মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৬৭ টি

হাদীস নং: ৩০১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আংটি ও মোহরের ব্যাপারে হুযুর (ﷺ)-এর রীতি ও দিকনির্দেশনা
৩০১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তির হাতে একটি সোনার আংটি দেখলেন। তিনি তখন এটা তার হাত থেকে খুলে নিয়ে ছুঁড়ে মারলেন। তারপর বললেন, তোমাদের কারো অবস্থা এই যে, সে সখ করে দোযখের অঙ্গার নিজের হাতে পরে নেয়। (অর্থাৎ, পুরুষের জন্য সোনার আংটি যেন দোযখের আগুন, যা সখ করে নিজের হাতে পরে নেয়। তারপর যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখান থেকে চলে গেলেন, তখন কেউ ঐ ব্যক্তিকে (যার হাত থেকে সোনার আংটি ফেলে দেওয়া হয়েছিল।) বলল, এবার তোমার আংটি উঠিয়ে নাও এবং কোনভাবে নিজের কাজে লাগিয়ে নাও। (যেমন, বিক্রি করে দিতে পার, বাড়ীর মহিলাদেরকে ব্যবহারের জন্য দিয়ে দিতে পার।) ঐ ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন এটা ফেলে দিয়েছেন, তখন আমি এটা আর কখনো উঠাব না। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ فِي يَدِ رَجُلٍ، فَنَزَعَهُ فَطَرَحَهُ، وَقَالَ: «يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِهِ»، فَقِيلَ لِلرَّجُلِ بَعْدَ مَا ذَهَبَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: خُذْ خَاتِمَكَ انْتَفِعْ بِهِ، قَالَ: لَا وَاللهِ، لَا آخُذُهُ أَبَدًا وَقَدْ طَرَحَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৩০২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাড়ি মোচ ও বাহ্যিক সূরত সম্পর্কে উপদেশাবলী

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের বাণী ও কর্মধারার মাধ্যমে জীবনের অন্যান্য শাখার ন্যায় বাহ্যিক আকার-আকৃতি ও সূরতের ব্যাপারেও উম্মতকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এ ধারার কিছু হাদীস নিম্নে পাঠ করে নিন।
৩০২. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: পাঁচটি জিনিস ফিতরাত তথা মনুষ্য প্রকৃতির দাবী। (১) খতনা করা, (২) নাভীর নীচের চুল পরিষ্কার করা, (৩) মোচ কাটা, (৪) নখ কাটা ও (৫) বগলের চুল পরিষ্কার করা। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " الفِطْرَةُ خَمْسٌ: الخِتَانُ، وَالِاسْتِحْدَادُ، وَقَصُّ الشَّارِبِ، وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ، وَنَتْفُ الآبَاطِ " (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৩০৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাড়ি মোচ ও বাহ্যিক সূরত সম্পর্কে উপদেশাবলী
৩০৩. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মোচ কাটা, নখ কাটা, বগলের চুল ও নাভীর নীচ পরিষ্কার করার বেলায় আমাদের জন্য সময় বেধে দেওয়া হয়েছে যে, আমরা যেন চল্লিশ দিনের বেশী এগুলো ফেলে না রাখি। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: «وُقِّتَ لَنَا فِي قَصِّ الشَّوَارِبِ، وَتَقْلِيمِ الْأَظْفَارِ، وَنَتْفِ الْإِبِطِ، وَحَلْقِ الْعَانَةِ، أَنْ لَا نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৩০৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাড়ি মোচ ও বাহ্যিক সূরত সম্পর্কে উপদেশাবলী
৩০৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা মোচ খুব ছোট কর এবং দাড়ি ছেড়ে দাও। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «انْهَكُوا الشَّوَارِبَ، وَأَعْفُوا اللِّحَى» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৩০৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাড়ি মোচ ও বাহ্যিক সূরত সম্পর্কে উপদেশাবলী
৩০৫. আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর দাড়ির প্রস্থ থেকেও এবং দৈর্ঘ্য থেকেও কিছুটা কেটে নিতেন। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْخُذُ مِنْ لِحْيَتِهِ مِنْ عَرْضِهَا وَطُولِهَا. (رواه الترمذى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩০৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাড়ি মোচ ও বাহ্যিক সূরত সম্পর্কে উপদেশাবলী
৩০৬. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যার চুল আছে সে যেন এর সম্মান ও কদর করে। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ كَانَ لَهُ شَعْرٌ فَلْيُكْرِمْهُ» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ৩০৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাড়ি মোচ ও বাহ্যিক সূরত সম্পর্কে উপদেশাবলী
৩০৭. নাফে' সূত্রে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি- তিনি কাযা করতে নিষেধ করতেন। নাফে'কে জিজ্ঞাসা করা হল, কাযা কি? তিনি বললেন, কোন বাচ্চার মাথার একাংশের চুল মুড়িয়ে ফেলা, আর একাংশ ছেড়ে দেওয়া। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: «سَمِعْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَى عَنِ الْقَزَعِ» قِيْلَ لِنَافِعٍ مَا الْقَزَعُ؟ قَالَ: «يُحْلَقُ بَعْضُ رَأْسِ الصَّبِيِّ وَيُتْرَكُ بَعْضٌ» رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৩০৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মহিলাদের মেহেদী ব্যবহারের নির্দেশ
৩০৮. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, হিন্দা বিনতে উতবা বললেন, ইয়া নবীয়াল্লাহ! আমাকে বায়‘আত করে নিন। তিনি উত্তর দিলেন, আমি তোমাকে সে পর্যন্ত বায়‘আত করব না, যে পর্যন্ত তুমি (মেহেদী লাগিয়ে) তোমার হাতের অবস্থা পরিবর্তন না করবে। তোমার হাতটি তো (এখন) কোন হিংস্রপ্রাণীর হাত মনে হয়। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ هِنْدَ بِنْتَ عُتْبَةَ، قَالَتْ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، بَايِعْنِي، قَالَ: «لَا أُبَايِعُكِ حَتَّى تُغَيِّرِي كَفَّيْكِ، كَأَنَّهُمَا كَفَّا سَبُعٍ» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ৩০৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সতর ও পর্দার ব্যাপারে নির্দেশাবলী

মানুষের সামাজিক জীবনে সতর ও পর্দার বিষয়টিরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আর এটা ঐসব বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোর মধ্যে মানুষ অন্যান্য প্রাণী থেকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। বিশ্ব স্রষ্টা মহান আল্লাহ্ তা'আলা অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে লজ্জা-শরমের ঐ উপাদান রাখেননি, যা মানুষের স্বভাবে রাখা হয়েছে। এ জন্য অন্যান্য প্রাণী আপন দেহের কোন অঙ্গকে এবং নিজের কোন কাজকে গোপন রাখার চেষ্টা করে না, যা মানুষ করে থাকে এবং সে নিজের স্বভাবের কারণে এটা করতে বাধ্য।

বস্তুত সতর ও পর্দা নীতিগত পর্যায়ে মনুষ্য স্বভাবের চাহিদা। এজন্যই সকল জাতি গোষ্ঠী নিজেদের আকীদা, দৃষ্টিভঙ্গি, প্রথা ও অভ্যাসের বহু মতবিরোধ সত্ত্বেও মৌলিকভাবে এ বিষয়ে একমত যে, মানুষ অন্যান্য পশুর ন্যায় নগ্ন-উলঙ্গ থাকতে পারে না।

অনুরূপভাবে একথাও সকল মানবগোষ্ঠীর নিকট স্বীকৃত; বরং প্রতিষ্ঠিত যে, এ ব্যাপারে নারীদের স্তর পুরুষদের চেয়েও উর্ধ্বে। এ বিষয়টি যেন এমন যে, যেভাবে সতর ও পর্দার ব্যাপারে সাধারণ প্রাণীদের তুলনায় মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তেমনিভাবে এ ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের বৈশিষ্ট্য ও অগ্রাধিকার রয়েছে। কেননা, নারীদের দৈহিক গঠন এমন যে, এতে যৌন আকর্ষণ- যা অনেক ফিতনার হেতু হতে পারে, এটা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশী। এ জন্যই তাদের সৃষ্টিকর্তা তাদের মধ্যে লজ্জার অনুভূতিও পুরুষদের চেয়ে বেশী রেখেছেন। বস্তুতঃ আদম-সন্তানের জন্য সতর ও পর্দা মৌলিকভাবে তাদের প্রকৃতিগত চাহিদা এবং সারা মনুষ্য জগত কর্তৃক স্বীকৃত বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। তারপর যেভাবে মানব জীবনের সকল শাখার দিকনির্দেশনার পূর্ণতা আল্লাহ তা'আলার শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) এর মাধ্যমে এসেছে, তেমনিভাবে এ শাখায়ও যে দিকনির্দেশনা তিনি দিয়েছেন, এটা নিঃসন্দেহে এ শাখার পরিপূর্ণ ও চূড়ান্ত রূপ।

এ অধ্যায়ের নীতিগত ও মৌলিক নির্দেশাবলী তো তাঁর আনীত হেদায়াত গ্রন্থ কুরআন মজীদেই দেওয়া হয়েছে। সূরা আ'রাফের শুরুতেই যেখানে হযরত আদম (আঃ)-এর সৃষ্টি ও মনুষ্য পৃথিবীর সূচনার উল্লেখ রয়েছে, সেখানে বলা হয়েছেঃ "আদম সন্তানদেরকে সতর ঢেকে রাখার নির্দেশ ঐ প্রাথমিক যুগেই দেওয়া হয়েছিল এবং সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল যে, এ ব্যাপারে তোমরা শয়তানের বিভ্রান্তি প্রয়াসের শিকার হয়ে যেয়ো না। সে তোমাদেরকে মানবতার উঁচু স্তর থেকে ফেলে দিয়ে পশুদের ন্যায় উলঙ্গ ও বেপর্দা করার চেষ্টা করবে।"
এরপর সূরা নূর ও সূরা আহযাবে বিশেষভাবে মহিলাদের পর্দার ব্যাপারে বিধি-বিধান দেওয়া হয়েছে। যেমন বলা হয়েছে, মহিলাদের প্রকৃত স্থান তাদের নিজেদের ঘর, তাই বিনা প্রয়োজনে তারা ভ্রমণ ও বেড়ানো অথবা প্রদর্শনীর জন্য ঘরের বাইরে যাবে না। আর যদি প্রয়োজনে বের হতে হয়, (যার অনুমতি রয়েছে।) তাহলে পূর্ণ পর্দার পোশাক গায়ে দিয়ে বের হবে। আর ঘরের ভিতরেও স্বামী ছাড়া ঘরের অন্যান্য লোক অথবা যাতায়াতকারী আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ লোকদের সামনে পোশাক ও পর্দার ব্যাপারে এসব নির্ধারিত সীমারেখা পালন করে চলবে। পুরুষদেরও উচিত যে, নিজের আত্মীয়-স্বজন অথবা সংশ্লিষ্ট লোকদের ঘরে অবগতি ও অনুমতি ছাড়া হঠাৎ প্রবেশ করবে না। তাছাড়া পুরুষরা নারীদেরকে এবং নারীরা পুরুষদেরকে দেখার ও তাদের প্রতি তাকাবার চেষ্টা করবে না; বরং সামনে পড়ে গেলে দৃষ্টি নীচু করে নিবে।

আল্লাহ্ তা'আলা যাদেরকে সুস্থ জ্ঞান দিয়েছেন এবং তাদের স্বভাব বিকৃত হয়ে যায়নি, তারা যদি চিন্তা করে, তাহলে তাদের সন্দেহ থাকবে না যে, এসব বিধান মানুষের লজ্জানুভূতির চাহিদাসমূহকেও পূর্ণতা দান করে এবং এগুলো দ্বারা শয়তানী ও কাম সম্পর্কীয় ফিতনার দরজাও বন্ধ হয়ে যায়- যা জীবনকে কলুষিত ও চরিত্রকে বিনষ্ট করে দেয় এবং কখনো কখনো বিরাট লজ্জাজনক ও ঘৃণ্য পরিণতির কারণ হয়ে যায়।

এ ভূমিকার পর এরই আলোকে এ অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিম্ন বর্ণিত হাদীসসমূহ পাঠ করে নিন।

জরুরী সতর
৩০৯. হযরত জারহাদ ইবনে খুওয়াইলিদ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন: তুমি কি জান না যে, রানও সতরের অন্তর্ভুক্ত। (অর্থাৎ, এটা উদাম করা জায়েয নেই।) তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَرْهَدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الْفَخِذَ عَوْرَةٌ؟» (رواه الترمذى وابوداؤد)
হাদীস নং: ৩২৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ে, দাম্পত্য জীবন এবং এতদস্পর্কিত হাদীস

বিয়ে শাদীর রীতি

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নবুওয়ত প্রাপ্তির পূর্বে জাহিলী যুগে আরবদের মধ্যে নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সন্তান সম্বন্ধে কতক প্রথা ও রীতি চালু ছিল। সেগুলোর মধ্যে কোন কোনটি খুবই অপবিত্র ও লজ্জাকর ছিল। একটি প্রথা সঠিক ও ভদ্রজনোচিত ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে প্রথাটি সংশোধন করে সেটিকেই বহাল রাখেন। আর অন্যান্য সব প্রথা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে সেগুলোকে শক্ত গুনাহ ও অন্যায় বলে সাব্যস্ত করেন।

তিনি স্বীয় বর্ণনা ও কার্যপ্রণালী দ্বারা বিয়ের যে সাধারণ নিয়মনীতি নির্ধারণ করেছেন তা হল- পাত্রের পক্ষ থেকে পাত্রীর অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষকদের নিকট প্রস্তাব পাঠিয়ে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হবে। যদি তিনি সম্পর্ক স্থাপনকে সুবিবেচনা ও উত্তম মনে করেন তবে, কনে প্রাপ্ত বয়স্কা হওয়ার প্রেক্ষিতে তার ইচ্ছা অবগত হয়ে আর অপ্রাপ্ত বয়স্কা হওয়ার প্রেক্ষিতে অভিভাবক স্বীয় অপকট কল্যাণকামিতা অনুযায়ী সম্মতি প্রদানপূর্বক বিয়ে সম্পন্ন করবেন। আর বাহাত এ পন্থাই মৌল স্বভাব ও জ্ঞান-বুদ্ধির সম্পূর্ণ অনুকূল।

যেহেতু বিয়ের মূল দায়িত্ব বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ নারীর উপর বর্তাবে এবং এটাই হবে চিরজীবনের জন্য তার বন্ধন, এজন্য পাত্রীর মতামত গ্রহণ আবশ্যক বলে স্থির করা হয়েছে। আর তার নিজের প্রকৃত কর্তা তাকেই সাব্যস্ত করা হয়েছে। অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষকদের অধিকার নেই যে, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কারো সাথে তাকে বিয়ে দেয়। সাথে সাথে নারীর নারীত্ব মর্যাদার প্রেক্ষিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, বিষয়টি অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষকদের মাধ্যমে মীমাংসিত হবে। আর তারাই বিয়ে সম্পন্নকারী। একথা নারীর মর্যাদার পরিপন্থী যে, কারো স্ত্রী হওয়ার বিষয়ে সে নিজেই স্বয়ং সিদ্ধান্ত নেবে এবং নিজে উপস্থিত হয়ে নিজেকে কারো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করবে। এছাড়া যেহেতু কোন মেয়ের বিয়ের কতক প্রভাব তার বংশের ওপর বর্তায়, এজন্যও অভিভাবকগণ (গোত্রীয় মুরুব্বীগণ)-কে কতক ক্ষমতা দান করা হয়েছে। এটাও বাস্তব যে, সব বিষয় যদি পাত্রীর হাতে ছেড়ে দেওয়া হয় আর অভিভাবকবৃন্দ সম্পর্কহীন হয়ে পড়েন তবে এ কথার প্রবল আশংকা রয়েছে যে, মহিলাটি প্রতারিত হবে এবং কারো ফাঁদে পড়ে স্বয়ং নিজের ব্যাপারে ভুল সিদ্ধান্ত নেবে। এসব কারণের ভিত্তিতে আবশ্যক নির্ধারণ করা হয়েছে যে, (বিশেষ ব্যতিক্রমী অবস্থা ছাড়া) বিয়ে অভিভাবকগণের মাধ্যমেই অনুষ্ঠিত হবে।

বিয়ের ধারাবাহিকতায় এটাও পথনির্দেশ করা হয়েছে যে, বিয়ে করতে ইচ্ছুক এমন নারীর সাথে পূর্ব থেকেই যদি দেখা-সাক্ষাত না থেকে থাকে তবে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবার পূর্বে সম্ভব হলে এক নজর তাকে দেখে নেবে, যেন পরে কোন প্রকার কলহ সৃষ্টি না হয়। নির্ভরযোগ্য নারীদের দেখা দ্বারাই এক পর্যায়ে এ উদ্দেশ্য পূর্ণ হতে পারে।

এ নির্দেশও দেওয়া হয়েছে যে, যদি কোন নারীকে বিয়ের জন্য অন্য কোন পুরুষের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, তবে তার পক্ষ থেকে প্রস্তাব প্রত্যাহার না করা এবং আলোচনা ভেঙ্গে না দেওয়া পর্যন্ত সে নারীর জন্য প্রস্তাব দেওয়া হবে না। এর রহস্য সুস্পষ্ট।

বিয়ের ব্যাপারে এটাও জরুরী নির্ধারণ করা হয়েছে যে, তা গোপনে সম্পন্ন না হয়ে কতক লোকের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে সমাধান হবে। এটা হবে বিয়ের উপস্থিত সাক্ষী। বস্তুত বিবাহ মসজিদে সম্পন্ন করাই উত্তম বলা হয়েছে। এভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানে খুতবা পাঠ করা সুন্নাত। স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে মহর প্রদানও আবশ্যক সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এসব বিষয় ও বিয়ে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহ নিম্নে পাঠ করুন।

নারী-পুরুষের সম্পর্ক এবং এ থেকে জন্মানো সন্তান সম্পর্কে জাহিলী যুগের প্রথা ও রীতি
৩২৭. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন) যে, জাহিলী যুগে বিয়ের (অর্থাৎ নারী-পুরুষের মেলা-মেশা এবং এ থেকে জন্মানো সন্তান সম্পর্কে) চারটি প্রথা চালু ছিল। তন্যধ্যে একটি প্রথা ছিল যা (নীতিগতভাবে) বর্তমান যুগেও প্রচলিত। পুরুষের পক্ষ থেকে অন্য পুরুষের নিকট তার কন্যা কিংবা তার প্রতিপালনাধীন মেয়ের জন্য বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হত। এরপর সংগত মহর নির্ধারণপূর্বক সে ঐ মেয়ের বিয়ে সেই পুরুষের সাথে দিত।

আরেকটি প্রথা এরূপ ছিল যে, কোন লোকের স্ত্রী যখন ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হত (এ সময় মহিলাদের মধ্যে গর্ভধারণের যোগ্যতা বেশি থাকে) তখন সে (কোন সুউচ্চ মর্যাদাবান ব্যক্তি সম্বন্ধে) আপন স্ত্রীকে বলে দিত যে, তুমি তাকে ডেকে এনে নিয়োগ কর (অর্থাৎ তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন কর এবং তার দ্বারা গর্ভধারণের চেষ্টা কর) আর স্বামী আপন স্ত্রী থেকে বিরত থাকত যতদিন না নিয়োগী পুরুষ দ্বারা মহিলাটির গর্ভধারণ প্রকাশ পেত। এরপর যখন গর্ভ প্রকাশ পেত তখন তার স্বামী অভিরুচি অনুযায়ী তার সাথে সঙ্গম করত। উৎকর্ষশীল সন্তান লাভের অভিলাষেই এরূপ করত। সুতরাং এ জাতীয় বিয়েকে (نکاح استبضاع) ইসতিবদা১ বিয়ে বলা হত।

আর অন্য এক (তৃতীয়) প্রথা এরূপ ছিল যে, কতক লোকের একটি 'যুথ' (বর্ণনায় 'رهط' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দশ থেকে কম সংখ্যার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে) একজন মহিলার নিকট গমন করতো এবং তাদের প্রত্যেকেই তার সাথে সঙ্গম করত (আর এসব হত পারস্পরিক সম্মতিক্রমে) এরপর যদি সেই মহিলা গর্ভবতী হত এবং সন্তান ভূমিষ্ঠ হত তখন কয়েক দিন পর মহিলাটি সে সব লোকদের তলব করাত (রীতি অনুযায়ী)। কারো উপস্থিত না হওয়ার সুযোগ ছিল না। এ কারণে সবাই উপস্থিত হত। তখন মহিলাটি বলত, যা কিছু হয়েছিল তা তোমরা অবগত আছ। আর (তারই ফল স্বরূপ) আমার এ সন্তান পয়দা হয়েছে। যাকে পসন্দ হয় এমন কারো নাম ডেকে বলত, হে অমুক! এ ছেলে তোমার। এরপর সে ছেলে তারই মনে করা হত। আর সে ব্যক্তি অস্বীকার করতে পারত না।

আর চতুর্থ প্রথা এইরূপ ছিল যে, বহু লোক এক মহিলার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করত। তার নিকট গমন করতে বাধা ছিল না। তারা দেহপসারিণী ছিল। তারা নিজেদের গৃহদ্বারে নিশান গেঁড়ে রাখত। যে কেউ চাইত তাদের নিকট গমন করত। তাদের কেউ গর্ভধারণ এবং সন্তান প্রসব করলে তার নিকট সেই লোকগুলো সমবেত হত। আর চেহারা লক্ষণবিদদের ডাকা হত। এরপর সে (স্বীয় লক্ষণ বিদ্যা দ্বারা) যার বীর্য থেকে সন্তানকে মনে করত তার ছেলে বলে স্থির করে দিত। তারই মেনে নেয়া হত এবং তারই ছেলে বলা হত। আর মহিলাটি তা অস্বীকার করতে পারত না।

[উন্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রা) জাহিলী যুগের এসব প্রথা বর্ণনা করার পর বলেন] এরপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দীনে হকসহ প্রেরিত হলেন, তখন তিনি জাহিলী যুগের সেই সব (লজ্জাজনক) প্রথা একেবারে বিলুপ্ত করে দেন। আর বর্তমানে প্রচলিত বিয়েই বাকি থাকে। (বুখারী)

টিকা ১. জাহিলী যুগে আরবের কোন কোন নিম্ন গোত্রে এই লজ্জাজনক প্রথা চালু ছিল। প্রথাটি এরূপ ছিল যে, নিম্ন শ্রেণীর কোন লোক আকাঙ্ক্ষা করত যে, তার ছেলে অশ্বারোহী বীর হবে। অথবা গঠন সৌন্দর্য ও পরিমাণে ভিন্ন রকম হবে। তখন সে অনুরূপ গুণাবলী মন্ডিত ব্যক্তি সম্পর্কে আপন স্ত্রীকে বলত যে, তার সাথে তুমি সম্পর্ক স্থাপন কর, যেন তার ধারা গর্ভধারণ করতে পার, ফলে অনুরূপ গুণাবলী নিয়ে তার দ্বারা ছেলে পয়দা হবে। আর উক্ত নিয়োগী ব্যক্তি দ্বারা গর্ভসঞ্চার না হওয়া পর্যন্ত সে তার স্ত্রী থেকে পৃথক থাকত। আরবী পরিভাষায় এটাকে “استبضاع” বলা হয়। আমি এ শব্দের তরজমা করেছি 'নিয়োগ'। হিন্দু সম্প্রদায়ে নিয়োগ প্রথা চলে আসছে এবং এটাকে বৈধ ও সঠিক বলে মনে করা হয়। হাদীসে বর্ণিত প্রথাটি প্রায় অনুরূপই ছিল। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আর্য-সমাজের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী প্রণীত 'সত্যার্থ প্রকাশ' বইটি পাঠ করা যেতে পারে।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النِّكَاحَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ كَانَ عَلَى أَرْبَعَةِ أَنْحَاءٍ فَنِكَاحٌ مِنْهَا نِكَاحُ النَّاسِ الْيَوْمَ، يَخْطُبُ الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ وَلِيَّتَهُ أَوِ ابْنَتَهُ، فَيُصْدِقُهَا ثُمَّ يَنْكِحُهَا، وَنِكَاحٌ آخَرُ كَانَ الرَّجُلُ يَقُولُ لاِمْرَأَتِهِ إِذَا طَهُرَتْ مِنْ طَمْثِهَا أَرْسِلِي إِلَى فُلاَنٍ فَاسْتَبْضِعِي مِنْهُ. وَيَعْتَزِلُهَا زَوْجُهَا، وَلاَ يَمَسُّهَا أَبَدًا، حَتَّى يَتَبَيَّنَ حَمْلُهَا مِنْ ذَلِكَ الرَّجُلِ الَّذِي تَسْتَبْضِعُ مِنْهُ، فَإِذَا تَبَيَّنَ حَمْلُهَا أَصَابَهَا زَوْجُهَا إِذَا أَحَبَّ، وَإِنَّمَا يَفْعَلُ ذَلِكَ رَغْبَةً فِي نَجَابَةِ الْوَلَدِ، فَكَانَ هَذَا النِّكَاحُ نِكَاحَ الاِسْتِبْضَاعِ، وَنِكَاحٌ آخَرُ يَجْتَمِعُ الرَّهْطُ مَا دُونَ الْعَشَرَةِ فَيَدْخُلُونَ عَلَى الْمَرْأَةِ كُلُّهُمْ يُصِيبُهَا. فَإِذَا حَمَلَتْ وَوَضَعَتْ، وَمَرَّ عَلَيْهَا لَيَالِيَ بَعْدَ أَنْ تَضَعَ حَمْلَهَا، أَرْسَلَتْ إِلَيْهِمْ فَلَمْ يَسْتَطِعْ رَجُلٌ مِنْهُمْ أَنْ يَمْتَنِعَ حَتَّى يَجْتَمِعُوا عِنْدَهَا تَقُولُ لَهُمْ قَدْ عَرَفْتُمُ الَّذِي كَانَ مِنْ أَمْرِكُمْ، وَقَدْ وَلَدْتُ فَهُوَ ابْنُكَ يَا فُلاَنُ. تُسَمِّي مَنْ أَحَبَّتْ بِاسْمِهِ، فَيَلْحَقُ بِهِ وَلَدُهَا، وَلاَ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَمْتَنِعَ مِنْهُ الرَّجُلُ. وَالنِّكَاحُ الرَّابِعِ يَجْتَمِعُ النَّاسُ الْكَثِيرُ فَيَدْخُلُونَ عَلَى الْمَرْأَةِ لاَ تَمْتَنِعُ مِمَّنْ جَاءَهَا وَهُنَّ الْبَغَايَا كُنَّ يَنْصِبْنَ عَلَى أَبْوَابِهِنَّ رَايَاتٍ تَكُونُ عَلَمًا فَمَنْ أَرَادَهُنَّ دَخَلَ عَلَيْهِنَّ، فَإِذَا حَمَلَتْ إِحْدَاهُنَّ وَوَضَعَتْ حَمْلَهَا جُمِعُوا لَهَا وَدَعَوْا لَهُمُ الْقَافَةَ ثُمَّ أَلْحَقُوا وَلَدَهَا بِالَّذِي يَرَوْنَ فَالْتَاطَ بِهِ، وَدُعِيَ ابْنَهُ لاَ يَمْتَنِعُ مِنْ ذَلِكَ ..... فَلَمَّا بُعِثَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْحَقِّ هَدَمَ نِكَاحَ الْجَاهِلِيَّةِ كُلَّهُ، إِلاَّ نِكَاحَ النَّاسِ الْيَوْمَ. (رواه البخارى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৮০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ستر اور پردے کے بارے میں ہدایات: ضروری ستر
حضرت علی رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ رسول اللہ ﷺ نے ان کو ہدایت فرمائی کہ : اے علی ! اپنی ران نہ کھولو ، اور کسی زندہ یا مردہ آدمی کی ران کی طرف نظر نہ کرو ۔ (سنن ابی داؤد ، سنن ابن ماجہ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ يَا عَلِىُّ «لَا تُبْرِزْ فَخِذَكَ، وَلا تَنْظُرِ الَى فَخِذِ حَيٍّ وَلا مَيِّتٍ» (رواه ابوداؤد وابن ماجه)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৮১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ستر اور پردے کے بارے میں ہدایات: ضروری ستر
حضرت ابو سعید خدری رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ رسول اللہ ﷺ نے فرمایا کہ : مرد دوسرے مرد کے ستر کی طرف اور عورت دوسری عورت کے ستر کی طرف نظر نہ کرے ۔ (صحیح مسلم)

تشریح
مطلب یہ ہے کہ جسم کے وہ مخصوص حصے جن کو چھپانا ضروری قرار دیا گیا ہے (یعنی ناف کے نیچے سے رانوں تک) ان کی طرف نظر کرنا ہم جنسوں کے لئے بھی جائز نہیں ۔ اور بلاشبہ حیا اور شرم کا تقاضا یہی ہے ، ہاں ضرورت کے مواقع مستثنیٰ ہوں گے ۔
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عَوْرَةِ الرَّجُلِ، وَلَا الْمَرْأَةُ إِلَى عَوْرَةِ الْمَرْأَةِ» (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৮২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ تنہائی میں بھی ستر کا چھپانا ضروری
حضرت عبداللہ بن عمر رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ رسول اللہ ﷺ نے فرمایا : لوگو (تنہائی کی حالت میں بھی) برہنگی سے پرہیز کرو (یعنی بےضرورت تنہائی میں بھی ستر نہ کھولو) کیوں کہ تمہارے ساتھ فرشتے برابر رہتے ہیں ، کسی وقت بھی جدا نہیں ہوتے ، سوائے قضائے حاجت اور میاں بیوی کی صحبت کے وقت کے، لہذا ان سے شرم کرو اور ان کا احترام کرو ۔ (جامع ترمذی)

تشریح
رسول اللہ ﷺ نے یہ بھی ہدایت فرمائی کہ اگر آدمی کسی وقت اور کسی جگہ بالکل تنہا ہو کوئی دوسرا شخص دیکھنے والا نہ ہو تب بھی بلاضرورت برہنہ نہ ہو اور ستر کی حفاظت کرے ، اللہ سے اورا اس کے فرشتوں سے شرم کرے ۔

تشریح ..... اس حدیث سے معلوم ہوا کہ کراماً کاتبین وغیرہ جو فرشتے انسانوں کے ساتھ رہتے ہیں ، وہ ان اوقات میں الگ ہو جاتے ہیں جو آدمی اپنی فطری ضرورت سے بےپردہ ہوتا ہے ۔
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِيَّاكُمْ وَالتَّعَرِّيَ فَإِنَّ مَعَكُمْ مَنْ لاَ يُفَارِقُكُمْ إِلاَّ عِنْدَ الغَائِطِ وَحِينَ يُفْضِي الرَّجُلُ إِلَى أَهْلِهِ، فَاسْتَحْيُوهُمْ وَأَكْرِمُوهُمْ. (رواه الترمذى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৮৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ تنہائی میں بھی ستر کا چھپانا ضروری
بہز بن حکیم نے اپنے والد حکیم سے اور انہوں نے بہز کے دادا (یعنی اپنے والد) معاویہ بن حیدہ سے روایت کیا ہے کہ رسول اللہ ﷺ نے ارشاد فرمایا کہ : اپنی شرم گاہ محفوظ رکھو (کسی کے سامنے نہ کھولو) سوائے اپنی بیوی اور (شرعی) باندی کے (معاویہ بن حیدہ کہتے ہیں کہ) میں نے عرض کیا کہ : حضرت ! کیا فرماتے ہیں اس حالت کے ابرے میں جب آدمی بالکل تنہائی میں ہو ؟ (کوئی دوسرا آدمی دیکھنے والا نہ ہو) آپ ﷺ نے ارشاد فرمایا کہ : اللہ تعالیٰ اس کا زیادہ سزاوار ہے اور اس کا زیادہ حق ہے کہ اس سے شرم کی جائے ۔ (جامع ترمذی ، سنن ابی داؤد ، سنن ابن ماجہ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «احْفَظْ عَوْرَتَكَ إِلَّا مِنْ زَوْجَتِكَ أَوْ مَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِذَا كَانَ الْقَوْمُ بَعْضُهُمْ فِي بَعْضٍ؟ قَالَ: إِذَا كَانَ الرَّجُلُ خَالِيًا؟ قَالَ: «فَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ يُسْتَحْيَا مِنْهُ» (رواه الترمذى وابوداؤد وابن ماجه)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৮৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ عورتوں کو پردہ ضروری ، باہر نکلنا موجب فتنہ
حضرت عبداللہ بن مسعود رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ رسول اللہ ﷺ نے فرمایا کہ : عورت گویا ستر ہے (یعنی جس طرح ستر کو چھپا رہنا چاہیے ، اسی طرح عورت کو گر میں پردے میں رہنا چاہئے) جب وہ باہر نکلتی ہے تو شیاطین اس کو تاکتے اور اپنی نظروں کا نشانہ بناتے ہیں ۔ (جامع ترمذی)

تشریح
عربی زبان میں “عورت” اس چیز یا اس حصہ جسم کو کہتے ہیں جس کا چھپانا اور پردے میں رکھنا ضروری اور کھولنا معیوب سمجھا جائے ۔ اس حدیث میں فرمایا گیا ہے کہ “الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ” یعنی صنف خواتین کی نوعیت یہی ہے ، ان کو پردے میں رہنا چاہئے ۔ آگے فرمایا گیا ہے کہ : جب کوئی خاتون باہر نکلتی ہے تو شیطان تاک جھانک کرتے ہیں ۔ حضور ﷺ کے اس ارشاد کا مدعا اور مقصد یہ ہے کہ عورتوں کو حتی الوسع باہر نکلنا ہی نہ چاہئے تا کہ شیطانوں اور ان کے چیلے چانٹوں کو شیطنت اور شرارت کا موقع ہی نہ ملے ، اور اگر ضرورت سے نکلنا ہو تو اس طرح باپردہ نکلیں کہ زینت و آرائش کا اظہار نہ ہو ۔ قرآن مجید کی آیت “وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ” میں بھی یہی ہدایت فرمائی گئی ہے ۔ البتہ ضرورت سے باہر نکلنے کے بارے میں صحیح بخاری کی ایک حدیث میں حضور ﷺ کا صریح ارشاد ہے : “إِنَّهُ قَدْ أُذِنَ لَكُنَّ أَنْ تَخْرُجْنَ لِحَاجَتِكُنَّ” یعنی بہ ضرورت باہر نکلنے کی اجازت ہے ۔
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ،عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ، فَإِذَا خَرَجَتْ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ. (رواه الترمذى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৮৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ نظر بازی موجبِ لعنت
حضرت حسن بصری سے روایت ہے کہ مجھے یہ بات پہنچی ہے کہ رسول اللہ ﷺ نے ارشاد فرمایا کہ : خدا کی لعنت ہے دیکھنے والے پر اور اس پر جس کو دیکھا جائے ۔ (شعب الایمان للبیہقی)

تشریح
مطلب یہ ہے کہ جو کوئی کسی نامحرم عورت کو یا کسی کے ستر کو (جس کا دیکھنا حرام ہے) دیکھے ، تو اس پر خدا کی طرف سے لعنت ہے ، یعنی رحمت سے محرومی کا فیصلہ ہے اور اسی طرح وہ بھی رحمت خداوندی سے محروم ہے جس نے قصداً دیکھنے والے کو دیکھنے کا موقع دیا اور دکھایا ۔
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ الْحَسَنِ، مُرْسَلًا قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " لَعَنَ اللهُ النَّاظِرَ والْمَنْظُورَ إِلَيْهِ " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৮৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ کسی اجنبی عورت پر اچانک نگاہ پڑ جانے کا حکم
حضرت جریر بن عبداللہ رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ میں نے رسول اللہ ﷺ سے اچانک نظر پڑ جانے کے بارے میں دریافت کیا (یعنی یہ کہ اگر اچانک کسی نامحرم عورت پر یا کسی کے ستر پر نظر پڑ جائے تو مجھے کیا کرنا چاہئے؟) تو آپ ﷺ نے مجھے حکم دیا کہ میں اُدھر سے نگاہ پھیر لوں ۔ (صحیح مسلم)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نَظَرِ الْفُجَاءَةِ فَأَمَرَنِي أَنْ أَصْرِفَ بَصَرِي. (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৮৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ کسی اجنبی عورت پر اچانک نگاہ پڑ جانے کا حکم
حضرت بریدہ رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ رسول اللہ ﷺ نے حضرت علی سے ایک دفعہ فرمایا : اے علی ! (اگر کسی نامحرم پر تمہاری نظر پڑ جائے) تو دوبارہ نظر نہ کرو ، تمہارے لئے پہلی نظر (جو بلاارادہ اور اچانک پڑ گئی وہ) تو جائز ہے (یعنی اس پر مواخذہ اور گناہ نہ ہو گا) اور دوسری جائز نہیں ۔ (مسند احمد ، جامع ترمذی ، سنن ابی داؤد)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ بُرَيْدَةَ قَالَ لِعَلِيٍّ يَا عَلِيُّ لاَ تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّ لَكَ الأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الآخِرَةُ. (رواه احمد الترمذى وابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৮৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ کسی اجنبی عورت پر اچانک نگاہ پڑ جانے کا حکم
حضرت ابو امامہ رضی اللہ عنہ سے روایت ہے وہ رسول اللہ ﷺ سے نقل کرتے ہیں کہ آپ ﷺ نے فرمایا : جس مردِ مومن کی کسی عورت کے حسن و جمال پر پہلی دفعہ نظر پڑ جائے پھر وہ اپنی نگاہ نیچی کر لے اور (اس کی طرف نہ دیکھے) تو اللہ تعالیٰ اس کو ایسی عبادت نصیب فرمائے گا جس کی وہ لذت و حلاوت محسوس کرے گا ۔ (مسند احمد)

تشریح
یعنی ایک ناجائز نفسانی لذت کی قربانی کے صلہ میں اللہ تعالیٰ آخرت کے بےحساب اجر و ثواب سے پہلے اپنے اس مومن بندے کو حلاوتِ عبادت کی نہایت اعلیٰ روحانی لذت اسی دنیا میں عطا فرمائے گا ۔
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَنْظُرُ إِلَى مَحَاسِنِ امْرَأَةٍ أَوَّلَ مَرَّةٍ، ثُمَّ يَغُضُّ بَصَرَهُ إِلَّا أَحْدَثَ اللَّهُ لَهُ عِبَادَةً يَجِدُ حَلَاوَتَهَا» (رواه احمد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৮৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ غیر عورت پر نظر پڑ جانے سے دل میں گندہ جذبہ پیدا ہو تو
حضرت جابر رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ رسول اللہ ﷺ نے فرمایا کہ : ایسا ہوتا ہے کہ کوئی عورت شیطان کی طرح آتی یا جاتی ہے (یعنی اس کا ڈھنگ اور اس کی چال آدمی کے لئے شیطانی فتنہ کا سامان بن سکتی ہے) تو اگر کسی کو ایسا واقعہ پیش آئے کہ کوئی ایسی عورت اچھی لگے اور اس کے ساتھ دلچسپی اور دل میں اس کی خواہش پیدا ہو جائے توا ٓدمی کو چاہئے کہ اپنی بیوی کے پاس جائے اور اپنی نفسانی خواہش پوری کرے ، اس سے اس کی اس گندی خواہش نفس کا علاج ہو جائے گا ۔ (صحیح مسلم)

تشریح
انسان کی یہ فطرت ہے کہ کوئی کھانے پینے کی مرغوب چیز دیکھے یا خوشبو ہی آ جائے تو اس کی خواہش پیدا ہو جاتی ہے ۔ گرمی اور تپش کی حالت میں ٹھنڈی ، سایہ دار اور خوش منظر جگہ دیکھ کر وہاں ٹھہرنے اور آرام کرنے کو جی چاہنے لگتا ہے ۔ اسی طرح یہ بھی ہوتا ہے کہ کسی غیر عورت پر اچانک نگاہ پڑ جانے سے بسا اوقات شہوانی تقاجا پیدا ہو جاتا ہے جو اغواء شیطانی سے بہت برے نتائج تک بھی پہنچا سکتا ہے ، اور کم از کم آدمی ایک قسم کی بےچینی میں تو مبتلا ہو ہی جاتا ہے ۔ نفس و روح کے معالج اعظم رسول اللہ ﷺ نے اس کا بھی علاج بتلایا ہے ۔
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ الْمَرْأَةَ تُقْبِلُ فِي صُورَةِ شَيْطَانٍ وَتُدْبِرُ فِي صُورَةِ شَيْطَانٍ إِذَا أَحَدُكُمْ أَعْجَبَتْهُ الْمَرْأَةُ فَوَقَعَتْ فِي قَلْبِهِ فَلْيَعْمِدْ إِلَى امْرَأَتِهِ فَلْيُوَاقِعْهَا فَإِنَّ ذَلِكَ يَرُدُّ مَا فِي نَفْسِهِ. (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক: