প্রবন্ধ
তারাবিহের নামাজ বাধ্যতামূলক নয়! হেযবুত তওহীদ। পর্ব–৭৩
১০ অক্টোবর, ২০২৫
২৬৭৫
০
রমাযান মাসে রাত জেগে আমল করার ব্যাপারে অসংখ্য হাদিস রয়েছে। বিশেষ করে তারাবীহের নামাজের গুরুত্ব রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামসহ সকল সাহাবায়ে কেরাম রা. এবং উম্মতে মুসলিমার কাছে অপরিসীম।
হেযবুত তওহীদ কী বলে?
তাদের দাবী হলো, তারাবীহের নামাজ বাধ্যতামূলক মনে করা যাবে না। তারা লিখেছে,
সুতরাং সুন্নত হিসাবে মো'মেনরা তারাবি পড়তে পারেন, কিন্তু একে বাধ্যতামূলক বানিয়ে নেওয়াটা বাড়াবাড়ি। –সওমের উদ্দেশ্য, পৃ. ১৬
ইসলাম কী বলে?
হযরত আবু হুরায়রাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُرَغِّبُ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ فِيهِ بِعَزِيمَةٍ فَيَقُولُ مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ ثُمَّ كَانَ الأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ فِي خِلاَفَةِ أَبِي بَكْرٍ وَصَدْرًا مِنْ خِلاَفَةِ عُمَرَ عَلَى ذَلِكَ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দৃঢ় বা কঠোরভাবে নির্দেশ না দিয়ে রমযান মাসের তারাবীহ পড়তে উৎসাহিত করে বলতেন–যে ব্যক্তি ঈমানসহ ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে রমযান মাসের তারাবীহ পড়ল তার পূর্বের সব পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করলেন। তখনও এ অবস্থা চলছিল (অর্থাৎ মানুষকে তারাবীহ পড়তে নির্দেশ না দিয়ে শুধু উৎসাহিত করা হতো)। আবু বকর রা.-এর খিলাফতকালে এবং উমার রা.-এর খিলাফাতের প্রথম দিকেও এ নীতি কার্যকর ছিল। –সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৭৫৯
এছাড়াও প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত সাইব ইবনে ইয়াযীদ রহি. বলেছেন,
كَانُوا يَقُومُونَ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً
উমার ইবনে খাত্তাব রা.-এর যামানায় রমাযান মাসে সাহাবায়ে কেরাম বিশ রাকাত তারাবী পড়তেন। –সুনানে কুবরা, বায়হাকী, বর্ণনা নং : ৪৮০১
সুতরাং রমাযান মাসে ২০ রাকাত তারাবিহ নামাজ আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। আর, সুন্নাতে মুয়াক্কাদার মর্যাদা প্রায় ওয়াজিবের মতো। যে কারণে সকল সাহাবায়ে কেরাম তারাবীহের নামাজ আদায় করতেন। সুতরাং যেহেতু তারাবীহের নামাজ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা, সেহেতু কোনো ওযর ছাড়া তা পরিত্যাগ করলে সে গুনাহগার হবে। এজন্য ইবন নুজাইম রহি. বলেন,
والذي يظهر من كلام أهل المذهب أن الإثم منوط بترك الواجب أو السنة المؤكدة على الصحيح
মাযহাবের ইমামদের কথা থেকে স্পষ্ট হয় যে, ওয়াজিব অথবা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ ত্যাগ করলে বিশুদ্ধ মতানুযায়ী গুনাহ হয়। –আল বাহরুর রায়েক, খ. ১ পৃ. ৩১৯
সুতরাং তারাবীহের নামাজকে এভাবে অপ্রয়োজনীয় প্রমাণ করার প্রচেষ্টা অন্যায় নয় কী?
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
মূর্তি ও ভাস্কর্যপ্রীতি : ইসলাম কী বলে?
ইসলামের যে বিষয়গুলোর নিষিদ্ধতা অকাট্য ও মুতাওয়াতিরভাবে প্রমাণিত তার মধ্যে প্রাণীর প্রতিকৃতি নির্মাণ ...
ঈমানের মেহনত : পরিচয় ও পদ্ধতি
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] হামদ ও সালাতের পর.. মুহতারাম হাযেরীন! আল্লাহ তা'আলা বান্দাদের জন্য চারট...
ঈমান-আমল সুরক্ষিত রাখতে হক্কানী উলামায়ে কেরামের সঙ্গে থাকুন, অন্যদের সঙ্গ ছাড়ুন
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] হামদ ও সালাতের পর... قال الله تعالى: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتّ...
ইলমে দীন ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ভাবনা
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন,اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعم...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন