মা'আরিফুল হাদীস
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
হাদীস নং: ৬৪
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
সম্পদ, বিলাসিতা ও দুনিয়াপ্রীতির ফিতনা।
৬৪. মুহাম্মদ ইবনে কা'ব কুরাযী (রহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি হযরত আলী ইবনে আবূ তালিব (রা) থেকে স্বয়ং এ ঘটনা শুনে ছিলেন তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে মসজিদে বসা ছিলাম। ইত্যবসরে মুস'আব ইবনে উমাইর (রা) এরূপ অবস্থা ও আকৃতিতে সামনে এলেন যে, তার শরীরে কেবল একটি (ফাঁটা জীর্ণ) চাদর ছিল। তা ছিল চামড়ার তালিযুক্ত। এই অবস্থা ও আকৃতিতে তাকে দেখে তার সেই অবস্থা স্মরণ করে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেঁদে ফেললেন, যখন তিনি (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মক্কায়) বিলাসিতা ও প্রাচুর্যের জীবন যাপন করতেন। অথচ তাঁর (দারিদ্র ও উপবাসের) বর্তমান অবস্থা এই। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (আমাদের সম্বোধন করে) বললেন, (বল!) তখন তোমাদের কিরূপ অবস্থা হবে, যখন (সম্পদ ও বিলাসিতার উপকরণের এমন প্রাচুর্য হবে যে) তোমাদের কেউ সকাল বেলা এক জোড়া কাপড় পরে বের হবে আর সন্ধ্যা বেলা অন্য জোড়া পরে? খাওয়ার জন্য তার সামনে এক পাত্র রাখা হবে আর অন্য পাত্র উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে? আর কা'বার গায়ে চাদর পরানোর ন্যায় তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কাপড় পরাবে। তাঁর এই প্রশ্নের উত্তরে উপস্থিতির মধ্যে (কতক) লোকজন নিবেদন করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! বর্তমানের তুলনায় তখন আমাদের অবস্থা অনেক ভাল হবে। আল্লাহর ইবাদতের জন্য আমরা পূর্ণ অবসর পাব। জীবিকা ইত্যাদির জন্য কায়-কষ্ট বহন করতে হবে না। রাসূলুল্লাহ্ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, না! তোমরা বর্তমান (দারিদ্র ও উপবাসের এই যুগে বিলাসিতা ও প্রাচুর্যের) সেই দিনের তুলনায় অনেক ভাল আছ। (জামি' তিরমিযী)
کتاب الفتن
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي مَنْ سَمِعَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ يَقُولُ إِنَّا لَجُلُوسٌ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَسْجِدِ إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ مَا عَلَيْهِ إِلاَّ بُرْدَةٌ لَهُ مَرْقُوعَةٌ بِفَرْوٍ فَلَمَّا رَآهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَكَى لِلَّذِي كَانَ فِيهِ مِنَ النِّعْمَةِ وَالَّذِي هُوَ الْيَوْمَ فِيهِ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَيْفَ بِكُمْ إِذَا غَدَا أَحَدُكُمْ فِي حُلَّةٍ وَرَاحَ فِي حُلَّةٍ وَوُضِعَتْ بَيْنَ يَدَيْهِ صَحْفَةٌ وَرُفِعَتْ أُخْرَى وَسَتَرْتُمْ بُيُوتَكُمْ كَمَا تُسْتَرُ الْكَعْبَةُ. قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ خَيْرٌ مِنَّا الْيَوْمَ نَتَفَرَّغُ لِلْعِبَادَةِ وَنُكْفَى الْمُؤْنَةَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لأَنْتُمُ الْيَوْمَ خَيْرٌ مِنْكُمْ يَوْمَئِذٍ. (رواه الترمذى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীসের বর্ণনাকারী মুহাম্মদ ইবনে কাঁব কুরাযী (রহ) একজন তাবিঈ ছিলেন। কুরআনের ইলম, যোগ্যতা ও তাকওয়া হিসাবে আপন স্তরে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিলেন। তিনি সেই বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করেননি যিনি হযরত আলী মুরতাযা (রা)-এর বরাতে এ ঘটনা তাকে শুনিয়ে ছিলেন। কিন্তু এভাবে তাঁর বর্ণনা করা এ কথায় প্রমাণ বহন করে যে, তাঁর নিকট সেই বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য।
সাহাবা কিরামের মধ্যে মুস'আব ইবনে উমাইরের এ বিশেষ মর্যাদা ও ইতিহাস ছিল, তিনি খুবই বিলাসী এক সরদার পুত্র দিলেন। তাঁর পরিবার মক্কার সম্পদশালী পরিবার ছিল। আর তিনি স্বীয় ঘরে অতিশয় প্রাচুর্যে প্রতিপালিত হয়ে ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তাঁর জীবন ছিল জাঁক-জমকপূর্ণ। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর জীবন সম্পূর্ণ বদলে যায় এবং আলোচ্য হাদীসে বর্ণিত অবস্থায় এসে পৌছেন। এক ছেড়া জীর্ণ চাদরই শরীরে ছিল। স্থানে স্থানে তাতে চামড়ার টুকরা তালিযুক্তও ছিল। তাঁকে এ অবস্থা ও আকৃতিতে দেখে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চক্ষুদ্বয়ের সামনে তাঁর জাঁক-জমক ও প্রাচুর্যময় জীবনের চিত্র ভেসে উঠে। এতে তাঁর ক্রন্দন আসে।
এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবা কিরামকে এক গুরুত্বপূর্ণ সত্য সম্বন্ধে জ্ঞাত করার জন্যে তাঁদেরকে বললেন, এক সময় আসবে যখন তোমাদের নিকট অর্থাৎ আমার উম্মতের নিকট বিলাসিতা ও প্রাচুর্যের উপকরণের আধিক্য হবে। এক ব্যক্তি সকাল বেলা এক জোড়া কাপড় পরে বের হবে আর সন্ধ্যাবেলা অন্য জোড়া। এভাবে, দস্তর খানায় রকমারী খাদ্য থাকবে। (বল!) তোমাদের কি ধারণা, সে সময় তোমাদের কি হবে? কতক লোক নিবেদন করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সেই সময় ও সেই দিন তো খুবই উত্তম হবে। আমরা প্রাচুর্য ও কেবল অবসরই পাব। সুতরাং আল্লাহর ইবাদত করে থাকব। তিনি বললেন, তোমাদের এ ধারণা সঠিক নয়। আজ তোমরা যে অবস্থায় আছ, ভবিষ্যতে আগমণকারী জাঁক-জমক ও প্রাচুর্যের অবস্থা থেকে অনেক উত্তম।
ঘটনা এই ছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন এ সত্য বর্ণনা করে ছিলেন তখন তো অদৃশ্যের ওপর ঈমান আনার ন্যায়ই তাতে বিশ্বাস স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রথমে বনী উমাইয়্যা ও বনী আব্বাসের শাসনকালে এবং পরবর্তীকালে অন্যান্য অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্রীয় যুগে ও বর্তমানে মুসলিম রাষ্ট্র সমূহে আল্লাহ্ তা'আলা যাদেরকে সীমাহীন বিলাসিতা ও প্রাচুর্যের উপকরণ দিয়েছেন, এ সত্য চাক্ষুস দেখা যাচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটা এবং এজাতীয় সব ভবিষ্যতবাণী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মু'জিযা ও তাঁর নবুওতের প্রমাণ সমূহের অন্তর্ভুক্ত।
সাহাবা কিরামের মধ্যে মুস'আব ইবনে উমাইরের এ বিশেষ মর্যাদা ও ইতিহাস ছিল, তিনি খুবই বিলাসী এক সরদার পুত্র দিলেন। তাঁর পরিবার মক্কার সম্পদশালী পরিবার ছিল। আর তিনি স্বীয় ঘরে অতিশয় প্রাচুর্যে প্রতিপালিত হয়ে ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তাঁর জীবন ছিল জাঁক-জমকপূর্ণ। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর জীবন সম্পূর্ণ বদলে যায় এবং আলোচ্য হাদীসে বর্ণিত অবস্থায় এসে পৌছেন। এক ছেড়া জীর্ণ চাদরই শরীরে ছিল। স্থানে স্থানে তাতে চামড়ার টুকরা তালিযুক্তও ছিল। তাঁকে এ অবস্থা ও আকৃতিতে দেখে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চক্ষুদ্বয়ের সামনে তাঁর জাঁক-জমক ও প্রাচুর্যময় জীবনের চিত্র ভেসে উঠে। এতে তাঁর ক্রন্দন আসে।
এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবা কিরামকে এক গুরুত্বপূর্ণ সত্য সম্বন্ধে জ্ঞাত করার জন্যে তাঁদেরকে বললেন, এক সময় আসবে যখন তোমাদের নিকট অর্থাৎ আমার উম্মতের নিকট বিলাসিতা ও প্রাচুর্যের উপকরণের আধিক্য হবে। এক ব্যক্তি সকাল বেলা এক জোড়া কাপড় পরে বের হবে আর সন্ধ্যাবেলা অন্য জোড়া। এভাবে, দস্তর খানায় রকমারী খাদ্য থাকবে। (বল!) তোমাদের কি ধারণা, সে সময় তোমাদের কি হবে? কতক লোক নিবেদন করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সেই সময় ও সেই দিন তো খুবই উত্তম হবে। আমরা প্রাচুর্য ও কেবল অবসরই পাব। সুতরাং আল্লাহর ইবাদত করে থাকব। তিনি বললেন, তোমাদের এ ধারণা সঠিক নয়। আজ তোমরা যে অবস্থায় আছ, ভবিষ্যতে আগমণকারী জাঁক-জমক ও প্রাচুর্যের অবস্থা থেকে অনেক উত্তম।
ঘটনা এই ছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন এ সত্য বর্ণনা করে ছিলেন তখন তো অদৃশ্যের ওপর ঈমান আনার ন্যায়ই তাতে বিশ্বাস স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রথমে বনী উমাইয়্যা ও বনী আব্বাসের শাসনকালে এবং পরবর্তীকালে অন্যান্য অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্রীয় যুগে ও বর্তমানে মুসলিম রাষ্ট্র সমূহে আল্লাহ্ তা'আলা যাদেরকে সীমাহীন বিলাসিতা ও প্রাচুর্যের উপকরণ দিয়েছেন, এ সত্য চাক্ষুস দেখা যাচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটা এবং এজাতীয় সব ভবিষ্যতবাণী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মু'জিযা ও তাঁর নবুওতের প্রমাণ সমূহের অন্তর্ভুক্ত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)