প্রবন্ধ
লজ্জাস্থানের হেফাজত: স্বল্প আমলে মহা পুরষ্কার
১ অক্টোবর, ২০২৬
৮১৬
০
মানুষের কিছু আমল আছে, যা মানুষ দেখে। আবার কিছু আমল আছে, যার সাক্ষী কেবল আল্লাহ। মানুষের সামনে নামাজ পড়া যায়, মানুষের সামনে কুরআন তিলাওয়াত করা যায়, মানুষের সামনে দান-সদকা করা যায়; কিন্তু একজন মানুষের প্রকৃত তাকওয়ার বড় একটি পরীক্ষা হয় তখন, যখন সে একাকী—চারদিকে কোনো মানুষ নেই, দেখার মতো কোনো চোখ নেই, বাধা দেওয়ার মতো কোনো হাত নেই; শুধু সে এবং তার রব। সেই নির্জন মুহূর্তে তার চোখ কোথায় যায়, তার অন্তর কী চিন্তা করে এবং তার শরীরের সবচেয়ে গোপন অঙ্গটি সে কীভাবে সংরক্ষণ করে—সেখানেই প্রকাশ পায় তার ঈমানের গভীরতা।
এই কারণেই কুরআনুল কারিম মুমিনের সফলতার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছে—
قَدۡ اَفۡلَحَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ۙ ١..... ٤وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ لِفُرُوۡجِہِمۡ حٰفِظُوۡنَ ۙاِلَّا عَلٰۤی اَزۡوَاجِہِمۡ اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُہُمۡ فَاِنَّہُمۡ غَیۡرُ مَلُوۡمِیۡنَ ۚ ٦فَمَنِ ابۡتَغٰی وَرَآءَ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡعٰدُوۡنَ ۚ
“নিশ্চয়ই মুমিনরা সফল হয়েছে... যারা নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে; তবে নিজেদের স্ত্রীদের অথবা তাদের অধিকারভুক্তদের ক্ষেত্রে তারা নিন্দনীয় নয়। অতঃপর যারা এর বাইরে কিছু কামনা করে, তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।” -সূরা আল-মুমিনূন, ৫–৭
খেয়াল করার বিষয় হলো—আল্লাহ তাআলা এখানে “লজ্জাস্থানের হেফাজত”কে মুমিনের সফলতার গুণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ এটি শুধু সামাজিক শালীনতার বিষয় নয়; এটি ঈমানি চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
লজ্জাস্থানের হেফাজত কী?
“হিফযুল ফারজ”—حِفْظُ الْفَرْجِ—শব্দটির মধ্যে শুধু ব্যভিচার থেকে বেঁচে থাকার অর্থ সীমাবদ্ধ নয়; এর মধ্যে রয়েছে নিজের যৌন পবিত্রতা সংরক্ষণ করা এবং হারামের প্রতিটি পথ থেকে নিজেকে রক্ষা করা।
আর তাফসিরে বাগভী অত্যন্ত সংক্ষেপে বলেছেন—
وحفظ الفرج: التعفف عن الحرام
“লজ্জাস্থানের হেফাজত হলো হারাম থেকে নিজেকে পবিত্র রাখা।”
সুতরাং লজ্জাস্থানের হেফাজত মানে শুধু একটি পাপ থেকে বেঁচে থাকা নয়; বরং ইফফত, পবিত্রতা ও আত্মসংযমের জীবন গ্রহণ করা।
লজ্জাস্থানের হেফাজত মানেই সফলতার পথ
আল্লাহ তাআলা সূরা মুমিনূনে মুমিনদের একাধিক গুণ উল্লেখ করে শেষে বলেছেন—
أُولَٰئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
“তারাই উত্তরাধিকারী—যারা ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী হবে; তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।”
অর্থাৎ শুরুতে বলা হলো—
قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ
“মুমিনরা সফল হয়েছে।”
আর সেই সফল মুমিনদের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে বলা হলো—
وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ
“যারা নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।”
তারপর তাদের পরিণতি—
يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ
“তারা ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী হবে।”
কী গভীর সম্পর্ক!
পবিত্রতা → তাকওয়া → সফলতা → জান্নাত।
শুধু পুরুষ নয়—নারীরও দায়িত্ব
ইসলাম লজ্জাস্থানের হেফাজতের দায়িত্ব শুধু পুরুষের ওপর চাপিয়ে দেয়নি। আল্লাহ তাআলা মুমিন নারীদেরও বলেছেন—
وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ
“মুমিন নারীদের বলে দিন, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।” —সূরা আন-নূর, ৩১
অর্থাৎ ইসলামি পবিত্রতার দায়িত্ব একতরফা নয়। পুরুষকে পবিত্র হতে হবে। নারীকেও পবিত্র হতে হবে। চোখের হেফাজত করতে হবে। শরীরের হেফাজত করতে হবে। অন্তরের হেফাজত করতে হবে। আর গুনাহের পরিবেশ থেকেও নিজেকে হেফাজত করতে হবে।
আল্লাহ কেন দৃষ্টির কথা আগে বললেন?
সূরা নূরের ৩০ নম্বর আয়াতে পুরুষদের উদ্দেশে আল্লাহ বলেন—
يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ
“তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।”
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)আল জওয়াবুল কাফী কিতাবে এ আয়াতের সূক্ষ্ম রহস্য উন্মোচন করে লিখেছেন:
والنظر أصل عامة الحوادث التي تصيب الإنسان، فالنظرة تولد خطرة، ثم تولد الخطرة فكرة، ثم تولد الفكرة شهوة، ثم تولد الشهوة إرادة، ثم تقوى فتصير عزيمة جازمة، فيقع الفعل ولا بد، ما لم يمنع منه مانع--الجواب الكافي لمن سأل عن الدواء الشافي = الداء والدواء ص: 153
অর্থ: মানুষের ওপর আপতিত যাবতীয় ফেতনার মূল উৎস হলো কুদৃষ্টি। কেননা কুদৃষ্টি জন্ম দেয় কুচিন্তা, কুচিন্তা জন্ম দেয় মানসিক কল্পনা, কল্পনা জন্ম দেয় কামভাব, কামভাব জন্ম দেয় ইচ্ছা, আর সেই ইচ্ছা শক্তি সঞ্চয় করে পরিণত হয় দৃঢ় সংকল্পে; অতঃপর কোনো প্রতিবন্ধক না থাকলে পাপের বাস্তব কর্মকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েই যায়।"
অর্থাৎ দৃষ্টি এবং লজ্জাস্থান—দুটি বিষয় পাশাপাশি এসেছে। কারণ অনেক বড় পাপের দরজা খুব ছোট একটি দরজা দিয়ে খোলে। প্রথমে একটি দৃষ্টি। তারপর একটি চিন্তা। তারপর একটি কল্পনা। তারপর আকাঙ্ক্ষা। তারপর সুযোগের অনুসন্ধান। আর শেষ পর্যন্ত মানুষ এমন জায়গায় পৌঁছে যায়, যেখানে সে নিজেই অবাক হয়ে ভাবে—আমি এখানে কীভাবে এসে পৌঁছলাম? এই জন্যই বুদ্ধিমান মুমিন শুধু পাপের শেষ ধাপটিকে ভয় করে না; সে পাপের প্রথম দরজাটিও বন্ধ করে।
শরীয়তের দৃষ্টিতে কেবল চূড়ান্ত ব্যভিচারই পাপ নয়; বরং তার প্রতিটি পূর্বাভাস ও মাধ্যমই কবিরা গুনাহের অংশ। রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন:
كتب على ابن آدم نصيبه من الزنى مدرك ذلك لا محالة فالعينان زناهما النظر والأذنان زناهما الاستماع واللسان زناه الكلام واليد زناها البطش والرجل زناها الخطا والقلب يهوى ويتمنى ويصدق ذلك الفرج ويكذبه
আদম সন্তানের ওপর জিনার অংশ নির্ধারিত রয়েছে, যা সে অবশ্যই প্রাপ্ত হবে: চোখের জিনা হলো তাকানো, কানের জিনা হলো শোনা, জিহ্বার জিনা হলো কথোপকথন, হাতের জিনা হলো স্পর্শ করা, পায়ের জিনা হলো অগ্রসর হওয়া এবং অন্তর কামনা ও লালসা পোষণ করে; আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবে রূপ দেয় অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।–মুসলিম, ৬৫১৩
রাসুল ﷺ যুবকদের যে চিকিৎসা শিখিয়েছেন
যৌবন—মানুষের জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী সময়গুলোর একটি। এ সময়ে প্রবৃত্তি প্রবল হয়, আকাঙ্ক্ষা প্রবল হয়, কল্পনা প্রবল হয়। তাই রাসুলুল্লাহ ﷺ যুবকদের একটি অত্যন্ত বাস্তব সমাধান দিয়েছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
يا معشر الشباب، من استطاع الباءة فليتزوج، فإنه أغض للبصر وأحصن للفرج، ومن لم يستطع فعليه بالصوم فإنه له وجاء
“হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে। কারণ তা দৃষ্টিকে অধিক অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে অধিক সংরক্ষণ করে। আর যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে; কারণ রোজা তার জন্য প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম।” —সহিহ বুখারি, ৫০৬৬
এখানে নবী ﷺ সমস্যাটিকে অস্বীকার করেননি। তিনি বলেননি যে, যৌবনে তোমাদের কোনো আকাঙ্ক্ষা থাকা উচিত নয়। বরং তিনি স্বাভাবিক প্রবৃত্তির জন্য হালাল পথ দিয়েছেন। সামর্থ্য থাকলে—বিবাহ। সামর্থ্য না থাকলে—রোজা ও আত্মসংযম। এটাই ইসলামের সৌন্দর্য।
বিবাহ শুধু সামাজিক অনুষ্ঠান নয়—এটি পবিত্রতার দুর্গ
আজকের সমাজে অনেক সময় বিবাহকে শুধু সামাজিক অনুষ্ঠান, অর্থনৈতিক দায়িত্ব কিংবা পারিবারিক সম্পর্ক হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু রাসুল ﷺ বিবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল বলেছেন—
أَغَضُّ لِلْبَصَرِ، وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ
“এটি দৃষ্টিকে অধিক সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে অধিক সুরক্ষিত করে।”
অতএব এমন সমাজ, যেখানে হালাল বিবাহকে অযথা কঠিন করে দেওয়া হয় অথচ হারামের দরজা অসংখ্যভাবে খুলে দেওয়া হয়—সেখানে যুবকদের ঈমান ও চরিত্র রক্ষার বিষয়ে নতুন করে চিন্তা করা প্রয়োজন।
পবিত্রতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা—একাকীত্ব
মানুষের সামনে পবিত্র থাকা খুব বড় বিষয়; কিন্তু মানুষের চোখের আড়ালে পবিত্র থাকা আরও বড় বিষয়। আপনি একা। দরজা বন্ধ। মোবাইল হাতে। কেউ জানে না আপনি কী দেখছেন। কেউ জানে না আপনি কী করছেন। কেউ জানে না আপনার অন্তরে কী চলছে। কিন্তু একজন জানেন। আল্লাহ। কুরআন বলছে—
إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ
“নিশ্চয়ই তারা যা করে, আল্লাহ সে সম্পর্কে পূর্ণ অবগত।” —সূরা আন-নূর, ৩০
এই একটি বিশ্বাস যদি মানুষের অন্তরে সত্যিকার অর্থে জীবন্ত হয়ে যায়, তাহলে বহু গোপন গুনাহের দরজা আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যাবে। আগের যুগে কোনো হারাম দৃশ্য দেখতে হলে মানুষকে কোথাও যেতে হতো। আজ হারাম তার ঘরে চলে আসে। আগে পাপের জন্য একজন সঙ্গী প্রয়োজন হতো। আজ একটি স্ক্রিনই যথেষ্ট। আগে মানুষকে গুনাহের পরিবেশ খুঁজে নিতে হতো। আজ অ্যালগরিদম মানুষের সামনে একের পর এক দরজা খুলে দেয়। তাই আজকের যুগে হিফযুল ফারজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ডিজিটাল তাকওয়া। মোবাইলের স্ক্রিনও আল্লাহর নজরের বাইরে নয়। একটি ছবি মুছে ফেলা যায়; কিন্তু তার প্রভাব অন্তর থেকে মুছে ফেলা সবসময় এত সহজ নয়। একটি ভিডিও কয়েক সেকেন্ডের; কিন্তু তার স্মৃতি অনেক দীর্ঘ হতে পারে। তাই মুমিনের বুদ্ধিমত্তা হলো—সে আগুনের কাছে গিয়ে নিজের ঈমান পরীক্ষা করে না। সে আগুন থেকেই দূরে থাকে। যে ব্যক্তি পড়ে গেছে, তার কি আর ফিরে আসার পথ নেই? আছে। অবশ্যই আছে। শয়তান প্রথমে মানুষকে গুনাহে ফেলতে চায়। তারপর যখন মানুষ গুনাহ করে ফেলে, তখন তাকে বলে— “তুমি তো শেষ। তোমার আর তাওবার কী মূল্য?” এটিও শয়তানের প্রতারণা। আল্লাহর রহমতের দরজা বন্ধ হয়নি। বান্দা যতবার পড়ে যায়, ততবার উঠে দাঁড়াবে। গুনাহের সঙ্গে আপস করবে না। নিজের দুর্বলতাকে অস্বীকারও করবে না। বরং তাওবা করবে, পরিবেশ বদলাবে, কারণগুলো বন্ধ করবে এবং আল্লাহর সাহায্য চাইবে।
জিহ্বা ও লজ্জাস্থান—দুটি অঙ্গের হেফাজত, জান্নাতের প্রতিশ্রুতি
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
من يضمن لي ما بين لحييه وما بين رجليه أضمن له الجنة
“যে ব্যক্তি আমার জন্য তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী অঙ্গ এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী অঙ্গের হেফাজতের দায়িত্ব নেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের দায়িত্ব নেব।” —সহিহ বুখারি, ৬৪৭৪
একবার চিন্তা করুন—দুই অঙ্গ! জিহ্বা। লজ্জাস্থান। আর বিনিময়ে—জান্নাত। কী আশ্চর্য নবি-নির্দেশ! মানুষ অনেক সময় ভাবে জান্নাতের পথ হয়তো শুধু বড় বড় আমলেই। অবশ্যই ফরজ ইবাদত ও অন্যান্য নেক আমল অপরিহার্য। কিন্তু এমন কিছু জায়গা আছে, যেখানে মানুষের ঈমান প্রতিদিন পরীক্ষিত হয়—তার জিহ্বায়, তার দৃষ্টিতে, তার অন্তরে এবং তার লজ্জাস্থানে।
পবিত্রতা এমন এক সৌন্দর্য, যার সাক্ষী আকাশ
মানুষের সৌন্দর্য তার চেহারায় নয় শুধু। কেউ সুন্দর পোশাক পরে সুন্দর হতে পারে। কেউ সুন্দর কথা বলে মানুষের হৃদয় জয় করতে পারে। কেউ জ্ঞান দিয়ে সম্মানিত হতে পারে। কিন্তু একজন মুমিনের সবচেয়ে সুন্দর সৌন্দর্য হলো—তার গোপন পবিত্রতা। যখন তার সামনে হারামের দরজা খোলা থাকে, অথচ সে বলে—“না, আমার আল্লাহ আমাকে দেখছেন।” যখন তার নফস তাকে টানে, কিন্তু সে নিজেকে থামিয়ে দেয়। যখন কেউ তাকে প্রশংসা করবে না, পুরস্কার দেবে না, জানবেও না—তবুও সে আল্লাহর জন্য হারাম ছেড়ে দেয়। এই মুহূর্তগুলোই হয়তো তার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্ত। কারণ মানুষ জানে না—কোন গোপন অশ্রু আল্লাহর কাছে কবুল হয়েছে। কোন গোপন ত্যাগ জান্নাতের দরজা খুলে দিয়েছে। কোন গোপন পাপ থেকে ফিরে আসা বান্দাকে আল্লাহর কাছে প্রিয় করে দিয়েছে।
একজন মুমিনের কিছু নীরব অঙ্গীকার
আমি হারাম দেখব না—যদিও কেউ আমাকে দেখছে না। আমি হারাম সম্পর্ক গড়ব না—যদিও সুযোগ আমার সামনে থাকে। আমি আমার শরীরকে আল্লাহর দেওয়া আমানত মনে করব। আমি আমার চোখকে অবাধ করে দেব না। আমি আমার মোবাইলকে আমার নফসের খেলনার বাক্স বানাব না। আমি পড়ে গেলে তাওবা করব। আমি নিজেকে পাপের পরিবেশ থেকে সরিয়ে নেব। আমি হালালকে সহজ এবং হারামকে কঠিন করার চেষ্টা করব। আর সর্বোপরি—আমি মনে রাখব, মানুষ আমাকে না দেখলেও আমার রব আমাকে দেখছেন।হয়তো এই নীরব মুজাহাদাই একদিন আমাদের সেই সৌভাগ্য এনে দেবে, যার ঘোষণা দিয়েছেন আল্লাহর রাসুল ﷺ—
أَضْمَنْ لَهُ الْجَنَّةَ
“আমি তার জন্য জান্নাতের দায়িত্ব নেব।”
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
চিরন্তন দশ অসিয়ত
...
শবে বরাত বিষয়ক ভিত্তিহীন যত রেওয়ায়েত এবং বর্জনীয় প্রথা
হাদীস শরীফে শবে বরাতঃ শবে বরাত সম্পর্কেও আছে চিন্তাগত ও কর্মগত প্রান্তিকতা। সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ কথা...
পরামর্শ ও এস্তেখারা : গুরুত্ব ও আদব
الْحَمْدَ للهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنُؤِمِنُ بِه وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْه وَنَ...
শা'বান ও শবে বরাত : ফযীলত, করণীয় ও বর্জনীয়
ফযীলত ও বরকতময় মাসসমূহের একটি হল শা‘বান মাস। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায় পুরো শা‘...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন