মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ১৫৬ টি
হাদীস নং: ২১
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : গীবত ও অপবাদ সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন
২১. জাবির ইবন 'আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম, তখন মৃতদেহের দুর্গন্ধের বাতাস বইতে ছিল। সে সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা কি জান, এটা কিসের দুর্গন্ধ? এটা হলো যারা মু'মিনদের গীবত করে, তাদের দুর্গন্ধ।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من الغيبة والبهت
عن جابر بن عبد الله (1) قال كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم فارتفعت ريح جيفة منتنة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم اتدرون ما هذه الريح؟ هذه ريح الذين يغتابون المؤمنين
তাহকীক:
হাদীস নং: ২২
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : গীবত ও অপবাদ সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন
২২. আসমা বিনতে ইয়াযিদ (রা) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। নবী করিম (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি গীবত করা থেকে তার ভাইয়ের গোশত রক্ষা করে, তার বিনিময়ে আল্লাহর দায়িত্ব হলো তাকে দোযখ থেকে মুক্ত করা।
ইবন 'উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি কোন মুমিন সম্পর্কে এমন কথা বলে, যেটা তার মধ্যে নেই, আল্লাহ্ তাকে দোযখবাসীদের শরীর থেকে নির্গত রক্ত ও পুঁজের মাঝে বসবাস করাবেন, যতক্ষণ না সে তওবা করে তার কথা প্রত্যাহার করে নেয়।
ইবন 'উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি কোন মুমিন সম্পর্কে এমন কথা বলে, যেটা তার মধ্যে নেই, আল্লাহ্ তাকে দোযখবাসীদের শরীর থেকে নির্গত রক্ত ও পুঁজের মাঝে বসবাস করাবেন, যতক্ষণ না সে তওবা করে তার কথা প্রত্যাহার করে নেয়।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من الغيبة والبهت
عن أسماء بنت يزيد (2) عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من ذب عن لحم أخيه في الغيبة كان حقا على الله أن يعتقه من النار (عن ابن عمر) (3) قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من قال في مؤمن ما ليس فيه أسكنه الله ردغة الخبال حتى يخرج مما قال
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৩
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: চোগলখুরী করা থেকে ভীতি প্রদর্শন
২৩. হুযায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من النميمة
عن حذيفة (4) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يدخل الجنة (5) قتات
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: চোগলখুরী করা থেকে ভীতি প্রদর্শন
২৪. 'আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করিম (ﷺ) বলেন, আমি কি তোমাদেরকে জানাব না যে, 'আদ্হ' কী? তা হলো- চোগলখুরী করে মানুষের মধ্যে কথা ছড়ানো। মুহাম্মদ (ﷺ) বলেন, কোন মানুষ সত্য কথা বলতে থাকলে, আল্লাহ্ তাকে সত্যবাদীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নেন। আর কোন লোক মিথ্যা বলতে থাকলে, আল্লাহ্ তাকে মিথ্যাবাদীদের তালিকাভুক্ত করেন।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من النميمة
عن عبد الله (6) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال الا انبئكم ما العضه؟ قال هي النميمة القالة بين الناس وان محمد صلى الله عليه وسلم قال إن الرجل يصدق حتى يكتب صديقا ويكذب حتى يكتب كذابا
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৫
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: চোগলখুরী করা থেকে ভীতি প্রদর্শন
২৫. আসমা বিনতে ইয়াযিদ আনসারী (রা) থকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের উত্তম ব্যক্তিদের সম্পর্কে সংবাদ দেব না? তারা বললো, অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। তিনি বললেন, তারা হলো ঐ সকল লোক যাদেরকে তোমরা যখন দেখ, তখন আল্লাহর কথা স্মরণ হয়। এরপর তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের অসৎ লোকদের সম্পর্কে সংবাদ দেব না? তারা হলো- যারা চোগলখুরী করে পরস্পরের ভালবাসা নষ্ট করে বেড়ায় এবং পূত–পবিত্র লোকদের প্রতি অপবাদ আনিতে প্রয়াস পায়।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من النميمة
عن أسما بنت يزيد (7) الانصارية أن النبي صلى الله عليه وسلم قال الا اخبركم بخياركم؟ قالوا بلى يا رسول الله قال الذين اذا رؤا ذكر الله تعالى ثم قال ألا أخبركم بشراركم؟ المشاؤون بالنميمة المفسدون بين الأحبة الباغون البرآء العنت (8)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: চোগলখুরী করা থেকে ভীতি প্রদর্শন
২৬. ইব্ন 'আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলেন, এ দু'ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। তবে কোন বড় গুনাহের কারণে তাদের শাস্তি হচ্ছে না। তাদের একজন পেশাব থেকে বেঁচে থাকতো না, আর অন্যজন চোগলখুরী করে বেড়াত।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من النميمة
عن ابن عباس (1) قال مر النبي صلى الله عليه وسلم بقبرين فقال إنهما ليعذبان وما يعذبان في كبير أما أحدهما فكان لا يستنزه من البول قال وكيع من بوله وأما الآخر فكان يمشي بالنمميمة
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: চোগলখুরী করা থেকে ভীতি প্রদর্শন
২৭. ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাথীদের উদ্দেশ্য বলেন, আমার সাহাবীদের কেউ যেন আমার কাছে অন্য কারো দোষ বর্ণনা না করে। কেননা আমি চাই, যখন তোমাদের কাছে আমি আসব, তখন যেন পরিষ্কার হৃদয় মন নিয়ে আসতে পারি। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে কিছু সম্পদ নিয়ে আসা হলে, তিনি তা বন্টন করে দেন। তারপর আমি যখন, দু'ব্যক্তির নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলাম, তখন তাদের একজন তার সাথীকে বললো, আল্লাহর শপথ, বণ্টনের সময় মুহাম্মদের আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালের উদ্দেশ্য ছিল না। আমি এ ব্যাপারে তাদের মুখ থেকে সে কথা শুনলাম, তা নিশ্চিত হলাম। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে তাকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি আমাদের বলেছিলেন, আমার সাহাবীদের কেউ যেন আমার কাছে অন্য কারো দোষ বর্ণনা না করে। আমি অমুক অমুক ব্যক্তির কাছ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তারা উভয়ে এমন এমন কথা বলেছে। তিনি বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেহারা রক্তবর্ণ হয়ে গেল এবং তিনি কষ্ট পেলেন। তিনি বললেন, ছাড়ো এটা, মূসা (আ) কে তাঁর জাতির লোকেরা এর চেয়ে বেশী কষ্ট দিয়েছিল। তারপরও তিনি সবর করেছেন।
তাঁর দ্বিতীয় বর্ণনায় তিনি বলেন, আনসারদের এক ব্যক্তি কথা বলার সময় রাসূল (ﷺ)-এর বিষয়ে বাজে কথা বলে। আমি রাসূল (ﷺ)-কে এ সংবাদ না জানিয়ে স্থির থাকতে পারলাম না। যদি আমার সম্পদ ও পরিবার এর বিনিময়ে দিতে হতো, তাও দিতে আমি প্রস্তুত ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, মূসা (আ) এর চেয়ে বেশী কষ্ট পেয়েও ধৈর্য অবলম্বন করেছেন। এরপর তিনি আমাদের জানালেন যে, একজন নবী যখন আল্লাহর নির্দেশ নিয়ে আসলেন, তখন তাঁর জাতি তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো এবং তাকে রক্তাক্ত করলো, তখন তিনি তার রক্ত মুছতেছিলেন আর বলতেছিলেন, হে আল্লাহ্। আমার জাতিকে ক্ষমা কর, তারা জানে না।
তাঁর দ্বিতীয় বর্ণনায় তিনি বলেন, আনসারদের এক ব্যক্তি কথা বলার সময় রাসূল (ﷺ)-এর বিষয়ে বাজে কথা বলে। আমি রাসূল (ﷺ)-কে এ সংবাদ না জানিয়ে স্থির থাকতে পারলাম না। যদি আমার সম্পদ ও পরিবার এর বিনিময়ে দিতে হতো, তাও দিতে আমি প্রস্তুত ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, মূসা (আ) এর চেয়ে বেশী কষ্ট পেয়েও ধৈর্য অবলম্বন করেছেন। এরপর তিনি আমাদের জানালেন যে, একজন নবী যখন আল্লাহর নির্দেশ নিয়ে আসলেন, তখন তাঁর জাতি তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো এবং তাকে রক্তাক্ত করলো, তখন তিনি তার রক্ত মুছতেছিলেন আর বলতেছিলেন, হে আল্লাহ্। আমার জাতিকে ক্ষমা কর, তারা জানে না।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من النميمة
عن ابن مسعود (2) رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لاصحابه لا يبلغني أحد عن أحد من أصحابي شيئا فإني أحب أن أخرج اليكم وأنا سليم الصدر قال وأتى رسول الله صلى الله عليه وسلم مال فقسمه قال فمررت برجلين واحدهما يقول لصاحبه والله ما أراد محمد بقسمته وجه الله ولا الدار الآخرة فتثبت حتى سمعت ما قالا ثم أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله إنك قلت لنا لا يبلغني أحد عن أحد أصحابي شيئا واني مررت بفلان وفلان وهما يقولان كذا وكذا قال فاحمر وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم وشق عليه ثم قال دعنا منك فقد أوذي موسى أكثر من ذلك ثم صبر (وعنه من طريق ثان) (3) قال تكلم رجل من الانصار كلمة فيها موجدة على النبي صلى الله عليه وسلم فلم تقرني نفسي أن أخبرت بها النبي صلى الله عليه وسلم فلوددت أني افتديت منها بكل أهل ومال فقال قد آذوا موسى عليه الصلاة والسلام أكثر من ذلك فصبر ثم أخبر أن نبيا كذبه قومه وشجوه حين جاءهم بأمر الله فقال وهو يمسح الدم عن وجهه اللهم اغفر لقومي فإنهم لا يعلمون
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মিথ্যা বলার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৮. 'আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা মিথ্যা বলা থেকে সতর্ক থাক। মিথ্যা মানুষকে পাপ ও গুনাহের দিকে নিয়ে যায়। আর পাপ ও গুনাহ তাকে দোযখে নিয়ে যায়। কোন বান্দাহ সদা সর্বদা মিথ্যা কথা বলতে থাকলে এবং মিথ্যার প্রতি ঝুঁকে থাকলে শেষ পর্যন্ত সে আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من الكذب
عن عبد الله (4) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إياكم والكذب فإن الكذب يهدي إلى الفجور وان الفجور يهدي إلى النار وما يزال الرجل يكذب ويتحرى الكذب حتى يكتب عند الله عز وجل كذابا
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মিথ্যা বলার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
২৯. 'আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট তাঁর সাহাবীদের ব্যাপারে মিথ্যার চেয়ে অধিক ঘৃণিত স্বভাব আর কিছু ছিল না। কোন ব্যক্তি রাসূল (ﷺ)-এর সামনে মিথ্যা কথা বললে, তাঁর মনে তার প্রতি কষ্ট থাকতো, যতক্ষণ না তিনি জানতে পারতেন যে, মিথ্যাবাদী তার মিথ্যা কথা থেকে তাওবা করেছে।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من الكذب
عن عائشه (5) رضي الله عنها قالت ما كان خلق أبغض إلى أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم من الكذب ولقد كان الرجل يكذب عند رسول الله صلى الله عليه وسلم الكذبة فما يزال في نفسه عليه حتى يعلم أن قد احدث منها توبة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩০
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মিথ্যা বলার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩০. মুগীরা ইব্ন শু'বা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা জেনেও আমার প্রতি সম্বন্ধ করে কোন মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করবে, সে মিথ্যাবাদীদের একজন।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من الكذب
عن المغيرة ابن شعبة (1) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من حدث بحديث وهو يرى أنه كذب فهو أحد الكاذبين وقال عبد الرحمن (2) فهو أحد الكذابين
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩১
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মিথ্যা বলার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩১. আবূ উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মিথ্যা ও আমানতের খিয়ানত ব্যতিত একজন মু'মিনের মাঝে অন্য সব স্বভাব থাকতে পারে।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من الكذب
عن أبي أمامة (3) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يطبع المؤمن على الخلال كلها (4) إلا الخيانة والكذب
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মিথ্যা বলার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩২. 'আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। একদা একজন স্ত্রীলোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমার স্বামী ও সতীন আছে, আমি আমার স্বামীর নাম নিয়ে আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করি। স্বামী আমাকে এটা দিয়েছে, আমাকে ওটা পরিধান করিয়েছে, অথচ তা মিথ্যা, এতে কি আমার দোষ হবে? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যা দেওয়া হয়নি, তাতে আত্মতৃপ্তি প্রকাশকারী দু’খানি মিথ্যা কাপড় পরিধানকারীর ন্যায়।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من الكذب
عن عائشه رضي الله عنها (6) ان امرأة جاءت النبي صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله ان لي زوجا ولي ضرة واني اتشبع من زوجي اقول أعطاني كذا وكساني كذا وهو كذب فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم المتشبع بمالم يعط (7) كلابس ثوبي زور
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৩
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মিথ্যা বলার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩৩. নাওয়াস ইব্ন সাম'য়ান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেন, সবচেয়ে বড় খিয়ানত হলো- তুমি তোমার দ্বীনি ভাইকে এমন কথা বললে, যেক্ষেত্রে সে তোমার তোমার উপর নির্ভর করে যে, তুমি সত্য কথা বলেছো, অথচ তুমি মিথ্যাবাদী।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من الكذب
عن نواس بن سمعان (9) قال قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم كبرت خيانة تحدث أخاك (10) حديثا هو لك مصدق وأنت به كاذب
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৪
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মিথ্যা বলার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩৪. আসমা বিনতে 'উমায়স (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! যদি আমাদের মধ্যে কেউ তার ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও বলে যে, আমার ইচ্ছে নেই। এটা কি মিথ্যা বলে গণ্য হবে? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, অবশ্যই মিথ্যাকে মিথ্যাই লেখা হবে। এমনকি ছোট মিথ্যাকেও ছোট মিথ্যা হিসাবে লেখা হবে।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من الكذب
عن أسماء بنت عميس (1) قالت قلت يا رسول الله إن قالت أحدانا لشيء تشتهيه لا اشتهيه يعد ذلك كذبا؟ قال إن الكذب يكتب كذبا حتى تكتب الكذيبة كذيبة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৫
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মিথ্যাবাদী বিশণে বিশেষিত মানুষের আলোচনা
৩৫. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করিম (ﷺ) বলেন, সবচেয়ে মিথ্যাবাদী অথবা সর্ব নিকৃষ্ট মিথ্যাবাদী মানুষ কাপড়ে রংকারী ও অলংকার নির্মাতারা।
كتاب آفات اللسان
فصل منه في ذكر أناس اتصفوا بالكذب
عن أبي هريرة (2) عن النبي صلى الله عليه وسلم قال أكذب الناس أو من أكذب الناس الصواغون والصباغون
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৬
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মিথ্যাবাদী বিশণে বিশেষিত মানুষের আলোচনা
৩৬. তিনি আরো বর্ণনা করেন সবচেয়ে মিথ্যাবাদী মানুষ হলো শিল্পীগণ।
كتاب آفات اللسان
فصل منه في ذكر أناس اتصفوا بالكذب
وعنه أيضا عن النبي صلى الله عليه وسلم قال أكذب الناس الصناع
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৭
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ: মিথ্যা বলা বৈধ হওয়া সম্পর্কে
৩৭. আসমা বিনতে ইয়াযিদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে খুতবায় বলতে শুনেছেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা কি একের পর এক মিথ্যার পথ অবলম্বন করবে? যেভাবে পঙ্গপাল একের পর এক আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আদম সন্তানের সমস্ত মিথ্যা লিখে রাখা হয়, তবে তিনটি ব্যতিত। তাহলো, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে খুশী করার জন্য মিথ্যা বলা, যুদ্ধে ধোঁকা দেওয়ার ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা এবং দু'জন মুসলমান ব্যক্তির মাঝে বিবাদ মিটিয়ে শান্তি স্থাপনের জন্য মিথ্যা বলা।
كتاب آفات اللسان
فصل فيما يباح من الكذب
عن أسماء بنت يزيد (3) أنها سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يخطب يقول يا أيها الذين آمنوا ما يحملكم على أن تتابعوا في الكذب كما يتتابع الفراش في النار كل الكذب يكتب على ابن آدم إلا ثلاث خصال رجل كذب على امرأته ليرضيها أو رجل كذب في خديعة حرب أو رجل كذب بين أمرأين مسلمين ليصلح بينهما
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৮
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ: মিথ্যা বলা বৈধ হওয়া সম্পর্কে
৩৮. হুমায়দ ইব্ন 'আবদুর রহমান ইবন 'আউফ (রা) থেকে বর্ণিত। তার মা উম্মে কুলসুম বিনতে 'উকবা (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের মধ্যে আপস–মীমাংসা করে দেয় আর তা করতে গিয়ে সে কোনও ভালো কথা কানে লাগায় বা ভালো কথা বলে, সে মিথ্যুক নয়, উম্মে কুলসুম (রা) বলেন, আমি তাঁকে কখনও মানুষকে চতুরতা অবলম্বন করার অনুমতি দিতে শুনিনি, তবে তিনি তিনটি ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছেন। আর তা হলো, যুদ্ধের ব্যাপারে, মানুষের মাঝে বিবাদ মিটিয়ে সন্ধি ও শান্তি স্থাপনে এবং স্বামী স্ত্রীর সাথে ও স্ত্রী স্বামীর সাথে কথাবার্তায়।
উম্মে কুলসুম বিনতে 'উকবা (রা) হিজরতকারী দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাতে বায়'আত গ্রহণ করেছিলেন।
উম্মে কুলসুম বিনতে 'উকবা (রা) হিজরতকারী দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাতে বায়'আত গ্রহণ করেছিলেন।
كتاب آفات اللسان
فصل فيما يباح من الكذب
عن حميد بن عبد الرحمن بن عوف أن أمه أم كلثوم بنت عقبة أخبرته أنها سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ليس الكذاب الذي يصلح بين الناس فينمى خيرا أو يقول خيرا (1) وقالت لم أسمعه يرخص في شيء مما يقول الناس (2) إلا في ثلاث في الحرب والاصلاح بين الناس وحديث الرجل امرأته وحديث المرأة زوجها وكانت أم كلثوم بنت عقبة (3) من المهاجرات (4) اللاتي بايعن رسول الله صلى الله عليه وسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৯
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা এবং এ ব্যাপারে কঠোরতা সম্পর্কে
৩৯. 'উমর ইবন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করবে সে জাহান্নামে যাবে।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم والتغليظ في ذلك
عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه (5) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من كذب علي فهو في النار
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪০
রসনার ক্ষতি সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা এবং এ ব্যাপারে কঠোরতা সম্পর্কে
৪০. 'উছমান ইবন আফফান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কোন হাদীস বর্ণনা করতে আমি ঐ সময় পর্যন্ত বিরত থাকি, যতক্ষণ না আমি তা সবচেয়ে বেশী মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করি। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কথা বলে, যা আমি বলিনি, তার স্থান হবে জাহান্নামে।
তাঁর দ্বিতীয় বর্ণনায় তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার উপর ইচ্ছা করে মিথ্যা কথা বলে, তার বাসস্থান হবে জাহান্নামে।
তাঁর দ্বিতীয় বর্ণনায় তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার উপর ইচ্ছা করে মিথ্যা কথা বলে, তার বাসস্থান হবে জাহান্নামে।
كتاب آفات اللسان
باب ما جاء في الترهيب من الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم والتغليظ في ذلك
عن عثمان بن عفان رضي الله عنه (6) قال ما يمنعني أن أحدث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أن لا أكون أوعى أصحابه عنه ولكني اشهد لسمعته يقول من قال علي ما لم أقل فليتبوأ (7) مقعده من النار وقال حسين أوعى صحابته عنه (وعنه من طريق ثان) (8) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من تعمد علي كذبا فليتبوأ بيتا في النار
তাহকীক: