লালন সৃষ্টির নিয়স্ত্রক! বাউল মতবাদ। পর্ব—৩৬
লালন সৃষ্টির নিয়স্ত্রক! বাউল মতবাদ। পর্ব—৩৬
মহান আল্লাহ তাআলা সকল সৃষ্টির একমাত্র স্রষ্টা। তিনিই সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ করেন। মহান আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতায় কারো অংশীদারত্ব নেই।
বাউল ধর্মে কী বলে?
তাদের আকিদা হলো—লালন ফকিরই সব কিছুর নিয়ন্ত্রণকারী বা শাসনকর্তা। দেখুন, তারা লিখেছে—
পরিদৃশ্যমান সমস্ত সৃষ্টিরাজ্যের মধ্যে আমরা যা কিছু আকার-আকৃতির মধ্যে প্রকাশিত হতে দেখি তার নিয়ন্তা লালন। তিনি সৃষ্টির মহারাজা। —(লালনদর্শন, পৃ. ১২৯)
অর্থাৎ লালন ফকিরই সকল সৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী!
ইসলাম কী বলে?
কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত দলীল দ্বারা এ কথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, সকল সৃষ্টির একমাত্র নিয়ন্ত্রণকারী হলেন মহান আল্লাহ। নিন্মে কয়েকটা আয়াত পেশ করলাম—
اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الۡحَـىُّ الۡقَيُّوۡمُ لَا تَاۡخُذُهٗ سِنَةٌ وَّلَا نَوۡمٌؕ لَهٗ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الۡاَرۡضِؕ
“আল্লাহ তিনি, যিনি ছাড়া কোনও মাবুদ নেই, যিনি চিরঞ্জীব, (সমগ্র সৃষ্টির) নিয়ন্ত্রক, যাঁর কখনও তন্দ্রা পায় না এবং নিদ্রাও নয়, আকাশমণ্ডলে যা-কিছু আছে (তাও) এবং পৃথিবীতে যা-কিছু আছে (তাও) সব তাঁরই।”—(সুরা বাকারা : ২৫৫)
يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ
“আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত প্রতিটি কাজের ব্যবস্থাপনা তিনি নিজেই করেন।” —(সুরা সাজদা : ৫)
اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَأَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَّكُمْ ۖ وَسَخَّرَ لَكُمُ الْفُلْكَ لِتَجْرِيَ فِي الْبَحْرِ بِأَمْرِهِ ۖ وَسَخَّرَ لَكُمُ الْأَنْهَارَ وَسَخَّرَ لَكُمُ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ دَائِبَيْنِ ۖ وَسَخَّرَ لَكُمُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَآتَاكُم مِّن كُلِّ مَا سَأَلْتُمُوهُ ۚ وَإِن تَعُدُّوا نِعْمَتَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا ۗ إِنَّ الْإِنسَانَ لَظَلُومٌ كَفَّارٌ
“আল্লাহ তিনি, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, তারপর তা দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্য ফল উৎপাদন করেছেন এবং জলযানসমূহকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে তা তাঁর নির্দেশে সাগরে চলাচল করে, আর নদ-নদীকেও তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। সূর্য ও চন্দ্রকে তোমাদের কাজে নিয়োজিত করেছেন, যা অবিরাম পরিভ্রমণরত রয়েছে। আর তোমাদের জন্য রাত ও দিনকেও কাজে লাগিয়ে রেখেছেন। তোমরা যা-কিছু চেয়েছ, তিনি তার মধ্য হতে (যা তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক তা) তোমাদেরকে দান করেছেন। তোমরা আল্লাহর নিয়ামতসমূহ গুণতে শুরু করলে, তা গুণতে সক্ষম হবে না। বস্তুত মানুষ অতি অন্যায়াচারী, ঘোর অকৃতজ্ঞ।” —(সুরা ইবরাহীম : ৩২-৩৪)
وَسَخَّرَ لَكُم مَّا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا مِّنْهُ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
“এবং আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, তা সবই তিনি নিজের পক্ষ থেকে তোমাদের কাজে লাগিয়ে রেখেছেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে বহু নিদর্শন আছে সেই সব লোকের জন্য, যারা চিন্তা-ভাবনা করে।”—(সুরা জাছিয়া : ১৩)
وَمَا تَسْقُطُ مِن وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ
“(কোনো গাছের) এমন কোনো পাতা ঝরে না, যে সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত নন। মাটির অন্ধকারে কোনও শস্যদানা অথবা আর্দ্র বা শুষ্ক এমন কোনও জিনিস নেই যা এক উন্মুক্ত কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই।“—(সুরা আনআম : ৫৯)
وَعَلَى اللَّهِ قَصْدُ السَّبِيلِ وَمِنْهَا جَائِرٌ ۚ وَلَوْ شَاءَ لَهَدَاكُمْ أَجْمَعِينَ هُوَ الَّذِي أَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً ۖ لَّكُم مِّنْهُ شَرَابٌ وَمِنْهُ شَجَرٌ فِيهِ تُسِيمُونَ يُنبِتُ لَكُم بِهِ الزَّرْعَ وَالزَّيْتُونَ وَالنَّخِيلَ وَالْأَعْنَابَ وَمِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ وَسَخَّرَ لَكُمُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ۖ وَالنُّجُومُ مُسَخَّرَاتٌ بِأَمْرِهِ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَعْقِلُونَ وَمَا ذَرَأَ لَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُخْتَلِفًا أَلْوَانُهُ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِّقَوْمٍ يَذَّكَّرُونَ وَهُوَ الَّذِي سَخَّرَ الْبَحْرَ لِتَأْكُلُوا مِنْهُ لَحْمًا طَرِيًّا وَتَسْتَخْرِجُوا مِنْهُ حِلْيَةً تَلْبَسُونَهَا وَتَرَى الْفُلْكَ مَوَاخِرَ فِيهِ وَلِتَبْتَغُوا مِن فَضْلِهِ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ وَأَلْقَىٰ فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَن تَمِيدَ بِكُمْ وَأَنْهَارًا وَسُبُلًا لَّعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ وَعَلَامَاتٍ ۚ وَبِالنَّجْمِ هُمْ يَهْتَدُونَ أَفَمَن يَخْلُقُ كَمَن لَّا يَخْلُقُ ۗ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ
“সরল পথ দেখানোর দায়িত্ব আল্লাহ তাআলার। আর আছে বহু বাঁকা পথ। তিনি চাইলে তোমাদের সকলকে সরল পথে পরিচালিত করতেন। তিনিই সেই সত্তা, যিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, যা থেকে তোমাদের পানীয় লাভ হয় এবং তা থেকেই জন্মায় উদ্ভিদ, যাতে তোমরা পশু চরাও। তা দ্বারাই তিনি তোমাদের জন্য ফসল, যায়তুন, খেজুর গাছ, আঙ্গুর ও সর্বপ্রকার ফল উৎপাদন করেন। নিশ্চয়ই যারা চিন্তা করে, তাদের জন্য এসব বিষয়ের মধ্যে নিদর্শন আছে। তিনি দিন-রাত ও চন্দ্র-সূর্যকে তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। নক্ষত্ররাজিও তাঁর নির্দেশে কর্মরত রয়েছে। নিশ্চয়ই এর ভেতর বহু নিদর্শন আছে সেই সকল লোকের জন্য, যারা বুদ্ধি কাজে লাগায়। এমনিভাবে তিনি তোমাদের জন্য রঙ-বেরঙের যে বস্তুরাজি পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তাও তাঁর নির্দেশে কর্মরত আছে। নিশ্চয়ই যারা শিক্ষাগ্রহণ করে, সেই সব লোকের জন্য এর মধ্যে নিদর্শন আছে। তিনিই সেই সত্তা, যিনি সমুদ্রকে কাজে নিয়োজিত করেছেন, যাতে তোমরা তা থেকে তাজা গোশত খেতে পারো এবং তা থেকে আহরণ করতে পারো অলংকার, যা তোমরা পরিধান করো এবং তোমরা দেখতে পাও তাতে পানি কেটে কেটে নৌযান চলাচল করে, যাতে তোমরা সন্ধান করতে পারো আল্লাহর অনুগ্রহ এবং যাতে তোমরা শোকর গোজার হয়ে যাও। এবং তিনি পৃথিবীতে পাহাড়ের ভার স্থাপন করেছেন, যাতে তা তোমাদের নিয়ে দোল না খায় এবং নদ-নদী ও পথ তৈরি করেছেন, যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার। এবং (পথ চেনার সুবিধার্থে) বহু আলামত তৈরি করেছেন, তাছাড়া মানুষ নক্ষত্র দ্বারা পথ চিনে নেয়। সুতরাং বলো, যেই সত্তা (এতসব বস্তু) সৃষ্টি করেন, তিনি কি তার সমান হতে পারেন, যে কিছুই সৃষ্টি করে না? তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?” —(সুরা নাহল : ৯-১৭)
এতো স্পষ্ট এবং প্রমাণমূলক আয়াত থাকার পরও যারা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কাউকে সৃষ্টির নিয়ন্ত্রক দাবি করে, তারা নিঃসন্দেহে সুস্পষ্ট মুশরিক।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
কুরআনের চেয়ে মুমিন দামী! হেযবুত তওহীদ। পর্ব–১৬
পবিত্র কুরআন সরাসরি আল্লাহপাকের কালাম। পৃথিবীর সব কিছু মাখলুক হলেও আল্লাহ-র কালাম মাখলুক নয়। সুতরাং ...
মুফতী রিজওয়ান রফিকী
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
৩৪৭৭
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন