মা'আরিফুল হাদীস

বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়

হাদীস নং: ৬০
বিপর্যয় ও ফিতনা অধ্যায়
উম্মতের মধ্যে জন্মলাভকারী দীনী পতন, অবনতি ও ফিতনা বিষয়ক আলোচনা
৬০. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে 'আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত, (একদিন) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় এক হাতের অঙ্গুলীসমূহ অন্য হাতের অঙ্গুলীসমূহের মধ্যে ঢেলে আমাকে (সম্বোধন) করে বললেন। হে আব্দুল্লাহ্ ইবনে 'আমর! তখন তোমার কি অবস্থা হবে? এবং কি রীতি হবে? যখন কেবল অকেজো লোক বাকি থাকবে। তাদের চুক্তি ও লেন-দেন ধোঁকাবাজী হবে। তাদের মধ্যে (শক্ত) মতভেদ (ও ঝগড়া) হবে। আর তারা পরস্পর লড়াইয়ে এরূপ জড়িয়ে যাবে (যেমন আমার এক হাতের অঙ্গুলীসমূহ অন্য হাতের অঙ্গুলীসমূহে জড়িয়ে গেছে) আব্দুল্লাহ্ ইবনে 'আমর (রা) নিবেদন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এরপর আমার কি হবে? (অর্থাৎ এই সাধারণ ফাসাদের কালে আমার কি করা উচিত?) তিনি বললেন, যে কথা এবং যে কাজ তুমি উত্তম বলে জান তা গ্রহণ কর, আর যা মন্দ বলে জান তা ছেড়ে দাও। আর নিজের পূর্ণ দৃষ্টি বিশেষ করে নিজের ওপর রাখ। (এবং নিজের চিন্তা কর) আর সেই অকেজো অযোগ্য ও পরস্পর ঝগড়া-কলহকামী এবং তাদের সাধারণ লোকদের ছেড়ে দেবে। অর্থাৎ তাদের প্রতিবাদ করবে না। (সহীহ বুখারী)
کتاب الفتن
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍوقَالَ: «شَبَكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصَابِعَهُ» وَقَالَ كَيْفَ أَنْتَ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو إِذَا بَقِيتَ حُثَالَةٌ قَدْ مَرِجَتْ عُهُودُهُمْ، وَأَمَانَاتُهُمْ، وَاخْتَلَفُوا، فَصَارُوْا هَكَذَا قَالَ: فَكَيْفَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: تَأْخُذُ مَا تَعْرِفُ وَتَدَعُ مَا تُنْكِرُ وَتُقْبِلُ عَلَى خَاصَّتِكَ، وَتَدَعُهُمْ وَعَوَامَهُمْ. (رواه البخارى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

حثالة অর্থ-ভূষি। এখানে এ শব্দের অর্থ এমন লোক, যে বাহ্যিক মানুষ হওয়া সত্ত্বেও মনুষত্বের নৈপুণ্য থেকে সম্পূর্ণ শূন্য। তার মধ্যে কোন যোগ্যতা নেই। যে ভাবে ভূষিতে যোগ্যতা নেই। সামনে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের এরূপ অবস্থা বর্ণনা করেছেন যে, তাদের চুক্তি ও লেন-দেনে ধোঁকা-প্রতারণা, কূট-কৌশল, আর পরস্পর ঝগড়া-কলহ তাদের ব্যস্ততার কাজ হবে।

অল্প বয়স্ক সাহাবা কিরামের মধ্যে আব্দুল্লাহ্ ইবনে 'আমর ইবনুল 'আস (রা) প্রাকৃতিকভাবে খুবই কল্যাণপসন্দ, মুত্তাকী ও ইবাদতকারী ছিলেন। একদিন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন, যখন এরূপ সময় এসে যাবে-এ জাতীয় অকেজো মন্দ কাজ সম্পাদনকারী ও পরস্পর ঝগড়া-কলহকারী ব্যক্তিগণ বাকি থাকবে, তখন তোমার কর্ম পদ্ধতি কি হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এজন্য তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, এ বিষয়ে তিনি তাঁর থেকে দিকনির্দেশনা চাইবেন, ফলে তিনি তাঁকে দিকনির্দেশনা দান করবেন। এটা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষাপদ্ধতি ছিল। সুতরাং তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিয়ে দিলেন। তাঁর উত্তরের মোট কথা হচ্ছে, যখন এরূপ লোকদের সাথে যোগাযোগের প্রয়োজন পড়ে যারা মনুষত্বের সম্পদ থেকে বঞ্চিত এবং উত্তম জিনিস গ্রহণ করার যোগ্যতাই তাদের থাকেনি, তখন মু'মিনগণের উচিত এমন লোকদের থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়া।

এখানে এ কথা বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামত পর্যন্ত মুসলমানদেরকে যে দিকনির্দেশনা দিতে চাচ্ছিলেন, সাহাবা কিরামকেই তার সম্বোধিত ব্যক্তিবর্গ বানাতেন। সেই সাহাবা কিরাম এবং তাঁদের পরবর্তী হাদীস বর্ণনাকারীগণকে আল্লাহ্ তা'আলা উত্তম পুরস্কার দান করুন। যেহেতু তাঁরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এসব দিকনির্দেশ পরবর্তীদের পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন, এবং হাদীসের ইমামগণ সেগুলো গ্রন্থসমূহে সংরক্ষিত করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান