মা'আরিফুল হাদীস
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৯
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
উম্মতের মধ্যে জন্মলাভকারী দীনী পতন, অবনতি ও ফিতনা বিষয়ক আলোচনা
যেভাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আকীদা, ঈমান, ইবাদত, আখলাক, আচরণ, লেন-দেন, সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ এবং আল্লাহর পথে জিহাদ ইত্যাদি বিষয়ে দিক নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং উম্মতকে পথ প্রদর্শন করেছেন, অনুরূপভাবে ভবিষ্যতে ঘটিতব্য দীনী পতন, পরিবর্তন, অবনতি ও ফিতনাসমূহের ব্যাপারেও উম্মতকে জ্ঞাত করেছেন এবং নির্দেশনা দান করেছেন। আল্লাহ্ তা'আলার তাঁর প্রতি প্রতিভাত করে ছিলেন, যেভাবে পূর্ববর্তী উম্মতের মধ্যে দীনী পতন ও অবনতি এসেছিল আর তারা বিভিন্ন প্রকার গোমরাহী ও ভুলে জড়িত ছিল এবং আল্লাহ্ তা'আলার করুণার দৃষ্টি ও সাহায্য থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, এ অবস্থাই তাঁর উম্মতের ওপর আসবে। এই প্রতিভাত ও অবগত হওয়ার উদ্দেশ্য এটাই ছিল, তিনি উম্মতকে ভবিষ্যতে আগমনকারী বিপদ সম্বন্ধে অবগত ও নির্দেশ প্রদান করবেন।
হাদীসের কিতাবসমূহে ফিতনা অধ্যায় কিংবা কলহ পরিচ্ছেদ শিরোনামে যে সব হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণীর ধারাবাহিকতারই অন্তর্ভুক্ত। এ সবের মর্যাদা কেবল ভবিষ্যতবাণীই নয় বরং এগুলোর উদ্দেশ্য ও দাবি হচ্ছে, উম্মতকে ভবিষৎত ফিতনাসমূহ সম্পর্কে জ্ঞাত করা এবং ঐ সবের প্রভাব থেকে নিরাপদ থাকার বাসনা সৃষ্টি করা ও করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করা।
এ ভূমিকার পর নিম্নে লিপিবদ্ধাধীন হাদীসসমূহ পাঠ করা যেতে পারে। সেগুলোর প্রতি চিন্তা করা যেতে পারে। সেগুলোর আলোকে স্বয়ং নিজের এবং নিজের আশপাশের হিসাব গ্রহণ করা যেতে পারে। এগুলো থেকে পথ প্রদর্শন ও পথ নির্দেশনা অর্জন করা যেতে পারে।
উম্মতের মধ্যে জন্মলাভকারী দীনী পতন, অবনতি ও ফিতনা বিষয়ক আলোচনা
যেভাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আকীদা, ঈমান, ইবাদত, আখলাক, আচরণ, লেন-দেন, সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ এবং আল্লাহর পথে জিহাদ ইত্যাদি বিষয়ে দিক নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং উম্মতকে পথ প্রদর্শন করেছেন, অনুরূপভাবে ভবিষ্যতে ঘটিতব্য দীনী পতন, পরিবর্তন, অবনতি ও ফিতনাসমূহের ব্যাপারেও উম্মতকে জ্ঞাত করেছেন এবং নির্দেশনা দান করেছেন। আল্লাহ্ তা'আলার তাঁর প্রতি প্রতিভাত করে ছিলেন, যেভাবে পূর্ববর্তী উম্মতের মধ্যে দীনী পতন ও অবনতি এসেছিল আর তারা বিভিন্ন প্রকার গোমরাহী ও ভুলে জড়িত ছিল এবং আল্লাহ্ তা'আলার করুণার দৃষ্টি ও সাহায্য থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, এ অবস্থাই তাঁর উম্মতের ওপর আসবে। এই প্রতিভাত ও অবগত হওয়ার উদ্দেশ্য এটাই ছিল, তিনি উম্মতকে ভবিষ্যতে আগমনকারী বিপদ সম্বন্ধে অবগত ও নির্দেশ প্রদান করবেন।
হাদীসের কিতাবসমূহে ফিতনা অধ্যায় কিংবা কলহ পরিচ্ছেদ শিরোনামে যে সব হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে তা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণীর ধারাবাহিকতারই অন্তর্ভুক্ত। এ সবের মর্যাদা কেবল ভবিষ্যতবাণীই নয় বরং এগুলোর উদ্দেশ্য ও দাবি হচ্ছে, উম্মতকে ভবিষৎত ফিতনাসমূহ সম্পর্কে জ্ঞাত করা এবং ঐ সবের প্রভাব থেকে নিরাপদ থাকার বাসনা সৃষ্টি করা ও করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করা।
এ ভূমিকার পর নিম্নে লিপিবদ্ধাধীন হাদীসসমূহ পাঠ করা যেতে পারে। সেগুলোর প্রতি চিন্তা করা যেতে পারে। সেগুলোর আলোকে স্বয়ং নিজের এবং নিজের আশপাশের হিসাব গ্রহণ করা যেতে পারে। এগুলো থেকে পথ প্রদর্শন ও পথ নির্দেশনা অর্জন করা যেতে পারে।
৫৯. হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অবশ্যই এরূপ হবে, তোমরা (অর্থাৎ আমার উম্মতের লোক) আমার পূর্ববর্তী উম্মতদের প্রথার অনুসরণ করবে, অর্ধ হাত সমান অর্ধ হাত, ও গজ সমান গজ-এর ন্যায়। (অর্থাৎ সম্পূর্ণরূপে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলবে।) এমনকি তারা যদি গুই সাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তাতেও তোমরা তাদের অনুসরণ করবে। নিবেদন করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়াহুদী ও নাসারা (উদ্দেশ্য)? তিনি বললেন, তবে আর কারা? (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
کتاب الفتن
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَتَتْبَعُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ شِبْرًا شِبْرًا وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ، حَتَّى لَوْ دَخَلُوا جُحْرَ ضَبٍّ تَبِعْتُمُوهُمْ. قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى قَالَ: فَمَنْ؟ (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
شِبر এর অর্থ অর্ধ হাত (অর্থাৎ লম্বিত কনিষ্ঠাঙ্গুলী থেকে বৃদ্ধাংঙ্গুলীর মাথা পর্যন্ত-অনুবাদক) আর ذِرَاعًا এর অর্থ হাতের আঙ্গুল গুলো থেকে কনুই পর্যন্ত পরিমাণ যা ঠিক দুই অর্ধ হাত সমান হয়ে থাকে। হাদীসের শব্দাবলি شِبْرًا بشِبر وَذِرَاعًا بِذِراع -এর উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ তাই যা উর্দু পরিভাষায় কদম বকদম (পায়ে পায়ে) বলা হয়ে থাকে। রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীসমূহের উদ্দেশ্য এই যে, অবশ্যই এরূপ এক সময় আসবে যে, আমার উম্মতের কতক লোক পূর্ববর্তী উম্মতের পথভ্রষ্ট লোকদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে। যে সব গোমরাহী ও গর্হীত কাজে তারা লিপ্ত ছিল সে গুলো উম্মতের মধ্যে দেখা দিবে। এমনকি যদি তাদের মধ্যে কোন পাগল ('ضب' গুঁই সাপ)-এর গর্তে প্রবেশের চেষ্টা করে থাকে তবে আমার উম্মতের মধ্যেও এরূপ পাগল হবে, যে এ জাতীয় পাগলামী চেষ্টা করবে। (উদ্দেশ্য এই যে, এজাতীয় বোকামী কর্ম প্রচেষ্টায়ও তাদের অনুসরণ ও ভাঁড়ামি করবে। প্রকৃত পক্ষে এটা পূর্ণমাত্রায় অনুসরণ ও ভাঁড়ামির এক তুলনামূলক ব্যাখ্যা)
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ কথা শুনে জনৈক সাহাবী নিবেদন করলেন। ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের পূর্ববর্তী উম্মত দ্বারা কি ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান উদ্দেশ্য? তিনি বললেন, তারা নয় তো আর কে? অর্থাৎ আমার উদ্দেশ্য ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানই।
এটা কেবল ভবিষ্যতবাণীই নয়, বরং বিরাট প্রতিক্রিয়াশীল প্রক্রিয়ায় একটি ঘোষণা যে, আমার প্রতি ঈমান গ্রহণকারীগণ সাবধান ও হুশিয়ার থাকবে এবং ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের গোমরাহী ও ভ্রান্ত কাজ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার চিন্তায় কখনো অমনোযোগী হবে না।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ কথা শুনে জনৈক সাহাবী নিবেদন করলেন। ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের পূর্ববর্তী উম্মত দ্বারা কি ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান উদ্দেশ্য? তিনি বললেন, তারা নয় তো আর কে? অর্থাৎ আমার উদ্দেশ্য ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানই।
এটা কেবল ভবিষ্যতবাণীই নয়, বরং বিরাট প্রতিক্রিয়াশীল প্রক্রিয়ায় একটি ঘোষণা যে, আমার প্রতি ঈমান গ্রহণকারীগণ সাবধান ও হুশিয়ার থাকবে এবং ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের গোমরাহী ও ভ্রান্ত কাজ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার চিন্তায় কখনো অমনোযোগী হবে না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)