মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
হাদীস নং: ১৪৭
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
অনুচ্ছেদ: সাতটি সংখ্যা উল্লেখ করে যা এসেছে
১৪৭. মু'য়াবীয়া (রা)-এর আযাদকৃত দাস আবূ হারীয (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'য়াবীয়া (রা) হিমস, শহরে খুতবা দেয়ার সময় তিনি তার খুতবায় উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাতটি জিনিস হারাম করেছেন, আমি তোমাদেরকে তাঁর বাণী পৌঁছিয়ে দিচ্ছি এবং তোমাদেরকে তা থেকে নিষেধ করছি। সে সব কাজ হলো, মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে কান্নাকাটি করা, পরচুলা ব্যবহার করা, ছবি অংকন, সাজ সজ্জা করে নারীদের ঘর থেকে বের হওয়া, অহংকার প্রকাশ করার জন্য বাঘের চামড়া ব্যবহার করা এবং পুরুষদের স্বর্ণ ও রেশমী পোশাক পরিধান করা।
كتاب آفات اللسان
فصل منه في السباعيات المبدوءة بعدد
عن أبي حريز (1) مولى معاوية قال خطب الناس معاوية بحمص فذكر في خطبته أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حرم سبعة أشياء وإني أبلغكم ذلك وأنهاكم عنه منهن النوح (2) والشعر والتصاوير والتبرج (3) وجلود السباع (4) والذهب والحرير
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীছটিতে বাঘ ও অন্যান্য হিংস্র প্রাণীর চামড়াকে বিছানা বানাতে কিংবা পশুর পিঠে বিছিয়ে তার উপর সওয়ার হতে নিষেধ করা হয়েছে। সেকালে অনারবরা এটা করত। এটা এক রকম অহমিকা। বিলাসিতাও বটে। অহংকারী লোক মানুষকে দেখানোর জন্য এ জাতীয় বিলাসিতা সেকালেও করত, এখনও করে থাকে। গৌরব দেখানো ভালো নয়। বিলাসিতাও পসন্দনীয় নয়। তাই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে নিষেধ করে দিয়েছেন যে, তারা যেন বাঘ বা অন্য কোনও হিংস্র পশুর চামড়াকে বিছানা বানিয়ে তার উপর না বসে কিংবা তাতে সওয়ার না হয় অর্থাৎ তা দ্বারা সওয়ারীর জিন না বানায়। সারকথা একজন মুমিনের দৃষ্টি থাকবে সর্বদা আখিরাতের দিকে। কীভাবে আখিরাতের মুক্তিলাভ হতে পারে, তার যাবতীয় কাজকর্ম সে লক্ষ্যেই সম্পাদিত হবে। সে ভোগ-বিলাসিতায় লিপ্ত হয়ে আখিরাত থেকে উদাসীন হবে না। তার পোশাক-আশাক ও অন্যান্য ব্যবহার্য সামগ্রী হবে সাদামাটা। এসব বস্তু অতিরিক্ত দামি বা বিলাসিতাপূর্ণ হলে অন্তরে তার প্রতি ভালোবাসার সৃষ্টি হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে এগুলো মানুষের সেবক থাকে না, উল্টো মানুষ এর সেবক হয়ে যায়। এভাবে মানুষ আখিরাত থেকে উদাসীন হয়ে এসব সামগ্রী সংগ্রহ ও এর সেবাযত্নে লিপ্ত হয়ে পড়ে, যা কিনা মানবসৃষ্টির উদ্দেশ্যেরও পরিপন্থি এবং দুনিয়ার বস্তুসামগ্রী সৃষ্টির উদ্দেশ্যের সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
মুমিনদের উচিত সর্বপ্রকার বিলাসসামগ্রী ও অহমিকাজনক বস্তুর ব্যবহার থেকে বেঁচে থাকা।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
মুমিনদের উচিত সর্বপ্রকার বিলাসসামগ্রী ও অহমিকাজনক বস্তুর ব্যবহার থেকে বেঁচে থাকা।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)