ফ্রান্সে তাবলীগের কাজের সুচনা
ফ্রান্সে তাবলীগের কাজের সুচনা
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত]
৮ ই ফেব্রুয়ারি ২০১৫, বাদ ঈশা মোজাকারা, মানিকদি বাজার মসজিদ, ঢাকা
আল্লাহ তাআলার বড় মেহেরবানি যে, আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ঈমানের এই মেহনত দান করেছেন, যেটা আমরা তাবলীগ নামে চিনি।
আর এটাও আমরা জানি যে, আল্লাহর ফজলে পুরো দুনিয়াতে এই কাজ ছড়িয়ে পড়েছে। আর এর দ্বারা আল্লাহর ফজলে অনেক মানুষের ফায়দা হয়েছে।
তবুও একটা জিনিস জানার চেয়ে চোখের সামনে দেখা বেশি ভালো লাগে। সেই হিসেবে বলছি, ফ্রান্সে আল্লাহর ফজলে তাবলীগের ভালো কাজ হয়েছে।
কোনো কোনো ব্যাপারে আমাদের তুলনায় অনেক ভালো। পরিমাণ তো তুলনাই করা যায় না; ওখানে মুসলমান আমাদের দেশের তুলনায় নেই বললেই চলে। আমাদের এখানে কত কোটি মুসলমান আর ওখানে লাখ হিসেবে হবে।
কিন্তু কাজ আমাদের দেশের তুলনায় অনেক পরে শুরু এবং মুসলমানের সংখ্যা আমাদের দেশের তুলনায় অনেক কম হওয়া সত্ত্বেও ফ্রান্সের মাধ্যমে আল্লাহর ফজলে ২৩টি দেশে (কয়েক বছর আগের পরিসংখ্যান) তাবলীগের কাজ শুরু হয়েছে।
এইটা আমরা বাংলাদেশ দাবি করতে পারি না। একটা দেশেও দাবি করা মুশকিল যেখানে বাংলাদেশের জামাত গিয়ে কাজ তুলেছে। পুরো দুনিয়াতে জামাত তো আল্লাহর ফজলে যায়। কিন্তু একটা বাগান পরিচর্যা করা; গেলাম চাষ করলাম, পানি দিলাম, পরে আর খবর নাই।
আর একটা হলো, নিজে থেকে জমি চাষ করা, বীজ বপন করা, পানি দেওয়া, সার দেওয়া, ঔষধ দেওয়া- একেবারে শেষ পর্যন্ত। ফ্রান্স কমপক্ষে ২৩টি দেশে কাজ শুরু করেছে, আর এগুলোর পরিচর্যা করে। নিয়মিত জামাত পাঠায়, খোঁজখবর করে। সেই জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
আর এইটাও অনেক বড় নিয়ামতের কথা, ফ্রান্সের এই কাজের পেছনে প্রধানত ব্যক্তি ড. সানাউল্লাহ; আলীগড় ইউনিভার্সিটি থেকে গিয়ে যিনি কাজ শুরু করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা তৌফিক দিয়েছিলেন, তাঁর সাথে সাথে হাঁটতাম। তখনই আমারও তাবলীগের সাথে পরিচিতি; সানাউল্লাহর মাধ্যমে।
তো ফ্রান্সের কাজ শুরু হওয়া আর আমার তাবলীগ লাগাও একই সাথে বলা চলে। যদিও আমি তখন তাবলীগি ছিলাম না, কিন্তু সানাউল্লাহর সাথে সাথে গাশত করতাম। পরবর্তীতে ফ্রান্সে তাবলীগের কাজ তোলার ব্যাপারে যাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে, তিনি হচ্ছেন আমাদের দেশের মাওলানা লুতফর রহমান সাহেব (রহ.)। তাঁর কথা ওরা খুব মনে রাখে; আর তিনি খুব মেহনত করেছেন।
এখন যে কথাগুলো বললাম, ওগুলো ১৯৬৭-৬৮ সালের দিকের কথা। আমি ছাত্র হিসেবে ছিলাম ওখানে, সানাউল্লাহও ছাত্র হিসেবে ছিলেন। তারপরে তো চলে গেলাম। এরপর জামাতে গিয়ে দেখলাম নতুন মসজিদ হয়েছে ওখানে; যেখানে আমরা আগে দাওয়াতের কাজ করতাম।
কথা যখন শুরুই হলো, এরপর তো চলে গেলাম ওখানে ১৯৭৬ সালে। জামাতে গিয়ে দেখলাম নতুন মসজিদ হয়েছে ওখানে; যেখানে আমরা আগে দাওয়াতের কাজ করতাম। কথা যখন শুরুই হলো, আগ্রহ হয়েছে একটু ইতিহাস বলি।
প্রথম মসজিদের অবস্থা
ফ্রান্সে তখন বড় একটা মসজিদ ছিল। ঐ মসজিদ এখনও আছে। বলা যেতে পারে ঐ মসজিদ মোটামুটি ছিল দেখার মতো মসজিদ। ওই রকম মসজিদ আমাদের দেশেও নাই। এর চেয়ে বড় আছে, কিন্তু এর চেয়ে ব্যয়বহুল, দেয়ালের মধ্যে এত বেশি নকশা ইত্যাদি এবং যথেষ্ট বড়ও।
ঐ একটাই মসজিদ ছিল, তবে ঐ মসজিদে ঢোকার জন্য টিকিট কিনতে হতো। আর পর্যটকরা টিকিট কিনে ওখানে ঢুকত। তবে আল্লাহর মেহেরবানি নামাজ ফ্রি ছিল! ওখানে মসজিদের খাদেম ছিলেন কিছু; কিন্তু খাদেমা ছিলেন বেশি। কারণ পর্যটকদের ব্যাপার! আর যেখানে পর্যটকদের ব্যাপার আছে, ওখানে খাদেমের চেয়ে খাদেমার কদরই বেশি থাকে। তো পর্যটকদেরকে খাদেমরা মসজিদ দেখাতেন আর পর্যটকরা এসে দেখতেন।
সব নামাজের সময় মসজিদ খোলা হতো না; অফিসিয়াল টাইম অনুযায়ী খোলা হতো। নামাজ যদি অফিস টাইমের মধ্যে পড়ে যেত ভালো কথা, আর তা নাহলে ঐ সময় অনেক সময় দরজা বন্ধ থাকত। ইমাম-মুয়াজ্জিন ছিলেন। ইমাম সাহেব তো নামাজ পড়াতেন, মুয়াজ্জিন সাহেব আজান দিতেন।
মুয়াজ্জিন সাহেব সাধারণত নামাজ পড়তেন; কিন্তু যেহেতু নামাজ পড়া তাঁর ডিউটিবহির্ভূত, তাই কখনও কখনও আজান দিয়ে চলে যেতেন। ইমামের কাজ নামাজ পড়ানো। এই ছিল মসজিদ, ঐ একটাই।
দ্বিতীয় মসজিদ - বেলভিল
তারপরে এই দাওয়াতের কাজেরই মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আরেকটা জায়গা করে দিলেন, যেটা একটা পাড়ার মধ্যে ছিল; পুরানো প্যারিসে, যেমন পুরানো ঢাকা। বলা যেতে পারে ওটা প্যারিসের সদরঘাট; পুরানো প্যারিসের কেন্দ্র। ওখানে কাছেই বেলভিল নামে একটা ঘন বসতির মহল্লা। ওখানে একটা মসজিদ পাওয়া গেল।
(এই) মসজিদের ইতিহাস হলো এরকম যে, ঐ পুরানো বাড়িগুলো যেগুলো আছে, নতুন প্ল্যানের অধীনে সেগুলো ভেঙে ফেলে, আবার নতুন করে বানাবে। ভেঙে ফেলার আদেশ তো হয়ে গেছে, কিন্তু কার্যকরি এখনও হয়নি। ঐ বাড়িগুলো অফিসিয়ালি পরিত্যক্ত। আর বসবাসের উপযোগী নয়; অফিসিয়ালি। কিন্তু বাস্তবে লোক আবার আছে; সেগুলোর আবার আন-অফিসিয়াল দখলদারও আছে, ভাড়া দেয়। ঐ আন-অফিসিয়াল ধরনের একজন দখলদার নামাজের জন্য একটা রুম ছেড়ে দিলেন। তো ওটা হয়ে গেল মসজিদ।
ঘরটা কিসের ছিল আমি ঠিক জানি না। ছাদ বেশ উঁচু ছিল। বসবাসের জন্য ছিল না, কোনো গুদাম জাতীয় কিছু ছিল হয়তো। যেহেতু ছাদটা বেশ উঁচু ছিল সেহেতু আমরা সাথীরা মিলে তক্তা দিয়ে দোতলা বানিয়ে ফেললাম। কারণ ওখানে ঘন বসতি আর গাশত করলে লোক পাওয়া যায়। আর কিছুদিনের মধ্যে দেখা গেল যে বেশ মুসল্লিরা আসে। আর তাই জায়গার প্রয়োজন হওয়ায় তক্তা দিয়ে ওটাকে দোতলা করা হলো।
কিন্তু দোতলা বানানোর জন্য অল্পবিস্তর হলেও নিয়ম-কানুন তো কিছু আছে; কিন্তু ওগুলোও মানা হয়নি। বাঁশ, কাঠ দিয়ে, হাতুড়ি-বাটাল দিয়ে দোতলা বানানো হয়েছে। একদিন গাশত হয়ে গেছে একটু বেশি! তার ফলে মানুষও এসেছে একটু বেশি, আর দোতলায় উঠে সবাই ঠাসাঠাসি করে পড়ে গেছে! দোতলা ভেঙে পড়ে গেছে, কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানি কেউ আহত হয়নি।
এটা ছিল প্রথম মসজিদ। ওখান দিয়েই আমরা গাশতে যেতাম।
ফোরিয়ার - শ্রমিকদের আবাসস্থল
কাছেই আরেকটা জায়গা ছিল, যেখানে অনেক শ্রমিকরা থাকত। বিদেশি শ্রমিক বেশি, বিশেষ করে আফ্রিকান। শ্রমিকরা থাকত একা, পরিবারসহ নয়। ওগুলোকে ফোরিয়ার বলে; যেখানে খুব ঘন ভাবে থাকে আর দুই-তিন তাক। শুধু শোয়ার জায়গা, বসার সুবিধা ওখানে নেই। এই ফোরিয়ার ফ্লোরের কম ভাড়া, বেশি লোক একসঙ্গে থাকে।
আর সাধারণত ওই মালিকেরই কাছাকাছি একটা বারও থাকত; মদের দোকান। কারণ বসার জায়গা ওখানে নেই, বসতে হলে ঐ বারে যেতে হতো। আর ওখানে গেলে তার ঐ ব্যবসাও চলে। একসাথে দুই লাভ হলো। এদিকে জায়গায় বেশি লোকের ঘর বানালো যেন বেশি ভাড়া পায়, আর এদিকে বসার সুবিধা না থাকায় বাধ্য হয়ে বারে গিয়ে বসবে, তো বারের ব্যবসাও চলে।
ওখানে কফিশপ, বার ওগুলো একই জিনিস। যেখানে কফি থাকবে ওখানে মদও থাকবে; যেখানে মদ থাকবে ওখানে কফিও থাকবে।
ভাই আদমের সাথে স্মৃতি
আমাদের একজন সাথী ছিলেন যিনি এখনও আল্লাহর ফজলে আছেন; বয়স হয়ে গেছে, ডায়াবেটিসের কারণে ভালো চোখে দেখেন না, প্রায় অন্ধ হয়ে গেছেন; ভাই আদম। তাঁর কাছে গাশতে যেতাম। তিনি আমাকে কাছের বারে নিয়ে যেতেন; মদ খাওয়ানোর জন্য নয়, কফি, কেক খাওয়াতেন।
ওখানে মদের দোকানে বসে কফি খাওয়াকে দোষের কিছু মনে করা হয় না। তিনি আপ্যায়ন করতেন, দাম দিতেন ঠিকই কিন্তু আমাদের দুজনের মধ্যে ভাষা না জানার কারণে কথা বেশি হতো না। আমি ফ্রেঞ্চ অনেক কম বলতে পারতাম, সেটাও বেশি নয়। গাশতে যেতাম ঠিকই, কিন্তু কথাবার্তা বেশি হতো না, তারপর তিনি কফি-চা খাওয়াতেন এবং আমি চলে আসতাম। কথাবার্তা না হলেও আমি নিয়মিত গাশতে যেতাম, সপ্তাহে একবার।
মদের দোকান থেকে মারকাজ
আল্লাহর মেহেরবানিতে পরবর্তীতে এখান থেকে জামাতে গেলাম ১৯৭৬ সালে। আমি ওখান থেকে ফিরে এসেছি ৭০-৭১ সালের দিকে। গিয়ে দেখি ঐ বেলভিলের যে জায়গা ছিল এটা আর নেই; ভাঙা হয়ে গেছে। কাকরাইল থেকে নতুন মারকাজের ঠিকানা নিয়ে গিয়েছিলাম। ঠিকানা দেখে আমার কাছে পরিচিতর মতো মনে হলো, কিন্তু ভালো মতো মনে করতে পারছি না।
নতুন মারকাজে গিয়ে যখন উঠলাম তখন দেখি যে আদম যে বারে নিয়ে যেতেন কফি খাওয়ার জন্য, ঐ বারই এখন মারকাজ। আস্তে আস্তে মুসলমানদের এবং নামাজির সংখ্যা বাড়ার কারণে মদের ব্যবসায় ঘাটতি পড়ে গেছে। একসময় যারা ওখানে মদ খেত, তারাই পরে ঐটা কিনে নিয়ে বানিয়েছে মসজিদ আর ঐ মসজিদই এখন মারকাজ। এইভাবে আল্লাহর মেহেরবানিতে কাজ শুরু হয়।
ক্লেমোফেরা - ইতিহাসের শহর
ঐ তৃতীয় বার যখন জামাতে গেলাম ১৯৭৬ সালে, এখন আমার পাশে বসা ভাই আবদুর নূর; মুসলমান নাম, আগে অন্য নাম ছিল; তাঁর সাথে দেখা হলো ক্লেমোফেরা নামক একটি শহরে। ফ্রেঞ্চ তাবলীগি যারা আছেন, তাদের অধিকাংশই এই ক্লেমোফেরা শহরের।
ক্লেমোফেরা আবার প্রাচীন ইউরোপের এক ধরনের বিশেষ মারকাজও। বলা যেতে পারে প্রাচীন ইউরোপের রুহানি মারকাজ ক্লেমোফেরা। খ্রিস্টান ধর্মের প্রাচীন রুহানি মারকাজ ক্লেমোফেরা। পুরানো পুরানো গির্জা আছে, যাদুর প্রাণকেন্দ্র; এখনও ওগুলো আছে। গির্জার ভিতরে নকশা ইত্যাদি দেখে বোঝা যায় এগুলো স্বাভাবিক নকশা নয়; যাদু জাতীয় জিনিস এগুলোর সাথে জড়িত।
ওখানে একজন আল্লাহওয়ালা সাথী আছেন যিনি আগে ঐসব যাদুর সাথে ছিলেন; তাঁর সাথে ২ বছর আগে কথা বলার সময় তিনি বলেন এইটা একসময় যেমন যাদুর মারকাজ ছিল, এখনও এইটা যাদুর মারকাজ।
ক্রুসেড থেকে তাবলীগ - ইতিহাসের বাঁক
ক্লেমোফেরা থেকেই প্রথম ক্রুসেডার জামাত বের হয়। বহু আগে মুসলমানদের এবং খ্রিস্টানদের মধ্যে বাইতুল মুকাদ্দাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনেক লড়াই-যুদ্ধ হয়েছিল।
তখন ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খ্রিস্টানরা একত্রিত হয়ে ঐ বাইতুল মুকাদ্দাসের জন্য যুদ্ধ করেছে। ঐ যুদ্ধের শুরু ছিল এই ক্লেমোফেরা থেকে।
এটা মোটামুটি ছিল ১০৯২ সালের দিকে। এখানে যে বড় গির্জা ছিল ঐ গির্জার প্রধান পাদ্রি ছিল ২য় ঊগবেন। তার নেতৃত্বে ওই ক্রুসেডার জামাত ওখানে বানানো হয়েছিল, যুদ্ধ হয়েছিল। ঐ যুদ্ধ দীর্ঘ হয়ে অনেক দিন চলার পরে সালাউদ্দিন আইয়ুবীর হাতে শেষ পর্যন্ত বাইতুল মুকাদ্দাস উদ্ধার হলো। ঐ যুদ্ধের শুরু হয়েছিল ক্লেমোফেরা থেকে।
আল্লাহর কী শান! ইসরাইলে প্রথম তাবলীগের জামাত গেল এই ক্লেমোফেরা থেকে। ক্লেমোফেরা থেকেই প্রথম জামাত গেল; কোনো মুসলমান দেশ থেকে ওখানে জামাত যেতে পারে না। ফ্রান্স থেকেই গেল।
ওখানে আমাদের একজন সাথী আছে আবদুল করিম; সে আমাদের দেশেও সময় লাগিয়েছিল। আবদুল করিম প্রথম জামাত নিয়ে গিয়েছিল। প্রথম গিয়ে যখন তারা তেল-আবিব এয়ারপোর্টে নামল; তাদেরকে দেখেই ইমিগ্রেশন বুঝতে পেরেছে যে, এরা তাবলীগের জামাত।
কিন্তু জামাত এসেছে ফ্রান্স থেকে, ফ্রেঞ্চ পাসপোর্ট। আর শুধু ফ্রেঞ্চ পাসপোর্ট নয়, পাসপোর্টে যে নাম সেটাও ফ্রেঞ্চ নাম। আর শুধু তাই নয়; তাদের চুলও কালো নয় আর চোখও কালো নয়, নীল চোখওয়ালা। ধরার কোনো উপায় নাই; পুরোপুরি ফ্রেঞ্চ বংশোদ্ভূত, ১০০% ফ্রেঞ্চ। তারা গিয়ে প্রথম ইসরাইলে তাবলীগের কাজ করে এসেছে।
এটা হলো ১৯৯৩ সালে।
১০৯২ এ যে শহর থেকে ক্রুসেডার জামাত গিয়েছিল, এক হাজার বছর পরে ঐ শহর থেকেই প্রথম ইসরাইলে তাবলীগের জামাত গেল। এখন আল্লাহর ফজলে তাবলীগের কাজ আছে, (আর) দুই দেশের মধ্যে খুব আনাগোনা। যখনই ফ্রান্সে যাই; প্রত্যেক বারই ইসরাইলের জামাত কিছু না কিছু দেখা যায়। তারা ওখানে সময় লাগাতে আসে, তাদের ভিসারও প্রয়োজন নাই আর ফ্রান্সের জামাত যায় ওখানে।
তো আল্লাহর মেহেরবানিতে ওখান থেকেই প্রথম জামাত গিয়েছে, আর ঐ যে বললাম ২৩টি দেশে কাজ তুলেছে, তার মধ্যে একটা হলো ইসরাইল। আল্লাহর মেহেরবানিতে এখন কাজ হচ্ছে।
আবদুর নূরের সাথে পরিচয়
ঐ সময় যখন জামাতে গিয়েছিলাম, জামাত ক্লেমোফেরাও গিয়েছিল; আর ঐ ক্লেমোফেরাতেই আবদুর নূরের সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল। তখন তিনি ছাত্র; ছাত্র ছিলেন ফাইন আর্টসের। ফ্রান্স হচ্ছে ফাইন আর্টসের দেশ, শিল্পকলার দেশ। তিনি শিল্পকলার ছাত্র ছিলেন, তার এক বছর পর ১৯৭৭ সালে আমাদের দেশে সময় লাগাতে এসেছিলেন। তখন গ্রামাঞ্চলে গিয়ে গাশত করেছিলেন; আমাদের দেখাও হয়েছিল। মাঝখানে আরও এসেছিলেন। আল্লাহর মেহেরবানি এখন আবার এসেছেন।
আমাদের ফাযায়েলে আমালের ফ্রেঞ্চ যে অনুবাদ আছে, সেটা এই আবদুর নূর আর রবিয়া নামের আরেক সাথী- এই দুইজন মিলে করেছেন। হযরতজী (রহ.) এর সরাসরি আদেশে। আলিগড়ে অনেকদিন থাকার সুবাদে হযরতজী (রহ.) এর পরিবারের সাথেও খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। হযরতজী এনামুল হাসান (রহ.) খুব স্নেহের নজরে এঁদেরকে দেখতেন, আর খুব ঘনিষ্ঠতাও ছিল। হযরতজী এনামুল হাসান (রহ.)ই এঁদেরকে বলেছেন অনুবাদ করতে। আল্লাহর ফজলে হয়েছেও এবং তালিমও হয়।
আল্লাহর মেহেরবানি; আমাদের কাছে তাঁকে এনেছেন; আমরা তাঁর মুখ থেকে কিছু কথা শুনব ইনশাআল্লাহ।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
নফি ও ইসবাত: দ্বীনের মৌলিক ভিত্তি
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، فَاعۡلَمۡ اَنَّہٗ لَاۤ اِلٰہَ اِلّ...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
১২ জানুয়ারী, ২০২৬
১৪৮৫
কাজ ও আমল: বাস্তবতা ও গায়েবের নিরিখে
الحمد لله نستعينه ونعوذ به من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلله فلا ...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
২০ জানুয়ারী, ২০২৬
২২৪
দ্বীনের মূল লক্ষ্য: মাহবুবিয়্যাত অর্জন
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] اَلحَمْدُ للهِ نَسْتَعِيْنُهُ وَنَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ شُرُوْرِ أَنْفُسِ...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
২১২৬
আভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যের শক্তি
( প্রদত্ত বয়ান হতে সংগৃহীত) বাদ এশা, অক্টোবর, ২০০৯ ইং এস এম হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে اَلْحَمْدُ ...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
২১ জানুয়ারী, ২০২৬
৯৮