মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ১৫৬ টি
হাদীস নং: ১৪১
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ছয় বাক্য বিশিষ্ট বিষয় সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
১৪১. আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নারীদের বায়'য়াত গ্রহণ করার সময় এ ওয়াদা নিয়েছিলেন যে, তারা যেন মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে কান্নাকাটি না করে। তখন তারা বলে, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) জাহেলী যুগে নারীরা আমাদের মৃত ব্যক্তির শোক পালনে সহযোগিতা করতো (অর্থাৎ জাহেলী যুগে কোন নারী মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে কাঁদতে থাকলে তার প্রতিবেশী নারীরা তাকে খুশি করার জন্য তার পাশে বিলাপ করে কান্নাকাটি করতো।) ইসলামের যুগে আমরা কি তাদের সহযোগিতা করব? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ইসলামে এ ধরনের কান্নাকাটির সুযোগ নেই এবং 'শিগার' বিবাহ বৈধ নেই। (অর্থাৎ কোন ব্যক্তি নিজের কন্যাকে অন্য এক ব্যক্তির পুত্রের কাছে বিবাহ দিবে এবং তার কন্যা নিজের পুত্রের জন্য আনবে এবং এ ক্ষেত্রে কোন কনেই মোহর পাবে না। আর ইসলামে 'আকর' নেই; (জাহিলীয়াতের যুগে লোকেরা (মৃত ব্যক্তির) কবরের পাশে গিয়ে গরু বা ছাগল যবেহ করতো এ ধরনের কাজকে আকর বলা হয়। নবী (ﷺ) এরূপ করতে নিষেধ করেছেন।); এবং 'জালব'* নেই এবং 'জানব' নেই।
*যাকাত যোগ্য উট বকরী ইত্যাদি একত্রিত করার জন্য মালিককে বাধ্য করাকে ‘জালাব’ এবং যাকাত আদায়কারী থেকে এগুলিকে দূরে সরিয়ে নেয়াকে 'জানাব’ বলা হয় ।
*যাকাত যোগ্য উট বকরী ইত্যাদি একত্রিত করার জন্য মালিককে বাধ্য করাকে ‘জালাব’ এবং যাকাত আদায়কারী থেকে এগুলিকে দূরে সরিয়ে নেয়াকে 'জানাব’ বলা হয় ।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في السداسيات
عن أنس (6) قال أخذ النبي صلى الله عليه وسلم على النساء حين بايعهن أن لا ينحن فقلن يا رسول الله ان نساآ اسعدننا في الجاهلية أفنسعدهن في الاسلام؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم لا إسعاد (7) في الاسلام ولا شغار ولا عقر في الاسلام (8) ولا جلب في الإسلام ولا جنب ومن انتهب فليس منا
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪২
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ছয় বাক্য বিশিষ্ট বিষয় সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
১৪২. আবূ সা'ঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে তিনি দু'দিন রোযা রাখতে ও দুই সময় নামায পড়তে এবং দু'জন নারীকে বিবাহ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি ফযরের নামাযের পরে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পরে সূর্য অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত নামায পড়তে নিষেধ করেছেন। আর 'ঈদুল ফিতরের দিন ও 'ঈদুল আযহার দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। এবং নিজ স্ত্রীর সাথে একত্রে তার ফুফু ও খালাকে বিবাহ করতে নিষেধ করেছেন।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في السداسيات
عن أبي سعيد الخدري (2) قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم ينهى عن صيام يومين وعن صلاتين وعن نكاحين سمعته ينهى عن الصلاة بعد الصبح حتى تطلع الشمس وبعد العصر حتى تغرب الشمس (3) وعن صيام يوم الفطر والاضحى وأن يجمع بين المرأة وخالتها وبين المرأة وعمتها
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৩
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ছয় বাক্য বিশিষ্ট বিষয় সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
১৪৩. 'উলায়ম (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা ঘরের ছাদে বসা ছিলাম, এ সময় আমাদের সাথে একজন সাহাবী ছিলেন ইয়াযিদ বলেন, আমরা তাকে 'আবাস আল-গিফারী বলে চিনতাম। মানুষ মহামারীর মধ্যে বের হচ্ছিল তখন 'আবাসা বললো, হে মহামারী! আমাকে উঠিয়ে নাও। একথা তিনি তিনবার বললো তখন উলায়ম বললো, কেন এমন কথা বলছ? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি এ কথা বলেন নি যে, তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কারণ মৃত্যুর পর মানুষের আমল বন্ধ হয়ে যায়। মৃত্যুর পর সন্তুষ্টি বা অনুগ্রহ) লাভের জন্য তাকে আর দুনিয়াতে ফেরত পাঠানো হয় না। এরপর তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ছয়টি কাজ সম্পন্ন হওয়ার পূর্বে যেন তোমাদের মৃত্যু হয়। তা হলো, মূর্খ লোকেরা আমির নিযুক্ত হবে এবং দারোয়ানের সংখ্যা অধিক হবে, ফলে জুলুম নির্যাতন বৃদ্ধি পাবে। হত্যাকারী থেকে কিসাস বা বিনিময় নেয়া হবে না, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে, এমন কিছু তরুণের জন্ম হবে, যারা গানের সুরে কুরআন পাঠ করবে আর তাদের উদ্দেশ্য হবে গান গাওয়া ও আনন্দ পাওয়া। যদিও তাদের মধ্যে কম সংখ্যক লোকই কুরআন বুঝবে।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في السداسيات
عن عليم قال كنا جلوسا على سطح معنا رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم قال يزيد لا أعلمه الا عبسا الغفاري والناس يخرجون في الطاعون فقال عبس يا طاعون خذني ثلاثا يقولها فقال له عليم لم تقول هذا؟ ألم يقل رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يتمنى أحدكم الموت فإنه عند انقطاع عمله (5) ولا يرد فيستعتب (6) فقال اني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول بادروا بالموت ستا أمرة السفهاء وكثرة الشرط (7) وبيع الحكم واستخفافا بالدم (8) وقطيعة الرحم ونشئا (9) يتخذون القرآن مزامير (10) يقدمونه يغنيهم وان كان (11) أقل منهم فقها
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৪
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ছয় বাক্য বিশিষ্ট বিষয় সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
১৪৪. শাদ্দাদ আবু 'আম্মার শামী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা 'আউফ ইবন মালিক (রা) বলেন, হে মহামারী! আমাকে তোমার কাছে উঠিয়ে নাও। বর্ণনাকারী বলেন, তখন লোকেরা বললো, তুমি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুননি, তিনি বলেন, যে মুসলমান ব্যক্তিকে দীর্ঘজীবী করা হয়, তার জন্য তা কল্যাণকর। অন্য বর্ণনায় মুমিনের দীর্ঘ জীবন লাভ কল্যাণকর। তিনি বললেন, হ্যাঁ, কিন্তু আমি ছয়টি জিনিসকে ভয় করি: মূর্খ লোকের আমির নিযুক্ত হওয়া। বিচার বেচা-কেনা করা, অর্থাৎ (ঘুষ আদান প্রদান করা), দারোয়ানের সংখ্যা অধিক হওয়া, যার ফলে জুলুম নির্যাতন বৃদ্ধি পাবে। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে, গানের সুরে কুরআন পাঠ করা হবে এবং সমাজে রক্তপাত বৃদ্ধি পাবে।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في السداسيات
عن شداد أبي عمار الشامي (1) قال قال عوف بن مالك يا طاعون خذني اليك قال فقالوا اليس قد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ماعمر المسلم كان خيرا له (وفي رواية إن المؤمن لا يزيده طول العمر إلا خيرا) قال بلى ولكني اخاف ستا امارة السفهاء وبيع الحكم وكثرة الشرط وقطيعة الرحم ونشئا ينشؤون يتخذون القرآن مزامير وسفك الدم
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৫
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সাতটি বিষয় উল্লেখ করে যা বর্ণিত হয়েছে
১৪৫. ইব্ন 'আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করিম (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি জমির সীমানা ও চিহ্ন পরিবর্তন করে তার উপর আল্লাহর লা'নত, যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম ব্যতিত মূর্তির নামে জবেহ করে, তার উপর আল্লাহ্ লা'নত করেন। যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতার উপর লা'নত করে আল্লাহ তার উপর লা'নত করেন। যে ব্যক্তি নিজ মালিককে বাদ দিয়ে অন্যের সাথে সম্পর্কের দাবী করে, তার উপর আল্লাহ্ লা'নত করেন। যে ব্যক্তি সঠিক পথ থেকে অন্ধ, তার উপর আল্লাহ্ লা'নত করেন; যে ব্যক্তি জন্তুর সাথে যৌন সঙ্গম করে, তার উপর আল্লাহর লা'নত, সে ব্যক্তি লূত (আ)-এর জাতির ন্যায় কাজ করে (অর্থাৎ সমকামিতা), তার উপর আল্লাহ্ লা'নত করেন, একথা তিনি তিনবার বলেন।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في السباعيات
عن ابن عباس (2) أن نبي الله صلى الله عليه وسلم قال لعن الله من غير تخوم (3) الأرض لعن الله من ذبح لغير الله (4) لعن الله من لعن والديه لعن الله من تولى غير مواليه (5) لعن الله من كمه (6) أعمى عن السبيل لعن الله من وقع على بهيمة (7) لعن الله من عمل عمل قوم لوط ثلاثا
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৬
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: সাতটি বিষয় উল্লেখ করে যা বর্ণিত হয়েছে
১৪৬. আবু রায়হানা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের নিকট রাসূলের বাণী পৌঁছেছে যে, তিনি দাঁত ধারালো ও চিকন করা, শরীরে উল্কি অংকন করা, পাকা চুল উঠানো, শিগার বিবাহ (শিগার অর্থ মোহর না দিয়ে অদল বদল প্রথায় বিবাহ), মুকামায়া বা পুরুষে-পুরুষে ও নারী-নারীর সাথে এক কম্বলে শয়ন করা, পরচুলা ব্যবহার করা ও মুলামাসা বা স্পর্শের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় সহ সবকিছু নিষেধ করেছেন।
(মুলামাসা, বিক্রেতা ক্রেতাকে বলল: অমুক জিনিসটি স্পর্শ করলে ক্রয়-বিক্রয় বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে ক্রেতা পণ্যটি কখনও না দেখে থাকলেও তা বিক্রয় হয়ে যাবে।)
(মুলামাসা, বিক্রেতা ক্রেতাকে বলল: অমুক জিনিসটি স্পর্শ করলে ক্রয়-বিক্রয় বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে ক্রেতা পণ্যটি কখনও না দেখে থাকলেও তা বিক্রয় হয়ে যাবে।)
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في السباعيات
عن أبي ريحانة (9) أنه قال بلغنا ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الوشر (10) والوشم والنتف والمشاغرة والمكامعة والوصال والملامسة
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৭
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ: সাতটি সংখ্যা উল্লেখ করে যা এসেছে
১৪৭. মু'য়াবীয়া (রা)-এর আযাদকৃত দাস আবূ হারীয (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'য়াবীয়া (রা) হিমস, শহরে খুতবা দেয়ার সময় তিনি তার খুতবায় উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাতটি জিনিস হারাম করেছেন, আমি তোমাদেরকে তাঁর বাণী পৌঁছিয়ে দিচ্ছি এবং তোমাদেরকে তা থেকে নিষেধ করছি। সে সব কাজ হলো, মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে কান্নাকাটি করা, পরচুলা ব্যবহার করা, ছবি অংকন, সাজ সজ্জা করে নারীদের ঘর থেকে বের হওয়া, অহংকার প্রকাশ করার জন্য বাঘের চামড়া ব্যবহার করা এবং পুরুষদের স্বর্ণ ও রেশমী পোশাক পরিধান করা।
كتاب آفات اللسان
فصل منه في السباعيات المبدوءة بعدد
عن أبي حريز (1) مولى معاوية قال خطب الناس معاوية بحمص فذكر في خطبته أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حرم سبعة أشياء وإني أبلغكم ذلك وأنهاكم عنه منهن النوح (2) والشعر والتصاوير والتبرج (3) وجلود السباع (4) والذهب والحرير
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৮
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ: সাতটি সংখ্যা উল্লেখ করে যা এসেছে
১৪৮. 'আবদুল্লাহ ইবন 'আমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী করিম (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করিম (ﷺ) সাত প্রকার মৃত্যু থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চেয়েছেন। যথা- আকস্মিক মৃত্যু, সাপের কামড়ে মৃত্যু, হিংস্র জন্তুর আক্রমণে মৃত্যু, পানিতে ডুবে মৃত্যু, আগুনে পুড়ে মৃত্যু, কারও উপর কোন কিছু ভেঙ্গে পড়ে তাতে মৃত্যু এবং যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়নের সময় নিহত হওয়া।
كتاب آفات اللسان
فصل منه في السباعيات المبدوءة بعدد
عن عبد الله بن عمرو (6) عن النبي صلى الله عليه وسلم انه استعاذ من سبع موتات موت الفجأة ومن لدع الحية ومن السبع ومن الغرق ومن الحرق ومن أن يخر على شيء أو يخر عليه شيء (7) ومن القتل عند فرار الزحف
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৯
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আটটি বিষয় উল্লেখ করে যা বর্ণিত হয়েছে
১৪৯. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কারও দামের উপর দাম বলবে না, আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদ করবে না, হিংসা-বিদ্বেষ করবে না, কারো ছিদ্রান্বেষণ করবে না, কোন ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের দামের উপর দাম না করে, গ্রামের লোকদের পণ্যদ্রব্য শহরের লোকেরা বিক্রয় করবে না, লোকদেরকে স্বাভাবিক অবস্থার উপর ছেড়ে দেবে, কেননা, আল্লাহ এক দলের মাধ্যমে অপর দলের রিযিকের ব্যবস্থা করেন; আর কোন নারী যেন তার বোনের তালাকের জন্য প্রার্থনা না করে। (অর্থাৎ নিজে তার সাথে বিবাহ করার জন্য।)
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الثمانيات
عن أبي هريرة (8) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تناجشوا ولا تدابروا ولا تنافسوا ولا تحاسدوا ولا تباغضوا ولا يستام الرجل على سوم أخيه ولا يبع حاضر لباد دعوا الناس يرزق الله بعضهم من بعض ولا تشترط امرأة طلاق اختها
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫০
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আটটি বিষয় উল্লেখ করে যা বর্ণিত হয়েছে
১৫০. আবদুল্লাহ ইব্ন মাস'উদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উল্কি অংকন কারিণী এবং যে নারী উল্কি অংকন করায়, পরচুলা ব্যবহার কারিণী, তা প্রস্তুত কারিণী; তালাকপ্রাপ্তা নারীকে হালালকারী ও যার জন্য হালাল করা হয়, এবং সুদখোর, সুদদাতা, লেখক ও স্বাক্ষী এদের সকলের উপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লা'নত করেছেন।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الثمانيات
عن عبد الله (9) قال لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم الواشمة والمستوشمة والواصلة والموصلة والمحل والمحلل له وآكل الربا ومطعمه
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫১
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : আটটি বিষয় উল্লেখ করে যা বর্ণিত হয়েছে
১৫১. আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আটটি জিনিস থেকে পানাহ চেয়েছেন। সেগুলো হলো, পেরেশানি, দুশ্চিন্তা, অক্ষমতা, অলসতা, ভীরুতা, কৃপণতা, ঋণের কঠিন বোঝা এবং শত্রুর আধিপত্য।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الثمانيات
عن أنس بن مالك (2) قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتعوذ من ثمان الهم والحزن والعجز والكسل والبخل والجبن وغلبة الدين وغلبة العدو
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫২
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: দশটি বিষয় সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
১৫২. 'আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুদখোর, সুদদাতা, সুদের সাক্ষীদ্বয় ও হিসাবরক্ষক, সৌন্দর্যের জন্য উল্কি অংকনকারিণী এবং যে নারী উল্কি অংকন করায়, সাদকা অস্বীকারকারী, হালালকারী ও যার জন্য হালাল করা হয়, সকলের উপর লা'নত করেছেন। আর তিনি মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে কান্নাকাটি করতে নিষেধ করেছেন।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في العشاريات
عن علي رضي الله عنه (3) قال لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم آكل الربا وموكله وشاهديه وكاتبه والواشمة والمستوشمة للحسن ومانع الصدقة والمحال والمحلل له وكان ينهى عن النوح
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৩
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: দশটি বিষয় সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
১৫৩. শা'বী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুদখোর, সুদদাতা, সাক্ষীদ্বয় ও সুদের হিসাবরক্ষক এবং যে সব মেয়ে শরীরে উল্কি এঁকে নেয়, আর যারা এঁকে দেয়- সবাইকে লা'নত করেছেন। ইবন আউন (রা) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, যদি রোগের কারণে এঁকে থাকে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, রোগের কারণে হলে বৈধ, হালালকারী ও যার জন্য হালাল করা হয়, (অর্থাৎ কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ৩ তালাক দিয়ে অন্য ব্যক্তির কাছে এ শর্তে বিবাহ দেয় যে, সে সঙ্গম করে তাকে তালাক দিবে, তাহলে প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে।) এবং যাকাত দিতে অস্বীকারকারী, এদের উপর আল্লাহ লা'নত করেছেন। তিনি মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে কাঁদতে নিষেধ করেছেন, লা'নত শব্দটি বলেননি। 'আউফ (রা) জিজ্ঞেস করলেন, এ কথা তোমার কাছে কে বলেছে? সে বললো, হারিছ আউয়ার হামাদানী।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في العشاريات
حدثنا محمد بن أبي عدي (4) عن ابن عون عن الشعبي قال لعن محمد صلى الله عليه وسلم آكل الربا وموكله وكاتبه وشاهده والواشمة والمستوشمة قال ابن عون قلت الا من داء قال نعم (5) والحال والمحلل له ومانع الصدقة وقال وكان ينهى عن النوح ولم يقل لعن فقلت من حدثك (6) قال الحارث الأعور الهمداني
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৪
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ: দশটি সংখ্যা উল্লেখ করে যা এসেছে
১৫৪. 'আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দশটি বিষয় অপছন্দ করেছেন। পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার করা, পরিধেয় বস্ত্র পায়ের গোড়ালির নিচে পর্যন্ত ঝুলিয়ে পরিধান করা, হলুদ রং-এর পোশাক পরা, (যা বিশেষ সুগন্ধযুক্ত পোশাক), এবং পাকা চুল পরিবর্তন করা। যারীর (রা) বলেন অর্থাৎ পাকা চুল উঠানো। যৌন মিলনে যথাস্থানে বীর্য না ফেলা, 'মু'আবিযাতাইন' ব্যতিত অন্য কিছুর মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক দেয়া, (আর তাহলো- সুরা ফালাক ও সূরা নাস) দুধের সন্তানের প্রতি অন্যায় করা, (অর্থাৎ দুধের সন্তান থাকা অবস্থায় গর্ভবর্তী হওয়া। এটা দুষণীয়, তবে হারাম নয়।) এবং গলায় তাবিজ লটকানো। স্বামী ছাড়া অন্য পুরুষের সামনে রূপসজ্জা প্রকাশ করা এবং বক্ষ দেশ উঁচু করে ঘুরে বেড়ানো।
كتاب آفات اللسان
فصل منه في العشاريات المبدوءة بعدد
عن عبد الله بن مسعود (8) قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يكره عشر خلال تختم الذهب وجر الإزار والصفرة يعني الخلوق (1) وتغيير الشيب قال جرير (2) انما يعني بذلك نتفه وعزل الماء عن محله (3) والرقى إلا بالمعوذات (4) وفساد الصبي غير محرمه (5) وعقد التمائم (6) والتبرج بالزينة لغير محلها (7) والضرب بالكعاب
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৫
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ: দশটি সংখ্যা উল্লেখ করে যা এসেছে
১৫৫. মু'আয ইবন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে দশটি বিষয়ে অসিয়ত করেছেন, তিনি বলেছেন, তোমাকে যদি হত্যা করা হয় ও আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয় তারপরও তুমি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীফ করবে না। তোমার পিতা-মাতা তোমাকে সম্পদ ও পরিবার থেকে বঞ্চিত হওয়ার নির্দেশ দিলেও, তুমি তাদের অবাধ্য হবে না। ইচ্ছে করে ফরয নামায ছেড়ে দেবে না, যে ব্যক্তি ইচ্ছে করে ফরয নামায ত্যাগ করে, সে আল্লাহর নিরাপত্তা, থেকে দায়মুক্ত হয়ে যায়, কখনও মদ পান করবে না, মদপান সমস্ত অশ্লীল কাজের মূল। আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে মুক্ত থাকবে, অবাধ্যতার কারণে আল্লাহর অসন্তুষ্টি আপতিত হয়। যুদ্ধের ময়দানে থেকে পলায়ন করা থেকে সাবধান থাকবে, যদি মানুষ তোমাকে হত্যাও করে। মানুষ যখন মহামারী রোগে আক্রান্ত হয়, আর তুমি তাদের মাঝেই অবস্থান কর, তাহলে সেখানেই অবস্থান করবে। তোমার উপার্জিত মাল থেকে তোমার পরিবারের জন্য খরচ কর। পরিবারকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়ার জন্য তোমার লাঠি রেখে দেবে না, আর তাদেরকে আল্লাহর ভয় দেখাও।
كتاب آفات اللسان
فصل منه في العشاريات المبدوءة بعدد
عن معاذ (9) قال أوصاني رسول الله صلى الله عليه وسلم بعشر كلمات قال لا تشرك بالله شيئا وان قتلت وحرقت ولا تعقن والديك وان امراك أن تخريج من أهلك ومالك ولا تتركن صلاة مكتوبة متعمدا فإنه من ترك صلاة مكتوبة متعمدا فقد برئت منه ذمة الله (10) ولا تشربن خمر فإنه رأس كل فاحشة وإياك والمعصية فإن بالمعصية حل سخط الله عز وجل وإياك من الفرار يوم الزحف وان هلك الناس واذا أصاب الناس موتان (11) وأنت فيهم فأثبت وأنفق على عيالك من طولك (12) ولا ترفع عنهم عصاك أدبا وأخفهم في الله
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৬
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ: দশটি সংখ্যা উল্লেখ করে যা এসেছে
১৫৬. 'আইয়াশ ইবন 'আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। আবূ হুসায়ন তাকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন, আমি ও আমার বন্ধু আবূ আমের ইয়ামানী 'বায়তুল মাকদিসে' নামায পড়ার জন্য বের হয়েছিলাম। সেখানে আবু রায়হানা নামে এক সাহাবী তাদের ওয়ায়েজ ছিল। আবুল হুসায়ন বলেন; আমার সাথী আমার আগে আগে মসজিদের দিকে এগিয়ে গেল, আমি তাকে পেয়ে তার পাশে গিয়ে বসলাম। সে আমাকে প্রশ্ন করলো, তুমি কি আবু রায়হানার ওয়াজ শুনেছ? আমি বললাম, না। সে বললো, আমি তাকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দশটি কাজ করতে নিষেধ করেছেন। তা হলো, সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য দাঁত ঘর্ষণকরা, শরীরে উল্কি এঁকে নেয়া, সাদা চুল উপড়ে ফেলা, কোন আড়াল ছাড়া দু'জন পুরুষ একই কম্বলে; তেমনি দু'জন মহিলা একই কম্বলের নীচে ঘুমানো, যে ব্যক্তি তার পোশাকের নিচের অংশে রেশম দ্বারা নকশী করে অনারবদের মত গর্ব অহংকারের জন্য কাঁধের উপর ফেলে রাখে। তিনি বাঘের পিঠে চড়তে ও স্বর্ণের আংটি পরতেও নিষেধ করেছেন, তবে রাষ্ট্রপ্রধান হলে তার কাজের জন্য জন্য আংটি পরার অনুমতি দেন।
كتاب آفات اللسان
فصل منه في العشاريات المبدوءة بعدد
عن عياش بن عباس (13) عن أبي الحصين (14) الهيثم بن شفى أنه سمعه يقول خرجت أنا وصاحب لي يسمى أبا عامر رجل من المعافر (15) ليصلى بايلياء (16) وكان قاصهم رجلا من الأزد يقال له أبو ريحانة من الصحابة قال أبو الحصين فسبقني صاحبي إلى المسجد ثم ادركته فجلست الى جنبه فسألني هل أدركت قصص أبي ريحانة؟ فقلت لا فقال سمعته يقول نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن عشرة عن الوشر والوشم (1) والنتف وعن مكامعة الرجل الرجل بغير شعار وعن مكامعة المرأة المرأة بغير شعار وأن يجعل الرجل في أسفل ثيابه حريرا مثل الأعلام (2) وان يجعل على منكبيه (3) مثل الأعاجم وعن النهي وركوب النمور (4) ولبوس الخاتم (5) إلا لذي سلطان (6)
তাহকীক: