মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৫৪ টি

হাদীস নং: ৩১৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বায়'আত-ই রিদওয়ান
৩১৯. ইয়াহয়া ইবন সাঈদ থেকে বর্ণিত যে, শুরাহবীল ইবন সা'দ তাঁকে জানিয়েছিল যে, জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) বলেছিলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে হুদায়বিয়া থেকে ফেরার পথে সুকয়া নামক স্থানে যাত্রাবিরতি করেছিলাম। তখন মুআয ইবন জাবাল (রা) বলেছিলেন আমাদের পানির পাত্রে পানি ভরে দিবে কে? জাবির বলেন আমি কতক আনসারী সাহাবীকে নিয়ে পথে বের হলাম। আমরা 'ইসায়াহ্' নামক স্থানের পানি মহলে এসে পৌঁছি। ইসায়াহ থেকে সুকয়ার দূরত্ব প্রায় ২৩ মাইল। আমরা আমাদের পাত্রগুলোতে পানি ভরে নিলাম। রাত কিছুটা গভীর হবার পর আমি একজন লোক দেখতে পেলাম যে, তাঁর উট কূপে নামার জন্যে তাঁর সাথে টানাটানি করছে। তিনি বললেন আমি পানির ঘাটে নামব। অতঃপর আমি দেখলাম যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। তিনি নামলেন। আমি তাঁর উটের লাগাম টেনে সেটিকে বসালাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে ইশার নামায আদায় করলাম। হযরত জাবির (রা) তাঁর পাশে ছিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ১৩ রাকআত নামায আদায় করলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى بيعة الرضوان
حدثنا يحيى بن سعيد (9) أن شرحبيل بن سعد أخبره أن جابر بن عبد الله رضى الله عنهما قال أقبلنا مع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم من الحديبية حتى نزلنا السقيا (10) فقال معاذ بن جبل من يسقينا في أسقيتنا (1) قال جابر فخرجت فى فئة من الأنصار حتى أتينا الماء الذى بالأثاية (2) وبينهما قريباً من ثلاثة وعشرين ميلاً فسقينا فى أسقيتنا حتى إذا كان بعد عتمة (3) إذا رجل ينازعه بعيره إلى الحوض (4) فقال أورد فإذا هو النبى صلى الله عليه وسلم فأورد ثم أخذت بزمام ناقته فأنحتها فقام فصلى العتمة (5) وجابر فيما ذكر إلى جنبه ثم صلى بعدها ثلاث عشرة سجدة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : সালামাহ ইব্‌ন আকওয়া'হ-এর হাদীস তাতে পূর্ববর্তী দুই অধ্যায়ের সারাংশ রয়েছে
৩২০. ইয়াস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমার পিতা বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে হুদায়বিয়াতে পৌছি। আমরা ছিলাম ১৪০০ জন। সেখানে ৫০টি বকরী থাকত। স্থানীয় কূপের পানি তাদের পিপাসা নিবারণের জন্যে যথেষ্ট ছিল না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কূপের তীরে বসলেন। তিনি দুআ করলেন কিংবা কূপে থুথু ফেললেন। সাথে সাথে কূপের পানি উথলে উঠল। আমরা সকলে পানি পান করলাম এবং পশুপালকে পানি করালাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বৃক্ষতলে বায়'আত করার আহ্বান জানান। প্রথম সারির লোকজন বায়আত করল। তারপর পর্যায়ক্রমে অন্যরা বায়আত করে যাচ্ছিল। মধ্যম ভাগের লোকজনের সময় হবার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন হে সালামাহ্! তুমি আমার হাতে বায়আত কর। তিনি বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি প্রথম দিকের লোকদের সাথে বায়আত করে নিয়েছি। তিনি বললেন আবার বায়আত কর। তিনি আমাকে নিরস্ত্র দেখতে পেলেন এবং আমাকে একটি ঢাল দিলেন। এরপর তিনি বায়আত করাচ্ছিলেন। তিনি যখন শেষ দিকের লোকদেরকে বায়আত করাচ্ছিলেন তখন আমাকে বললেন, তুমি কি আমার নিকট বায়আত করবে না? আমি বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি প্রথম দিকের লোকদের সাথে এবং মধ্যম দিকের লোকদের সাথে বায়আত করেছি। তিনি বললেন আবার বায়আত কর। আমি আবার তাঁর হাতে বায়আত করলাম। তিনি বললেন আমি তোমাকে যে ঢালটি দিয়েছি সেটি কোথায়? আমি বললাম, আমার চাচা 'আমিরকে নিরস্ত্র দেখে আমি সেটি তাঁকে দিয়ে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন তুমি তো সেই ব্যক্তির মত যে বলে হে আল্লাহ্! আমাকে এমন একটি বন্ধু এনে দিন যে আমার নিকট আমার নিজের চেয়ে অধিক প্রিয় অতঃপর তিনি হেসে ফেললেন। এরপর মুশরিকগণ আমাদের সাথে সন্ধি চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টা করল। অতঃপর আমরা একে অন্যের পাশাপাশি থেকে হাঁটতে শুরু করি। আমি তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রা) এর খাদেম ছিলাম। আমি তাঁর ঘোড়াকে খাবার দিই, পানি পান করাই এবং তালহার খাবার থেকে আমি খাই, আমার পরিবার-পরিজনকে বাড়ীতে রেখে আমি আল্লাহ্ পথে এসে পড়েছিলাম। আমরা এবং মক্কাবাসিগণ যখন চুক্তি সম্পাদন করলাম তখন আমরা সবাই মিলে মিশে যাত্রা করি এবং নির্দিষ্ট বৃক্ষতলে এসে পৌঁছি। গাছে কাঁটা-কুঁটা পরিষ্কার করে আমি সেখানে শুয়ে পড়ি। ইতিমধ্যে চারজন মুশরিক মক্কাবাসী আমার নিকট আসে এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিষয়ে আমার সাথে তর্কে লিপ্ত হয়। আমি ওদেরকে ছেড়ে অন্য বৃক্ষের নিকট চলে যাই। তারা তাদের তরবারি গাছে ঝুলিয়ে রেখে শুয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় উপত্যকার নিম্নাঞ্চল থেকে এক ঘোষক ঘোষণা দিয়ে বলে ওহে মুহাজিরগণ! ইবন্ যুনায়ম নিহত হয়েছে। অবিলম্বে আমি আমার তরবারি কোষমুক্ত করে চার মুশরিকের উপর হামলা করি। ওদের তরবারিগুলো নিয়ে আঁটি বেঁধে ফেলি। আমি বলি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) কে যিনি সম্মানিত করেছেন তাঁর কসম করে বলছি, তোমাদের কেউ যদি মাথা ওঠাও তবে আমি তার মাথা ধড় থেকে আলাদা করে দিব। আমি ওদের চারজনকে হাঁকিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে আসি। ওদিকে আমার চাচা আমির অশ্বে আরোহণ করে সত্তর জন মুশরিকের সাথে দলবদ্ধ হয়ে ইব্‌ন মুকরিযাকে সাথে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হন। আমরা তাঁর সম্মুখে দাঁড়াই। তিনি মুশরিকদের দিকে তাকিয়ে বললেন, ওদেরকে ছেড়ে দাও। এটি তাদের প্রথম অপকর্ম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওদেরকে ক্ষমা করে দিলেন। তখন এই আয়াত নাযিল হলঃ
وَهُوَ الَّذِي كَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُمْ بِبَطْنِ مَكَّةَ مِنْ بَعْدِ أَنْ أَظْفَرَكُمْ عَلَيْهِمْ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرًا .
তিনি মক্কা উপত্যকায় ওদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত ওদের থেকে নিবারিত করেছেন (সূরা ফাত্হঃ ২৪)।
এরপর আমরা মদীনার দিকে ফিরতি যাত্রা করলাম। 'লুহা জামাল' নামক স্থানে এসে আমরা যাত্রাবিরতি করলাম। সে রাতে যারা পাহাড়ে উঠে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও সাহাবীগণের পক্ষে গোয়েন্দাগিরি করেছিল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের জন্যে ক্ষমার দু'আ করেছিলেন। আমি সে রাতে দুবার কিংবা তিনবার পাহাড়ে উঠেছিলাম। এরপর আমরা মদীনায় এসে পৌছি। মদীনায় এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ক্রীতদাস রাবাহকে তাঁর বাহন সহকারে অন্যত্র প্রেরণ করেন। আমি রাবাহের সাথে ছিলাম। আমি তালহা (রা) এর ঘোড়া নিয়ে বের হই। যখন ভোর হল তখন আবদুর রহমান ইবন উয়ায়নাহ এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাহনের উপর আক্রমণ চালায় এবং সেগুলো লুট করে নিয়ে যায়। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পশুপালক রাবাহকে খুন করে।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى حديث سلمة بن الأكوع وهو يتضمن تلخيص البابين اللذين قبله
عن إياس قال حدثنى أبى (7) قال قدمنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم الحديبية (8) ونحن أربع عشرة مائة (9) وعليها خمسون شاة لا ترويها (10) فقعد رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم على حيالها (11) فإما دعا وإما بسق (12) فجاشت فسقينا واحتتينا، قال ثم إن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم دعا بالبيعة فى أصل الشجرة فبايعه أول الناس (13) وبايع وبايع حتى إذا كان فى وسط (14) من الناس قال يا سلمة بايعنى قال قد بايعتك فى أول الناس يا رسول الله، قال وأيضاً فبايع، ورآنى أعزلاً (15) فاعطاني حجفة (16) أو درفة ثم بايع وبايع حتى إذا كان فى آخر الناس قال ألا تبايعنى؟ قال قلت يا رسول الله قد بايعت أول الناس وأوسطهم، قال وأيضاً فبايع: فبايعته (1) ثم قال أين درقتك أو حجفتك التى أعطيتك؟ قال قلت يا رسول الله لقيتنى عمى عامر أعزلا فأعطيته إياها، قال فقال إنك كالذى قال اللهم أبغنى حبيباً هو أحب إلىّ من نفسى وضحك، ثم إن المشركين راسلونا الصلح حتى مشى بعضنا إلى بعض، قال وكنت تبيعاً لطلحة (2) بن عبيد الله أحس فرسه واسقيه وآكل من طعامه وتركت أهلى ومالي مهاجراً إلى الله ورسوله، فلما اصطلحنا نحن وأهل مكة واختلط بعضنا ببعض أتيت الشجرة فكسحت شوكها (3) واضطجعت فى ظلها فأتانى أربعة من أهل مكة فجعلوا وهم مشركون يقعون فى رسول الله صلى الله عليه وسلم فتحولت عنهم إلى شجرة أخرى وعلقوا سلاحهم واضطجعوا، فينما هم كذلك اذ نادى مناد من أسفل الوادى يا آل المهاجرين قتل بن زنيم (4) فاخترطت سيفى فشددت على الأربعة فأخذت سلاحهم فجعلته ضغئاً (5) قلت والذى أكرم محمداً صلى الله عليه وسلم لا يرفع رجل منكم رأسه إلا ضربت الذى يعنى فيه عيناه، فجئت أسوقهم إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وجاء عمى عامر بابن مكرز (6) يقود به فرسه يقود سبعين حتى وقفنا فنظر إليهم فقال دعوهم يكون لهم بدوّ الفجور (7) وعفا عنهم رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنزلت {وهو الذى كف أيديهم عنكم وأيديكم عنهم) (8) ثم رجعنا إلى المدينة فنزلنا منزلاً يقال له لحي جمل (9) فاستغفر رسول الله صلى الله عليه وسلم لمن رقى الجبل فى تلك الليلة كان طليعة لرسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه، فرقيت تلك الليلة مرتين أو ثلاثة ثم قدمنا المدينة وبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم بظهره (1) مع غلامه رباح وأنا معه وخرجت بفرس طلحة أيديه (2) على ظهره (3) فلما أصبحنا إذا عبد الرحمن بن عيينة الفزارى قد أغار (4) على ظهر رسول الله صلى الله عليه وسلم فانتسفه أجمع وقتل راعية
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৭ম হিজরীর ঘটনাবলী

পরিচ্ছেদ : যু কারাদ যুদ্ধ- এটিকে গাবাহ্ যুদ্ধও বলা হয়
৩২১. মক্কী ইব্‌ন ইব্রাহীম বলেন ইয়াযিদ ইবন আবু ওবায়দ সালামাহ ইব্‌ন আকওয়া সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন যে, আমি গাবাহ্ যাবার উদ্দেশ্যে মদীনা থেকে বের হয়েছিলাম। গাবা-এর একটি উঁচু স্থানে পৌঁছার পর আবদুর রহমান ইবন্ আওফের এক ক্রীতদাসের সাথে আমার দেখা হয়। আমি তাকে বললাম-খবর কী? সে বলল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দুধেল উষ্ট্রিগুলো ছিনতাই হয়ে গিয়েছে। আমি বললাম কে ছিনতাই করেছে? সে বলল গাতফান ও ফাযারাহ গোত্রের লোক। একথা শুনে আমি প্রচণ্ড শব্দে তিনটি চীৎকার দিই। মহাবিপদ বুঝাতে আমি "ইয়া সাবাহাহ্ ইয়া সাবাহাহ্” বলে চীৎকার দিই। মদীনার দু'পর্বতের মাঝে সর্বত্র আমার চীৎকার ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আমি দ্রুত সম্মুখে অগ্রসর হয়ে ওদের কাছাকাছি পৌঁছে যাই। ওরা উটপাল নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করছিলাম আর এই কবিতা আবৃত্তি করছিলাম-
أَنَا ابْنُ الْأَكوَعِ ... وَالْيَوْمُ يَوْمُ أَقْرَعِ
আমি আকওয়া এর পুত্র- আজ হলো যুদ্ধের দিন
একপর্যায়ে আমি ওদের নিকট থেকে উটপাল উদ্ধার করে ফেলি। তখনও তারা পানি পান করেনি। সেগুলো নিয়ে ফিরে আসছিলাম। ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে আমার সাক্ষাত হয়। আমি বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ওই লোকগুলো পিপাসার্ত। ওদের পানি পান করার আগেই আমি উটগুলো আমার করায়ত্তে নিয়ে আসি। ওদেরকে কি ধাওয়া করবো? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন ওহে আকওয়ার পুত্র! তুমি তো উটপালের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছ। সুতরাং ধীরস্থিরভাবে কাজ কর। শত্রুপক্ষ এখন তাদের গোত্রে লোকদের পানপাত্র করে পানি পান করাচ্ছে।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
أبواب حوادث السنة السابعة

باب ما جاء فى غزوة ذى قرد وتسمى غزوة الغابة أيضاً
حدثنا مكي بن ابراهيم) (1) قال حدثنا يزيد بن أبى عبيد عن سلمة بن الأكوع أنه أخبره قال خرجت من المدينة ذاهباً نحو الغابة (2) حتى إذا كنت بثنية (3) الغابة لقينى غلام لعبد الرحمن ابن عوف قال قلت ويحك ما لك؟ قال أخذت لقاح (4) رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم؛ قال قلت من أخذها؟ قال غطفان وفزارة (5) قال فصرخت ثلاث صرخات أسمعت من بين لابتيها (6) يا صباحاه يا صباحاه (7) ثم اندفعت حتى ألقاهم (8) وقد أخذوها، قال فجعلت أرميهم وأقول.
أنا ابن الأكوع ... واليوم يوم أقرع (9)
قال فاستنقذتها منهم قبل أن يشربوا، فأقبلت بها أسوقها فلقينى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله إن القوم عطاش وانى أعجلتهم قبل أن يشربوا فاذهب في أثرهم (10) فقال يا ابن الأكوع ملكت فأسجح (1) إن القوم يقرون فى قومهم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৭ম হিজরীর ঘটনাবলী

পরিচ্ছেদ : যু কারাদ যুদ্ধ- এটিকে গাবাহ্ যুদ্ধও বলা হয়
৩২২, ইয়াস ইব্‌ন সালামাহ ইব্‌ন আকওয়া তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে, হুদায়বিয়ার সময় আমরা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে মদীনায় আগমন করি। তখন আমি আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ক্রীতদাস রাবাহ একসাথে বের হলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ক্রীতদাস রাবাহের সাথে ছিল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাহন উটপাল ও বোঝা। আর আমি বের হয়েছিলাম তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্-এর একটি ঘোড়া নিয়ে। আমার উদ্দেশ্য ছিল উটপালের সাথে ঘোড়াটিকে ঘাস- পানি খাওয়াব। শেষ রাতের অন্ধকার যখন ঘনীভূত হল তখন আবদুর রহমান ইব্‌ন উয়ায়নাহ এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উটপালের উপর হামলা করতঃ রাখালকে হত্যা করে এবং উটপাল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তার সাথে একদল অশ্বারোহী লোকও ছিল। আমি বললাম ওহে রাবাহ, তুমি এই অশ্বে আরোহণ করে এটিকে তালহার নিকট পৌছিয়ে দাও এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জানিয়ে দাও যে, তাঁর বাহনগুলোর উপর শত্রুপক্ষ আক্রমণ করেছে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি একটি পাহাড়ে উঠে গেলাম এবং মদীনার দিকে মুখ করে প্রচণ্ড শব্দে তিনবার চীৎকার দিয়ে বললাম 'ইয়া সাবাহাহ্"! (অর্থাৎ বিপদ বিপদ বিপদ)। এরপর আমি আমার তরবারি ও বর্শা নিয়ে লুটেরা দলের পেছনে ছুটলাম। আমি তাদেরকে তীর নিক্ষেপে আহত করছিলাম। ঘন গাছ-গাছালির ঝোপ পেলে আমি তীর নিক্ষেপ করতাম আর তাদের কোন অশ্বারোহী আমার দিকে এগিয়ে এলে আমি গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকতাম এবং সুযোগ বুঝে পুনরায় তীর নিক্ষেপ করতাম। যে অশ্বারোহীই আমার দিকে এসেছে আমি তাকে তীর নিক্ষেপে আহত করেছি। আমি তখন তীর নিক্ষেপ করছিলাম আর বলছিলাম-
أَنَا ابْنُ الْأَكْوَع ... وَالْيَوْمُ يَوْمُ الرُّضَعِ
“আমি আকওয়ার পুত্র-আজকের দিন নিকৃষ্ট লোকদের ধ্বংসের দিন।"
আমি ওদের এক লোকের দেখা পাই। সে তার বাহনের উপর ছিল। আমি তাকে তীর নিক্ষেপ করি। আমার তীর তার পায়ে বিদ্ধ হয়। আমি তার ঘাড় ধরে ফেলি এবং বলি, "এটি লও, আমি আকওয়ার পুত্র, আজকের দিন নিকৃষ্ট লোকদের জন্যে ধ্বংসের দিন)। আমি যখন গাছের আড়ালে থাকতাম তখন তীর মেরে ওদের মধ্যে আগুন ধরিয়ে দিতাম। আর পাহাড়ী পথে তীর নিক্ষেপ সম্ভব না হলে আমি পাহাড়ের উপরে উঠে তাদের উপর পাথর নিক্ষেপ করতাম। এভাবেই আমি আর তারা সংঘাতে লিপ্ত ছিলাম। একপর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পুরো উটপাল কে আমি আমার পেছনে এনে ওদের কবল থেকে মুক্ত করে নিই। এরপরও আমি ওদের প্রতি তীর এবং পাথর নিক্ষেপ করতে থাকি। তারা নিজেদের বোঝা হালকা করার জন্যে ৩০টি বর্শা এবং ৩০টি চাঁদর ফেলে রেখে এগিয়ে যায়। তারা যা যা ফেলে যাচ্ছিল আমি সেগুলো পাথরে ঢেকে দিচ্ছিলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আগমনের পথে সেগুলোকে একত্রিত করে রাখছিলাম।

সূর্যতাপ কিছুটা প্রখর হবার পর ওদের সাহায্যে উয়ায়না ইবন্ বদর উপস্থিত হয়। তখন তারা একটি ছোট্ট পাহাড়ে অবস্থান করছিল। আমি পাহাড়ের উপরে উঠে যাই। উয়ায়না বলল আমি এটা কী দেখছি? তারা বলল আমরা ওর পক্ষ থেকে ভীষণ আক্রমণের শিকার হচ্ছি। শেষ রাত থেকে এখন পর্যন্ত সে আমাদেরকে ছাড়ছে না। আমাদের হাতে যা ছিল তার সবই সে কেড়ে নিয়ে তার পেছনে রেখে দিয়েছে।

উয়ায়না বলল ওর পেছনে সাহায্যকারী দল থাকার ব্যবস্থা না থাকলে নিশ্চয়ই সে তোমাদেরকে ছেড়ে চলে যেত। এখন তোমাদের কয়েকজন তার উপর হামলা করার জন্যে এগিয়ে যাও। তাদের মধ্য থেকে চারজন এগিয়ে গিয়ে পাহাড়ে উঠল। আমার কণ্ঠস্বর তাদের কানে পৌছার মত জায়গায় তারা উঠার পর আমি বললাম, তোমরা কি আমাকে চেন? তারা বলল, তুমি কে? আমি বললাম, আমি আকওয়ার পুত্র। সেই সত্বার কসম যিনি মুহাম্মাদ (ﷺ) কে সম্মানিত করেছেন তোমাদের কেউ আমাকে খুঁজলে সে আমাকে খুঁজে পাবে না আর আমি তোমাদের কাউকে খুঁজে বের করতে গেলে সে লুকিয়ে থাকতে পারবে না। ওদের একজন বলল, হাঁ, আমার ধারণাও তাই। অতঃপর আমি আমার স্থানে রয়ে গেলাম। একপর্যায়ে আমি দেখতে পেলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অশ্বারোহী সৈন্যগণ বৃক্ষবনে প্রবেশ করছে। তাদের প্রথমে ছিলেন আখরাম আসাদী (রা) আর তাঁর পেছনে আবু কাতাদাহ্ (রা)। আর কাতাদাহ্-এর পেছনে মিকদাদ কিন্দী (রা)। তাঁদেরকে দেখে মুশরিকগণ পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালাতে লাগল। আমি পাহাড় থেকে অবতরণ করলাম। আখরাম আসাদী (রা) এর ঘোড়ার লাগাম ধরে আমি বললাম, হে আখরাম! শত্রুদের ব্যাপারে সাবধান থাকবেন, ওরা যে আপনাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে না সে বিষয়ে আমি শংকামুক্ত নই। আপনি অপেক্ষা করুন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ সকলে উপস্থিত হবেন। আখরাম (রা) বললেন, হে সালামাহ্! আল্লাহ্ এবং শেষ দিবসে যদি তোমার বিশ্বাস থাকে আর তুমি যদি বিশ্বাস কর যে, জান্নাত ও জাহান্নাম সত্য তাহলে আমার মাঝে আমার শহীদ হবার মাঝে তুমি অন্তরায় হয়ো না। এরপর আমি তাঁর ঘোড়ার লাগাম ছেড়ে দিলাম। তিনি আবদুর রহমান ইব্‌ন উয়ায়নার মুখোমুখি হলেন। সে তাঁর উপর আক্রমণ করল। উভয়ের মধ্যে তরবারির আক্রমণ প্রতি আক্রমণ হল। আখরাম আহত করলেন আবদুর রহমানকে। আবদুর রহমান প্রত্যাঘাত করল আখরামকে এবং তাঁকে শহীদ করল। সে আখরাম (রা) এর ঘোড়ায় চড়ে বসল। আবু কাতাদা (রা) তাকে প্রতিরোধ করলেন। উভয়ের মধ্যে তরবারির আঘাত বিনিময় হল। সে আবু কাতাদা (রা) কে আহত করল, আবু কাতাদা (রা) তাকে হত্যা করলেন। তিনি আখরামের ঘোড়ায় চড়ে বসলেন। আমি শত্রু সেনাদলের পেছনে প্রাণপণে দৌড়াতে লাগলাম। আমি এতদূরে চলে এলাম যে, মূলমানদের পদধূলিও দেখতে পাচ্ছিলাম না। শেষ পর্যন্ত সূর্যাস্তের পূর্বে তারা কারাদ নামের পানির কূপবিশিষ্ট গিরিপথে এসে অবতরণ করল। তাঁরা পানি পান করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমন সময় তারা আমাকে দেখতে পায় যে আমি তাদেরকে তাড়া করছি। তারা ওই স্থান ছেড়ে দ্রুত ওই কূপবিশিষ্ট পাহাড়ে উঠতে থাকে। ইতিমধ্যে সূর্য অস্তমিত হয়। আমি ওদের একজনকে ধরে ফেলি। তার প্রতি তীর নিক্ষেপ করে আমি বলি
خُذْهَا أَنَا ابْنُ الْأَكْوَعِ ... وَالْيَوْمُ يَوْمُ الرضْعِ
“নে, এটি ধর, আমি আকওয়ার পুত্র, আজকের দিন নিকৃষ্ট লোকদের ধ্বংসের দিন।”
সে বলল, আকওয়ার মা ধ্বংস হোক তুমিই কি ভোর থেকে আমাদেরকে তাড়া করছ? আমি বললাম হাঁ, ওহে নিজে নিজের শত্রু। বস্তুতঃ আমি ভোরেও তাকে তীর নিক্ষেপ করেছিলাম। এবার আরেকটি তীর আমি তার দিকে নিক্ষেপ করলাম। দুটো তীর তার শরীরে ঝুলছিল। ওরা পালিয়ে যাবার সময় দুটো ঘোড়া ফেলে যায়। আমি সে দুটোকে চালিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে পৌছি। শত্রুপক্ষকে যে পানির কূপ থেকে আমি তাড়িয়েছিলাম সেই যুকারাদ স্থানে তিনি অবস্থান করছিলেন। তাঁর সাথে পাঁচশত সৈন্য ছিল। আমি যে উটগুলোকে পেছনে রেখে গিয়েছিলাম হযরত বিলাল (রা) সেগুলো থেকে কতক উট জবাই করে কলিজা ও কুঁজ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য ভাজি করছিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট পৌছি এবং তাঁকে বলি যে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)। আমাকে অনুমতি দিন, আমি সাহাবীগণের মধ্য থেকে একশত জনকে বাছাই করে নিই এবং সন্ধ্যাবেলা শত্রুদলের উপর আক্রমণ করে তাদের সকলকে হত্যা করি যাতে তাদের মধ্যে সংবাদ পৌঁছানোর মতও কেউ না থাকে। তিনি বললেন, হে সালামাহ্, তুমি কি তেমনটি করতে চাও? আমি বললাম, হাঁ, যে মহান সত্তা আপনাকে সম্মানিত করেছেন তাঁর কসম করে বলছি আমি তেমনটি করতে চাই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুখ খুলে হাসলেন যে, আমি আগুনের আলোতে তাঁর পাশের দাঁত দেখতে পেলাম। তারপর তিনি বললেন, এখন তারা গাতফান মহল্লায় আপ্যায়ন করছে। একটু পরে গাতফানী এক পুরুষ উপস্থিত হয়ে বলে যে, ওই শত্রুদল অমুক গাতফানীর নিকট গিয়েছিল। সে তাদের ভোজনের জন্যে উট জবাই করেছিল। তারা যখন উটের চামড়া খুলছিল তখন তারা উড়ন্ত পদধূলি দেখতে পায়। ফলে তারা সেগুলো ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

ভোরবেলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আজকে আমাদের শ্রেষ্ঠ অশ্বারোহী হল আবু কাতাদাহ আর শ্রেষ্ঠ পদাতিক সৈন্য হল সালামাহ্। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে অশ্বারোহী এবং পদাতিক উভয় প্রকারের যোদ্ধার বণ্টন-অংশ প্রদান করলেন। এরপর তাঁর বাহনের পেছনে যাত্রী হিসেবে তিনি আমাকে তাঁর 'আদবা' উষ্ট্রীর পেছনে তুলে নিলেন। আমরা সকলে তখন মদীনায় প্রত্যাবর্তন করছিলাম। মদীনার কাছাকাছি এসে পৌঁছার পর জনৈক আনসারী যে কোনোদিন দৌড় প্রতিযোগিতায় পরাজিত হয়নি চীৎকার করে বলছিল আমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হবার মত কেউ আছে কি? এমন কেউ কি আছে যে, মদীনায় আগে পৌঁছবার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হবে? সে একাধিকবার এই ঘোষণা দিল। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাহনের পেছনে যাত্রীরূপে ছিলাম। আমি বললাম, ওহে তুমি কি সম্মানী মানুষকে সম্মান দেখাতে আর ভদ্র মানুষকে ভয় করতে অভ্যস্ত নও? সে বলল, না- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ব্যতীত অন্য কাউকে সম্মান দেখানো কিংবা ভয় করতে আমি অভ্যস্ত নই। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ), আমার পিতা-মাতা আপনার জন্যে উৎসর্গ হোক, আপনি আমাকে অনুমতি দিন আমি ওই লোকের সাথে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হব। তিনি বললেন, মন চাইলে যাও। আমি ওকে বললাম, আমি তোমার সাথে প্রতিযোগিতায় যাচ্ছি। সে তার সওয়ারী থেকে লাফিয়ে পড়ল। আমি আমার দু' পা একত্রিত করে উষ্ট্রী থেকে নেমে পড়লাম। তারপর এক/দুই টিলা ধীরে ধীরে অগ্রসর হলাম শক্তি সঞ্চয়ের জন্যে। তারপর আমি প্রচন্ড গতিতে দৌড় দিলাম। তারপর তার নিকট গিয়ে তার ঘাড়ের মাঝখানে গুঁতো দিয়ে বললাম আল্লাহর কসম আমি তোমার আগে চলে গেলাম। আমার অবস্থা দেখে সে হেসে উঠল এবং বলল, আমি তাই ভেবেছিলাম। এভাবে আমরা সকলে মদীনা শরীফ এসে পৌছি।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
أبواب حوادث السنة السابعة

باب ما جاء فى غزوة ذى قرد وتسمى غزوة الغابة أيضاً
عن إياس بن سلمة بن الأكوع عن أبيه (2) قال قدمنا المدينة زمن الحديبية مع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فخرجنا أنا ورباح غلام رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بظهر (3) رسول الله صلى الله عليه وسلم وخرجت بفرس لطلحة بن عبيد الله كنت أريد أن أنديه (4) مع الأبل فلما كان بغلس (5) أغار عبد الرحمن بن عيينة على ابل رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وقتل راعيها وخرج يطردها هو وأناس معه فى خيل، فقلت يا رباح اقعد (6) على هذا الفرس فألحقه بطلحة وأخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قد أغير على سرحه (7) قال وقمت على تل فجعلت وجهى من قبل المدينة ثم ناديت ثلاث مرات يا صباحاه، ثم اتبعت القوم معى سيفى ونبلى فجعلت أرميهم وأعقر بهم وذلك حين يكثر الشجر فإذا رجع إلىّ فارس جلست له فى أصل الشجرة ثم رميت، فلا يقبل علىّ فارس إلا عقرت به فجعلت أرميهم وأقول (أنا ابن الأكوع ... واليوم يوم الرضع) (8) فألحق برجل منهم فأرميه وهو على راحلته فيقع سهمى فى الرجل حتى انتظمت كتفه فقلت (خذها وأنا ابن الأكوع: واليوم يوم الرضع) فاذا كنت فى الشجر أحرقتهم بالنبل فاذا تضايقت الثنايا (9) علوت الجبل فرديتهم بالحجارة، فما زال ذاك شأنى وشأنهم اتبعهم. فأرتجز حتى ما خلق الله شيئاً من ظهر رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا خلفته (10) وراء ظهرى فاستنقذته من أيديهم (11) ثم لم أزل أرميهم حتى ألقوا أكثر من ثلاثين رمحاً وأكثر من ثلاثين بردة يستخفون منها ولا يلقون من ذلك شيئاًَ إلا جعلت عليه حجارة (12) وجمعت على طريق رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى إذا امتد الضحى أتاهم عيينة بن بدر الفزارى مدداً لهم وهم فى ثنيه ضيقة ثم علوت الجبل فأنا فوقهم فقال عيينة ما هذا الذى أرى قالوا لقينا من هذا البرح (1) ما فارقنا بسحر حتى الآن وأخذ كل شئ فى أيدينا وجعله وراء ظهره، قال عيينة لولا أن هذا يرى أن وراءه طلباً لقد ترككم (2) ليقم إليه نفر منكم فقام إليه منهم أربعة وصعدوا فى الجبل فلما أسمعتهم الصوت قلت أتعرفونى؟ قالوا ومن أنت؟ قلت أنا ابن الأكوع والذى كرّم وجه محمد صلى الله عليه وسلم لا يطلبنى منكم رجل فيدركنى ولا أطلبه فيفوتنى قال رجل منهم أن أظن (3) قال فما برحت مقعدى ذلك حتى نظرت إلى فوارس رسول الله صلى الله عليه وسلم يتخللون الشجر وإذ أولهم الأخرم الأسدى وعلى أثره أبو قتادة فارس رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى أثر أبى قتادة المقداد الكندى فولىَّ المشركون مدبرين وأنزل من الجبل فأعرض للأخرم فآخذ بعنان فرسه فقلت يا أخرم ائذن القوم يعنى أحذرهم فانى لا آمن أن يقطعوك فاتئد حتى يلحق رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه، قال يا سلمة إن كنت تؤمن بالله واليوم الآخر وتعلم أن الجنة حق والنار حق فلا تحل بيني وبين الشهادة، قال فحليت عنان فرسه فيلحق بعبد الرحمن بن عيينة ويعطف عليه عبد الرحمن فاختلفا طعنتين فعقر (4) الأخرم بعبد الرحمن وطعنه عبد الرحمن فقتله، فتحول عبد الرحمن على فرس الأخرم (5) فيلحق أبو قتادة بعبد الرحمن فاختلفا طعنتين فعقر بابى قتادة وقتله أبو قتادة وتحول أبو قتادة على فرس الاخرم، ثم إنى خرجب أعدو فى أثر القوم حتى ما أرى من غبار صحابة النبى صلى الله عليه وسلم شيئاً (6) ويعرضون قبل غيبوبة الشمس إلى شعب فيه ماء قال له قرد فأرادوا أن يشربوا منه فأبصرونى أعدو وراءهم فعطفوا عنه واشتدوا فى الثنية (7) ثنية ذى بئر وغربت الشمس فألحق رجلاً (8) فأرميه فقلت (خذها وأنا ابن الأكوع: واليوم يوم الرضع) قال فقال يا ثكل أم أكوع بكرة (9) قلت نعم أى عدو نفسه، وكان الذي رميته بكرة (1) فأتبعه سهماً آخر فعلق به سهمان ويخلفون فرسين (2) فجئت بهما أسوقها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو على الماء الذى جنيتهم (3) عنه ذو قرد، فإذا نبى الله صلى الله عليه وسلم فى خمسمائة وإذا بلال قد نحر جزوراً مما خلقت فهو يشوى لرسول الله صلى الله عليه وسلم من كبدها وسنامها، فأتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله خلنى فأنتحب من أصحابك مائة فآخذ على الكفار عشوة فلا يبقى مخبر إلا قتلته، قال أكنت فاعلاً ذلك يا سلمة؟ قال نعم والذى أكرمك، فضحك رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى رأيت نواجذه (4) فى ضوء للنار ثم قال أنهم يُقرون (5) الآن بأرض غطفان، فجاء رجل من غطفان فقال مرءوا على فلان الغطفانى فنحر لهم جزوراً، قال فلما أخذوا يكشطون جلدها رأوا غبرة فتركوها وخرجوا هراباً، فلما أصبحنا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم خير فرساننا (6) اليوم أبو قتادة وخير رجالتنا (7) سلمة، فأعطانى رسول الله صلى الله عليه وسلم سهم الراجل والفارس جميعاً (8) ثم أردفنى وراءه على العضباء (9) راجعين إلى المدينة فلما كان بيننا وبينها قريباً من ضحوة وفى القوم رجل من الأنصار كان لا يُسبق جعل ينادى هل من مسابق؟ ألا رجل يسابق إلى المدينة؟ فاعاد ذلك مراراً وأنا وراء رسول الله صلى الله عليه وسلم مردفى، قلت أما تكرم كريماً ولا تهاب شريفاً؟ قال لا إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال قلت يا رسول الله بأبى أنت وأمى خلنى فلأسابق الرجل، قال إن شئت، قلت اذهب إليك فطفر (10) عن راحلته وثنيت رجلى فظفرت عن الناقة ثم انى ربطت عليها (11) شرفا أو شرفين يعنى استبقيت نفسى (12) ثم انى عدوت حتى ألحقه فاصك (13) بين كتفيه بيدى قلت سبقتك والله أو كلمة نحوها، قال وضحك وقال إن أظن (14) حتى قدمنا المدينة.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ খায়বারের যুদ্ধ প্রসঙ্গ

পরিচ্ছেদ : রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খায়বার অঞ্চলে প্রবেশ, শক্তি প্রয়োগে খায়বার বিজয় এবং বানু নাদীর ও বানু কুরায়যা গোত্রের নেতা হুয়্যাই ইব্‌ন আখতারের কন্যা সাফিয়্যাহ্ এর সাথে তাঁর বিবাহ
৩২৩. ইসমাঈল ও আবদুল আযীয থেকে বর্ণিত, হযরত আনাস (রা) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বার যুদ্ধে গমন করলেন। আমরা খায়বারের কাছাকাছি পৌঁছে শেষ রাতের অন্ধকারের মধ্যে ফজরের নামায আদায় করলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘোড়ায় চড়লেন। আবূ তালহা (রা) ওই ঘোড়ায় চড়লেন। আমি আবূ তালহার (রা) পেছন যাত্রী ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে খায়বারের গলিপথে ঢুকলেন। আমার হাঁটুদ্বয় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উরুদ্বয় স্পর্শ করছিল। তাঁর উরু থেকে কাপড় সরে গিয়েছিল। আমি তাঁর উরুর শুভ্রতা দেখতে পাচ্ছিলাম। আমরা যখন ওই জনপদে প্রবেশ করি তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন 'আল্লাহু আকবার'-খায়বার তো ধ্বংস হয়েছে-আমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের এলাকাতে প্রবেশ করি তখন সতর্ককৃত লোকদের ভোরবেলাটা মন্দ রূপ ধারণ করে।" তিনি একে একে তিনবার এ কথাটি বললেন। এ সময়টাতে লোকজন তাদের নিয়মিত কাজে বের হয়ে গিয়েছিল, আমাদেরকে দেখে তারা আতংকিত হয়ে বলল, এই যে, মুহাম্মদ (ﷺ) এসেছে অপর বর্ণনায় এসেছে যে, তারা বলেছে "মুহাম্মাদ (ﷺ) এবং তাঁর সেনাদল এসেছে।" বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমরা শক্তি প্রয়োগে খায়বার জয় করি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সকল বন্দীকে একত্রিত করলেন। এ সময়ে দিহয়া কালবী সেখানে উপস্থিত হয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, বন্দীদের মধ্য থেকে আমাকে একটি দাসী দিন"। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি একটি দাসী নিয়ে যাও। তিনি সাফিয়্যাহ বিন্তে হুয়্যাইকে নিয়ে গেলেন। এ সময়ে এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)। আপনি বানু কুরায়যা ও বানু নাদীর গোত্রের নেতা হুয়্যাইয়ের মেয়ে সাফিয়্যাকে দিহয়ার হাতে দিয়ে দিলেন। আল্লাহর কসম সে তো আপনি ব্যতীত অন্য কারো জন্যে মানানসই হবে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাফিয়্যাহ্ সহ দিহয়া (রা) কে হাজির হতে বললেন। তিনি সাফিয়্যাহকে নিয়ে উপস্থিত হলেন। তাকে দেখার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দিহয়া (রা) কে বললেন, তুমি অন্য একটি দাসী নিয়ে যাও। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাফিয়্যাকে দাসত্বমুক্ত করে নিজে বিয়ে করেন। ছাবিত বুনানী হযরত আনাসকে লক্ষ্য করে বললেন ওহে আবু হামযা, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই বিয়েতে কত টাকা দেনমোহর ধার্য করেছিলেন? আনাস (রা) বললেন, সাফিয়‍্যার দাসত্ব মুক্তিকে তিনি দেনমোহর রূপে ধার্য করেছিলেন। তিনি তাকে মুক্তি দিয়ে বিয়ে করেন। পথে এসে রাতের বেলা উম্মু সুলায়ম সাফিয়্যাকে বাসর ঘরের জন্যে সাজিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পাঠান। নব বিবাহিত রূপে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ভোর হল। ওলীমা আয়োজনে তিনি একটি কাপড় বিছিয়ে বললেন, যার নিকট যা খাদ্যদ্রব্য আছে তা এখানে এনে রাখ। কেউ পনির আনল, কেউ খেজুর আনল, কেউ ঘি আনল। কেউ ছাতু আনল। তারপর সবগুলো মিশিয়ে হাইস মিঠাই তৈরী করা হল এবং এটি ছিল এই বিয়েতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বৌভাত।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
أبواب ما جاء فى غزوة خيبر

باب كيف دخل النبى صلى الله عليه وسلم خيبر وأنها أخذت عنوة وزواجه صلى الله عليه وسلم بصفية بنت حيى بن أخطب سيد قريظة والنضير
حدثنا اسماعيل (2) ثنا عبد العزيز (3) عن أنس أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم غزا خيبر فصلينا عندها صلاة الغداة بغلس (4) فركب رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وركب أبو طلحة وأنا رديف أبى طلحة فاجرى بنا نبى الله صلى الله عليه وسلم فى زقاق خيبر وإن ركبتى لتمس فخذى نبى الله صلى الله عليه وسلم وانحسر الأزار عن فخذى نبى الله صلى الله عليه وسلم فانى لارى بياض فخذى نبى الله صلى الله عليه وسلم (5) فلما دخل القرية قال الله أكبر خربت خيبر (6) إنا إذا نزلنا بساحة قوم فساء صباح المنذرين قالها ثلاث مرات، قال وقد خرج القوم إلى أعمالهم فقالوا محمد، قال عبد العزيز (7) وقال بعض أصحابنا والخميس، قال فاصبناها عنوة (1) فجمع السبى قال فجاء دحية فقال يا نبى الله أعطنى جارية من السبى، قال اذهب فخذ جارية، قال فاخذ صفية بنت حيى فجاء رجل إلى النبى صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله أعطيت دحية صفية بنت حييى سيدة قريظة والنضير؟ والله ما تصلح إلا لك (2) فقال صلى الله عليه وآله وسلم أدعوه بها، فجاء بها فلما نظر إليها النبى صلى الله عليه وسلم قال خذ جارية من السبى غيرها (3) ثم إن نبى الله صلى الله عليه وسلم أعتقها فتزوجها فقال له ثابت (4) يا أبا حمزة ما أصدقها؟ (5) قال نفسها أعتقها وتزوجها حتى إذا كان بالطريق جهزتها أم سليم فاهدتها له من الليل وأصبح النبى صلى الله عليه وسلم عروساً فقال من كان عنده شئ فليجئ به وبسط نطعا (6) فجعل الرجل يجيء بالأقط وجعل الرجل يجيء بالتمر وجعل الرجل يجيء بالسمن قال واحسبه قد ذكر السويق قال فحاسوا (7) حيساً وكانت وليمة رسول الله صلى الله عليه وسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইয়াহুদী নেতা মারহাবের হত্যাকাণ্ড ও তার হত্যাকারী। এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মু'জিযা রয়েছে। এতে হযরত আলী ইব্‌ন আবু তালেবেরও গৌরবজনক কীর্তি রয়েছে
৩২৪. আবূ নজর, ইকরিমা ও ইয়াস ইবন্ সালামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমার পিতা (সালামাহ ইবন আকওয়া) আমাকে জানিয়েছেন যে, খায়বার দিবসে আমার চাচা আমির মারহাব ইয়াহূদীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে লিপ্ত হয়েছিলেন। মারহাব তখন বলল,
قَدْ عَلِمَتْ خَيْبَرُ أَنِّي مَرْحَبُ ... شَاكي السِّلَاحِ بَطَلٌ مُجَرَّبُ
إِذَا الْحُرُوبُ أَقْبَلَتْ تَلَهَبُ
খায়বার ভূমি জানে যে, আমি মারহাব। আমি অস্ত্র-সজ্জিত অভিজ্ঞ বীর যোদ্ধা। যুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন তার শিখাময় অগ্নিরূপ লাভ করে।
প্রত্যুত্তরে আমার চাচা আমির বলেছিলেন-
قَدْ عَلِمَتْ خَيْبَرُ أَنِّي عَامِرُ ... شَاكي السَّلَاحِ بَطَلٌ مُغَامِرُ
খায়বার ভূমি চিনে যে, আমি আমির। আমি অস্ত্রসজ্জিত যোদ্ধা আগ্রাসী নেতা।
অতঃপর তাদের দুজনের মধ্যে তরবারি বিনিময় শুরু হয়। মারহাবের তরবারির আঘাত পতিত হয় আমিরের ঢালের উপর। তিনি নীচ দিয়ে মারহাবকে আঘাতের চেষ্টা করেন। দুর্ঘটনাবশতঃ তাঁর তরবারি তাঁরই পায়ের নালাতে আঘাত করে, তাতে তাঁর পায়ের রগ কেটে যায়। এতে তিনি মারা যান। সালামাহ ইব্‌ন আকওয়া বলল, কয়েকজন সাহাবীর সাথে আমার সাক্ষাত হয়। তাঁরা বললেন আমিরের আমল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সে আত্মহত্যা করেছে। সালামাহ্ বলেন, এসময়ে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসি। আমি তখন কাঁদছিলাম। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমিরের আমলগুলো তো নষ্ট হয়ে গেল। তিনি বললেন, এ কথা কে বলেছে? আমি বললাম, আপনার কয়েকজন সাহাবী তা বলেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যারা এটা বলেছে তারা অসত্য বলেছে। আমির বরং দ্বিগুণ ছাওয়াব পাবে।
সালামা বলেন, আমির যখন খায়বার অভিযানে বের হন তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীগণকে নিয়ে যুদ্ধগীতি আবৃত্তি করেছিলেন। যুদ্ধগীত গেয়ে গেয়ে তিনি বাহনগুলো পরিচালনা করছিলেন। কাফেলাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ও ছিলেন। আমির বলছিলেন-
تَاللهِ لَوْلَا اللَّهُ مَا اهْتَدَيْنَا . وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَا
আল্লাহর কসম তিনি না থাকলে আমরা সৎপথ পেতাম না-সাদকাও করতাম না, নামাযও আদায় করতাম না।
إِنَّ الَّذِينَ قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا إِذَا أَرَادُوا فِتْنَةٌ أَبَيْنَا
যারা আমাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে তারা যখন কোন ফিতনা ও বিশৃংখলায় আমাদেরকে জড়াতে চায় আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।
وَنَحْنُ عَنْ فَضْلِكَ مَا اسْتَغْنَيْنَا . فَثَبَتِ الْأَقْدَامَ إِنْ لَا قَيْنَا
আপনার দয়া ও অনুগ্রহ থেকে আমরা কখনো বিমুখ হই না। আমরা যখন পরস্পর মুখোমুখি হব তখন আপনি আমাদের পা-গুলো অটল ও অবিচল রাখুন।
وَأَنْزِ لَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا
আপনি আমাদের প্রতি শান্তি নাযিল করুন।
আমিরের যুদ্ধ-সঙ্গীত শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এই লোক কে? উত্তরে সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমির। তিনি বললেন মহান প্রভু তোমাকে ক্ষমা করুন। বর্ণনাকারী বলেন, ইতিপূর্বে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যার জন্যেই ব্যক্তিগত ও খাসভাবে ক্ষমা কামনা করেছেন সে শাহাদাত বরণ করেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ক্ষমা প্রার্থনা বিষয়টি শুনে হযরত উমার (রা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ আমিরকে দিয়ে যদি আমাদেরকে আরো উপকৃত করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমির যুদ্ধক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেন এবং শহীদ হলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে আলী (রা) এর নিকট পাঠালেন এবং বললেন আজ আমি পতাকা দিব এমন এক ব্যক্তিকে যে আল্লাহকে এবং তাঁর রাসূলকে ভালবাসে আর আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলও তাকে ভালবাসে। আমি হযরত আলী (রা) কে নিয়ে আসছিলাম। তিনি চক্ষুরোগে ভুগছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী (রা) এর চোখে নিজের থুথু দিয়ে দেন। হযরত আলী (রা) পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। এরপর তাঁর হাতে পতাকা দিয়ে দেন। এরপর মারহাব তার উন্মুক্ত তরবারি নিয়ে বের হয় এবং বলে-
قَدْ عَلِمَتْ خَيْبَرٌ أَنِّي مَرْحَبُ … شَاكي السَّلَاحِ بَطَلٌ مُجَرَّبُ
إِذَا الْحُرُوبُ أَقْبَلَتْ تَلَهَبُ
তদুত্তরে হযরত আলী (রা) বললেন-
أَنَا الَّذِي سَمَّتْنِي أُتِي حَيْدَرَةً … كَلَيْثِ غَابَاتٍ كَرِيْهِ الْمَنْظَرَةُ
أُوفِيْهِمْ بِالصَّاعِ كَيْلَ السَّنْدَرَةُ
আমার মা আমাকে হায়দার নাম রেখেছেন। আমি হলাম গহীন বনের সিংহের ন্যায় ভীতিকর। শত্রুপক্ষের আক্রমণের শতভাগ প্রতিআক্রমণ আমি পরিচালনা করি।
তিনি অতঃপর তরবারির আঘাতে মারহাবের মাথা দ্বিখণ্ডিত করে দেন। এবং তাঁর হাতে খায়বার বিজিত হয়।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى مقتل مرحب اليهودى بطل يهود ومن قتله وفيه معجزة للنبى صلى الله عليه وسلم ومنقبة عظيمة للامام على بن أبى طالب رضى الله عنه وكرم الله وجهه
حدثنا أبو النضر) (1) قال ثنا عكرمة قال حدثنى إياس بن سلمة قال أخبرنى أبى (2) قال بارز عمى يوم خيبر مرحب اليهودى فقال مرحب
قد علمت خيبر أنى مرحب ... شاكى (4) السلاح بطل مجرب (5) إذا الحروب أقبلت تلهب فقال عمى عامر قد علمت خيبر أنى عامر شاكى السلاح بطل مغامر (6) فاختلفا ضربتين فوقع سيف مرحب فى ترس عامر وذهب يسفل له (7) فرجع السيف على ساقه قطع اكحله (8) فكانت فيها نفسه (9) قال سلمة فجئت إلى نبى الله صلى الله عليه وسلم أبكى قلت يا رسول الله بطل عمل عامر، قال من قال ذاك؟ قلت ناس من أصحابك، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم كذب من قال ذاك بل له أجره مرتين (10) أنه حين خرج إلى خيبر جعل يرتجز بأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وفيهم النبى صلى الله عليه وسلم يسوق الركاب (11) وهو يقول
تا الله لولا الله ما اهتدينا ... ولا تصدقنا ولا صلينا
إن الذين قد بغرا علينا ... إذا أرادوا فتنة أبينا
ونحن عن فضلك ما استغنينا ... فثبت الأقدام إن لاقينا
وأنزلن سكينة علينا
الله ورسوله ويحبه الله ورسوله، قال فجئت به أقوده أرمد (2) فبصق نبى الله صلى الله عليه وآله وسلم فى عينه فبرأ، ثم أعطاه الراية فخرج مرحب يخطر بسيفه فقال.
(قد علمت خيبر أنى مرحب شاكى السلاح بطل مجرب إذا الحروب أقبلت تلهب)
فقال على بن أبى طالب كرم الله وجهه ورضى الله عنه.
(أنا الذى سمتنى أمى حيدرة (3) كليث غابات كريه المنظرة أو فيهم بالصاع كيل (4) السندرة)
ففلق رأس مرحب بالسيف وكان الفتح على يديه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইয়াহুদী নেতা মারহাবের হত্যাকাণ্ড ও তার হত্যাকারী। এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মু'জিযা রয়েছে। এতে হযরত আলী ইব্‌ন আবু তালেবেরও গৌরবজনক কীর্তি রয়েছে
৩২৫. বুরায়দা আসলামী (রা) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বারবাসীদের দূর্গের নিকট গেলেন তখন তিনি যুদ্ধ-পতাকাটি হযরত উমারের (রা) হাতে দিলেন। কতক সাহাবী তাঁর সাথে অগ্রসর হন। তাঁরা খায়বারের ইয়াহূদীদের মুখোমুখি হন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন আগামীকাল এমন এক ব্যক্তিকে আমি পতাকা দিব যে আল্লাহকে এবং তাঁর রাসূলকে ভালবাসে আর আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল ও তাকে ভালবাসে। পরের দিন তিনি হযরত আলী (রা) কে ডেকে আনলেন। তখন তিনি চক্ষুরোগে ভুগছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলীর (রা) চোখে থুথু দিয়ে দেন এবং তাঁর নিকট পতাকা হস্তান্তর করেন। হযরত আলী (রা) এর সাথে কতক সাহাবী অগ্রসর হন। তাঁরা খায়বারবাসীদের মুখোমুখি হন। তাঁরা দেখতে পান যে, মারহাব ইয়াহূদী তাদের সামনে আবৃত্তি করছিল
قَدْ عَلِمَتْ خَيْبَرُ أَنِّي مَرْحَبُ ... شَاكي السَّلَاحِ بَطَلٌ مُجَرَّبُ
খায়বার ভূমি জানে যে, আমি মারহাব। আমি একজন অস্ত্রসজ্জিত অভিজ্ঞ সেনাপতি।
أَطْعَنُ أَحْيَانًا وَحِيْنًا أَضْرِبُ إِذَا اللُّيُوْتُ أَقْبَلَتْ تَلَهَبُ
কখনো আমি তরবারিতে আঘাত করি আবার কখনো করি প্রহার। সিংহ যখন এগিয়ে আসে তখন রক্তচক্ষু ধারণ করে।
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর উভয়ের মধ্যে তরবারির আঘাত বিনিময় শুরু হয়। হযরত আলী (রা) তার শিরস্ত্রাণে আঘাত করেন। তার শিরস্ত্রাণ ভেঙ্গে যায়। সৈন্যদল তাঁর আঘাতের শব্দ শুনতে পায়। শেষ পর্যন্ত হযরত আলীর (রা) নেতৃত্বে খায়বার বিজিত হয়।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى مقتل مرحب اليهودى بطل يهود ومن قتله وفيه معجزة للنبى صلى الله عليه وسلم ومنقبة عظيمة للامام على بن أبى طالب رضى الله عنه وكرم الله وجهه
عن بريدة الأسلمى) (5) قال لما نزل رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بحصن أهل خيبر أعطى رسول الله صلى الله عليه وسلم اللواء عمر ابن الخطاب رضى الله عنه ونهض معه من نهض من المسلمين فلقوا أهل خيبر (6) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لأعطين اللواء غداً رجلاً يحب الله ورسوله ويحبه الله ورسوله، فلما كان الغد دعا عليا وهو أرمد فتفل فى عينه وأعطاه اللواء ونهض الناس معه فلقى أهل خيبر وإذا مرحب يرتجز بين أيديهم وهو يقول
لقد علمت خيبر انى مرحب ... شاكى السلاح بطل مجرب
أطغن أحياناً وحيناً أضرب ... إذا الليوث أقبلت تلهب قال فاختلف هو وعلى ضربتين فضربه على هامته حتى عض السيف منها بأضراسه وسمع أهل العسكر صوت ضربته قال وما تتامّ آخر الناس مع على حتى فتح له ولهم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইয়াহুদী নেতা মারহাবের হত্যাকাণ্ড ও তার হত্যাকারী। এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মু'জিযা রয়েছে। এতে হযরত আলী ইব্‌ন আবু তালেবেরও গৌরবজনক কীর্তি রয়েছে
৩২৬. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ভৃত্য আবূ রাফি (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন হযরত আলীর (রা) হাতে পতাকা দিয়ে তাঁকে সেনাপতি করে খায়বারে পাঠালেন তখন আমরা আলী (রা) এর সাথে বের হলাম। তিনি দূর্গের কাছাকাছি পৌঁছার পর ইয়াহৃদিগণ তাঁর মুকাবিলা করার জন্য দূর্গ থেকে বের হয়ে এল। তিনি ওদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লিপ্ত হলেন। জনৈক ইয়াহুদী তাঁর উপর আক্রমণ করল। তাঁর হাত থেকে ঢালটি পড়ে গেল। দূর্গের পাশে থাকা একটি কপাট নিয়ে তিনি ঢালরূপে ব্যবহার করলেন। তিনি লড়াই করছিলেন আর ওই কপাট তাঁর ঢালরূপে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এক পর্যায়ে তাঁর হাতে মহান আল্লাহ খায়বারের বিজয় দিলেন। যুদ্ধশেষে তিনি কপাটটি হাত থেকে রেখে দিলেন। পরবর্তীতে আমি এবং অন্য সাতজন মিলে কপাটটি সরানোর জন্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু আমরা তা সেখান থেকে সরাতে পারিনি।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى مقتل مرحب اليهودى بطل يهود ومن قتله وفيه معجزة للنبى صلى الله عليه وسلم ومنقبة عظيمة للامام على بن أبى طالب رضى الله عنه وكرم الله وجهه
عن أبى رافع (1) مولى رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال خرجنا مع علىّ حين بعثه رسول الله صلى الله عليه وسلم برايته فلما دنا من الحصن خرج إليه أهله فقاتلهم فضربه رجل من يهود فطرح ترسه من يده فتناول علىّ باباً كان عند الحصن فترس به نفسه فلم يزل فى يده وهو يقاتل حتى فتح الله عليه ثم ألقاه من يده حين فرغ، فلقد رأيتنى فى فر معى سبعة أنا ثامنهم نجهد على أن نقلب ذلك الباب فما نقلبه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইয়াহুদী নেতা মারহাবের হত্যাকাণ্ড ও তার হত্যাকারী। এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মু'জিযা রয়েছে। এতে হযরত আলী ইব্‌ন আবু তালেবেরও গৌরবজনক কীর্তি রয়েছে
৩২৭. আলী (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন আমি মারহাবকে হত্যা করার পর তার কর্তিত মাথা নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হই।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى مقتل مرحب اليهودى بطل يهود ومن قتله وفيه معجزة للنبى صلى الله عليه وسلم ومنقبة عظيمة للامام على بن أبى طالب رضى الله عنه وكرم الله وجهه
عن على (2) قال لما قتلت مرحباً جئت برأسه إلى النبى صلى الله عليه وسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইয়াহুদী নেতা মারহাবের হত্যাকাণ্ড ও তার হত্যাকারী। এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মু'জিযা রয়েছে। এতে হযরত আলী ইব্‌ন আবু তালেবেরও গৌরবজনক কীর্তি রয়েছে
৩২৮. জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন যে, মারহাব ইয়াহূদী তাদের দূর্গ থেকে সশস্ত্র অবস্থায় বের হয়ে আসে এবং এই কবিতা আবৃত্তি করতে থাকে-
قَدْ عَلِمَتْ خَيْبَرُ أَنِّي مَرْحَبُ شَاكي السِّلَاحِ بَطَلٌ مُجَرَّبُ
খায়বার অঞ্চল জানে যে, আমি মারহাব। আমি একজন অস্ত্রসজ্জিত অভিজ্ঞ সেনাপতি।
أَطْعَنُ أَحْيَانًا وَحِيْنًا أَضْرِبُ إِذَا الليُوث أَقْبَلَتْ تَلَهَبُ
আমি কখনো তরবারি দিয়ে আঘাত করি আবার কখনো প্রহার করি। সিংহপাল যখন এগিয়ে আসে তখন তাদের চক্ষু আগুনে লাল হয়ে থাকে।
সে তখন এও বলছিল যে, আমাকে মুকাবিলা করার কেউ আছে কি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন একে প্রতিরোধ করার কে আছ? মুহাম্মদ ইব্‌ন মাসলামাহ্ বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) আমি আছি। আল্লাহ্ কসম, সে গতকাল আমার ভাইকে হত্যা করেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি তার মুকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়। হে আল্লাহ্ ওর বিরুদ্ধে মুহাম্মদকে সাহায্য করুন। তারা দুজনে কাছাকাছি হবার পর একটি বড় গাছ তাদের মাঝখানে এসে পড়ে। তারা একে অন্যের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে বৃক্ষের আড়ালে আশ্রয় নিতে থাকে। একজন এর আশ্রয়স্থল থেকে অন্যজন ডালগুলো কেটে ফেলতে থাকে। একপর্যায়ে গাছটি ডালপালাবিহীন কাণ্ডে পরিণত হয় এবং তারা একে অন্যের মুখোমুখি হয়। মারহাব আক্রমণ চালায় মুহাম্মদের উপর। মুহাম্মদ ঢালের সাহায্যে তা প্রতিরোধ করে। মারহাবের তরবারি মুহাম্মদের ঢালে আটকে যায়। মুহাম্মদ তা টেনে নিয়ে আসেন এবং তরবারিহীন মারহাবের ওপর আক্রমণ চালান। তিনি তাকে হত্যা করেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى مقتل مرحب اليهودى بطل يهود ومن قتله وفيه معجزة للنبى صلى الله عليه وسلم ومنقبة عظيمة للامام على بن أبى طالب رضى الله عنه وكرم الله وجهه
عن جابر بن عبد الله الأنصارى) (3) قال خرج مرحب اليهودى من حسنهم قد جمع سلاحه يرتجز ويقول
قد علمت خيبر أنى مرحب ... شاكى السلاح بطل مجرب
اطعن أحياناً وحيناً اضرب ... إذا الليوث أقبلت تلهّب
كان حلمى لحمىً لا يقرب
وهو يقول من مبارز؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم من لهذا؟ فقال محمد بن مسلمة أنه له يا رسول الله وأنا والله المأثور قتلوا أخى بالأمس (4) قال فقم إليه اللهم أعنه عليه فلما دنا أحدهما من صاحبه دخلت بينهما شجرة عمرية (5) من شجر العشر فجعل أحدهما يلوذ بها من صاحبه كلما لاذ بها منه اقتطع بسيفه ما دونه حتى برز كل واحد منهما لصاحبه وصارت بينهما كالرجل القائم ما فيها فنن (1) ثم حمل مرحب على محمد فضربه فاتقى بالدرقة فوقع سيفه فيها فعضت به فأمسكته وضربه محمد بن مسلمة حتى قتله
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইয়াহুদী নেতা মারহাবের হত্যাকাণ্ড ও তার হত্যাকারী। এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মু'জিযা রয়েছে। এতে হযরত আলী ইব্‌ন আবু তালেবেরও গৌরবজনক কীর্তি রয়েছে
৩২৯. আবদুল্লাহ্ ইবন্ মুগাফফাল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমরা খায়বারের দূর্গ অবরোধ করে রাখি। জনৈক ব্যক্তি আমাদের প্রতি একটি চর্বির মশক নিক্ষেপ করে। আমি সেটি নিতে গিয়েছিলাম। তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখতে পাই এবং লজ্জিত হই।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى مقتل مرحب اليهودى بطل يهود ومن قتله وفيه معجزة للنبى صلى الله عليه وسلم ومنقبة عظيمة للامام على بن أبى طالب رضى الله عنه وكرم الله وجهه
عن عبد الله بن مغفل (2) قال كنا محاصرين قصر خيبر فألقى إلينا رجل جراباً (3) فيه شحم فذهبت آخذه فرأيت النبى صلى الله عليه وسلم فاستحييت
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খায়বার বিজয়ের পর হাজ্জাজ ইন ইলাতের মক্কা গমন তার মালামাল আনয়নের জন্যে এবং এক্ষেত্রে কাফিরদের বিরুদ্ধে তার কূটকৌশল
৩৩০. আবদুর রায্যাক-আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খায়বার বিজয়ের পর হাজ্জাজ ইবন্ ইলাত বলেছিল ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ), মক্কায় আমার পরিবার-পরিজন ও ধনসম্পদ রয়েছে। আমি সেগুলো মদীনাতে নিয়ে আসতে চাই। এই সূত্রে আমি যদি আপনার সম্পর্কে কোন অপ্রীতিকর মন্তব্য করে ফেলি তাতে আপনি আমাকে পাকড়াও করবেন না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এ বিষয়ে অনুমতি দিলেন। সে মক্কায় তার স্ত্রীর নিকট এল এবং বলল তোমার নিকট অর্থকড়ি যা আছে তার সবটা আমাকে দিয়ে দাও। আমি মুহাম্মদ ও তার সাথীদের থেকে অর্জিত গনীমতের মালামাল ক্রয় করব। ওদেরকে তো হত্যার অবস্থা তৈরি হয়েছে। তার এ বক্তব্য মক্কায় প্রচারিত হয়ে গেল। তাতে মুসলমানগণ দিশেহারা-চিন্তিত হল। আর মুশরিকগণ আনন্দে মেতে উঠল। এ সংবাদ হযরত আব্বাস (রা) এর নিকট পৌছে। তিনি যেন হাত-পা কাটা ব্যক্তি হয়ে গেলেন। তিনি দাঁড়াতে পারছিলেন না। মা'মার বলেছেন যে, উছমান জাযারী মিকসাম সূত্রে আমাকে জানিয়েছেন যে, এক পর্যায়ে আব্বাস (রা) তাঁর কুসাম নামের পুত্রটিকে টেনে এনে নিজে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে তাকে তাঁর বুকের উপর রাখলেন এবং বলতে লাগলেন, কুছাম এগিয়ে আস! তুমি তো নে'আমতপ্রাপ্ত নবীর সদৃশ, আল্লাহ্ যাকে লাঞ্ছিত করতে চান তাঁকে দ্বারা লাঞ্ছিত করেন। ছাবিত হাজ্জাজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আনাস বলেন এরপর আব্বাস (রা) তাঁর এক ক্রীতদাসকে হাজ্জাজ ইবন ইলাতের নিকট প্রেরণ করে বললেন ওহে দুঃখ! তুমি কী সংবাদ নিয়ে এসেছ? আর তুমি কী বলছ? মহান আল্লাহ্ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা তো তোমার সংবাদের চেয়ে উত্তম। হাজ্জাজ ইবন ইলাত তাঁর ক্রীতদাসকে বললেন আবুল ফজলকে আমার সালাম জানাবে এবং বলবে তিনি যেন আমার জন্যে একটি নির্জন কক্ষ প্রস্তুত রাখেন। আমি সেখানে আসব এবং তাঁর সাথে কথা বলব। বস্তুত সংবাদ সুখকর। ভৃত্য ফিরে এসে দরজায় দাঁড়িয়ে বলল আবুল ফজল, সুসংবাদ গ্রহণ করুন। হযরত আব্বাস আনন্দে লাফিয়ে বের হলেন এবং ভৃত্যের কপালে চুমু খেলেন। হাজ্জাজের বার্তা সে তাঁকে পৌঁছাল। তিনি তাকে মুক্ত করে দিলেন। সময়মত হাজ্জাজ এল এবং জানাল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বার জয় করে নিয়েছেন। ওদের ধনসম্পদ গনীমতের মাল রূপে দখলে নিয়েছেন। আল্লাহ্ বিধান অনুযায়ী ওই মালামাল বণ্টিন হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাফিয়্যাকে নিজের জন্যে মনোনীত করে তাকে মুক্তাবস্থায় তাঁর স্ত্রী হওয়া কিংবা স্বীয় গোত্রে ফিরে যাওয়ার ইখতিয়ার দিয়েছেন। সাফিয়্যা মুক্তাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রী হতে সম্মতি দেয়। কিন্তু আমি এখানে এসেছি এখানে আমার জমাকৃত মালামাল নিয়ে যেতে। আমি যা চাই তা বলার অনুমতি চেয়েছিলাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট। তিনি আমাকে সে অনুমতি দিয়েছেন। আপনি তিনদিন আমার এই তথ্য গোপন রাখবেন এবং তারপর এ বিষয়ে আপনি যা ইচ্ছা প্রকাশ করবেন। ইতিমধ্যে তার স্ত্রী সোনাদানা-সহায় সম্পদ যা ছিল সবগুলো একত্রিত করে তার হাতে তুলে দেয়। হাজ্জাজ এগুলো নিয়ে দ্রুত চলে যায়।
তিনদিন পর হযরত আব্বাস (রা) হাজ্জাজের স্ত্রীর নিকট গমন করেন। তার স্বামীর অবস্থা জানতে চান। সে জানায় যে, সে তো ওই দিন চলে গিয়েছে। সে এও বলল, ওহে আবুল ফযল! আল্লাহ্ আপনাকে লাঞ্ছিত না করুন, আপনি যা শুনেছেন তা আমাদের নিকটও কষ্টকর মনে হয়েছে। তিনি বললেন হাঁ- তাই মহান আল্লাহ্ আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না। আল্লাহ্ শোকর যে, আমরা যা কামনা করেছি তা-ই হয়েছে। মহান আল্লাহ্ তাঁর রাসূলকে খায়বারের বিজয় দান করেছেন এবং সেখানকার ধনসম্পদে মহান আল্লাহর বণ্টন রীতি কার্যকর হয়েছে। সাফিয়্যা বিনত হুয়্যাইকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের জন্যে গ্রহণ করেছেন। এখন যদি তোমার স্বামীর সাথে মিলিত হওয়া প্রয়োজন মনে কর তবে তার সাথে গিয়ে মিলিত হও। সে বলল, আল্লাহর কসম আমি তো আপনাকে সত্যবাদী মনে করছি। তিনি বললেন আমি অবশ্যই সত্যবাদী। আমি তোমাকে যা বলেছি ঘটনা তা-ই।
এরপর হযরত আব্বাস (রা) কুরায়শদের অন্য কয়েকটি মজলিসে গেলেন। তাঁকে দেখে তারা বলেছিল আবুল ফযল! আপনার কল্যাণ হোক। উত্তরে তিনি বলেছিলেন আল্লাহর শোকর আমার কল্যাণই হয়েছে। হাজ্জাজ ইব্‌ন ইলাত আমাকে জানিয়েছে যে, মহান আল্লাহ্ তাঁর রাসূলকে খায়বারের জয় দিয়েছেন। ওদের ধন সম্পদে আল্লাহর বণ্টনরীতি কার্যকর হয়েছে। যুদ্ধবন্দী সাফিয়্যাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের জন্যে গ্রহণ করেছেন। হাজ্জাজ আমাকে অনুরোধ করেছিল বিষয়টি তিনদিন গোপন রাখার জন্যে। সে এখানে এসেছিল তার মালামাল নিয়ে যাবার জন্যে। বস্তুত সে তা নিয়ে চলে গিয়েছে। এ সংবাদে মুসলমানদের মধ্যে যে দুঃখ ছিল তা কাফিরদের উপর গিয়ে পড়ল। আর মুসলমানগণ যারা স্বেচ্ছায় গৃহবন্দী হয়েছিল তারা আনন্দ উল্লাসে বেরিয়ে এসে হযরত আব্বাস (রা) এর নিকট উপস্থিত হল। তিনি তাদেরকে ঘটনা অবহিত করলেন। তারা পুলকিত ও আনন্দিত হল। কাফিরগণ চরম দুঃখ ও পেরেশানীতে পতিত হল।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى ذهاب الحجاج بن علاط رضى الله عنه إلى مكة ليأتى بماله بعد فتح خيبر واحتياله فى ذلك على كفار قريش
حدثنا عبد الرزاق (5) ثنا معمر قال سمعت ثابتاً يحدث عن أنس (6) قال لما افتتح رسول الله صلى الله عليه وسلم خيبر قال الحجاج بن علاط يا رسول الله إن لى بمكة مالاً وإن لى بها أهلاً وإنى أريد أن آتيهم فأنا فى حل إن أنا نلت منك أو قلت شيئأً؟ (1) فأذن له رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يقول ما شاء: فأتى امرأته حين قدم فقال أجمعى لى ما كان عندك فإنى أريد أن أشترى من غنائم محمد صلى الله عليه وسلم وأصحابه فإنهم قد استبيحوا أو أصيبت أموالهم، قال ففشا ذلك فى مكة وانقمع (2) المسلمون وأظهر المشركون فرحاً وسروراً قال وبلغ الخبر العباس (رضى الله عنه) فعُقِر (3) وجعل لا يستطيع أن يقوم، قال معمر فأخبرنى عثمان الجزرى عن مقسم قال فأخذ ابناً له يقال له فثم (4) فاستلقى فوضعه على صدره وهو يقول حيى فثم (5) حيى قثم، شبيه ذى الأنف الأشم، (6) نبنى ذى النعم، (7) يرغم من رغم (8) قال ثابت عن الحجاج عن أنس ثم أرسل غلاماً إلى الحجاج بن علاط ويلك ما جئت به وماذا تقول فما وعد الله خير مما جئت به (9) قال الحجاج بن علاط لغلامه اقرأ على أبى الفضل السلام وقل له فليخل لى فى بعض بيوته لآتيه فإن الخبر على ما يسره،
فجاء غلامه فلما بلغ باب الدار قال ابشر يا أبا الفضل قال قوثب العباس فرحاً حتى قبل بين عينيه فأخبره ما قال الحجاج فأعتقه، ثم جاء الحجاج فأخبره أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قد افتتح خيبر وغنم أموالهم وجرت سهام الله عز وجل فى أموالهم واصطفى رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم صفية بنت حيي فأخذها لنفسه وخيرها أن يعتقها وتكون زوجته أوتلحق بأهلها فاختارت أن يعتقها وتكون زوجته، ولكنى جئت لمال كان لى ههنا أردت أن اجمعه فأذهب به فاستأذنت رسول الله صلى الله عليه وسلم فأذن لى أن أقول ما شئت فأخف عنى ثلاثاً ثم اذكر ما بدالك، قال فجمعت امرأته ما كان عندها من حلى ومتاع فجمعه فدفعته اليه ثم شمر به (10) فلما كان بعد ثلاث أتى العباس امرأ ة الحجاج فقال ما فعل زوجك؟ فأخبرته أنه ذهب يوم كذا وكذا وقالت لا يخزيك الله يا أبا الفضل لقد شق علينا الذى بلغك قال أجل لا يخزينى الله ولم يكن بحمد الله إلا ما أحببنا، فتح الله خيبر على رسوله صلى الله عليه وسلم وجرت فها سهام الله واصطفى رسول الله صلى الله عليه وسلم صفية بنت حيي لنفسه، فإن كانت لك حاجة فى زوجك فألحقى به، قالت أظنك والله صادقاً قال فإنى صادق: الأمر على ما أخبرتك، فذهب حتى أتى مجالس قريش وهم يقولون إذا مر بهم لا يصيبك إلا خير يا أبا الفضل، قال لهم لم يصبنى الأخير بحمد الله، قد أخبرنى الحجاج بن علاط أن خيبر قد فتحها الله على رسوله وجرت فيها سهام الله، واصطفى صفية لنفسه، وقد سألنى أن أخفى عليه ثلاثاً، وإنما جاء ليأخذ ماله وما كان له من شيء هاهنا ثم يذهب: قال فرد الله الكآبة التي كانت بالمسلمين على المشركين وخرج المسلمون ومن كان دخل بيته مكتئباً حتى أتوا العباس فأخبرهم الخبر فسر المسلمون ورد الله يعنى ما كان من كآبة أو غيظ أو حزن على المشركين
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইয়াহুদী কর্তৃক রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বিষমিশ্রিত বকরীর গোশত খেতে দেয়া এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মু'জিযা প্রকাশ
৩৩১. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, খায়বার জয় করার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট একটি বিষমিশ্রিত বকরী উপহার হিসেবে পাঠানো হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এখানে যত ইয়াহূদী আছে তাদের সবাইকে একত্রিত কর। সবাইকে একত্রিত করা হল। তিনি তাদেরকে বললেন, আমি তোমাদেরকে একটা বিষয় জিজ্ঞেস করব। তোমরা সত্য উত্তর দিবে তো? তারা বলল, হে আবুল কাসেম আমরা তা দিব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে বললেন, তোমাদের পিতা কে? তারা বলল, আমাদের পিতা অমুক। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা মিথ্যা বলেছ, তোমাদের পিতা অমুক। তারা বলল, হাঁ আপনি সত্য বলেছেন এবং পুণ্যবান হয়েছেন। তিনি বললেন আমি তোমাদেরকে অপর একটি বিষয় জিজ্ঞেস করব তোমরা সত্য উত্তর দিবে তো? তারা বলল, হাঁ তা বল, আমরা মিথ্যা বললে তো আপনি বুঝে ফেলবেন যেমনটি বুঝেছেন আমাদের পিতা সম্পর্কিত উত্তরে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, দোযখের অধিবাসী কারা? তারা বলল, আমরা অল্পকিছুদিন সেখানে থাকব তারপর আমাদের স্থলে আপনারা থাকবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি তোমাদেরকে অন্য একটি বিষয়ে জিজ্ঞেস করব তোমরা সত্য উত্তর দিবে তো? তারা বলল, হে আবুল কাসেম! আমরা সত্য উত্তরই দিব। তিনি বললেন, তোমরা কি এই বকরীর মধ্যে বিষ দিয়েছ? তারা বলল, হাঁ দিয়েছি। তিনি বললেন, কিসে তোমাদেরকে এ কাজে প্ররোচিত করেছে? তারা বলল আমরা চেয়েছিলাম যে, আপনি মিথ্যাবাদী হলে এটি খেয়ে আপনি মারা যাবেন আমরা নিস্তার পাব আর আপনি সত্যই যদি নবী হন তবে এই বিষ আপনার কোন ক্ষতি করবে না।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب خبر الشاة المسمومة التي أهداها اليهود إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ليأكل منها وظهور معجزة له
عن أبى هريرة (1) قال لما فتحت خيبر أهديت لرسول الله صلى الله عليه وسلم شاة فيها سم (2) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أجمعوا من كان ههنا من اليهود فجُمعوا له فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم إنى سائلكم عن شيء فهل أنتم صادقىّ عنه؟ قالوا نعم يا أبا القاسم، فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم من أبوكم؟ قالوا أبونا فلان، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كذبتم أبوكم فلان (3) قالوا صدقت وبررت، قال لهم هل أنتم صادقىّ عن شئ سألتكم عنه؟ قالوا نعم يا أبا القاسم وإن كذبناك عرفت كذبنا كما عرفته في أبينا، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم من أهل النار؟ قالوا نكون فيها يسيراً ثم تخلفوننا فيها، فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم لا نخلفكم فيها أبداً (4) ثم قال لهم هل أنتم صادقىّ عن شئ سألتكم عنه؟ فقالوا نعم يا أبا القاسم، فقال هل جعلتم فى هذه الشاة سماً؟ قالوا نعم، قال فما حملكم على ذلك؟ قالوا أردنا إن كنت كاذباً نستريح منك، وإن كنت نبياً لم تضرك
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইয়াহুদী কর্তৃক রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বিষমিশ্রিত বকরীর গোশত খেতে দেয়া এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মু'জিযা প্রকাশ
৩৩২. ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত যে, জনৈকা ইয়াহুদী মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একটি বিষমিশ্রিত বকরী হাদিয়া দিয়েছিল। একপর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ডেকে আনলেন এবং বললেন তুমি যা করেছ কিসে তোমাকে এ অপকর্মে প্ররোচিত করেছে? সে বলল, আমার উদ্দেশ্য ছিল যে, আপনি সত্যি সত্যি নবী হলে মহান আল্লাহ্ আপনাকে এ বিষয়ে অবহিত করবেন আর যদি নবী না হন তাহলে এতে আপনার মৃত্যু ঘটিয়ে মানুষকে আপনার হাত থেকে মুক্তি দিব। বর্ণনাকারী বলেন, পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন এই বিষের ব্যথা অনুভব করতেন তখন সিঙ্গা লাগাতেন। একবার তিনি সফরে বের হলেন এবং বিষের ব্যথা অনুভব করলেন। তখন তিনি সিঙ্গা লাগালেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب خبر الشاة المسمومة التي أهداها اليهود إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ليأكل منها وظهور معجزة له
عن ابن عباس (1) أن امرأة من اليهود (2) أهدت لرسول الله صلى الله عليه وسلم شاة مسمومة فأرسل إليها فقال ما حملك على ما صنعت؟ قالت أحببت أو أردت إن كنت نبياً فإن الله سيطلعك عليه، وإن لم تكن نبياً أريح الناس منك قال وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا وجد من ذلك شيئاً احتجم، قال فسافر مرة فلما أحرم وجد من ذلك فاحتجم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মদীনার অবশিষ্ট ইয়াহুদীদেরকে বহিষ্কার এবং খায়বার বিজয়ের পর বিশেষ কল্যাণের প্রত্যাশায় তাদেরকে সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বসবাস করতে দেয়া
৩৩৩. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন আমরা মসজিদে ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে বললেন, তোমরা ইয়াহুদীদের উদ্দেশ্যে বের হও। আমরা তাঁর সাথে যাত্রা করলাম। আমরা ওদের বিদ্যাপীঠে এলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে দাঁড়িয়ে ওদেরকে ডেকে বললেন, ইয়াহুদীগণ! তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর তাহলে নিরাপদ জীবন পাবে। তারা বলল, হে আবুল কাসেম! আপনি তো বাণী পৌছিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন আমি সেটাই বুঝাচ্ছি। তিনি তৃতীয়বারও তা বললেন। তারপর বললেন তোমরা জেনে নাও যে, জগত আল্লাহর এবং তাঁর রাসূলের। আমি চাচ্ছি তোমাদেরকে এই অঞ্চল থেকে বহিষ্কার করতে। সুতরাং এখানে যার যা মালামাল আছে তা যেন সে বিক্রি করে দেয় নতুবা জেনে নাও যে, জগৎ মহান আল্লাহর এবং তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب إجلاء من بقى من اليهود بالمدينة وإبقائهم بخيبر بعد فتحها مؤقتاً للمصلحة
عن أبى هريرة (3) قال بينما نحن فى المسجد خرج إلينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال انطلقوا إلى يهود، فخرجنا معه حتى جئنا المدارس (4) فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فناداهم يا معشر اليهود (5) أسلموا تسلموا (6) فقالوا قد بلغت يا أبا القاسم قال ذاك أريد (7) ثم قالها الثالثة فقال اعلموا أن الأرض لله (8) ورسوله وأنى أريد أن أجليكم (9) من هذه الأرض، فمن وجد منكم بماله شيئاً فليبعه (10) وإلا فاعلموا أن الأرض لله عز وجل ورسوله صلى الله عليه وسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মদীনার অবশিষ্ট ইয়াহুদীদেরকে বহিষ্কার এবং খায়বার বিজয়ের পর বিশেষ কল্যাণের প্রত্যাশায় তাদেরকে সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বসবাস করতে দেয়া
৩৩৪. ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত যে, উমার ইবন খাত্তাব (রা) ইয়াহূদীদেরকে আরব অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন খায়বার জয় করেন তখন ইয়াহূদীদেরকে সেখান থেকে বিতাড়িত করার ইচ্ছা করেছিলেন। বস্তুত বিজিত অঞ্চল আল্লাহ্, তাঁর রাসূলের এবং মুসলমানদের মালিকানাধীন হয়ে যায়। এই সূত্রে তিনি তাদেরকে বহিষ্কার করতে চেয়েছিলেন। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আবেদন করেছিল যে, তিনি যেন তাদেরকে এই শর্তে সেখানে থাকতে দেন যে, তারা খায়বারের জমিজমা চাষাবাদ করবে এবং উৎপাদিত ফলমূলের অর্ধেক তারা ভোগ করবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমরা যতদিন চাই ততদিন তোমাদেরকে এই শর্তে সেখানে থাকতে দিব। অতঃপর তারা সেখানে থাকল। অবশেষে উমার (রা) তাদেরকে সেখান থেকে তাইমা ও আরিহা অঞ্চলে বিতাড়িত করলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب إجلاء من بقى من اليهود بالمدينة وإبقائهم بخيبر بعد فتحها مؤقتاً للمصلحة
عن ابن عمر (11) أن عمر بن الخطاب أجلى اليهود والنصارى عن أرض الحجاز وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم لما ظهر على خيبر أراد إخراج اليهود منها، وكانت الأرض حين ظهر عليها لله تعالى ولرسوله وللمسلمين: فأراد إخراج اليهود منها فسألت اليهود رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يقرهم بها على أن يكفوا عملها ولهم نصف الثمر، فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم نقركم بها على ذلك ما شئنا، فقروا بها حتى أجلاهم عمر (رضى الله عنه) إلى تيماء وأريحاء
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খায়বারের ভূমি ও সম্পদ ইয়াহুদী ও মুসলমানদের মাঝে বণ্টন
৩৩৫. জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, মহান আল্লাহ্ খায়বার অঞ্চল তাঁর রাসূলকে বিনাযুদ্ধে অর্পণ করেন। ওরা যেভাবে ছিল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে সেখানে সেভাবে থাকতে দিলেন এবং ওই অঞ্চল তাঁর মাঝে ও ওদের মাঝে বণ্টন করে দিলেন। একসময় তিনি সেখানকার উৎপাদিত ফল অনুমানে মাপার জন্যে আবদুল্লাহ্ ইবন্ রাওয়াহাহকে পাঠালেন। তিনি সেগুলো অনুমানে মেপে দিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন ইয়াহূদীগণ! তোমরা আমার নিকট সর্বাধিক ঘৃণিত লোক, তোমরা আল্লাহর নবীগণকে হত্যা করেছ, আল্লাহ্ সম্পর্কে মিথ্যাচার করেছ। অবশ্য তোমাদের প্রতি আমার ঘৃণা তোমাদের প্রতি অন্যায় আচরণে আমাকে প্রভাবিত করেনি। আমি এখানে ২০,০০০ (বিশ হাজার) ওয়াসক ফল অনুমান করেছি। তোমরা চাইলে যে কোন অর্ধাংশ বেছে নিতে পার নতুনা আমি বেছে নিব। ওরা বলল, এই ন্যায়নিষ্ঠার উপর আসমান জমিন স্থির রয়েছে আমরা আমাদের অংশ নিয়ে নিলাম, আপনারা আপনাদের অংশ নিয়ে নিন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى تقسيم أموال خيبر وأرضها بينهم وبين المسلمين
عن جابر بن عبد الله (1) أنه قال أفاه الله عز وجل خيبر على رسول الله صلى الله عليه وسلم فأقرهم رسول الله صلى الله عليه وسلم كما كانوا (2) وجعلها بينه وبينهم، فبعث عبد الله بن رواحة فخرصها عليهم (3) ثم قال لهم يا معشر اليهود أنتم أبغض الخلق إلىّ قتلتم أنبياء الله (4) عز وجل وكذبتم على الله وليس يحملنى بغضى إياكم على أن أحيف عليكم (5) قد خرصت عشرين ألف وسق من تمر فإن شئتم فلكم وإن أبيتم فلى، فقالوا بهذا قامت السموات والأرض (6) قد أخذنا فاخرجوا عنا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খায়বারের ভূমি ও সম্পদ ইয়াহুদী ও মুসলমানদের মাঝে বণ্টন
৩৩৬. বুশায়র ইব্‌ন ইয়াসার থেকে বর্ণিত। তাঁর পরিচিত কতক সাহাবী উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন খায়বার জয় করলেন এবং খায়বারের ভূমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও মুসলমানদের অধিকারভুক্ত হল তখন ওই জমিজমা চাষাবাদে মুসলমানগণ দুর্বল বিবেচিত হল, তাই তিনি ওই জমিজমা ইয়াহুদীদেরকে দিয়ে দিলেন এই শর্তে যে, তারা সেগুলো চাষাবাদ ও দেখাশোনা করবে এবং উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক তারা ভোগ করবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রাপ্য অর্ধাংশকে তিনি ৩৬ অংশে ভাগ করেছিলেন। তার প্রতি অংশে ১০০ অংশ। এই সবটির অর্ধেক তিনি মুসলমানদের জন্যে বরাদ্দ করেছিলেন। এই অর্ধেকাংশের মধ্যে মুসলমানদের অংশগুলো এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অংশ অন্তর্ভুক্ত। বাকী অর্ধেকাংশ তিনি বহিরাগত প্রতিনিধিবর্গ এবং জননিরাপত্তার জন্যে নির্ধারণ করেছিলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى تقسيم أموال خيبر وأرضها بينهم وبين المسلمين
عن بُشير بن يسار (7) عن رجال من أصحاب النبى صلى الله عليه وسلم أدركهم يذكرون أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حين ظهر على خيبر وصارت خيبر لرسول اله صلى الله عليه وسلم والمسلمين ضعف عن عملها فدفعوها إلى اليهود يقومون عليها وينفقون عليها على أن لهم نصف ما خرج منها فقسمها رسول الله صلى الله عليه وسلم على ستة وثلاثين سهماً جمع كل سهم مائة سهم فجعل نصف ذلك كله للمسلمين، وكان فى ذلك النصف سهام المسلمين وسهم رسول الله صلى الله عليه وسلم معها وجعل النصف الآخر لمن ينزل عليه من الوفود والأمور ونوائب الناس
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খায়বারের ভূমি ও সম্পদ ইয়াহুদী ও মুসলমানদের মাঝে বণ্টন
৩৩৭. মুহাম্মদ ইব্‌ন আবূ মুজালিদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদকেন্দ্রিক লোকেরা আমাকে পাঠিয়েছিল ইবন্ আবী আওফার নিকট এ কথা জিজ্ঞেস করার জন্যে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বারে উৎপাদিত ফসলে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। আমি তাঁর নিকট গমন করি এবং তাঁকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক্ষেত্রে খুমুস বা 1/5 অংশ নীতি কার্যকর করেছিলেন কিনা? তিনি বললেন না। এক্ষেত্রে খুমুস নীতি কার্যকর করা হয়নি। বরং এক্ষেত্রে তারও কম অংশ তিনি গ্রহণ করেছিলেন। আমাদের কারো কোন প্রয়োজন হলে সেখান থেকে সে নিতে পারত।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى تقسيم أموال خيبر وأرضها بينهم وبين المسلمين
عن محمد بن أبى المجالد (8) قال بعثنى أهل المسجد الى ابن أبى أوفى (9) أسأله ما صنع النبى صلى الله عليه وسلم فى طعام خيبر فأتيته فسألته عن ذلك، قال وقلت هل خمسة؟ قال لا، كان أقل من ذلك، وكان أحدنا إذا أراد منه شيئاً أخذ منه حاجته
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৩৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খায়বারের লব্ধ সম্পদ বণ্টন এবং তা ছিল মূলত হুদায়বিয়া অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের জন্যে
৩৩৮. মুজাম্মা' ইব্‌ন জারিয়া আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি প্রসিদ্ধ কারী ও কুরআন পাঠকারী ছিলেন। তিনি বলেছেন, আমরা হুদায়বিয়াতে উপস্থিত ছিলাম। সেখান থেকে ফেরার পথে দেখতে পেলাম যে, লোকজন দ্রুত উট চালাচ্ছে। তখন একে অন্যকে বলল যে, ঘটনা কী? অন্যরা বলল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রতি ওহী নাযিল হচ্ছে। আমরা অন্যদের সাথে দ্রুত এগিয়ে গেলাম। কুরা-আল গামীমে গিয়ে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে মিলিত হলাম। তিনি তখন তাঁর বাহনের উপর ছিলেন। লোকজন তাঁর নিকট সমবেত হল। তিনি তাঁদের সম্মুখে পাঠ করলেন
إِنَّا فَتَحْنَالَكَ فَتْحًا مُبِينًا
নিশ্চয়ই আমি আপনাকে দিয়েছি মহা বিজয় (সূরা ফাতহঃ ১)।
জনৈক সাহাবী বলল ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! এটি কি বিজয়? তিনি বললেন "হাঁ যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম এটি অবশ্যই বিজয়। অতঃপর খায়বারে প্রাপ্ত গনীমত বা মালামাল হুদায়বিয়ায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বণ্টন করা হল। হুদায়বিয়ায় অংশগ্রহণকারীগণ ব্যতীত অন্য কেউ ওই বণ্টনের অংশ পায়নি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেগুলোকে ১৮ অংশে বিভক্ত করেছিলেন। সৈনিকের সংখ্যা ছিল ১৫০০ জন। তার মধ্যে ৩০০ জন ছিল অশ্বারোহী। তিনি অশ্বারোহীকে ২ অংশ এবং পদাতিককে এক অংশ করে দিয়েছেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب تقسيم غنيمة خيبر وأنها كانت لأهل الحديبية خاصة
عن مجمع بن جارية (1) الأنصارى رضى الله عنه وكان أحد القراء الذين قرءوا القرآن قال شهدنا الحديبية فلما انصرفنا عنها إذ الناس ينفرون الأباعر (2) فقال الناس بعضهم لبعض ما للناس؟ قالوا أحوى إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فخرجنا مع الناس نوجف (3) حتى وجدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم على راحلته عند كراع الغميم (4) واجتمع الناس إليه فقرأ عليهم {أنا فتحنا لك فتحاً مبيناً} فقال رجل من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم أي رسول الله وفتح هو؟ قال إي والذي نفس محمد بيده انه لفتح (5) فقسمت خيبر على أهل الحديبية لم يدخل معهم فيها أحد الا من شهد الحديبية فقسمها رسول الله صلى الله عليه وسلم على ثمانية عشر سهماً وكان الجيش ألفاً وخمسمائة فيهم ثلاثمائة فوارس فأعطى الفارس سهمين وأعطى الراجل سهماً
tahqiq

তাহকীক: