মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
হাদীস নং: ২৮১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ : খন্দক বা আহযাবের যুদ্ধ এবং বনু কুরায়যার যুদ্ধ
২৮১. সাহল ইবন সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে পরিখা খনন এলাকায় ছিলাম। সাহাবিগণ মাটি খনন করছিলেন আর আমরা ঘাড়ে করে মাটিগুলো অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছিলাম। সে সময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন
اَللَّهُمَّ لَا عَيْشَ إِلَّا عَيْش الْآخِرَةِ، فَاغْفِرْ لِلْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ
হে আল্লাহ্! পরকালীন জীবন ছাড়া প্রকৃত জীবন নেই। আপনি মুহাজির ও আনসারগণকে ক্ষমা করে দিন।
ইব্ন আওন (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি হাসান থেকে তিনি তদীয় মাতা থেকে এবং তিনি উম্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন খন্দক পরিখা খনন দিবসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বক্তব্য আমি ভুলিনি। তিনি খননকারীদেরকে ইট সরানোতে সহযোগিতা করছিলেন, মাটিতে তাঁর বুকের পশম বালিময় হয়ে পড়েছিল। তিনি বলছিলেন
اللَّهُمَّ إِنَّ الْخَيْرَ خَيْرُ الْآخِرَهُ فَاغْفِرْ لِلْأَنْصَارِ وَالْمُهَاجِرَهُ
আল্লাহ্ আখিরাতের কল্যাণ ছাড়া প্রকৃত কল্যাণ নেই। আপনি আনাসার ও মুহাজিরগণকে ক্ষমা করে দিন।
একপর্যায়ে তিনি আম্মার (রা) কে দেখে বলে উঠলেন হায়, সুমাইয়ার পুত্র! এক সত্যদ্রোহীদল তাকে খুন করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এটি মুহাম্মদ ইব্ন সীরীনের নিকট উত্থাপন করেছিলাম। তিনি বললেন, হাসান কি এটি তার মাতা থেকে বর্ণনা করেছে? আমি বললাম হাঁ, তাই। হাসানের মাতা হযরত উম্মে সালামা (রা) এর ক্রীতদাসী ও সেবিকা ছিল।
اَللَّهُمَّ لَا عَيْشَ إِلَّا عَيْش الْآخِرَةِ، فَاغْفِرْ لِلْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ
হে আল্লাহ্! পরকালীন জীবন ছাড়া প্রকৃত জীবন নেই। আপনি মুহাজির ও আনসারগণকে ক্ষমা করে দিন।
ইব্ন আওন (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি হাসান থেকে তিনি তদীয় মাতা থেকে এবং তিনি উম্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন খন্দক পরিখা খনন দিবসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বক্তব্য আমি ভুলিনি। তিনি খননকারীদেরকে ইট সরানোতে সহযোগিতা করছিলেন, মাটিতে তাঁর বুকের পশম বালিময় হয়ে পড়েছিল। তিনি বলছিলেন
اللَّهُمَّ إِنَّ الْخَيْرَ خَيْرُ الْآخِرَهُ فَاغْفِرْ لِلْأَنْصَارِ وَالْمُهَاجِرَهُ
আল্লাহ্ আখিরাতের কল্যাণ ছাড়া প্রকৃত কল্যাণ নেই। আপনি আনাসার ও মুহাজিরগণকে ক্ষমা করে দিন।
একপর্যায়ে তিনি আম্মার (রা) কে দেখে বলে উঠলেন হায়, সুমাইয়ার পুত্র! এক সত্যদ্রোহীদল তাকে খুন করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এটি মুহাম্মদ ইব্ন সীরীনের নিকট উত্থাপন করেছিলাম। তিনি বললেন, হাসান কি এটি তার মাতা থেকে বর্ণনা করেছে? আমি বললাম হাঁ, তাই। হাসানের মাতা হযরত উম্মে সালামা (রা) এর ক্রীতদাসী ও সেবিকা ছিল।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في غزوة الخندق أو الاحزاب وغزوة بني قريظة
عن سهل بن سعد (1) رضي الله عنه قال كنا مع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بالخندق وهم يحفرون ونحن ننقل التراب علي أكتافنا فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - اللهم لا عيش الا عيش الآخرة (2) ... فاغفر للمهاجرين والأنصار
عن ابن عون (4) عن الحسن عن أمه عن أم سلمة رضي الله عنها قالت ما نسيت قوله - صلى الله عليه وسلم - يوم الخندق وهو يعاطيهم اللبن وقد أغبر شعر صدره وهو يقول.
اللهم ان الخير خير الآخرة ... فاغفر للأنصار والمهاجرة
قال فرأي عمارا فقال ويحه ابن سمية تقتله الفئة الباغية، قال فذكرته لمحمد يعني ابن سيرين فقال عن أمه؟ (5) قلت نعم، أما انها كانت تخالطها تلج عليها
عن ابن عون (4) عن الحسن عن أمه عن أم سلمة رضي الله عنها قالت ما نسيت قوله - صلى الله عليه وسلم - يوم الخندق وهو يعاطيهم اللبن وقد أغبر شعر صدره وهو يقول.
اللهم ان الخير خير الآخرة ... فاغفر للأنصار والمهاجرة
قال فرأي عمارا فقال ويحه ابن سمية تقتله الفئة الباغية، قال فذكرته لمحمد يعني ابن سيرين فقال عن أمه؟ (5) قلت نعم، أما انها كانت تخالطها تلج عليها
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ কথাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিকবার বলেছেন। সর্বপ্রথম বলেছেন হিজরী ৪র্থ সনে আহযাবের যুদ্ধকালে পরিখা খননের সময়। সাহাবীগণের সঙ্গে তিনি নিজেও বিপুল উদ্যমে খননকার্য চালিয়ে যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি যখন তাদের ক্লান্তশ্রান্ত অবস্থা দেখতে পান, তখন তিনি উচ্চ আওয়াজে বলে ওঠেন
اللهم لا عيش إلا عيش الآخرة (হে আল্লাহ! আখিরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন)।
এর দ্বারা তিনি সাহাবীদের অন্তরে এভাবে প্রাণশক্তি যোগাচ্ছিলেন যে, দেখ দুনিয়ার এ কষ্ট স্থায়ী কিছু নয়। দুনিয়া যেমন ক্ষণস্থায়ী, তেমনি এর কষ্ট-ক্লেশও ক্ষণস্থায়ী। তোমরা এ কষ্ট করছ আল্লাহর জন্য। একদিন এ কষ্ট থাকবে না। কিন্তু এর পুরস্কারস্বরূপ অনন্ত অসীম আখিরাতে তোমরা অফুরন্ত সুখ-শান্তি ভোগ করতে পারবে।
পরিখা খননের কষ্টকালে যেমন তিনি এ বাক্যটি উচ্চারণ করেছিলেন, তেমনি পরম আনন্দের এক পরিবেশেও তিনি এ কথাটি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। তা বিদায় হজ্জের সময় আরাফার দিন। আরাফাতের বিশাল বিস্তৃত ময়দানে লক্ষাধিক ভক্ত-অনুরক্ত সাহাবীর সমাবেশে তাঁর সমুচ্চ উচ্চারণ ছিল- لبيك ان العيش عيش الآخرة (আমরা হাজির, হে আল্লাহ আমরা হাজির। নিশ্চয়ই আখিরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন)। যেমন আল্লাহ বলছেন
وَإِنَّ الدَّارَ الْآخِرَةَ لَهِيَ الْحَيَوَانُ
'বস্তুত আখিরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বাক্যটির মাধ্যমে যেন উম্মতকে সতর্ক করছেন, দুনিয়ার কোনও সফলতা, সমৃদ্ধি কিংবা অন্য কোনও আনন্দদায়ক বস্তু অর্জিত হয়ে যাওয়ায় তোমরা খুশিতে মেতে যেয়ো না। কারণ ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার সবই ক্ষণস্থায়ী। স্থায়ী সুখ ও আনন্দ কেবল আখিরাতেই আছে। তাই আসল লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত আখিরাতের সফলতা। সর্বাবস্থায় সে চিন্তা-চেতনা অন্তরে জাগ্রত রেখো।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
দুনিয়ার সুখ-দুঃখ, আরাম-কষ্ট কোনও অবস্থায়ই আখিরাতের কথা ভুলে যেতে নেই। সর্বাবস্থায় মন-মস্তিষ্কে এ চেতনা জাগ্রত রাখা চাই যে, আখিরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন। তাই সে জীবনে মুক্তিলাভ করাই হবে জীবনের আসল লক্ষ্যবস্তু।
اللهم لا عيش إلا عيش الآخرة (হে আল্লাহ! আখিরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন)।
এর দ্বারা তিনি সাহাবীদের অন্তরে এভাবে প্রাণশক্তি যোগাচ্ছিলেন যে, দেখ দুনিয়ার এ কষ্ট স্থায়ী কিছু নয়। দুনিয়া যেমন ক্ষণস্থায়ী, তেমনি এর কষ্ট-ক্লেশও ক্ষণস্থায়ী। তোমরা এ কষ্ট করছ আল্লাহর জন্য। একদিন এ কষ্ট থাকবে না। কিন্তু এর পুরস্কারস্বরূপ অনন্ত অসীম আখিরাতে তোমরা অফুরন্ত সুখ-শান্তি ভোগ করতে পারবে।
পরিখা খননের কষ্টকালে যেমন তিনি এ বাক্যটি উচ্চারণ করেছিলেন, তেমনি পরম আনন্দের এক পরিবেশেও তিনি এ কথাটি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। তা বিদায় হজ্জের সময় আরাফার দিন। আরাফাতের বিশাল বিস্তৃত ময়দানে লক্ষাধিক ভক্ত-অনুরক্ত সাহাবীর সমাবেশে তাঁর সমুচ্চ উচ্চারণ ছিল- لبيك ان العيش عيش الآخرة (আমরা হাজির, হে আল্লাহ আমরা হাজির। নিশ্চয়ই আখিরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন)। যেমন আল্লাহ বলছেন
وَإِنَّ الدَّارَ الْآخِرَةَ لَهِيَ الْحَيَوَانُ
'বস্তুত আখিরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বাক্যটির মাধ্যমে যেন উম্মতকে সতর্ক করছেন, দুনিয়ার কোনও সফলতা, সমৃদ্ধি কিংবা অন্য কোনও আনন্দদায়ক বস্তু অর্জিত হয়ে যাওয়ায় তোমরা খুশিতে মেতে যেয়ো না। কারণ ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার সবই ক্ষণস্থায়ী। স্থায়ী সুখ ও আনন্দ কেবল আখিরাতেই আছে। তাই আসল লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত আখিরাতের সফলতা। সর্বাবস্থায় সে চিন্তা-চেতনা অন্তরে জাগ্রত রেখো।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
দুনিয়ার সুখ-দুঃখ, আরাম-কষ্ট কোনও অবস্থায়ই আখিরাতের কথা ভুলে যেতে নেই। সর্বাবস্থায় মন-মস্তিষ্কে এ চেতনা জাগ্রত রাখা চাই যে, আখিরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন। তাই সে জীবনে মুক্তিলাভ করাই হবে জীবনের আসল লক্ষ্যবস্তু।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)