মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ১৫৬ টি
হাদীস নং: ৬১
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া বিবাদ সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন
৬১. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কোন বান্দাহ পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে হাসি ঠাট্টার সময় মিথ্যা পরিত্যাগ না করে এবং সে সঠিক হওয়া সত্ত্বেও ঝগড়া করা থেকে বিরত না থাকে।
"আয়শা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, অধিকতর ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
"আয়শা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, অধিকতর ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من الجدال والمراء
عن أبي هريرة (4) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يؤمن العبد الايمان كله حتى يترك الكذب من المزاحة ويترك المراء وان كان صادقا (عن عائشة) (5) رضي الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أن أبغض الرجال إلى الله الألد الخصم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬২
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ঘুরাইয়া–ফিরাইয়া কপটভাবে কথা বলা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৬২. 'আবদুল্লাহ ইব্ন আমর (রা) নবী করিম (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যে ভাষাবিদ ব্যক্তি তার ভাষা প্রয়োগে গরুর জাবর কাটার মত অতিরঞ্জন করে তাকে আল্লাহ্ অপছন্দ করেন।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من تشقيق الكلام والتشدق فيه وما جاء في البيان في القول
عن عبد الله بن عمرو (6) عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال ان الله عز وجل يبغض البليغ من الرجال الذي يتخلل بلسانه كما تخلل (7) الباقرة بلسانها
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৩
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ঘুরাইয়া–ফিরাইয়া কপটভাবে কথা বলা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৬৩. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের নিকৃষ্ট লোকদের সম্পর্কে সংবাদ দেব না? তিনি বলেন, এরা হলো তারা, যারা অহেতুক বক্বক্ করে, ঠাট্টা বিদ্রূপের ছলে গাল পেঁচাইয়া কথা বলে। আমি কি তোমাদেরকে সর্বোত্তম লোকদের সম্পর্কে সংবাদ দিব? তারা হলো- যাদের চরিত্র সর্বোৎকৃষ্ট।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من تشقيق الكلام والتشدق فيه وما جاء في البيان في القول
عن أبي هريرة (8) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ألا أنبئكم بشراركم؟ فقال هم الثرثارون (9) المتشدقون ألا أنبئكم بخياركم احسا منكم أخلاقا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৪
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ঘুরাইয়া–ফিরাইয়া কপটভাবে কথা বলা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৬৪. মুয়াবিয়া (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যারা কবিতার মতো বকবক করে তাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লা'নত করেছেন।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من تشقيق الكلام والتشدق فيه وما جاء في البيان في القول
عن معاوية (10) قال لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين يشققون الكلام تشقيق الشعر
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৫
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ঘুরাইয়া–ফিরাইয়া কপটভাবে কথা বলা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৬৫. ইব্ন 'উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে পূর্বদেশ থেকে দু'জন বক্তা আসে এবং তারা বক্তৃতা দিয়ে বসে পড়লে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খতীব ছাবিত ইবন কায়েস (রা) দাঁড়ালেন এবং বক্তৃতা দিয়ে বসে পড়লেন। লোকেরা তাদের কথা শুনে আশ্চর্য হয়ে গেল। এরপর নবী করিম (ﷺ) দাঁড়ালেন তারপর বললেন, হে মানুষ! তোমরা তোমাদের স্বভাব সুলভ কথা বল। কারণ কথার মধ্যে জটিলতা করা শয়তানের কাজ। নবী করিম (ﷺ) বলেন, কোন কোন বক্তৃতায় যাদু রয়েছে।
তাঁর দ্বিতীয় বর্ণনায় তিনি বলেন, পূর্বদেশ থেকে দু'ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়। এরপর তারা উভয়ে এমন চমৎকার বক্তৃতা দেয় যে, লোকেরা তাজ্জব হয়ে যায়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কোন কোন বক্তৃতায় যাদু রয়েছে, অথবা কোন কোন ভাষণে রয়েছে যাদুকরী প্রভাব।
তাঁর দ্বিতীয় বর্ণনায় তিনি বলেন, পূর্বদেশ থেকে দু'ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়। এরপর তারা উভয়ে এমন চমৎকার বক্তৃতা দেয় যে, লোকেরা তাজ্জব হয়ে যায়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কোন কোন বক্তৃতায় যাদু রয়েছে, অথবা কোন কোন ভাষণে রয়েছে যাদুকরী প্রভাব।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من تشقيق الكلام والتشدق فيه وما جاء في البيان في القول
عن ابن عمر (1) قال قدم رجلان من المشرق خطيبان على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فقاما فتكلما ثم قعدا وقام ثابت بن قيس خطيب رسول الله صلى الله عليه وسلم فتكلم ثم قعد فعجب الناس من كلامهم فقام النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا أيها الناس قولوا بقولكم (2) فإنما تشقيق الكلام من الشيطان قال النبي صلى الله عليه وسلم أن من البيان سحرا (3) (وعنه من طريق ثان) (4) قال جاء رجلان من أهل المشرق إلى النبي صلى الله عليه وسلم فخطبا فعجب الناس من بيانهما فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان من البيان سحرا وان بعض البيان سحر
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৬
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ঘুরাইয়া–ফিরাইয়া কপটভাবে কথা বলা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৬৬. সুহায়ল ইবন যিরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি মায়ান ইব্ন ইয়াযিদ অথবা আবু মায়ানকে বলতে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা মসজিদে একত্রিত হও, যখন একত্রিত হবে, তখন আমাকে খবর দিবে। আমরা তখন প্রথমে উপস্থিত হলাম। তিনি আমাদের সাথে হাটতে হাটতে এসে বসে গেলেন। তখন আমাদের মাঝে একজন বক্তা বক্তৃতা দিতে উঠে দাঁড়িয়ে বললো, সকল প্রশংসা আল্লাহ্ জন্য, যার প্রশংসা করা তিনি ছাড়া আর কারো পক্ষে করা সম্ভব নয়, আর যে প্রশংসা থেকে পিছনে থাকার কোন সুযোগ নেই। অথবা এরূপ কথা বললেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাগান্বিত হয়ে উঠে পড়লেন। ফলে আমরা একে অপরকে তিরস্কার করতে লাগলাম এবং বললাম, আল্লাহ্ আমাদের সর্বপ্রথম আগমনকারী বানিয়ে আলাদা বৈশিষ্টের অধিকারী করেছেন। আল্লাহ আরো করেছেন, একথা বার বার বললেন। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসলাম। আমরা তাঁকে অমুক গোত্রের মসজিদে পেলাম, তারপর তার সাথে আমরা কথা বললাম তিনি আমাদের সাথে চলতে আরম্ভ করলেন। এবং যে বৈঠকে তিনি পূর্বে বসেছিলেন, সেখানে অথবা তার পাশে বসে পড়লেন। তারপর বললেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি যা চান অগ্রবর্তী করেন, আর যা চান পিছনে রেখে দেন, অবশ্যই কোন কোন কথায় যাদুর প্রভাব রয়েছে। তারপর তিনি আমাদের দিকে ফিরে কথা বললেন এবং আমাদেরকে শিক্ষা দিলেন।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من تشقيق الكلام والتشدق فيه وما جاء في البيان في القول
عن سهيل بن ذراع (5) أنه سمع معن بن يزيد أو أبا معن قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اجتمعوا في مساجدكم فإذا اجتمع قوم فليؤذنوني قال فاجتمعنا أول الناس فأتيناه فجاء يمشي معنا حتى جلس الينا فتكلم متكلم منا فقال الحمد الله الذي ليس للحمد دونه مقتصر وليس وراءه منفذ ونحوا من هذا فغضب رسول الله صلى الله عليه وسلم (6) فقام فتلاومنا ولام بعضنا بعضا فقلنا خصنا الله به أن أتانا أول الناس وأن فعل وفعل قال فأتيناه فوجدناه في مسجد بني فلان فكلمناه فاقبل يمشي معنا حتى جلس في مجلسه الذي كان فيه أو قريبا منه ثم قال ان الحمد لله ما شاء الله جعل بين يديه وما شاء جعل خلفه وان من البيان سحرا ثم اقبل علينا فامرنا وكلمنا وعلمنا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৭
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ঘুরাইয়া–ফিরাইয়া কপটভাবে কথা বলা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৬৭. সা'দ ইব্ন আবি ওক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ঐ সময় পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হইবে না, যে পর্যন্ত না এমন একদল লোকের আবির্ভাব হইবে যাহারা নিজের রসনার সাহায্যে এমনভাবে ভক্ষণ করিবে যেভাবে গাভী তাহার মুখের সাহায্যে ভক্ষণ করে।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من تشقيق الكلام والتشدق فيه وما جاء في البيان في القول
عن سعد بن أبي وقاص (7) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تقوم الساعة حتى يخرج قوم يأكلون بالسنتهم (8) كما يأكل البقر بألسنتها
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৮
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ঘুরাইয়া–ফিরাইয়া কপটভাবে কথা বলা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৬৮. উরওয়া ইবন যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত। 'আয়েশা (রা) তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, এক ব্যক্তি নবী করিম (ﷺ)-এর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলে তিনি বলেন, তাকে অনুমতি দাও। এ ব্যক্তি ছিল নিজের বংশের মধ্যে খুবই নিকৃষ্ট মাস্তান, অথবা নিজের বংশের মধ্যে খুবই নিকৃষ্ট লোক, একবার বললেন নিকৃষ্ট ব্যক্তি। (সে ব্যক্তি ছিল উয়াইনা ইব্ন হিসন সে সময় সে ইসলাম গ্রহণ করেনি। সেজন্য রাসূল (ﷺ) তার অবস্থা বর্ণনা করেন।) যখন সে তার নিকট প্রবেশ করে, তখন তিনি তার সাথে কোমল স্বরে কথা বলেন। সে যখন বের হয়ে গেল, 'আয়েশা বলেন, তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, লোকটি সম্পর্কে যা বলার তা বলেছেন, তারপর তার সাথে কোমল স্বরে কথা বলেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে 'আয়েশা, মানুষ যাকে অশ্লীলতা ও কুকর্মের কারণে বর্জন করে, বা পরিত্যাগ করে, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বলে গণ্য হবে।
(অন্য শব্দে) নিকৃষ্ট মানুষ হলো- যাদের কুকর্ম থেকে বাচার জন্য তাদেরকে সম্মান করা হয়।
(অন্য শব্দে) নিকৃষ্ট মানুষ হলো- যাদের কুকর্ম থেকে বাচার জন্য তাদেরকে সম্মান করা হয়।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من تشقيق الكلام والتشدق فيه وما جاء في البيان في القول
عن عروة بن الزبير (1) أن عائشة رضي الله عنها اخبرته ان رجلا استأذن على النبي صلى الله عليه وسلم فقال ائذنوا له فبئس ابن العشيرة أو بئس أخو العشيرة وقال مرة رجل (2) فلما دخل عليه ألان له القول فلما خرج قالت عائشة له الذي قلت ثم النت له القوم فقال أي عائشة شر الناس منزلة عند الله يوم القيامة من ودعه الناس أو تركه الناس اتقاء فحشه (وفي لفظ) ان من شرار الناس أو شر الناس الذين يكرمون اتقاء شرهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৯
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ঘুরাইয়া–ফিরাইয়া কপটভাবে কথা বলা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৬৯. 'আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী করিম (ﷺ)-এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ ব্যক্তি নিজের বংশের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট সন্তান। যখন সে প্রবেশ করলো, তখন রাসূল তাকে দেখে আনন্দিত ও উৎফুল্ল হলেন। এরপর সে বের হয়ে গেল। তারপর তিনি দ্বিতীয় এক ব্যক্তিকে প্রবেশের অনুমতি দিলেন তখন তিনি বললেন, এ ব্যক্তি নিজের বংশের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম সন্তান। যখন সে প্রবেশ করলো, তখন তিনি তার প্রতি সেভাবে আনন্দিত হলেন না, যেভাবে প্রথম ব্যক্তির প্রতি হয়েছিলেন এবং তার প্রতি খুশি হননি, যেভাবে ঐ ব্যক্তির প্রতি হয়েছিলেন। সে যখন বের হয়ে গেল, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনার কাছে অমুক ব্যক্তি প্রবেশের অনুমতি চাইলো, তারপর আপনি তার সম্পর্কে যা বলার- তা বললেন এবং তাকে দেখে আনন্দ ও উৎফুল্ল প্রকাশ করলেন। অপর ব্যক্তিকে যা বলার তা বললেন, কিন্তু প্রথম ব্যক্তিকে দেখে যেভাবে আনন্দ ও প্রফুল্ল হলেন, তাকে দেখে সেভাবে হলেন না, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে 'আয়েশা! নিকৃষ্ট ব্যক্তি হলো সে, যার কুকর্ম থেকে বেঁচে থাকার জন্য তাকে পরিত্যাগ করা হয়।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من تشقيق الكلام والتشدق فيه وما جاء في البيان في القول
عن أبي يونس مولى عائشه (3) عن عائشة رضي الله عنها قالت استأذن رجل على النبي صلى الله عليه وسلم فقال بئس ابن العشيرة فلما دخل هش له (4) رسول الله صلى الله عليه وسلم وانبسط اليه ثم خرج ثم خرج فاستأذن رجل آخر فقال النبي صلى الله عليه وسلم نعم ابن العشيرة فلما دخل لم ينبسط اليه كما انبسط الى الآخر ولم يهش له كما هش فلما خرج قلت يا رسول الله استأذن فلان فقلت له ما قلت ثم هششت له وانبسطت اليه وقلت لفلان ما قلت ولم أرك صنعت به ما صنعت للآخر فقال يا عائشه إن من شرار الناس من اتقى لفحشه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭০
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: অশ্লীল, মিথ্যা অথবা আল্লাহ থেকে দূরে রাখে এমন বিষয় নিয়ে কবিতা থেকে ভীতি প্রদর্শন করা
৭০. সা'দ ইব্ন আবু ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কবিতায় কোন ব্যক্তির পেট ভরার চেয়ে তা পুঁজে পরিপূর্ণ হয়ে পঁচে যাওয়াও অধিক উত্তম।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من الشعر ان كان فيه فحش أو كذب او انشغال عن الله
عن سعد (5) (يعني بن أبي وقاص) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا يمتلئ جوف أحدكم قيحا حتى يريه (6) خير من أن يمتلئ شعرا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭১
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: অশ্লীল, মিথ্যা অথবা আল্লাহ থেকে দূরে রাখে এমন বিষয় নিয়ে কবিতা থেকে ভীতি প্রদর্শন করা
৭১. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী করিম (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من الشعر ان كان فيه فحش أو كذب او انشغال عن الله
وعن أبي هريرة (1) عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭২
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: অশ্লীল, মিথ্যা অথবা আল্লাহ থেকে দূরে রাখে এমন বিষয় নিয়ে কবিতা থেকে ভীতি প্রদর্শন করা
৭২. ইবন 'উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, নবী করিম (ﷺ) বলেছেন, কবিতায় তোমাদের কারো পেট ভরার চেয়ে পুঁজে পরিপূর্ণ হওয়া অধিক উত্তম
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من الشعر ان كان فيه فحش أو كذب او انشغال عن الله
عن ابن عمر (2) قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لأن يمتلئ جوف أحدكم قيحا خير له من أن يمتلئ شعرا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৩
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: অশ্লীল, মিথ্যা অথবা আল্লাহ থেকে দূরে রাখে এমন বিষয় নিয়ে কবিতা থেকে ভীতি প্রদর্শন করা
৭৩. আবু সা'ঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে আরজ নামক স্থানে ভ্রমণ করছিলাম, এ সময় একজন কবি অশ্লীল কবিতা পাঠ করছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, শয়তানকে ধর, অথবা শয়তানকে পাকড়াও কর। কবিতায় কোন ব্যক্তির পেট ভরার চেয়ে তা পুঁজে পরিপূর্ণ হওয়া অধিক উত্তম।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من الشعر ان كان فيه فحش أو كذب او انشغال عن الله
عن أبي سعيد الخدري (3) قال بينما نحن نسير مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بالعرج (4) إذ عرض شاعر ينشد فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم خذو الشيطان أو امسكوا الشيطان (5) لأن يمتلئ جوف رجل قيحا خير له من أن يمتلئ شعرا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৪
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: অশ্লীল, মিথ্যা অথবা আল্লাহ থেকে দূরে রাখে এমন বিষয় নিয়ে কবিতা থেকে ভীতি প্রদর্শন করা
৭৪. আবূ নাওফাল (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি 'আয়েশা (রা) কে প্রশ্ন করেছিলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট কি একজন আরেকজন কবিতা শুনতো? তিনি বলেন, এ ধরনের কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট সবচেয়ে অপছন্দনীয় ছিল।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من الشعر ان كان فيه فحش أو كذب او انشغال عن الله
عن أبي نوفل بن أبي عقرب (6) قال سألت عائشه هل كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتسامع عنده الشعر؟ قالت كان أبغض الحديث اليه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৫
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: অশ্লীল, মিথ্যা অথবা আল্লাহ থেকে দূরে রাখে এমন বিষয় নিয়ে কবিতা থেকে ভীতি প্রদর্শন করা
৭৫. শাদ্দাদ ইব্ন আউস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইশার নামাযের শেষে কবিতা রচনা করে তার সে রাতের নামায কবুল করা হয় না।
মুসনাদ আহমদ, তাবরানী
মুসনাদ আহমদ, তাবরানী
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من الشعر ان كان فيه فحش أو كذب او انشغال عن الله
عن شداد بن أوس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من قرض (10) بيت شعر بعد العشاء الآخرة لم تقبل له صلاة تلك الليلة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৬
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শরীয়তের কল্যাণে কবিতা জায়েয
৭৬. কা'ব ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কবিতার দ্বারা মুশরিকদেরকে ব্যঙ্গ কর। মুমিন তার যবান ও মাল দিয়ে জিহাদ করে। যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ তার শপথ করে বলছি, তা তার প্রতি তীর নিক্ষেপের সমতুল্য।
তাঁর দ্বিতীয় বর্ণনায় তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তিনি নবীজিকে বলেছেন, কবিতার ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলা যা অবতীর্ণ করার তা করেছেন। তখন নবী করিম (ﷺ) বলেছেন, মুমিন তলোয়ার ও যবান দিয়ে জিহাদ করে। যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তাঁর শপথ করে বলছি। কবিতার মাধ্যমে তাদের প্রতি যা নিক্ষেপ করা হয়, তা তোমাদের তীর নিক্ষেপের মতই।
তাঁর তৃতীয় বর্ণনায় কা'ব ইবন মালিক বলেন, যখন কবিতা সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা যা অবতীর্ণ করার, তা করেছেন, তখন সে নবী করিম (ﷺ)-এর নিকট এসে বললো, আল্লাহ্ তা'আলা কবিতার সম্পর্কে যা অবতীর্ণ করেছেন, তা আপনি অবশ্যই জানেন, আপনি ব্যাপারটি কিভাবে দেখেন? তখন নবী করিম (ﷺ) বললেন, একজন মুমিন তার তলোয়ার ও যবান দিয়ে যুদ্ধ করে।
তাঁর দ্বিতীয় বর্ণনায় তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তিনি নবীজিকে বলেছেন, কবিতার ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলা যা অবতীর্ণ করার তা করেছেন। তখন নবী করিম (ﷺ) বলেছেন, মুমিন তলোয়ার ও যবান দিয়ে জিহাদ করে। যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তাঁর শপথ করে বলছি। কবিতার মাধ্যমে তাদের প্রতি যা নিক্ষেপ করা হয়, তা তোমাদের তীর নিক্ষেপের মতই।
তাঁর তৃতীয় বর্ণনায় কা'ব ইবন মালিক বলেন, যখন কবিতা সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা যা অবতীর্ণ করার, তা করেছেন, তখন সে নবী করিম (ﷺ)-এর নিকট এসে বললো, আল্লাহ্ তা'আলা কবিতার সম্পর্কে যা অবতীর্ণ করেছেন, তা আপনি অবশ্যই জানেন, আপনি ব্যাপারটি কিভাবে দেখেন? তখন নবী করিম (ﷺ) বললেন, একজন মুমিন তার তলোয়ার ও যবান দিয়ে যুদ্ধ করে।
كتاب آفات اللسان
باب ما يجوز من الشعر لمصلحة شرعية
عن عبد الرحمن بن عبد الله بن كعب عن كعب بن مالك (1) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اهجوا المشركين بالشعر ان المؤمن يجاهد بنفسه (2) وماله والذي نفس محمد بيده كأنما ينضحوهم (3) بالنبلى (وعنه من طريق ثان) (4) عن أبيه أنه قال قال النبي صلى الله عليه وسلم ان الله عز وجل قد أنزل في الشعر ما أنزل فقال إن المؤمن يجاهد بسيفه ولسانه والذي نفس محمد بيده لكأن ما ترمونهم به نضح النبل (5) (وعنه من طريق ثالث) (6) ان كعب بن مالك حين انزل الله تبارك وتعالى في الشعر ما أنزل اتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال ان الله تبارك وتعالى قد أنزل في الشعر ما قد علمت وكيف ترى فيه؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم ان المؤمن يجاهد بسيفه ولسانه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৭
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শরীয়তের কল্যাণে কবিতা জায়েয
৭৭. উবাই ইব্ন কা'ব (রা) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় কোন কোন কবিতায় জ্ঞান ও প্রজ্ঞার কথাও থাকে।
كتاب آفات اللسان
باب ما يجوز من الشعر لمصلحة شرعية
عن أبي بن كعب (1) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان من الشعر حكمة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৮
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শরীয়তের কল্যাণে কবিতা জায়েয
৭৮. ইব্ন 'আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কোন কোন কবিতায় অবশ্যই প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা থাকে, কোন কোন বক্তৃতায় যাদু রয়েছে, অন্য শব্দে কোন কোন কথায় যাদু রয়েছে।
كتاب آفات اللسان
باب ما يجوز من الشعر لمصلحة شرعية
عن ابن عباس (3) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أن من الشعر حكما (4) ومن البيان سحرا (5) وفي لفظ وان من القول سحرا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৯
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শরীয়তের কল্যাণে কবিতা জায়েয
৭৯. 'আবদুল্লাহ ইব্ন 'আমর ইবন 'আস (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, যদি আমি 'তিরয়াক' (এক প্রকার হারাম দ্রব্য মিশানো ঔষধ) পান করি, তাবিজ লটকাই অথবা নিজের পক্ষ থেকে বানিয়ে কবিতা আবৃত্তি করি, তাহলে আমি কি নিয়ে এসেছি, আর কি জন্য এত কষ্ট করছি এগুলোর কোন মূল্যই রইলো না।
كتاب آفات اللسان
باب ما يجوز من الشعر لمصلحة شرعية
عن عبد الله بن عمرو بن العاص (6) قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ما أبالي ما أتيت (7) وما ركبت اذا انا شربت ترياقا وتعلقت تميمة أو قلت الشعر من قبل نفسي
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮০
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: লাবীদ ও উমাইয়া ইব্ন আবু সলতের কবিতা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
৮০. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। একদা নবী করিম (ﷺ) মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলেন, আরবরা যেসব কবিতা বলেছে তার মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ কবিতা হলো,
الا كل شيء ما خلا الله باطل
অর্থাৎ আল্লাহ্ ছাড়া সবকিছু বাতিল তথা ধ্বংস হয়ে যাবে।
রাসূল আরো বলেছেন, উমাইয়া ইব্ন আবু সলত তো প্রায় ইসলাম কবুল করেই ফেলেছিল।
তাঁর দ্বিতীয় বর্ণনায় নবী করিম (ﷺ) বলেন, কবিদের কথার মধ্যে সবচেয়ে সত্য কথা যাতে বলা হয়েছে, "জেনে রাখ। আল্লাহ্ ছাড়া যাবতীয় উপাস্যই বাতিল।”
الا كل شيء ما خلا الله باطل
অর্থাৎ আল্লাহ্ ছাড়া সবকিছু বাতিল তথা ধ্বংস হয়ে যাবে।
রাসূল আরো বলেছেন, উমাইয়া ইব্ন আবু সলত তো প্রায় ইসলাম কবুল করেই ফেলেছিল।
তাঁর দ্বিতীয় বর্ণনায় নবী করিম (ﷺ) বলেন, কবিদের কথার মধ্যে সবচেয়ে সত্য কথা যাতে বলা হয়েছে, "জেনে রাখ। আল্লাহ্ ছাড়া যাবতীয় উপাস্যই বাতিল।”
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في شعر لبيد وأمية بن أبي الصلت
عن أبي هريرة (1) عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال على المنبر اشعر بيت قالته العرب (2) (الاكل شيء ما خلا الله باطل) (3) وكاد أمية بن أبي الصلت ان يسلم (وعنه من طريق ثان) (4) عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال اصدق بيت قال الشاعر (الاكل شيء الخ
তাহকীক: