মুর্শেদের আইন শরীয়ত! বাউল মতবাদ। পর্ব—২৯
মুর্শেদের আইন শরীয়ত! বাউল মতবাদ। পর্ব—২৯
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াত প্রাপ্তীর পর থেকে কিয়ামত অবধি সমগ্র মানবজাতির জন্য ইসলামী শরীয়াত পালন করা চূড়ান্ত ফরজ। এ বিধানের কোনো অংশ কমানো বা বাড়ানোর অধিকার কারও নেই। অনুরূপভাবে, ইসলামী শরীয়াতকে উপেক্ষা করে কোনো পীর, গুরু কিংবা কোনো নেতাকে অনুসরণ বা মান্য করারও বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। ইসলামের বিধানই একমাত্র চূড়ান্ত মানদণ্ড; এর বাইরে সব আনুগত্য বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য।
বাউল ধর্মে কী বলে?
বাউল সম্রাট লালন ফকির লিখেছে—
মোর্শেদকে মানিলে খোদার মান্য হয়,
সন্দেহ যদি হয় কাহারও কোরান দেখলে মিটে যায়।
দেখো বেমুরিদ যতো শয়তানের অনুগত,
এবাদত বন্দেগি তার তো সই দেবে না দয়াময়। —অখন্ড লালনসঙ্গীত, পৃ. ৫৭
মোর্শেদ যা ইশারা দেয় বন্দেগির তরিক সেই হয়।
কোরানে তা সাফ লেখা রয়, আবার অলি দরবেশ তাঁরাও কয়। —(অখন্ড লালনসঙ্গীত, পৃ. ৫৭)
এই সঙ্গীতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লালনভক্ত আবদেল মাননান লিখেছে—
‘মোর্শেদরুপে আল্লাহ যার জন্য যে সাধনপদ্ধতি দান করেন সেটাই তার জন্য পালনীয় অপরিহার্য ধর্মবিধান বা শরীয়ত। এটাই কোরআনের নির্দেশনা। সবার জন্য আজীবন একই ধাঁচের নামাজ বা ধ্যান কখনো সঠিক হতে পারে না। জন্মকর্ম, জ্ঞানপাত্র ধারণক্ষমতা অনুসারে এক একজনের জন্য এক একটি পৃথক পৃথক তরিকা বা স্বতন্ত্র পন্থা নির্ধারিত। বিপুল বৈচিত্রের মধ্যে একত্বময় প্রেমিক সুফির এমনই ভজনধারা। এভাবেই গুরু তথা মোর্শেদের কৃপালাভ অর্থাৎ ভগবান বা আল্লাহর পরিপূর্ণ দর্শন লাভ করা সাধকের পক্ষে সম্ভব। তার বিপরীতে গুরুমুখী সাধনাকে অগ্রাহ্য করে যে যতই ধার্মিক সাজুক তাতে কারো শেষ রক্ষা নেই। —(অখণ্ড লালনসঙ্গীত, পৃ. ৫৭)
এরকম অনুভূতি প্রায় সব বাউলদের। তাঁরা জাতপাতের উর্ধ্বে উঠে গুরু/মুর্শিদের দীক্ষা নিয়ে সাধনা করে থাকেন। —(বাউলসাধনা, পৃ. ৩১)
লালন একাডেমির সাবেক পরিচালক ডক্টর আনোয়ারুল করীম লিখেছেন—
আমি এতদঞ্চলে দীর্ঘকাল বসবাস করার কারণে তাদের সাথে আমার একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বাউলদের সঙ্গে দীর্ঘকাল মেলামেশা করে যা জেনেছি তা হলো এরা সমাজে প্রচলিত কোনো মূলধর্মের আচার-অনুষ্ঠানে বিশ্বাসী নয়। এদের কোনো ধৰ্মীয় শাস্ত্ৰ নেই। এরা গুরুপরম্পরায় যা জেনেছে তাই-ই তারা সাধনার ধন হিসেবে আঁকড়ে ধরে আছে। এদের সাধনা দেহভিত্তিক এবং মিথুনাত্মক, সে কারণে গুপ্ত। —(বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ৩১৩)
অর্থাৎ গুরু বা মুরশিদের প্রণীত আইন-কানুনই ভক্তদের জন্য পালনীয় শরীয়াত—নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক।
ইসলাম কী বলে?
এই বক্তব্যের মাধ্যমে বাউল সম্প্রদায় কার্যত ইসলামী শরীয়াতকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে অস্বীকার করে ছুঁড়ে ফেলেছে। অথচ, মহান আল্লাহ তাঁর রাসুল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাধ্যমে ইসলামী শরীয়াতকে চূড়ান্তভাবে পূর্ণতা দান করে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন—
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের উপর আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য দীন হিশাবে ইসলামকে (চির দিনের জন্য) পছন্দ করে নিলাম। (সুতরাং এ দীনের বিধানাবলী পরিপূর্ণভাবে পালন করো)।” —সুরা মায়িদা : ৩
উক্ত আয়াতে মহান আল্লাহ চিরকালের জন্য ইসলামী শরীয়াতকেই চূড়ান্ত বিধান হিশাবে ঘোষণা করেছেন, যে আইনের কোনো অংশ কমানো-বাড়ানোর কোনো অবকাশ নেই। এমনকি এর কোনো একটি বিধান বাদ দেওয়া বা সংস্কার করারও কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। পক্ষান্তরে, ইসলামী আইন পরিত্যাগ করে অন্য কোনো আইন—তা পূর্ববর্তী কোনো ধর্মীয় বিধান হোক কিংবা নব্য আবিষ্কৃত কোনো মানব-প্রণীত আইন—মান্য করা মহান রব্বের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। এ প্রসঙ্গে মহান রব্ব আরও বলেন—
وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
“যে ব্যক্তিই ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দীন অবলম্বন করতে চাবে, তার থেকে সে দীন কবুল করা হবে না এবং আখিরাতে সে মহা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” —(সুরা আলে ইমরান : ৮৫)
আরো শক্তভাবে মহান রব্ব ইরশাদ করেন—
إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ ۗ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِن بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ ۗ وَمَن يَكْفُرْ بِآيَاتِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ
“নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট (গ্রহণযোগ্য) দীন কেবল ইসলামই। যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তারা তাদের কাছে জ্ঞান আসার পর কেবল পারস্পরিক বিদ্বেষবশত ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছে। আর যে-কেউ আল্লাহর আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করবে (তার স্মরণ রাখা উচিত যে,) আল্লাহ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।” —(সুরা আলে ইমরান : ১৯)
উক্ত আয়াতের তাফসীরে হযরত হাফেজ ইবনে কাসীর রহি. লিখেছেন—
إخبار من الله تعالى بأنه لا دين عنده يقبله من أحد سوى الإسلام، وهو اتباع الرسل فيما بعثهم الله به في كل حين، حتى ختموا بمحمد صلى الله عليه وسلم، الذي سد جميع الطرق إليه إلا من جهة محمد صلى الله عليه وسلم، فمن لقي الله بعد بعثته محمدًا صلى الله عليه وسلم بدِين على غير شريعته، فليس بمتقبل
“এই আয়াত দ্বারা এই সংবাদ দেয়া উদ্দেশ্য যে, আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দীন কেবল ইসলাম। আর সর্বযুগে আল্লাহ তাআলার প্রেরিত নবীদের ওহীর অনুসরণ করার নাম ইসলাম। সর্বশেষ এবং সকল নবীর সমাপ্তকারী হচ্ছেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তার নবুওয়াতের পর পূর্বের সকল পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন। এখন যে কেউ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হওয়ার পর তার শরীআত ব্যতীত অন্য কোন শরীআত গ্রহণ করে মৃত্যু বরণ করবে, তা আল্লাহ তাআলার নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না।” —(উমদাতুত তাফসীর, খ. ২ পৃ. ২৩৩)
এ ছাড়াও কুরআন ও সুন্নাহর বিধানকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে সরাসরি সহিহ হাদিসে কঠোর তাগিদ এসেছে। হযরত যায়দ বিন আরকাম রা. বলেন—
قَامَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَوْمًا فِينَا خَطِيبًا بِمَاءٍ يُدْعَى خُمًّا بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَوَعَظَ وَذَكَّرَ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ أَلاَ أَيُّهَا النَّاسُ فَإِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ يُوشِكُ أَنْ يَأْتِىَ رَسُولُ رَبِّى فَأُجِيبَ وَأَنَا تَارِكٌ فِيكُمْ ثَقَلَيْنِ أَوَّلُهُمَا كِتَابُ اللهِ فِيهِ الْهُدَى وَالنُّورُ فَخُذُوا بِكِتَابِ اللهِ وَاسْتَمْسِكُوا بِهِ
“একদিন মক্কা-মদীনার মধ্যপথে ’খুম’ নামক জলাশয়ের ধারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন। সুতরাং তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি বর্ণনা করে ওয়ায-নসীহত করার পর বললেন—অতঃপর, হে লোক সকল! শোনো, আমি একজন মানুষ মাত্র, শীঘ্রই (আমার নিকট) আমার প্রতিপালকের দূত আসবেন এবং আমি (আল্লাহর নিকট যাওয়ার জন্য) তাঁর ডাকে সাড়া দেবো। আমি তোমাদের মাঝে দু’টি ভারী (গুরুত্বপূর্ণ) বস্তু ছেড়ে যাচ্ছি। তার মধ্যে একটি আল্লাহর কিতাব, যাতে হিদায়াত ও আলো রয়েছে। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কিতাবকে গ্রহণ করো এবং তা মজবুত ক’রে ধারণ করো।” —(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ২৪০৮)
এতসব সুস্পষ্ট হাদিস বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও যারা ইসলামী বিধান বা শরীয়াত পরিত্যাগ করবে, কিংবা গুরুর প্রণীত আইনকে শরীয়াত হিসেবে গ্রহণ করবে—তাদের সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্টভাবে ধ্বংসের ঘোষণা দিয়েছেন। হযরত ইরবায ইবনু সারিয়াহ রা. কর্তৃক বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট শুনেছেন, তিনি বলেছেন—
قَدْ تَرَكْتُكُمْ عَلَى الْبَيْضَاءِ لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا لَا يَزِيغُ عَنْهَا بَعْدِي إِلَّا هَالِكٌ
“অবশ্যই তোমাদেরকে উজ্জল (স্পষ্ট দ্বীন ও হুজ্জতের) উপর ছেড়ে যাচ্ছি; যা রাত ও দিনের মতই স্পষ্ট। আমার পর ধ্বংসোন্মুখ ছাড়া অন্য কেউ তা হতে ভিন্নপথ অবলম্বন করবে না।” —(মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ১৭১৪২)
এত সুস্পষ্ট হাদিস থাকার পরও কী বলা যায় যে, গুরুর আইনই ভক্তের শরীয়াত? যদি ইসলামী শরীয়াতকে বাদ দিয়ে কেবল গুরুর আইন মানতেই হয়, তবে নিন্মোক্ত হাদিসের ব্যাপারে কী বলা যাবে? হযরত জাবির রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন—
أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنُسْخَةٍ مِنَ التَّوْرَاةِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذِهِ نُسْخَةٌ مِنَ التَّوْرَاةِ فَسَكَتَ فَجَعَلَ يقْرَأ وَوجه رَسُول الله يَتَغَيَّرُ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ ثَكِلَتْكَ الثَّوَاكِلُ مَا تَرَى مَا بِوَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَظَرَ عُمَرُ إِلَى وَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَعُوذُ بِاللَّه من غضب الله وَغَضب رَسُوله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ بَدَا لَكُمْ مُوسَى فَاتَّبَعْتُمُوهُ وَتَرَكْتُمُونِي لَضَلَلْتُمْ عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ وَلَوْ كَانَ حَيًّا وَأَدْرَكَ نُبُوَّتِي لَاتَّبَعَنِي
“উমার ইবনুল খাত্ত্বাব রা. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে তাওরাত কিতাবের একটি পান্ডুলিপি এনে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এটা হলো তাওরাতের একটি পান্ডুলিপি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ থাকলেন। এরপর উমার রা. তাওরাত পড়তে আরম্ভ করলেন। (এদিকে রাগে) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চেহারা বিবর্ণ হতে লাগল। আবু বকর রা. বললেন—উমার, তোমার সর্বনাশ হোক। তুমি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিবর্ণ চেহারা মুবারক দেখছো না? উমার রা. রাসুলের চেহারার দিকে তাকালেন এবং (চেহারায় ক্রোধান্বিত ভাব লক্ষ্য করে) বললেন, আমি আল্লাহর গজব ও তাঁর রাসুলের ক্রোধ হতে পানাহ চাচ্ছি। আমি ’রব্ব’ হিশাবে আল্লাহ তাআলার ওপর, দীন হিসেবে ইসলামের ওপর এবং নবী হিসেবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর সন্তুষ্ট আছি। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ’আল্লাহর কসম, যাঁর হাতে আমার জীবন! যদি (তাওরাতের নবী স্বয়ং) মুসা আ. তোমাদের মধ্যে থাকতেন, আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করতে আর আমাকে ত্যাগ করতে, তাহলে তোমরা সঠিক সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পথভ্রষ্ট হয়ে যেতে। মূসা আ. যদি এখন জীবিত থাকতেন এবং আমার নুবূওয়্যাতের যুগ পেতেন, তাহলে তিনিও নিশ্চয়ই আমার অনুসরণ করতেন।” —(সুনানে দারিমী, হাদিস নং : ৪৩৫)
উক্ত আয়াত ও হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে জানা যায় যে, এই যুগে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ পরিত্যাগ করা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। যেখানে মুসা আলাইহি সালাম-এর মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ নবীকে উপেক্ষা করা জায়েজ নয়, সেখানে পুরো ইসলামী আইন বাদ দিয়ে কেবল পীর, গুরু বা মুর্শিদের বিধানকে শরীয়াত হিশাবে মানা কীভাবে সম্ভব? এটা কি বাউলদের কুফরি মতবাদ ছাড়া আর কিছু হতে পারে? যদি এটি কুফরি না হয়, তবে কুফর কী? আল্লাহপাক আমাদেরকে লালন ফকিরদের এই কুফরি মতবাদ থেকে হিফাযত করুন। আমীন!