মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৫৪ টি
হাদীস নং: ২৬১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: উহুদ যুদ্ধ, যোদ্ধাগণ এবং তাতে শহীদ হওয়া ব্যক্তিগণ প্রসঙ্গে
২৬১. জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত যে, উহুদ যুদ্ধ শেষে শহীদগণকে নিজ নিজ স্থান থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রেরিত ঘোষক ঘোষণা দিয়ে বলেছিল, তাদেরকে তাদের নিজ নিজ স্থানে ফেরত নিয়ে রেখে দাও।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في أمور شتي تتعلق بالقتال والمقاتلين وشهداء أحد
وعنه أيضا (8) أن قتلي أحد حملوا من مكانهم فنادي منادي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أن ردوا القتلي الي مضاجعها
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: উহুদ যুদ্ধ, যোদ্ধাগণ এবং তাতে শহীদ হওয়া ব্যক্তিগণ প্রসঙ্গে
২৬২. জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমার পিতা উহুদ যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেছিলেন। আমার বোনগণ তাদের একটি উটসহ আমাকে পাঠাল এবং বলল তুমি যাও এবং বাবাকে এনে বানু সালামাহ কবরস্থানে দাফন করে দাও। তিনি বলেন যে, আমি কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে বাবার লাশ আনার জন্য সেখানে পৌঁছলাম। আমাদের আগমনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অবহিত হলেন। তিনি তখন উহুদ ময়দানে উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি আমাকে ডেকে বললেন যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম করে বলছি, তোমার পিতা তাঁর সাথী শহীদগণের সাথে সমাহিত হবেন। অতঃপর তাঁর সাথী শহীদগণের সাথে তাঁকে দাফন করা হয়।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في أمور شتي تتعلق بالقتال والمقاتلين وشهداء أحد
وعنه ايضا (9) قال استشهد أبي بأحد فأرسلني اخواتي اليه بناضح لهن فقلن اذهب فاحتمل أباك علي هذا الجمل فادفنه في مقبرة بني سلمة، قال فجئته وأعوان لي فبلغ ذلك نبي الله - صلى الله عليه وسلم - وهو جالس بأحد فدعاني وقال والذي نفسي بيده لا يدفن الا مع اخوته فدفن مع أصحابه بأحد
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: উহুদ যুদ্ধ, যোদ্ধাগণ এবং তাতে শহীদ হওয়া ব্যক্তিগণ প্রসঙ্গে
২৬৩. ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উহুদ দিবসে শহীদগণের দেহ থেকে লোহা এবং চামড়া জাতীয় দ্রব্য সামগ্রী ও অস্ত্রশস্ত্র খুলে নেয়ার আদেশ দিলেন এবং বললেন ওদেরকে ওদের জামা কাপড় ও রক্তসহ দাফন করে দাও।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في أمور شتي تتعلق بالقتال والمقاتلين وشهداء أحد
عن ابن عباس (1) قال امر رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يوم أحد بالشهداء أن ينزع عنهم الحديد والجلود وقال ادفنوهم بدمائهم وثيابهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চাচা হামযা ইব্ন আবদুল মুত্তালিবের শাহাদাত বরণ, তাঁর হত্যাকারী এবং হত্যার কারণ
২৬৪. হুজাইন ইব্ন মুছান্না আবু উমার (রহ.) জাফর ইবন আমর দামারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি একদা উবায়দুল্লাহ ইব্ন আদী ইবন খিয়ারের সাথে সিরিয়াতে গিয়েছিলাম। আমরা যখন হিমস জনপদে পৌছলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, আমরা যদি ওয়াহশীর নিকট গিয়ে হযরত হামযা (রা) এর শাহাদাত বরণের ঘটনা জানতে চাই তাতে তোমার সম্মতি থাকবে কিনা? আমি বললাম হাঁ, তাতে আমি সম্মত আছি। সে সময়ে ওয়াহ্শী হিমস জনপদে বসবাস করতেন। আমরা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে লোকজনকে জিজ্ঞেস করলাম, আমাদরেকে বলা হল যে, তিনি তাঁর বাসগৃহের ছায়ায় বসে আছেন। তাঁর শরীর ভারী মোটকার মত হয়ে গেছে। আমরা তাঁর নিকট গিয়ে সালাম দিলাম। তিনি আমাদের সালামের জবাব দিলেন। উবায়দুল্লাহ্ তখন পাগড়ি দিয়ে তাঁর মাথা ও মুখমণ্ডল ঢেকে রেখেছিলেন। ওয়াহশী তাঁর চোখ দুটো আর পা দুটো ছাড়া কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। তিনি বললেন হে ওয়াহশী, আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন? ওয়াহশী তাঁর দিকে তাকিয়ে বললেন, না, চিনতে পারছি না তবে আল্লাহর কসম, আমার জানা আছে যে, আদী ইব্ন খিয়ার উম্মু কিতাল নামে আবু ঈসের এক কন্যাকে বিয়ে করেছিল। মক্কায় তার এক পুত্রসন্তান জন্ম নিয়েছিল। আমি তার দুধপানের ব্যবস্থা করলাম। এবং তার আপন মা সহ তাকে তার দুধমার নিকট নিয়ে গিয়েছিলাম এবং তাকে তার দুধমার হাতে তুলে দিয়েছিলাম। এখন তোমার পা দুটো দেখে সেই পা দুটোর কথা মনে পড়ছে। এবার উবায়দুল্লাহ্ তাঁর মুখ খুললেন এবং বললেন আপনি কি আমাদেরকে হযরত হামযা (রা) এর হত্যার ঘটনা সম্পর্কে বলবেন? তিনি বললেন হাঁ, বলব। হামযা (রা) বদর যুদ্ধে তুআয়মাহ ইব্ন আদীকে হত্যা করেছিলেন। সে প্রেক্ষিতে আমার মুনিব জুবায়র ইবন মুতইম আমাকে বলেছিল যে, আমার চাচার প্রতিবেশী হিসেবে তুমি যদি হামযাকে হত্যা করতে পার, তাহলে তুমি মুক্ত ও স্বাধীন হয়ে যাবে। আয়নায়ন যুদ্ধের দিন-'আয়নায়ন' হল উহুদের পাদদেশে একটি পাহাড়। উহুদ আর আয়নায়নের মাঝে একটি পাহাড়ী মাঠ আছে। অর্থাৎ উহুদ দিবসে যখন লোকজন যুদ্ধের জন্যে যাত্রা করল তখন আমিও তাদের সাথে যাত্রা করলাম। যোদ্ধাগণ যখন সারিবদ্ধ হল, সিবাগ বেরিয়ে এসে মুসলিম যোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলল, আমার বিরুদ্ধে লড়াই করার কেউ আছ কি? হামযা ইব্ন আবদুল মুত্তালিব বের হয়ে বললেন হায়, তুমি উম্মু আনসারের পুত্র সিবাগ? ওহে মহিলাদের খাতনাকর্মীর পুত্র। তুই আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিস? এই বলে তিনি তার উপর হামলা করলেন। মুহূর্তে সে ধরাশায়ী ও ধ্বংস হয়ে গেল। হযরত হামযা (রা) এর উপর আক্রমণ করার জন্যে আমি একটি পাথরের নিচে লুকিয়ে থাকি। তিনি আমার পাশ দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন। আমার কাছাকাছি আসামাত্র আমি তাঁকে বর্শা দিয়ে আঘাত করি। তাঁর নাভিতে বর্শা ঢুকিয়ে দিই। তাঁর নিতম্বদ্বয়ের মাঝ দিয়ে সেটি বেরিয়ে যায়। এটি ছিল তাঁর শেষ অবস্থা। এতে তিনি মারা যান। মক্কার লোকজন যখন মক্কায় ফিরে আসে আমিও তাদের সাথে মক্কায় ফিরে আসি এবং সেখানে বসবাস করতে থাকি। একপর্যায়ে মক্কায় ইসলামের প্রসার ঘটে। তখন আমি মক্কা ছেড়ে তাইফ চলে যাই। একসময় সেখান থেকে একদল প্রতিনিধি পাঠানো হয় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে। তাকে জানানো হয় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন প্রতিনিধির সাথে অসৌজন্য আচরণ করেননি। ওয়াহশী বলেন ওইদলের সাথে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে উপস্থিত হই। আমাকে দেখে তিনি বললেন তুমি না ওয়াহ্শী? আমি বললাম হাঁ-তাই। তিনি বললেন তুমি না হামযা (রা) কে হত্যা করেছ? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ আপনি যেমনটি শুনেছেন ঘটনা তাই। তিনি বললেন, তুমি তোমার চেহারা আমার দৃষ্টি থেকে লুকিয়ে রাখতে পারবে না? সে বলল, এরপর আমি তাইফ ফিরে আসি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যখন ওফাত হল এবং ভণ্ডনবী মিথ্যাবাদী মুসায়লামার আবির্ভাব ঘটল। তখন আমি বললাম, আমি মুসায়লামার বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিব যাতে আমি তাকে হত্যা করে হামযা (রা)-এর হত্যার দায়মুক্তি নিতে পারি। সে বলে, অতঃপর আমি মুসায়লামা বিরোধী অভিযানে প্রেরিত লোকজনের সাথে পথে বের হলাম। ওরা যা করার তা করল। হঠাৎ আমি দেখলাম প্রাচীরে এক গর্তে এক লোক দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর চুল এলোমেলো। সে যেন ধূসর বর্ণের উট। ওয়াহ্শী বলেন, আমি আমার বর্শা দ্বারা তার উপর আক্রমণ চালালাম। তার দু'স্তনের মাঝে বর্শাঘাত করলাম, তার দু' কাঁধের মাঝখান দিয়ে সেটি বেরিয়ে গেল। জনৈক আনসারী তার দিকে দৌড়ে গেল এবং তার মাথার তালুতে তরবারি আঘাত করল। আবদুল্লাহ্ ইব্ন মুগাফ্ফাল বলেন যে, সুলায়মান ইবন ইয়াসার আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি আবদুল্লাহ্ ইবন উমার (রা) কে বলতে শুনেছেন যে, মুসায়লামার এক ক্রীতদাসী বাড়ীর ছাদে উঠে বলেছিল হায়। হায়রে দুঃখ! একজন কালো ক্রীতদাস আমীরুল মুমেনীন তথা রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যা করল।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مقتل حمزة بن عبد المطلب عم النبي - صلى الله عليه وسلم - ومن قتله وسبب ذلك
حدثنا حجين بن المثني ابو عمر (2) قال حدثنا عبد العزيز يعني ابن عبد الله بن أبي سلمة (3) عن عبد الله بن الفضل عن سليمان بن يسار عن جعفر بن عمرو الضمري (4) قال خرجت مع عبيد الله بن عدي بن الخيار (5) إلي الشام فلما قدمنا حمص قال لي عبيد الله هل لك في وحشي (6) نسأله عن قتل حمزة؟ قلت نعم، وكان وحشي يسكن حمص فسألنا عنه فقيل لنا هو ذاك في ظل قصره كانه حميت (7) قال فجئنا حتي وقفنا عليه فسلمنا فرد علينا السلام، قال وعبيد الله معتجر (8) بعمامة ما يري وحشي الا عينيه ورجليه، فقال عبيد الله يا وحشي أتعرفني؟ قال فنظر اليه ثم قال لا والله الا اني أعلم أن عدي بن الخيار تزوج امرأة يقال لها أم قتال ابنة أبي العيص فولدت له غلاما بمكة فأسترضعه (9) فحملت ذلك الغلام مع أمه فناولتها اياه فلكأني نظرت الي قدميك (10) قال فكشف عبيد الله وجهه ثم قال ألا تخبرنا بقتل حمزة؟ قال نعم، إن حمزة قتل طعيمة بن عدي ببدر فقال لي مولاي جبير بن مطعم ان قتلت حمزة بعمي فأنت حر، فلما خرج الناس يوم عينين (11) قال وعينين جبل تحت أحد (12) وبينه وبينه واد خرجت الناس الي القتال فلما أن اصطفوا للقتال خرج سباع (13) فقال هل من مبارز؟ (14) قال فخرج اليه حمزة بن عبد المطلب فقال سباع بن أم انمار؟ (15) يا ابن مقطعة البظوز (16) اتحاد الله ورسوله؟ ثم شد عليه فكان كأمس الذاهب واكمنت لحمزة تحت صخرة (1) حتي اذا مر علي فلما أن دنا مني رميته فأضعها في ثنته (2) حتي خرجت من بين وركيه، قال فكان ذلك العهد به (3) قال فلما رجع الناس رجعت معهم قال فأقمت بمكة حتي فشا فيها الاسلام، قال ثم خرجت الي الظائف (4) قال فأرسل إلي النبي - صلى الله عليه وسلم - (5) قال وقبل له انه لا يهيج (6) الرسل قال فخرجت معهم حتي قدمت علي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قال فلما رآني قال أنت وحشي؟ قال قلت نعم، قال أنت قتلت حمزة؟ قال قلت قد كان في الأمر ما بلغك يا رسول الله اذ قال ما تستطيع أن تغيب عني وجهك؟ قال فرجعت، فلما توفي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وخرج مسيلمة (7) الكذاب قال قلت لاخرجن الي مسيلمة لعلي اقتله فاكافئ به حمزة، قال فخرجت مع الناس فكان من امرهم ما كان، قال فاذا رجل قائم في ثلمة (8) جدار كأنه جمل أورق (9) ثائر رأسه قال فأرميه بحربتي فاضعها بين ثدييه حتي خرجت من كتفيه؛ قال ودب اليه رجل من الأنصار (10) قال فضربه بالسيف علي هامته (11) قال عبد الله بن المفضل فاخبرني سليمان بن يسار انه سمع عبد الله بن عمر فقالت جارية علي ظهر بيت وأمير المؤمنين (12) قتله العبد الأسود
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৪র্থ হিজরীর ঘটনাবলী
পরিচ্ছেদ: আসিম ইবন্ ছাবিতের নেতৃত্বে প্রেরিত অভিযান এবং খুবায়েব (রা)-এর সাথে তাঁর শাহাদাতবরণ
পরিচ্ছেদ: আসিম ইবন্ ছাবিতের নেতৃত্বে প্রেরিত অভিযান এবং খুবায়েব (রা)-এর সাথে তাঁর শাহাদাতবরণ
২৬৫. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গোয়েন্দা হিসেবে দশজনের একটি দল পাঠিয়ে ছিলেন। আসিম ইবন্ ছাবিত ইবন আবু আকলাজকে দলনেতা মনোনীত করেছিলেন। তারা যাত্রা করে উসফান ও মক্কার মাঝামাঝি হাদ্দাহ্ নামক স্থানে হুযায়ল গোত্রের উপগোত্র বানু লিহয়ানকে তাদের আগমন সম্পর্কে জানানো হয়। অতঃপর প্রায় একশত জনের একটি গোলন্দাজ বাহিনী তাঁদেরকে আক্রমণ করার জন্যে বের হয়। তারা সাহাবীদলের সন্ধানে পদচিহ্ন অনুসরণ করে। একপর্যায়ে যাত্রাবিরতি কালে তাদের খেজুর খাওয়ার আলামত দেখতে পায়। তারা বলে যে, এ হল ইয়াছরিবের খেজুর বিচি। ওই সূত্র ধরে তারা পুনরায় পদচিহ্ন অনুসরণ করে অগ্রসর হয়। শত্রুসৈন্যের আগমন সংবাদ পেয়ে হযরত আসিম ও তাঁর সাথিগণ একটি উঁচু পাহাড়ে আশ্রয় নেন। ওরা তাঁদেরকে চারিদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলে। তারা তাঁদেরকে নেমে এসে আত্মসমর্পণ করতে ও তাদের কাছে যা কিছু আছে তা দিয়ে দিতে বলে এবং সেক্ষেত্রে তাদেরকে হত্যা করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। দলনেতা আসিম বললেন আল্লাহর কসম আমি কোন কাফিরের তত্ত্বাবধানে যাব না- হে আল্লাহ্! আমাদের অবস্থা সম্পর্কে আপনার নবীকে অবহিত করুন। একপর্যায়ে শত্রুপক্ষ তাঁদের প্রতি তীর নিক্ষেপ শুরু করে। তাতে হযরত আসিম (রা) সহ সাতজন শহীদ হন। ওদের প্রতিশ্রুতির আলোকে অবশিষ্ট তিনজন তাদের হাতে ধরা দেন। হযরত খুবায়ব (রা) হযরত যায়দ ইব্ন দাছিনাহ (রা) এবং অন্য একজন সাহাবী (রা)। তাঁদের আয়ত্বে এনে শত্রুপক্ষ তাদের ধনুকের রশি খুলে হাত বেঁধে ফেলে। এ পর্যায়ে তিনজনের তৃতীয় জন বললেন এ তো প্রথম গাদ্দারী ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী। আল্লাহর কসম আমি তোমাদের সঙ্গে যাব না। যাঁরা শহীদ হয়েছে তাঁদের মধ্যে আমার অনুসরণীয় আদর্শ রয়েছে। ওরা তাঁকে নিয়ে যাবার জন্যে টানাহেঁচড়া করেছিল। তিনি যাচ্ছিলেন না। ফলে তারা তাঁকে সেখানে হত্যা করে। তারা হযরত খুবায়ব (রা) ও হযরত যায়দ ইব্ন দাছিনাহ্ (রা) কে তাদের সাথে নিয়ে যায় এবং মক্কায় তাঁদেরকে বিক্রি করে দেয়। এটি বদর যুদ্ধের পরের ঘটনা। হারিছ ইব্ন আমির ইব্ন নাওফিল ইবন আবদ মানাফের পুত্ররা হযরত খুবায়ব (রা) কে ক্রয় করে। হযরত খুবায়ব (রা) তাদের পিতা আমিরকে বদর যুদ্ধে হত্যা করেছিল। তিনি ওদের হাতে বন্দী ছিলেন। একপর্যায়ে তারা তাঁকে হত্যা করতে একমত হয়। তিনি ওদের এক মেয়ে থেকে একটি ক্ষুর ধার চেয়ে নেন। সে ক্ষৌরকর্মের জন্যে তাঁকে একটি ক্ষুর ধারে প্রদান করে। ইতিমধ্যে ওদের একটি ছোট্টা বাচ্চা হযরত খুবায়বের (রা) হাতের নাগালের মধ্যে চলে যায়, তারা এসে দেখে বাচ্চাটি হযরত খুবায়বের (রা) কোলের ওপর বসা এবং তাঁর হাতে রয়েছে ক্ষুরটি। মেয়েটি বাচ্চার পরিণতি চিন্তা করে সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। হযরত খুবায়ব (রা) তা বুঝতে পেরে বললেন, তুমি কি ভয় পাচ্ছ যে, আমি বাচ্চাটিকে হত্যা করব? আমি কিন্তু তা করব না। মেয়েটি বলল, খুবায়বের চেয়ে ভালো কোন বন্দী আমি কখনো দেখিনি। সে আরো বল যে, আমি দেখলাম যে, তাঁর হাতে আঙ্গুরের ছড়া, অথচ তিনি ছিলেন লোহার শেকলে বন্দী আর মক্কায় তখন ফলের মৌসুম ছিল না। সে বলত যে, এটি নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ত্র বিশেষ রিযিক ও জীবিকা যা মহান আল্লাহ্ খুবায়বের জন্যে ব্যবস্থা করেছেন। তারা যখন তাঁকে নিয়ে হারাম শরীফের এলাকা ছেড়ে এল হত্যার জন্যে। তিনি তাদেরকে বললেন, আমাকে দু'রাকআত নামায আদায়ের সুযোগ দাও। তারা তা দিল। তিনি দু'রাকআত নামায আদায় করলেন। এরপর বললেন, তুমি যদি একথা মনে না করতে যে, আমি মৃত্যুর ভয়ে ভীত হয়ে আছি, তাহলে আমি আরো দীর্ঘসময় নামাযে থাকতাম। এরপর তিনি বললেন হে আল্লাহ্! আপনি ওদেরকে জনে জনে গুণে নিন এবং জনে জনে হত্যা করুন, ওদের কাউকেই অবশিষ্ট রাখবেন না-এরপর তিনি নিম্নের কবিতা আবৃত্তি করলেন,
فَلَسْتُ أَبَالِي حِيْنَ أُقْتَلْ مُسْلِمًا… عَلَى أَي جَنْبٍ كَانَ لِلَّهِ مَصْرَعِي
وَذَلِكَ فِي ذَاتِ الْإِلَهِ وَإِنْ يَشَأْ … يُبَارِكْ عَلَى أَوْ صَالِ شِلْمٍ مُمَزِّعِ
অর্থ, আমি মুসলমান হিসেবে নিহত হচ্ছি তাই আমার কোন পরোয়া নেই, যে কোন অবস্থায় আল্লাহর জন্যে আমার এই মৃত্যুতে লুটিয়ে পড়া। এটি তো মহান আল্লাহর সত্তার জন্যে, তিনি চাইলে আমার কর্তিত দেহের অঙ্গে অঙ্গে বরকত দিতে পারেন।
এরপর আবূ শির ওয়াআহ্ ইব্ন আমির তাঁর উদ্দেশে দণ্ডায়মান হয় এবং তাঁকে হত্যা করে। ঠাণ্ডা মাথায় যাদেরকে হত্যা করা হয় তাদের জন্যে হযরত খুবায়ব (রা) নিয়ম করে গিয়েছেন যে, তারা নিহত হবার পূর্বে নামায আদায় করবে। আসিম ইব্ন ছাবিতের নিহত হবার দিনের দু'আ আল্লাহ্ তা'আলা কবুল করেছিলেন এবং তাঁর নিহত হবার কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এবং তাঁর সাহাবীদেরকে জানালেন। ওই দিকে হযরত আসিমের নিহত হবার সংবাদ শুনে কুরায়শগণ কতক লোক পাঠাল হযরত আসিমের নিহত হবার সংবাদ নিশ্চিত হবার পক্ষে তাঁর দেহের কোন অংশ নিয়ে যাবার জন্যে। তিনি বদর দিবসে একজন শীর্ষস্থানীয় কুরায়শ নেতাকে হত্যা করেছিলেন। কিন্তু কাফিরদের হাত থেকে তাঁর মৃতদেহ রক্ষা করার জন্যে মহান আল্লাহ্ মেঘমালার মত একদল বোলতা মতান্তরে মৌমাছি প্রেরণ করেছিলেন। এগুলো এসে তাঁকে ঘিরে রেখেছিল। ফলে তারা তাঁর দেহ স্পর্শ করতে পারেনি এবং দেহের কোন অংশ কেটে নিতে সক্ষম হয়নি।
فَلَسْتُ أَبَالِي حِيْنَ أُقْتَلْ مُسْلِمًا… عَلَى أَي جَنْبٍ كَانَ لِلَّهِ مَصْرَعِي
وَذَلِكَ فِي ذَاتِ الْإِلَهِ وَإِنْ يَشَأْ … يُبَارِكْ عَلَى أَوْ صَالِ شِلْمٍ مُمَزِّعِ
অর্থ, আমি মুসলমান হিসেবে নিহত হচ্ছি তাই আমার কোন পরোয়া নেই, যে কোন অবস্থায় আল্লাহর জন্যে আমার এই মৃত্যুতে লুটিয়ে পড়া। এটি তো মহান আল্লাহর সত্তার জন্যে, তিনি চাইলে আমার কর্তিত দেহের অঙ্গে অঙ্গে বরকত দিতে পারেন।
এরপর আবূ শির ওয়াআহ্ ইব্ন আমির তাঁর উদ্দেশে দণ্ডায়মান হয় এবং তাঁকে হত্যা করে। ঠাণ্ডা মাথায় যাদেরকে হত্যা করা হয় তাদের জন্যে হযরত খুবায়ব (রা) নিয়ম করে গিয়েছেন যে, তারা নিহত হবার পূর্বে নামায আদায় করবে। আসিম ইব্ন ছাবিতের নিহত হবার দিনের দু'আ আল্লাহ্ তা'আলা কবুল করেছিলেন এবং তাঁর নিহত হবার কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এবং তাঁর সাহাবীদেরকে জানালেন। ওই দিকে হযরত আসিমের নিহত হবার সংবাদ শুনে কুরায়শগণ কতক লোক পাঠাল হযরত আসিমের নিহত হবার সংবাদ নিশ্চিত হবার পক্ষে তাঁর দেহের কোন অংশ নিয়ে যাবার জন্যে। তিনি বদর দিবসে একজন শীর্ষস্থানীয় কুরায়শ নেতাকে হত্যা করেছিলেন। কিন্তু কাফিরদের হাত থেকে তাঁর মৃতদেহ রক্ষা করার জন্যে মহান আল্লাহ্ মেঘমালার মত একদল বোলতা মতান্তরে মৌমাছি প্রেরণ করেছিলেন। এগুলো এসে তাঁকে ঘিরে রেখেছিল। ফলে তারা তাঁর দেহ স্পর্শ করতে পারেনি এবং দেহের কোন অংশ কেটে নিতে সক্ষম হয়নি।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
حوادث السنة الرابعة من الهجرة
باب ما جاء في سرية عاصم بن ثابت واستشهاده مع خبيب
باب ما جاء في سرية عاصم بن ثابت واستشهاده مع خبيب
عن أبي هريرة (1) بعث رسول الله - صلى الله عليه وسلم - عشرة رهط عينا (2) وأمر عليهم عاصم بن ثابت بن أبي الأفلج جد عاصم بن عمرو بن الخطاب (3) رضي الله عنه فانطلقوا حتي اذا كانوا بالهدة (4) بين عسفان ومكة ذكروا حيا من هذيل يقال لهم بنو لحيان فنفروا لهم بقريب من مائة رجل رام فاقتصوا آثارهم حتي وجدوا مأكلهم التمر في منزل نزلوه، قالوا نوي تمر يثرب فاتبعوا آثارهم، فلما أخبر بهم عاصم وأصحابه لجأوا إلي فدفه (5) فاحاط بهم القوم فقالوا لهم انزلوا وأعطونا ما بايديكم ولكم العهد والميثاق أن لا نقتل منكم أحدا، فقال عاصم بن ثابت أمير القوم أما أنا والله لا أنزل في ذمة كافر: اللهم أخبر عنا نبيك - صلى الله عليه وسلم - (6) فرموهم بالنبل فقتلوا عاصما في سبعة ونزل اليهم ثلاثة نفر علي العهد والميثاق، منهم خبيب الأنصاري وزيد بن الدثنة ورجل آخر، فلما تمكنوا منهم أطلقوا أوتار قسيهم فربطوهم بها، فقال الرجل الثالث هذا أول الغدر والله لا أصحبكم إن لي بهؤلاء لأسوة، فجرروه وعالجوه فأبي أن يصحبهم فقتلوه، فانطلقوا بخبيب وزيد بن الدثنة حتي باعوهما بمكة بعد وقعة بدر، فابتاع بنو الحارث بن عامر بن نوفل بن عبد مناف خبيبا وكان خبيب هو قتل الحارث بن عامر بن نوفل يوم بدر فلبث خبيب عندهم أسيراً حتي أجمعوا قتله، فاستعار من بعض. بنات الحارث موسي يستحد بها للقتل فاعارته إياها، فدرج بني لها قالت وأنا غافلة حتي أتاه فوجدته يجلسه علي فخذه والموسي بيده، قالت ففزعت فزعة عرفها خبيب، قال اتخشين أني أقتله؟ ما كنت لأفعل؛ فقالت والله مارأيت أسيرا قط خير اً من خبيب، قالت والله لقد وجدته يوما يأكل قطفا من عنب في يده وإنه لموثق في الحديد وما بمكة من ثمرة، وكانت تقول انه لرزق رزقه الله خبيبا فلما خرجوا به من الحرم ليقتلوه في الحل قال لهم خبيب دعوني أركع ركعتين، فركع ركعتين ثم قال والله لولا أن تحسبوا أن ما بي جذعا من القتل لزدت، اللهم أحصهم (1) عددا واقتلهم بددا (2) ولا تبق منهم أحدا
فلست أبالي حين أقتل مسلماً ... علي أي جنب كان لله مصرعي
وذلك في ذات الإله (3) وإن يشأ ... يبارك علي أوصال (4) شلو ممزع
ثم قال اليه أبو سروعة عقبة بن الحارث فقتله: وكان خبيب هو سن لكل مسلم قتل صبرا الصلاة (5) واستجاب الله عز وجل لعاصم بن ثابت يوم أصيب فاخبر رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أصحابه يوم أصيبوا اخبرهم وبعث ناس من قريش الي عاصم بن ثابت حين حدثوا أنه قتل ليؤتي بشئ منه يعرف (5) وكان قتل رجلا من عظمائهم (6) يوم بدر فبعث الله عز وجل علي عاصم مثل الظلة من الدبر (7) فحمته من رسلهم فلم يقدروا علي أن يقطعوا منه شيئاً
فلست أبالي حين أقتل مسلماً ... علي أي جنب كان لله مصرعي
وذلك في ذات الإله (3) وإن يشأ ... يبارك علي أوصال (4) شلو ممزع
ثم قال اليه أبو سروعة عقبة بن الحارث فقتله: وكان خبيب هو سن لكل مسلم قتل صبرا الصلاة (5) واستجاب الله عز وجل لعاصم بن ثابت يوم أصيب فاخبر رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أصحابه يوم أصيبوا اخبرهم وبعث ناس من قريش الي عاصم بن ثابت حين حدثوا أنه قتل ليؤتي بشئ منه يعرف (5) وكان قتل رجلا من عظمائهم (6) يوم بدر فبعث الله عز وجل علي عاصم مثل الظلة من الدبر (7) فحمته من رسلهم فلم يقدروا علي أن يقطعوا منه شيئاً
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : মাউনা-কূপ কেন্দ্রিক অভিযান। এতে কতক বিশিষ্ট কুরআন পাঠকারী শহীদ হয়েছিলেন
২৬৬. আনাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনাস (রা) এর মামা উম্মে সুলায়মের ভাই হারাম (রা) কে ৭০ জনের প্রতিনিধিদলের অন্তর্ভুক্ত করে অভিযানে প্রেরণ করেছিলেন। মাউনা কূপ কেন্দ্রিক ঘটনায় তাঁরা নিহত হয়েছিলেন। সে সময়ে ওই সকল কাফিরদের নেতা ছিল আমির ইবন্ তুফায়ল। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে এসে বলল, আপনি আমার তিনটি প্রস্তাবের যে কোন একটি গ্রহণ করুন। গ্রামীণ অঞ্চল আপনার শাসনাধীন থাকবে আর শহরাঞ্চল আমার শাসনাধীন থাকবে অথবা আপনার অবর্তমানে আমি আপনার খলীফা হব অথবা গাতফান গোত্রের হাজার হাজার লাল ঘোড়া নিয়ে আমি আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ব। বর্ণনাকারী বলেন, এই তুফায়ল-ই একসময় একটি গোত্রের জনৈকা মহিলার গৃহে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়। তখন সে বলেছিল হায়রে অমুক গোত্রের মহিলার গৃহে আমি তো উটের কুঁজের মত বড় ফোঁড়ায় আক্রান্ত হলাম। আমার ঘোড়া নিয়ে আমি আমি এখান থেকে চলে যাব। তার ঘোড়া আনা হল। সে তাতে আরোহণ করল। ঘোড়ার পিঠেই তার মৃত্যু হল। মাউনা কূপের অভিযানে উম্মু সুলায়মের ভাই হারাম এবং অন্য দু'জন লোক শত্রুপক্ষের দিকে এগিয়ে গেলেন। অন্য দুজনের একজন উমাইয়া গোত্রের এবং দ্বিতীয়জন ছিলেন খোঁড়া। হারাম তাঁর সাথী দুজনকে বললেন, তোমরা দুজন আমার কাছাকাছি থেকো। আমি ওদের নিকট যাব। ওরা আমাকে নিরাপত্তা দিলে তাতো ভালো। অন্যথায় তোমরা আমার কাছাকাছি থেকে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে। ওরা আমাকে হত্যা করলে তোমরা ফিরে এসে আমাদের অবশিষ্ট সাথীদেরকে তা জানাবে। হারাম (রা) শত্রুপক্ষের নিকট এলেন। তিনি বললেন, তোমরা কি আমাকে নিরাপত্তা দিবে যে, আমি তোমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বার্তা পৌছাব? ওরা বলল, হাঁ, তা দিব। তিনি তাদের মাঝে বসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বার্তা বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। ইতিমধ্যে তারা তাদের জনৈক ব্যক্তিকে ইঙ্গিত দিল। সে হারামের (রা) পেছন দিক থেকে তাঁর উপর বর্শার আঘাত করে। তাঁর দেহ এফোঁড় ওফোঁড় করে দিল। তিনি মৃত্যু নিশ্চিত জেনে চিৎকার দিয়ে বলে উঠলেন আল্লাহু আকবার-কা'বাগৃহের মালিকের কসম, আমি সফলকাম হয়েছি। এরপর তারা অভিযানে প্রেরিত সকল সাহাবীকে হত্যা করে। অবশ্য খোঁড়া সাহাবীটি পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করে তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়। হযরত আনাস (রা) বলেন সে প্রেক্ষাপটে আমাদের প্রতি এ আয়াত নাযিল হয়েছিল-
أَنْ بَلِغُوا قَوْمَنَا أَنَا لَقِيْنَا رَبَّنَا فَرَضِيَ عَنَا وَأَرْضَانا.
আমাদের সম্প্রদায়কে জানিয়ে দিন যে, আমরা আমাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাত করেছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তিনি আমাদেরকে সন্তুষ্ট করেছেন।
এই আয়াতটি তখন পাঠ করা হতো। পরবর্তীতে এটির পাঠ রহিত হয়ে যায়। এ ঘটনার পর রি'ল, যাকওয়ান, বানু লিহয়ান এবং আল্লাহ্ ও রাসূলের অবাধ্য উসাইয়া গোত্রসমূহের জন্যে ৪০ দিন ফজরের নামাযে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বদ দু'আ করেছেন।
أَنْ بَلِغُوا قَوْمَنَا أَنَا لَقِيْنَا رَبَّنَا فَرَضِيَ عَنَا وَأَرْضَانا.
আমাদের সম্প্রদায়কে জানিয়ে দিন যে, আমরা আমাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাত করেছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তিনি আমাদেরকে সন্তুষ্ট করেছেন।
এই আয়াতটি তখন পাঠ করা হতো। পরবর্তীতে এটির পাঠ রহিত হয়ে যায়। এ ঘটনার পর রি'ল, যাকওয়ান, বানু লিহয়ান এবং আল্লাহ্ ও রাসূলের অবাধ্য উসাইয়া গোত্রসমূহের জন্যে ৪০ দিন ফজরের নামাযে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বদ দু'আ করেছেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب سرية بئر معونة وهي التي قتل فيها القراء رضي الله عنهم
عن أنس (2) أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - لما بعث حراما خاله اخا أم سليم في سبعين رجلا فقتلوا يوم بئر معونة (3) وكان رئيس المشركين يومئذ عامر بن الطفيل (4) وكان هو أني النبي - صلى الله عليه وسلم - فقال اختر مني ثلاث خصال: يكون لك أهل السهل (5) ويكون لي أهل الوبر (6) أو أكون خليفة من بعدك أو أغزوك بغطفان (7) بالف أشقر والف شقراء (8) قال نطعن في بيت امرأة من بني فلان (9) فقال غدة كغدة البعير (10) في بيت امرأة من بني فلان، إيتوني بفرسي، فأتي به فركبه فمات وهو علي ظهره (11) فانطلق حرام أخو أم سليم رضي الله عنهما ورجلان معه (12)، رجل من بني أمية ورجل أعرج (1) فقال لهم كونوا قريبا مني حتي آتيهم، فان آمنوني والا كنتم قريبا فان قتلوني أعلمتم أصحابكم قال فأتاهم حرام فقال أتومنوني أبلغكم رسالة رسول الله - صلى الله عليه وسلم - اليكم (2) قالوا نعم فجعل يحدثهم واومئوا (3) الي رجل منهم من خلفه فطعنه حتي أنفذه (4) بالرمح قال الله أكبر فزت ورب الكعبة (5) قال ثم قتلوهم كلهم (6) غير الأعرج كان في رأس جبل، قال أنس فأنزل علينا وكان مما يقرأ فنسخ (7) (أن بلغوا قومنا أنا لقينا ربنا فرضي عنا وأرضانا) قال فدعا النبي - صلى الله عليه وسلم - عليهم أربعين صباحا علي رعل وذكوان وبني لحيان (8) وعصية الذين عصوا الله ورسوله - صلى الله عليه وسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : মাউনা-কূপ কেন্দ্রিক অভিযান। এতে কতক বিশিষ্ট কুরআন পাঠকারী শহীদ হয়েছিলেন
২৬৭. ছাবিত (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমরা আনাস ইব্ন মালিকের (রা) নিকট ছিলাম। তিনি তাঁর পরিবারের মধ্যে একটি লিখনী বিতরণ করছিলেন। এরপর তিনি বললেন, হে কিরআত বিশেষজ্ঞগণ তোমরা সাক্ষী থাক। ছাবিত বললেন আমি যেন এমনটি অপছন্দ করলাম। আমি বললাম, হে আবু হামযাহ, আপনি যদি ওই ক্বারীগণের নাম উল্লেখ করতেন তবে খুবই ভালো হতো। তিনি বললেন, তাতে তো কোন অসুবিধা নেই। আমি আপনাদের সে সকল ভাইদের সম্পর্কে কেন বলব না যাঁদেরকে আমরা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে "কারী-দল" নামে ডাকতাম। তিনি বললেন, তাঁরা ছিলেন ৭০ জন। রাত অন্ধকার হলে তাঁরা মদীনার একজন শিক্ষকের নিকট যেতেন এবং ভোর পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণ করতেন। ভোর হবার পর যার দেহে শক্তি থাকত সে পানি তুলত এবং কাঠ সংগ্রহ করে তা বিক্রি করত আর যার আর্থিক সংগতি ছিল সে বকরী কিনে তা বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করত এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পবিত্র হুজরাতে হাদিয়া পাঠাত। হযরত খুবায়ব (রা) যখন শহীদ হয়ে গেলেন তখন এদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঠালেন। তাঁরা সুলায়ম গোত্রের একটি উপগোত্রে এলেন। আমার মামা হারাম (রা) এই দলের মধ্যে ছিলেন। হারাম (রা) তাদের দলপতিকে বললেন, আপনি আমাকে সুযোগ দিন আমি ওই গোত্রের লোকদেরকে জানিয়ে আসি যে, আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে আসিনি, তাহলে তারা আমাদের যাবার পথ ছেড়ে দিবে। হারাম (রা) ওদেরকে বললেন, আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে আসিনি। সুতরাং তোমরা আমাদের পথ ছেড়ে দাও। ওদের এক লোক এসে তাঁর সম্মুখে দাঁড়ায় এবং বর্শার আঘাতে তাঁর দেহ এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয়। আপন পেটে বর্শার আঘাত অনুভব করে তিনি বললেন, আল্লাহু আকবার-কা'বার মালিকের কসম আমি সফলকাম হয়েছি। এরপর কাফিরগণ মুসলিম প্রতিনিধিদলের ওপর আক্রমণ করে সকলকে হত্যা করে। তাঁদের কেউই রেহাই পায়নি। হযরত আনাস (রা) বলেন, এই সকল সাহাবীর হত্যাকাণ্ডে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যত বেদনাহত ও দুঃখ পেয়েছিলেন অন্য কোন ঘটনায় তেমনটি হতে আমি দেখিনি। আমি তাঁকে দেখেছি যে, এই ঘটনায় ফজরের নামাযের মধ্যে তিনি দু'হাত তুলে ওই ঘাতক কাফিরদের জন্যে বদ দু'আ করেছেন। পরবর্তীতে একদিন আবু তালহা (রা) আমাকে বললেন তোমরা হারাম (রা)-এর হত্যাকারী ব্যক্তি কোনটি আমি কি তা তোমাকে চিনিয়ে দিব? আমি বললাম, কী দরকার আল্লাহ্ তাকে যা করার করবেন। আবূ তালহা (রা) বললেন, তেমনটি বলো না, সে তো ইসলাম গ্রহণ করেছে। জনৈক বর্ণনাকারী আফ্ফান বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু'হাত তুলে ঘাতক কাফিরদের জন্যে বদ দু'আ করেছেন। আবু নদরের বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু'হাত তুলতেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب سرية بئر معونة وهي التي قتل فيها القراء رضي الله عنهم
عن ثابت (9) قال كنا عند أنس بن مالك (رضي الله عنه) فكتب كتابا بين أهله فقال اشهدوا يا معشر القراء قال ثابت فكأني كرهت ذلك فقلت يا أبا حمزة لو سميتهم باسمائهم؟ قال وما بأس ذلك إن أقل لكم قراء، أفلا أحدثكم عن اخوانكم الذين كنا نسميهم علي عهد رسول الله - صلى الله عليه وسلم - القراء؟ فذكر أنهم كانوا سبعين فكانوا اذا جنهم الليل انطلقوا الي معلم لهم بالمدينة فيدرسون الليل (10) حتي يصبحوا فاذا أصبحوا فمن كانت له قوة استعذب من الماء وأصاب من الحطب (11) ومن كانت عنده سعة اجتمعوا فاشتروا الشاة وأصلحوها فيصبح ذلك معلقا بحجر (12) رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فلما أصيب خبيب (13) بعثهم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فأتوا علي حي من بني سليم وفيهم خالي حرام (14) فقال حرام لأميرهم (15) دعني فلأخبر هؤلاء أنا لسنا إياهم نريد حتى يخلوا وجهنا (1). وقال عفان فيخلون وجهنا (2) فقال لهم حرام إنا لسنا إياكم نريد فخلوا وجهنا، فاستقبله رجل بالرمح فانفذه منه، فلما وجد الرمح في جوفه قال الله أكبر فزت ورب الكعبة، قال فانطووا عليهم فما بقي أحد منهم، فقال أنس فما رأيت رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وجد علي شئ (3) قط وجده عليهم، فلقد رأيت رسول الله - صلى الله عليه وسلم - في صلاة الغداة رفع يديه فدعا عليهم، فلما كان بعد ذلك اذا أبو طلحة (4) يقول لي هل لك في قاتل حرام (5) قال قلت له ماله فعل الله به وفعل (6) قال مهلا فانه قد أسلم (7) وقال عفان رفع يديه يدعو عليهم، وقال أبو النضر رفع يديه
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বানু নাদীর গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং তাদেরকে মদীনা থেকে বিতাড়ন
২৬৮. ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত। ইয়াহুদী গোত্রে বানু নাদীর ও বানু কুরায়যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বানু নাদীর গোত্রকে মদীনা থেকে নির্বাসিত করেছিলেন এবং কুরায়যা গোত্রকে মদীনায় রেখে দিলেন। তিনি এদের প্রতি অনুকম্পা দেখিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত কুরায়যা গোত্রও যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ফলে তিনি তাদের বয়স্ক পুরুষদেরকে হত্যা করলেন এবং তাদের মহিলা, শিশু ও ধনসম্পদ মুসলমানদের মাঝে বণ্টন করে দিলেন। তবে ওদের স্বল্পসংখ্যক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সাক্ষাত করল, তিনি তাদেরকে নিরাপত্তা দিলেন এবং তারা ইসলাম গ্রহণ করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইয়াহুদী গোত্র বানু কায়নুকা তথা আবদুল্লাহ ইবন্ সালামের গোত্র, বানু হারিছা এবং মদীনাতে বসবাসকারী সকল ইয়াহুদীকে মদীনা থেকে নির্বাসিত ও বহিষ্কার করেছিলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في غزوة بني النضير واجلائهم عن المدينة
عن ابن عمر (1) أن يهود بني النضير وقريظة حاربوا رسول الله - صلى الله عليه وسلم - (2) فأجلي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بني النضير واقر قريظة (3) (ومن عليهم حتي حاربت قريظة) بعد ذلك فقتل رجالهم وقسم نسائهم وأولادهم وأموالهم بين المسلمين الا بعضهم لحقوا برسول الله - صلى الله عليه وسلم - فأمنهم وأسلموا وأجلي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يهود المدينة كلهم بني قينقاع (4) وهم قوم عبد الله بن سلام (5) ويهود بني حارثة وكل يهودي كان بالمدينة
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বানু নাদীর গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং তাদেরকে মদীনা থেকে বিতাড়ন
২৬৯. ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বানু নাযীর গোত্রের বুওয়াইরাহ খেজুর বাগানটি জ্বালিয়ে দেন এবং খেজুর বাগানের গাছগুলো কেটে ফেলেছিলেন। সে প্রেক্ষাপটে মহান আল্লাহ্ নাযিল করেন-
مَا قَطَعْتُمْ مِنْ لِيْنَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً عَلَى أُصُولِهَا فَبِإِذْنِ اللَّهِ وَلِيُخْزِيَ الْفَاسِقِينَ .
"তোমরা যে খেজুর বৃক্ষগুলো কর্তন করেছ এবং যেগুলো কাণ্ডের উপর রেখে দিয়েছ তা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে। তা এজন্যে যে, মহান আল্লাহ্ পাপাচারীদেরকে লাঞ্ছিত করবেন।" (সূরা হাশর: ৫)।
مَا قَطَعْتُمْ مِنْ لِيْنَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً عَلَى أُصُولِهَا فَبِإِذْنِ اللَّهِ وَلِيُخْزِيَ الْفَاسِقِينَ .
"তোমরা যে খেজুর বৃক্ষগুলো কর্তন করেছ এবং যেগুলো কাণ্ডের উপর রেখে দিয়েছ তা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে। তা এজন্যে যে, মহান আল্লাহ্ পাপাচারীদেরকে লাঞ্ছিত করবেন।" (সূরা হাশর: ৫)।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في غزوة بني النضير واجلائهم عن المدينة
وعنه أيضا (1) أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - حرق نخل بني النضير وقطع وهي البويرة فانزل الله تبارك وتعالي (ما قطعتم من لينة أو تركتوها قائمة علي أصولها فباذن الله وليخزي الفاسقين)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও উম্মু সালামা (রা)-এর বিয়ে
২৭০. উম্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন একদিন আমার স্বামী আবূ সালামা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবার থেকে এসে আমাকে বলল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুখে একটি কথা শুনে আমি খুব খুশি হয়েছি। তিনি বলেছেন যে, কোন মুসলমান বিপদে পড়ে যদি ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন পাঠ করে, তারপর বলে হে আল্লাহ্! আমার এই বিপদে আপনি আমাকে আশ্রয় দিন এবং তদপেক্ষা উত্তম বিনিময় আমাকে দান করুন, তাহলে তাকে তেমন বিনিময় দেয়া হবে। উম্মু সালামা (রা) বলেন, আবু সালামার এই কথা আমি স্মরণে রেখেছিলাম। আমার স্বামী আবু সালামা (রা) এর মৃত্যুবরণের পর আমি ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন পাঠ করেছি এবং দু'আ করে বলেছি, হে আল্লাহ্ আমার বিপদে আপনি আমাকে আশ্রয় দিন এবং এর চাইতে উত্তম বিনিময় আমাকে দান করুন। এরপর আমি আপন মনে বললাম, আবূ সালামার চাইতে উত্তম পুরুষ আমার জন্যে আর কোথায় পাব? আমার ইদ্দত শেষ হবার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার সাথে সাক্ষাতের ইচ্ছা ব্যক্ত করলেন। আমি তখন একটি কাঁচা চামড়া দাবাগত বা পরিশোধন করছিলাম। ইত্যবসরে আমি আমার দুহাত ধুয়ে নিলাম এবং তাঁকে ভেতরে আসতে বললাম। খেজুরের আঁশ ভর্তি একটি চামড়ার বালিশ আমি তাঁর বসার জন্যে দিলাম। তিনি তাতে বসলেন। এরপর তিনি আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলেন। তাঁর কথা শেষ হবার পর আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) আপনার প্রতি আমার আগ্রহ না থাকার কথা নয় তবে কথা হল যে, আমি একজন আত্মঅভিমানী ও ক্ষ্যাপা প্রকৃতির মহিলা-আমি আশংকা করছি যে, যদি আমি আপনার সাথে এমন কোন অসৌজন্যমূলক আচরণ করে ফেলি যার দ্বারা মহান আল্লাহ্ আমাকে শাস্তি দিবেন। তাছাড়া আমার তো বেশ বয়স হয়েছে। আর আমার নিজের সন্তান-সন্ততিও রয়েছে। জবাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি যে আত্মঅভিমান ও ক্ষ্যাপা হওয়ার কথা বললে অবিলম্বে মহান আল্লাহ্ তোমার এই অবস্থা দূর করে দিবেন। বেশি বয়স হবার ক্ষেত্রে আমারও তো একই অবস্থা। আর তোমার সন্তান সন্ততি ওরা আমার সন্তান সন্ততি ও পোষ্যরূপে গণ্য হবে। উম্মু সালামা (রা) বলেন, এই প্রেক্ষিতে আমি নিজেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্যে সমর্পণ করলাম এবং তিনি আমাকে বিয়ে করলেন। উম্মু সালামা (রা) বলেন বস্তুতঃ মহান আল্লাহ্ আবূ সালামার বিনিময়ে আমাকে তদপেক্ষা উত্তম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দান করলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في زواجه - صلى الله عليه وسلم - بأم سلمة رضي الله عنها
عن أم سلمة (2) رضي الله عنها قالت أتاني أبو سلمة يوما من عند رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فقال لقد سمعت من رسول الله قولا فسررت به، قال لا تصيب أحدا من المسلمين مصيبة فيسترجع عند مصيبته ثم يقول اللهم أجرني في مصيبتي وأخلف لي خيرا منها الا فعل ذلك به، قالت أم سلمة فحفظت ذلك منه، فلما توفي أبو سلمة استرجعت وقلت اللهم أجرني في مصيبتي وأخلف لي خيرا منه، ثم رجعت الي نفسي قلت من أين لي خير من أبي سلمة، فلما انقضت عدتي استأذن علي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وأنا أدبغ إهابا لي فغسلت يدي من القرظ وأذنت له فوضعت له وسادة أكم حشوها ليف فقعد عليها فخطبني الي نفسي، فلما فرغ من مقالته قلت يا رسول الله ما بي أن لا تكون بك الرغبة في ولكني امرأة في غير شديدة فأخاف أن تري مني شيئا يعذبني الله به، وأنا أمرأة قد دخلت في السن، وأنا ذات عيال، فقال اما ما ذكرت من الغيرة فسوف يذهبها الله عز وجل منك، وأما ما ذكرت من السن فقد أصابني مثل الذي أصابك، وأما ما ذكرت من عيال فانما عيالك عيالي، قالت فقد سلمت لرسول الله - صلى الله عليه وسلم - فتزوجها رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فقالت أم سلمة فقد أبدلني الله بأبي سلمة خيرا منه رسول الله - صلى الله عليه وسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও উম্মু সালামা (রা)-এর বিয়ে
২৭১. উম্মু সালামা (রা) থেকে বর্ণিত যে, একদিন আবু সালামা (রা) এসে বলল, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কারো উপর কোন বিপদ এলে তোমরা "ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন” পাঠ করবে। আর বলবে হে আল্লাহ, আমি আমার বিপদের প্রতিদান আপনার নিকটই প্রত্যাশা করি, আপনি আমাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করুন এবং আমার যা ক্ষতি হল তার চেয়ে উত্তম প্রতিদান আমাদের দান করুন। আবু সালামা (রা) তাঁর মুমূর্ষ অবস্থায় বলেছিলেন হে আল্লাহ! আমার পরিবার-পরিজনের জন্যে আপনি আমার চেয়ে উত্তম প্রতিদানের ব্যবস্থা করবেন। আবু সালামা (রা) যখন মৃত্যুবরণ করলেন তখন আমি বললাম, "ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন"-হে আল্লাহ্ আমার এই বিপদের প্রতিদান আমি আপনার নিকট প্রত্যাশা করছি, আপনি আমাকে আশ্রয় দিন। এরপর আমি বলতে চেয়েছিলাম যে, আমাকে তদপেক্ষা উত্তম প্রতিদান দিন কিন্তু তখনই আমি মনে মনে বললাম যে, আবু সালামার চাইতে উত্তম স্বামী আমি কোথায় পাব? এভাবে মনের সাথে বুঝাপড়া করতে করতে শেষ পর্যন্ত আমি বললাম যে, আমাকে তদপেক্ষা উত্তম প্রতিদান দিন। উম্মু সালামার ইদ্দত শেষ হবার পর হযরত আবু বকর (রা) তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছেন। এরপর হযরত উমার (রা) তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি তাও ফিরিয়ে দেন। এরপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। তখন তিনি বলেন, সুস্বাগতম রাসূলুল্লাহ (সা. কে এবং তাঁর দূতকে। ওহে বার্তাবাহক, আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জানাবেন যে, আমি একজন আত্ম অভিমানী মহিলা। আমার ছেলেমেয়ে আছে এবং আমার অবিভাবকদের কেউ উপস্থিত নেই। তাঁর অনুযোগের জবাব সহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বার্তাবাহক পাঠালেন এবং বললেন যে, ছেলেমেয়ে থাকার এভাবে সমাধান হবে যে, মহান আল্লাহ তার একটি বিহিত ব্যবস্থা করবেন। তোমার আত্মঅভিমানী হবার ব্যাপারে কথা হল তোমার অভিমান দূর হবার জন্যে আমি আল্লাহর নিকট দু'আ করব। অভিভাবকগণ অনুপস্থিত না থাকলেও তারা যখনই আমার নিজের প্রস্তাবের কথা শুনবেন তারা অবিলম্বে সম্মতি জ্ঞাপনে খুশী হবেন। এ সময়ে উম্মু সালামা (রা) বললেন ওহে উমার, তুমি ওঠো, আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে বিয়ে দিয়ে দাও। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমার অমুক বোনকে আমি যা সাজসরঞ্জাম ও আসবাবপত্র দিয়েছি তোমাকে তার চেয়ে কম দিব না। তা হল দুটো যাঁতা, দুটো কলসী এবং ভেতরে খেজুরের আঁশবিশিষ্ট একটি চামড়ার বালিশ। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মু সালামার নিকট এলে তিনি দুগ্ধপোষ্য শিশু যায়নাবকে কাছে টেনে দুধ পান করাতে শুরু করতেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) লাজুক, সদাচারী ও বন্ধুবৎসল ছিলেন, এমতাবস্থায় বাচ্চাকে সরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করতেন বিধায় ফিরে যেতেন। একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটবার পর আম্মার ইবন ইয়াসির উম্মু সালামার এই কৌশল বুঝে ফেলেন। ইনি ছিলেন তাঁর বৈপিত্রেয় ভাই। একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মু সালামার গৃহে এলেন। তখন আম্মার এসে যায়নাবকে তাঁর কোল থেকে টেনে নিয়ে গেলেন এবং বললেন এই দুর্ভাগাকে তুমি ছাড়, এর দ্বারা তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কষ্ট দিচ্ছ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘরে ঢুকে যায়নাবকে না দেখতে পেয়ে বললেন যায়নাব কোথায়? উম্মু সালামা (রা) বলেন আম্মার এসে ওকে নিয়ে গিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে এ সময়ে তাঁর বাসর হল। তিনি বললেন তুমি চাইলে আমি এখন তোমার নিকট একাধারে সাতদিন রাত কাটাব এবং পরবর্তীতে প্রত্যেক স্ত্রীর নিকট সাত রাত করে থাকব।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في زواجه - صلى الله عليه وسلم - بأم سلمة رضي الله عنها
وعنها أيضا (3) قالت قال أبو سلمة، قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - اذا أصاب أحدكم مصيبة فليقل انا لله وانا اليه راجعون، اللهم عندك أحتسب مصيبتي وأجرني فيها وأبدلني ما هو خير منها فلما احتضر أبو سلمة قال اللهم أخلفني في أهلي بخير، فلما قبض قلت إنا لله وإنا إليه راجعون اللهم عندك أحتسب مصيبتي فأجرني فيها، قالت وأردت أن أقول وأبدلني خيرا منها فقلت ومن خير من أبي سلمة، فما زلت حتي قلتها، فلما أنقضت عدتها خطبها أبو بكر فردته ثم خطبها عمر فردته فبعث اليها رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فقالت مرحبا برسول الله - صلى الله عليه وسلم - وبرسوله، أخبر رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أني امرأة غيري واني مصيبة وأنه ليس أحد من أوليائي شاهدا، فبعث اليها رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أما قولك اني مصيبة فان الله يكفيك صبيانك، وأما قولك اني غيري سأدعو الله أن يذهب غيرتك، وأما الأولياء فليس أحد منهم شاهد ولا غائب الا سير ضاني: قلت يا عمر (1) قم فزوج رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أما أني لا انقصك شيئا مما أعطيت أختك فلانة رحبين وجرتين ووسادة من أدم حشوها ليف، قال وكان رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يأتيها فاذا جاء أخذت زينب في حجرها لترضعها؛ وكان رسول الله حييا كريما يستحي فرجع، ففعل ذلك مرارا ففطن عمار بن ياسر لما تصنع، فأقبل ذات يوم وجاء عمار وكان أخاها لأمها فدخل عليها فانتشطها من حجرها وقال دعي هذه المقبوحة المقشوحة التي آذيت بها رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قال وجاء رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فدخل فجعل يقلب بصره في البيت ويقول أين زناب مافعلت زناب؟ قالت جاء عمار فذهب بها، قال فبني باهله ثم قال ان شئت أن اسبع لك سبعت للنساء
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও উম্মু সালামা (রা)-এর বিয়ে
২৭২. উম্মু সালামা (রা) এর অন্য এক বর্ণনায় এটুকু অতিরিক্ত এসেছে যে, একপর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বিয়ে করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নিকট এসে দেখতে পেলেন যে, তিনি বাচ্চাকে দুধ পান করাচ্ছেন। এটি দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে গেলেন। তিনি পুনরায় এলেন তখনও দেখলেন যে, তিনি বাচ্চাকে দুধ পান করাচ্ছেন। এটা দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে গেলেন। আম্মার ইবন্ ইয়াসির এ ঘটনা অবগত হলেন এবং তিনি এসে বললেন এই বাচ্চাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইচ্ছা পূরণে বাধা হয়েছে। ওকে আমার নিকট দিয়ে দাও। অতঃপর তিনি অন্যত্র বাচ্চাটির দুধ পানের ব্যবস্থা করলেন। পুনরায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এলেন। বাচ্চাটিকে না দেখে তিনি বললেন যায়নাব কোথায়? উম্মু সালামা (রা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আম্মার ইবন ইয়াসির তাকে নিয়ে গিয়েছে। এ পর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাথে বাসর সম্পন্ন করলেন। এরপর তিনি বললেন তোমার পরিবারের নিকট তোমার একটি বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নিকট সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিলেন। এরপর বললেন তুমি চাইলে আমি তোমার নিকট একাধারে সাত রাত থাকব। সেক্ষেত্রে অন্যদের জন্যেও একাধারে সাত রাত করে অবস্থান করব। আর তুমি চাইলে সাধারণ নিয়মে বণ্টন করব। উম্মু সালামা (রা) বললেন আপনি বরং আমার জন্যে সাধারণ নিয়মে রাত বণ্টন করুন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في زواجه - صلى الله عليه وسلم - بأم سلمة رضي الله عنها
عن عبد العزيز بن بنت أم سلمة (2) عن أم سلمة بنحوه وفيه قال فتزوجها رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قال فأتاها فوجدها ترضع فانصرف، ثم أتاها فوجدها ترضع فانصرف. قال فبلغ ذلك عمار بن ياسر فأتاها فقال حلت بين رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وبين حاجته هلم الصبية، قال فاخذها فاسترضع لها، فأتاها رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فقال اين زناب؟ يعني زينب، قالت يا رسول الله اخذها عمار، فدخل بها وقال ان بك علي أهلك كرامة، قال فأقام عندها الي العشي ثم قال ان شئت سبعت لك، وان سبعت لك سبعت لسائر نسائي؟ وان شئت قسمت لك؟ قالت لا بل اقسم لي
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও উম্মু সালামা (রা)-এর বিয়ে
২৭৩. আবু বকর ইবন আবদুর রহমান (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহধর্মিনী উম্মু সালামা (রা) তাঁকে বলেছেন যে, তিনি মদীনা শরীফে আসার পর তাদেরকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি আবূ উমাইয়া ইব্ন মুগীরার কন্যা, তারা তাঁর কথা প্রত্যাখ্যান করল এবং বলল, এ তো ভীষণ আশ্চর্যের কথা। একপর্যায়ে তাদের কতক লোক হজ্জের উদ্দেশ্যে মক্কা শরীফ যাবার প্রস্তুতি নেয়। তারা উম্মু সালামা (রা) কে বলল, তোমার পরিবারের প্রতি তোমার কোন চিঠিপত্র দেয়ার ইচ্ছা আছে কি? আমি একটি চিঠি লিখে তাদের মারফত পাঠালাম। তারা মক্কায় গিয়ে আমার বক্তব্য ও দাবীর সত্যতার প্রমাণ পেয়ে মদীনায় ফিরে এল। ফলে তাঁর সম্মান আরো বেড়ে গেল। উম্মু সালামা (রা) বলেন, তাঁর কন্যা যায়নাবের জন্মের পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন। আমি বললাম, আমার মত মহিলার তো সাধারণত বিয়ে হয় না। কারণ প্রথমতঃ বার্ধক্যের কাছাকাছি বয়স হবার ফলে সন্তান জন্মানোর সম্ভাবনা নেই। দ্বিতীয়তঃ আমার দায়িত্বে আমার পোষ্য সন্তান-সন্ততি রয়েছে এবং আমি একজন আত্মঅভিমানী মহিলা। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি তো বয়সে তোমার চেয়ে বড়। আর অভিমান ও আত্মগৌরবের বিষয়টি মহান আল্লাহ দূর করে দিবেন। পোষ্য সন্তান-সন্ততির দায় মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ন্যস্ত হবে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বিয়ে করলেন। এরপর তিনি উম্মু সালামার ঘরে আসতেন এবং ব্যক্তিপর্যায়ের আলোচনা সূত্রে বলতেন যায়নাব কোথায়? ইতিমধ্যে আম্মার ইবন ইয়াসির (রা) এসে যায়নাবকে নিয়ে যান এবং বলেন এই মেয়েটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্যে বাধার সৃষ্টি করে। তা এজন্যে যে, উম্মু সালামা (রা) মেয়েটিকে দুধ পান করাতেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এলেন এবং বললেন, যায়নাব কোথায়? কুরায়বা ইব্ন আবী উমাইয়া ঘটনাক্রমে সেখানে ছিল, সে উত্তরে বলল, আম্মার ইবন ইয়াসির তাকে নিয়ে গিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি আজ রাতে তোমাদের নিকট আসব। তিনি রাতে এলেন। উম্মু সালামা (রা) কলসী থেকে যব বের করলেন এবং চর্বি দিয়ে আটা মেখে খাবার তৈরি করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে রাত কাটালেন। ভোরে তিনি উম্মু সালামাকে বললেন, তোমার পরিবারে তোমার একটি বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। তুমি চাইলে আমি তোমার নিকট একাধারে সাত রাত অবস্থান করব। তোমার নিকট একাধারে সাত রাত অবস্থান করলে পরবর্তীতে অবশিষ্ট প্রত্যেক স্ত্রীর নিকট একাধারে সাত রাত করে অবস্থান করব।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في زواجه - صلى الله عليه وسلم - بأم سلمة رضي الله عنها
عن أبي بكر بن عبد الرحمن (3) أن أم سلمة رضي الله عنها زوج النبي - صلى الله عليه وسلم - أخبرته أنها لما قدمت المدينة أخبرتهم أنها أبنة أبي أمية بن المغيرة فكذبوها ويقولون ما أكذب الغرائب، حتي أنشأ ناس منهم إلي الحج، فقالوا ما تكتبين إلي أهلك؟ فكتبت معهم، فرجعوا الي المدينة يصدقونها، فازدادت عليهم كرامة. قالت فلما وضعت زينب جاءني النبي - صلى الله عليه وسلم - فخطبني، فقلت ما مثلي نكح، أما أنا فلا ولد في (1) وأنا غيور وذات عيال، فقال: أنا أكبر منك، وأما الغيرة فيذهبها الله عز وجل، وأما العيال فالي الله ورسوله، فتزوجها، فجعل يأتيها فيقول أين زناب؟ حتي جاء عمار بن ياسر يوما فاختلجها، وقال هذه تمنع رسول الله - صلى الله عليه وسلم -، وكانت ترضعها، فجاء رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فقال أين زناب؟ فقالت قريبة ابنة أبي أمية ووافقها عندها أخذها عمار بن ياسر، فقال رسول الله صلي الله عليه وسلم اني آتيكم الليلة، قالت فقمت فأخرجت حبات من شعير كانت في جر وأخرجت شحما فعصدته له، قالت فبات النبي - صلى الله عليه وسلم - ثم أصبح، فقال حين أصبح، ان لك علي أهلك كرامة: فان شئت سبعت لك، فان أسبع لك أسبع لنسائي
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৫ম হিজরী সনের ঘটনাবলী
পরিচ্ছেদ: বানু মুসতালিক / মুরায়সী-এর যুদ্ধ
পরিচ্ছেদ: বানু মুসতালিক / মুরায়সী-এর যুদ্ধ
২৭৪. জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথী রূপে এক যুদ্ধে ছিলাম। মানুষের অভিমত যে, এটি বানু মুসতালিক যুদ্ধ। এ সময়ে একজন মুহাজির সাহাবী একজন আনসারী সাহাবীকে চড় মেরে বসেন। তখন আনসারী সাহাবী "ওহে আনসারগণ এদিকে আসুন" বলে চিৎকার দিলেন। নবী করিম (ﷺ) এ ডাকাডাকি ও হৈ চৈ শুনতে পেলেন। তিনি বললেন, হায়, জাহেলী যুগের হাঁক-ডাক কেন? তাঁকে জানানো হল যে, জনৈক মুহাজির ব্যক্তি একজন আনসারী ব্যক্তিকে চড় মেরেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন এসব অপ্রীতিকর ঘটনা ত্যাগ কর, এগুলো ঘৃণ্য কাজ। হযরত জাবির (রা) বলেন মুহাজিরগণ যখন মদীনায় আসেন তখন আনসারদের চেয়ে মুহাজিরদের সংখ্যা কম ছিল। পরবর্তীতে মুহাজিরগণ সংখ্যায় বেশি হয়ে যান। আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় মুনাফিকের নিকট এই বচসার সংবাদ পৌঁছে যায়। সে বলে মুহাজিরগণ কি তেমন করেছে? শোন- আমরা মদীনায় ফিরে গেলে সর্বাধিক সম্মানী ব্যক্তি মদীনা থেকে সর্বনিম্ন ব্যক্তিকে বের করে দিবে। হযরত উমার (রা) এটা শুনেছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে গিয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমাকে সুযোগ দিন। আমি এই মুনাফিকের ঘাড় মটকিয়ে দিই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে উমার! ওর কথা বাদ দাও, যাতে মানুষ বলতে না পারে যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তার সাথীদেরকে হত্যা করে।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
أبواب حوادث السنة الخامسة
باب ما جاء في غزوة بني المصطلق أو المريسيع
باب ما جاء في غزوة بني المصطلق أو المريسيع
عن جابر بن عبد الله (2) قال كنا مع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - في غزوة، قال يرون أنها غزوة بني المصطلق فكسع (3) رجل من المهاجرين رجلا من الأنصار، فقال الأنصاري ياللانصار، وقال المهاجرين ياللمهاجرين، فسمع ذلك النبي - صلى الله عليه وسلم - فقال ما بال دعوي الجاهلية؟ فقيل رجل من المهاجرين كسع رجلا من الأنصار، فقال النبي - صلى الله عليه وسلم - دعوها فانها منتنة، قال جابر وكان المهاجرون حين قدموا المدينة أقل من الأنصار ثم ان المهاجرين كثروا فبلغ ذلك عبد الله بن أبي، فقال أفعلوها؟ والله لئن رجعنا الي المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل، فسمع ذلك عمر، فأتي النبي - صلى الله عليه وسلم -، فقال يا رسول الله: دعني أضرب عنق هذا المنافق (1)، فقال النبي - صلى الله عليه وسلم - يا عمر: دعه لا يتحدث الناس أن محمدا يقتل أصحابه،
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৫ম হিজরী সনের ঘটনাবলী
পরিচ্ছেদ: বানু মুসতালিক / মুরায়সী-এর যুদ্ধ
পরিচ্ছেদ: বানু মুসতালিক / মুরায়সী-এর যুদ্ধ
২৭৫. যায়েদ ইব্ন আরকাম (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার চাচার সাথে এক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। আমি সেখানে শুনতে পেলাম যে, আবদুল্লাহ ইবন উবায় ইব্ন সালুল তার সাথীদেরকে বলছিল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট যারা থাকে তাদের জন্যে তোমরা কোন অর্থকড়ি ব্যয় করবে না। আমরা মদীনায় ফিরে গেলে সর্বাধিক সম্মানী ব্যক্তি সর্বাধিক লাঞ্ছিত ব্যক্তিকে মদীনা থেকে বের করে দিবে। আমি আমার চাচাকে বিষয়টি অবহিত করি। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তা অবগত করান। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্যে আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি তাঁকে ঘটনা খুলে বললাম। এরপর তিনি আবদুল্লাহ ইবন উবায়কে এবং তার সাথীদেরকে ডাকলেন এবং ঘটনার সত্যতা জিজ্ঞেস করলেন। তারা শপথ করে বলল যে, তারা এমনটি বলেনি। ফলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করলেন। এতে আমি এত বেশি দুঃখ পেলাম যা অন্য কোন সময় পাইনি। লজ্জায় ও দুঃখে আমি ঘরেই বসে থাকলাম। আমার চাচা বললেন, তুমি এমন একটি কাজ করেছ যে, স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করলেন এবং তোমার প্রতি ক্ষুব্ধ হলেন। অবশেষে ঘটনার সত্যতায় মহান আল্লাহ্ নাযিল করলেন-
إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ যখন মুনাফিকগণ আপনার নিকট আসে তারা বলে আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ্ জানেন যে, আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল এবং আল্লাহ্ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকগণ অবশ্যই মিথ্যাবাদী (সূরা মুনাফিকূন ৪১)।
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে লোক মারফত ডেকে আনলেন এবং এই আয়াত পাঠ করলেন। তারপর বললেন, মহান আল্লাহ্ তোমাকে সত্যবাদী প্রমাণ করেছেন।
إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ যখন মুনাফিকগণ আপনার নিকট আসে তারা বলে আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ্ জানেন যে, আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল এবং আল্লাহ্ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকগণ অবশ্যই মিথ্যাবাদী (সূরা মুনাফিকূন ৪১)।
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে লোক মারফত ডেকে আনলেন এবং এই আয়াত পাঠ করলেন। তারপর বললেন, মহান আল্লাহ্ তোমাকে সত্যবাদী প্রমাণ করেছেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
أبواب حوادث السنة الخامسة
باب ما جاء في غزوة بني المصطلق أو المريسيع
باب ما جاء في غزوة بني المصطلق أو المريسيع
عن زيد بن أرقم (2) قال خرجت مع عمي في غزاة، فسمعت عبد الله بن أبي بن سلول يقول لأصحابه، لا تنفقوا علي من عند رسول الله، ولئن رجعنا إلي المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل، فذكرت ذلك لعمي، فذكره لرسول الله - صلى الله عليه وسلم - فأرسل إلي النبي - صلى الله عليه وسلم - فحدثته، فأرسل إلي عبد الله بن أبي سلول وأصحابه، فحلفوا ما قالوا، فكذبني رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وصدقه فأصابني هم لم يصبني مثله قط، وجلست في البيت، فقال عمي، ما أردت إلي أن كذبك النبي - صلى الله عليه وسلم - ومقتك، قال حتي أنزل الله عز وجل (إذا جاءك المنافقون)، قال فبعث إلي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فقرأها، ثم قال إن الله عز وجل قد صدقك.
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বানু মুসতালিক যুদ্ধ অভিযানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুওয়াইরিয়াহ বিন্তে হারিছ (রা)-কে বিয়ে করেন
২৭৬. উরওয়া ইবন যুবায়র বর্ণনা করেছেন আয়েশা (রা) থেকে, তিনি বলেছেন, বানু মুসতালিক যুদ্ধে অর্জিত শত্রু সম্পদ বণ্টনকালে জুওয়াইরিয়া বিনত হারিছ গিয়ে পড়ে ছাবিত ইবন কায়স ইবনে শাম্মাসের ভাগে। কিংবা ছাবিতের চাচাত ভাইয়ের ভাগে। এরপর জুওয়াইরিয়া তার মালিকের সাথে মুক্তিপণ পরিশোধের শর্তে মুক্তি চুক্তি সম্পাদন করে। বস্তুতঃ জুওয়াইরিয়া ছিল রূপবতী ও আকর্ষণীয় চেহারাবিশিষ্ট মহিলা। তাকে দেখলে যে কোন পুরুষের হৃদয়ে স্পন্দন সৃষ্টি হত। একপর্যায়ে মুক্তিপণ পরিশোধে সহায়তা পাওয়ার জন্যে সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসে। হযরত আয়েশা (রা) বলেনঃ আল্লাহর কসম, ওকে ঘরের দরজায় দেখে আমি তার উপস্থিতি অপছন্দ করি এবং তাকে দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আকর্ষণ হতে পারে এই আশংকা উপলব্ধি করি। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গিয়ে বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আমি গোত্রপতি হারিছ ইবন আবু দিরারের কন্যা জুওয়াইরিয়াহ। আমার করুণ পরিণতির বিষয় আপনার অজ্ঞাত নয়। বণ্টনে আমি ছাবিত ইবন কায়স ইবন শাম্মাস মতান্তরে তার চাচাত ভাইয়ের ভাগে দাসীরূপে পড়েছি। আমি নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে তার সাথে মুক্তিচুক্তি সম্পাদন করেছি। এখন মুক্তিপণ পরিশোধে সাহায্য কামনায় আপনার নিকট এসেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন এর চেয়ে কল্যাণকর ব্যবস্থায় তুমি কি রাজি হবে? সে বলল, কী সেই বিকল্প কল্যাণময় ব্যবস্থা? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন আমি যদি তোমার মুক্তিপণ পরিশোধ করে দিই এবং তোমাকে বিয়ে করি। সে বলল, হাঁ-ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)। আমি তাতে রাজি আছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তবে আমি তা করলাম। এ সংবাদ শুনে সাহাবা-ই-কিরাম (রা) বললেন সাম্প্রতিক বন্দী ও বণ্টিত সবাই তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর শ্বশুর পক্ষের আত্মীয় হয়ে গেল। অতঃপর তাঁরা সকলকে বন্দী দশা ও দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে দিলেন। হযরত আয়েশা (রা) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুওয়াইরিয়াহকে বিয়ে করার ফলশ্রুতিতে বানু মুসতালিক গোত্রের একশতটি পরিবার দাসত্ব থেকে মুক্তিলাভ করে। নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি জুওয়াইরিয়ার যে বরকত ও অবদান অন্য কোন নারীর তেমন বরকত ও অবদান আছে বলে আমার জানা নেই।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في زواجه - صلى الله عليه وسلم - بجويرية بنت الحارث رضي الله عنها في هذه الغزوة
عن عروة بن الزبير (3) عن عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها قالت: لما قسم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - سبايا بني المصطلق وقعت جويرية بنت الحارث في السهم لثابت بن قيس بن الشماس أو لابن عم له وكاتبته علي نفسها، وكانت امرأة حلوة ملاحة لا يراها رجل إلا أخذت بنفسه، فأتت النبي - صلى الله عليه وسلم - تستعينه في كتابتها. قالت فو الله ما هو إلا أن رأيتها علي باب حجرتي فكرهتها وعرفت أنه سيري منها ما رأيت، فدخلت عليه، فقالت يا رسول الله: أنا جويرية بنت الحارث بن أبي ضرار سيد قومه، وقد أصابني من البلاء ما لم يخف عليك، فوقعت في السهم لثابت بن قيس بن الشماس أو لابن عم له، فكاتبته علي نفسي، فجئت أستعينك علي كتابتي. قال فهل لك في خير من ذلك؟ قالت: وما هو يا رسول الله؟ قال أقضي كتابتك وأتزوجك. قالت نعم يا رسول الله. قال قد فعلت. قالت وخرج الخبر إلي الناس أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - تزوج جويرية بنت الحارث. فقال الناس أصهار رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فأرسلوا ما بايديهم، قالت فلقد أعتق بتزويجه إياها مائة أهل بيت من بني المصطلق. فما أعلم امرأة كانت أعظم بركة على قومها منها
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : বানু মুসতালিক যুদ্ধ অভিযানে অপবাদ আরোপের কারণে হযরত আয়েশা (রা)-এর মনোকষ্ট
২৭৭. হযরত আয়েশা (রা) বলেছেন যে, আমাকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল যা সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। তখন আমার বিষয়টি নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি ভাষণ দিলেন। শুরুতে মহান আল্লাহর প্রশংসা ও যথোপযুক্ত গুণগানের পর তিনি বললেন, কারা কারা কার সাথে সম্পৃক্ত করে আমার পরিবার নিয়ে কুৎসা রটনা করছে তাদের সম্পর্কে তোমরা আমাকে পরামর্শ দাও। আল্লাহর কসম আমি তো আমার পরিবার সম্পর্কে কখনো মন্দ কিছু দেখিনি-জানিনি। আর যাকে সম্পৃক্ত করে কুৎসা রটনা করা হচ্ছে তার সম্পর্কেও আমি মন্দ কিছু জানিনি। আমার অনুপস্থিতিতে সে কখনও আমার গৃহে প্রবেশ করেনি। আমি সফরে গেলে সেও আমার সাথে সফরে গিয়েছে। এ পর্যায়ে সা'দ ইব্ন মু'আয (রা) দাঁড়িয়ে বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আপনি অনুমতি দিন আমরা কুৎসা রটনাকারীদের ঘাড় আলাদা করে দিই। এ কথা শুনে হাসসান ইবন সাবিত (রা) এর মাতুল গোত্রের জনৈক খাযরাজী লোক দাঁড়িয়ে বলল আপনি ঠিক বলেননি-দোষী ব্যক্তি আওস গোত্রের হলে আপনি তাদের ঘাড় আলাদা করতে পছন্দ করতেন না। এ বিষয়ে মসজিদের মধ্যে আওস ও খাযরাজ গোত্রের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যাবার উপক্রম হয়। হযরত আয়েশা (রা) বলেন, তখনও আমি এসবের কিছুই জানতাম না। সেদিন সন্ধ্যায় আমি শৌচ-কার্যের জন্যে বাহিরে বেই হই। আমার সাথে ছিলেন মিসতাহ এর মাতা। হঠাৎ তার পায়ে কাপড় পেঁচিয়ে যায়। তখন মিসতাহের মাতা বলল মিসতাহ ধ্বংস হোক। আমি বললাম, আপনার পুত্রকে আপনি গালমন্দ করছেন কেন? তিনি কিছু বললেন না। দ্বিতীয় বার তার পায়ে কাপড় পেঁচিয়ে যায়। মিসতাহের মাতা বলল, মিসতাহ ধ্বংস হোক। আমি বললাম, আপনি আপনার পুত্রকে গালমন্দ করছেন কেন? তৃতীয়বার তার পায়ে কাপড় পেঁচিয়ে যায়। তিনি বললেন, মিসতাহ ধ্বংস হোক। এবার আমি তাঁকে ধমক দিয়ে বললাম, আপনি আপনার পুত্রকে কেন গালমন্দ করছেন? এবার তিনি বললেন, আপনার খাতিরে আমি তাকে গালমন্দ করছি। আমি বললাম, আমার কোন বিষয়ে? এবার তিনি আমাকে পুরো ঘটনা বললেন। আশ্চর্য হয়ে আমি বললাম এমনতর রটনা রটেছে? তিনি বললেন হাঁ, আল্লাহর কসম তা-ই রটেছে। আমি শৌচকার্য না করেই ঘরে ফিরে এলাম। আমার তখন মনে হয়েছিল যে, আমার কোন শৌচকার্যের বেগ-ই হয়নি। আমি জ্বরে আক্রান্ত হলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি বললাম- আমাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিন। একটি বাচ্চাকে সাথে দিয়ে তিনি আমাকে পাঠিয়ে দিলেন। পিত্রালয়ে পৌছে আমার মাতা উম্মু রুমানের মুখোমুখি হই। তিনি আমাকে বললেন, আদুরে কন্যা তুমি কি কারণে এসেছ? আমি তাঁকে ঘটনা বললাম। তিনি বললেন, মা, বিষয়টি নিয়ে অস্থির হয়ো না, এই জগতে যে সুন্দরী স্ত্রী স্বামীর প্রিয়তমা তার যদি সতীন থাকে তাহলে তারা ওই স্ত্রীর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেই এবং তার ফলে এ জাতীয় অপবাদ ও গুজব রটে। আমি বললাম, আমার বাবা কি এসব জানেন? মা বললেন, হাঁ তিনিও শুনেছেন। আমি বললাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব জেনেছেন? তিনি বললেন হাঁ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ও তা জেনেছেন। এবার আমি অশ্রু ছেড়ে কাঁদতে শুরু করি। আমার বাবা আমার কান্নার শব্দ শুনলেন। তিনি গৃহের উপরে কুরআন শরীফ পাঠ করছিলেন। তিনি নেমে এলেন। আমার মায়ের নিকট ঘটনা কি জানতে চাইলেন। মা বললেন তার সম্পর্কে যে গুজব রটেছে তা শুনেছে এবং সেজন্যে কাঁদছে। বাবা আমাকে নিজ গৃহে ফিরে যাবার তাকিদ দিলেন। আমি আমার গৃহে ফিরে গেলাম। আমার পিতামাতা দুজনে আমার নিকট উপস্থিত হলেন। তাঁরা আমার সাথে থাকলেন। আসরের নামাযের পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট এলেন। আমার পিতা-মাতা তখন আমার ডানে এবং বামে বসা ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মহান আল্লাহর প্রশংসা ও যথোপযুক্ত গুণগান করার পর বললেন হে আয়েশা! তুমি যদি সত্যিই কোন অপ্রীতিকর কর্ম করে থাক তাহলে আল্লাহর নিকট তাওবা কর। আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের বান্দাদের তাওবা কবুল করে থাকেন। এ সময়ে একজন আনসারী মহিলা এসে দরজায় বসে ছিল। আমি বললাম এই মহিলার সম্মুখে এসব আলোচনা করতে আপনার লজ্জা হচ্ছে না? আমি আমার বাবাকে বললাম আপনি তাঁর কথার উত্তর দিন। বাবা বললেন, আমি কি উত্তর দিব? আমি আমার মাকে বললাম আপনি উত্তর দিন। মা বললেন, আমি কি উত্তর দিব? তাঁরা যখন উত্তর দিলেন না তখন আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা ও যথোপযুক্ত গুণগান করার পর বললাম, আমি এখন যদি বলি যে, আমি ওইসব কিছুতে জড়িত হইনি আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিবেন যে, আমি আমার কথায় সত্যবাদী তাতে আপনাদের নিকট আমার কোন লাভ হবে না। কারণ আপনারা এ বিষয়ে অনেক কথাবার্তা বলেছেন এবং এটি আপনাদের অন্তরে স্থান করে নিয়েছে। আর আমি যদি বলি আমি ওই কর্মে জড়িত হয়েছি অথচ মহান আল্লাহ্ জানেন যে, আমি তাতে জড়িত হইনি তাহলে আপনারা বলবেন যে, সে এখন তার দোষ স্বীকার করেছে। এখন আমার আর আপনাদের মধ্যকার উদাহরণ হল হযরত ইউসুফ (আ) এর পিতার উদাহরণ যে, তিনি বলেছিলেন এখন আমার জন্যে ধৈর্য ধারণই উত্তম, তোমরা যা বলছ একমাত্র আল্লাহই সে বিষয়ে আমার আশ্রয়স্থল। এ সময়ে অস্থিরতায় আমি ইউসুফ (আ) এর পিতার নাম ভুলে যাই। এ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রতি ওহী নাযিল হতে শুরু করে। একপর্যায়ে ওহী নাযিল শেষ হয়। আমি তাঁর চেহারায় আনন্দের চিহ্ন দেখতে পাই। তিনি মুখমণ্ডল মুছতেছিলেন আর বলতেছিলেন, হে আয়েশা! তুমি সুসংবাদ শোন মহান আল্লাহ্ তোমার সতীত্ব ও নির্দোষ হবার পক্ষে আয়াত নাযিল করেছেন। আমি তখন আরো কঠিনভাবে রাগান্বিত হই। আমার বাবা-মা আমাকে বললেন, ওঠো এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। আমি বললাম, আল্লাহর কসম আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতায় দাঁড়াব না ও তাঁর প্রশংসা করব না। আপনাদের দুজনেরও প্রশংসা করব না। আপনারা এমন একটি জঘন্য অপবাদের কথা শুনেও তা প্রত্যাখ্যান ও প্রতিরোধ করেননি। আমি মহান আল্লাহরই প্রশংসা করব, যিনি আমার সতীত্বের পক্ষে আয়াত নাযিল করেছেন। ইতিমধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার আমার কক্ষে এসেছিলেন এবং আমার সেবিকাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। সে বলেছিল হায় আল্লাহ্! আমি তো তাঁর কোন দোষ দেখি না তবে মাঝে মাঝে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন আর বকরী এসে তাঁর রুটির মণ্ডগুলো খেয়ে যায়। সেবিকার কথা শুনে কেউ একজন তাকে ধমক দেয় এবং গালমন্দ করে বলে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা চাচ্ছেন তার সপক্ষে তুমি কথা বল। উরওয়া বলল: এরূপ মন্তব্যকারী দোষী। তারপর সেবিকা বলে, আমি তার সম্পর্কে ঠিক সেই ধারণা পোষণ করি এবং জানি স্বর্ণকার যেমন লাল স্বর্ণপিণ্ড সম্পর্কে জানে। যাকে জড়িত করে এই গুজব রটনা করা হয়েছিল সে এই গুজব শোনার পর বলেছিল সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর কসম আমি কখনো কোন মহিলার পর্দা ও আবরণ উন্মোচন করিনি। পরবর্তীতে এই ব্যক্তি যুদ্ধে শাহাদাতবরণ করে।
হযরত আয়েশা (রা) বলেন, যায়নাব বিন্তে জাহাশকে মহান আল্লাহ্ রক্ষা করেছেন এ বিষযে তিনি সবসময় ভাল কথাই বলেছেন। কিন্তু তাঁর বোন হামনাহ্ সে ধ্বংসপ্রাপ্তদের দলে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় মুনাফিক এ বিষয়ে নির্লজ্জ কথাবার্তা বলেছে। সে এই গুজব ছড়ানোতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। মিসতাহ এবং হাসান ইব্ন ছাবিতও এ গুজব প্রচারে কাজ করেছেন। মিসতাহ (রা) হযরত আবুবকর (রা) এর দানে ধন্য ছিলেন। এ ঘটনার পর হযরত আবূ বকর (রা) কসম করে বললেন যে, তিনি আর মিসতাহের প্রতি কোন দয়া-দান করবেননা। তখন মহান আল্লাহ্ নাযিল করলেন-
ولا يَأْتَلِ أُولُوا الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ أَنْ يُؤْتُوا أُولِي الْقُرْبَى وَالْمَسَاكِينَ وَالْمُهَاجِرِينَ فِي سَبِيْلِ اللَّهِ
তোমাদের মধ্যে যারা প্রাচুর্য ও ঐশ্বর্যের অধিশ্বরী (অর্থাৎ আবু বকর (রা)) তারা যেন শপথ গ্রহণ না করে যে তারা আত্মীয় স্বজন ও অভাবগ্রস্তকে (অর্থাৎ মিসতাহকে) এবং আল্লাহর রাস্তায় যারা গৃহত্যাগ করেছে তাদেরকে কিছুই দিবে না।
أَلَا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অর্থাৎ, তোমরা কি চাওনা যে, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করেন? আল্লাহ্ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু (সূরা নূরঃ ২২)
তখন হযরত আবূ বকর (রা) বললেন, হাঁ আল্লাহর কসম আমরা অবশ্যই চাই যে, মহান আল্লাহ্ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। এরপর হযরত আবূ বকর (রা) মিসতাহকে যে সাহায্য করতেন তা পুনরায় চালু করলেন।
হযরত আয়েশা (রা) বলেন, যায়নাব বিন্তে জাহাশকে মহান আল্লাহ্ রক্ষা করেছেন এ বিষযে তিনি সবসময় ভাল কথাই বলেছেন। কিন্তু তাঁর বোন হামনাহ্ সে ধ্বংসপ্রাপ্তদের দলে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় মুনাফিক এ বিষয়ে নির্লজ্জ কথাবার্তা বলেছে। সে এই গুজব ছড়ানোতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। মিসতাহ এবং হাসান ইব্ন ছাবিতও এ গুজব প্রচারে কাজ করেছেন। মিসতাহ (রা) হযরত আবুবকর (রা) এর দানে ধন্য ছিলেন। এ ঘটনার পর হযরত আবূ বকর (রা) কসম করে বললেন যে, তিনি আর মিসতাহের প্রতি কোন দয়া-দান করবেননা। তখন মহান আল্লাহ্ নাযিল করলেন-
ولا يَأْتَلِ أُولُوا الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ أَنْ يُؤْتُوا أُولِي الْقُرْبَى وَالْمَسَاكِينَ وَالْمُهَاجِرِينَ فِي سَبِيْلِ اللَّهِ
তোমাদের মধ্যে যারা প্রাচুর্য ও ঐশ্বর্যের অধিশ্বরী (অর্থাৎ আবু বকর (রা)) তারা যেন শপথ গ্রহণ না করে যে তারা আত্মীয় স্বজন ও অভাবগ্রস্তকে (অর্থাৎ মিসতাহকে) এবং আল্লাহর রাস্তায় যারা গৃহত্যাগ করেছে তাদেরকে কিছুই দিবে না।
أَلَا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অর্থাৎ, তোমরা কি চাওনা যে, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করেন? আল্লাহ্ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু (সূরা নূরঃ ২২)
তখন হযরত আবূ বকর (রা) বললেন, হাঁ আল্লাহর কসম আমরা অবশ্যই চাই যে, মহান আল্লাহ্ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। এরপর হযরত আবূ বকর (রা) মিসতাহকে যে সাহায্য করতেন তা পুনরায় চালু করলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في محنة عائشة رضي الله عنها بحديث الإفك في هذه الغزوة
حدثنا أبو سلمة (1) ثنا هشام عن أبيه عن عائشة رضي الله عنها قالت لما ذكر من شأني الذي ذكر (2) وما علمت به قام رسول الله - صلى الله عليه وسلم - في خطيبا وما علمت به فتشهد فحمد الله عز وجل واثني عليه بما هو أهله ثم قال أما بعد أشيروا علي في ناس أبنوا (3) أهلي وايم الله ما علمت علي أهلي سوءا قط وأبنوهم بمن؟ (4) والله ما علمت عليه من سوء قط، ولا دخل بيتي قط إلا وأنا حاضر، ولا غبت في سفر إلا غاب معي، فقام سعد بن معاذ (5) فقال تري يا رسول الله أن نضرب أعناقهم؟ فقام رجل من الخزرج (6) وكانت أم حسان بن ثابت من رهط ذلك الرجل (7) فقال كذبت، أما والله لو كانوا من الأوس ما أحببت أن تضرب أعناقهم، حتي كادوا أن يكون بين الأوس والخزرج في المسجد شر وما علمت به: فلما كان مساء ذلك اليوم خرجت لبعض حاجتي ومعي أم مسطح فعثرت فقالت تعس مسطح، فقلت علام تسبين ابنك؟ فسكتت فعثرت الثانية فقالت تعس مسطح، فقلت علام تسبين ابنك؟ ثم عثرت الثالثة فقالت تعس مسطح (8) فانتهرتها فقلت علام تسبين ابنك؟ فقالت والله ما أسبه إلا فيك، فقلت في أي شأني؟ فذكرت لي الحديث، فقلت وقد كان هذا؟ قالت نعم والله، فرجعت إلي بيتي فكأن الذي خرجت لم أخرج له (9) لا أجد منه قليلا ولا كثيرا ووعكت (10) فقلت لرسول الله - صلى الله عليه وسلم - أرسلني إلي بيت أبي، فأرسل معي الغلام فدخلت الدار فإذا أنا بأم رومان (1) فقالت ما جاء بك يا أمته؟ فاخبرتها، فقالت خفضي عليك الشأن فانه والله لقلما كانت امرأة جميلة تكون عند رجل يحبها ولها ضرائر الا حسدنها وقلن فيها، قلت وقد علم به أبي؟ قالت نعم، قلت ورسول الله - صلى الله عليه وسلم -؟ (2) قالت ورسول الله - صلى الله عليه وسلم - فاستعبرت (3) فبكيت فسمع أبو بكر صوتي وهو فوق البيت يقرأ فنزل فقال لأمي ما شأنها؟ فقلت بلغها الذي ذكر من أمرها ففاضت عيناه، فقال أقسمت عليك يابته إلا رجعت إلي بيتك، فرجعت وأصبح أبواي عندي فلم يزالا عندي حتي دخل علي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بعد العصر وقد اكتنفني أبواي عن يميني وعن شمالي، فتشهد النبي - صلى الله عليه وسلم - فحمد الله واثني عليه بما هو أهله ثم قال أما بعد يا عائشة إن كنت قارفت سوءا وظلمت توبي إلي الله عز وجل فان الله عز وجل يقبل التوبة عن عباده، وقد جاءت امرأة من الأنصار فهي جالسة بالباب فقلت الا تستحي من هذه المرأة أن تقول شيئا؟ فقلت لأبي أجبه، فقال أقول ماذا؟ فقلت لأمي أجيبيه، فقالت أقول ماذا؟ فلما لم يجيباه تشهدت فحمدت الله عز وجل وأثنيت عليه؟ بما هو أهله ثم قلت أما بعد فو الله لئن قلت لكم إني لم أفعل والله جل جلاله يشهد أني لصادقة ما ذاك بنافعي عندكم، لقد تكلمتم به وأشربته قلوبكم، (4) ولئن قلت لكم إني قد فعلت والله عز وجل يعلم اني لم أفعل لتقولن قد باءت به علي نفسها (5) فاني والله ما أجد لي ولكم مثلا إلا أبا يوسف وما أحفظ اسمه صبر جميل والله المستعان علي ما تصفون، فأنزل علي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - ساعتئذ فرفع عنه وإني لأتبين السرور في وجهه وهو يمسح جبينه وهو يقول ابشري يا عائشة، فقد أنزل الله عز وجل براءتك، فكنت أشد ما كنت غضبا فقال لي أبواي قومي اليه، قلت والله لا أقوم اليه ولا أحمدكما، لقد سمعتموه فما أنكرتموه ولا غيرتموه، ولكن احمد الله الذي أنزل براءتي، (6) ولقد جاء رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بيتي فسأل الجارية عني فقالت لا والله ما أعلم عليها عيبا إلا أنها كانت تنام حتي تدخل الشاة فتأكل خميرتها، وعجينتها شك هشام فانهرها بعض أصحابه وقال أصدقي رسول الله صلي الله عليه وآله وسلم حتي أسقطوا لها به (7) قال عروة فعيب ذلك علي من قاله، فقالت لا والله أعلم عليها الا ما يعلم الصائغ علي تبر الذهب الأحمر (1) وبلغ ذلك الرجل الذي قيل له (2) فقال سبحان الله والله ما كشفت كف (3) أنثي قط فقتل شهيدا في سبيل الله، قالت عائشة فأما زينب بنت جحش فعصمها الله عز وجل بدينها فلم تقل الا خيرا، وأما أختها حمنة (4) فهلكت فيمن هلك، وكان الذين تكلموا فيه المنافق عبد الله بن أبي كان يستوشيه ويجمعه، وهو الذي تولي كبره منهم، ومسطح وحسان بن ثابت، فحلف أبو بكر أن لا ينفع مسطحا بنافعة أبداً (5) فانزل الله عز وجل (ولا يأتل أولوا الفضل منكم والسعة) يعني أبا بكر (أي يؤتوا أولي القربي والمساكين) يعني مسطحا (ألا تحبون أن يغفر الله لكم والله غفور رحيم) فقال أبو بكر بلي والله انا لنحب أن يغفر لنا وعاد أبو بكر رضي الله عنه لمسطح بما كان يصنع.
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : বানু মুসতালিক যুদ্ধ অভিযানে অপবাদ আরোপের কারণে হযরত আয়েশা (রা)-এর মনোকষ্ট
২৭৮. হযরত আয়েশার (রা) মাতা উম্মু রূমান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আর আয়েশা বসা অবস্থায় ছিলাম। এ সময়ে জনৈকা মহিলা আনসারী সেখানে এল। সে বলল, মহান আল্লাহ্ অমুককে ধ্বংস করুন। সে তার পুত্রের জন্যে বদ দুআ করছিল। আমি বললাম কী হয়েছে? ব্যাপার কী? সে বলল সংশ্লিষ্ট গুজব রটনায় আমার পুত্রও জড়িত রয়েছে। আমি তাকে বললাম কী গুজব? সে বলল, এই-এই। তখন আয়েশা (রা) বলল, আবু বকর (রা) কি তা শুনেছেন? সে বলল হাঁ, তিনিও শুনেছেন। আয়েশা (রা) বলল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শুনেছেন? সে বলল, হাঁ তিনিও তা শুনেছেন। এটা শুনে আয়েশা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গেল। পরে কাঁপুনি জ্বর গায়ে সে সংজ্ঞা ফিরে পেল। আমি তার গায়ে কাপড় ছড়িয়ে দিলাম। এসময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে প্রবেশ করলেন এবং এ অবস্থা দেখে বললেন ঘটনা কী, আর কী হয়েছে? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ), তার কাঁপুনিসহ জ্বর এসেছে। তিনি বললেন, সম্ভবত চলমান গুজবের কারণে তা হয়েছে। উম্মু রূমান বললেন, হাঁ তেমনটাই হবে। এবার হযরত আয়েশা (রা) মাথা উঠিয়ে বললেন, আমি যদি আমার সতীত্বের কথা বলি তবে আপনারা তা গ্রহণ করবেন না, আমি যদি কসম করি তা আপনারা সত্য বলে মেনে নিবেন না। এখন আমার আর আপনাদের অবস্থা হল ইয়াকুব (আ) ও তাঁর পুত্রদের অবস্থার মত যখন ইয়াকুব (আ) বলেছিলেন
فَصَبُرٌ جَمِيلٌ وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ
অর্থাৎ, এখন আমার জন্যে ধৈর্য ধারণই উত্তম-তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার আশ্রয়স্থল (সূরা ইউসুফ: ১৮)।
যখন হযরত আয়েশা (রা) এর নির্দোষ হবার পক্ষে আয়াত নাযিল হল তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নিকট এলেন এবং তাঁকে ওই আয়াত সম্পর্কে জানালেন। হযরত আয়েশা (রা) বললেন এখন আল্লাহর প্রশংসা করব। আপনার প্রশংসা নয় বর্ণনান্তরে অন্য কারো প্রশংসা নয়।
উম্মু রূমান থেকে অপর বর্ণনায় এসেছে তিনি বলেছেন যে, আমি আয়েশার নিকট ছিলাম। তখন সেখানে জনৈকা আনসারী মহিলা (রা) প্রবেশ করল (এরপর পূর্ববর্তী বর্ণনার মত বর্ণনা করলেন) এরপর তিনি বললেন, একপর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখান থেকে বের হয়ে গেলেন। এরপর আয়েশা (রা) এর নির্দোষ বিষয়ে আয়াত নাযিল হল। এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়েশা (রা) এর নিকট ফিরে এলেন। তাঁর সাথে ছিলেন হযরত আবূ বকর (রা)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আয়েশা (রা) মহান আল্লাহ্ তোমার নির্দোষ হবার বিষয়ে আয়াত নাযিল করেছেন। আয়েশা (রা) বললেন, মহান আল্লাহর প্রশংসা করব, আপনার প্রশংসা নয়। আবূ বকর (রা) বললেন, আয়েশা! তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একথা বলছ? তিনি বললেন হাঁ, তাই। বর্ণনাকারী বলেন আয়েশার গুজব ছড়ানোর পেছনে আবূ বকর (রা) এর কৃপাধন্য এক লোক ছিল। আবূ বকর (রা) শপথ করলেন যে, ওই লোককে তিনি আর সহযোগিতা ও দান-দক্ষিণা করবেন না। এ প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ্ আয়াত নাযিল করলেন
وَلَا يَأْتَلِ أُوْلُو الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ
তোমাদের মধ্যে যারা প্রাচুর্য ও ঐশ্বর্যের অধিকারী তারা যেন শপথ গ্রহণ না করে যে, তারা আত্মীয়-স্বজন ও অভাবগ্রস্তকে এবং আল্লাহর রাস্তায় যারা গৃহত্যাগ করেছে তাদেরকে কিছুই দিবে না। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করেন? আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (সূরা নূর: ২২১)।
হযরত আবূ বকর (রা) বললেন, হাঁ-হাঁ আমরা চাই যে, আল্লাহ্ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। অতঃপর তিনি ওই ব্যক্তিকে দান-দক্ষিণা করতে শুরু করেন।
فَصَبُرٌ جَمِيلٌ وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ
অর্থাৎ, এখন আমার জন্যে ধৈর্য ধারণই উত্তম-তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার আশ্রয়স্থল (সূরা ইউসুফ: ১৮)।
যখন হযরত আয়েশা (রা) এর নির্দোষ হবার পক্ষে আয়াত নাযিল হল তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নিকট এলেন এবং তাঁকে ওই আয়াত সম্পর্কে জানালেন। হযরত আয়েশা (রা) বললেন এখন আল্লাহর প্রশংসা করব। আপনার প্রশংসা নয় বর্ণনান্তরে অন্য কারো প্রশংসা নয়।
উম্মু রূমান থেকে অপর বর্ণনায় এসেছে তিনি বলেছেন যে, আমি আয়েশার নিকট ছিলাম। তখন সেখানে জনৈকা আনসারী মহিলা (রা) প্রবেশ করল (এরপর পূর্ববর্তী বর্ণনার মত বর্ণনা করলেন) এরপর তিনি বললেন, একপর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখান থেকে বের হয়ে গেলেন। এরপর আয়েশা (রা) এর নির্দোষ বিষয়ে আয়াত নাযিল হল। এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়েশা (রা) এর নিকট ফিরে এলেন। তাঁর সাথে ছিলেন হযরত আবূ বকর (রা)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আয়েশা (রা) মহান আল্লাহ্ তোমার নির্দোষ হবার বিষয়ে আয়াত নাযিল করেছেন। আয়েশা (রা) বললেন, মহান আল্লাহর প্রশংসা করব, আপনার প্রশংসা নয়। আবূ বকর (রা) বললেন, আয়েশা! তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একথা বলছ? তিনি বললেন হাঁ, তাই। বর্ণনাকারী বলেন আয়েশার গুজব ছড়ানোর পেছনে আবূ বকর (রা) এর কৃপাধন্য এক লোক ছিল। আবূ বকর (রা) শপথ করলেন যে, ওই লোককে তিনি আর সহযোগিতা ও দান-দক্ষিণা করবেন না। এ প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ্ আয়াত নাযিল করলেন
وَلَا يَأْتَلِ أُوْلُو الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ
তোমাদের মধ্যে যারা প্রাচুর্য ও ঐশ্বর্যের অধিকারী তারা যেন শপথ গ্রহণ না করে যে, তারা আত্মীয়-স্বজন ও অভাবগ্রস্তকে এবং আল্লাহর রাস্তায় যারা গৃহত্যাগ করেছে তাদেরকে কিছুই দিবে না। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করেন? আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (সূরা নূর: ২২১)।
হযরত আবূ বকর (রা) বললেন, হাঁ-হাঁ আমরা চাই যে, আল্লাহ্ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। অতঃপর তিনি ওই ব্যক্তিকে দান-দক্ষিণা করতে শুরু করেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في محنة عائشة رضي الله عنها بحديث الإفك في هذه الغزوة
عن مسروق عن أم رومان (6) وهي أم عائشة قالت كنت أنا وعائشة قاعدة فدخلت امرأة من الأنصار فقالت فعل الله بفلان وفعل تعني ابنها (7) قالت فقلت لها وما ذلك؟ قالت ابني كان فيمن حدث الحديث، قالت فقلت لها وما الحديث؟ قالت كذا وكذا (8) فقالت عائشة أسمع بذلك أبو بكر؟ قالت نعم، قالت أسمع بذلك رسول الله صلي الله عليه وآله وسلم؟ قالت نعم، فوقعت أو سقطت عليها فأفاقت بحمي ناقض (9) فالقيت عليها الثياب فدخل رسول الله صلي الله عليه وآله وسلم فقال ما لهذه؟ قالت فقلت يا رسول الله أخذتها حمي بناقض، قال لعله من الحديث الذي تحدث به؟ قالت نعم، يا رسول الله، فرفعت عائشة رأسها وقالت ان قلت (10) لم تعذروني وان حلفت لم تصدقوني ومثلي ومثلكم كمثل يعقوب (11) وبنيه حين قال (فصبر جميل والله المستعان علي ما تصفون): فلما نزل عذرها أتاها النبي صلي الله تبارك وتعالى عليه وعلى آله وصحبه وسلم وأخبرها بذلك فقالت بحمد الله لا بحمدك أو قالت ولا بحمد أحد
(وعنه من طريق ثان) (1) عن أم رومان. قالت بينا أنا عند عائشة اذ دخلت علينا امرأة من الأنصار (فذكرت نحو الحديث المتقدم وفيه) قالت وخرج رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قال وأنزل الله عذرها، فرجع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - معه أبو بكر فدخل فقال يا عائشة ان الله عز وجل قد أنزل عذرك، قالت بحمد الله لا بحمدك، قالت قال لها أبو بكر تقولين هذا لرسول الله - صلى الله عليه وسلم -؟ قالت نعم، قالت فكان فيمن حدث الحديث (2) رجل كان يعوله أبو بكر (3) فحلف أبو بكر أن لا يصله فأنزل الله عز وجل (ولا يأتل ألوا الفضل منكم والسعة) الي آخر الآية، قال أبو بكر بلي فوصله
(وعنه من طريق ثان) (1) عن أم رومان. قالت بينا أنا عند عائشة اذ دخلت علينا امرأة من الأنصار (فذكرت نحو الحديث المتقدم وفيه) قالت وخرج رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قال وأنزل الله عذرها، فرجع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - معه أبو بكر فدخل فقال يا عائشة ان الله عز وجل قد أنزل عذرك، قالت بحمد الله لا بحمدك، قالت قال لها أبو بكر تقولين هذا لرسول الله - صلى الله عليه وسلم -؟ قالت نعم، قالت فكان فيمن حدث الحديث (2) رجل كان يعوله أبو بكر (3) فحلف أبو بكر أن لا يصله فأنزل الله عز وجل (ولا يأتل ألوا الفضل منكم والسعة) الي آخر الآية، قال أبو بكر بلي فوصله
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খন্দক বা আহযাবের যুদ্ধ এবং বনু কুরায়যার যুদ্ধ
এই যুদ্ধকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুবই গুরুত্ব দিয়েছিলেন, এই যুদ্ধে মদীনার চতুস্পার্শ্বে পরিখা খনন করা হয়, পরিখা খননে আনসার ও মুহাজিরদের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সশরীরে অংশ নেন। এতে তাঁর কতক মু'জিযা ও অলৌকিক শক্তির প্রকাশ ঘটে।
এই যুদ্ধকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুবই গুরুত্ব দিয়েছিলেন, এই যুদ্ধে মদীনার চতুস্পার্শ্বে পরিখা খনন করা হয়, পরিখা খননে আনসার ও মুহাজিরদের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সশরীরে অংশ নেন। এতে তাঁর কতক মু'জিযা ও অলৌকিক শক্তির প্রকাশ ঘটে।
২৭৯. আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি কৌতুক করে বারা ইব্ন আযিব (রা) কে বলেছিল আপনারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবী ও সহচর হয়েও একসময় তাঁকে রেখে পালিয়ে গিয়েছিলেন। বারা বললেন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে বলছি, সেদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিন্তু পলায়ন করেননি। পরিখা খননের দিন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখেছি যে, অন্যান্য লোকের সাথে তিনি নিজেও মাটি সরাচ্ছেন (এক বর্ণনায় আছে যে, মাটির ধুলোবালিতে তাঁর পেটের চামড়া ঢাকা পড়ে গিয়েছিল) তখন তিনি ইবন রাওয়াহা (রা) এর কবিতা আবৃত্তি করে বলছিলেন-
اللَّهُمَّ لَوْلَا أَنْتَ مَا اهْتَدَيْنَا . وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا
فَأَنْزِلَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا ... وَثَبَتِ الْأَقْدَامَ إِنْ لَاقَيْنَا
إِنَّ الْأُلى قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا . وَإِنْ أَرَادُوا فِتْنَةً أَبَيْنَا
হে আল্লাহ্ আপনি না থাকলে আমরা হিদায়াত পেতাম না-আমরা তাহলে সাদকাও দিতাম না নামাযও পড়তাম না।
আপনি আমাদের প্রতি শান্তি নাযিল করুন এবং আমরা শত্রুপক্ষের মুখোমুখি হলে আমাদেরকে অটল ও অবিচল রাখবেন।
শত্রুপক্ষীয় নেতৃবর্গ আমাদের বিরোধিতা করছে। ওরা কোন ফিতনা ও বিশৃংখলা করতে চাইলে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।
তিনি শেষ শব্দের শেষ বর্ণটি দীর্ঘস্বরে পড়তেন।
اللَّهُمَّ لَوْلَا أَنْتَ مَا اهْتَدَيْنَا . وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا
فَأَنْزِلَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا ... وَثَبَتِ الْأَقْدَامَ إِنْ لَاقَيْنَا
إِنَّ الْأُلى قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا . وَإِنْ أَرَادُوا فِتْنَةً أَبَيْنَا
হে আল্লাহ্ আপনি না থাকলে আমরা হিদায়াত পেতাম না-আমরা তাহলে সাদকাও দিতাম না নামাযও পড়তাম না।
আপনি আমাদের প্রতি শান্তি নাযিল করুন এবং আমরা শত্রুপক্ষের মুখোমুখি হলে আমাদেরকে অটল ও অবিচল রাখবেন।
শত্রুপক্ষীয় নেতৃবর্গ আমাদের বিরোধিতা করছে। ওরা কোন ফিতনা ও বিশৃংখলা করতে চাইলে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।
তিনি শেষ শব্দের শেষ বর্ণটি দীর্ঘস্বরে পড়তেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في غزوة الخندق أو الاحزاب وغزوة بني قريظة
واهتمامه - صلى الله عليه وسلم بهذه الغزوة وحفر خندق حول المدينة واشتراكه - صلى الله عليه وسلم - مع الأنصار والمهاجرين في حفره وظهور بعض معجزاته
واهتمامه - صلى الله عليه وسلم بهذه الغزوة وحفر خندق حول المدينة واشتراكه - صلى الله عليه وسلم - مع الأنصار والمهاجرين في حفره وظهور بعض معجزاته
عن أبي اسحاق (1) قال قال رجل للبراء بن عازب وهو يمزح معه قد فررتم عن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وأنتم أصحابه، قال البراء اني لأشهد علي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - ما فر يومئذ، وقد رأيت رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يوم حفر الخندق وهو ينقل مع الناس التراب (زاد في رواية حتي واري التراب جلد بطنه) (2) وهو يتمثل كلمة ابن رواحه
اللهم لولا أنت ما اهتدينا ... ولا تصدقنا ولا صلينا ... فأنزلن سكنية علينا
وثبت الأقدام إن لاقينا ... أن الألى (3) قد بغوا علينا ... وأن أرادوا فتنة أبينا
يمد بها صوته
اللهم لولا أنت ما اهتدينا ... ولا تصدقنا ولا صلينا ... فأنزلن سكنية علينا
وثبت الأقدام إن لاقينا ... أن الألى (3) قد بغوا علينا ... وأن أرادوا فتنة أبينا
يمد بها صوته
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ এই যুদ্ধকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুবই গুরুত্ব দিয়েছিলেন, এই যুদ্ধে মদীনার চতুস্পার্শ্বে পরিখা খনন করা হয়, পরিখা খননে আনসার ও মুহাজিরদের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সশরীরে অংশ নেন। এতে তাঁর কতক মু'জিযা ও অলৌকিক শক্তির প্রকাশ ঘটে।
২৭৯. আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি কৌতুক করে বারা ইব্ন আযিব (রা) কে বলেছিল আপনারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবী ও সহচর হয়েও একসময় তাঁকে রেখে পালিয়ে গিয়েছিলেন। বারা বললেন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে বলছি, সেদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিন্তু পলায়ন করেননি। পরিখা খননের দিন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখেছি যে, অন্যান্য লোকের সাথে তিনি নিজেও মাটি সরাচ্ছেন (এক বর্ণনায় আছে যে, মাটির ধুলোবালিতে তাঁর পেটের চামড়া ঢাকা পড়ে গিয়েছিল) তখন তিনি ইবন রাওয়াহা (রা) এর কবিতা আবৃত্তি করে বলছিলেন-
اللَّهُمَّ لَوْلَا أَنْتَ مَا اهْتَدَيْنَا . وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا
فَأَنْزِلَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا ... وَثَبَتِ الْأَقْدَامَ إِنْ لَاقَيْنَا
إِنَّ الْأُلى قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا . وَإِنْ أَرَادُوا فِتْنَةً أَبَيْنَا
হে আল্লাহ্ আপনি না থাকলে আমরা হিদায়াত পেতাম না-আমরা তাহলে সাদকাও দিতাম না নামাযও পড়তাম না।
আপনি আমাদের প্রতি শান্তি নাযিল করুন এবং আমরা শত্রুপক্ষের মুখোমুখি হলে আমাদেরকে অটল ও অবিচল রাখবেন।
শত্রুপক্ষীয় নেতৃবর্গ আমাদের বিরোধিতা করছে। ওরা কোন ফিতনা ও বিশৃংখলা করতে চাইলে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।
তিনি শেষ শব্দের শেষ বর্ণটি দীর্ঘস্বরে পড়তেন।
اللَّهُمَّ لَوْلَا أَنْتَ مَا اهْتَدَيْنَا . وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا
فَأَنْزِلَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا ... وَثَبَتِ الْأَقْدَامَ إِنْ لَاقَيْنَا
إِنَّ الْأُلى قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا . وَإِنْ أَرَادُوا فِتْنَةً أَبَيْنَا
হে আল্লাহ্ আপনি না থাকলে আমরা হিদায়াত পেতাম না-আমরা তাহলে সাদকাও দিতাম না নামাযও পড়তাম না।
আপনি আমাদের প্রতি শান্তি নাযিল করুন এবং আমরা শত্রুপক্ষের মুখোমুখি হলে আমাদেরকে অটল ও অবিচল রাখবেন।
শত্রুপক্ষীয় নেতৃবর্গ আমাদের বিরোধিতা করছে। ওরা কোন ফিতনা ও বিশৃংখলা করতে চাইলে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।
তিনি শেষ শব্দের শেষ বর্ণটি দীর্ঘস্বরে পড়তেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
واهتمامه - صلى الله عليه وسلم بهذه الغزوة وحفر خندق حول المدينة واشتراكه - صلى الله عليه وسلم - مع الأنصار والمهاجرين في حفره وظهور بعض معجزاته
عن أبي اسحاق (1) قال قال رجل للبراء بن عازب وهو يمزح معه قد فررتم عن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وأنتم أصحابه، قال البراء اني لأشهد علي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - ما فر يومئذ، وقد رأيت رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يوم حفر الخندق وهو ينقل مع الناس التراب (زاد في رواية حتي واري التراب جلد بطنه) (2) وهو يتمثل كلمة ابن رواحه
اللهم لولا أنت ما اهتدينا ... ولا تصدقنا ولا صلينا ... فأنزلن سكنية علينا
وثبت الأقدام إن لاقينا ... أن الألى (3) قد بغوا علينا ... وأن أرادوا فتنة أبينا
يمد بها صوته
اللهم لولا أنت ما اهتدينا ... ولا تصدقنا ولا صلينا ... فأنزلن سكنية علينا
وثبت الأقدام إن لاقينا ... أن الألى (3) قد بغوا علينا ... وأن أرادوا فتنة أبينا
يمد بها صوته
তাহকীক: