মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৫৪ টি
হাদীস নং: ৩৩৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খায়বারের লব্ধ সম্পদ বণ্টন এবং তা ছিল মূলত হুদায়বিয়া অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের জন্যে
৩৩৯. আম্মার ইব্ন ইয়াসির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, আবূ হুরায়রা (রা) বলেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে যত গনীমত প্রাপ্ত যুদ্ধে গিয়েছি, সকল ক্ষেত্রে আমি গনীমতের অংশ পেয়েছি, একমাত্র খায়বার অভিযান ব্যতীত। কারণ খায়বারের গনীমত বণ্টিত হয়েছে হুদায়বিয়ায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে। আবূ হুরায়রা (রা) ও আবূ মূসা (রা) হুদায়বিয়া ও খায়বার অভিযানের মধ্যবর্তী সময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আগমন করেছিলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب تقسيم غنيمة خيبر وأنها كانت لأهل الحديبية خاصة
عن عمار بن أبي عمار (6) قال قال أبو هريرة ما شهدت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم مغنماً قط الا قسم لى الا خيبر فانها كانت لأهل الحديبية خاصة: وكان أبو هريرة وابو موسى جا آبين الحديبية وخيبر
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৪০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) খায়বারে অবস্থানকালে কতক গোত্রীয় লোক নিয়ে আবূ হুরায়রা (রা)-এর তথায় আগমন এবং হাবশায় হিজরতকারী মুহাজিরগণকে নিয়ে আবূ মূসা আশআরী (রা)-এর তাঁর সাথে সাক্ষাৎ
৩৪০. খুছায়ম ইবন্ ইরাক তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বারে অবস্থানকালে স্বগোত্রীয় কতক লোক নিয়ে আবূ হুরায়রা (রা) মদীনায় গমন করেন। তখন সিবা' ইবন্ আরফাতাহ মদীনায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খলীফা ছিল। আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, আমি তখন সিবা'-এর নিকট যাই। তিনি তখন ফজরের নামাযের প্রথম রাকআত সূরা كهيعص এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরা وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ পাঠ করছিলেন। তিনি বলেন, আমি তখন মনে মনে বললাম দুর্ভোগ সে ব্যক্তির জন্যে যে নেয়ার সময় পুরোপুরি মেপে নেয় আর দেয়ার সময় কম মেপে দেয়। নামায শেষে তিনি আমাদেরকে কিছু মালপত্র দিলেন। আমরা খায়বার গিয়ে পৌঁছলাম। আমাদেরকে দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুসলমানদের সাথে আলাপ করলেন তারা নিজেদের অংশ থেকে আমাদেরকে কিছু কিছু দান করেছেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في قدوم أبى هريرة في رهط من قومه وقدوم أبى موسى الأشعرى ومن معه من مهاجرى الحبشة والنبى صلى الله عليه وسلم بخيبر
عن خثيم يعنى ابن عراك عن أبيه (7) أن أبا هريرة قدم المدينة فى رهط من قومه والنبى صلى الله عليهوسلم بخيبر وقد استخلف سباع بن عرفطة على المدينة قال فانتهيت اليه وهو يقرأ فى صلاة الصبح في الركعة الاولى بكهيعص وفى الثانية ويل للمطفيين، قال فقلت لنفسى ويل لفلان اذا اكتال اكتال بالوافى، واذا كال كال بالناقص، قال فلما صلى زودنا شيئاً حتى أتينا خيبر قال فكلم رسول الله صلى الله عليه وسلم المسلمين فأشركونا في سهامهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৪১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) খায়বারে অবস্থানকালে কতক গোত্রীয় লোক নিয়ে আবূ হুরায়রা (রা)-এর তথায় আগমন এবং হাবশায় হিজরতকারী মুহাজিরগণকে নিয়ে আবূ মূসা আশআরী (রা)-এর তাঁর সাথে সাক্ষাৎ
৩৪১. আবূ মূসা আশআরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, খায়বার জয়ের তিনদিন পর আমার সম্প্রদায়ের কতক লোককে সাথে নিয়ে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হই। তিনি আমাদেরকে অংশ দিয়েছেন। আমরা ব্যতীত হুদায়বিয়ার বিজয় অভিযানে অংশগ্রহণ না করা অন্য কাউকে তিনি এখান থেকে অংশ দেননি।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في قدوم أبى هريرة في رهط من قومه وقدوم أبى موسى الأشعرى ومن معه من مهاجرى الحبشة والنبى صلى الله عليه وسلم بخيبر
عن أبي موسى الأشعري قال قدمت على رسول الله صلى الله عليه وسلم (1) في ناس من قومى بعدما فتح خيبر بثلاث فأسهم لنا ولم يقسم لأحد لم يشهد الفتح غيرنا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৪২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) খায়বারে অবস্থানকালে কতক গোত্রীয় লোক নিয়ে আবূ হুরায়রা (রা)-এর তথায় আগমন এবং হাবশায় হিজরতকারী মুহাজিরগণকে নিয়ে আবূ মূসা আশআরী (রা)-এর তাঁর সাথে সাক্ষাৎ
৩৪২. আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বার বিজয় শেষে মদীনায় ফিরছিলেন। যখন তিনি উহুদ পাহাড় দেখলেন তখন বললেন, এই যে পাহাড় সেটি আমাদেরকে ভালবাসে এবং আমরা সেটিকে ভালবাসি।যখন তিনি মদীনায় পৌঁছলেন তখন বললেন
اللَّهُمَّ إِنِّي أُحَرِّمُ مَا بَيْنَ لَا بَتَيْهَا كَمَا حَزَمَ إِبْرَاهِيمُ مَكَّةَ
হে আল্লাহ। ইব্রাহীম যেমন মক্কাকে হারাম শরীফ ঘোষণা করেছে আমি তেমন মদীনার দু' পাহাড়ের মধ্যবর্তী অঞ্চলকে হারাম শরীফ ঘোষণা করছি।
اللَّهُمَّ إِنِّي أُحَرِّمُ مَا بَيْنَ لَا بَتَيْهَا كَمَا حَزَمَ إِبْرَاهِيمُ مَكَّةَ
হে আল্লাহ। ইব্রাহীম যেমন মক্কাকে হারাম শরীফ ঘোষণা করেছে আমি তেমন মদীনার দু' পাহাড়ের মধ্যবর্তী অঞ্চলকে হারাম শরীফ ঘোষণা করছি।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في قدوم أبى هريرة في رهط من قومه وقدوم أبى موسى الأشعرى ومن معه من مهاجرى الحبشة والنبى صلى الله عليه وسلم بخيبر
عن أنس بن مالك (3) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أقبل من خيبر فلما رأى أُحداً قال هذا جبل يحبنا ونحبه (4) فلما أشرف على المدينة قال اللهم انى أحرم ما بين لابنيها (5) كما حرم ابراهيم مكة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৪৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : বানু ফাযারাহ গোত্রের প্রতি আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-এর অভিযান
৩৪৩. ইয়াস ইবন সালামাহ ইব্ন আকওয়া থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে, আমরা আবু বকর ইবন আবূ কুহাফা (রা)-এর নেতৃত্ব অভিযানে বের হলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে আমাদের সেনাপতি বানিয়েছিলেন। তিনি আরো বলেন যে, আমরা ফাযারাহ গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযানে বের হয়েছিলাম। আমরা যখন একটি জলাধারের কাছাকাছি পৌছি, তখন হযরত আবূ বকর (রা)-এর নির্দেশে সেখানে আমরা রাত্রিকালীন বিশ্রাম গ্রহণ করি। আমরা যখন ফজরের নামায আদায় করলাম তখন তিনি আমাদের আক্রমণ করার নির্দেশ দিলেন। জলাধারের আশেপাশে আমরা যাদেরকে পেয়েছি তাদেরকে হত্যা করেছি। সালামাহ বলেন, এরপর আমি দেখতে পেলাম যে, নারী ও শিশুসহ বহু লোক পাহাড়ের দিকে দৌড়াচ্ছে। আমি দ্রুত তাদের দিকে এগিয়ে গেলাম। ওরা আমার আগে পাহাড়ে লুকিয়ে যায় কিনা সে আশংকা আমার ছিল। আমি ওদেরকে লক্ষ্য করে একটি তীর নিক্ষেপ করলাম। সেটি ওদের মাঝে আর পাহাড়ের মাঝে গিয়ে পড়ল। এরপর আমি ওদেরকে তাড়িয়ে জলাধারের পাশে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) এর নিকট নিয়ে এলাম। ওদের মধ্যে চামড়ায় ঢাকা এক অনিন্দ্যসুন্দর মহিলা ছিল। তার সাথে ছিল এক কন্যা সন্তান। হযরত আবূ বকর (রা) ওই মেয়েটিকে আমার ভাগে দিয়ে দিলেন। আমি মদীনায় এসে পৌঁছলাম কিন্তু তার পর্দা উঠাইনি। আমি রাত কাটিয়েছি তবুও পর্দা উঠাইনি। অতঃপর বাজারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে আমার দেখা হয়। তিনি বললেন হে সালামাহ, ওই মহিলাটি আমাকে দান করে দাও। তুমি তো অভিজাত বংশের লোক। আমি বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আল্লাহর কসম ওকে আমার পছন্দ হয়েছিল কিন্তু আমি তার পর্দা উঠাইনি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চুপ থাকলেন। আমাকে ছেড়ে গেলেন। আগামীকাল আবার রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে আমার দেখা হয়। তিনি বললেন হে সালামাহ, ওই মহিলাটি আমাকে দান করে দাও। তুমি তো অভিজাত বংশের লোক। আমি বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আল্লাহর কসম ওকে আমার পছন্দ হয়েছিল কিন্তু আমি তার পর্দা উঠাইনি। এটি আপনারই। আপনাকে দিয়ে দিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওই মহিলাকে মক্কায় পাঠিয়ে দেন। তখন মক্কাবাসীদের হাতে কতক মুসলমান বন্দী অবস্থায় ছিল। ওই মহিলার বিনিময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওদেরকে মুক্ত করে আনেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في سرية أبى بكر الصديق رضى الله عنه الى بنى فزارة
عن اياس بن سلمة بن الأكوع (7) قال حدثنى أبى قال خرجنا مع أبى بكر بن أبى قحافة أمره رسول الله صلى الله عليه وسلم علينا قال غزونا فزارة (8) فلما دنونا من الماء أمرنا أبو بكر فعرّسنا (9) قال فلما صلينا الصبح أمرنا أبو بكر فشننا الغارة (10) فقتلنا على الماء من قتلنا: قال سلمة ثم نظرت إلى عنق (1) من الناس فيه الذرية والنساء نحو الجبل وأنا أعدو في آثارهم فخشيت أن يسبقونى الى الجبل فرميت بسهم فوقع بينهم وبين الجبل، قال فجئت بهم أسوقهم الى أبى بكر رضى الله عنه حتى أتيته إلى الماء وفيهم امرأة من فزارة عليها قِشْع من أدّم (2) ومعها ابنة لها من أحسن العرب قال فنفلنى أبو بكر ابنتها قال فما كشفت لها ثوباً (3) حتى قدمت المدينة ثم بت فلم أكشف لها ثوباً قال فلقني رسول الله صلى الله عليه وسلم في السوق فقال لي يا سلمة هب لي المرأة، قال فقلت يا رسول الله والله لقد أعجبتني وما كشفت لها ثوباً فسكت رسول الله صلى الله عليه وسلم وتركنى حتى إذا كان في الغد لقيني رسول الله صلى الله عليه وسلم في السوق فقال يا سلمة هب لى المرأة لله أبوك (4) قال قلت يا رسول الله والله أعجبتنى وما كشفت لها ثوباً، وهى لك يا رسول الله، قال فبعث بها رسول الله صلى الله عليه وسلم الى اهل مكة وفي أيديهم أسارى من المسلمين ففداهم رسول الله صلى الله عليه وسلم بتلك المرأة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৪৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কাদীদে অবস্থানকারী বানু মাল্লুহ গোত্রের উদ্দেশ্যে গালিব ইব্ন আবদুল্লাহ্ (রা)-এর অভিযান
৩৪৪. জুনদুব ইব্ন মাকীছ জুহানী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লায়ছ গোত্রের গালিব ইব্ন আবদুল্লাহ্ কালবী কে কাদীদে অবস্থানকারী বানু মাল্লুহ গোত্রের উদ্দেশ্যে যুদ্ধ অভিযানে প্রেরণ করেন। তিনি ওদের উপর অতর্কিত হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। গালিব বের হল। আমি ওই কাফেলার অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। যেতে যেতে কুদায়দ পর্যন্ত পৌছার পর হারিস ইবন মালিকের সাক্ষাত পাই। সে হল আল বারসা লায়ছী এর পুত্র। আমরা তাকে পাকড়াও করি। সে বলল, আমি তো ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে এসেছি। গালিব ইব্ন আবদুল্লাহ্ বললেন, ইসলাম গ্রহণের জন্যে এলেও একদিন একরাতের বন্দীদশা তোমার কোন ক্ষতি করবে না। আর যদি অন্য উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে আমরা তোমাকে প্রকৃত বন্দীরূপেই গ্রহণ করলাম। বস্তুত তাকে বেঁধে ফেলা হল। আমাদের সাথে থাকা একজন কৃষ্ণাঙ্গকে তার পাহারায় নিয়োজিত করা হল। তাকে বলা হল যে, আমরা ফিরে না আসা পর্যন্ত তুমি তার পাহারায় থাকবে। সে যদি ব্যতিক্রম কিছু করতে চায় তবে তার মাথা কেটে ফেলবে। আমরা এগিয়ে গেলাম। কাদীদ প্রান্তরে গিয়ে পৌছালাম। আসরের সময়ের পর সূর্যান্তলগ্নে আমরা সেখানে অবতরণ করি। আমার সাথীগণ আমাকে একটি উঁচু টিলাতে পাঠায়। আমি টিলার মাথায় গিয়ে উঠি যাতে স্থানীয় লোকদের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করতে পারি। আমি সেখানে শুয়ে পড়ি। তখন মাগরিবের সময়। ইতিমধ্যে স্থানীয়দের এক ব্যক্তি ঘর থেকে বের হয়। সে আমাকে টিলার উপর শুয়ে থাকতে দেখে। সে তার স্ত্রীকে বলল, আমি টিলার উপরে একটি দেহ দেখতে পাচ্ছি যা দিনের শুরুতে দেখিনি, তুমি তোমার পণ্যসামগ্রী পরীক্ষা করে দেখ না জানি কুকুর তার কিছু নিয়ে গিয়েছে। স্ত্রী তার পণ্যসামগ্রী পরীক্ষা করে বলল আমি তো কিছুই হারাইনি। আমার সব কিছু ঠিকঠাক আছে। সে বলল তাহলে আমার ধনুকটি এবং দুটো তীর দাও। স্ত্রী তা দিল। সে আমাকে লক্ষ্য করে একটি তীর নিক্ষেপ করল, সেটি আমার পাঁজরে গিয়ে পড়ল। আমি সেটি খুলে রেখে দিলাম কিন্তু একটুও নড়াচড়া করিনি। সে দ্বিতীয় তীরটি ছুঁড়ল। সেটি আমার কাঁধের শেষ ভাগে বিঁধল। আমি সেটি খুলে রাখলাম। একটুও নড়াচড়া করিনি। সে তার স্ত্রীকে বলল, আমার দুটো তীর তাকে আঘাত করেছে, এটি যদি কোন প্রাণী হতো তাহলে অবশ্যই নড়াচড়া করত। ভোরে গিয়ে তুমি তীর দুটো খুঁজে আনবে। একটি কুকুরের জন্যে যেন আমার দুটো তীর নষ্ট না হয়। আমরা রাতটা তাদেরকে অবকাশ দিয়েছিলাম। তারা বিশ্রাম গ্রহণ করেছিল। দুধ দোহন করেছিল। পশুপালকে গোয়ালে রেখেছিল এবং নিজেরা শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছিল। মধ্যরাতের কিছুটা অতিবাহিত হবার পর আমরা তাদের উপর আক্রমণ করি। ওদের যাদেরকে সম্ভব আমরা হত্যা করি এবং তাদের পশুপাল করায়ত্ত করে ফিরতি যাত্রা শুরু করি। ইতিমধ্যে ওদের ক্ষতিগ্রস্ত লোকেরা আত্মরক্ষার জন্যে চেঁচামেচি ও আহাজারি শুরু করে। আমরা দ্রুত ফিরে আসি এবং বন্দী হারিছ ইব্ন বারসা ও পাহারাদারের নিকট উপস্থিত হই। ওকে সাথে নিয়ে আমরা আবার যাত্রা শুরু করি। ইতিমধ্যে ওদের উদ্ধারকারী ও সাহায্যপ্রার্থী দল আমাদের কাছাকাছি এসে পৌঁছে যে, আমাদের আর বাঁচার উপায় ছিল না। আমাদের মাঝে আর তাদের মাঝে মাত্র একটি পার্বত্যভূমির ব্যবধান ছিল। তৎক্ষণাৎ একটি প্লাবন নেমে এল। এটি আমাদের ও তাদের মাঝে প্রাচীর হয়ে উঠল। এটি মহান আল্লাহ্ তাঁর ইচ্ছায় পাঠিয়েছিলেন। ইতিপূর্বে আমরা সেখানে কোন মেঘও দেখিনি বৃষ্টিও দেখিনি। এত স্রোতস্বিনী প্লাবন যে, কারো সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছিল না। আমরা দেখতে পেলাম, ওরা ঠিক দাঁড়িয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। কেউই এগিয়ে আসতে পারছিল না। আমরা দ্রুত গনীমত গুছিয়ে যাত্রা করলাম এবং সে স্থান ছেড়ে এলাম। ওরা আমাদের হাতে থাকা ধনসম্পদ নিয়ে যেতে সক্ষম হয়নি।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في سرية غالب بن عبد الله رضى الله عنه لبنى الملوح بالكديد
عن جندب بن مكيث (6) الجهنى قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم غالب بن عبد الله الكلبى كلب ليث (7) إلى بنى ملوح بالكديد (8) وأمره أن يغير عليهم فخرج فكنت في سريته فمضينا حتى اذا كنا بقديد (9) لقينا بها الحرث بن مالك وهو ابن البرصاء الليثى فأخذناه فقال انما جئت لأسلم، فقال غالب بن عبد الله ان كنت انما جئت مسلماً فان يضرك رباط يوم وليلة، وان كنت على غير ذلك استوثقنا منك قال فأوثقه رباطاً ثم خلف عليه رجلاً أسود كان معنا فقال امكث معه حتى تمر عليك، فان نازعك فاجتز رأسه، قال ثم مضينا حتى أتينا بطن الكديد فنزلنا عشيشية بعد العصر، فبعنثنى أصحابى فى ربيئة (1) فعمدت الى تل يطعلنى على الحاضر فانبطحت عليه وذلك المغرب، فخرج رجل منهم فنظر فرآنى منبطحاً على التل فقال لامرأته والله انى لأرى على هذا التل سواداً ما رأيته أول النهار، فانظرى لا تكون الكلاب اجتزت بعض أوعيتك، قال فنظرت فقالت لا والله ما أفقد شيئاً، قال فناولينى قوسى وسهمين من كنانتى، قال فناولته فرمانى بسهم فوضعه في جنبى قال فنزعته فوضعته ولم أتحرك، ثم رمانى بآخر فوضعه في راس منكبى فنزعته فوضعته ولم أتحرك، فقال لامرأته والله لقد خالطه سهماى ولو كان دابة لتحرك، فاذا أصبحت فابتغى سهمىّ فخذيهما لا تمضغهما على الكلاب، قال وأمهلناهم حتى راحت رائحتهم حتى اذا اجتلبوا (2) وعطّنوا أو سكنوا (3) وذهبت عتمة من الليل (4) شننا عليهم الغارة (5) فقتلنا من قتلنا منهم واستقنا النعم فتوجهنا قافلين (6) وخرج صريح القوم الى قومهم مغوِّثاً (7) وخرجنا سراعاً حتى نمر بالحارث بن البرصاء وصاحبه فانطلقنا به معنا وأتانا صريخ الناس فجاءنا ما لا قبل لنا به حتى اذا لم يكن بيننا وبينهم إلا بطن الوادى أقبل سيل حال بيننا وبينهم بعثه الله تعالى من حيث شاء، ما رأينا قبل ذلك مطراً ولا حالاً، فجاء بما لا يقدر أحد أن يقوم عليه، فلقد رأيناهم وقوفاً ينظرون الينا ما يقدر أحد منهم أن يتقدم ونحن نحوزها (8) سراعاً حتى أسندناها في المشلل (9) ثم حدرناها عنا (10) فاعجزنا القوم بما في أيدينا.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৪৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : কাযা উমরা ও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মায়মুনা বিনত হারিছকে বিয়ে করা
৩৪৫. আবদুল্লাহ্ ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উমরার উদ্দেশ্যে বের হলেন। মক্কার কাফিরেরা তাঁর মাঝে ও বায়তুল্লাহ্ শরীফের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াল। ফলে তিনি হুদায়বিয়া প্রান্তরে পশু কুরবানী করলেন এবং মাথা মুণ্ডণ করলেন। ওদের সাথে তাঁর চুক্তি হল যে, পরবর্তী বৎসর তিনি উমরা করার জন্যে আসবেন এবং সাথে তরবারি ব্যতীত অন্য কোন অস্ত্রশস্ত্র বহন করবেন না। তারা যে ক'দিন অনুমতি দিবে শুধু সেই ক'দিন মক্কায় অবস্থান করবেন। সে সূত্রে পরবর্তী বৎসর তিনি উমরা করলেন। তিনি চুক্তি মুতাবিক মক্কায় প্রবেশ করলেন। তিন দিন অবস্থানের পর তারা তাঁকে বেরিয়ে যেতে বলল। তিনি বেরিয়ে গেলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في ذكر عمرة القضاء وزواجه صلى الله عليه وسلم بميمونة بنت الحرث رضى الله عنها
عن عبد الله بن عمر (2) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج معتمراً فحال كفار قريش بينه وبين البيت فنحر هديه وحلق رأسه بالحديبية فصالحهم على أن يعتمروا العام المقبل ولا يحمل السلاح عليهم (وقال سريج ولا يحمل سلاحاً) إلا سيوفاً ولا يقيم بها الا ما أحبوا، فاعتمر من العام المقبل فدخلها كما كان صالحهم، فلما أن اقام ثلاثاً أمروه بالخروج فخرج
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৪৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : কাযা উমরা ও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মায়মুনা বিনত হারিছকে বিয়ে করা
৩৪৬. আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবী আওফা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন উমরা করেছিলেন তখন আমরা তাঁর সাথে ছিলাম। তিনি তাওয়াফ করেছেন আমরাও তাওয়াফ করেছি। তিনি নামায আদায় করেছেন আমরাও তাঁর সাথে নামায আদায় করেছি। তিনি সাফা মারওয়াতে সাঈ করেছেন। মক্কাবাসীদের পক্ষ থেকে অপ্রীতিকর কিছু যেন না ঘটতে পারে সেজন্যে আমরা তাঁকে আড়াল করে রেখেছিলাম। অপর এক বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে শুনেছি তিনি সম্মিলিত শত্রুদলের বিরুদ্ধে দুআ করে বলেছেন, হে আল্লাহ্ (আপনি) কিতাব নাযিলকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী, শত্রুদলকে পরাজিতকারী! হে আল্লাহ্ আপনি ওদেরকে পরাজিত করে দিন এবং তাদের পা'গুলোকে নড়বড়ে করে দিন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في ذكر عمرة القضاء وزواجه صلى الله عليه وسلم بميمونة بنت الحرث رضى الله عنها
عن عبد الله بن أبى أوفى (3) قال كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حين اعتمر فطاف وطفنا وصلى وصلينا معه وسعى بين الصفا والمروة وكنا نستره من أهل مكة لا يصيبه أحد بشيء، زاد في رواية قال فسمعته يدعو على الأحزاب يقول اللهم منزل الكتاب سريع الحساب هازم الأحزاب، اللهم اهزمهم وزلزلهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৪৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : কাযা উমরা ও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মায়মুনা বিনত হারিছকে বিয়ে করা
৩৪৭. বারা ইব্ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাযা উমরা আদায়ের জন্যে যখন মক্কায় প্রবেশ করলেন, তখন কুরায়শ নেতারা আলী (রা) এর নিকট এসে বলল, আপনার নেতাকে চলে যেতে বলুন, কারণ নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা থেকে বেরিয়ে গেলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في ذكر عمرة القضاء وزواجه صلى الله عليه وسلم بميمونة بنت الحرث رضى الله عنها
عن البراء بن عازب (4) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما دخل مكة في عمرة القضاء أتوا علياً فقالوا قل لصاحبك فليخرج عنا فقد مضى الأجل، فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৪৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : কাযা উমরা ও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মায়মুনা বিনত হারিছকে বিয়ে করা
৩৪৮. আবূ তোফায়ল বর্ণনা করেছেন, ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কাযা উমরাকালে মাররায যাহরানে অবতরণ করলেন, তখন সাহাবীদের কানে একথা এল যে, কুরায়শগণ বলছে দুর্বলতার কারণে মুসলমানগণ জোরে হাঁটতে পারছে না। সাহাবীগণ বলল, আমরা যদি আমাদের কতক বাহন যবাই করে তার গোশত ও ঝোল খেয়ে পরিতৃপ্ত হয়ে আগামীকাল ফুরফুরে মেজাজে ওদের সমাবেশে গমন করি তাহলে ভালো হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন- না, তা করবে না। বরং তোমাদের যার নিকট যে খাদ্যসামগ্রী রয়েছে তার সব একত্রিত কর। সকল খাদ্যদ্রব্য একত্রিত করা হল। দস্তরখান বিছিয়ে সকলে তৃপ্তি সহকারে খাওয়া দাওয়া করলেন এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ থলিতে খাদ্য সঞ্চিত করে রাখলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অগ্রসর হলেন। তিনি মসজিদুল হারামে প্রবেশ করলেন। কুরায়শগণ হাতিমের পাশে বসে রইল। তিনি চাঁদরে ইদতিবা করলেন অর্থাৎ বাম কাঁধের উপর এবং ডান বগলের নীচে চাঁদর স্থাপন করে ডান বাহু খোলা রাখলেন। এরপর বললেন, শত্রুপক্ষ যেন তোমাদের কারো মধ্যে কোন দুর্বলতা দেখতে না পায়। তিনি রুকন-ই ইয়ামানী স্পর্শ করলেন, তারপর মাতাফে প্রবেশ করলেন। এরপর রুকন-ই-আসওয়াদের দিকে অগ্রসর হলেন। কুরায়শগণ তখন বলল, ওরা তো সাধারণভাবে হাঁটতে পছন্দ করছে না বরং হরিণের মত লাফাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিনবার এভাবে হাঁটলেন। ফলে এটি সুন্নতরূপে নির্ধারিত হল। আবূ তোফায়ল বলেন ইবন আব্বাস (রা) আমাকে এও জানিয়েছেন যে, বিদায় হজ্জেও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করেছেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في ذكر عمرة القضاء وزواجه صلى الله عليه وسلم بميمونة بنت الحرث رضى الله عنها
عن أبى الطفيل عن ابن عباس (1) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما نزمر الظهران (2) في عمرته (أى عمرة القضاء) بلغ أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم أن قريشاً تقول ما يتباعثون (3) من العجف، فقال أصحابه لو انتحرنا (4) من ظهرنا فأكلنا من لحمه وحسونا من مرقه أصبحنا غداً حين ندخل على القوم وبنا جمامة (5) قال لا تفعلوا، ولكن اجمعوا لى من أزوادكم فجمعوا له وبسطوا الانطباع (6) فاكلوا حتى تولوءا وحثاكل واحد منهم في جرابه ثم أقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى دخل المسجد وقعدت قريش نحو الحجر فاضطبع (7) بردائه ثم قال لا يرى القوم فيكم غميزة (8) فاستلم الركن ثم دخل حتى إذا تغيب بالركن اليمانى مشى إلى الركن الأسود، فقالت قريش ما يرضون بالمشئ انهم لينقزون (9) نقز الظباء، ففعل ذلك ثلاثة أطواف فكانت سنة، قال أبو الطفيل وأخبرنى ابن عباس أن النبى صلى الله عليه وسلم فعل ذلك في حجة الوداع
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৪৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : কাযা উমরা ও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মায়মুনা বিনত হারিছকে বিয়ে করা
৩৪৯ - সাঈদ ইব্ন জুবায়র বর্ণনা করেছেন ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে। তিনি বলেছেন যে, কাযা উমরা সম্পাদনের জন্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ মক্কায় আগমন করলেন। এমতাবস্থায় যে, ইয়াছরিবের জ্বর তাঁদেরকে দুর্বল করে ফেলেছিল। তখন মুশরিকগণ নিজেরা বলাবলি করেছিল যে, তোমাদের নিকট এমন কতক লোক আসছে জ্বর যাদেরকে দুর্বল করে ফেলেছে। মহান আল্লাহ্ তাঁর নবীকে ওদের মন্তব্য সম্পর্কে অবহিত করলেন। তিনি সাহাবীদেরকে রমল বা বীরত্ব প্রদর্শনের সাথে তাওয়াফ করার নির্দেশ দিলেন। মুশরিকগণ হাতিমের পাশে বসা ছিল্ তারা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিল। মুসলমানগণ রমল করছিল এবং দুই স্তম্ভের মাঝখানে স্বাভাবিক গতিতে হাঁটছিল। মুশরিকগণ তখন বলেছিল যে, এদের ব্যাপারে তোমরা মন্তব্য করেছিলে যে, জ্বর তাদেরকে দুর্বল করে ফেলেছে তারা বরং অমুক অমুকের চেয়ে অধিক শক্তিশালী। ইব্ন আব্বাস (রা) বলেন হাজীদের প্রতি সহানুভূতিশীলতার কারণেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সকল চক্করে রমল করার নির্দেশ দেননি।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في ذكر عمرة القضاء وزواجه صلى الله عليه وسلم بميمونة بنت الحرث رضى الله عنها
عن سعيد بن جبير (10) عن ابن عباس قال قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم (يعنى مكة في عمرة القضاء) وأصحابه وقد وهنتهم حمى يثرب، قال فقال المشركون إنه يقدم عليكم قوم قد وهتهم الحمى، قال فأطلع الله النبى صلى الله عليه وسلم على ذلك فأمر أصحابه أن يرمّلوا وقعد المشركون ناحية الحجر ينظرون اليهم فرملوا ومشوا ما بين الركنين، قال فقال المشركون هؤلاء الذين تزعمون أن الحمى وهنتهم، هؤلاء أقوى من كذا وكذا ذكروا قولهم، قال ابن عباس فلم يمنعه أن يأمرهم أن يرملون الأشواط كلها الا ابقاء عليهم، وقد سمعت حماداً (11) يحدثه عن سعيد بن جبير عن ابن عباس، وعن عبد الله عن سعيد بن جبير لا شك فيه عنه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৫০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইবন আব্বাসের খালা মায়মুনা বিনতি হারিস (রা)-এর সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিবাহ
৩৫০. মায়মূনা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বিয়ে করেছেন এমতাবস্থায় যে, আমরা ইহরাম মুক্ত ছিলাম মক্কা থেকে ফেরার পর।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب زواجه صلى الله عليه وآله وسلم بميمونة بنت الحرث خالة ابن عباس رضى الله عنهم
عن ميمونة (1) قالت تزوجنى رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن حلال بعد ما رجعنا من مكة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৫১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইবন আব্বাসের খালা মায়মুনা বিনতি হারিস (রা)-এর সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিবাহ
৩৫১. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ভৃত্য আবু রাফি' (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন একসময় আমি এক অভিযানে অংশগ্রহণের তালিকাভুক্ত ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি যাও এবং মায়মুনাকে আমার নিকট নিয়ে আস। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আমি তো অভিযানে যাবার তালিকায় আছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন আমি যা ভালবাসি তুমি কি তা ভালবাস না? তা তো অবশ্যই ভালবাসি। তিনি বললেন, তাহলে যাও মায়মুনাকে নিয়ে আস। আমি গেলাম এবং মায়মূনাকে নিয়ে এলাম।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب زواجه صلى الله عليه وآله وسلم بميمونة بنت الحرث خالة ابن عباس رضى الله عنهم
عن أبى رافع (3) (مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم) أنه قال كنت في بعث مرة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذهب فأتنى بمبمونة (4) فقلت يا نبى الله في البعث، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ألست تحب ما أحب؟ قال بلى يا رسول الله، قال اذهب فأتنى بها فذهبت فجئت بها
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৫২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইবন আব্বাসের খালা মায়মুনা বিনতি হারিস (রা)-এর সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিবাহ
৩৫২. আবূ রাফি (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইহরামমুক্ত অবস্থায় মায়মুনাকে বিয়ে করেছেন এবং ইহরামমুক্ত অবস্থায় তাঁর সাথে বাসর রাত কাটিয়েছেন, আমি তাঁদের দুজনের মধ্যে প্রতিনিধি ছিলাম।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب زواجه صلى الله عليه وآله وسلم بميمونة بنت الحرث خالة ابن عباس رضى الله عنهم
وعنه أيضاً (5) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم تزوج ميمونة حلالاً وبنى بها حلالاً وكنت الرسول بينهما
তাহকীক: