মন চাহি জিন্দেগী, রব চাহি জিন্দেগী
মন চাহি জিন্দেগী, রব চাহি জিন্দেগী
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْمِ
أعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ، بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْمِ، فَأَمَّا مَن طَغَى وَآثَرَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا فَإِنَّ الْجَحِيمَ هِيَ الْمَأْوَى وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى. وَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْكَيِّسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ وَالْعَاجِزُ مَنْ أَتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا وَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ، أَوْ كَمَا قَالَ عَلَيْهِ الصَّلاَةُ وَالسَّلَامُ.
হিন্দুস্তানের মেওয়াতীরা তাদের গ্রাম্য সাদাসিধা ভাষায় একটা কথা বলতেন, এখনো বলেন অনেকে:
জীবন দুই ধরনের—দিল চাহে জিন্দেগী আর রব চাহে জিন্দেগী।
মন চাহে জিন্দেগী মানে আমার মন যা চায়,
- রব চাহে জিন্দেগী মানে আমার মালিক যা চান, আমার রব যা চান।
পুরো দুনিয়ার মানুষকে এই দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। এক ভাগ হলো দিল চাহে জিন্দেগীর পথে যারা চলে—বেশিরভাগ মানুষই তাই। আর আল্লাহ তায়ালা যাদেরকে মেহেরবানি করে দীনের সাথে সম্পর্ক দিয়েছেন, দীনের পথে চলার চেষ্টা করে, অর্থাৎ রব চাহে জিন্দেগী—মালিকের পছন্দের জিন্দেগীর পথে যারা আছে, তাদেরও জীবনের বড় একটা অংশ দিল চাহে জিন্দেগীর ভেতরেই আছে।
চাওয়ার দুটো দিক আছে: কী চাই
এবং কীভাবে চাই—এই দুই জিনিস।
প্রথম কথা হলো কী চাই?
দুনিয়ার মানুষ দুনিয়াতে আসার পর ধীরে ধীরে নিজে নিজেই তার একটা চাহিদা আবিষ্কার করে। সমাজ থেকে, বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে, আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে সে সংগ্রহ করে যে, আমার জীবনের লক্ষ্য কী হবে?
ছোট পাঠশালার বই-টইতে আগে থাকত, আজ-কাল খুব একটা থাকে না, কারণ এগুলো সবসময় পরিবর্তন হতে থাকে, ভাষা-পরিভাষা ইত্যাদি। লেখাপড়া করে যে, গাড়ি-ঘোড়ায় চড়ে সে। এখানে শেখানো হচ্ছে দুই জিনিস: লক্ষ্য গাড়ি-ঘোড়া আর পদ্ধতি লেখাপড়া।
আমার জীবনের সামনে লক্ষ্য কী?
গাড়ি-ঘোড়ার মালিক হব, ধন-সম্পদের মালিক হব। গাড়ি-ঘোড়ার মধ্যে দুই ধরনের সম্পদই আছে—টাকা-পয়সা ইত্যাদিও আছে আর মানুষের কাছে সম্মান-পরিচিতি ইত্যাদিও আছে। পদ্ধতি কী? লেখাপড়া করা। লেখাপড়া করে চাকরি করব আর চাকরি করে ওরকম গাড়ি-ঘোড়াওয়ালা হব। এটা ছোট্ট একটা দৃষ্টান্ত দিল চাহে জিন্দেগীর।
সর্বকালেই মানুষ তার মনের ভেতর একটা লক্ষ্য স্থির করেছে। ওটা যে একেবারে সারা জীবনের জন্য একবারে স্থির হয়ে গেছে তা নয়, ধীরে ধীরে তা পরিবর্তনও হতে থাকে। কিন্তু মোটামুটিভাবে তার কিছু লক্ষ্য আছে।
**উদাহরণ:** মেডিকেল কলেজে একটা ছেলে যখন ভর্তি হয়, তখন হয়তো তার খেয়াল থাকে যে এমবিবিএস ডাক্তার হব। বছর দু-তিন যাওয়ার পরেই সে বুঝতে পারে যে এমবিবিএস শুধু ডাক্তার হয়ে খুব বেশি সুবিধা হবে না। দেশে প্রচুর এমবিবিএস ডাক্তার আছে, কোনো একটা জায়গায় একটা চেম্বার খুলে যদি বসে, তো তাও খুব বেশি রোগী পায় না। চাকরিও তেমন জমে না, অত সহজে পাওয়াও যায় না। ওইটা ধীরে ধীরে পরিবর্তন হয়ে গেল। এখন এফসিপিএস বা কিছু একটা করতে হবে, স্পেশালিস্ট হতে হবে।
তো যে কথা নিয়ে সে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিল, বের হওয়ার সময় ওই কথাই থাকছে না। ওটার মধ্যে কিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে।
সবাই প্রায় একটা মেহনত করতে থাকে আর সেই মেহনতের ভেতর তার লক্ষ্য, মনের চাওয়া ইত্যাদিরও পরিবর্তন হতে থাকে। এই পরিবর্তনগুলো সে নিজে, তার বন্ধুবান্ধব, তার সমাজ, তার পরিবেশ—এগুলোর চাহিদা থেকেই সে সংগ্রহ করে।
- সবাই চায় ধনী হতে, তো আমার মনের ভেতরও ধনী হওয়ার ইচ্ছা জাগে।
- এ ব্যাপারে মানুষ অন্যান্যদের মনের মধ্যে যা আছে, যাদের সাথে তার সম্পর্ক আছে, তাদের মনের কথার বড় প্রভাব পড়ে।
তার বন্ধুরা যদি খেলোয়াড় হয়, তাহলে খেলাধুলার জগতের দিকে তার নজর যাবে, আর তারও খুব আগ্রহ হবে। সেই ছেলের বন্ধুরা যদি খেলোয়াড় না হয়ে শিল্পী হতো, লেখাপড়ার গল্প-স্বল্প, সাহিত্যিক ইত্যাদি, তাহলে হয়তো-বা তার ওদিকে খেয়াল যেত। আবার কিছু ধরন আছে, পার্টি করে নেতাগিরি করে, তাহলে ওদিকেই খেয়াল যেত। যে যে পরিবেশের মধ্যে থাকে, সে পরিবেশে যে জিনিস প্রচলিত, ওদিকেই খেয়াল যায়।
তার খুব সহজ দৃষ্টান্ত হচ্ছে পোশাক-আশাকের ব্যাপারে **ফ্যাশন**। ফ্যাশন মানে কী? সবাই যেটা পরে ওটাই, ওটাই সুন্দর লাগে।
কোনো একটা ডিজাইনের জামা কেউ যেন পরে এলো, যে পরেছে সে গ্রামের লোক, গ্রাম থেকে নতুন এসেছে। ওর বন্ধু-বান্ধব এই নতুন ডিজাইনের জামা দেখে খুব হাসাহাসি করল, ওকে সামনাসামনি কিছু বলল না, একটু আড়চোখে দেখল। ওই গেয়ো ভাব আর যাবেই না, যতই ইউনিভার্সিটিতে পড়ুক না কেন, আসলটা বের হয়েই যাবে।
কিন্তু দু-তিন সপ্তাহ যেতে না যেতেই বোঝা গেল যে, ওর ভাই এটা ইউরোপ থেকে বা আমেরিকা থেকে একেবারে লেটেস্ট ফ্যাশনটা নিয়ে এসেছে। আর ওটা আস্তে আস্তে করে এখন দেশেও জাহির হচ্ছে বিভিন্ন ছবি-টবিতে। এখন তার প্রতি দৃষ্টি বদলে গেল। গ্রামের হলে হবে কি, লাইন ভালো আছে। আর তার মান-ইজ্জতও বেড়ে গেল। আর নিজের কাছেও আগ্রহ জাগছে, দু'দিন পরে যখন বাজারে যাবে জামা কিনতে, তো ওকে সাথে করে নিয়ে যাবে। তুই একটা পছন্দ করে দে।
তো যে জিনিস দু'দিন আগে তার কাছে হাস্যকর ছিল, কোনো অর্থেই ওটাকে সুন্দর বলা যেত না, দু'দিন পরে ব্যাপক যখন হয়ে গেছে আর বিশেষ করে যাদের সে বড় মনে করে, তারা যখন এটাকে গ্রহণ করে নিয়েছে, তখন ওটাই তার কাছে খুবই সুন্দর মনে হচ্ছে।
তো জামা-কাপড়ের ব্যাপারে যেটা খুব সহজেই দেখা যায় যে, জামা দেখে আগের দিন হাসছে, খুব বেশি দিন যায় না, সপ্তাহখানেক যাওয়ার পরেই ওটার ব্যাপারে সে নিজেও আগ্রহী হয়ে গেল। ওই একই জিনিস মনের ভেতরে সব ব্যাপারেই হয়। চারপাশে যারা তারা যদি ওটাকে ভালো ভাবে, তো আমার মনের ভেতরও ওটার আছর পড়ে যে, আমারও মনে হয় ভালো। তারা যদি খারাপ ভাবে, তো আমার কাছেও মনে হবে খারাপ। তারা যদি তাদের জীবনের একটা লক্ষ্য স্থির করে, তাহলে আমার কাছে মনে হবে যে হ্যাঁ, একটা জীবনের লক্ষ্য তো এরকমই হওয়া উচিত। আর ওটা খুব দ্রুত বদলে যাবে, যদি খুব ভিন্নের মধ্যে যায়।
মানুষ যেই সমাজে বেড়ে ওঠে, ওখান থেকে সে তার মনের ভেতর একটা লক্ষ্য স্থির করে।
বেশিরভাগ মানুষ বিভিন্ন আকারে, অল্প-স্বল্প এদিক-ওদিক একটু তারতম্য থাকে, দুটো জিনিস তার সামনে প্রায়ই এসে যায়—**দুটো সম্পদের মালিক হওয়া, বা দুই ধরনের সম্পদের মালিক হওয়া।**
১. অর্থকড়ি (বস্তুগত সম্পদ)
এক ধরনের সম্পদ হলো যেটাকে অর্থকড়ি বলা হয়—সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা, যত জিনিস, জমি, পেট্রোল ইত্যাদি।
২. মানব-সম্পদ
আর এক ধরনের সম্পদ হলো মানব-সম্পদ, মানুষ। আর ওটার মালিক হয় কীভাবে? তাদের কাছে সম্মানিত হওয়া। তারা যেন আমাকে সম্মানিত করে। তারা যেন আমার অনুগত হয়। আমার কথা যেন তারা মানে।
তো এই **দুই সম্পদের** উপর তার আধিপত্য। একটাকে সরাসরি সম্পদ হিসেবেই বলা হয়, অপরটাকে মানব-সম্পদ বলে। ওটাকে সরাসরি সম্পদ হিসেবে বলে না, তার অন্যান্য নাম দিয়ে ওটাকে চেনে। কিন্তু ঘুরেফিরে জিনিস ওটাই যে, **মানুষ যেন আমার অধীনে হয়।**
আমার টাকা হলে যেরকম আমি আমার ইচ্ছামতো টাকাকে খরচ করতে পারি, আমার অধীনে মানুষ হলেও ওরকম আমি আমার ইচ্ছামতো তাদেরকে খরচ করতে পারব। মানুষকে কীভাবে খরচ করে? আমার ইচ্ছা হলো যে অমুকের সাথে লড়ব। তারা লড়তে লাগল। সে মরতে পারে, মরবেও, মারবে, মরবে। কিন্তু ওর জীবন যাচ্ছে, ওর বাচ্চারা কাঁদছে, ওর বাচ্চারা এতিম হচ্ছে, ওর স্ত্রী বিধবা হচ্ছে—কিন্তু আদেশ আমার, ইচ্ছা আমার, লাভ হয় আমার, ক্ষতি হয় ওর। যুদ্ধ করতে গিয়ে মরে গেল, তো মরে গেলে যা হওয়ার হবে, জিতে আমি রাজা হব।
তো অর্থের সম্পদকে যেরকম আমি আমার ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে পারি, বাজারে গিয়ে যা ইচ্ছা কিনব—কারণ আমার টাকা, আমার পকেটের টাকা, আমি যা ইচ্ছা কিনব। তো মানব-সম্পদের যখন সে মালিক হয়, তখন সে তার ইচ্ছামতো এই মানব-জীবনগুলোকে ব্যবহার করে।
দুনিয়ার মানুষ সাধারণত এগুলোই চায়। বিভিন্ন মাত্রায়, অল্প-স্বল্প টাকা-পয়সা সবাই চায়। খুব বিরাট হয়ে গেলে চূড়ান্ত মাত্রায় গিয়ে থাকে, একেবারে কুরআনের দৃষ্টান্তে পৌঁছে যায়। যার ভাণ্ডারের চাবি নিতে হলেই এক বড় দলের প্রয়োজন। অল্প-স্বল্প প্রভাব, অল্প-স্বল্প ক্ষমতা, আমার কথা মেনে চলে—সবাই কিছু পায়, কিছু চায়। তাই চূড়ান্ত মাত্রায় চলে গেলে ফেরাউনের মতো হয়ে যায়, চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত।
আল্লাহ তায়ালা এর মোকাবিলায় দুনিয়াতে মানুষকে পাঠিয়েছেন, আর এমনি থেকেই পাঠিয়ে দেননি যে, তুমি ওখানে গিয়ে নিজের ইচ্ছামতোই তোমার জীবনের একটা লক্ষ্য স্থির করে ফেলো। আর তুমি তোমার ইচ্ছামতোই সে লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটা পদ্ধতিও খুঁজে বের করো নাও। এরকম না।
বরং **আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে তাকে পাঠিয়েছেন, আল্লাহ তায়ালা নিজেই তার জীবনের একটা লক্ষ্য স্থির করে পাঠিয়েছেন**—কী লক্ষ্য সামনে রেখে সে তার জীবনযাপন করবে। **এবং সেই লক্ষ্য অর্জন করার যে পদ্ধতি, সেটাও আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন।**
أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لا تُرْجَعُونَ
> "তোমরা কি ভেবেছ যে তোমাদেরকে অকারণেই সৃষ্টি করেছি? আর আমার কাছে ফিরে আসতে হবে না?" (সূরা মুমিনুন: ১১৫)
তো দুনিয়ার যেই মানুষ সে নিজেই লক্ষ্য স্থির করল, তো নিজেই লক্ষ্য স্থির করা মানেই হলো **আল্লাহ তায়ালা আমাকে খামাখাই পাঠিয়েছেন, আল্লাহ কোনো লক্ষ্য স্থির করেননি।** আল্লাহ যখন লক্ষ্য স্থির করেননি, তার মানে অকারণে, খামাখাই পাঠিয়েছেন, বা আমিই এসেছি। এখন আমাকেই একটা খুঁজে বের করে নিতে হবে, তো আমিই আমার লক্ষ্য স্থির করব। এবং সেই লক্ষ্য কীভাবে অর্জন করা যায় তার পদ্ধতি নিজেই খুঁজে বের করতে হবে—যেভাবেই পারা যাক।
আর এর মোকাবিলায় **আল্লাহ তায়ালা বারবার নবীদেরকে পাঠিয়েছেন**, আর সব নবীরা এসে বলেছেন যে:
- আল্লাহ তায়ালা তোমাকে পাঠিয়েছেন
- আল্লাহর কাছে তোমাকে ফিরে যেতে হবে
- আল্লাহ তোমার জীবনের লক্ষ্যও দিয়েছেন আর লক্ষ্য অর্জনের পদ্ধতি দিয়েছেন
- আল্লাহ তায়ালা ফিরে যাওয়ার পরে দুটোর ব্যাপারেই হিসাব নেবেন
**আমি যে জন্য পাঠিয়েছিলাম, ওই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তোমার জীবন যাপন করেছ কি না? আমি যে পদ্ধতি দিয়ে পাঠিয়েছিলাম, সেই পদ্ধতি দিয়ে তুমি ওগুলো অর্জন করার চেষ্টা করেছ কি না?** দুটোই।
মৌলিক বিষয় না হলেও অনেক আংশিক ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালার দেওয়া লক্ষ্য এবং মানুষের নিজের কল্পনা করা লক্ষ্য মিলে যায়।
আল্লাহ তায়ালাও চান যে সে সুস্থ হয়ে যাক, নিজেও চায় সে সুস্থ হয়ে যাক। সমাজের মানুষ আমাকে ভালোবাসুক, আল্লাহ তায়ালাও এটা পছন্দ করেন, মানুষ নিজেও চায়। অনেক বিষয়েই, মৌলিক বিষয়ে না হলেও এই ছোট ছোট অনেকগুলো অংশের বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য যেটা পছন্দ করেন, মানুষ নিজে থেকে যেগুলো তার আবিষ্কার করেছে বা কল্পনা করেছে কিংবা সে মনের মধ্যে গড়েছে, সেগুলো আল্লাহ তায়ালার পছন্দের সাথে মিলে যায়।
যেমন বললাম যে, শান্তির জীবন চায়, মানুষের কাছে একটু মান-সম্মান চায়। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে খামাখা বেইজ্জত করতে চান না, অশান্তির জীবন দিতে চান না। মিলে যায়। কিন্তু সেখানে একটু বড় পার্থক্য আছে। আল্লাহ তায়ালা দেওয়ার জন্য তার নিজস্ব বড় পদ্ধতি দিয়ে পাঠিয়েছেন, আর মানুষ সে নিজে পদ্ধতি আবিষ্কার করতে চায়।
যেমন সম্মান। আল্লাহ তায়ালা চান তার বান্দার যেন সম্মানের জীবন হয়। সম্মান কী? মানুষ যেন তাকে ভালোবাসে, মানুষ যেন তাকে সম্মান করে। ভালোবাসাই আসলে সম্মান। যে যাকে ভালোবাসবে, তাকে সম্মান করবে। শব্দ ভিন্ন, কিন্তু মূল উপাদানে খুব বেশি পার্থক্য নেই।
আল্লাহ তায়ালা সম্মান দেওয়ার জন্য মানুষের তাকওয়ার আদেশ দিয়েছেন। **"إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللهِ أَتْقَاكُمْ"** — তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানী সেই ব্যক্তি, যে সবচেয়ে বেশি পরহেজগার, মুত্তাকী।
মানুষও সম্মান চায়, কাফির-মুশরিকও চায়, সব যামানায় সব দেশেই চায়। তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সম্মান চায় নানান ধরনের সম্পদের মাধ্যমে। মানুষকে অনুগত করে, বাধ্য করে সম্মান তার কাছ থেকে নিতে চায়।
বড় সম্পদের মালিক হয়ে গেল, বড় ব্যবসার মালিক হয়ে গেল, তো যারাই এই সম্পদ ও ব্যবসার সাথে জড়িত, তারা সবাই তার অধীনে তার অনুগত। তার কথা তাকে মানতে হবে, তো তারা তাকে খুবই সম্মান করবে। যদিও এই সম্মান এটা একটা বাধ্য করে তার কাছ থেকে নেওয়া হলো, কিন্তু মানুষ এটা চায়।
আজকাল তো এই মফস্বল শহরে এখনো অত বেশি রেওয়াজ হয়নি, কিন্তু ঢাকায় ব্যাপকভাবেই হয়ে গেছে। সব বাড়ির সামনে দারোয়ান আছে। কোথাও আবার একাধিক বাড়ি মিলে এক দারোয়ান। একাধিক ফ্ল্যাট মিলে এক দারোয়ান।
তো দারোয়ানের একটা কাজ তো হলো পাহারা-টাহারা দেওয়া, সেগুলো তো আছেই। কিন্তু দারোয়ানের এটাও একটা দায়িত্ব যে, আসতে যেতে তাকে যেন সালাম দেয়। মালিকরা তার পাহারা দেওয়ার জন্য যেরকম তাকে বেতন দেয়, সেই সালামের জন্যও বেতন দেয়। তাকে খুব ধুমধামে সালাম দেবে, এ জন্য তাকে সে কিছু অতিরিক্ত বেতন দেবে।
ঠিক এগুলো বেতনের পদে লেখা থাকে না যে, পাহারা দেওয়ার জন্য এত টাকা, সালামের জন্য এত টাকা, কিন্তু সেগুলো দুই পক্ষই বোঝে। দারোয়ান সেটা বুঝে যে, সালাম না দিলে টাকা দেবে না, আর মালিকও সেটা বোঝে যে, সে সালাম না দিলে বেতন কমিয়ে দেবো।
কেন? যে সম্মান চায়, এমনি পাচ্ছে না, তো পয়সা দিলে দেবে। সকালবেলা বের হওয়ার সময় একবার দেবে, বিকেলবেলা ঢোকার সময় আরেকবার দেবে।
গল্প আছে যে, ভিন্ন দেশের কোনো এক রাজকুমার ভ্রমণে এসেছে এই দুনিয়াতে। সে এক জায়গায় গেল, গিয়ে সাক্ষাতের জন্য এক রাজার কাছে গেল। রাজা সিংহাসনে মহা আনন্দে বসে আছে, কোনো জনমানব নেই। সে যখন গেল তো রাজা তাকে খামাখা বলে যে, তোমার হাত কেমন করে তুললো যে! তো উঠাল, দু-হাত একসাথে জোড় দাও, মারো। তো মারল, তো তালি বেজে গেল। তালি যখন বেজে গেল তো রাজা তাকে আবার জিজ্ঞেস করছে যে, তুমি আমাকে এত সম্মান কেন করো যে, আমাকে দেখেই তুমি তালি দিলে।
সে তাকে নানান কৌশলে তালি দেওয়ালো, আগে বলেওনি যে তালি দাও, বলে হাতদুটো খোলো, তারপর আবার হাতদুটোকে একসাথে করে দাও। আর তালি যখন বেজে গেল তখন আবার রাজা জিজ্ঞেস করল যে, তুমি আমাকে এত সম্মান কেন করো?
তো দুনিয়ার মানুষ এরকম নানান ধরনের কৌশলে তার কাছ থেকে সম্মান উসুল করে, আর তারপর আবার লোকের কাছে বলে যে, দেখো, এরা আমাকে কত সম্মান করে। এ-ও এক ধরনের সম্মান। কিন্তু মানুষ এটা চায়।
বড় ব্যবসার মালিক কেন হতে চায়? এই ব্যবসার সাথে যারা জড়িত আছে তারা সবাই যেন আমাকে সালাম করে। আমার কথা মানে। যদিও সে এই কথা বুঝে যে, যত দিন ঠ্যাকা আছে তত দিন মানবে। যখন ঠ্যাকা নেই তখন মানবে না। কিন্তু তাতে হলো কী, মানছে তো!
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সম্মান দিতে চান, কিন্তু এরকম ধোঁকার সম্মান নয়, মহব্বতের সম্মান। সেটা কীরকম? যে দিল থেকে মহব্বত, আসবে কোত্থেকে? ঈমান থেকে, তাকওয়া থেকে।
হযরত আবু আইয়ুব আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন খলিফা ছিলেন, তো মক্কার একজন মহিলা একটু বয়স্ক ছিলেন, কোনো কারণে তাঁকে তাওয়াফ করতে নিষেধ করলেন। নফল তাওয়াফ, ফায়দার জিনিস, সওয়াবের জিনিস, কিন্তু তাঁকে নিষেধ করলেন।
দ্বীনের নানান মেহনতের মধ্যে যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা দ্বীনের গভীর জ্ঞান দিয়েছেন, তাদের অনুগত যারা থাকে, তাদেরকে আমলের বিষয়ে পরিচালনা করে। এই আমল করবে, এই আমল করবে না।
কেউ পীরের কাছে মুরিদ হলে, বা তাবলিগে চিল্লায় গেলে কিছু ভালো আমলও সাময়িকভাবে নিষেধ করা হয়। মাসের শেষে রমজানে এতেকাফের দরকার। অথচ বললেন যে, তিন চিল্লায় চলে যাও। তো সে মনে করে যে, এগুলো আবার কী ধরনের কথা!
তো আল্লাহ তায়ালা যাদেরকে দ্বীনের বিষয়ে গভীর জ্ঞান দিয়েছেন, তারা বুঝতে পারে যে, কার জন্য কোন আমল কখন ভালো। তাওয়াফ এটা স্বীকৃত জিনিস, বড় সওয়াবের আমল। কিন্তু সেই মহিলাকে হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাওয়াফ করতে নিষেধ করলেন। তো তিনি আর তাওয়াফ করেননি।
এই প্রশ্ন কেউ যদি করে যে, সওয়াবের জিনিস তিনি করতে কেন নিষেধ করেছেন? তো এই কথা বোঝা এই সাধারণ জ্ঞান দিয়ে নাগাল পাওয়ার জিনিস না। গভীর রূহানী ইলম থাকলে বোঝা যায় যে, কার জন্য কোনটা প্রযোজ্য, নইলে বাকি সবার জন্য প্রচলিত নিয়মগুলো প্রযোজ্য। তিনি আর তাওয়াফ করতেন না।
এরপর একদিন হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইন্তেকাল হয়ে গেল। কিন্তু সেই মহিলা বেঁচে আছেন। তাঁকে কেউ একজন পরে বলল যে, যে খলিফা তোমাকে নিষেধ করেছে তিনি তো আর দুনিয়াতে নেই। এখন তো তাওয়াফ করতে পারো। তিনি বললেন যে, উমর জীবিত থাকতে তাওয়াফ করিনি, আর উমরের দুনিয়াতে থেকে চলে যাওয়ার পরও আর করব না।
এটা হলো দিল থেকে সম্মান করা, মানা, অনুগত হওয়া। এরকম নয় যে, যেমনি ক্ষমতা একটু টালমাটাল হতে লাগল, এখন আর মানে না।
বাধ্য সম্মান বনাম স্বতঃস্ফূর্ত সম্মান
আমি যখন ছাত্র ছিলাম আমার স্বচক্ষে দেখা ঘটনা। বিকেলে এক বাসায় গিয়েছি। সেখানে তখন অনেক অতিথি। এসময় একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এলেন। বাসার মালিক তখন আরেক মেহমানের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। সেই দ্বিতীয় মেহমান এক সময় পাকিস্তান আমলে মন্ত্রী ছিলেন। সেন্ট্রাল ক্যাবিনেটে। অমুক অমুক ক্যাবিনেটের মন্ত্রী ছিলেন।
তার সাথে সেই ব্যবসায়ী পরিচিত হলেন। বলতে গেলে আজই নতুন পরিচয়। পরিচিত হওয়ার পর সেই প্রাক্তন মন্ত্রীকে বলছেন, আপনি আমাকে আগে চিনতেন যখন মন্ত্রী ছিলাম। তো এখন হাবভাব এমন যে, মনে হচ্ছে নতুন করে পরিচিত হচ্ছেন। তিনি মোটেই নতুন করে পরিচিত হচ্ছেন না। এখন এ জন্য নতুন করে পরিচয় হচ্ছে যে, এখন আর পরিচয় রাখার দরকার নেই। মন্ত্রী ছিল, তখন খুব পরিচয় রাখত। মন্ত্রিত্ব শেষ হয়ে গেছে, এখন পরিচয় করিয়ে দিলে পরিচিত হবে, পরমুহূর্তে আবার ভুলে যাবে, মনে রাখার দরকার নেই। দরকার পড়ে তো তখন আবার মনে করবে।
কিন্তু আল্লাহ তায়ালা যে সম্মানের ওয়াদা করেছেন, সেটা দিলের ভেতর এমন আসর করে যে, সে চলে যাক না কেন, এমনকি হাজার বছর গেলেও সেটা কমে না। আজও যদি কেউ ইস্তাম্বুলে যায় আর ইস্তাম্বুলে গিয়ে কোনো এক ট্যাক্সি ড্রাইভারকে বলে যে, আমাকে সুলতানের সেখানে নিয়ে যাও। সুলতান মানে বাদশা। তো গোরস্থানে নিয়ে যায়। কোনো রাজমহলে নিয়ে যাবে না। না প্রেসিডেন্ট, না প্রাইম মিনিস্টার বা কারো বাড়ি; সে নিয়ে যাবে গোরস্থানে।
সুলতান কে? যে আইয়ুব সুলতান। আইয়ুব সুলতান নামে ডাকে তারা, কখনো কখনো শুধু সুলতানও বলে। হযরত আবু আইয়ুব আনসারী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। তিনি যে তুরস্কে গিয়েছেন, জিন্দাও যাননি, মৃতা গিয়েছেন। মারা অবস্থায় গিয়ে এমন সুলতানি কায়েম করেছেন যে, আজও গিয়ে একজন ট্যাক্সি ড্রাইভারকে সুলতান বললে সে তাঁর কবরেই নিয়ে যাবে।
তাঁর নাম সুলতান ছিলও না। তিনি তো আবু আইয়ুব আনসারী। কিতাব ইত্যাদির মধ্যে তাঁর নাম ইত্যাদিতে কোথাও সুলতান নেই। কিন্তু গোটা তুরস্কে তিনি পরিচিত সুলতান নামে। কত সুলতান এলো আর গেল, এই সুলতানের সুলতানি টিকে আছে।
তো আল্লাহ তায়ালা সম্মান দিতে চান, মানুষও সম্মান চায়, কিন্তু মানুষ তার নিজস্ব পদ্ধতিতে চায়। আর আল্লাহ তায়ালা নিজ পদ্ধতিতে দিতে চান।
এরকম মানুষ মনের তৃপ্তি চায়, মনের তৃপ্তির জন্যও নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করে। নিজের ভবিষ্যতের সম্পদের নানান ধরনের ইন্তেজাম সে করতে থাকে, যাতে মনে তার তৃপ্তি আসে। আল্লাহ তায়ালাও তৃপ্তি দিতে চান কোনো ইন্তেজাম ছাড়া। তাওয়াক্কুলের উপর। তাকে তাওয়াক্কুলওয়ালা বানাতে চান। যে তাওয়াক্কুলওয়ালা হয়ে যায়, আল্লাহ তায়ালা তাকে ইতমিনান দিয়ে দেন। সব অবস্থায় তার ইতমিনান। কোনো দুশ্চিন্তা নেই। আল্লাহর উপর সে ভরসা করে নেওয়ালা।
তো আল্লাহ তায়ালা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামদেরকে পাঠিয়েছেন মানুষকে নিজ মনগড়া লক্ষ্যের জীবন থেকে উদ্ধার করে আল্লাহ তায়ালা যে জীবন দিতে চান, সে জীবনের দিকে আনার জন্য।
আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন এবং তার একটা মাকসাদ দিয়ে পাঠিয়েছেন। বিনা মাকসাদে নয়। কারো জন্যই মানায় না বিনা উদ্দেশ্যে কাজ করা। বিনা উদ্দেশ্যে মানুষ যদি কাজ করতে থাকে, তাকে পাগল বলবে। আল্লাহর জন্য এটা হতেই পারে না যে, এই বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করলেন আর কোনো উদ্দেশ্য নেই। হতেই পারে না। সুস্থ মানুষও উদ্দেশ্যহীন একটা কাজ করবে না। উদ্দেশ্যহীন একটা কথা বলবে না। আল্লাহ তায়ালা করেছেন, উদ্দেশ্য আছে। অথচ সে কল্পনা করে, কোনো উদ্দেশ্য নেই। এই কল্পনা করে বলেই তো নিজে নিজে একটা উদ্দেশ্য নির্ণয় করবার চেষ্টা করে।
আমার জীবনের তাহলে কী উদ্দেশ্য? আমি নিজেই একটা বানাই। এই কথার মানেই হলো যে, আল্লাহ তায়ালা আমাকে অকারণে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা কোনো কিছুই নির্ণয় করেননি। খামাখা পাঠিয়েছেন। এসেই যখন পড়েছি, যে-কোনোভাবেই হোক, এখন আমি নিজে নিজেই কিছু একটা বানিয়ে নিই।
তো প্রথম কথা হলো যে, আল্লাহ পাঠিয়েছেন, আল্লাহ উদ্দেশ্য দিয়েই পাঠিয়েছেন। আল্লাহর কাছে ফিরতে যেতে হবে, আর আল্লাহর কাছে গিয়ে হিসাব দিতে হবে
তোমাকে যে উদ্দেশ্য দিয়ে পাঠানো হয়েছিল, ওটার দিকে তুমি কতটুকু অগ্রসর হলে। এটার হিসাব চাইবে।
> **لا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلا كَبِيرَةً إِلاَّ أَحْصَاهَا وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا وَلا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا**
> ছোট-বড় কিছুই বাদ পড়বে না, সবকিছুর আল্লাহ তাআলা হিসাব রাখেন, আর আল্লাহ তাআলা কারও উপর জুলুম করবেন না।
তো হিসাব কী? যে লক্ষ্য ছিল ওটাকে সামনে রেখে চলেছ কি না। আর দ্বিতীয় কথা যে বললাম, ওটা কী? পদ্ধতি। আল্লাহ তাআলা যে পদ্ধতিতে দিতে চান, তুমি সে পদ্ধতিতেই চেষ্টা করেছ কি না। ওটা তো পরবর্তীকালে আসবে, কিন্তু প্রথম হলো লক্ষ্য।
আল্লাহ তাআলা বড় মেহেরবানি করে আমাদেরকে দ্বীন দিয়েছেন। দ্বীনের এই প্রধান দুটো লক্ষ্য, প্রথম হলো যে আমার জীবনের লক্ষ্য কী? আমাকে সন্তুষ্ট করা না-কি মালিককে সন্তুষ্ট করা, না-কি সমাজকে সন্তুষ্ট করা, না ছেলে-মেয়েকে সন্তুষ্ট করা—এটা ঠিক করতে হবে।
এই জায়গায় দুনিয়ার মানুষ বড় বিভ্রান্তির মধ্যে। কাউকে না কাউকে তো সে সন্তুষ্ট করতে চায়, কিন্তু কাকে কখন করতে চায়, ওটা ঠিক নেই।
- **নিজেকে সন্তুষ্ট করা:** কখনো মনে করে যে আমার মন যা চায় অর্থাৎ আমি নিজে নিজেকে সন্তুষ্ট করি।
> **أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ**
>
> তুমি কি তাদেরকে দেখেছ, যারা নিজের মনের ইচ্ছাকে তার উপাস্য বানিয়েছে? **إِلَهَهُ هَوَاهُ** মানে যার উপাসনা করে অর্থাৎ যার সন্তুষ্টি চায়।
তুমি কি তাদেরকে দেখেছ যারা তাদের নিজের মনের ইচ্ছাকে তাদের উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে? দুনিয়ার মানুষের বড় একটা অংশ হলো তার নিজের মনের ইচ্ছাই তার উপাস্য। নিজেই নিজেকে সন্তুষ্ট করতে চায়।
- **সন্তানদের সন্তুষ্ট করা:** আবার অনেকেই আছে, তাদের ছেলে-মেয়েদেরকে সন্তুষ্ট করতে চায়। তো ছেলে-মেয়েকে সন্তুষ্ট করার জন্য সে নানান নাজায়েজ কাজ করে। অন্যের জমি দখল করে ফেলে ছেলেকে দিয়ে যাবে। এমনকি নিজের পরিবারের ভেতরে তার নিজের মেয়েদেরকে বঞ্চিত করে ছেলেদেরকে খুশি করার জন্য তাদেরকে জমি দিয়ে দেয়। যে কারণেই হোক ছেলের দিকে তার মন বেশি ধাবিত হয়। কখনো ভয় কখনো কিছু, তো তাদের সন্তুষ্ট করতে চায়।
- **সমাজকে সন্তুষ্ট করা:** সমাজকে সন্তুষ্ট করতে চায়। সে জন্য অনেকগুলো কাজ করবে, যেগুলোতে নিজের কোনো লাভ নেই, কিন্তু সমাজে ওগুলোর জন্য পাবন্দ। যে কোনো কারণেই একটা নামিদামি পরিবার হয়ে গেছে অঞ্চলের মধ্যে। এবং এই পরিবারে বিশেষ বিশেষ বড় ধরনের সদকা-খয়রাত করা হয়, বড় শিন্নি-টিন্নি করা হয় গ্রামের লোকদেরকে খাওয়ানোর জন্য। বাপ হয়তো করেছেন, দাদা হয়তো করেছেন, কিন্তু ওর টাকা হয়তো শেষ হয়ে গিয়েছে, কিন্তু তার নামিদামি ওই ঐতিহ্য রক্ষা করার জন্য এখন চুরি করে হোক বা ডাকাতি করে হোক আর ঋণ করে হোক বা মিথ্যা বলে হোক, শিন্নি করে পাবলিককে খাওয়াচ্ছে। নিজে খাচ্ছেও না। খাচ্ছে গ্রামের লোকে। কেন খাওয়াচ্ছে? যেন তার নামধামটা টেকে। তো পাবলিককে সন্তুষ্ট করতে চায়।
কখনো সন্তানকে সন্তুষ্ট করা, কখনো গ্রামের লোককে সন্তুষ্ট করা, ঠিক নেই কখন কোনটা করে। খুব পরিবর্তন হয়।
এর বিপরীতে আল্লাহ তাআলা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামকে পাঠিয়েছেন এমনভাবে যে, তারা অন্য সবার ব্যাপারে বেপরোয়া হবে। তাদের মনে শুধু এক আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার নিয়ত থাকবে।
সবাই মিলে তোমাকে গালি দিক, তোমাকে খারাপ বলুক, কিছু আসে যায় না। তোমার ছেলে-মেয়েরা তোমার উপর অসন্তুষ্ট হয়ে যাক, কোনো পরোয়া নেই। তোমার মা-বাপ তোমার উপর নারাজ হয়ে যাক, কোনো পরোয়া নেই। এক আল্লাহ।
তো আল্লাহ তাআলার দিকেই ছিল নবীদের জীবন।
ইবরাহিম আলাইহিস সালামের বাপ মন্ত্রী ছিল, ছোটখাটো একটা পাবলিক বাপ হলেও একটা কথা। মন্ত্রির মতন বাপকে অসন্তুষ্ট করে ফেলার কোনো পরোয়া করেননি। তুমি হও মন্ত্রী আর যাই কিছু হও, আর তুমি অসন্তুষ্ট হয়ে গেলেই-বা কী। ইবরাহিম আলাইহিস সালাম তার মন্ত্রী বাপকেও নারাজ করতে পরোয়া করেননি।
তার ছেলে ইসমাঈল আলাইহিস সালাম আবার আরেক লাইনের, ভবিষ্যতের নবী। সেই ছেলেকে অসন্তুষ্টি করতেও পরোয়া করেননি। না বাপের অসন্তুষ্টির পরোয়া আছে আর না নিজের ছেলেকে জবাই করার ব্যাপারে পরোয়া আছে। চাই তো একটাই যে, আমার মালিক আমার উপর রাজি হয়ে যাক। বাপও অসন্তুষ্ট, ছেলেও অসন্তুষ্ট, কোনো পরোয়া নেই। ছেলে ও স্ত্রীকে মরুভূমিতে রেখে এলেন, ওরা নারাজ হবে, অসন্তুষ্ট হবে, কোনো চিন্তা নেই। আল্লাহ যেন রাজি হয়ে যান।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কুরাইশ বড় পছন্দ করে, খুব ভালোবাসে, সম্পূর্ণ কুরাইশ তার বিরুদ্ধে চলে গেল এই দাওয়াত দিতে গিয়ে, কোনো পরোয়া নেই। কিছুটা মীমাংসা করে নিই, একটু সমঝোতা করে নিই, মিলজুল হয়ে যাক; তারাও প্রস্তাব দিলো, কাফিররাও বিভিন্ন সময় প্রস্তাব দিলো, ঠিক আছে, তোমারও কথা থাকুক আমাদেরও কথা থাকুক। একটু মাঝামাঝি অবস্থায় চলে আসি। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিঞ্চিৎ পরিমাণ নড়লেন না। ওই যে কথা নিয়ে এসেছেন ওটাই।
এক হাতে চন্দ্র দিয়ে দাও আরেক হাতে সূর্য দিয়ে দাও, তাও না, ধন-দৌলত দাও, ক্ষমতা দাও, নারী দাও তাও না, উপাস্য কিছু আছে, তোমাদের দেব-দেবী কিছু কমাও। আর আমি একজনের কিছু বাড়াই। মাঝখানে একটা মীমাংসা হয়ে যাক, তাও না। কোনো প্রস্তাবেই রাজি না। অথচ প্রস্তাব দিচ্ছে সম্পূর্ণ কুরাইশ মিলে। সব সর্দার আর তিনি একা। এদের প্রস্তাব একটা মানা দরকার, সবাই মিলে বলছে একটা গুরুত্ব আছে, কিছু না। সব নারাজ হয়ে যাক কোনো পরোয়া নেই।
তো আল্লাহ তাআলা সব নবীদেরকে এই কথা দিয়ে পাঠিয়েছেন যে, এক আল্লাহকে রাজি করার মোকাবিলায় তোমার নিজের পছন্দ কী, তার দিকেও তাকাবার দরকার নেই। তোমার সন্তানের পছন্দ কী তার দিকেও তাকাবার দরকার নেই। তোমার মা-বাপের পছন্দ কী, ওদিকে তাকাবারও দরকার নেই। তোমার সমাজ কী চায়, তারা কি প্রশংসা করবে, ওদিকেও তাকাবার দরকার নেই, কোনো কিছু নয়। এক কথা, আল্লাহ কীভাবে রাজি হন, আমি আল্লাহকেই রাজি করব। এই একটা কথাই।
তো আল্লাহ তাআলা রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেও এই কথা দিয়ে পাঠিয়েছেন আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের প্রত্যেক ব্যক্তির ওই একই দায়িত্ব যে, পুরা দুনিয়ার মানুষকে এক আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে যেন সে ডাকে।
মানুষ তো তার জীবনকে খরচ করবেই কাউকে না কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য। বিভিন্ন ভাষা ব্যবহার করা হয়:
- **"আমার মন চায়"** - তার মানেই আমি আমাকে সন্তুষ্ট করতে চাই
- **"আমার ছেলে-মেয়েরা চায়"** - তার মানে আমি ওদেরকে সন্তুষ্ট করতে চাই
- **"আমার মা-বাপ বলে"** - আমি ওদেরকে সন্তুষ্ট করতে চাই
আর এ সবকিছুর মোকাবিলায় হলো যে **আল্লাহ চান, আল্লাহ সন্তুষ্ট হোক, সবাই অসন্তুষ্ট হয়ে যাক, ওদিকে নজর দেওয়ার কোনো দরকার নেই।** এক আল্লাহকে রাজি করা।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাওয়াত দিয়েছেন, এর আগের নবীরা দাওয়াত দিয়েছেন, নূহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাওয়াত দিয়েছেন।
নূহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে তার ছেলে চলে গেল, স্ত্রী চলে গেল, গোটা সমাজ তার বিরুদ্ধে চলে গেল, এক কথাই। সবাই যে অসন্তুষ্ট হয়ে গেল, তো হোক না, এ জন্য তার প্রথম কথা হলো, যে কারও পছন্দ নয়, এক আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটাকে বিভিন্ন ভাষায় বলা হয়, নফসের মোখালাফাত করা, সবর করা।
মূসা আলাইহিস সালাম যখন খিজির আলাইহিস সালামের কাছে গেলেন, তো প্রথম কথায় খিজির আলাইহিস সালাম বললেন:
> **إِنَّكَ لَن تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا**
>
> তুমি সবর করতে পারবে না।
দ্বীনের সব মেহনতের মধ্যে সবরের বড় গুরুত্ব আছে। আর সবর মানেই হলো আমার মন কিছু চায়, ওটাকে ছাড়া। আমি কিছু ভেবেছি, ওটার বিরুদ্ধে চলা। আমার কিছু ইচ্ছা, ওটার বিরুদ্ধে চলা। এগুলোকে সবর বলা হয়। নিজের মনোমতো যখন চলে, ওটা কোনো সবর নয়।
খেলার মাঠে পেরেশান হয়ে ফুটবল মাঠে দৌড়াচ্ছে, কিছুক্ষণ দৌড়ানোর পরে যখন গেঞ্জি খোলে আর ওটা চিপে, তো এইরকম পানি বের হয়, যেরকম বালতি দিয়ে পানি তুলেছিস, এমন ঘাম বেরোচ্ছে। কিন্তু ওর এই যে খেলার মাঠে এরকম দৌড়ল, সম্পূর্ণ শরীর ঘামে ভিজে গেল, এটাকে কেউ বলে না যে, এই ছেলে বড় সবরওয়ালা। বড় মুজাহাদা করছে। সবর বলা হয় না, মুজাহাদা বলা হয় না। কারণ, ওর নিজের মন চাচ্ছে।
আর এর মোকাবিলায় নিজের মন চাচ্ছে না তো ছায়ায় বসি, বসে থাকা হয় তাও সবর লাগবে। আমরা গাশতে গেলাম। রিকশা স্ট্যান্ডের কাছেই মসজিদ ছিল। মসজিদে একটু ঠান্ডা, খুব গরমের মৌসুম ছিল, মসজিদ ঠান্ডা, রিকশাওয়ালারা রিকশায় বসে আছে, তাদের অপেক্ষা করছে, সিট পেলে যাবে, প্রচণ্ড রোদ এবং গরম ছিল। গাশত-টাশত করে কিছু রিকশাওয়ালাকে মসজিদে আনা হলো, বেশিক্ষণ রাখা গেল না। দু-চার মিনিট রাখার পরে ছটফট করে চলে গেল। মসজিদের ভেতরে ওই বাইরের গরমের তুলনায় বড় আরাম। বিরাট গাছের ছায়ার নিচে ছিল মসজিদ আর খুব ঠান্ডা; বাইরে প্রচণ্ড গরম। কিন্তু এই আরামের মধ্যে বসে থাকা ওর জন্য যে পরিমাণ সবরের প্রয়োজন, ওই সবর না থাকার কারণে বেশিরভাগই বসতে পারে না। এমনি কষ্টের মধ্যে চলে গেল।
তো এখানে আরামে বসতেই তার সবরের দরকার। এ জন্যই সবরের দরকার যে, যতই আরাম হোক মন চাচ্ছে না। আর ওখানে যতই কষ্ট হোক মন চাচ্ছে। খেলার মাঠ থেকে ছেলেকে ডেকে আনো যে, এখানে বসে থাকো, খেলতে পারবে না। তো ওর এখানে বসে থাকা বড় সবরের প্রয়োজন। এর চেয়ে মাঠে গিয়ে দৌড়াবে, ঘামে ভিজে যাবে, ওটার জন্য কোনো সবরের দরকার পড়ছে না।
তো নিজের চিন্তা, নিজের ইচ্ছা, নিজের পদ্ধতির বিরুদ্ধে চলা—এটাতেই সবরের দরকার। সে জন্য সব দ্বীনের মেহনতের মধ্যে সবরের বড় মশক করানো হয়। মক্কা শরীফের ১৩ বছর সবর শেখানো হয়েছে। ১৩ বছর অন্য কিছু ছিলই না প্রায়, শুধুই সবর শেখানো হয়েছে। নিজের মনের উল্টো চলা।
কাফিররা মারছে, বকছে, সহ্য করেছে চুপ করে চলে। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে একজন বকাবকি করেই যাচ্ছে, গালাগালি এক ধারে দিয়েই যাচ্ছে, চুপ করে শুনছেন। আচ্ছা ঠিক আছে। তারা মারে, তুমি পাল্টা মারতে পারবে না। নিজের হাত গুটিয়ে রাখো। পাল্টা মারতে আমার মন চায়। সে একটা কথা বলল, আমিও পাল্টা দু-কথা বলি, ওটাই মন চায়। কিন্তু গোটা দ্বীনের মেহনতই হচ্ছে মন চাওয়া থেকে বিরত থাকা।
মক্কা শরীফে ১৩ বছর এই কষ্ট সহ্য করা হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচা আবু তালিব, যিনি রাসূলকে আগলে রাখতেন, তিনি মৃত্যুর সময় ঈমান আনলেন না। স্ত্রী খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা মারা গেলেন। এই দুটো বড় সাপোর্ট চলে গেল। তারপর তায়েফে গিয়ে পাথর খেলেন, রক্তাক্ত হলেন। এতসব কষ্টের পরও আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য আসেনি।
**কিন্তু তবুও সবর করেছেন।** মন চাইছিল অলৌকিক কিছু হোক, শত্রুরা ধ্বংস হয়ে যাক, কিন্তু সেটা হয়নি। এটাই সবর।
---
**সারকথা:** জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা, অন্য কারও সন্তুষ্টি নয়। আর এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সবর—যা হলো নিজের মনের ইচ্ছা, পছন্দ ও পদ্ধতির বিপরীতে আল্লাহর নির্দেশিত পথে অবিচল থাকা।
এজন্য ভাই সময় লাগবে বলে ইরাদা করি, ইনশাআল্লাহ যে যতটুকু পারি। যাদের কাছে নির্দিষ্ট সময় আছে, নির্দিষ্ট সময় হিসেবে বলি। যাদের কাছে নির্দিষ্ট সময় নেই, যদিন পর্যন্ত সময় পাই, যেভাবেই পারি বলি ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর পথে সময় লাগবে বলে ইরাদা করি, বিসমিল্লাহ করে দাঁড়াই। হিম্মত করে দাঁড়াই ইনশাআল্লাহ। হ্যাঁ, আজকে রাত থেকেই, আজকে রাত থেকেই।
আরও, আরও নিয়ত করি ইনশাআল্লাহ, বেশি পারি, বেশি না হলে কম। কোনোভাবে যে যতটুকু পারি হিম্মত করে বলি ইনশাআল্লাহ। মাশাআল্লাহ।
একটু ছড়িয়ে ছড়িয়ে পুরান যারা দাঁড়িয়েছ, নিজেদের মধ্যে মুযাকারা করে নাও কয়েক মিনিট। একজন আরেকজনকে তৈরি করা।
---
**২রা ডিসেম্বর ২০০৬, শনিবার**
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বাদ মাগরিব, দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক অবরোধ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় ছাত্রদেরকে আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার জন্য তারগিব ও তাশকিলের জন্য পুরোনো সাথীদের মজমায় স্যার উপর্যুক্ত আলোচনা করেন।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
দ্বীন ও দুনিয়া
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] দুনিয়ার সব মানুষের কাজকর্ম ও চেষ্টা-পরিশ্রমকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়—এক...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
১২ জানুয়ারী, ২০২৬
১৪৪১
আদরের ভাইটিকে বলছি
( দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের আলোকিত পরশে দ্বীন পাওয়া প্রতিটি কলেজ বা ভার্সিটির জেনারেল শিক্ষিত ছাত্র ...
মাওলানা ডাঃ মোহাম্মদ মাসীহ উল্লাহ
১০ নভেম্বর, ২০২৪
১১১০২
দুআ কবুল না হওয়ার কারণ: আমরা কি ভুল চাইছি?
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] أعوذ بالله من الشيطان الرجيم. بسم الله الرحمن الرحيم مَنۡ عَمِلَ صَالِح...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
১৭৩১
অনলাইন দাওয়াহ
অনলাইনে দাওয়াহর মূল উদ্দেশ্য কী? মূল টার্গেট অডিয়েন্স কারা? লেখালেখিসহ অন্যান্য কন্টেন্টের কোন উদ্...
আসিফ আদনান
১০ নভেম্বর, ২০২৪
১৪৪৬৩