শুদ্ধ দ্বীনের তলব
শুদ্ধ দ্বীনের তলব
[দ্বীনের পথে চলতে গিয়ে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো 'তলব' বা আকাঙ্ক্ষার বিকৃতি। আমরা দ্বীনের নাম নিয়ে দ্বীনের পথে চলছি বটে, কিন্তু আমাদের তলব রয়ে গেছে জাহেলিয়াতের।
প্রকৃত দ্বীন পেতে হলে জাহেলি তলব সম্পূর্ণ ত্যাগ করে নতুন ঈমানি তলব পয়দা করতে হবে। আমরা দ্বীনকে দুনিয়া অর্জনের মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছি। দোয়া করে ধনী হতে চাই, ইবাদত করে সামাজিক সম্মান পেতে চাই, আমল করে শত্রু ধ্বংস করতে চাই। অথচ এগুলো জাহেলি তলবেরই ইসলামি পোশাক মাত্র। সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম তাঁদের সকল দুনিয়াবি মোহ - ধন, সম্মান, বংশীয় অহংকার - সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করে তবেই দ্বীনে প্রবেশ করেছিলেন।
ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে সন্তান জবাই করতে হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মায়ের দুধ ও পিতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে, মূসা আলাইহিস সালামকে শত্রুর ঘরে বড় হতে হয়েছে - এসবই আল্লাহর পক্ষ থেকে পরিকল্পিত ছিল যাতে তাঁরা পারিবারিক ও বংশীয় মোহ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পারেন।
আজকের যুগে টাকাই একমাত্র মাপকাঠি - পেশা, বংশ, সম্মান সবকিছুর মূল্য নির্ধারিত হয় টাকা দিয়ে। অথচ রাসূলের যুগে বনু হাশিম গরিব ও রাখাল পরিবার হয়েও ছিলেন সবচেয়ে সম্মানিত। সেই সমাজে কাজের ভিত্তিতে কোনো ভেদাভেদ ছিল না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - শুধু চিল্লা, জিকির বা তবলিগে যাওয়াই যথেষ্ট নয়। এগুলো হলো ডাক্তারের কাছে যাওয়ার মতো, যেখানে রোগ নির্ণয় হয়। কিন্তু প্রকৃত চিকিৎসা হলো প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া - অর্থাৎ নিজের সমস্যা চিহ্নিত করে সেখানে বাস্তব কাজ করা। সৌদি আরবের এক মন্ত্রী মসজিদের সিঁড়িতে বসে আতর বিক্রি করে নিজের পেশাগত অহংকার দূর করেছিলেন - এই ধরনের বাস্তব কুরবানিই প্রয়োজন।]
২৮ শে আগস্ট,২০১১ ইং, (২৭ শেষ রমজান ) দুপুরের মোজাকারা, মাদানী নগর মাদ্রাসা, ঢাকা।
আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে তলব নসিব করেছেন।
প্রথম কথা হল তলব, বড় গভীর মূল্যবান জিনিস।
দ্বীনের মেহনতের মধ্যে নবীরা এসে বেতলবের মধ্যে তলব পয়দা করেছেন।
দাওয়াতের কাজই হলো বেতলবের মধ্যে তলব পয়দা করা।
তলব তো পয়দা করা কিন্তু কী তলব পয়দা করা?
টাকার তলব, নাকি বাড়ির তলব নাকি গাড়ির তলব নাকি বউয়ের তলব নাকি বাচ্চার তলব? তলব তো বটেই কিন্তু কিসের তলব?
আম্বিয়া আলাইহিস সালাম যে তলবের দাওয়াত দিয়ে এসেছেন সেই তলব, সাহাবারা যে তলব নিয়ে এসেছেন সেই তলব পয়দা করা। তো দাওয়াতের প্রথম কাজ হল বেতলবের মধ্যে তলব পয়দা করা।
বেতলব বলতে কাকে বোঝায়?
আমি যার কাছে গাশত যাব তার মধ্যে তলব পয়দা করা?
সে, কিন্তু প্রধানত আমি নিজেই বেতলব।
আমার ভিতর তলব করা।
সব মেহনত গুলো, বাইরের একজনকে সামনে রেখে মেহনত করছি কারণ তার মধ্যে দীনের তলব নেই
অতএব তার মধ্যে দীনের তলব আনার জন্য মেহনত করি। কিন্তু প্রথম ব্যক্তি হল যে আমার মধ্যে দীনের তলব নেই।
যে তলব আছে সেটা দীনের নাম নিয়ে কোনো একটা তলব।
আমার কাছে দীনের যে তলব আছে সেই তলবের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের কোনো সম্পর্ক নেই, সাহাবাদের জীবনের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁদের দৃষ্টান্ত আর আমার তলব দুটো দুই দিকে চলে।
তো তলব তো আমার আছে, তলব যদি না থাকতো তাহলে ব্যবসায়ী ব্যবসাই কেন করতো, চাকরিজীবী চাকরিই কেন করতো আর মসজিদেই কেন যেত?
আর শবে বরাতের দিন ভোরের মধ্যে রাত জাগে, দোয়াতো করে এরা, তো তলব না থাকলে কি দোয়া করতো?
২৭শে রমযানের সময় বেশিরভাগ লোক ইনশাল্লাহ জাগবে, তারা দোয়াও করবে, তলব যদি না থাকতো তাহলে কি তারা দোয়া করতো? হতে যায় লাখো লাখো মানুষ তারাও দোয়া করে।
তলবতো আছে,
কিন্তু কী তলব?
সেই তলব দিয়ে তো হচ্ছে না, আর সেই তলবের জন্য নয়ও।
এই তলবই যদি যথেষ্ট হত তাহলে পীরদের মেহনতের দরকার ছিল না, তবলিগওয়ালাদের তবলিগের মেহনতের দরকার ছিল না, কারণ তলবতো আছেই।
গোটা সমাজের মানুষ তলবে ভরা! শবে বরাতে বোঝা যায়, ২৭শে রমযানে বোঝা যায় কার কত তলব। কিন্তু সেই তলব দিয়ে হবে না। সেই তলব চাই যে তলব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ছিল।
সেই তলব পয়দা করার জন্য তার আগের যে তলব আছে সেই তলবকে ঝেড়ে মুছে শেষ করতে হবে। এক সাথে সে বিপরীত তলবগুলো থাকতে পারে না, এটাকে শেষ করতে হবে।
তো সাহাবারা তাঁদের আগের যে তলব, আইয়ামে জাহেলিয়াতে যে সব তলব ছিল সেগুলোকে সম্পূর্ণ শেষ করে দিয়ে তারপর শ্রেণির নতুন তলব পয়দা করেছেন।
এরকম নয় যে আইয়ামে জাহেলিয়াতে যে তলব ছিল সেটাকেই আবার শ্রেণির পোশাক পরিয়েছেন। আমরা যে শ্রেণ সাধারণত মনে করি সেটা বেশ্রেণ মানুষের যেসব তলব আছে সেসব তলবকেই এখন শ্রেণির পোশাকে বা শ্রেণির প্রকৃতিতে আনতে চাই।
বেঈমার লোক আছে তার ফ্রিজ খাবার দাবারে ভরা, নামাজও পড়ে না, রোজাও রাখে না। আর শুধু ফ্রিজ খাবার দাবারে ভরা তা নয়, এগুলো দেবার জন্য আবার চাকর বাকরও আছে প্রচুর। সবই আছে।
আমারও তলব সেটাই; বড় বাড়িও থাকবে, ফ্রিজও ভরা থাকবে, আর বেল টিপলে খেদমতের জন্য লোকও থাকবে, কিন্তু আমি চাই এটা দোয়া দিয়ে আনব। ওরা এনেছে ব্যবসা দিয়ে, আমি আনব দোয়া দিয়ে।
তো এটা হল আমার তলব।
মূল জাহেলি তলবই, কিন্তু প্রকৃতিগত পার্থক্য, ওরা ব্যবসা করে ধনী হয়েছে আর আমি দোয়া করে ধনী হব!
কিন্তু সাহাবারা যে তলব পয়দা করেছেন যে আইয়ামে জাহেলিয়াতে যেটা তাদের কাছে ছিল যে আমার সম্মান হবে, আমার গৌরব হবে, আমার শত্রুকে ধ্বংস করব- এটাই এখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে এমন এমন সব দোয়া শিখি যাতে সেসব দোয়া দিয়ে আমি আমার শত্রুকে মেরে ফেলতে পারি, আর আমি সমাজের মাতব্বরি পেয়ে যেতে পারি! সেই জাহেলি তলবকেই দীন দিয়ে পূরা করার জন্য দীনে আসেন নি।
বরং দীনে যখন এসেছেন তো জাহেলি তলব যতগুলো ছিল সেগুলোকে একেবারে নিঃশেষ করে দেওয়া হয়েছে।
একেবারে শেষ।
তার মধ্যে কোনো চিহ্নই বাকি নেই।
কিরকম শেষ করা হয়েছে?
আবু বকর সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহুর ছেলের দৃষ্টান্ত; উনার ছেলের ক্বাতিল উনার ঘরে উনার সামনে বসা, আর তার ছেলেকে কিভাবে হত্যা করেছে তার বর্ণনাও সে দিচ্ছে। আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাতে তখন দুই ক্ষমতাই আছে। দুনিয়ার ক্ষমতা যদি দেখা যায়; দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি, এক টুকুতে সব হবে। রুহানি জগতে যদি দেখা যায় তো সবচেয়ে উপরের ব্যক্তি; তার দোয়াতে হবে। দুনিয়ার ক্ষমতা ব্যবহার করতেন, আদেশ দিতেন একে ক্ষতি করো তাও হতে পারতো।
দীনী শক্তি ব্যবহার করতেন, দোয়া দিতেন এই ছেলেকে ধ্বংস করো আল্লাহ তা'আলা সেটা করতেন। কিন্তু সেই তলবই নেই।
অথচ সেই সমাজ থেকে এসেছেন যে সমাজের মৌলিক নীতিগুলোর মধ্যে ছিল, যে কাউকে কেউ যদি ক্ষতি করে আর তার পরিবারের কেউ দুনিয়াতে বাকি রয়ে যায়, ছেলে থেকে আর বড় হোক তার সবচেয়ে বড় নৈতিক দায়িত্ব হল এই প্রতিশোধ নেওয়া।
সে হিসাবে তিনি সেই সমাজে বড় হয়েছেন যে সমাজ এটা জানতে ছেলেকে হত্যা করেছে তো সেই হত্যার বদলে হত্যা এই প্রতিশোধ নেওয়া তার সবচেয়ে বড় নৈতিক দায়িত্ব। আর তার হাতে সব ক্ষমতা আছে। না বদদোয়া দিলেন, না তার বিরুদ্ধে কোনো আদেশ দিলেন।
কেন?
সেই আগের জাহেলি যে তলব ছিল সেটা তো নেই-ই সেই তলবের আগের কোনো গন্ধও নেই।
সেই তলবকে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলে নতুন তলব গড়ে দীন দেওয়া হয়েছে, যে দীন নিয়ে আগের জাহেলি তলব পূরা হবে না বরং নতুন ঈমানের তলব পূরা হবে।
আর আমরা যেহেতু পবিত্রতার সেই মেহনতের ভিতর দিয়ে যাই নি যেটাকে রুহানি গোসল বলা যেতে পারে- সেই গোসল করিনি; আগের যতসব নাপাকি ছিল সব নাপাকি সহই দীনের উপর চলার চেষ্টা করছি।
সেজন্য দীন যদি পাই তো চাই আগের যে জিনিস আমি চেয়েছি দুনিয়ার পথে পাওয়ার; সেই জিনিসই চাই কিন্তু অন্য পথে।
আমাল দিয়ে পাব।
আর সেটাও যে পাব তার পেছনে আবার অনেক সময় আরেকটা ধাঁধাও আছে, নিজের অলসতা অনেক সময় কাজ করে।
দেখা যায় যত তেজের সাথে বলে দেওয়া যায়, বয়ান করা যায়; অত তেজের সাথে চাকরি, পরিশ্রম, ব্যবসা এগুলোতে এক হাজার টাকা পেতে হলে অনেক দৌড়াদৌড়ি, খাটুনি লাগে।
আমি ভাবলাম, এর চেয়ে ভাল যদি আমি সূরা ইখলাস দুই তিনবার পড়ি আর হাজার টাকা পেয়ে যাই তো অনেক শর্টকাটে পাওয়া যাবে! সেটাও মনের আড়ালে কাজ করে।
চাই সেটাই কিন্তু দুনিয়াদারদের মত এত পরিশ্রমও করতে চাই না, আর কেউ বলে দিল যে এটাতো কম পরিশ্রমে বেশি লাভের পথ। তো 'কম পরিশ্রমে বেশি লাভের পথ' ঠিকই কিন্তু কোন লাভের? তো এইসব ধাঁধার মধ্যে পড়ে যাই।
সেজন্য ভাই, আল্লাহর পথে বের হয়ে আমার আমার তলবের সংশোধন তো বড় জরুরি।
'তলব'ই যদি ভ্রান্ত হয়, সবকিছুর ভেতরে গিয়ে উলট-পালট হয়ে যাবে।
আর এই তলব সংশোধন করার জন্য বলা হয়েছে যে তোমার প্রিয় জিনিসগুলোকে ছাড়। আমার আগের প্রিয় জিনিস যেটা ছিল সেটাই যদি রয়ে যায়, আমি দ্বীন দিয়ে সেটাকেই আনার চেষ্টা করব, সেটাই বাড়াবার চেষ্টা করব। সেজন্য প্রথমে, আগে তো আমার প্রিয় জিনিসগুলোকে ছাড়ো।
"لَا تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّىٰ تُنفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ"
সেটাকে ছেড়ে দিয়ে তারপর এখন নতুন তলব পয়দা কর। সম্পদের মোহ, আত্মীয়তার স্বজনের মোহ, সন্তানের মোহ এগুলো ছিল; আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সালামকে ছাড়ালেন। মরুভূমিতে পাঠালেন, ছেলেকে জবাই করালেন। তারপর শ্রেণ পালন করলেন। আর সবার জন্য সেই একই পথ, বিভিন্নভাবে। কিন্তু আগে মূল যে তলব ছিল সেই তলব গুলোকে জবাই করা।
প্রায় সব নবীরা তাঁদের বংশের সম্পর্কের উপর আঘাত করেছেন। ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সালাম শুধু ছেলেকে জবাই করেছেন তা নয়, তার বাপ কাফের।
তো নবীদেরকে আল্লাহ তা'আলা সেই জাহেলি তলব থেকে মুক্ত করার জন্য মানুষের মধ্যে বংশীয় যে রক্তের একটা টান থাকে; সব নবীকে রক্তের টান থেকে ছুটিয়েছেন, বিভিন্নভাবে।
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন আবু তালিবকে দাফন করে এলেন তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন "তোমার বাপ আমার বাপ জাহান্নামী"।
এই কথা একজন ছেলের জন্য কত ভারী কথা- "তোমার বাপ আমার বাপ জাহান্নামি"।
তো আগের সেই বংশীয় সম্পর্ক রাখতেই পারছেন না।
আর ছেলে তো তার নেই। আল্লাহ তা'আলাই ফয়সালা করে দিয়েছেন যে কোনো পুরুষের বাপ তুমি না। আর নিজে যার ছেলে সে জাহান্নামি।
মা ছিলেন কিছুদিন, কিন্তু মা থাকা সত্ত্বেও মায়ের কোলে বড় হতে পারেন নি, মায়ের দুধ খেতে পারেন নি। কেন? আজীব এক সামাজিক প্রচলন যে কুরাইশের ছেলেরা তাদের মায়ের দুধ খায় না। দুনিয়ার ইতিহাসে এমন প্রচলন কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না যে সামাজিক নিয়ম হচ্ছে ছেলে মায়ের দুধ খাবে না। আল্লাহ তা'আলা এই নিয়ম বানিয়েছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাতে তার মায়ের দুধ না পান।
মূসা আলাইহি ওয়া সালাম মায়ের দুধ পেলেন ঠিকই কিন্তু দাই হিসেবে। থাকলেন ফিরাউনের বাড়িতে, আর মা এসে দুধ খাওয়ায় একজন দাই হিসেবে। তো ঠিক মায়ের সাথে সম্পর্ক রাখতে পারছেন না। তিনি দুধ খাওয়ান, কিন্তু ছেলেকে বাপ বলে ডাকতে পারছেন না। ডাকলে ছেলেও যাবে না নিজেও যাবেন! আর ছেলে একটু বড় হওয়ার পর যে মা ডাকবে সে উপায়ও নেই।
তো সেখানেও আল্লাহ তা'আলা সম্পর্ক রাখতে দেন নি। আর বাপের কোনো চর্চাই নেই। কে ছিল, কোথায় ছিল পাওয়া যায় না। তো বিভিন্নভাবে আল্লাহ তা'আলা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামকে মানুষের স্বাভাবিক দুনিয়ার যেসব তলব থাকে, সেই তলবগুলো থেকে সম্পূর্ণভাবে পাক করেছেন। তো আমাদেরকেও শ্রেণ পেতে হলে সেই তলবগুলো থেকে নিজেকে মুক্ত করতে হবে। তা না হলে ঘুরে ফিরে গিয়ে আবার সেটাই করবে।
সেভেনটি ওয়ানে সম্ভবত, পাকিস্তানে ছিলাম। যুদ্ধ চলছে, কোথাও জামাতে গিয়েছি, বয়ান করেছি আমি। জুমার পর বড় মজমা ছিল; বড় মসজিদ, বড় মজমা। বয়ান করার পর বেশ পেছন দিকে একটু দূরে এরকম একজনকে পেলাম, জিজ্ঞেস করলাম বুঝেছ নাকি? "হ্যাঁ, খুব ভালো"। কী বুঝেছ? "যুদ্ধে যেতে বলছো"। এইটাই ও বুঝেছে।
হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহমাতুল্লাহি আলাইহি দিল্লিতে যখন তবলিগের কাজ আরম্ভ করেন তখন স্বাধীনতা আন্দোলন এগুলো চলছে, আর এর সাথে সবাই কোনো না কোনো ভাবে জড়িত, এসব হরকতের সাথে। বাবু বশীর সাহেব ছিলেন; যিনি পরবর্তীতে পাকিস্তানের আমীর ছিলেন, তিনি এসে একটু কাজে লেগেছেন। তিনি মুসলিম লীগের সাথে একটু সম্পৃক্ত ছিলেন। সবাই এই স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে কোনো না কোনো ভাবে জড়িত ছিল। আর যারা ইংরেজি শিক্ষিত তারা তো প্রায় সবাই মুসলিম লীগ পন্থী ছিল। তো তিনিও ছিলেন। তবলিগে লাগলেন। আব্দুল ওহাব সাহেবের ভাষ্য হল যে বহুদিন পর্যন্ত বাবু বশীর সাহেব তবলিগকে একটা উপায় মনে করতেন যে এর দ্বারা পাকিস্তান পাওয়া যাবে। করছেন তবলিগ; কিন্তু মনে হয় যে এই তবলিগ করে করে "পাকিস্তান জিন্দাবাদ" হবে। বহুদিন পরে গিয়ে তার এই পাকিস্তান জিন্দাবাদ ছুটেছে, বহুবছর লেগেছে।
তো যার ভিতরে যে জিনিস আছে সেই ঘুরে ফিরে সেটার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। আর আমাদের যেহেতু ধন দৌলতের মোহ আমার জীবন, আমার সম্পূর্ণ চেতনাকে নিয়ন্ত্রণ করে; যা কিছু শুনি না কেন ঘুরে ফিরে গিয়ে সেটাতেই। এজন্য সবচেয়ে বেশী চেষ্টা সেটার দরকার যে আল্লাহ তুমি আমাকে ওখান থেকে মুক্ত কর। এজন্য খুব দোয়া আর চেষ্টা করা। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে তৌফিক নসিব করুন।
দোয়া করি, চেষ্টা করি, এক কথায় দুই কথায় হয়ে যাবার জিনিস নয়। যত তেজের সাথে বলে দেওয়া যায়, বয়ান করা যায়; অত তেজের সাথে কিন্তু মন শুদ্ধ হয় না, ভেতরে রয়েই যায়। যদি এত দ্রুত হয়ে যেত তাহলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এক বয়ানই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু লম্বা মেহনত লাগে, শুধু কথা নয়। সাহাবাদের উপর কী কুরবানি গেছে! বিনা কুরবানিতে শুধু কথায় যদি হয়ে যেত, তবে এত কুরবানির মধ্যে আল্লাহ তা'আলা তাঁদেরকে ফেলতেন না। শুধু কথায় হয় না, সেগুলো তো রয়েই যায়। এজন্য ভাই বাস্তবের মধ্যে কুরবানির প্রয়োজন। নিজ নিজ মাহবুব জিনিসকে ছাড়ার জন্য নিয়ত করি। আমি নিজেই খুঁজে বের করি কার কার কোনটা মাহবুব, ছাড়ার চেষ্টা করি। ঠিক না ভাই ইনশাআল্লাহ?
এক তো হচ্ছে আমাদের সবার কাছেই নিজেকে বড় সাদা সিধা মানুষ মনে করি। কিন্তু একেবারে ছোট যে তার ভিতরেও এক ভাণ্ডার আছে অহংকারের। তাকে যদি বলা হয় 'তুমি তো অহংকারী', তখন সে বলবে ভাই আমার আর অহংকার আছে কি! খোঁচালে বোঝা যাবে যে আছে কি। তুমি যে ম্যাট্রিক পাস সেজন্য অহংকার নেই? তখন হয়তো বলবে যে এই জমানার ম্যাট্রিক পাস, লাখো লাখো ম্যাট্রিক পাস দুই পয়সার চাকরি পায় না, সেটা নিয়ে অহংকার করার কী আছে! তো সে মনে করে সে অহংকারী নয়, আর ম্যাট্রিক পাস যে আছে এই ম্যাট্রিক পাস দিয়ে কী অহংকারী এই জমানাতে হবে?
আজ থেকে যদি ১০০ বছর আগে হতো তাহলে একটা ব্যাপার ছিল। এখানে ঢাকায় ম্যাট্রিক পাসে কী হয়, দুই পয়সার দাম নেই তো কী অহংকার করবে? তার ধারণা তাই। দরখাস্ত ইত্যাদির কোনো একটা লাইনের মধ্যে গেল, ফর্ম ফিলাপ করতে হয়। ফর্ম দিল, ওখানে কেউ এসে তাকে বলল "এখানে নাম লিখতে হবে, নাম লিখতে পার"? তো চেঁচিয়ে উঠবে, ও আমাকে ভেবেছে কী! যখন জিজ্ঞেস করবে যে নাম লিখতে পার কিনা তখন হয়তো গরম হবে না, পরে তার আশেপাশে বলবে ও আমাকে ভেবেছে কী! তার ধারণা ছিল যে তার কোনো অহংকার নেই, আর ম্যাট্রিক পাস কোনো অহংকারের ব্যাপারও নয়। সেই ম্যাট্রিকের অহংকার নিয়েই সে হাবুডুবু খাচ্ছে! তো আল্লাহর পথে বের হয়ে এগুলোকে ছাড়তে হবে।
শিক্ষকতার চাকরি, বেতন দুই হাজার। তো দুই হাজারে কী হয়? কিছু হয় না। কিন্তু ওকে ড্রাইভারের চাকরি যদি দেওয়া হয় আর বেতন দশ হাজার, ও নেবে না। সেই দুই হাজার দিয়ে মাস্টারগিরিই করবে, লোকে যেন বলে 'মাস্টার সাব'। আর দশ হাজারও যদি পায় তো ড্রাইভার- নেবে না। আর যদি অটোরিক্সা ইত্যাদি কিছু একটা চালায় তাহলে তো আরো বেশি ভাল, তার স্বাধীনতা বাড়বে। কিন্তু ওকে বলবে 'রিক্সাওয়ালা'। আর শ্বশুর ইত্যাদি কেউ যদি থাকে তো বলবে "হায় আল্লাহ আমাকে ডুবালো"! শ্বশুর মনে করবে যে আল্লাহ জানে কোন বদ দোয়ার কারণে এই কলঙ্কের মধ্যে এসে পড়লাম!
তো আমাদের সবার কাছে নিজ নিজ মাপে তার কিছু সম্পদ আছে যেগুলো সে ছাড়তে চায় না; টাকা পয়সা হোক আর সম্মান হোক আর তার অহংকারই হোক। অথচ দ্বীন দাবি করে যে, এগুলো থেকে যদি আমি নিজেকে মুক্ত করতে না পারি তো দ্বীন পাবই না।
অহংকার সম্বন্ধে হাদিস শরিফে আছে যার দ্বীনের মধ্যে সরিষার দানা পরিমাণ অহংকার আছে সে জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না। আমরা মনে করি যে আমাদের মনের ভিতর অহংকার নেই, কিন্তু পরীক্ষা করলে দেখা যাবে যে প্রচুর আছে। সেটাকে ছুটাতে হবে। যদি চেষ্টা করি, এমন কাজের ভেতর দিয়ে নিজের অহংকারকে দূর করা যেটা বড় কার্যকরী। বেকার বসে আছে, টাকা-পয়সা হাতে নেই কিন্তু ছোট কাজ করতে রাজি হবে না, তার অহংকার বাধা দেবে। একেক জমানার মানুষ একেক লাইনে অহংকারের উপর চলে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দুনিয়াতে এসেছিলেন তখন আরবে এই কাজ-টাজের ব্যাপারে উপরে নিচের কোনো তারতম্য ছিল না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরাইশের বনু হাশিমের; তাঁরা রাখাল পরিবার অথচ মক্কার মধ্যে সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত পরিবার। এই রাখালগিরি করা, এটা কোনো অপমান- এটা সমাজের মধ্যে ছিল না। বিশেষ করে সেই জমানাতে সম্পদের সাথে সম্মানকে জড়িত করতো না। বনু হাশিম গরিব পরিবার, কিন্তু গোটা মক্কার মধ্যে সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত পরিবার। এই গরিব হওয়ার কারণে সমাজের মধ্যে তাদের সম্মান কমে নি, রাখাল হওয়ার কারণে সম্মান কমে নি। কিন্তু বর্তমান জমানাতে সম্মানের জন্য প্রথম শর্তই হল টাকা, টাকা দিয়ে সম্মান। বিয়ে শাদি করার সময় আবার আরেকটু বেশি চায় যে বনেদী পরিবার হতে হবে। সেই জিরো থেকে হিরো হলে চলবে না, বনেদী পরিবার। যে মাটি ফেটে বের হয়েছে তার আবার কিসের দাম! একটা সম্ভ্রান্ত পরিবার হতে হবে! সম্ভ্রান্ত পরিবার কী? যে দাদা থেকে নিয়ে দাদাও ধনী ছিল। দাদা জিরো থেকে ধনী হয়েছে নাকি কোথ্থেকে হয়েছে সে যেখান থেকেই হোক, যার টাকা অনেকদিন থেকে তার হাতে আছে- এরা হল বনেদী পরিবার। আর যার টাকা নতুন এরা হচ্ছে কাঁচা পরিবার। মানদণ্ড 'টাকা'ই; আগে এসেছে না পরে এসেছে পার্থক্য শুধু এইটুকু।
দাদা সেই অঞ্চলের নামকরা ডাকাত ছিল, তখন থেকেই সম্পত্তি। আমাদের দেশের সবচেয়ে পুরনো, বড় বড় পরিবার যেগুলো জমিদার পরিবার, বেশিরভাগই তো কোনো না কোনোভাবে ব্রিটিশের দালালি করে হয়েছে। ঢাকার বড় বড় নবাবরা; সব নয়, নবাব কয়েক ধরনের আছে। কিছু কিছু নবাব আছে যারা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ব্রিটিশদের পক্ষ নিয়ে মুসলমানদের খবর দিয়েছে। বিশেষ করে একজন নবাব যে চামড়ার ব্যবসায়ী ছিল; তার দেওয়া খবরের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক উলামাদেরকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল আর ওকে নবাব বানানো হয়েছিল।
নবাব আবদুল গণি সম্ভবত। তো এরকম একেক নবাব একেক ভাবে হয়েছে, কিন্তু তাই বলে তার বংশধরদের পারিবারিক মর্যাদা কিছু কমে যায় না। কারণ ও নিজে হঠাৎ করে নবাব হয়ে যায় নি, নবাব হয়েছে তার দাদার বাপ, ওদের পরিবার বনেদী।
তো ওরকম আমি যদি ওরকম চুরি ইত্যাদি করে বড়লোক হয়ে যাই তো অনেক সম্ভ্রান্ত লোক বিয়ে দিতে চাইবে না, বলবে দুই নম্বরি করে ধনী হয়েছে। কিন্তু যদি আমার বাপ হয়ে থাকে তাহলে আমি হয়ে গেলাম "সম্ভ্রান্ত"। ঘুরে ফিরে টাকার মাপ। ২য় হল, টাকা কিভাবে এসেছে? তো আমাদের সবগুলো ঘুরে ফিরে টাকা এবং টাকায় কী হয়। একটু ভাল মানুষ, বড় চাকরি করে। তো জামাই কত টাকা পায়? এত টাকা, বিশ হাজার টাকা পায়। ড্রাইভারগিরি করে নাকি প্রফেসরগিরি করে? যদি প্রফেসর হয় খুব ভাল। আর যদি ড্রাইভার হয়; "একটু ভেবে দেখতে হবে"।
এই মানদণ্ড নিয়েই যদি আমি চলি, শ্রেণির তো নাগাল পাব না। জিকির করতে পারব, তিলাওয়াত করতে পারব, মুরিদও হতে পারব, পীরও হতে পারব, সবই হতে পারব কিন্তু শ্রেণির নাগাল পাব না। শ্রেণ পেতে হলে তার ভিতরের এই এগুলোকে বাদ দিতে হবে। এজন্য আল্লাহর পথে বের হয়ে মেহনত করতে থাকি। চুপচাপ সে সেই কাজ করুক যে কাজে তার অহংকারের উপর আঘাত পড়ে। নিজের রুহানি তরক্কির জন্য।
সৌদি আরবের যারা প্রথম তবলিগে লেগেছেন তাদের মধ্যে একজন ছিলেন, ইস্তেকাল করেছেন। সবচেয়ে প্রথম না হলেও সবচেয়ে প্রথমদের মধ্যে। উনি মন্ত্রী। তো উনি একসময় মসজিদের সিঁড়িতে বসে আতর বিক্রি করতে আরম্ভ করলেন। মসজিদের সিঁড়িতে বসে আতর বিক্রি করে বাঙালিরা, বার্মিরা; কোনো সৌদি করে না। তিনি স্বেচ্ছল ব্যক্তি, আর সব সৌদিরাই মোটামুটি স্বেচ্ছল কারণ নানান ধরনের পেনশন ইত্যাদি পায়, এগুলো তুলে রাখে, ব্যবসা বাণিজ্য করে।
ছেলেরা তাকে বলল যে আব্বা তোমার কত টাকার দরকার? যত টাকা চাও বল, মসজিদের সিঁড়িতে বসে তোমার আতর বিক্রি করার কী দরকার? টাকা আমি দেব। উনি বললেন, "আমার কোনো টাকার দরকার নাই, আমার আতর বিক্রিরই দরকার"। ছেলেরা কতভাবে ছুটাবার চেষ্টা করলো যে তুমি আমাদেরকে ডুবালে, মান ইজ্জত সব গেল! কিন্তু তিনি মসজিদের সিঁড়িতে বসে আতর বিক্রি করলেন। তো আতর বিক্রি সে ব্যবসার জন্য করছে না, তার ইসলামের জন্য করছে।
আর আমরা মনে করি শুধু চিল্লা দিলেই ইসলাম হয়। ইসলাম যদি ঠিকই চাই, আমি যদি এখানে বসে ঠিকই ইসলাম চাই আমার সামনে আমার পথ খোলা আছে; সেটা অবলম্বন করি। যে জায়গায় আমার সমস্যা ওখানে চলে যাই। আমার সমস্যা তো প্রধানত এই অহংকার গুলো; বিকৃত মূল্যবোধ, কোনো জিনিসকে ভাল জানা, কোনো জিনিসকে মন্দ জানা, যেগুলোর শ্রেণির সাথে কোনো সম্পর্ক নাই, জাহেলি জযবা। সেই যে জাহেলি জযবা আছে যে ছোটখাট কাজ করা একটা "বে-ইজ্জতির" জিনিস, সেটাকে ছুটাবার জন্য সিঁড়িতে বসে বসে আতর বিক্রি করি। এই আতর বিক্রি করে তার যে রুহানি তরক্কি হবে সেই হাজার জিকির করেও সেটা হবে না, হাজার চিল্লা দিয়েও সেটা হবে না। সেটা এভাবেই করতে হবে। তো আমরাও যদি ঠিকই ওরকম চাই আর চাওয়া উচিতও; আমরাই খুঁজে বের করি যে আমার সমস্যা যেখানে আমি সেখানে ওষুধ দেই। চিল্লা তো দিলাম আর দেবও, দেওয়ার দরকারও। জিকিরও করলাম, করবও করার দরকারও। কিন্তু যে কাজ আমার অন্যভাবে সারাতে হবে যে ওষুধে; সেটা সেই চিল্লা দিয়ে আর জিকিরে হবে না। চিল্লা, জিকির কেন করা? যাতে আমি বুঝি যে আমার কী করা দরকার।
যেমন ডাক্তারের কাছে যাওয়া; ডাক্তারের কাছে গেলাম, ডাক্তার আমাকে প্রেসক্রিপশন দিল। আমি ভাবলাম যে ডাক্তারের কাছে গিয়েছি এটাই তো যথেষ্ট, রোগ সেরে যাবে! তো আমি যে চিল্লায় গিয়েছি সেটা তো এক ধরনের ডাক্তারের কাছে যাওয়া জাতীয় জিনিস। চিল্লায় যাওয়ার কারণে আল্লাহ তা'আলা আমাকে বুঝাচ্ছেন আমার কী করতে হবে। যেমন ডাক্তার আমাকে প্রেসক্রিপশন দিল, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মত যদি ওষুধ খাই তবেই না স্বাস্থ্য পাব। শুধু ডাক্তারের সাথে সাক্ষাৎ দিয়ে তো হয়ে যাবে না। তো এইজন্য আল্লাহর পথে বের হয়ে আমার সমস্যাকে বোঝার চেষ্টা করি, তারপর সেটাকে সারাবার চেষ্টা করি। নিয়ত করি আর চেষ্টা করি, ঠিক না ভাই ইনশাআল্লাহ?
নিজে নিজে চিন্তা করে দেখি যে আমার সমস্যা কোথায়। বেশি বিস্তারিত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আলাদা আলাদা করে বলার দরকার নেই, নিজেই যদি বুঝতে চাই তো বুঝতে পারবো, এমন কোনো কঠিন ব্যাপার নয়। কিন্তু বুঝতে চাইতে হবে। আর বুঝতে না চাইলে সেই ঘুরে ফিরে অন্যদিকে চিন্তা চলে যাবে। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে তৌফিক নসিব করুন।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
দুআ কবুল না হওয়ার কারণ: আমরা কি ভুল চাইছি?
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] أعوذ بالله من الشيطان الرجيم. بسم الله الرحمن الرحيم مَنۡ عَمِلَ صَالِح...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
১২ জানুয়ারী, ২০২৬
৩৮০১
কুরআন জীবিত হয় মুমিনের দিলে
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] আলেমদের মজমা তারিখ: ১১ অক্টোবর ২০১০ | স্থান: রংপুর | بِسْمِ اللهِ الرَّ...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
১২ জানুয়ারী, ২০২৬
২১৭১
ফ্রান্সে তাবলীগের কাজের সুচনা
৮ ই ফেব্রুয়ারি ২০১৫, বাদ ঈশা মোজাকারা, মানিকদি বাজার মসজিদ, ঢাকা আল্লাহ তাআলার বড় মেহেরবানি যে, আল...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
৩৩২৯
আভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যের শক্তি
মানুষের অনুসরণ প্রবণতা দুনিয়ার মানুষ একজন অন্যজনের কাছ থেকে শিখে, দেখে, অনুকরণ করে এবং অনুসরণ করে চ...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
২১ জানুয়ারী, ২০২৬
৪৩৩৭
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন