মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৬৭ টি

হাদীস নং: ২৬১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ খাওয়ার পর আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করা
২৬১. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ্ তা'আলা বান্দার এ কাজ দ্বারা খুব খুশী হন যে, সে কোন কিছু খেয়ে এর উপর আল্লাহর প্রশংসা করে এবং কোন কিছু পান করেও তাঁর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করে। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللهَ لَيَرْضَى عَنِ الْعَبْدِ أَنْ يَأْكُلَ الْأَكْلَةَ فَيَحْمَدَهُ عَلَيْهَا أَوْ يَشْرَبَ الشَّرْبَةَ فَيَحْمَدَهُ عَلَيْهَا» (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৬২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ খাওয়ার পর আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করা
২৬২. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন খাওয়া শেষ করতেন, তখন বলতেন:
الحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مُسْلِمِينَ
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন এবং মুসলমান বানিয়েছেন। -আবূ দাউদ, তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا فَرَغَ مِنْ طَعَامِهِ قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا، وَسَقَانَا، وَجَعَلَنَا مُسْلِمِينَ» (رواه الترمذى وابوداؤد)
হাদীস নং: ২৬৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পান করার আদব ও নীতিমালা: এক শ্বাসে কিছু পান না করা চাই
২৬৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা উটের ন্যায় এক শ্বাসে কিছু পান করো না; বরং দুই দুই অথবা তিন তিন শ্বাসে পান কর। আর যখন পান করতে শুরু কর, তখন বিসমিল্লাহ বল এবং পান শেষে যখন পেয়ালা উঠিয়ে নাও, তখন আল্লাহর প্রশংসা কর। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ تَشْرَبُوا وَاحِدًا كَشُرْبِ البَعِيرِ، وَلَكِنْ اشْرَبُوا مَثْنَى وَثُلاَثَ، وَسَمُّوا إِذَا أَنْتُمْ شَرِبْتُمْ، وَاحْمَدُوا إِذَا أَنْتُمْ رَفَعْتُمْ. (رواه الترمذى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৬৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পান করার আদব ও নীতিমালা: এক শ্বাসে কিছু পান না করা চাই
২৬৪. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন কিছু পান করার সময় তিনবার শ্বাস নিতেন। -বুখারী
[আর মুসলিমের বর্ণনায় এ কথা অতিরিক্ত রয়েছে যে, তিনি বলতেন: এভাবে মাঝে শ্বাস নিয়ে পান করার মধ্যে অধিক তৃপ্তি লাভ হয়। এটা স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী ও পেটের জন্যও ভালো।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَنَفَّسُ فِي الشَّرَابِ ثَلَاثًا (رواه البخارى ومسلم) «وزاد مسلم إِنَّهُ أَرْوَى وَأَبْرَأُ وَأَمْرَأُ»
হাদীস নং: ২৬৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পানীয় পাত্রে শ্বাস নেওয়া ও ফুঁক দেওয়া উচিত নয়
২৬৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পানীয় পাত্রে শ্বাস ফেলতে অথবা ফুঁক দিতে নিষেধ করেছেন। -আবূ দাউদ, ইবনে মাজাহ্
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُتَنَفَّسَ فِي الْإِنَاءِ، أَوْ يُنْفَخَ فِيهِ» (رواه ابوداؤد وابن ماجه)
হাদীস নং: ২৬৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পান করার নিষিদ্ধতা
২৬৬. হযরত আনাস রাযি. সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পান করতে নিষেধ করেছেন। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «أَنَّهُ نَهَى أَنْ يَشْرَبَ الرَّجُلُ قَائِمًا» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ২৬৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পোশাকের বিধি-বিধান ও নীতিমালা এ অধ্যায়ের শিক্ষাবলীর মূল ভিত্তি

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেভাবে উঠা-বসা, নিদ্রা ও জাগ্রত হওয়া এবং খানা পিনা ইত্যাদি জীবনের সকল বিষয় সম্পর্কে বিধি-বিধান ও আদব শিক্ষা দিয়েছেন এবং বলে দিয়েছেন যে, এটা হালাল, এটা হারাম, এটা সঠিক, এটা ভুল, এটা সংগত ও এটা অসংগত; তেমনিভাবে পোশাক ও কাপড় ব্যবহার সম্পর্কেও তিনি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
এ অধ্যায়ে তাঁর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার মূল ও ভিত্তি হচ্ছে সূরা আ'রাফের এ আয়াত:

یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ قَدۡ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡکُمۡ لِبَاسًا یُّوَارِیۡ سَوۡاٰتِکُمۡ وَرِیۡشًا ؕ وَلِبَاسُ التَّقۡوٰی ۙ ذٰلِکَ خَیۡرٌ
হে আদম সন্তান। আমি তোমাদেরকে পোষাক দিয়েছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান ঢেকে রাখবে, আর এটা তোমাদের জন্য ভূষণও। আর তাকওয়ার লেবাসই হচ্ছে উৎকৃষ্ট। (সূরা আ'রাফ, আয়াত-২৬)
এ আয়াতে লেবাস ও পোশাকের দু'টি বিশেষ উপকারিতার কথা বলা হয়েছে। (১) সতর ঢাকা অর্থাৎ, মানবদেহের ঐসব অঙ্গ ঢেকে রাখা, যেগুলোর প্রতি অন্যদের দৃষ্টি না পড়া চাই। (২) শোভা ও সৌন্দর্য অর্থাৎ, মানুষকে দেখতে যেন ভালো ও সুসজ্জিত মনে হয় এবং পশুদের ন্যায় উলঙ্গ ও বিশ্রীভাবে চলাফেরা না করে। শেষে বলা হয়েছে: وَلِبَاسُ التَّقۡوٰی ۙ ذٰلِکَ خَیۡرٌ আল্লাহর নিকট ও বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে ঐ পোশাকই উত্তম, যা তাকওয়া ও খোদাভীতির নীতি মালার সাথে সংগতিপূর্ণ এবং যাতে আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর বিধানের বিপরীত কিছু করা হয়নি; বরং নাযিলকৃত শরী‘আত অনুসরণ করা হয়েছে। এমন প্রতিটি পোশাক নিঃসন্দেহে কল্যাণের বস্তু ও আল্লাহর নেয়ামত, আর কৃতজ্ঞতার সাথে এর ব্যবহার আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হয়।
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকনির্দেশনা ও ব্যক্তিগত কার্যাবলীর প্রতি দৃষ্টিপাত করলে বুঝা যায় যে, এ ব্যাপারে তাঁর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার মৌলিক বিষয় এটাই যে, পোশাক এমন হতে হবে, যার দ্বারা লজ্জানিবারণের উদ্দেশ্য অর্জিত হয় এবং মানুষকে দেখতে সুন্দর ও ব্যক্তিত্বশালী মনে হয়। পোশাক এমন অসম্পূর্ণ না হওয়া চাই, যার দ্বারা সতর ঢাকার উদ্দেশ্যই অর্জিত হয় না এবং এমন নোংরা ও বেমানান না হওয়া চাই যে, সুন্দরের পরিবর্তে মানুষের চেহারাই পাল্টে যায় এবং দর্শকদের মনে ঘৃণা বা ভয়ের উদ্রেক হয়। অনুরূপভাবে সাজ-সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি ও অপচয় করা যাবে না। তদ্রূপ জাঁকজমক প্রদর্শন, শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ ও অহংকার প্রদর্শনও উদ্দেশ্য হবে না। কেননা, এটা দাসত্ব ও আবদিয়াতের পরিপন্থী। তাছাড়া পুরুষ রেশমী কাপড় ব্যবহার করবে না। কেননা, এটা সোনা-রূপার অলংকারের মত মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট। আর পুরুষগণ মেয়েলী পোশাক পরিধান করে মেয়েলী আকৃতি ধারণ করবে না এবং মহিলারা পুরুষদের মত পোশাক পরিধান করে নিজেদের নারী প্রকৃতির প্রতি অবিচার করবে না।
এ প্রসঙ্গে তিনি এ দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন যে, যেসব বান্দার উপর আল্লাহর অনুগ্রহ রয়েছে, তারা যেন এভাবে থাকে এবং এমন পোশাক পরিধান করে, যার দ্বারা বুঝা যায় যে, তাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দান রয়েছে। এটা কৃতজ্ঞতা প্রকাশেরই একটি শাখা। কিন্তু অহেতুক লৌকিকতা প্রদর্শন ও অপচয় থেকে বিরত থাকবে। এর সাথে এ দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে যে, গরীব ও নিঃস্ব বান্দাদের মনঃকষ্ট ও তাদের তুলনায় শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন না হয়। সর্বোপরি প্রতিটি পোশাককে আল্লাহ্ তা'আলার বিশেষ দান মনে করবে এবং শুকরিয়ার সাথে এটা ব্যবহার করবে। এসব বিধি-বিধান ও দিকনির্দেশনার অনুসরণের সাথে প্রতিটি পোশাকের ব্যবহার নিঃসন্দেহে এক ধরনের ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হবে।
এ ভূমিকার পর নিম্নে এ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ পাঠ করে নিন।

পোশাক আল্লাহর নেয়ামত বিশেষ এবং এর উদ্দেশ্য
২৬৭. আবূ মাতার তাবেয়ী থেকে বর্ণিত, হযরত আলী রাযি. তিন দেরহাম দিয়ে একটি কাপড় খরিদ করলেন। তারপর যখন এটা পরিধান করলেন, তখন বললেন:

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي رَزَقَنِي مِنْ الرِّيَاشِ مَا أَتَجَمَّلُ بِهِ فِي النَّاسِ وَأُوَارِي بِهِ عَوْرَتِي

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে শোভার পোশাক দান করেছেন, যার দ্বারা আমি লোকদের মধ্যে সৌন্দর্য লাভ করি এবং নিজের লজ্জা নিবারণ করি।
তারপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে (কাপড় পরিধান করে) এরূপই বলতে শুনেছি। -মুসনাদে আহমাদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي مَطَرٍ، أَنَّ عَلِيًّا اشْتَرَى ثَوْبًا بِثَلاثَةِ دَرَاهِمَ فَلَمَّا لَبِسَهُ قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي رَزَقَنِي مِنَ الرِّيَاشِ مَا أَتَجَمَّلُ بِهِ فِي النَّاسِ، وَأُوَارِي بِهِ عَوْرَتِي» ثُمَّ قَالَ: «هَكَذَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ» (رواه احمد)
হাদীস নং: ২৬৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সতর খোলা থাকে এমন পোশাক ও বেমানান পোশাকের নিষিদ্ধতা
২৬৮. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বাম হাতে খেতে অথবা কেবল এক পায়ে জুতা পরে চলতে নিষেধ করেছেন। তিনি এ বিষয় থেকেও নিষেধ করেছেন যে, কেউ কেবল একটি চাদরে নিজেকে জড়িয়ে ভিতরে আবদ্ধ হয়ে যাবে অথবা একটি কাপড় গুটিয়ে এভাবে বসবে যে, তার সতর খোলা থাকে। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرِ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَأْكُلَ الرَّجُلُ بِشِمَالِهِ، أَوْ يَمْشِيَ فِي نَعْلٍ وَاحِدَةٍ، وَأَنْ يَشْتَمِلَ الصَّمَّاءَ، أَوْ يَحْتَبِيَ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ كَاشِفًا عَنْ فَرْجِهِ». (رواه مسلم)
হাদীস নং: ২৬৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মহিলাদের জন্য বেশী পাতলা কাপড় নিষেধ
২৬৯. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (আমার বোন) আসমা বিনতে আবূ বকর একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে আসলেন। তখন তার শরীরে ছিল পাতলা কাপড়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন, হে আসমা! মেয়েলোক যখন বালেগ হয়ে যায়, তখন এটা ঠিক নয় যে, তার শরীরের কোন অংশ নজরে আসবে এই এই অঙ্গ ছাড়া। এই বলে তিনি উভয় হাত ও চেহারার দিকে ইশারা করলেন। আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ أَسْمَاءَ بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ، دَخَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْهَا ثِيَابٌ رِقَاقٌ، فَأَعْرَضَ عَنْهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَقَالَ: «يَا أَسْمَاءُ، إِنَّ الْمَرْأَةَ إِذَا بَلَغَتِ الْمَحِيضَ لَمْ تَصْلُحْ أَنْ يُرَى مِنْهَا إِلَّا هَذَا وَهَذَا» وَأَشَارَ إِلَى وَجْهِهِ وَكَفَّيْهِ (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ২৭০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শর্ত সাপেক্ষে মহিলাদের জন্য পাতলা কাপড়ও জায়েয
২৭০. হযরত দেহইয়া ইবনে খলীফা কালবী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) এর নিকট কিছু 'কুবাতী' চাদর আসল। তিনি এখান থেকে একটি চাদর আমাকে দান করলেন এবং বললেন, এটা দু' টুকরা করে এক টুকরা দিয়ে তোমার কুর্তা বানিয়ে নাও, আর অপর টুকরাটি তোমার স্ত্রীকে দিয়ে দাও, যদ্দ্বারা সে ওড়না বানিয়ে নিবে। তারপর যখন দেহইয়া উঠে যাচ্ছিলেন, তখন তাকে ডেকে বললেন: তোমার স্ত্রীকে বলে দিয়ো সে যেন এর নীচে একটি কাপড় লাগিয়ে নেয়, যাতে তার শরীর, চুল ইত্যাদি দেখা না যায়। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ دِحْيَةَ بْنِ خَلِيفَةَ الْكَلْبِيِّ قَالَ: أُتِيَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَبَاطِيَّ، فَأَعْطَانِي مِنْهَا قُبْطِيَّةً، فَقَالَ: «اصْدَعْهَا صَدْعَيْنِ، فَاقْطَعْ أَحَدَهُمَا قَمِيصًا، وَأَعْطِ الْآخَرَ امْرَأَتَكَ تَخْتَمِرُ بِهِ»، فَلَمَّا أَدْبَرَ، قَالَ: «وَأْمُرِ امْرَأَتَكَ أَنْ تَجْعَلَ تَحْتَهُ ثَوْبًا لَا يَصِفُهَا» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ২৭১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পোশাকে অহংকার ও প্রদর্শনী নিষেধ
২৭১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে সুখ্যাতি ও প্রদর্শনীর পোশাক পরবে, আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাকে অপমানের পোশাক পরাবেন। -আহমাদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ لَبِسَ ثَوْبَ شُهْرَةٍ أَلْبَسَهُ اللَّهُ ثَوْبَ مَذَلَّةٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» (رواه احمد وابوداؤد وابن ماجه)
হাদীস নং: ২৭২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অহংকারসুলভ পোশাকের নিষিদ্ধতা ও এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী

নববী যুগে আরবের অহংকারী লোকদের এই ফ্যাশন ছিল যে, কাপড় ব্যবহারে তারা খুবই অপচয় করত এবং এটাকে বড়লোকীর চিহ্ন মনে করা হত। ইযার অর্থাৎ, লুঙ্গি এভাবে পরত যে, চলার সময় এর নীচের অংশ মাটিতে ঠেকত। তেমনিভাবে কুর্তা, পাগড়ী ও অন্যান্য কাপড়েও এ ধরনের অপচয়ের মাধ্যমে নিজেদের বড়ত্ব ও আভিজাত্যের প্রদর্শনী করত। এটা যেন নিজের মনের অহংকার ও নিজেকে বড় হিসাবে আত্ম প্রকাশের একটি মাধ্যম ছিল এবং এ কারণে এটা অহংকারীদের এক বিশেষ ফ্যাশনে পরিণত হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটা কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন এবং এ ব্যাপারে কঠিন শাস্তির কথা শুনিয়েছেন।
২৭২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি গর্বভরে নিজের কাপড় ঝুলিয়ে পরে, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার দিকে ফিরেও তাকাবেন না। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلاَءَ، لَمْ يَنْظُرِ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ القِيَامَةِ» (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৭৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অহংকারসুলভ পোশাকের নিষিদ্ধতা ও এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী
২৭৩. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি: মু'মিন বান্দার লুঙ্গি পরার (উত্তম) নিয়ম হচ্ছে এই যে, এটা নিসফেসাক (অর্থাৎ, পায়ের নলার মধ্যবর্তী অংশ) পর্যন্ত থাকবে। নিসফেসাক থেকে পায়ের গিরা পর্যন্ত থাকলেও কোন গুনাহ নেই। আর এর নীচে হলে (এর ফল হবে) জাহান্নাম। কথাটি তিনি তিনবার বললেন। (তারপর বললেন,) আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তির দিকে তাকাবেন না, যে অহংকার বশত নিজ লুঙ্গি ঝুলিয়ে পরে। -আবূ দাউদ, ইবনে মাজাহ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِزْرَةُ الْمُؤْمِنِ إِلَى أَنْصَافِ سَاقَيْهِ، لَا جُنَاحَ عَلَيْهِ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْكَعْبَيْنِ، وَمَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ فِي النَّارِ» . قَالَ: ذَالِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ «وَلَا يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى مَنْ جَرَّ إِزَارَهُ بَطَرًا» (رواه ابوداؤد وابن ماجه)
হাদীস নং: ২৭৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অহংকারসুলভ পোশাকের নিষিদ্ধতা ও এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী
২৭৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি গর্বভরে নিজের কাপড় ঝুলিয়ে পরে, আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার প্রতি তাকাবেন না। (একথা শুনে) হযরত আবু বকর রাযি. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি ভালোভাবে লক্ষ্য না রাখলে আমার লুঙ্গি নীচে ঝুলে যায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন, তুমি তাদের মধ্যে নও, যারা অহংকারের মানসিকতায় এরূপ করে। -বুখারী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلاَءَ، لَمْ يَنْظُرِ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ القِيَامَةِ» فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: إِزَارِىْ يَسْتَرْخِي، إِلَّا أَنْ أَتَعَاهَدَهُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّكَ لَسْتَ مِمَّنْ يَّفْعَلُهُ خُيَلاَءَ» (رواه البخارى)
হাদীস নং: ২৭৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পুরুষদের জন্য রেশম ও সোনা নিষেধ, মহিলাদের জন্য অনুমতি আছে
২৭৫. হযরত আবু মুসা আশআরী রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মতের নারীদের জন্য সোনা ও রেশমী কাপড়ের ব্যবহার হালাল করা হয়েছে, আর পুরুষদের জন্য হারাম করে দেওয়া হয়েছে। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أُحِلَّ الذَّهَبُ وَالْحَرِيرُ لِلْإِنَاثِ مِنْ أُمَّتِي، وَحُرِّمَ عَلَى ذُكُورِهَا» (رواه الترمذى والنسائى)
হাদীস নং: ২৭৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পুরুষদের জন্য গাঢ় লাল রং নিষেধ
২৭৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ) এর পাশ দিয়ে গেল। তখন তার পরনে ছিল দু'টি লাল রংয়ের কাপড়। লোকটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে সালাম দিল; কিন্তু তিনি সালামের উত্তর দিলেন না। -তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: «مَرَّ رَجُلٌ وَعَلَيْهِ ثَوْبَانِ أَحْمَرَانِ، فَسَلَّمَ عَلَيْهِ، فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ» (رواه الترمذى وابوداؤد)
হাদীস নং: ২৭৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পুরুষদের জন্য মেয়েলী পোশাক ও নারীদের জন্য পুরুষদের পোশাক ও বেশ ধারন নিষেধ
২৭৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐসব পুরুষের উপর লা'নত দিয়েছেন, যারা নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, (অর্থাৎ, তাদের মত আকৃতি, তাদের পোশাক ও তাদের চাল-চলন অবলম্বন করে।) আর ঐ নারীদের উপরও লা'নত দিয়েছেন, যারা পুরুষদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে। -বুখারী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ، وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ» (رواه البخارى)
হাদীস নং: ২৭৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পুরুষদের জন্য মেয়েলী পোশাক ও নারীদের জন্য পুরুষদের পোশাক ও বেশ ধারন নিষেধ
২৭৮. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐসব পুরুষকে লা'নত দিয়েছেন, যারা নারীদের পোশাক পরে এবং ঐসব নারীকে লা'নত দিয়েছেন, যারা পুরুষদের পোশাক পরে। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: «لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّجُلَ يَلْبَسُ لِبْسَةَ الْمَرْأَةِ، وَالْمَرْأَةَ تَلْبَسُ لِبْسَةَ الرَّجُلِ» (رواه ابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৭৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পুরুষদের জন্য সাদা কাপড় অধিক পছন্দনীয়
২৭৯. হযরত সামুরা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন: তোমরা সাদা কাপড় পরিধান কর। কেননা, এটা অধিক পবিত্র ও উত্তম। আর তোমরা তোমাদের মুর্দাদেরকে সাদা কাপড়েরই কাফন দাও। -আহমদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ سَمُرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْبَسُوا الثِّيَابَ الْبِيضَ، فَإِنَّهَا أَطْهَرُ، وَأَطْيَبُ وَكَفِّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْ» (رواه احمد والترمذى والنسائى وابن ماجه)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৮০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পুরুষদের জন্য সাদা কাপড় অধিক পছন্দনীয়
২৮০. হযরত আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা সবচেয়ে উত্তম যে কাপড় দিয়ে মসজিদে ও কবরে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করতে পার, সেটা হচ্ছে সাদা কাপড়। ইবনে মাজাহ্
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَحْسَنَ مَا زُرْتُمُ اللَّهَ فِي قُبُورِكُمْ، وَمَسَاجِدِكُمْ، الْبَيَاضُ» (رواه ابن ماجه)