মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৬৭ টি

হাদীস নং: ৩০১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আংটি ও মোহরের ব্যাপারে হুযুর (ﷺ)-এর রীতি ও দিকনির্দেশনা
৩০১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তির হাতে একটি সোনার আংটি দেখলেন। তিনি তখন এটা তার হাত থেকে খুলে নিয়ে ছুঁড়ে মারলেন। তারপর বললেন, তোমাদের কারো অবস্থা এই যে, সে সখ করে দোযখের অঙ্গার নিজের হাতে পরে নেয়। (অর্থাৎ, পুরুষের জন্য সোনার আংটি যেন দোযখের আগুন, যা সখ করে নিজের হাতে পরে নেয়। তারপর যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখান থেকে চলে গেলেন, তখন কেউ ঐ ব্যক্তিকে (যার হাত থেকে সোনার আংটি ফেলে দেওয়া হয়েছিল।) বলল, এবার তোমার আংটি উঠিয়ে নাও এবং কোনভাবে নিজের কাজে লাগিয়ে নাও। (যেমন, বিক্রি করে দিতে পার, বাড়ীর মহিলাদেরকে ব্যবহারের জন্য দিয়ে দিতে পার।) ঐ ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন এটা ফেলে দিয়েছেন, তখন আমি এটা আর কখনো উঠাব না। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ فِي يَدِ رَجُلٍ، فَنَزَعَهُ فَطَرَحَهُ، وَقَالَ: «يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِهِ»، فَقِيلَ لِلرَّجُلِ بَعْدَ مَا ذَهَبَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: خُذْ خَاتِمَكَ انْتَفِعْ بِهِ، قَالَ: لَا وَاللهِ، لَا آخُذُهُ أَبَدًا وَقَدْ طَرَحَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৩০২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাড়ি মোচ ও বাহ্যিক সূরত সম্পর্কে উপদেশাবলী

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের বাণী ও কর্মধারার মাধ্যমে জীবনের অন্যান্য শাখার ন্যায় বাহ্যিক আকার-আকৃতি ও সূরতের ব্যাপারেও উম্মতকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এ ধারার কিছু হাদীস নিম্নে পাঠ করে নিন।
৩০২. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: পাঁচটি জিনিস ফিতরাত তথা মনুষ্য প্রকৃতির দাবী। (১) খতনা করা, (২) নাভীর নীচের চুল পরিষ্কার করা, (৩) মোচ কাটা, (৪) নখ কাটা ও (৫) বগলের চুল পরিষ্কার করা। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " الفِطْرَةُ خَمْسٌ: الخِتَانُ، وَالِاسْتِحْدَادُ، وَقَصُّ الشَّارِبِ، وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ، وَنَتْفُ الآبَاطِ " (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৩০৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাড়ি মোচ ও বাহ্যিক সূরত সম্পর্কে উপদেশাবলী
৩০৩. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মোচ কাটা, নখ কাটা, বগলের চুল ও নাভীর নীচ পরিষ্কার করার বেলায় আমাদের জন্য সময় বেধে দেওয়া হয়েছে যে, আমরা যেন চল্লিশ দিনের বেশী এগুলো ফেলে না রাখি। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: «وُقِّتَ لَنَا فِي قَصِّ الشَّوَارِبِ، وَتَقْلِيمِ الْأَظْفَارِ، وَنَتْفِ الْإِبِطِ، وَحَلْقِ الْعَانَةِ، أَنْ لَا نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৩০৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাড়ি মোচ ও বাহ্যিক সূরত সম্পর্কে উপদেশাবলী
৩০৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা মোচ খুব ছোট কর এবং দাড়ি ছেড়ে দাও। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «انْهَكُوا الشَّوَارِبَ، وَأَعْفُوا اللِّحَى» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৩০৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাড়ি মোচ ও বাহ্যিক সূরত সম্পর্কে উপদেশাবলী
৩০৫. আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর দাড়ির প্রস্থ থেকেও এবং দৈর্ঘ্য থেকেও কিছুটা কেটে নিতেন। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْخُذُ مِنْ لِحْيَتِهِ مِنْ عَرْضِهَا وَطُولِهَا. (رواه الترمذى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩০৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাড়ি মোচ ও বাহ্যিক সূরত সম্পর্কে উপদেশাবলী
৩০৬. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যার চুল আছে সে যেন এর সম্মান ও কদর করে। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ كَانَ لَهُ شَعْرٌ فَلْيُكْرِمْهُ» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ৩০৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাড়ি মোচ ও বাহ্যিক সূরত সম্পর্কে উপদেশাবলী
৩০৭. নাফে' সূত্রে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি- তিনি কাযা করতে নিষেধ করতেন। নাফে'কে জিজ্ঞাসা করা হল, কাযা কি? তিনি বললেন, কোন বাচ্চার মাথার একাংশের চুল মুড়িয়ে ফেলা, আর একাংশ ছেড়ে দেওয়া। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: «سَمِعْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَى عَنِ الْقَزَعِ» قِيْلَ لِنَافِعٍ مَا الْقَزَعُ؟ قَالَ: «يُحْلَقُ بَعْضُ رَأْسِ الصَّبِيِّ وَيُتْرَكُ بَعْضٌ» رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৩০৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মহিলাদের মেহেদী ব্যবহারের নির্দেশ
৩০৮. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, হিন্দা বিনতে উতবা বললেন, ইয়া নবীয়াল্লাহ! আমাকে বায়‘আত করে নিন। তিনি উত্তর দিলেন, আমি তোমাকে সে পর্যন্ত বায়‘আত করব না, যে পর্যন্ত তুমি (মেহেদী লাগিয়ে) তোমার হাতের অবস্থা পরিবর্তন না করবে। তোমার হাতটি তো (এখন) কোন হিংস্রপ্রাণীর হাত মনে হয়। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ هِنْدَ بِنْتَ عُتْبَةَ، قَالَتْ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، بَايِعْنِي، قَالَ: «لَا أُبَايِعُكِ حَتَّى تُغَيِّرِي كَفَّيْكِ، كَأَنَّهُمَا كَفَّا سَبُعٍ» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ৩০৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সতর ও পর্দার ব্যাপারে নির্দেশাবলী

মানুষের সামাজিক জীবনে সতর ও পর্দার বিষয়টিরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আর এটা ঐসব বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোর মধ্যে মানুষ অন্যান্য প্রাণী থেকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। বিশ্ব স্রষ্টা মহান আল্লাহ্ তা'আলা অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে লজ্জা-শরমের ঐ উপাদান রাখেননি, যা মানুষের স্বভাবে রাখা হয়েছে। এ জন্য অন্যান্য প্রাণী আপন দেহের কোন অঙ্গকে এবং নিজের কোন কাজকে গোপন রাখার চেষ্টা করে না, যা মানুষ করে থাকে এবং সে নিজের স্বভাবের কারণে এটা করতে বাধ্য।

বস্তুত সতর ও পর্দা নীতিগত পর্যায়ে মনুষ্য স্বভাবের চাহিদা। এজন্যই সকল জাতি গোষ্ঠী নিজেদের আকীদা, দৃষ্টিভঙ্গি, প্রথা ও অভ্যাসের বহু মতবিরোধ সত্ত্বেও মৌলিকভাবে এ বিষয়ে একমত যে, মানুষ অন্যান্য পশুর ন্যায় নগ্ন-উলঙ্গ থাকতে পারে না।

অনুরূপভাবে একথাও সকল মানবগোষ্ঠীর নিকট স্বীকৃত; বরং প্রতিষ্ঠিত যে, এ ব্যাপারে নারীদের স্তর পুরুষদের চেয়েও উর্ধ্বে। এ বিষয়টি যেন এমন যে, যেভাবে সতর ও পর্দার ব্যাপারে সাধারণ প্রাণীদের তুলনায় মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তেমনিভাবে এ ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের বৈশিষ্ট্য ও অগ্রাধিকার রয়েছে। কেননা, নারীদের দৈহিক গঠন এমন যে, এতে যৌন আকর্ষণ- যা অনেক ফিতনার হেতু হতে পারে, এটা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশী। এ জন্যই তাদের সৃষ্টিকর্তা তাদের মধ্যে লজ্জার অনুভূতিও পুরুষদের চেয়ে বেশী রেখেছেন। বস্তুতঃ আদম-সন্তানের জন্য সতর ও পর্দা মৌলিকভাবে তাদের প্রকৃতিগত চাহিদা এবং সারা মনুষ্য জগত কর্তৃক স্বীকৃত বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। তারপর যেভাবে মানব জীবনের সকল শাখার দিকনির্দেশনার পূর্ণতা আল্লাহ তা'আলার শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) এর মাধ্যমে এসেছে, তেমনিভাবে এ শাখায়ও যে দিকনির্দেশনা তিনি দিয়েছেন, এটা নিঃসন্দেহে এ শাখার পরিপূর্ণ ও চূড়ান্ত রূপ।

এ অধ্যায়ের নীতিগত ও মৌলিক নির্দেশাবলী তো তাঁর আনীত হেদায়াত গ্রন্থ কুরআন মজীদেই দেওয়া হয়েছে। সূরা আ'রাফের শুরুতেই যেখানে হযরত আদম (আঃ)-এর সৃষ্টি ও মনুষ্য পৃথিবীর সূচনার উল্লেখ রয়েছে, সেখানে বলা হয়েছেঃ "আদম সন্তানদেরকে সতর ঢেকে রাখার নির্দেশ ঐ প্রাথমিক যুগেই দেওয়া হয়েছিল এবং সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল যে, এ ব্যাপারে তোমরা শয়তানের বিভ্রান্তি প্রয়াসের শিকার হয়ে যেয়ো না। সে তোমাদেরকে মানবতার উঁচু স্তর থেকে ফেলে দিয়ে পশুদের ন্যায় উলঙ্গ ও বেপর্দা করার চেষ্টা করবে।"
এরপর সূরা নূর ও সূরা আহযাবে বিশেষভাবে মহিলাদের পর্দার ব্যাপারে বিধি-বিধান দেওয়া হয়েছে। যেমন বলা হয়েছে, মহিলাদের প্রকৃত স্থান তাদের নিজেদের ঘর, তাই বিনা প্রয়োজনে তারা ভ্রমণ ও বেড়ানো অথবা প্রদর্শনীর জন্য ঘরের বাইরে যাবে না। আর যদি প্রয়োজনে বের হতে হয়, (যার অনুমতি রয়েছে।) তাহলে পূর্ণ পর্দার পোশাক গায়ে দিয়ে বের হবে। আর ঘরের ভিতরেও স্বামী ছাড়া ঘরের অন্যান্য লোক অথবা যাতায়াতকারী আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ লোকদের সামনে পোশাক ও পর্দার ব্যাপারে এসব নির্ধারিত সীমারেখা পালন করে চলবে। পুরুষদেরও উচিত যে, নিজের আত্মীয়-স্বজন অথবা সংশ্লিষ্ট লোকদের ঘরে অবগতি ও অনুমতি ছাড়া হঠাৎ প্রবেশ করবে না। তাছাড়া পুরুষরা নারীদেরকে এবং নারীরা পুরুষদেরকে দেখার ও তাদের প্রতি তাকাবার চেষ্টা করবে না; বরং সামনে পড়ে গেলে দৃষ্টি নীচু করে নিবে।

আল্লাহ্ তা'আলা যাদেরকে সুস্থ জ্ঞান দিয়েছেন এবং তাদের স্বভাব বিকৃত হয়ে যায়নি, তারা যদি চিন্তা করে, তাহলে তাদের সন্দেহ থাকবে না যে, এসব বিধান মানুষের লজ্জানুভূতির চাহিদাসমূহকেও পূর্ণতা দান করে এবং এগুলো দ্বারা শয়তানী ও কাম সম্পর্কীয় ফিতনার দরজাও বন্ধ হয়ে যায়- যা জীবনকে কলুষিত ও চরিত্রকে বিনষ্ট করে দেয় এবং কখনো কখনো বিরাট লজ্জাজনক ও ঘৃণ্য পরিণতির কারণ হয়ে যায়।

এ ভূমিকার পর এরই আলোকে এ অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিম্ন বর্ণিত হাদীসসমূহ পাঠ করে নিন।

জরুরী সতর
৩০৯. হযরত জারহাদ ইবনে খুওয়াইলিদ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন: তুমি কি জান না যে, রানও সতরের অন্তর্ভুক্ত। (অর্থাৎ, এটা উদাম করা জায়েয নেই।) তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَرْهَدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الْفَخِذَ عَوْرَةٌ؟» (رواه الترمذى وابوداؤد)
হাদীস নং: ৩১০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সতর ও পর্দার ব্যাপারে নির্দেশাবলী: জরুরী সতর
৩১০. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেছিলেন, হে আলী! নিজের রান খুলবে না এবং কোন জীবিত অথবা মৃত মানুষের রানের দিকে তাকাবে না। -আবূ দাউদ, ইবনে মাজাহ্
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ يَا عَلِىُّ «لَا تُبْرِزْ فَخِذَكَ، وَلا تَنْظُرِ الَى فَخِذِ حَيٍّ وَلا مَيِّتٍ» (رواه ابوداؤد وابن ماجه)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩১১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সতর ও পর্দার ব্যাপারে নির্দেশাবলী: জরুরী সতর
৩১১. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কোন পুরুষ যেন অপর পুরুষের সতরের দিকে না তাকায় এবং কোন মহিলাও যেন অপর মহিলার সতরের দিকে না তাকায়। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عَوْرَةِ الرَّجُلِ، وَلَا الْمَرْأَةُ إِلَى عَوْرَةِ الْمَرْأَةِ» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৩১২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নির্জনেও সতর ঢেকে রাখা জরুরী

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ নির্দেশও দিয়েছেন যে, মানুষ যদি কখনো কোন স্থানে একেবারে একাকীও থাকে এবং তাকে দেখার মত কেউ না থাকে, তাহলেও বিনা প্রয়োজনে নগ্ন হতে পারবে না; বরং সতরের হেফাযত করবে এবং আল্লাহ্ ও তাঁর ফিরিশতাদেরকে লজ্জা করে চলবে।
৩১২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা (নির্জন অবস্থায়ও) উলঙ্গ হওয়া থেকে বেঁচে থাক। (অর্থাৎ, বিনা প্রয়োজনে নির্জনেও সতর খুলবে না।) কেননা, তোমাদের সাথে সর্বদা এমন ফিরিশতা থাকে, যারা কখনো পৃথক হয় না- পেশাব পায়খানা ও স্বামী স্ত্রীর মিলনের সময় ছাড়া। অতএব, তোমরা তাদের থেকে লজ্জা কর এবং তাদেরকে সম্মান কর। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِيَّاكُمْ وَالتَّعَرِّيَ فَإِنَّ مَعَكُمْ مَنْ لاَ يُفَارِقُكُمْ إِلاَّ عِنْدَ الغَائِطِ وَحِينَ يُفْضِي الرَّجُلُ إِلَى أَهْلِهِ، فَاسْتَحْيُوهُمْ وَأَكْرِمُوهُمْ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৩১৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নির্জনেও সতর ঢেকে রাখা জরুরী
৩১৩. বাহয ইবনে হাকীম তার পিতা থেকে এবং তিনি তার পিতা মুআবিয়া ইবনে হায়দা রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: নিজের লজ্জাস্থানের হেফাযত কর (কারো সামনে এটা খুলো না।) নিজের স্ত্রী ও (শরী‘আত অনুমোদিত নারী) ছাড়া। মুআবিয়া বলেন, আমি নিবেদন করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কেউ যখন নির্জনে থাকে (এবং দেখার কেউ না থাকে?) তিনি উত্তর দিলেন, আল্লাহ্ তা'আলা এর অধিক হকদার যে, তাঁকে লজ্জা করা হবে। -তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ্
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «احْفَظْ عَوْرَتَكَ إِلَّا مِنْ زَوْجَتِكَ أَوْ مَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِذَا كَانَ الْقَوْمُ بَعْضُهُمْ فِي بَعْضٍ؟ قَالَ: إِذَا كَانَ الرَّجُلُ خَالِيًا؟ قَالَ: «فَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ يُسْتَحْيَا مِنْهُ» (رواه الترمذى وابوداؤد وابن ماجه)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩১৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মহিলাদের পর্দা রক্ষা করে চলা জরুরী, বাইরে বের হওয়া ফিতনার কারণ হয়
৩১৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: মহিলারা হচ্ছে সতরের ন্যায়। (অর্থাৎ, যেভাবে সতর ঢাকা থাকা চাই, তেমনিভাবে মহিলাদের ঘরে পর্দায় থাকা চাই।) যখন তারা বাইরে যায়, তখন শয়তান তাদেরকে চুপিসারে দেখে ও নিজের লক্ষ্যস্থল বানায়। তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ،عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ، فَإِذَا خَرَجَتْ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৩১৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুদৃষ্টি অভিশাপের কারণ
৩১৫. হযরত হাসান বসরী (রহ) থেকে মুরসালরূপে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছে একথা পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহর অভিশাপ দৃষ্টিপাতকারীর উপর এবং তার উপরও যার প্রতি দৃষ্টিপাত করা হয়। -বায়হাকী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ الْحَسَنِ، مُرْسَلًا قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " لَعَنَ اللهُ النَّاظِرَ والْمَنْظُورَ إِلَيْهِ " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
হাদীস নং: ৩১৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কোন বেগানা নারীর প্রতি হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যাওয়ার বিধান
৩১৬. হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যাওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। (অর্থাৎ, যদি হঠাৎ কোন বেগানা নারীর প্রতি অথবা কারো সতরের প্রতি আমার দৃষ্টি পড়ে যায়, তাহলে আমাকে কি করতে হবে?) তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন, আমি যেন সেদিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেই। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نَظَرِ الْفُجَاءَةِ فَأَمَرَنِي أَنْ أَصْرِفَ بَصَرِي. (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩১৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কোন বেগানা নারীর প্রতি হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যাওয়ার বিধান
৩১৭. হযরত বুরায়দা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার হযরত আলী রাযি.-কে বললেন, হে আলী! (যদি কোন বেগানা নারীর প্রতি তোমার দৃষ্টি পড়ে যায়, তাহলে) দ্বিতীয়বার আর দৃষ্টিপাত করো না। কেননা, তোমার জন্য প্রথম দৃষ্টি তো জায়েয, (যা হঠাৎ পড়ে গিয়েছিল এবং হঠাৎ দৃষ্টির কারণে তোমার কোন গুনাহ হবে না।) কিন্তু দ্বিতীয়বার দৃষ্টিপাত করা জায়েয নয়। -আহমাদ, তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ بُرَيْدَةَ قَالَ لِعَلِيٍّ يَا عَلِيُّ لاَ تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّ لَكَ الأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الآخِرَةُ. (رواه احمد الترمذى وابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩১৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কোন বেগানা নারীর প্রতি হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যাওয়ার বিধান
৩১৮. হযরত আবু উমামা রাযি. সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: কোন মুসলমান বান্দার যখন কোন নারীর সৌন্দর্যের প্রতি প্রথম দৃষ্টি পড়ে যায়, তারপর সে নিজের দৃষ্টি অবনত করে নেয় (এবং তার দিকে দেখে না) আল্লাহ্ তা'আলা তাকে এমন ইবাদত নসীব করবেন, যার স্বাদ সে অবশ্যই অনুভব করবে। -আহমাদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَنْظُرُ إِلَى مَحَاسِنِ امْرَأَةٍ أَوَّلَ مَرَّةٍ، ثُمَّ يَغُضُّ بَصَرَهُ إِلَّا أَحْدَثَ اللَّهُ لَهُ عِبَادَةً يَجِدُ حَلَاوَتَهَا» (رواه احمد)
হাদীস নং: ৩১৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি পড়ে যাওয়ার কারণে অন্তরে কামভাব সৃষ্টি হলে কি করবে?

মানুষের এটা স্বভাব যে, সে যদি কোন লোভনীয় খাদ্য অথবা পানীয় দেখে কিংবা এর ঘ্রাণই পায়, তাহলে এর খাহেশ সৃষ্টি হয়ে যায়। গরম ও উত্তাপের সময় ঠাণ্ডা ছায়াদার ও মনোরম স্থান দেখে, সেখানে অবস্থান ও বিশ্রাম গ্রহণ করতে মন চায়। তেমনিভাবে এটাও হয় যে, কোন ভিন্ন নারীর প্রতি হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যাওয়ার কারণে অনেক সময় কামভাব জাগ্রত হয়ে যায়- যা শয়তানের প্ররোচনায় অত্যন্ত মন্দ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। আর কমপক্ষে এতটুকু তো অবশ্যই হয় যে, মানুষ এক ধরনের অস্থিরতায় পতিত হয়। প্রবৃত্তি ও আত্মার মহান চিকিৎসক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চিকিৎসাও বলে দিয়েছেন।
৩১৯. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: অনেক সময় কোন নারী শয়তানের আকৃতিতে আসা যাওয়া করে। (অর্থাৎ, তার ঢং ও চাল-চলন মানুষের জন্য শয়তানী ফিতনার উপকরণ হতে পারে।) তাই তোমাদের কারো কাছে যদি কোন নারী ভালো লেগে যায় এবং তার অন্তরে এর প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয়ে যায়, তাহলে সে যেন নিজ স্ত্রীর কাছে চলে যায় এবং তার কামনা পূরণ করে নেয়। এ প্রক্রিয়া তার মন্দ খাহেশকে দূর করে দিবে। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ الْمَرْأَةَ تُقْبِلُ فِي صُورَةِ شَيْطَانٍ وَتُدْبِرُ فِي صُورَةِ شَيْطَانٍ إِذَا أَحَدُكُمْ أَعْجَبَتْهُ الْمَرْأَةُ فَوَقَعَتْ فِي قَلْبِهِ فَلْيَعْمِدْ إِلَى امْرَأَتِهِ فَلْيُوَاقِعْهَا فَإِنَّ ذَلِكَ يَرُدُّ مَا فِي نَفْسِهِ. (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩২০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারীদের সাথে নির্জনে সাক্ষাতের নিষিদ্ধতা

সমাজকে অশ্লীলতা ও মন্দ কর্ম থেকে রক্ষা করার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেসব দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, এগুলোর মধ্যে একটি এইও যে, কোন ব্যক্তি কোন বেগানা নারীর (পরনারী) সাথে নির্জনে সাক্ষাত করবে না। কেননা, এমন করলে শয়তান সুযোগ পেয়ে যায়- যে সর্বদা মানুষের সাথে থাকে।
৩২০. হযরত উমর রাযি. সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: যখন কোন পুরুষ কোন (বেগানা) নারীর সাথে নির্জনে সাক্ষাত করে, তখন সেখানে তৃতীয়জন হিসাবে শয়তান অবশ্যই থাকে। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلاَّ كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ. (رواه الترمذى)