মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৫ টি

হাদীস নং: ৫৯
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়

উম্মতের মধ্যে জন্মলাভকারী দীনী পতন, অবনতি ও ফিতনা বিষয়ক আলোচনা

যেভাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আকীদা, ঈমান, ইবাদত, আখলাক, আচরণ, লেন-দেন, সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ এবং আল্লাহর পথে জিহাদ ইত্যাদি বিষয়ে দিক নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং উম্মতকে পথ প্রদর্শন করেছেন, অনুরূপভাবে ভবিষ্যতে ঘটিতব্য দীনী পতন, পরিবর্তন, অবনতি ও ফিতনাসমূহের ব্যাপারেও উম্মতকে জ্ঞাত করেছেন এবং নির্দেশনা দান করেছেন। আল্লাহ্ তা'আলার তাঁর প্রতি প্রতিভাত করে ছিলেন, যেভাবে পূর্ববর্তী উম্মতের মধ্যে দীনী পতন ও অবনতি এসেছিল আর তারা বিভিন্ন প্রকার গোমরাহী ও ভুলে জড়িত ছিল এবং আল্লাহ্ তা'আলার করুণার দৃষ্টি ও সাহায্য থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, এ অবস্থাই তাঁর উম্মতের ওপর আসবে। এই প্রতিভাত ও অবগত হওয়ার উদ্দেশ্য এটাই ছিল, তিনি উম্মতকে ভবিষ্যতে আগমনকারী বিপদ সম্বন্ধে অবগত ও নির্দেশ প্রদান করবেন।

হাদীসের কিতাবসমূহে ফিতনা অধ্যায় কিংবা কলহ পরিচ্ছেদ শিরোনামে যে সব হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণীর ধারাবাহিকতারই অন্তর্ভুক্ত। এ সবের মর্যাদা কেবল ভবিষ্যতবাণীই নয় বরং এগুলোর উদ্দেশ্য ও দাবি হচ্ছে, উম্মতকে ভবিষৎত ফিতনাসমূহ সম্পর্কে জ্ঞাত করা এবং ঐ সবের প্রভাব থেকে নিরাপদ থাকার বাসনা সৃষ্টি করা ও করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করা।

এ ভূমিকার পর নিম্নে লিপিবদ্ধাধীন হাদীসসমূহ পাঠ করা যেতে পারে। সেগুলোর প্রতি চিন্তা করা যেতে পারে। সেগুলোর আলোকে স্বয়ং নিজের এবং নিজের আশপাশের হিসাব গ্রহণ করা যেতে পারে। এগুলো থেকে পথ প্রদর্শন ও পথ নির্দেশনা অর্জন করা যেতে পারে।
৫৯. হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অবশ্যই এরূপ হবে, তোমরা (অর্থাৎ আমার উম্মতের লোক) আমার পূর্ববর্তী উম্মতদের প্রথার অনুসরণ করবে, অর্ধ হাত সমান অর্ধ হাত, ও গজ সমান গজ-এর ন্যায়। (অর্থাৎ সম্পূর্ণরূপে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলবে।) এমনকি তারা যদি গুই সাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তাতেও তোমরা তাদের অনুসরণ করবে। নিবেদন করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়াহুদী ও নাসারা (উদ্দেশ্য)? তিনি বললেন, তবে আর কারা? (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
کتاب الفتن
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَتَتْبَعُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ شِبْرًا شِبْرًا وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ، حَتَّى لَوْ دَخَلُوا جُحْرَ ضَبٍّ تَبِعْتُمُوهُمْ. قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى قَالَ: فَمَنْ؟ (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৬০
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উম্মতের মধ্যে জন্মলাভকারী দীনী পতন, অবনতি ও ফিতনা বিষয়ক আলোচনা
৬০. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে 'আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত, (একদিন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় এক হাতের অঙ্গুলীসমূহ অন্য হাতের অঙ্গুলীসমূহের মধ্যে ঢেলে আমাকে (সম্বোধন) করে বললেন। হে আব্দুল্লাহ্ ইবনে 'আমর! তখন তোমার কি অবস্থা হবে? এবং কি রীতি হবে? যখন কেবল অকেজো লোক বাকি থাকবে। তাদের চুক্তি ও লেন-দেন ধোঁকাবাজী হবে। তাদের মধ্যে (শক্ত) মতভেদ (ও ঝগড়া) হবে। আর তারা পরস্পর লড়াইয়ে এরূপ জড়িয়ে যাবে (যেমন আমার এক হাতের অঙ্গুলীসমূহ অন্য হাতের অঙ্গুলীসমূহে জড়িয়ে গেছে) আব্দুল্লাহ্ ইবনে 'আমর (রা) নিবেদন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এরপর আমার কি হবে? (অর্থাৎ এই সাধারণ ফাসাদের কালে আমার কি করা উচিত?) তিনি বললেন, যে কথা এবং যে কাজ তুমি উত্তম বলে জান তা গ্রহণ কর, আর যা মন্দ বলে জান তা ছেড়ে দাও। আর নিজের পূর্ণ দৃষ্টি বিশেষ করে নিজের ওপর রাখ। (এবং নিজের চিন্তা কর) আর সেই অকেজো অযোগ্য ও পরস্পর ঝগড়া-কলহকামী এবং তাদের সাধারণ লোকদের ছেড়ে দেবে। অর্থাৎ তাদের প্রতিবাদ করবে না। (সহীহ বুখারী)
کتاب الفتن
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍوقَالَ: «شَبَكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصَابِعَهُ» وَقَالَ كَيْفَ أَنْتَ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو إِذَا بَقِيتَ حُثَالَةٌ قَدْ مَرِجَتْ عُهُودُهُمْ، وَأَمَانَاتُهُمْ، وَاخْتَلَفُوا، فَصَارُوْا هَكَذَا قَالَ: فَكَيْفَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: تَأْخُذُ مَا تَعْرِفُ وَتَدَعُ مَا تُنْكِرُ وَتُقْبِلُ عَلَى خَاصَّتِكَ، وَتَدَعُهُمْ وَعَوَامَهُمْ. (رواه البخارى)
হাদীস নং: ৬১
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উম্মতের মধ্যে জন্মলাভকারী দীনী পতন, অবনতি ও ফিতনা বিষয়ক আলোচনা
৬১. হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অতি নিকটেই এমন যুগ আসবে যে, একজন মুসলমানের উত্তম সম্পদ হবে বকরির পাল। যে গুলো নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় চূড়ায় ও বৃষ্টি বর্ষিত মাঠে ফিরবে, ফিতনা থেকে নিজের দীনকে বাঁচাতে পালিয়ে থাকবে। (সহীহ বুখারী)
کتاب الفتن
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خَيْرَ مَالِ الْمُسْلِمِ غَنَمٌ، يَتْبَعُ بِهَا شَعَفَ الْجِبَالِ وَمَوَاقِعَ الْقَطْرِ، يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الْفِتَنِ. (رواه البخارى)
হাদীস নং: ৬২
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উম্মতের মধ্যে জন্মলাভকারী দীনী পতন, অবনতি ও ফিতনা বিষয়ক আলোচনা
৬২. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যে, ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে দীনে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি তখন সেই লোকের মত হবে, যে হাতে জলন্ত অঙ্গার ধরে আছে। (জামি' তিরমিযী)
کتاب الفتن
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ الصَّابِرُ فِيهِمْ عَلَى دِينِهِ كَالْقَابِضِ عَلَى الْجَمْرِ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৬৩
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উম্মতের মধ্যে জন্মলাভকারী দীনী পতন, অবনতি ও ফিতনা বিষয়ক আলোচনা
৬৩. হযরত আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলাল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা এমন যুগে রয়েছ যে, তোমাদের কেউ এ যুগে আল্লাহর আহকামের (অধিকাংশের ওপর) আমল করে, কেবল দশমাংশের আমল ছেড়ে দেয় তবে সে ধবংস হয়ে যাবে। (তার কল্যাণ নেই) এরপর এমন এক যুগও আসবে, তখন যে ব্যক্তি আল্লাহর আহকামের কেবল দশমাংশের ওপর আমল করবে সে নাজাতের যোগ্য হবে। (জামি' তিরমিযী)
کتاب الفتن
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّكَ فِي زَمَانٍ مَنْ تَرَكَ مِنْكُمْ عُشْرَ مَا أُمِرَ بِهِ هَلَكَ ثُمَّ يَأْتِي زَمَانٌ مَنْ عَمِلَ مِنْهُمْ بِعُشْرِ مَا أُمِرَ بِهِ نَجَا. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৬৪
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সম্পদ, বিলাসিতা ও দুনিয়াপ্রীতির ফিতনা।
৬৪. মুহাম্মদ ইবনে কা'ব কুরাযী (রহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি হযরত আলী ইবনে আবূ তালিব (রা) থেকে স্বয়ং এ ঘটনা শুনে ছিলেন তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে মসজিদে বসা ছিলাম। ইত্যবসরে মুস'আব ইবনে উমাইর (রা) এরূপ অবস্থা ও আকৃতিতে সামনে এলেন যে, তার শরীরে কেবল একটি (ফাঁটা জীর্ণ) চাদর ছিল। তা ছিল চামড়ার তালিযুক্ত। এই অবস্থা ও আকৃতিতে তাকে দেখে তার সেই অবস্থা স্মরণ করে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেঁদে ফেললেন, যখন তিনি (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মক্কায়) বিলাসিতা ও প্রাচুর্যের জীবন যাপন করতেন। অথচ তাঁর (দারিদ্র ও উপবাসের) বর্তমান অবস্থা এই। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (আমাদের সম্বোধন করে) বললেন, (বল!) তখন তোমাদের কিরূপ অবস্থা হবে, যখন (সম্পদ ও বিলাসিতার উপকরণের এমন প্রাচুর্য হবে যে) তোমাদের কেউ সকাল বেলা এক জোড়া কাপড় পরে বের হবে আর সন্ধ্যা বেলা অন্য জোড়া পরে? খাওয়ার জন্য তার সামনে এক পাত্র রাখা হবে আর অন্য পাত্র উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে? আর কা'বার গায়ে চাদর পরানোর ন্যায় তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কাপড় পরাবে। তাঁর এই প্রশ্নের উত্তরে উপস্থিতির মধ্যে (কতক) লোকজন নিবেদন করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! বর্তমানের তুলনায় তখন আমাদের অবস্থা অনেক ভাল হবে। আল্লাহর ইবাদতের জন্য আমরা পূর্ণ অবসর পাব। জীবিকা ইত্যাদির জন্য কায়-কষ্ট বহন করতে হবে না। রাসূলুল্লাহ্ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, না! তোমরা বর্তমান (দারিদ্র ও উপবাসের এই যুগে বিলাসিতা ও প্রাচুর্যের) সেই দিনের তুলনায় অনেক ভাল আছ। (জামি' তিরমিযী)
کتاب الفتن
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي مَنْ سَمِعَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ يَقُولُ إِنَّا لَجُلُوسٌ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَسْجِدِ إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ مَا عَلَيْهِ إِلاَّ بُرْدَةٌ لَهُ مَرْقُوعَةٌ بِفَرْوٍ فَلَمَّا رَآهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَكَى لِلَّذِي كَانَ فِيهِ مِنَ النِّعْمَةِ وَالَّذِي هُوَ الْيَوْمَ فِيهِ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَيْفَ بِكُمْ إِذَا غَدَا أَحَدُكُمْ فِي حُلَّةٍ وَرَاحَ فِي حُلَّةٍ وَوُضِعَتْ بَيْنَ يَدَيْهِ صَحْفَةٌ وَرُفِعَتْ أُخْرَى وَسَتَرْتُمْ بُيُوتَكُمْ كَمَا تُسْتَرُ الْكَعْبَةُ. قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ خَيْرٌ مِنَّا الْيَوْمَ نَتَفَرَّغُ لِلْعِبَادَةِ وَنُكْفَى الْمُؤْنَةَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لأَنْتُمُ الْيَوْمَ خَيْرٌ مِنْكُمْ يَوْمَئِذٍ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৬৫
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সম্পদ, বিলাসিতা ও দুনিয়াপ্রীতির ফিতনা।
৬৫. হযরত সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অচিরেই (এরূপ সময় আসবে) যে, (শত্রু) জাতিসমূহ তোমাদের বিরুদ্ধে (যুদ্ধ করতে এবং তোমাদেরকে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য) পরস্পর একে অন্যকে আহ্বান করবে, যেরূপ ভোজন-বিলাসীগণ খাবারের পাত্রের দিকে একে অন্যকে আহ্বান করতে থাকে। জনৈক নিবেদনকারী নিবেদন করলেন, সে দিন কি আমাদের সংখ্যাল্পতার কারণে এরূপ হবে? তিনি বললেন, (না) বরং তখন তোমরা সংখ্যাধিক্য হবে, কিন্তু তোমরা বন্যায় ভাসা খড়-কুঠার ন্যায় (প্রাণহীন ও ওজনহীন) হবে। আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের ভীতি দূর করে দেবেন। আর (এর বিপরীত) তোমাদের অন্তরে 'অহন' ঢেলে দেবেন। জিজ্ঞাসাকারী জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। 'অহন' কি? তিনি বললেন, দুনিয়ার ভালবাসা ও মৃত্যুকে অপসন্দ। (সুনানে আবু দাউদ, দালাইলু স্নবুওয়ত)
کتاب الفتن
عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يُوشِكُ الأُمَمُ أَنْ تَدَاعَى عَلَيْكُمْ كَمَا تَدَاعَى الأَكَلَةُ إِلَى قَصْعَتِهَا. فَقَالَ قَائِلٌ وَمِنْ قِلَّةٍ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ قَالَ: بَلْ أَنْتُمْ يَوْمَئِذٍ كَثِيرٌ وَلَكِنَّكُمْ غُثَاءٌ كَغُثَاءِ السَّيْلِ وَلَيَنْزِعَنَّ اللَّهُ مِنْ صُدُورِ عَدُوِّكُمُ الْمَهَابَةَ مِنْكُمْ وَلَيَقْذِفَنَّ اللَّهُ فِي قُلُوبِكُمُ الْوَهَنَ. فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْوَهَنُ قَالَ: حُبُّ الدُّنْيَا وَكَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ. (رواه ابوداؤد والبيهقى فى دلائل النبوة)
হাদীস নং: ৬৬
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সম্পদ, বিলাসিতা ও দুনিয়াপ্রীতির ফিতনা।
৬৬. হযরত আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যখন (অবস্থা এই হবে যে) তোমাদের শাসক তোমাদের উত্তম লোক হবে। তোমাদের সম্পদশালীগণ দানশীল হবে, আর তোমাদের বিষয়াবলি পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে নিষ্পন্ন হবে তখন (এরূপ অবস্থায়) যমীনের উপরিভাগ তোমাদের জন্য এর ভিতরের ভাগ (পেট) থেকে উত্তম। আর (এর বিপরীত) যখন অবস্থা এরূপ হবে যে, তোমাদের শাসকগণ তোমাদের নিকৃষ্টতম লোক হবে, তোমাদের সম্পদশালীগণ (দানশীলতার পরিবর্তে) কৃপণ ও সম্পদ পূজারী হবে এবং তোমাদের বিষয়াবলি (সিদ্ধান্ত দাতাদের পরিবর্তে) তোমাদের নারীদের সিদ্ধান্তে চলবে, তখন (এরূপ অবস্থায়) যমীনের নিম্নভাগ (পেট) তোমাদের জন্য এর উপরী ভাগ হতে উত্তম। (জামি' তিরমিযী)
کتاب الفتن
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا كَانَ أُمَرَاؤُكُمْ خِيَارَكُمْ وَأَغْنِيَاؤُكُمْ سُمَحَاءَكُمْ وَأُمُورُكُمْ شُورَى بَيْنَكُمْ فَظَهْرُ الأَرْضِ خَيْرٌ لَكُمْ مِنْ بَطْنِهَا وَإِذَا كَانَ أُمَرَاؤُكُمْ شِرَارَكُمْ وَأَغْنِيَاؤُكُمْ بُخَلاَءَكُمْ وَأُمُورُكُمْ إِلَى نِسَائِكُمْ فَبَطْنُ الأَرْضِ خَيْرٌ لَكُمْ مِنْ ظَهْرِهَا. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৬৭
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উম্মতে সৃষ্টি লাভকারী ফিতনাসমূহের বর্ণনা
৬৭. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অন্ধকার রাতের অংশগুলোর ন্যায় একের পর এক ফিতনাসমূহ আসার পূর্বেই নেক কাজে তাড়াতাড়ি কর। অবস্থা এই দাঁড়াবে সকালবেলা মানুষ মু'মিন হবে আর সন্ধ্যাবেলা কাফির হবে। আর সন্ধ্যাবেলা মু'মিন হবে এবং সকালবেলা কাফির হবে, আর দুনিয়ার সল্প সম্পদের জন্য তারা দীন ও ঈমান বিক্রি করে দেবে। (সহীহ, মুসলিম)
کتاب الفتن
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: بَادِرُوا بِالأَعْمَالِ فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا أَوْ يُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا يَبِيعُ دِينَهُ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৬৮
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উম্মতে সৃষ্টি লাভকারী ফিতনাসমূহের বর্ণনা
৬৮. হযরত মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খলতে শুনেছি, নিঃসন্দেহে সেই লোক সৌভাগ্যবান যাকে ফিতনাসমূহ থেকে দূরে রাখা হয়েছে। নিঃসন্দেহে সেই লোক সৌভাগ্যবান যাকে ফিতনাসমূহ থেকে দূরে রাখা হয়েছে। নিঃসন্দেহে সেই লোক সৌভাগ্যবান যাকে ফিতনাসমূহ থেকে দূরে রাখা হয়েছে। আর যাকে ফিতনায় পতিত করা হয়েছে, এবং সে ধৈর্য ধারণ করেছে। (তাঁর কথা কী বলা!) তাকে ধন্যবাদ ও মুবারকবাদ। (সুনানে আবু দাউদ)
کتاب الفتن
عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الأَسْوَدِ قَالَ لَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ وَلَمَنِ ابْتُلِيَ فَصَبَرَ فَوَاهًا. (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ৬৯
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উম্মতে সৃষ্টি লাভকারী ফিতনাসমূহের বর্ণনা
৬৯. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, (সময় আসবে) যুগ পরস্পর নিকটবর্তী হয়ে যাবে এবং ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে, আর ফিতনাসমূহ প্রকাশ পাবে, (মনুষ্য প্রকৃতি ও অন্তরসমূহে) কৃপণতা ঢেলে দেওয়া হবে এবং অনেক 'হরয' হবে। সাহাবা কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, 'হরয'-এর অর্থ কি? তিনি বললেন, (এর অর্থ) হত্যা। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
کتاب الفتن
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَتَقَارَبُ الزَّمَانُ وَيُقْبَضُ الْعِلْمُ وَتَظْهَرُ الْفِتَنُ وَيُلْقَى الشُّحُّ وَيَكْثُرُ الْهَرْجُ. قَالُوا وَمَا الْهَرْجُ؟ قَالَ: الْقَتْلُ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৭০
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উম্মতে সৃষ্টি লাভকারী ফিতনাসমূহের বর্ণনা
৭০. হযরত মা'কাল ইবনে ইয়াসার (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ব্যাপক খুনের যুগে ইবাদতে ব্যস্ত হয়ে থাকা এরূপ যেমন হিজরত করে আমার প্রতি আসা। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب الفتن
عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْعِبَادَةُ فِي الْهَرْجِ كَهِجْرَةٍ إِلَيَّ. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৭১
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উম্মতে সৃষ্টি লাভকারী ফিতনাসমূহের বর্ণনা
৭১. হযরত যুবাইর ইবনে 'আদী তাবিঈ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা)-এর দরবারে হাযির হলাম। আমরা তাঁকে হাজ্জাজের অত্যাচারের অভিযোগ করলাম। তিনি বললেন, (এই অত্যাচার ও মুসীবতের ওপর) ধৈর্য ধারণ কর। আর বিশ্বাস কর, যে যুগ তোমাদের প্রতি আসবে তার পরের যুগ তার থেকে নিকৃষ্ট হবে। এমনকি তোমাদের আত্মা স্বীয় প্রতিপালকের সাথে মিলিত হবে। এ কথা আমি তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট থেকে শুনেছি। (সহীহ বুখারী)
کتاب الفتن
عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ قَالَ أَتَيْنَا أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ فَشَكَوْنَا إِلَيْهِ مَا نَلْقَى مِنَ الْحَجَّاجِ فَقَالَ: اصْبِرُوا، فَإِنَّهُ لاَ يَأْتِي عَلَيْكُمْ زَمَانٌ إِلاَّ الَّذِي بَعْدَهُ شَرٌّ مِنْهُ، حَتَّى تَلْقَوْا رَبَّكُمْ. سَمِعْتُهُ مِنْ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. (رواه البخارى)
হাদীস নং: ৭২
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উম্মতে সৃষ্টি লাভকারী ফিতনাসমূহের বর্ণনা
৭২. হযরত সাফীনা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, খিলাফত কেবল তিরিশ বছর। এরপর বাদশাহী হবে। অতঃপর হযরত সাফীনা (রা) বলেন, হিসাব কর আবু বকরের খিলাফত দু'বছর, উমর (রা)-এর খিলাফত দশ বছর, উসমান (রা)-এর খিলাফত বার বছর, আর আলী (রা)-এর খিলাফত ছয় বছর। (মুসনাদে আহমদ, জামি' তিরমিযী, সুনানে আবু দাউদ)
کتاب الفتن
عَنْ سَفِينَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «الْخِلَافَةُ ثَلَاثُونَ ثُمَّ يَكُوْنُ مُلْكًا ثُمَّ يَقُوْلُ سَفِينَةُ: أَمْسِكْ خِلَافَةَ أَبِي بَكْرٍ سَنَتَيْنِ، وَخِلَافَةَ عُمَرَ عَشْرَةً، وَعُثْمَانَ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ، وَعَلِيٍّ ستة. (رواه احمد والترمذى وابوداؤد)
হাদীস নং: ৭৩
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উম্মতে সৃষ্টি লাভকারী ফিতনাসমূহের বর্ণনা
৭৩. হযরত হুযাইফা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম (একদিন ওয়াজ ও বয়ানের জন্য) দাঁড়ালেন। সেই বয়ানে কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য কোন বিষয়ই বাকি রাখেননি। তা স্মরণ রেখেছে, যে ব্যক্তি স্মরণ রেখেছে। আর তা ভুলে বসেছে, যে ব্যক্তি ভুলেছে। আমার সেই সাথীদেরও এ কথা জানা আছে। আর ঘটনা হচ্ছে, তাঁর সেই বয়ানের কোন বিষয় আমি ভুলে যেতাম, এরপর তা হতে দেখি, তখন বিষয়টি আমার স্মরণে এসে যায়। যেভাবে এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির চেহারা ভুলে যায় যখন সে তার থেকে দূরে চলে যায়। এর পর যখন তাকে দেখে তখন চিনতে পারে। (ভুলে যাওয়া চেহারা স্মরণ হয়।) (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
کتاب الفتن
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقَامًا مَا تَرَكَ شَيْئًا يَكُونُ فِي مَقَامِهِ ذَلِكَ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ إِلاَّ حَدَّثَ بِهِ حَفِظَهُ مَنْ حَفِظَهُ وَنَسِيَهُ مَنْ نَسِيَهُ قَدْ عَلِمَهُ أَصْحَابِي هَؤُلاَءِ وَإِنَّهُ لَيَكُونُ مِنْهُ الشَّيْءُ قَدْ نَسِيتُهُ فَأَرَاهُ فَأَذْكُرُهُ كَمَا يَذْكُرُ الرَّجُلُ وَجْهَ الرَّجُلِ إِذَا غَابَ عَنْهُ ثُمَّ إِذَا رَآهُ عَرَفَهُ. (رواه البخارى ومسلم)