব ও সাহসিকতা প্রদর্শন: একপর্যায়ে তাঁদের নামায ছুটে যায় এবং এই যুদ্ধে শত্রুসেনাদের জন্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বদ দু'আ
২৮৫. আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, খন্দক যুদ্ধের দিন আমরা নামায আদায়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিলাম। এভাবে মাগরিবের সময়ও অতিবাহিত হয়ে যায়। (এক বর্ণনায় এসেছে যে, এভাবে রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হয়) এটি ছিল যুদ্ধকালীন নামাযের বিধান নাযিল হবার পূর্বের ঘটনা। (অপর বর্ণনায় এসেছে যে, এটি ছিল হাঁটা কিংবা আরোহী অবস্থায় ভয়কালীন নামাযের বিধান নাযিল হবার পূর্বের ঘটনা)। অবশেষে আমরা যখন যুদ্ধের ঝামেলা থেকে মুক্ত হলাম
وَكَفَى اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ الْقِتَالَ وَكَانَ اللَّهُ قَوِيًّا عَزِيزًا .
(আয়াতে সেই মুক্তির উল্লেখ রয়েছে) তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত বিলাল (রা) কে ইকামতের নির্দেশ দিলেন। তিনি যোহর নামাযের ইকামত দিলেন এবং যথাসময়ে আদায় করার সময় যেভাবে নামায আদায় করেন সেভাবে যোহরের নামায আদায় করলেন।
وَكَفَى اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ الْقِتَالَ وَكَانَ اللَّهُ قَوِيًّا عَزِيزًا .
(আয়াতে সেই মুক্তির উল্লেখ রয়েছে) তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত বিলাল (রা) কে ইকামতের নির্দেশ দিলেন। তিনি যোহর নামাযের ইকামত দিলেন এবং যথাসময়ে আদায় করার সময় যেভাবে নামায আদায় করেন সেভাবে যোহরের নামায আদায় করলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فيما ابداه المجاهدون من الشجاعة والاستبسال في القتال
عن أبي سعيد الخدري (8) قال حبسنا يوم الخندق عن الصلاة حتي كان بعد المغرب هوياً (وفي رواية حتي ذهب من الليل ما شاء الله) وذلك قبل أن ينزل في القتال ما نزل (وفي رواية وذلك قبل أن ينزل صلاة الخوف فرجالا أو ركباناً) فلما كفينا القتال وذاك قوله (وكفي الله المؤمنين القتال وكان الله قوياً عزيزاً) أمر النبي - صلى الله عليه وسلم - بلالا فأقام الظهر فصلاها كما يصليها في وقتها
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আহযাবের যুদ্ধে মুজাহিদগণের বীরত্ব ও সাহসিকতা প্রদর্শন: একপর্যায়ে তাঁদের নামায ছুটে যায় এবং এই যুদ্ধে শত্রুসেনাদের জন্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বদ দু'আ
২৮৬. জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খন্দকের যুদ্ধের দিন মসজিদের নিকট এসে চাদর খুলে দাঁড়িয়েছিলেন এবং দুহাত তুলে শত্রুদের জন্যে বদ দু'আ করেছিলেন, নামায আদায় করেননি। এরপর তিনি এলেন-তাদের জন্যে বদ দু'আ করলেন এবং নামায আদায় করলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فيما ابداه المجاهدون من الشجاعة والاستبسال في القتال
عن جابر بن عبد الله (9) أن النبي صلي الله عليه وسلم أتي إلي مسجد يعني الأحزاب (10) فوضع رداءه وقام ورفع يديه مداً يدعو عليهم ولم يصل ثم جاء ودعا عليهم وصلى
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আহযাবের যুদ্ধে মুজাহিদগণের বীরত্ব ও সাহসিকতা প্রদর্শন: একপর্যায়ে তাঁদের নামায ছুটে যায় এবং এই যুদ্ধে শত্রুসেনাদের জন্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বদ দু'আ
২৮৭. আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ আওফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খন্দকের দিনে শত্রুদলের জন্যে বদ দু'আ করে বলেছিলেন
اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ سَرِيعَ الْحِسَابِ هَازِمِ الْأَحْزَابِ أَهْزِمُهُمْ وَزَلْزِلُهُمْ .
হে আল্লাহ্! কিতাব অবতীর্ণকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী, শত্রুদলকে পরাজয় দানকারী ওদেরকে পরাজিত করে দিন এবং তাদের পা নড়বড়ে করে দিন।
اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ سَرِيعَ الْحِسَابِ هَازِمِ الْأَحْزَابِ أَهْزِمُهُمْ وَزَلْزِلُهُمْ .
হে আল্লাহ্! কিতাব অবতীর্ণকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী, শত্রুদলকে পরাজয় দানকারী ওদেরকে পরাজিত করে দিন এবং তাদের পা নড়বড়ে করে দিন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب فيما ابداه المجاهدون من الشجاعة والاستبسال في القتال
عن عبد الله بن أبي أوفي (1) قال دعا رسول الله صلي الله عليه وسلم علي الأحزاب فقال اللهم منزل الكتاب سريع الحساب هازم الأحزاب اهزمهم وزلزهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : মহান আল্লাহ্ কর্তৃক তাঁর নবী (ﷺ)-এর দু'আ কবুল করা এবং শত্রুদলের সাহসহারা হওয়া, বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ব্যর্থ ও লজ্জিত হয়ে ফিরে যাওয়া
২৮৮. মুহাম্মদ ইব্ন কা'ব কুরাযী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমাদের মধ্যে জনৈক কৃষ্ণা অধিবাসী যুবক হুযায়ফা ইব্ন ইয়ামান (রা) কে বলেছিল, হে আবদুল্লাহ্! আপনারা কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখেছেন আর তাঁর সাহচর্য লাভ করেছেন? তিনি বলেছেন, হে ভাতিজা! তা-ই আমরা তাঁকে দেখেছি এবং তাঁর সাহচর্য পেয়েছি। যুবক বলল, আপনারা কিভাবে জীবন নির্বাহ করতেন? তিনি বললেন, তখন আমরা অতি দুঃখ কষ্টে জীবনযাপন করতাম। যুবক বলল, আমরা যদি তাঁকে পেতাম তাহলে তাঁকে পায়ে হেঁটে যেতে দিতাম না বরং আমাদের কাঁধে চড়িয়ে নিয়ে যেতাম! হুযায়ফা (রা) বললেন, ভাতিজা, খন্দকের যুদ্ধের দিন আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে অবস্থান দেখেছি, তিনি রাতের বেলা দীর্ঘক্ষণ নামায আদায় করেছেন। এরপর তিনি আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমাদের মধ্যে কে আছ যে, উঠে গিয়ে শত্রুপক্ষের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ফিরে এসে আমাদেরকে তা জানাবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন যে, সে ফিরে এলে তার বিনিময়ে মহান আল্লাহ্ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন। কিন্তু কেউই উঠল না। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দীর্ঘক্ষণ নামায আদায় করলেন এবং আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন কে আছ যে, উঠে গিয়ে শত্রপক্ষের অবস্থা দেখে ফিরে এসে তা আমাদেরকে জানাবে বিনিময়ে সে নিশ্চিত জান্নাতে আমার সাথে থাকবে। প্রচণ্ড ভয়, ক্ষুধা ও ঠান্ডার কারণে এবারও কেউ দাঁড়ায়নি। কেউই যখন দাঁড়াল না তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ডাকলেন। এবার আমার বসে থাকার কোন উপায় ছিল না। তিনি বললেন, হে হুযায়ফা, তুমি যাও, শত্রুদের অবস্থা দেখে আস যে, ওরা কী করছে। আমার নিকট আসার পূর্বে তুমি কোন কথা বলবে না। হুযায়ফা বলেন, আমি ওদের নিকট গেলাম এবং ওদের ভেতরে ঢুকে পড়লাম। এ সময়ে ঝঞ্ঝা বায়ু এবং আল্লাহর ফিরিশতা সৈনিকেরা ওদেরকে যা করার তা করছিল। প্রচণ্ড বায়ুতে তাদের আগুন ও পাতিলগুলো স্থির থাকছিল না। তাঁবু ও ওদেরকে যা করার তা করছিল। প্রচণ্ড বায়ুতে তাদের তাদের তাবু ও বাসস্থানগুলো নড়াচড়া করছিল। এ সময়ে আবু সুফয়ান ইবন হারব দাঁড়িয়ে বলল, ওহে কুরায়শ সম্প্রদায়! তোমাদের প্রত্যেকেই যেন তার পাশে বসা ব্যক্তির প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখে। হুযায়ফা (রা) বলেন, আবু সুফয়ানের কথা শোনার সাথে সাথে আমি আমার পাশের লোকটির হাত চেপে ধরি এবং বলি- আপনি কে? সে বলল আমি অমুকের পুত্র অমুক। এরপর আবূ সুফয়ান বলল, ওহে কুরায়শ সম্প্রদায়, আল্লাহ্ কসম, তোমরা অবস্থানযোগ্য জায়গায় নও। ঘোড়াগুলো ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। বানু কুরায়যা গোত্র আমাদের সাথে ওয়াদাভঙ্গ করেছে। ওদের পক্ষ থেকে আমরা অপ্রীতিকর আচরণ পেয়েছি। ঝড় ঝঞ্ঝা আমাদের কী অবস্থা করে দিয়েছে তাতো দেখতেই পাচ্ছো। আল্লাহর কসম, চুলার উপর আমাদের পাতিল স্থির থাকছে না, আগুন জ্বলছে না, তাঁবু ও বাসস্থান ঠিক থাকছে না। সুতরাং সকলে নিজ দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু কর, আমি যাত্রা শুরু করছি। সে তার উটে আরোহণ করে ঠিকঠাক ভাবে বসে কশাঘাত করল। উটটি তিন পায়ে লাফিয়ে উঠল। রশি খোলার পর সেটি সোজা দাঁড়িয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট না আসা পর্যন্ত কোন কথা বলা নিষেধ থাকার কারণে আমি কিছুই বলিনি। নতুবা আমি তার হত্যার ইচ্ছা করলে অবশ্যই তাকে তীর নিক্ষেপে হত্যা করতে পারতাম। তিনি বলেন, এরপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসি। তিনি তখন তাঁর কোন এক স্ত্রীর চাদর পরে নামায আদায় করছিলেন। আমাকে দেখে তিনি আমাকে তাঁবুর ভেতরে নিয়ে গেলেন এবং ওড়নার এক অংশ আমার উপর ছড়িয়ে দিলেন। এরপর তিনি রুকু সিজদা করে নামায আদায় করলেন। তাঁর সালাম ফেরানোর পর আমি শত্রুপক্ষের অবস্থান তাঁকে জানাই। ওদিকে শত্রু সহযোগী গাতফান গোত্র কুরায়শদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা অবগত হয় এবং তারা নিজ শহরের দিকে পালিয়ে যায়।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ماجاء في استجابة الله تعالي دعاء نبيه - صلى الله عليه وسلم - وفشل الأحزاب وتفرقهم واندحارهم ورجوعهم بالخيبة والندامة
عن محمد بن كعب القرظي (2) قال قال فتي منا من أهل الكوفة لحذيفة بن اليمان يا أبا عبد الله رأيتم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وصحبتموه؟ قال نعم يا أبن أخي، قال فكيف كنتم تصنعون؟ قال والله لقد كنا بحهد (3) قال والله لو أدركنا ما تركناه يمشي علي الأرض ولجعلناه علي أعناقنا، قال فقال حذيفة يا أبن أخي والله لقد رأيتنا مع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بالخندق وصلي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - من الليل هويا (4) ثم التفت الينا فقال من رجل يقوم فينظر لنا ما فعل القوم يشترط له رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أنه يرجع أدخله الله الجنة، فما قام رجل ثم صلي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - هوياً من الليل ثم التفت إلينا فقال من رجل يقوم فينظر لنا ما فعل القوم ثم يرجع يشرط له رسول الله - صلى الله عليه وسلم - الرجعة أسأل الله أن يكون رفيقي في الجنة، فما قام رجل من القوم مع شدة الخوف وشدة الجوع وشدة البرد، فلما يقم أحد دعاني رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فلم يكن لي بد في القيام حين دعاني، فقال يا حذيفة فاذهب فادخل في القوم فانظر ما يفعلون ولا تحدثن شيئاً حتي تأتينا، قال فذهبت فدخلت في القوم والريح وجنود الله تفعل ما تفعل لا تقر لهم قدر ولا نار ولا بناء، فقام أبو سفيان بن حرب فقال يا معشر قريش لينظر امرؤ من جليسه، فقال حذيفة فأخذت بيد الرجل الذي إلي جنبي فقلت من أنت، قال أنا فلان بن فلان، ثم قال أبو سفيان يا معشر قريش إنكم والله ما أصبحتم بدار مقام: لقد هلك الكراع (5) واخلفتنا بنو قريظة، بلغنا منهم الذي نكره ولقينا من هذه الريح ما ترون: والله ما تطمئن لنا قدر ولا تقوم لنا نار ولا يستمسك لنا بناء فارتحلوا فإني مرتحل، ثم قام إلي جمله وهو معقول فجلس عليه ثم ضربه فوثب علي ثلاث فما أطلق عقله إلا وهو قائم، ولولا عهد رسول الله - صلى الله عليه وسلم - لا تحدث شيئاً حتي تأتيني ثم شئت (6) لقتلته بسهم، قال حذيفة ثم رجعت إلي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وهو قائم يصلي في مرط (7) لبعض نسائه مرجل (1) فلما رآني أدخلني إلي رحله وطرح علي طرف المرط ثم ركع وسجد وإنه لفيه (2) فلما سلم أخبرته الخبر، وسمعت غطفان بما فعلت قريش وانشمروا (3) إلي بلادهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: খন্দক ও বানু কুরায়যার যুদ্ধ এবং সা'দ ইব্ন মুআয (রা)-এর আহত হওয়া
২৮৯. ইয়াযীদ মুহাম্মদ ইবন আমর তাঁর পিতা ও দাদা থেকে আলকামাহ্ ইবন্ন ওয়াক্কাস (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন হযরত আয়েশা (রা) আমাকে অবগত করিয়ে বলেছেন মানুষের পদচিহ্ন অনুসরণ করে আমি খন্দক যুদ্ধের দিনে পথে বের হলাম। হঠাৎ আমার পেছনে পায়ে চলার শব্দ পেলাম। আমি তাকিয়ে দেখলাম হযরত সা'দ ইবন্ মুআয (রা) আসছেন। তাঁর সাথে তাঁর ভাতিজা হারিছ ইব্ন আওস ঢাল নিয়ে যাচ্ছেন। আমি মাটিতে বসে পড়লাম। সা'দ (রা) আমাকে অতিক্রম করে গেলেন। তাঁর পরিধানে একটি যুদ্ধবর্ম ছিল। তাঁর হাত-পা বর্মের বাহিরে ছিল। তাঁর এই অঙ্গ প্রত্যঙ্গে আঘাত লাগার আশংকা করছিলাম আমি। হযরত সা'দ (রা) একজন দীর্ঘকায় ও বৃহৎদেহী লোক ছিলেন। তিনি এই কবিতা পাঠ করতে করতে এগুচ্ছিলেন-
لَيْتَ قَلِيلًا يُدْرِكُ الْهَيْجَاءُ جَمَلٌ ... مَا أَحْسَنَ الْمَوْتُ إِذَا حَانَ الْأَجَلُ
উট যদি যুদ্ধে উত্তেজনাকে কমই পেত অর্থাৎ যুদ্ধে উত্তেজনা যদি কম হতো তাহলে ভালো হতো। আর মৃত্যুর সময় এসে গেলে মৃত্যু তো অতি উত্তম।
হযরত আয়েশা (রা) বলেন হযরত সা'দ চলে যাবার পর আমি দাঁড়ালাম এবং একটি বাগানে প্রবেশ করলাম। সেখানে কতক মুসলিম লোককে দেখতে পেলাম। তাঁদের মধ্যে হযরত উমার ইব্ন খাত্তাব (রা) এবং শিরস্ত্রাণ ও মুখ-বর্ম পরিহিত এক লোক ছিলেন। আমাকে দেখে হযরত উমার (রা) বিস্মিত হয়ে বললেন, আমার জীবনের কসম আপনি এখানে কেন এসেছেন? আপনি মহাদুঃসাহস দেখিয়েছেন! আপনি যুদ্ধাহত হবেন না কিংবা বন্দী হবেন না এমন নির্ভরতা আপনাকে কে দিল? হযরত উমার (রা) আমাকে বকাবকি করতে লাগলেন তাতে আমি অতিষ্ঠ হয়ে কামনা করছিলাম যে, তখনই মাটি দু ফাঁক হয়ে যাক আমি তার ভিতরে ঢুকে পড়ি। এসময়ে মুখ-বর্ম পরিহিত লোকটি তার মুখ-বর্ম খুলল। আমি দেখলাম যে, তিনি তালহা ইব্ন উবায়দুল্লাহ্ (রা)। তিনি বললেন, ওহে উমার! আপনি তো বাড়াবাড়ি করে চলছেন। আল্লাহর প্রতি ধাবিত হওয়া ছাড়া আত্মরক্ষা কিংবা পলায়নের কী পথ আছে? এ সময়ে ইবনুল আরাকাহ নামের জনৈক কুরায়শী মুশরিক লোক হযরত সা'দকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করে এবং সে বলে এই তীর গ্রহণ করো, আমি ইবনুল আরাকাহ্। তীর এসে হযরত সা'দের বাহুর রগে বিদ্ধ হয় এবং রগ কেটে যায়। মহান আল্লাহর নিকট দুআ করে হযরত সা'দ (রা) বললেন হে আল্লাহ্! বানু কুরায়যা সম্পর্কে আমার চক্ষু না জুড়ানো পর্যন্ত আমার মৃত্যু দিবেন না। তিনি জাহেলী যুগে বানু কুরায়যা গোত্রের মিত্র ও বন্ধু ছিলেন। তৎক্ষণাৎ তাঁর রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেল। মহান আল্লাহ্ মুশরিকদের প্রতি প্রচণ্ড ঝঞ্ঝা বায়ু প্রেরণ করলেন। তাতে তারা যুদ্ধ ময়দান ছেড়ে পালিয়ে গেল। মহান আল্লাহ্ মুমিনদেরকে যুদ্ধ থেকে রক্ষা করলেন। মহান আল্লাহ্ সর্বশক্তিমান ও অপ্রতিরোধ্য। এ পর্যায়ে আবূ সুফয়ান ও তার সাথীগণ তিহামা-তে উয়ায়না ইব্ন বদর ও তার সাথীসঙ্গীগণ নাজদ অঞ্চলে গিয়ে একত্রিত হল আর বানু কুরায়যা গোত্র তাদের দূর্গে ফিরে এল এবং নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় ফিরে গিয়ে অস্ত্রশস্ত্র খুলে রাখলেন। হযরত সাদের জন্য মসজিদে একটি তাঁবু তৈরির নির্দেশ দিলেন। তাঁবু তৈরি করা হল। এসময়ে হযরত জিবরাঈল (ﷺ) এলেন। তাঁর সম্মুখ-দাঁতে বালির চিহ্ন লেগেছিল। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললেন, আপনি কি অস্ত্র খুলে ফেলেছেন? আল্লাহর কসম ফিরিশতাগণ এখনও অস্ত্র খুলে রাখেনি। আপনি বানু কুরায়যা বিরুদ্ধে অভিযানে বের হন এবং ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শিরস্ত্রাণ পরিধান করলেন এবং লোকজনকে অভিযানে বের হবার নির্দেশ দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে মসজিদের প্রতিবেশী বানু গানাম গোত্রের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করে বললেন তোমাদের এ পথ দিয়ে কে গমন করেছে? তারা বলল, আমাদের এ পথে দিহয়া কালবী (রা) গমন করেছেন। বস্তুত হযরত দিহয়া কালবী (রা) এর দাঁড়ি, দাঁত ও মুখমণ্ডল হযরত জিব্রাঈলের মত ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বানু কুরায়যা গোত্রের নিকট এলেন এবং ২৫ দিন তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখলেন। অবরোধের দুর্দশায় অতিষ্ঠ হবার পর তাদেরকে বলা হল যে, তোমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ফায়সালা মেনে নিতে সম্মত হও। তারা আবু লুবাবাহ ইব্ন আবদুল মুনযিরের পরামর্শ চাইল তিনি ইঙ্গিতে তাদেরকে জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ফায়সালা হবে তোমাদেরকে জবাই করে দেয়া। তারা বলল, আমরা সা'দ ইব্ন মু'আযের ফায়সালা মেনে নিব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ঠিক আছে তোমরা সা'দ ইব্ন মুআয (রা) এর ফায়সালা মেনে নেয়ার শর্তে বেরিয়ে আস। তারা দূর্গ ছেড়ে বেরিয়ে এল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সা'দ ইব্ন মু'আয (রা) কে আনার জন্যে লোক পাঠালেন। খেজুর বৃক্ষের আঁশে তৈরি গদি বসানো একটি গাধার পিঠে উঠিয়ে তাঁকে নিয়ে আসা হল। তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা তাঁকে ঘিরে দাঁড়িয়েছিল। তারা বলল, এরা আপনার মিত্র ও বন্ধু গোত্র এদের অবস্থা আপনার জানা আছে। কিন্তু তিনি তাদের দিকে তাকালেন না এবং কোন উত্তর দিলেন না। তাদের মহল্লার কাছাকাছি আসার পর তিনি তাদের দিকে তাকালেন এবং বললেন এখন কথা বলার সময় হয়েছে। মহান আল্লাহ্ সন্তুষ্টির বিপরীতে আমি কোন সমালোচকের সমালোচনার পরোয়া করি না। বর্ণনাকারী আবু সাঈদ (রা) বলেছেন যে, হযরত সা'দ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটবর্তী হবার পর তিনি অন্যদেরকে বললেন, তোমাদের সাইয়েদের জন্যে দাঁড়াও এবং তাঁকে নামিয়ে আন। হযরত উমার (রা) বললেন আমাদের সাইয়েদ তো আল্লাহ্ তাআলা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন আচ্ছা তাঁকে নামিয়ে আন-নামিয়ে আন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত সা'দ ইব্ন মুআয (রা) কে বললেন ওদের ব্যাপারে ফায়সালা দিন। তিনি বললেন আমি এই মর্মে ফায়সালা দিচ্ছি যে, ওদের যুদ্ধক্ষম ব্যক্তিদেরকে হত্যা করা হবে, শিশুদেরকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়া হবে এবং ওদের ধনসম্পদ বণ্টন করে নেয়া হবে। বর্ণনাকারী ইয়াযীদ যখন বাগদাদে হাদীছটি বর্ণনা করছিলেন তখন তিনি تُقْسَمُ শব্দের স্থলে يُفْسَمُ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। হযরত সা'দের (রা) ফায়সালা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আপনি আল্লাহর এবং তাঁর রাসূলের ফায়সালা মুতাবিকই ফায়সালা করেছেন। এরপর হযরত সা'দ (রা) দু'আ করে বললেন ইয়া আল্লাহ! আপনি যদি কুরায়শদের বিরুদ্ধে আপনার নবীর আরো কোন যুদ্ধ হওয়া অবশিষ্ট রাখেন তাহলে সেই যুদ্ধের জন্যে আপনি আমাকে বাঁচিয়ে রাখুন। আর যদি তাঁর আর কুরায়শদের মাঝে যুদ্ধ শেষ হবার ফায়সালা করে থাকেন তাহলে আমাকে আপনার নিকট উঠিয়ে নিন। বর্ণনাকারী বলেন, হযরত সা'দের ক্ষতস্থান সামান্য বাদে বাকীরা শুকিয়ে নিরাময় হয়ে গিয়েছিল। এই দু'আর পর সেই ঘা হতে রক্তক্ষরণ শুরু হল। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশে প্রস্তুতকৃত তাঁর তাঁবুতে ফিরে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ বকর (রা) এবং উমার (রা) তাঁর নিকট গেলেন। তাঁরা হযরত সা'দের অবস্থা দেখে চীৎকার করে কাঁদতে লাগলেন। হযরত আয়েশা (রা) বলেন সেই মহান সত্তার কসম করে বলছি যাঁর হাতে মুহাম্মদ (ﷺ) এর প্রাণ আমি আমার কক্ষে অবস্থান করে স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিলাম কোন্টি আবূ বকর (রা) কান্নার শব্দ আর কোন্টি উমার (রা)-এর কান্নার শব্দ। মূলতঃ তাঁরা আল্লাহ্ ঘোষণা অনুযায়ী পরস্পর দয়ার্দ্র ও ভালবাসার মানুষ ছিলেন। আলকামাহ বলেন আমি তখন বললাম হে আম্মাজান! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমতাবস্থায় কি করতেন? আয়েশা (রা) বললেন তাঁর চক্ষু কারো জন্যে অশ্রুসজল হত না বরং কোন দুঃখ-ব্যথা পেলে তিনি তাঁর দাঁড়িতে হাত রাখতেন।
لَيْتَ قَلِيلًا يُدْرِكُ الْهَيْجَاءُ جَمَلٌ ... مَا أَحْسَنَ الْمَوْتُ إِذَا حَانَ الْأَجَلُ
উট যদি যুদ্ধে উত্তেজনাকে কমই পেত অর্থাৎ যুদ্ধে উত্তেজনা যদি কম হতো তাহলে ভালো হতো। আর মৃত্যুর সময় এসে গেলে মৃত্যু তো অতি উত্তম।
হযরত আয়েশা (রা) বলেন হযরত সা'দ চলে যাবার পর আমি দাঁড়ালাম এবং একটি বাগানে প্রবেশ করলাম। সেখানে কতক মুসলিম লোককে দেখতে পেলাম। তাঁদের মধ্যে হযরত উমার ইব্ন খাত্তাব (রা) এবং শিরস্ত্রাণ ও মুখ-বর্ম পরিহিত এক লোক ছিলেন। আমাকে দেখে হযরত উমার (রা) বিস্মিত হয়ে বললেন, আমার জীবনের কসম আপনি এখানে কেন এসেছেন? আপনি মহাদুঃসাহস দেখিয়েছেন! আপনি যুদ্ধাহত হবেন না কিংবা বন্দী হবেন না এমন নির্ভরতা আপনাকে কে দিল? হযরত উমার (রা) আমাকে বকাবকি করতে লাগলেন তাতে আমি অতিষ্ঠ হয়ে কামনা করছিলাম যে, তখনই মাটি দু ফাঁক হয়ে যাক আমি তার ভিতরে ঢুকে পড়ি। এসময়ে মুখ-বর্ম পরিহিত লোকটি তার মুখ-বর্ম খুলল। আমি দেখলাম যে, তিনি তালহা ইব্ন উবায়দুল্লাহ্ (রা)। তিনি বললেন, ওহে উমার! আপনি তো বাড়াবাড়ি করে চলছেন। আল্লাহর প্রতি ধাবিত হওয়া ছাড়া আত্মরক্ষা কিংবা পলায়নের কী পথ আছে? এ সময়ে ইবনুল আরাকাহ নামের জনৈক কুরায়শী মুশরিক লোক হযরত সা'দকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করে এবং সে বলে এই তীর গ্রহণ করো, আমি ইবনুল আরাকাহ্। তীর এসে হযরত সা'দের বাহুর রগে বিদ্ধ হয় এবং রগ কেটে যায়। মহান আল্লাহর নিকট দুআ করে হযরত সা'দ (রা) বললেন হে আল্লাহ্! বানু কুরায়যা সম্পর্কে আমার চক্ষু না জুড়ানো পর্যন্ত আমার মৃত্যু দিবেন না। তিনি জাহেলী যুগে বানু কুরায়যা গোত্রের মিত্র ও বন্ধু ছিলেন। তৎক্ষণাৎ তাঁর রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেল। মহান আল্লাহ্ মুশরিকদের প্রতি প্রচণ্ড ঝঞ্ঝা বায়ু প্রেরণ করলেন। তাতে তারা যুদ্ধ ময়দান ছেড়ে পালিয়ে গেল। মহান আল্লাহ্ মুমিনদেরকে যুদ্ধ থেকে রক্ষা করলেন। মহান আল্লাহ্ সর্বশক্তিমান ও অপ্রতিরোধ্য। এ পর্যায়ে আবূ সুফয়ান ও তার সাথীগণ তিহামা-তে উয়ায়না ইব্ন বদর ও তার সাথীসঙ্গীগণ নাজদ অঞ্চলে গিয়ে একত্রিত হল আর বানু কুরায়যা গোত্র তাদের দূর্গে ফিরে এল এবং নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় ফিরে গিয়ে অস্ত্রশস্ত্র খুলে রাখলেন। হযরত সাদের জন্য মসজিদে একটি তাঁবু তৈরির নির্দেশ দিলেন। তাঁবু তৈরি করা হল। এসময়ে হযরত জিবরাঈল (ﷺ) এলেন। তাঁর সম্মুখ-দাঁতে বালির চিহ্ন লেগেছিল। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললেন, আপনি কি অস্ত্র খুলে ফেলেছেন? আল্লাহর কসম ফিরিশতাগণ এখনও অস্ত্র খুলে রাখেনি। আপনি বানু কুরায়যা বিরুদ্ধে অভিযানে বের হন এবং ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শিরস্ত্রাণ পরিধান করলেন এবং লোকজনকে অভিযানে বের হবার নির্দেশ দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে মসজিদের প্রতিবেশী বানু গানাম গোত্রের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করে বললেন তোমাদের এ পথ দিয়ে কে গমন করেছে? তারা বলল, আমাদের এ পথে দিহয়া কালবী (রা) গমন করেছেন। বস্তুত হযরত দিহয়া কালবী (রা) এর দাঁড়ি, দাঁত ও মুখমণ্ডল হযরত জিব্রাঈলের মত ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বানু কুরায়যা গোত্রের নিকট এলেন এবং ২৫ দিন তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখলেন। অবরোধের দুর্দশায় অতিষ্ঠ হবার পর তাদেরকে বলা হল যে, তোমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ফায়সালা মেনে নিতে সম্মত হও। তারা আবু লুবাবাহ ইব্ন আবদুল মুনযিরের পরামর্শ চাইল তিনি ইঙ্গিতে তাদেরকে জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ফায়সালা হবে তোমাদেরকে জবাই করে দেয়া। তারা বলল, আমরা সা'দ ইব্ন মু'আযের ফায়সালা মেনে নিব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ঠিক আছে তোমরা সা'দ ইব্ন মুআয (রা) এর ফায়সালা মেনে নেয়ার শর্তে বেরিয়ে আস। তারা দূর্গ ছেড়ে বেরিয়ে এল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সা'দ ইব্ন মু'আয (রা) কে আনার জন্যে লোক পাঠালেন। খেজুর বৃক্ষের আঁশে তৈরি গদি বসানো একটি গাধার পিঠে উঠিয়ে তাঁকে নিয়ে আসা হল। তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা তাঁকে ঘিরে দাঁড়িয়েছিল। তারা বলল, এরা আপনার মিত্র ও বন্ধু গোত্র এদের অবস্থা আপনার জানা আছে। কিন্তু তিনি তাদের দিকে তাকালেন না এবং কোন উত্তর দিলেন না। তাদের মহল্লার কাছাকাছি আসার পর তিনি তাদের দিকে তাকালেন এবং বললেন এখন কথা বলার সময় হয়েছে। মহান আল্লাহ্ সন্তুষ্টির বিপরীতে আমি কোন সমালোচকের সমালোচনার পরোয়া করি না। বর্ণনাকারী আবু সাঈদ (রা) বলেছেন যে, হযরত সা'দ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটবর্তী হবার পর তিনি অন্যদেরকে বললেন, তোমাদের সাইয়েদের জন্যে দাঁড়াও এবং তাঁকে নামিয়ে আন। হযরত উমার (রা) বললেন আমাদের সাইয়েদ তো আল্লাহ্ তাআলা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন আচ্ছা তাঁকে নামিয়ে আন-নামিয়ে আন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত সা'দ ইব্ন মুআয (রা) কে বললেন ওদের ব্যাপারে ফায়সালা দিন। তিনি বললেন আমি এই মর্মে ফায়সালা দিচ্ছি যে, ওদের যুদ্ধক্ষম ব্যক্তিদেরকে হত্যা করা হবে, শিশুদেরকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়া হবে এবং ওদের ধনসম্পদ বণ্টন করে নেয়া হবে। বর্ণনাকারী ইয়াযীদ যখন বাগদাদে হাদীছটি বর্ণনা করছিলেন তখন তিনি تُقْسَمُ শব্দের স্থলে يُفْسَمُ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। হযরত সা'দের (রা) ফায়সালা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আপনি আল্লাহর এবং তাঁর রাসূলের ফায়সালা মুতাবিকই ফায়সালা করেছেন। এরপর হযরত সা'দ (রা) দু'আ করে বললেন ইয়া আল্লাহ! আপনি যদি কুরায়শদের বিরুদ্ধে আপনার নবীর আরো কোন যুদ্ধ হওয়া অবশিষ্ট রাখেন তাহলে সেই যুদ্ধের জন্যে আপনি আমাকে বাঁচিয়ে রাখুন। আর যদি তাঁর আর কুরায়শদের মাঝে যুদ্ধ শেষ হবার ফায়সালা করে থাকেন তাহলে আমাকে আপনার নিকট উঠিয়ে নিন। বর্ণনাকারী বলেন, হযরত সা'দের ক্ষতস্থান সামান্য বাদে বাকীরা শুকিয়ে নিরাময় হয়ে গিয়েছিল। এই দু'আর পর সেই ঘা হতে রক্তক্ষরণ শুরু হল। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশে প্রস্তুতকৃত তাঁর তাঁবুতে ফিরে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ বকর (রা) এবং উমার (রা) তাঁর নিকট গেলেন। তাঁরা হযরত সা'দের অবস্থা দেখে চীৎকার করে কাঁদতে লাগলেন। হযরত আয়েশা (রা) বলেন সেই মহান সত্তার কসম করে বলছি যাঁর হাতে মুহাম্মদ (ﷺ) এর প্রাণ আমি আমার কক্ষে অবস্থান করে স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিলাম কোন্টি আবূ বকর (রা) কান্নার শব্দ আর কোন্টি উমার (রা)-এর কান্নার শব্দ। মূলতঃ তাঁরা আল্লাহ্ ঘোষণা অনুযায়ী পরস্পর দয়ার্দ্র ও ভালবাসার মানুষ ছিলেন। আলকামাহ বলেন আমি তখন বললাম হে আম্মাজান! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমতাবস্থায় কি করতেন? আয়েশা (রা) বললেন তাঁর চক্ষু কারো জন্যে অশ্রুসজল হত না বরং কোন দুঃখ-ব্যথা পেলে তিনি তাঁর দাঁড়িতে হাত রাখতেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء مشتركا في غزوة الخندق وبني قريظة وجرح سعد بن معاذ رضي الله عنه
حدثنا يزيد (4) قال أنا محمد بن عمرو عن أبيه عن جده علقمة بن وقاص قال أخبرتني عائشة قالت خرجت يوم الخندق أقفوا آثار الناس قالت فسمعت وئيد الأرض ورائي يعني حس الأرض، قالت فالتفت فاذا أنا بسعد بن معاذ ومعه ابن أخيه الحارث بن أوس يحمل مجنة (5) قالت فجلست إلي الأرض فمر سعد وعليه درع من حديد قد خرجت منها أطرافه (6) فأنا أتخوف علي أطراف سعد، قالت وكان سعد من أعظم الناس وأطولهم قالت فمر وهو يرتجز ويقول
ليت قليلا يدرك الهيجاء جمل ... ما أحسن الموت إذا حان الأجل
قالت فقمت فاقتحمت حديقة فاذا فيها نفر من المسلمين واذا فيهم عمر بن الخطاب وفيهم رجل عليه يعني سبغة له مغفراً (7) فقال عمر ما جاء بك؟ لعمري والله إنك لجربثة، وما يؤمنك أن يكون بلاء أو يكون تحوز (8) قالت فما زال يلومني حتي تمنيت أن الأرض انشقت لي ساعتئذ فدخلت فيها، قالت فرفع الرجل للسبغة عن وجهه فاذا طلحة بن عبيد الله، فقال يا عمر ويحك انك قد أكثرت منذ اليوم: وأين التحوز أو الفرار إلا إلي الله عز وجل، قالت ويرمي سعداً رجل من المشركين من قريش يقال له ابن العرقة بسهم له فقال له خذها وأنا ابن العرقة فأصاب أكحله (9) فقطعه فدعا الله عز وجل سعد فقال اللهم لاتمتني حتي تقر عيني من قريظة، قالت وكانوا حلفاءه ومواليه في الجاهلية، قالت فرقي كلمه (1) وبعث الله عز وجل الربح علي المشركين فكفي الله عز وجل المؤمنين القتال وكان الله قوياً عزيزاً، فلحق أبو سفيان ومن معه بتهامة، ولحق عيينة بن بدر ومن معه بنجد ورجعت بنو قريظة فتحصنوا في صيامهم (2) ورجع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - إلي المدينة فوضع السلاح وامر بقبة من أدم فضربت علي سعد في المسجد، قالت فجاءه جبريل عليه السلام وإن علي ثناياه لنقع الغبار (3) فقال أقد وضعت السلاح؟ والله ما وضعت الملائكة بعد السلاح أخرج إلي بني قريظة فقاتلهم، قالت فلبس رسول الله - صلى الله عليه وسلم - لأمته (4) وأذن في الناس بالرحيل أي يخرجوا فخرج رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فمر علي بني غنم وهي جيران المسجد حوله فقال من مر بكم؟ فقالوا مر بنا دحية الكلبي، وكان دحية الكلبي تشبه لحيته وسنه ووجهه جبريل عليه السلام، فقالت فأتاهم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فحاصرهم خمسا وعشرين ليلة، فلما اشتد حصرهم واشتد البلاء قيل لهم انزلوا علي حكم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فاستشاروا أبا لبابة بن عبد المنذر (5) فاشار اليهم انه الذبح (6) قالوا ننزل علي حكم سعد بن معاذ، فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - انزلوا علي حكم سعد بن معاذ فنزلوا وبعث رسول الله - صلى الله عليه وسلم - إلي سعد بن معاذ فاتي به علي حمار عليه إكاف (7) من ليف قد حمل عليه وحف به قومه، فقالوا يا أبا عمرو حلفاؤك ومواليك وأهل النكاية ومن قد علمت، قالت وأني (8) لا يرجع اليهم شيئا ولا يلتفت اليهم حتي اذا دنا من دورهم التفت إلي قومه فقال قد أبي (9) لي أن لا أبالي في الله لومة لائم، قال قال أبو سعيد فلما طلع علي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قال قوموا إلي سيدكم فأنزلوه، فقال عمر سيدنا الله عز وجل، قال أنزلوه فأنزلوه (1) قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أحكم فيهم قال سعد فاني أحكم فيهم أن تقتل مقاتلتهم وتسبي ذراريهم وتقسم اموالهم، وقال يزيد ببغداد (2) ويقسم فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - لقد حكمت فيهم بحكم الله عز وجل وحكم رسوله، قالت ثم دعا سعد قال اللهم ان كنت أبقيت علي نبيك - صلى الله عليه وسلم - من حرب قريش شيئا فأبقني لها، وان كنت قطعت الحرب بينه وبينهم فاقبضني اليك، قالت فانفجر كلمه (3) وكان قد برئ حتي ما يري منه إلا مثل الخرص (4) ورجع إلي قبته التي ضرب عليه رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قالت عائشة فحضره رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وأبو بكر وعمر، قالت فو الذي نفس محمد بيده إني لأعرف بكاء عمر من بكاء أبي بكر وانا في حجرتي، وكانوا كما قال الله عز وجل (رحماء بينهم) قال علقمة قلت أي امه فكيف كان رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يصنع؟ قالت كانت عينه لا تدمع علي احد ولكنه كان إذا وجد (5) فانما هو آخذ بلحيته
ليت قليلا يدرك الهيجاء جمل ... ما أحسن الموت إذا حان الأجل
قالت فقمت فاقتحمت حديقة فاذا فيها نفر من المسلمين واذا فيهم عمر بن الخطاب وفيهم رجل عليه يعني سبغة له مغفراً (7) فقال عمر ما جاء بك؟ لعمري والله إنك لجربثة، وما يؤمنك أن يكون بلاء أو يكون تحوز (8) قالت فما زال يلومني حتي تمنيت أن الأرض انشقت لي ساعتئذ فدخلت فيها، قالت فرفع الرجل للسبغة عن وجهه فاذا طلحة بن عبيد الله، فقال يا عمر ويحك انك قد أكثرت منذ اليوم: وأين التحوز أو الفرار إلا إلي الله عز وجل، قالت ويرمي سعداً رجل من المشركين من قريش يقال له ابن العرقة بسهم له فقال له خذها وأنا ابن العرقة فأصاب أكحله (9) فقطعه فدعا الله عز وجل سعد فقال اللهم لاتمتني حتي تقر عيني من قريظة، قالت وكانوا حلفاءه ومواليه في الجاهلية، قالت فرقي كلمه (1) وبعث الله عز وجل الربح علي المشركين فكفي الله عز وجل المؤمنين القتال وكان الله قوياً عزيزاً، فلحق أبو سفيان ومن معه بتهامة، ولحق عيينة بن بدر ومن معه بنجد ورجعت بنو قريظة فتحصنوا في صيامهم (2) ورجع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - إلي المدينة فوضع السلاح وامر بقبة من أدم فضربت علي سعد في المسجد، قالت فجاءه جبريل عليه السلام وإن علي ثناياه لنقع الغبار (3) فقال أقد وضعت السلاح؟ والله ما وضعت الملائكة بعد السلاح أخرج إلي بني قريظة فقاتلهم، قالت فلبس رسول الله - صلى الله عليه وسلم - لأمته (4) وأذن في الناس بالرحيل أي يخرجوا فخرج رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فمر علي بني غنم وهي جيران المسجد حوله فقال من مر بكم؟ فقالوا مر بنا دحية الكلبي، وكان دحية الكلبي تشبه لحيته وسنه ووجهه جبريل عليه السلام، فقالت فأتاهم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فحاصرهم خمسا وعشرين ليلة، فلما اشتد حصرهم واشتد البلاء قيل لهم انزلوا علي حكم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فاستشاروا أبا لبابة بن عبد المنذر (5) فاشار اليهم انه الذبح (6) قالوا ننزل علي حكم سعد بن معاذ، فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - انزلوا علي حكم سعد بن معاذ فنزلوا وبعث رسول الله - صلى الله عليه وسلم - إلي سعد بن معاذ فاتي به علي حمار عليه إكاف (7) من ليف قد حمل عليه وحف به قومه، فقالوا يا أبا عمرو حلفاؤك ومواليك وأهل النكاية ومن قد علمت، قالت وأني (8) لا يرجع اليهم شيئا ولا يلتفت اليهم حتي اذا دنا من دورهم التفت إلي قومه فقال قد أبي (9) لي أن لا أبالي في الله لومة لائم، قال قال أبو سعيد فلما طلع علي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قال قوموا إلي سيدكم فأنزلوه، فقال عمر سيدنا الله عز وجل، قال أنزلوه فأنزلوه (1) قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أحكم فيهم قال سعد فاني أحكم فيهم أن تقتل مقاتلتهم وتسبي ذراريهم وتقسم اموالهم، وقال يزيد ببغداد (2) ويقسم فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - لقد حكمت فيهم بحكم الله عز وجل وحكم رسوله، قالت ثم دعا سعد قال اللهم ان كنت أبقيت علي نبيك - صلى الله عليه وسلم - من حرب قريش شيئا فأبقني لها، وان كنت قطعت الحرب بينه وبينهم فاقبضني اليك، قالت فانفجر كلمه (3) وكان قد برئ حتي ما يري منه إلا مثل الخرص (4) ورجع إلي قبته التي ضرب عليه رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قالت عائشة فحضره رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وأبو بكر وعمر، قالت فو الذي نفس محمد بيده إني لأعرف بكاء عمر من بكاء أبي بكر وانا في حجرتي، وكانوا كما قال الله عز وجل (رحماء بينهم) قال علقمة قلت أي امه فكيف كان رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يصنع؟ قالت كانت عينه لا تدمع علي احد ولكنه كان إذا وجد (5) فانما هو آخذ بلحيته
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: খন্দক ও বানু কুরায়যার যুদ্ধ এবং সা'দ ইব্ন মুআয (রা)-এর আহত হওয়া
২৯০. জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন খন্দকের যুদ্ধের দিন সা'দ ইব্ন মুআয আহত হয়েছিলেন। তাতে তাঁর হাতের শীর্ষ রগ কেটে গিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আগুন ব্যবহার করে রক্তক্ষরণ বন্ধ করেছিলেন। একপর্যায়ে তাঁর হাত ফুলে ওঠে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পুনরায় অনুরূপ চিকিৎসা করেন। হাত আবার ফুলে ওঠে। তিনি আবার একই ধারায় চিকিৎসা করেন। আবার হাত ফুলে ওঠে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এ অবস্থা দেখে হযরত সা'দ বিন মু'আয (রা) বললেন হে আল্লাহ্! বানু কুরায়যা গোত্রের শেষ পরিণতি দেখে আমার নয়ন জুড়ানোর পূর্বে আমার মৃত্যু দিবেন না। অবিলম্বে তাঁর রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে গেল। আর এক ফোঁটা রক্তও ঝরেনি। বানু কুরায়যা গোত্র হযরত সা'দ (রা) এর ফায়সালা মানতে রাজী হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সা'দ (রা) কে আনার ব্যবস্থা করলেন। তিনি এলেন এবং ফায়সালা দিলেন যে, ওদের বয়স্ক পুরুষদেরকে হত্যা করা হবে এবং নারী ও শিশুদেরকে জীবিত রাখা হবে যাতে মুসলমানগণ ওদের সেবা নিতে পারে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আপনি আল্লাহর এবং তাঁর রাসূলের ফায়সালা মুতাবিক ফায়সালা দিয়েছেন। ওরা ছিল ৪০০ জন। ওদের হত্যা করার পর মুআয (রা) এর ক্ষতস্থান থেকে আবার রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং তিনি ইনতিকাল করেন। আল্লাহ্ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء مشتركا في غزوة الخندق وبني قريظة وجرح سعد بن معاذ رضي الله عنه
عن جابر (6) أنه قال رمي يوم الأحزاب سعد بن معاذ فقطعوا أكحله فحسمه (7) رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بالنار فانتفخت يده، فحسمه فانتفخت يده، فحسمه أخري فانتفخت يده فنزفه (8) فلما رأي ذلك قال اللهم لا تخرج نفسي حتي تقر عيني من بني قريظة فاستمسك عرقه فما قطر قطرة حتي نزلوا علي حكم سعد فأرسل اليه فحكم أن نقتل رجالهم وتستحيا نساؤهم وذراريهم ليستعين بهم المسلمون. فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أصبت حكم الله فيهم، وكانوا أربعمائة فلما فرغ من قتلهم اتفتق عرقه فمات (رضي الله عنه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: খন্দক ও বানু কুরায়যার যুদ্ধ এবং সা'দ ইব্ন মুআয (রা)-এর আহত হওয়া
২৯১. আবদুল্লাহ্ ইবন্ যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, খন্দক যুদ্ধের দিন আমি এবং উমার ইবন আবূ সালামা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহধর্মিনীদের তাঁবুতে ছিলাম। হাসান (রা) ওই তাঁবু তৈরি করেছিলেন। বাহিরের অবস্থা দেখার জন্যে উমার আমাকে উপরে উঠাতো আর আমি তাকে উপরে উঠাতাম। সে যখন আমাকে উপরে উঠাতো তখন আমি দেখতে পেতাম এবং বুঝতে পারতাম যে, ওই আমার পিতা-তিনি বানু কুরায়যা গোত্রের দিকে যাচ্ছেন। আমার পিতা ওই যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে অংশ নিয়েছিলেন। একপর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন কে আছে যে, বানু কুরায়যা গোত্রের নিকট যাবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে? আমার বাবা যখন ফিরে এলেন তখন আমি তাঁকে বললাম, বাবা! আল্লাহর কসম আপনি যখন বানু কুরায়যা গোত্রের দিকে যাচ্ছিলেন তখন আমি আপনাকে নিশ্চিতভাবে চিনতে পেরেছিলাম। বাবা বললেন, প্রিয় পুত্র! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর পিতামাতা দুজনের কুরবানীর কথা উল্লেখ করে আমাকে বলেছিলেন আমার পিতা-মাতা তোমার জন্যে কুরবানী হোক।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء مشتركا في غزوة الخندق وبني قريظة وجرح سعد بن معاذ رضي الله عنه
عن عبد الله بن الزبير (9) قال لما كان يوم الخندق كنت انا وعمر بن أبي سلمة في الأطم (10) الذي فيه نساء رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أطم حسان فكان يرفعني وأرفعه فاذا رفعني عرفت أبي حبن يمر إلي بني قريظة وكان يقاتل مع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يوم الخندق فقال من يأتي بني قريظة فيقاتلهم؟ فقلت له حين رجع يا أبت تالله ان كنت لأعرفك حين تمر ذاهباً إلي بني قريظة، فقال يا بني أما والله إن كان رسول الله - صلى الله عليه وسلم - ليجمع لي أبويه جميعا يفديني بهما، يقول فداك أبي وأمي
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: খন্দক ও বানু কুরায়যার যুদ্ধ এবং সা'দ ইব্ন মুআয (রা)-এর আহত হওয়া
২৯২. জাবির ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, খন্দক যুদ্ধের দিন একপর্যায়ে পরিস্থিতি খুবই জটিল হয়ে উঠেছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন, এমন কেউ কি আছে যে আমাদেরকে বানু কুরায়যা গোত্রের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করবে? অতঃপর হযরত যুবায়র (রা) বানু কুরায়যা গোত্রের নিকট গেলেন এবং ফিরে এসে তাদের অবস্থা জানালেন। পরিস্থিতি পুনরায় জটিল হয়ে উঠেছিল। এভাবে তিনবার জটিল পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছিল। তিনবারই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওই আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং তিনবারই হযরত যুবায়র (রা) গিয়ে তাদের অবস্থা জেনে এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে তা অবহিত করেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলে إِنَّ لِكُلِّ نَبِيَّ حَوَارِيّ وَالزُّبَيْرُ حَوَارِيٌّ “প্রত্যেক নবীর এক একজন একান্ত সহচর থাকে। আমার একান্ত সহচর হল যুবায়র।"
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء مشتركا في غزوة الخندق وبني قريظة وجرح سعد بن معاذ رضي الله عنه
عن جابر بن عبد الله (2) قال اشتد الامر يوم الخندق فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - ألا رجل يأتينا بخبر بني قريظة؟ فانطلق الزبير فجاء يخبرهم؛ ثم اشتد الأمر أيضاً فذكر ثلاث مرات، فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - ان لكل نبي حواري (3) والزبير حواري
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বানু কুরায়যার যুদ্ধ
২৯৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন খন্দকের যুদ্ধ শেষে ঘরে ফিরে এলেন এবং অস্ত্রশস্ত্র খুলে গোসল করলেন। তখন জিব্রাঈল (আ) উপস্থিত হলেন তাঁর মাথায় তখনও ধুলোবালি লেগে রয়েছিল। তিনি বললেন আপনি কি অস্ত্রশস্ত্র খুলে ফেলেছেন? আল্লাহর কসম আমি এখনও খুলিনি, চলুন ওদের বিরুদ্ধে অভিযানে বের হোন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন কোথায়-কার বিরুদ্ধে? জিব্রাঈল (আ) বানু কুরায়যার দিকে ইঙ্গিত করে বললেন ওদের বিরুদ্ধে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওদের বিরুদ্ধে অভিযানে বের হলেন। হিশাম বলেছেন, আমার পিতা আমাকে জানিয়েছেন যে, ওরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ফায়সালা মেনে নিতে রাজী হয়েছিল। পরে তিনি তাদেরকে সা'দ (রা) এর ফায়সালা মেনে নেয়ার দিকে নিয়ে যান। সা'দ বললেন, আমি ফায়সালা দিচ্ছি যে, ওদের যুদ্ধক্ষম লোকদেরকে হত্যা করা হবে, নারী ও শিশুদেরকে বন্দী করা হবে এবং ধনসম্পদ মুসলমানদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হবে। হিশাম বলেন আমার পিতা বলেছেন যে, আমাকে জানানো হয়েছে যে, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন, আপনি ওদের ব্যাপারে আল্লাহর এবং তাঁর রাসূলের ফায়সালার অনুরূপ ফায়সালা করেছেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء خاصا بغزوة بني قريظة
عن عائشة رضي الله عنها (4) قالت لما رجع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - من الخندق ووضع السلاح واغتسل فأتاه جبريل عليه السلام وعلي رأسه الغبار قال قد وضعت السلاح؟ فو الله ما وضعتها، اخرج اليهم، قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فأين؟ قال ها هنا فأشار إلي بني قريظة، فخرج رسول الله - صلى الله عليه وسلم - إليهم، قال هشام (5) فأخبرني أبي انهم نزلوا علي حكم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فرد الحكم فيهم إلي سعد، قال فاني أحكم أن تقتل المقاتلة وتسبي النساء والذرية وتقسم أموالهم، قال هشام قال أبي فأخبرت أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قال لقد حكمت فيهم بحكم الله بحكم الله عز وجل
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বানু কুরায়যার যুদ্ধ
২৯৪. আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন বানু কুরায়যা গোত্রের দিকে যাত্রা করার সময় বানু গানাম গোত্রের গলিপথে জিব্রাঈল (আ) এর বাহনের যে পদধূলি উড়ছিল তা যেন আমি দেখতে পাচ্ছি।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء خاصا بغزوة بني قريظة
عن أنس بن مالك (6) قال كأني أنظر إلي غبار موكب جبريل (7) عليه السلام ساطعا (8) في سكة بني غنم حين سار إلي قريظة
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বানু কুরায়যার যুদ্ধ
২৯৫. উম্মুল মুমেনীন আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, বানু কুরায়যা গোত্রের মহিলাদের মধ্যে শুধু একজন মহিলাকে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি বলেন আল্লাহর কসম ওই মহিলা আমার নিকট ছিল। আমার সাথে কথা বলছিল এবং দিব্যি হাসাহাসি করছিল। ওদিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাজার এলাকায় ওদের পুরুষদের হত্যা করছিলেন। হঠাৎ এক ঘোষক মহিলাটির নাম ধরে চীৎকার দিয়ে বলল অমুক কোথায়? সে বলল আল্লাহর কসম, আমি এই যে, এখানে। আয়েশা (রা) বলেন আমি বললাম হায়! তোমার ব্যাপারে আবার কী ঘটল? সে বলল আমাকে হত্যা করা হবে। আয়েশা বলেন আমি বললাম, কেন? সে বলল, বড় এক ঘটনার জন্যে যা আমি ঘটিয়েছি। অতঃপর তাকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হল। হযরত আয়েশা (রা) বলতেন মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও মহিলাটির স্বাচ্ছন্দ্য কথাবার্তা ও হাসাহাসিতে আমার বিস্ময় ও আশ্চর্য হবার কথাটা আমি ভুলব না।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء خاصا بغزوة بني قريظة
عن عائشة أم المؤمنين (9) رضي الله عنها قالت لم يقتل من نسائهم (10) إلا امرأة واحدة قالت والله انها لعندي تحدث معي تضحك ظهراً وبطنا (11) ورسول الله - صلى الله عليه وسلم - يقتل رجالهم بالسوق إذ هتف هاتف باسمها أين فلانة؟ قالت أنا والله، قالت قلت ويلك ومالك؟ قالت أقتل، قالت قلت ولم؟ قالت حدثا أحدثته قالت فانطلق بها فضربت عنقها، وكانت عائشة رضي الله تبارك وتعالي تقول والله ما أنسي عجبي من طيب نفسها (1) وكثرة ضحكها وقد عرفت أنها تقتل
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : যায়নাব বিন্তে জাহাশের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিয়ে এবং পর্দার আয়াত নাযিল হওয়া
২৯৬. হিশাম, সুলায়মান ইবন মুগীরা ও ছাবিত হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন যে, যখন যায়নাব (রা) এর ইদ্দত পালন শেষ হল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যায়দকে বললেন তুমি যয়নাবের নিকট যাও এবং তাকে আমার বিয়ের প্রস্তাব দাও। যায়দ সেখানে গেলেন। যায়নাব তখন আটার মণ্ড তৈরি করছিলেন। যায়দ বলেন তাকে দেখে আমার মনে ভয় সৃষ্টি হল আমি তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন সে তাঁর স্ত্রী হবে। আমি তার উল্টো দিকে মুখ করে উল্টো হেঁটে তার দিকে যাচ্ছিলাম। আমি বললাম যায়নাব। তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছেন। সে বলল আমার প্রতিপালক আল্লাহ তা'আলার সাথে পরামর্শ না করে আমি কিছু বলব না। অতঃপর সে তার জায়নামাযে দাঁড়াল। ইত্যবসরে কুরআনের আয়াত নাযিল হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সরাসরি এসে উপস্থিত হলেন এবং অনুমতি ছাড়াই যায়নাবের নিকট চলে গেলেন। হযরত আনাস (রা) বলেন আমি দেখেছি যে, এ উপলক্ষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে রুটি ও গোশত খাইয়েছেন। হাশিমের বর্ণনায় এ কথাটুকু আছে যে, যায়দ বলেছেন যখন আমি বুঝলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে প্রস্তাব দিয়েছেন। হাশিম তার বর্ণনায় এও উল্লেখ করেছেন যে, হযরত আনাস (রা) বলেছেন আমি দেখেছি যে, যায়নাব ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাসরের পর তিনি আমাদেরকে রুটি ও গোশত খাইয়েছেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে লোকজন চলে গিয়েছিল। কিন্তু কয়েকজন তখনও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হুজরায় বসে গল্পগুজব করছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুজরা থেকে বের হয়ে তাঁর অন্যান্য সহধর্মিনীদের কক্ষের দিকে গেলেন। আমি তাঁর পেছনে ছিলাম। তিনি সহধর্মিনীদেরকে সালাম দিচ্ছিলেন আর তাঁরা বলছিলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার নতুন স্ত্রীকে কেমন পেলেন? আনাস (রা) বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জানালাম নাকি তিনি অন্যসূত্রে জানলেন যে, অবশিষ্ট লোকজন চলে গিয়েছে তা আমি এখন ঠিক বলতে পারছি না। যা হোক ওদের চলে যাবার বিষয়টি অবগত হবার পর তিনি তাঁর কক্ষের দিকে গেলেন এবং ভেতরে প্রবেশ করলেন। আমি তাঁর সাথে ভেতরে প্রবেশ করতে গেলাম কিন্তু তিনি আমার মাঝে ও তাঁর মাঝে পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন এবং পর্দার আয়াত নাযিল হল এবং আয়াতের মাধ্যমে লোকজনকে যা নসীহত করার করা হল। হাশিম তাঁর বর্ণনায় আয়াতটি উল্লেখ করেছেন যে,
لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَنْ ن يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَى طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ إِنَاهُ وَلَكِنْ إِذَا دُعِيْتُمْ فَادْخُلُوا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانْتَشِرُوا وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ إِنَّ ذَلِكُمْ كَانَ يُؤْذِي لنَّبِيَّ فَيَسْتَحْيِي مِنْكُمْ وَاللَّهُ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الحق
অর্থাৎ, হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা আহার্য প্রস্তুতির জন্যে অপেক্ষা না করে ভোজনের জন্যে নবী-গৃহে প্রবেশ করো না। তবে তোমাদেরকে আহ্বান করলে তোমরা প্রবেশ করবে এবং ভোজন শেষে চলে যাবে। তোমরা কথাবার্তায় মশগুল হয়ে পড়ো না, কারণ তোমাদের এই আচরণ নবীকে পীড়া দেয়, তিনি তোমাদেরকে উঠিয়ে দিতে সংকোচ বোধ করেন। কিন্তু আল্লাহ্ সত্য বলতে সংকোচ বোধ করেন না। (সূরা আহযাবঃ ৫৩)।
لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَنْ ن يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَى طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ إِنَاهُ وَلَكِنْ إِذَا دُعِيْتُمْ فَادْخُلُوا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانْتَشِرُوا وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ إِنَّ ذَلِكُمْ كَانَ يُؤْذِي لنَّبِيَّ فَيَسْتَحْيِي مِنْكُمْ وَاللَّهُ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الحق
অর্থাৎ, হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা আহার্য প্রস্তুতির জন্যে অপেক্ষা না করে ভোজনের জন্যে নবী-গৃহে প্রবেশ করো না। তবে তোমাদেরকে আহ্বান করলে তোমরা প্রবেশ করবে এবং ভোজন শেষে চলে যাবে। তোমরা কথাবার্তায় মশগুল হয়ে পড়ো না, কারণ তোমাদের এই আচরণ নবীকে পীড়া দেয়, তিনি তোমাদেরকে উঠিয়ে দিতে সংকোচ বোধ করেন। কিন্তু আল্লাহ্ সত্য বলতে সংকোচ বোধ করেন না। (সূরা আহযাবঃ ৫৩)।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في زواجه - صلى الله عليه وسلم - بزينب بنت جحش رضي الله عنها ونزول آية الحجاب
حدثنا بهز (1) وحدثنا هاشم قال ثنا سليمان بن المغيرة عن ثابت عن أنس بن مالك رضي الله تبارك وتعالي عنه قال لما انقضت عدة زنيب رضي الله عنها قال رسول الله صلي الله عليه وسلم لزيد اذهب فاذكرها علي (2) قال فانطلق حتي أتاها قال وهي تخمر عجينها فلما رأيتها عظمت في صدري حتي ما أستطيع أن أنظر إليها (3) أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - ذكرها فوليتها ظهري ونكصت علي عقبي فقلت يا زينب أبشري أرسلني رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يذكرك قالت ما أنا بصانعة شيئا حتي أؤامر ربي عز وجل، فقامت إلي مسجدها (4) ونزل يعني القرآن وجاء رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فدخل عليها بغير إذن (5) قال ولقد رأيتنا أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أطعمنا الخبز واللحم قال هاشم حين عرفت أن النبي - صلى الله عليه وسلم - خطبها (6) قال هاشم في حديثه لقد رأيتنا (7) حين ادخلت علي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - اطعمنا الخبز واللحم، فخرج الناس وبقي رجال يتحدثون في البيت بعد الطعام، فخرج رسول الله - صلى الله عليه وسلم - واتبعته فجعل يتتبع حجر نسائه فجعل يسلم عليهن ويقلن يا رسول الله كيف وجدت أهلك (8) قال فما أدري أنا اخبرته أن القوم خرجوا أو أخبر قال فانطلق حتي دخل البيت فذهبت أدخل معه فالقي الستر بيني وبينه ونزل الحجاب (9) قال ووعظ القوم بما وعظوا به قال هاشم في حديثه (لا تدخلوا بيوت النبي إلا أن يؤذن لكم إلي طعام غير ناظرين إناه ولكن إذا دعيتم فادخلوا: فاذا طعمتم فانتشروا ولا مستأنسين لحديث: ان ذلكم كان يؤذي النبي فيستحي منكم والله لا يستحي من الحق)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : যায়নাব বিন্তে জাহাশের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিয়ে এবং পর্দার আয়াত নাযিল হওয়া
২৯৭. আবদুল আযীয ইবন্ সুহায়ব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, আমি আনাস ইব্ন মালিক (রা) কে শুনেছি তিনি বলছিলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সহধর্মিনী যায়নাবের ওয়ালীমাতে যে আয়োজন করেছেন অন্য কোন স্ত্রীর ওয়ালীমায় তার চেয়ে উত্তম ও অধিক আয়োজন করেননি। তখন ছাবিত বুনানী বললেন যয়নাব (রা) এর ওয়ালীমায় কী আয়োজন করেছিলেন? আনাস (রা) বললেন তিনি পর্যাপ্ত রুটি ও গোশত ভোজনের আয়োজন করেছিলেন। তা এত ছিল যে, সকলে তৃপ্তি সহকারে খাওয়া শেষে কিছুটা অবশিষ্ট রয়ে গিয়েছিল। অন্য এক সনদে ছাবিত বর্ণনা করেছেন আনাস (রা) থেকে, তিনি বলেছেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যায়নাব বিনত জাহাশের ওয়ালীমায় যে ভোজনের আয়োজন করেছিলেন তাঁর অন্য কোন সহধর্মিনীর ক্ষেত্রে তেমনটি করতে আমি দেখিনি। এ আয়োজনে তিনি বকরীর গোশতের আয়োজন করেছিলেন কিংবা বকরী জবাই করেছিলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في زواجه - صلى الله عليه وسلم - بزينب بنت جحش رضي الله عنها ونزول آية الحجاب
عن عبد العزيز بن صهيب (1) قال سمعت أنس بن مالك رضي الله عنه يقول ما أولم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - علي امرأة من نسائه أكثر وأفضل مما أولم علي زينب، فقال ثابت البناني فما أولم؟ قال اطعمهم خبزا ولحما حتي تركوه (2) (ومن طريق ثان) (3) عن ثابت عن أنس رضي الله عنه قال ما رأيت رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أولم علي امرأة من نسائه ما أولم علي زينب بنت جحش قال فأولم بشاة أو ذبح شاة
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : যায়নাব বিন্তে জাহাশের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিয়ে এবং পর্দার আয়াত নাযিল হওয়া
২৯৮. হুমায়দ সূত্রে আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যায়নাব (রা) এর বিয়ে উপলক্ষে ওয়ালীমার আয়োজন করেছিলেন। তাতে তিনি মুসলমানগণকে তৃপ্তি সহকারে রুটি ও গোশত খাইয়েছেন। এরপর তিনি বিয়ের পর যা করেন সে নিয়মানুযায়ী সেখান থেকে বের হয়ে তাঁর অন্যান্য সহধর্মিনী মুমিন জননীদের নিকট গেলেন এবং তাঁদেরকে সালাম জানালেন তাঁদের জন্যে দু'আ করলেন। তাঁরা তাঁকে সালাম জানালেন এবং দু'আ করলেন। এরপর তিনি নিজ হুজরাতে ফিরে এলেন। দরজায় এসে দেখতে পেলেন যে, গৃহের একপাশে দুজন লোক তখনও গল্পগুজবে মশগুল হয়ে আছে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে দেখে সেখান থেকে ফিরে গেলেন। তারা যখন দেখল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে গিয়েছেন তখন তারা অস্থির হয়ে অবিলম্বে সেখান থেকে বেরিয়ে গেল। আমার ঠিক জানা নেই যে, ওদের চলে যাবার বিষয়টি আমি তাঁকে জানিয়েছি নাকি অন্য কেউ জানিয়েছে। ওদের চলে যাবার বিষয় অবগত হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজ গৃহে ফিরে এলেন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে দেখে সেখান থেকে ফিরে গেলেন। তারা যখন দেখল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে গিয়েছেন তখন তারা অস্থির হয়ে অবিলম্বে সেখান থেকে বেরিয়ে গেল। আমার ঠিক জানা নেই যে, ওদের চলে যাবার বিষয়টি আমি তাঁকে জানিয়েছি নাকি অন্য কেউ জানিয়েছে। ওদের চলে যাবার বিষয় অবগত হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজ গৃহে ফিরে এলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في زواجه - صلى الله عليه وسلم - بزينب بنت جحش رضي الله عنها ونزول آية الحجاب
عن حميد عن أنس (4) قال أولم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - لزينب فأشبع المسلمين خبزا ولحما ثم خرج كما كان يصنع إذا تزوج فيأتي حجر أمهات المؤمنين فيسلم عليهن ويدعو لهن ويسلمن عليه ويدعون له، ثم رجع وأنا معه فلما انتهي إلي الباب إذا رجلان قد جري بينهما الحديث في ناحية البيت، فلما أبصرهما رسول الله - صلى الله عليه وسلم - انصرف، فلما رأي الرجلان النبي - صلى الله عليه وسلم - قد رجع وثبا فزعين فخرجا فلا أدري أنا أخبرته أو من أخبره فرجع النبي - صلى الله عليه وسلم
তাহকীক: