মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৬৭ টি

হাদীস নং: ২৮১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহ তাওফীক দিলে জীর্ণবসনে থাকা ঠিক নয়
২৮১. আবুল আহওয়াস তাবেয়ী সূত্রে তার পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে হাযির হলাম। সে সময় আমার গায়ে ছিল খুব নিম্নমানের কাপড়। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি মাল-সম্পদ আছে? আমি উত্তর দিলাম, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কি জাতীয় সম্পদ? আমি বললাম, সব ধরনের মাল আছে। আল্লাহ আমাকে উট, গরু, ছাগল, ঘোড়া এবং দাস-দাসী সবকিছুই দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন, আল্লাহ্ যখন তোমাকে এত সম্পদ দান করেছেন, তখন তোমার মধ্যে আল্লাহর এই নেয়ামত ও অনুগ্রহের প্রকাশ ঘটা উচিত। -আহমাদ, নাসায়ী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَعَلَىَّ ثَوْبٍ دُونٍ، فَقَالَ: لِىْ «أَلَكَ مَالٌ؟» قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: «مِنْ أَيِّ الْمَالِ؟» قُلْتُ مِنْ كُلِّ الْمَالِ قَدْ اَعْطَانِى الله مِنَ الإِبِلِ، والبقر وَالْغَنَمِ، وَالْخَيْلِ، وَالرَّقِيقِ، قَالَ: «فَإِذَا آتَاكَ اللَّهُ مَالًا فَلْيُرَ أَثَرُ نِعْمَةِ اللَّهِ عَلَيْكَ، وَكَرَامَتِهِ» (رواه احمد والنسائى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৮২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহ তাওফীক দিলে জীর্ণবসনে থাকা ঠিক নয়
২৮২. আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে এবং তিনি তদীয় দাদা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ্ তা'আলার নিকট এ বিষয়টি পছন্দনীয় যে, কোন বান্দার উপর তাঁর যে নেয়ামত ও অনুগ্রহ রয়েছে এর চিহ্ন ফুটে উঠুক। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ يُحِبَّ أَنْ يَرَى أَثَرَ نِعْمَتِهِ عَلَى عَبْدِهِ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ২৮৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ খাও, পরিধান কর, তবে অহংকার ও অপচয় যেন না হয়
২৮৩. আমর ইবনে শুআইব তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা খাও, পান কর, অন্যদেরকে দান কর এবং কাপড় বানিয়ে পরিধান কর। তবে শর্ত এই যে, অপচয় ও অহংকার থাকতে পারবে না। -আহমাদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُوا، وَاشْرَبُوا، وَتَصَدَّقُوا، وَالْبَسُوا مَا لَمْ يُخَالِطْ إِسْرَافٌ، وَلَا مَخِيلَةٍ» (رواه احمد والنسائى وابن ماجه)
হাদীস নং: ২৮৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিশ্রী, অপরিপাটি ও নোংরা হয়ে থাকা নিষেধ
২৮৪. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন আমাদের সাথে সাক্ষাত করতে আসলেন। তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, তার মাথার চুলগুলো এলোমেলো ও বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে। তিনি বললেন, এই লোকটি কি এমন কিছু পায় না, যা দিয়ে সে মাথার চুলগুলো পরিপটি করে রাখতে পারে? তিনি আরেক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, তার গায়ের কাপড়গুলো খুব ময়লা। তিনি বললেন: এই লোকটা কি এমন কিছু পায় না, যার দ্বারা সে নিজের কাপড়গুলো ধুয়ে (পরিষ্কার করে) নিতে পারে? -আহমাদ, নাসায়ী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَائِرًا، فَرَأَى رَجُلًا شَعِثًا، فَقَالَ: «أَمَا كَانَ يَجِدُ هَذَا مَا يُسَكِّنُ بِهِ رَأْسَهُ» ، وَرَأَى رَجُلًا عَلَيْهِ ثِيَابٌ وَسِخَةٌ، فَقَالَ: «أَمَا كَانَ يَجِدُ هَذَا مَا يَغْسِلُ بِهِ ثِيَابَهُ» (رواه احمد والنسائى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৮৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ চুল-দাড়ি সুন্দর ও পরিপাটি করে রাখার নির্দেশ
২৮৫. হযরত আতা ইবনে ইয়াসার (রহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে বসা ছিলেন। এমন সময় এক লোক আসল, যার মাথার চুল ও দাড়ি অবিন্যস্ত ও এলামেলো ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে হাতে ইশারা করলেন, যেন তিনি তাকে নিজের চুল ও দাড়ি সুন্দর ও পরিপটি করার নির্দেশ দিচ্ছেন। সেমতে সে তাই করল এবং পুনরায় ফিরে আসল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন: এটা কি ঐ অবস্থার চেয়ে ভালো নয় যে, তোমাদের কেউ একেবারে উষ্ক-খুষ্ক অবস্থায় কোথাও এসে হাযির হবে, যেন সে একটা শয়তান? -মুয়াত্তা ইমাম মালেক
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ أَخْبَرَهُ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ. فَدَخَلَ رَجُلٌ ثَائِرَ الرَّأْسِ وَاللِّحْيَةِ فَأَشَارَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ. كَأَنَّهُ يَعْنِي إِصْلاَحَ شَعَرِ رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ. فَفَعَلَ الرَّجُلُ، ثُمَّ رَجَعَ. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَلَيْسَ هذَا خَيْراً مِنْ أَنْ يَأْتِيَ أَحَدُكُمْ ثَائِرَ الرَّأْسِ كَأَنَّهُ شَيْطَانٌ؟». (رواه مالك)
হাদীস নং: ২৮৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সাদা-সিধা জীবন ও অনাড়ম্বরতা একটি ঈমানী রূপ
২৮৬. হযরত আবু উমামা আয়াস ইবনে সা'লাবা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা কি শুনছ না, তোমরা কি শুনছ না? (অর্থাৎ, মনোযোগ দিয়ে শুন এবং মনে রাখ,) অনাড়ম্বরতা ঈমানের একটি শাখা, অনাড়ম্বরতা ঈমানের একটি শাখা। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ اَيَاسِ بْنِ ثَعْلَبَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَا تَسْمَعُونَ، أَلَا تَسْمَعُونَ، إِنَّ الْبَذَاذَةَ مِنَ الْإِيمَانِ، إِنَّ الْبَذَاذَةَ مِنَ الْإِيمَانِ» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ২৮৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পোশাকে বিনয়-নম্রতার উপর পুরস্কার
২৮৭. হযরত মু'আয ইবনে আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি বিনয় প্রকাশের জন্য সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও মূল্যবান পোশাক ছেড়ে দেয় (এবং সাধারণ পোশাক পরে,) কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা তাকে সকল সৃষ্টির সামনে ডেকে এই এখতিয়ার দিবেন যে, সে ঈমানের জোড়াসমূহ থেকে যে জোড়া (পোশাক) পছন্দ করে, তাই যেন পরে নেয়। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:مَنْ تَرَكَ اللِّبَاسَ تَوَاضُعًا لِلَّهِ وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَيْهِ دَعَاهُ اللَّهُ يَوْمَ القِيَامَةِ عَلَى رُءُوسِ الْخَلاَئِقِ حَتَّى يُخَيِّرَهُ مِنْ أَيِّ حُلَلِ الإِيمَانِ شَاءَ يَلْبَسُهَا. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ২৮৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পোশাকের ব্যাপারে-ঐসব সীমারেখা ও বিধানের অনুসরণের সাথে, যা উপরের হাদীসসমূহ থেকে জানা গিয়েছে- ঐ ধরনের পোশাক পরতেন, যে ধরনের ও যে নমুনার পোশাকের ঐ যুগে তাঁর এলাকায় ও তাঁর সমাজে প্রচলিত ছিল। তিনি লুঙ্গি পরতেন, চাদর গায়ে দিতেন, কুর্তা পরিধান করতেন, পাগড়ী এবং টুপিও তাঁর মাথায় শোভা পেত। আর এসব কাপড় বেশীর ভাগ সাধারণ সূতী জাতীয় হত। কখনো কখনো অন্যান্য দেশ ও অঞ্চলের তৈরী এমন মূল্যবান জুব্বাও পরিধান করে নিতেন, যার উপর রেশমী ডোরা অথবা কারুকার্য থাকত। তেমনিভাবে কখনো কখনো অত্যন্ত সুন্দর ইয়ামানী চাদরও গায়ে জড়িয়ে নিতেন, যা ঐ যুগে সৌখিন লোকদের পোশাক ছিল।

এ ভিত্তিতে বলা যায় যে, মৌখিক নির্দেশ ও উপদেশাবলী ছাড়া তিনি নিজের কর্মধারার মাধ্যমেও উম্মতকে এ শিক্ষাই দিয়েছেন যে, পানাহারের মত লেবাস পোশাকের ব্যাপারেও প্রশস্ততা রয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলার নির্ধারিত সীমারেখা অনুসরণের সাথে যে কোন ধরনের সাধারণ অথবা মূল্যবান পোশাক পরা যায়। আর প্রত্যেক অঞ্চল ও যুগের লোকদের জন্য অনুমতি রয়েছে যে, তারা শরী‘আত সীমারেখা ও বিধানকে সামনে রেখে নিজেদের আঞ্চলিক ও জাতীয় সুন্দর পোশাক পরতে পারবে।

এ কারণেই উম্মতের ঐসব মুক্তাকী ও পুণ্যবান লোকেরাও যাদের জীবনে সুন্নত অনুসরণের সীমাহীন গুরুত্ব ছিল- এটা জরুরী মনে করেননি যে, কেবল ঐ পোশাকই ব্যবহার করতে হবে, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ব্যবহার করতেন।
প্রকৃত প্রস্তাবে পোশাক এমন জিনিস যে, সভ্যতার উন্নতির সাথে এতে পরিবর্তন হয়ে আসছে এবং হতেই থাকবে। তেমনিভাবে বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগলিক বৈশিষ্ট্যাবলী ও অন্যান্য কিছু বিষয়ও পোশাকের কাটিং ও ধরনের উপর প্রভাব ফেলে। এ জন্য এটা সম্ভব নয় যে, সারা দুনিয়ার মানুষের পোশাক একই ধরনের হবে অথবা কোন জাতির বা অঞ্চলের পোশাক সর্বদা একই থাকবে। এ জন্য শরী‘আত কোন বিশেষ প্রকার ও বিশেষ নমুনার পোশাককে অপরিহার্য করে দেয়নি। হ্যাঁ, এমন মৌলিক নীতিমালা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে যে, প্রত্যেক যুগে ও প্রত্যেক অঞ্চলে সহজেই এগুলোর অনুসরণ করা যায়।

এই ভূমিকামূলক কয়েকটি লাইনের পর এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক সম্বন্ধে কয়েকটি হাদীস নিম্নে পাঠ করে নিন।
২৮৮. আবূ বুরদা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আয়েশা রাযি. আমাদেরকে একটি দুই ভাজের মোটা চাদর ও একটি মোটা কাপড়ের লুঙ্গি বের করে দেখালেন এবং বললেন, এ দু'টি কাপড়েই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্তিকাল হয়েছিল। (অর্থাৎ, শেষ সময়ে তাঁর গায়ে এ দু'টি কাপড়ই ছিল।) -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي بُرْدَةَ قَالَ: أَخْرَجَتْ إِلَيْنَا عَائِشَةُ كِسَاءً مُلَبَّدًا، وَإِزَارًا غَلِيظًا، فَقَالَتْ: «قُبِضَ رُوْحُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَيْنِ» (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৮৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক
২৮৯. হযরত উম্মে সালামা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট সবচেয়ে প্রিয় কাপড় ছিল কুর্তা। -তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ: «كَانَ أَحَبُّ الثِّيَابِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْقَمِيصَ» (رواه الترمذى وابوداؤد)
হাদীস নং: ২৯০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক
২৯০. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সব কাপড়ের মধ্যে 'হিবারা' চাদর পরিধান করা বেশী পছন্দ করতেন। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: «كَانَ أَحَبُّ الثِّيَابِ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَلْبَسَهَا الحِبَرَةَ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ২৯১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক
২৯১. হযরত মুগীরা ইবনে শু'বা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (একবার) রূমী জুব্বা পরিধান করেছিলেন- যার হাতাগুলো সংকীর্ণ ছিল। বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَبِسَ جُبَّةً رُومِيَّةً ضَيِّقَةَ الكُمَّيْنِ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ২৯২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক
২৯২. হযরত আসমা বিনতে আবূ বকর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি একটি কিসরাওয়ানী জুব্বা বের করে দেখালেন, যার প্লেট ছিল রেশমের এবং উভয় পাটের কিনারাতেও রেশম লাগানো ছিল। হযরত আসমা বলেন, এটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জুব্বা মুবারক। এটা (আমার বোন) আয়েশার কাছে ছিল। যখন তিনি ইন্তিকাল করেন, তখন আমি এটা নিয়ে নেই। (অর্থাৎ, উত্তরাধিকার সূত্রে আমি পেয়ে যাই।) নবী করীম (ﷺ) এটা পরিধান করতেন। এখন আমরা রোগীদের জন্য এটা ধুই এবং এর (পানি ব্যবহার করে) আরোগ্য লাভ করি। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّهَا أَخْرَجَتْ جُبَّةَ طَيَالِسَةٍ كِسْرَوَانِيَّةٍ لَهَا لِبْنَةُ دِيبَاجٍ، وَفَرْجَيْهَا مَكْفُوفَيْنِ بِالدِّيبَاجِ، وَقَالَتْ: هَذَا جُبَّةُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَتْ عِنْدَ عَائِشَةَ فَلَمَّا قُبِضَتْ قَبَضْتُهَا، وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَلْبَسُهَا، وَنَحْنُ نَغْسِلُهَا لِلْمَرْضَى يُسْتَشْفَى بِهَا (رواه مسلم)
হাদীস নং: ২৯৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক
২৯৩. হযরত আমর ইবনে হুরাইস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ)কে মিম্বরে (খুতবা দিতে) দেখেছি। এ সময় তাঁর মাথায় ছিল কালো পাগড়ী। আর তিনি এর কিনারা দু'কাধের মাঝে পিঠে ছেড়ে রেখেছিলেন। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، قَالَ: «رَأَيْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ، وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ، قَدْ أَرْخَى طَرَفَيْهَا بَيْنَ كَتِفَيْهِ» (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৯৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক
২৯৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) সাদা টুপি পরিধান করতেন। -তাবরানী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ: " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَلْبَسُ قَلَنْسُوَةً بَيْضَاءَ " (رواه الطبرانى فى الكبير)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৯৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পোশাক
২৯৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন খারেজীদের উৎপত্তি হল, তখন আমি হযরত আলী রাযি.-এর নিকট আসলাম। তিনি বললেন, তুমি এদের (খারেজীদের) কাছে যাও (এবং তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা কর।) ইবনে আব্বাস বলেন, আমি তখন এক জোড়া অতি সুন্দর ইয়ামানী কাপড় পরলাম। ঘটনা বর্ণনাকারী আবূ যামীল বলেন, ইবনে আব্বাস খুবই সুন্দর মানুষ ছিলেন এবং তার আওয়াযও ছিল খুবই উঁচু। ইবনে আব্বাস বলেন, আমি তাদের কাছে আসলে তারা বলল, মারহাবা। হে ইবনে আব্বাস! (সাথে সাথে তিরস্কারের উদ্দেশ্যে তারা বলল,) এই দামী পোশাক কি? (তাদের উদ্দেশ্য এই ছিল যে, এই দামী ও সুন্দর পোশাক নবী করীম (ﷺ)-এর আদর্শ ও তাওয়ার পরিপন্থী।) ইবনে আব্বাস বলেন, আমি বললাম, তোমরা আমার এ পোশাকের দোষ ধরছ? আমি তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পরিধানে অতি উত্তম ও সুন্দর পোশাক দেখেছি। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنُ عَبَّاسٍ، قَالَ: لَمَّا خَرَجَتِ الْحَرُورِيَّةُ أَتَيْتُ عَلِيًّا فَقَالَ: ائْتِ هَؤُلَاءِ الْقَوْمَ فَلَبِسْتُ أَحْسَنَ مَا يَكُونُ مِنْ حُلَلِ الْيَمَنِ قَالَ أَبُو زُمَيْلٍ: وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَجُلًا جَمِيلًا جَهِيرًا - قَالَ: فَأَتَيْتُهُمْ فَقَالُوا: مَرْحَبًا بِكَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ مَا هَذِهِ الْحُلَّةُ قَالَ: مَا تَعِيبُونَ عَلَيَّ «لَقَدْ رَأَيْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْسَنَ مَا يَكُونُ مِنَ الحُلَلِ» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ২৯৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পোশাক পরার সময় ডান দিক থেকে শুরু করা হুযুর (ﷺ)-এর রীতি ছিল

বাম অঙ্গের তুলনায় ডান অঙ্গের যে ফযীলত ও মর্যাদা রয়েছে, এর 'আলোচনা 'পানাহারের আদব' শিরোনামে করে আসা হয়েছে। এ ফযীলত ও মর্যাদার কারণেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অভ্যাস ছিল যে, লেবাস-পোশাক পরিধানের সময় তিনি ডান দিক থেকে শুরু করতেন। অর্থাৎ, যে কাপড় পরতেন ডান দিক থেকে পরা শুরু করতেন।
২৯৬. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কুর্তা পরিধান করতেন, তখন এর ডান দিক থেকে শুরু করতেন। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا لَبِسَ قَمِيصًا بَدَأَ بِمَيَامِنِهِ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ২৯৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কাপড় পরিধানকালে হুযুর (ﷺ)-এর দু‘আ
২৯৭. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কোন নতুন কাপড় পরিধান করতেন, তখন এর নাম নিতেন, পাগড়ী, কুর্তা অথবা চাদর। তারপর এই দু‘আ পড়তেন-
اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ كَمَا كَسَوْتَنِيهِ ، أَسْأَلُكَ خَيْرَهُ وَخَيْرَ مَا صُنِعَ لَهُ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ
হে আল্লাহ্! তুমি যে আমাকে (এই পাগড়ী, কুর্তা অথবা চাদর) পরিধান করতে দিয়েছ, এর জন্য আমি তোমার প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এর মঙ্গল ও কল্যাণ প্রার্থনা করছি এবং যে উদ্দেশ্যে এটা তৈরী করা হয়েছে, এর কল্যাণও কামনা করছি। আর আমি এর অনিষ্ট থেকে এবং এর উদ্দেশ্যের অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।-তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اسْتَجَدَّ ثَوْبًا سَمَّاهُ بِاسْمِهِ، عِمَامَةً، أَوْ قَمِيصًا، أَوْ رِدَاءً، ثُمَّ يَقُولُ: اللَّهُمَّ لَكَ الحَمْدُ أَنْتَ كَسَوْتَنِيهِ، أَسْأَلُكَ خَيْرَهُ وَخَيْرَ مَا صُنِعَ لَهُ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ২৯৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জুতা পরার ব্যাপারে দিকনির্দেশনা
২৯৮. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এক যুদ্ধে রওয়ানা হওয়ার সময় বলতে শুনেছিঃ তোমরা বেশী করে জুতা নিয়ে নাও। কেননা, মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত জুতা পরে থাকে, সে যেন আরোহীর ন্যায় থাকে। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةٍ غَزَوْنَاهَا: «اسْتَكْثِرُوا مِنَ النِّعَالِ، فَإِنَّ الرَّجُلَ لَا يَزَالُ رَاكِبًا مَا انْتَعَلَ» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ২৯৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জুতা পরার ব্যাপারে দিকনির্দেশনা
২৯৯. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন জুতা পরে, তখন সে যেন প্রথমে ডান পায়ে পরে, আর যখন খোলে, তখন যেন প্রথম বাম পা থেকে খোলে। ডান পা যেন জুতা পরার সময় আগে থাকে, আর খোলার সময় শেষে থাকে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا انْتَعَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأْ بِاليَمِينِ، وَإِذَا نَزَعَ فَلْيَبْدَأْ بِالشِّمَالِ، لِيَكُنِ اليُمْنَى أَوَّلَهُمَا تُنْعَلُ وَآخِرَهُمَا تُنْزَعُ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৩০০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আংটি ও মোহরের ব্যাপারে হুযুর (ﷺ)-এর রীতি ও দিকনির্দেশনা
৩০০. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) পারস্য সম্রাট কিসরা, রোম সম্রাট কায়সার ও আবিসিনিয়ার বাদশা নাজাশীর নামে (ইসলামের দাওয়াত সম্বলিত) পত্র লিখার ইচ্ছা করলেন। তাঁকে তখন বলা হল, এসব শাসক সীল মোহর ছাড়া কোন পত্র গ্রহণ করে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন একটি রূপার আংটি বানালেন- যাতে অংকিত ছিল محمد رسول الله -মুসলিম
[এ হাদীসেরই বুখারী শরীফের বর্ণনায় এ তথ্যও রয়েছে যে, মোহরে তিনটি লাইন ছিল। এক লাইনে محمد, অপর লাইনে رسول, আর তৃতীয় লাইনে الله লিখা ছিল।]
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَادَ أَنْ يَكْتُبَ إِلَى كِسْرَى، وَقَيْصَرَ، وَالنَّجَاشِيِّ، فَقِيلَ: إِنَّهُمْ لَا يَقْبَلُونَ كِتَابًا إِلَّا بِخَاتَمٍ، «فَصَاغَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَاتَمًا حَلْقَتُهُ فِضَّةً، نُقِشَ فِيهِ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللهِ» (رواه مسلم)
(وفى رواية للبخارى كَانَ نَقْشُ الخَاتَمِ ثَلاَثَةَ أَسْطُرٍ مُحَمَّدٌ سَطْرٌ، وَرَسُولُ سَطْرٌ، وَاللَّهِ سَطْرٌ)