প্রবন্ধ
নক্ষত্রের ন্যায় উজ্জ্বল এক সোনালি প্রজন্ম: সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.)-এর আমলী জীবন
২৯ আগস্ট, ২০২৬
৯৫
০
ভূমিকা
পৃথিবীর ইতিহাস হাজারো বীর, বিজয়ী আর বিশাল সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের সাক্ষী। কিন্তু ধুলোমাখা এই পৃথিবীতে এমন কোনো প্রজন্মের আবির্ভাব কি দ্বিতীয়বার ঘটেছে, যাঁদের কদমের ছোঁয়ায় মরুভূমির রুক্ষ বালুকণাও সোনার চেয়ে দামি হয়ে উঠেছিল? তারা হলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রিয় সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.)। তারা কোনো ভিনগ্রহের প্রাণী বা জন্মগত ফেরেশতা ছিলেন না; বরং তারা ছিলেন আমাদের মতোই রক্তমাংসের সাধারণ মানুষ। কিন্তু নবীজি (ﷺ)-এর নবুয়তি পরশপাথরের ছোঁয়ায় তাদের ঈমান, আমল আর তাকওয়া এমন এক অবিশ্বাস্য উচ্চতায় পৌঁছেছিল, যা কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল মানুষের জন্য এক চূড়ান্ত আদর্শ।
ঈমানের অগ্নিপরীক্ষা, ইবাদতের প্রতি ব্যাকুলতা, নবীপ্রেমের চূড়ান্ত আত্মত্যাগ এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের যে অকল্পনীয় দৃষ্টান্ত তারা স্থাপন করেছেন, তা মানব ইতিহাসে এক চিরন্তন বিস্ময়। সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.)-এর সেই নক্ষত্রের ন্যায় জ্বলজ্বলে সোনালি আমলী জীবনের কয়েকটি হৃদয়গ্রাহী ঝলক নিচে তুলে ধরা হলো:
আল্লাহর ভয় ও তাকওয়া
"হানযালা মুনাফিক হয়ে গেছে!"
সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.) ছিলেন তাকওয়া ও আল্লাহভীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। তারা এত বেশি আমল করার পরও সারাক্ষণ আল্লাহর ভয়ে কাঁপতেন যে, তাদের আমলগুলো কবুল হচ্ছে কি না।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ মুমিনদের নির্দেশ দিয়েছেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ
"হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে সেভাবে ভয় করো, যেভাবে তাকে ভয় করা উচিত। আর তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।" (সূরা আল-ইমরান: ১০২)
একদিন সাহাবী হানযালা (রাযি.) রাস্তায় কাঁদতে কাঁদতে দৌড়াচ্ছিলেন আর বলছিলেন,
نَافَقَ حَنْظَلَةُ (হানযালা মুনাফিক হয়ে গেছে)।
আবু বকর (রাযি.) তাকে থামিয়ে কারণ জানতে চাইলেন। হানযালা (রাযি.) বললেন, "যখন আমরা নবীজি (ﷺ)-এর সামনে থাকি, জান্নাত-জাহান্নামের আলোচনায় মনে হয় যেন সব চোখের সামনে দেখছি। কিন্তু বাড়িতে ফিরে স্ত্রী-সন্তান ও কাজকর্মে জড়ালে সেই অনুভূতি আর থাকে না। নিশ্চয়ই এটি মুনাফিকি!" তাদের এই ভয় দেখে নবীজি (ﷺ) তাদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, এটি মুনাফিকি নয়, বরং মানুষের স্বাভাবিক অবস্থা। কিন্তু তাদের অন্তরের এই তীব্র তাকওয়া আমাদের জন্য এক বিরাট শিক্ষা। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৭৫০)
'সামি‘না-ওয়া আতা‘না'
আল্লাহ ও তার রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা শুধু আবেগ ও মুখের দাবির নাম নয়; বরং তাঁর প্রতিটি নির্দেশের সামনে “سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا” “আমরা শুনলাম এবং মান্য করলাম” বলা ও তা জীবনে বাস্তবায়ন করাই ভালোবাসার প্রকৃত প্রমাণ। আর সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.)-এর জীবন ছিল এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ কোনো নির্দেশ দিলে তারা নিজের মতামত, পছন্দ-অপছন্দ কিংবা দুনিয়াবী স্বার্থকে সামনে আনতেন না; বরং নবী কারীম ﷺ-এর আদেশকে নিজেদের জন্য সর্বোচ্চ সম্মানের বিষয় মনে করতেন। তাঁদের ভালোবাসা ছিল এমন রাসূলুল্লাহ ﷺ যা পছন্দ করেছেন, তারা তা পছন্দ করেছেন; তিনি যা অপছন্দ করেছেন, তারা তা পরিহার করেছেন।
ইসলামের কোনো বিধান নিয়ে তারা কখনো প্রশ্ন তুলতেন না। তাদের জীবনের মূলমন্ত্র ছিল,
"سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا" (আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম)।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۚ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
“মুমিনদের কথা তো এই যে, যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে আহ্বান করা হয়, যাতে তিনি তাদের মধ্যে ফয়সালা করেন, তখন তারা বলে, ‘আমরা শুনলাম এবং মান্য করলাম।’ আর তারাই সফলকাম।” (সূরা আন-নূর: ৫১)
সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.) দেখিয়ে দিয়েছেন ভালোবাসার সর্বোচ্চ স্তর হলো আনুগত্য। যে ব্যক্তি মুখে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ভালোবাসার দাবি করে, কিন্তু তাঁর সুন্নাহকে নিজের জীবনে গ্রহণ করতে চায় না, তার ভালোবাসার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
রাতের নিস্তব্ধতায় জায়নামাজে চোখের জল
দিনের বেলায় তারা ছিলেন ঘোড়সওয়ার বীর যোদ্ধা, আর রাতের বেলায় জায়নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন দরবেশের মতো।
কুরআনে তাদের রাতের চিত্র আঁকা হয়েছে এভাবে:
کانُوا قَلِيلًا مِّنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ (১৭) وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ (১৮)
"তারা রাতের সামান্য অংশেই ঘুমাতো। এবং রাতের শেষ প্রহরে (তাহাজ্জুদের সময়) তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করত।" (সূরা আয-যারিয়াত: ১৭ – ১৮)
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযি.)-এর দাস নাফে (রহ.) বর্ণনা করেন, ইবনে উমর (রাযি.) সারারাত নামাজ পড়তেন আর একটু পরপর আমাকে জিজ্ঞেস করতেন, "নাফে, ভোর কি হয়েছে?" আমি বলতাম, "না।" তিনি আবার নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন এবং অঝোরে কাঁদতেন। যখন আমি বলতাম "ভোর হয়েছে", তখন তিনি ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করতে বসে যেতেন। (আল-ইসাবাহ ফি তাময়ীযিস সাহাবাহ: ২/৩৪৯)
নবীজি (ﷺ)-এর রঙে রঙিন: প্রতিটি পদক্ষেপে সুন্নাহর ছায়া
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযি.) নবীজি (ﷺ)-এর সুন্নাহর এত নিখুঁত অনুসারী ছিলেন যে, নবীজি (ﷺ) মরুভূমির যে জায়গায় বসে বিশ্রাম নিয়েছিলেন বা যে গাছের নিচে নামাজ পড়েছিলেন, ইবনে উমর (রাযি.) বছর পেরিয়ে গেলেও ঠিক সেই জায়গায় গিয়ে বসতেন এবং নামাজ পড়তেন।
হযরত নাফি' (রহ.) বলেন,
لو نظرت إلى ابن عمر إذا اتبع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - لقلت : هذا مجنون .
অর্থ: “তুমি যদি আবদুল্লাহ ইবন উমর-কে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতিটি কাজ ও সুন্নতের অনুসরণ করতে দেখতে, তাহলে বলতে এই ব্যক্তি যেন পাগল! (সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ২১২)
আখলাক বা চরিত্র
সততা ও আমানতদারি
সততা ও আমানতদারি মুমিনের উত্তম চরিত্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। একজন সত্যিকারের মুসলমান শুধু নামায, রােযা ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করে না; বরং কথায় সত্যবাদী, কাজে বিশ্বস্ত এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় আমানতদার হয়।
ব্যবসার মাঠেও যাঁরা ছিলেন আল্লাহর ওলী
সাহাবী আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযি.) ছিলেন মদিনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যবসায়ী। কিন্তু তার ব্যবসায় কোনো প্রতারণা বা সুদ ছিল না। সততা ও আমানতদারির মাধ্যমে তিনি এমন বরকত পেয়েছিলেন যে, তিনি বলতেন "আমি যদি পাথরও তুলি, তার নিচে স্বর্ণ পাই।" তারা ব্যবসার মাঠেও ছিলেন আল্লাহর ওলী। (সাবিলুল হুদা- ১\৫৬৯)
ক্ষমা ও উদারতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
হযরত আবু বকর (রাযি.)-এর এক আত্মীয় মিসতাহ। তাকে আবু বকর (রাযি.) নিয়মিত আর্থিক সাহায্য করতেন। কিন্তু মিসতাহ একবার অজ্ঞতাবশত আম্মাজান আয়িশা (রাযি.)-এর নামে অপবাদ রটানোতে জড়িত হয়ে পড়েন। আবু বকর (রাযি.) কসম খেলেন তাকে আর সাহায্য করবেন না। কিন্তু তখন আল্লাহ আয়াত নাজিল করলেন, "وَلۡیَعۡفُوۡا وَلۡیَصۡفَحُوۡا ؕ اَلَا تُحِبُّوۡنَ اَنۡ یَّغۡفِرَ اللّٰہُ لَکُمۡ" (সূরা নূর: ২২)। আয়াত শুনেই তিনি কেঁদে উঠলেন এবং পূর্বের চেয়ে বেশি সাহায্য করা শুরু করলেন। (সহীহ আল-বুখারী, হাদীস নং: ৪৭৫০)
দান-সদকা ও দুনিয়াবিমুখতা
দানের প্রতিযোগিতায় কে যাবে এগিয়ে
সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.)-এর সমাজ ছিল সম্পদের মোহমুক্ত এক অনন্য সমাজ। তাদের কাছে সম্পদ জীবনের লক্ষ্য নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মাধ্যম। তাই যখনই দান-সদকার কোনো সুযোগ আসত, তারা একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করতেন “আল্লাহর পথে বিলিয়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতা কে হবে অগ্রগামী”।
তাবুক যুদ্ধের সময় নবীজি (ﷺ) দানের আহ্বান জানালে, হযরত উমর ফারূক (রাযি.) মনে করলেন, আজ তিনি হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযি.)-এর চেয়ে বেশি দান করবেন। তিনি নিজের সম্পদের অর্ধেক নিয়ে এলেন। কিন্তু হযরত আবু বকর (রাযি.) নিয়ে এলেন তার সমস্ত সম্পদ। রাসূলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, ‘পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?’ তিনি বললেন,
أَبْقَيْتُ لَهُمُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ
“আমি তাদের জন্য আল্লাহ ও তার রাসূল ﷺ-কে রেখে এসেছি।” (জামে' তিরমিযী হাদীস নং: ৩৬৭৫)
এমনই ছিল তাঁদের ঈমানের শক্তি। দুনিয়ার সব সম্পদ নিঃশেষ হয়ে গেলেও আল্লাহর ওপর তাঁদের ভরসা কখনো নিঃশেষ হতো না। তাঁরা জানতেন যিনি আসমান-জমীনের মালিক, তাঁর পথে সবকিছু বিলিয়ে দিলে মানুষ নিঃস্ব হয় না; বরং তাঁর রহমত ও বরকতের ভাণ্ডারেই প্রকৃত সমৃদ্ধি নিহিত।
দুনিয়ার বুকে জান্নাতের ফেরিওয়ালা
রাজপ্রাসাদে বসেও ফকিরের বেশ! অর্ধেক পৃথিবীর খলিফা হযরত উমর ফারুক (রাযি.)
রোম ও পারস্যের মতো পরাশক্তি রাজ্য যার ভয়ে কাঁপত, সেই খলিফাকে মদিনার মানুষ দেখত সাধারণ পোশাকে মদিনার অলি-গলিতে, তার জামায় ছিল ১৪টি তালি দেওয়া। (ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন- ৮\৩৮০) কারণ, তারা জানতেন এখানকার আরাম-আয়েশ তাদের লক্ষ্য নয়, তাদের চোখ সব সময় স্থির ছিল জান্নাতের দিকে।
সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.) বুঝিয়ে দিয়েছেন, সম্পদের প্রকৃত মালিকানা হাতে নয়, হৃদয়ে; হাতে সম্পদ থাকা দোষ নয়, সম্পদের প্রতি হৃদয়ের আসক্তিই বিপদের কারণ।
তাদের জীবনে তাই দানের প্রতিযোগিতা ছিল প্রাচুর্য দেখানোর প্রতিযোগিতা নয়, বরং আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রতিযোগিতা। আজ আমাদেরও নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত “সম্পদ বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় আমরা কতটা ব্যস্ত, আর আল্লাহর পথে ব্যয় করার প্রতিযোগিতায় কতটা এগিয়ে?”
তীর বিদ্ধ হয়েও ভাঙে না ধ্যান: নামাজের প্রতি সাহাবিদের তীব্র টান!
নামাজ ছিল তাদের কাছে রবের সাথে প্রেম নিবেদনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। যাতুর রিকা যুদ্ধের রাতে পাহারারত অবস্থায় সাহাবী আব্বাদ ইবনে বিশর (রাযি.) তাহাজ্জুদের নামাজে দাঁড়িয়েছিলেন। অন্ধকারে শত্রুর নিক্ষিপ্ত তিনটি তীর একে একে তার শরীরে বিদ্ধ হওয়ার পরও তিনি নামাজ ছাড়েননি। পরে তিনি বলেছিলেন, "আমি এমন একটি সূরা পড়ছিলাম, যা আমার অন্তরে এত স্বাদ দিচ্ছিল যে, নামাজ ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে মরে যাওয়াটাই আমার কাছে বেশি প্রিয় মনে হচ্ছিল!" (উমদাতুল কারী শরহু সহীহিল বুখারী, ৩/৫০)
জীবন্ত কুরআন
কুরআনের আদর্শে গড়া সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.)
সাহাবিদের কাছে কুরআন ছিল জীবনের প্রতিটি নিঃশ্বাসের গাইডবুক, যেখানে প্রতিটি আয়াত শোনামাত্রই তারা তা তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের চিন্তা, আখলাক ও কর্মে বাস্তবায়ন করতেন; তারা অল্প অল্প করে আয়াত শিখে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাতের তাহাজ্জুদে অশ্রু বিসর্জন, লেনদেনে সততা, পারস্পরিক নিবেদিত ভালোবাসা এবং কঠিন বিপদেও ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে কুরআনের প্রতিটি নির্দেশকে হুবহু নিজেদের প্রাত্যহিক আচরণে ফুটিয়ে তুলেছিলেন, যার ফলে তাদের পুরো জীবনটাই হয়ে উঠেছিল কুরআনের এক একটি চলন্ত ও জীবন্ত অলৌকিক রূপায়ন।
তাইতো স্বয়ং আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে তাদের প্রতি চিরস্থায়ী সন্তুষ্টির ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, "رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ" (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট)। আল বাইয়্যিনাহ, আয়াত নং- ৮।
উপসংহার
সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.)-এর এই আমলী জীবন কোনো রূপকথার গল্প নয়, এটি আমাদের ইসলামি ইতিহাসের বাস্তব দলিল। আজ আমরা আধুনিকতার চরম শিখরে পৌঁছেও মনের যে প্রশান্তি খুঁজছি, তা তো দুনিয়ার এই চাকচিক্যে নেই।
সাহাবিদের আমলের আয়নায় আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে? আজ আমাদের জাঁকজমকপূর্ণ মসজিদ আছে, কিন্তু সাহাবিদের মতো মুসল্লি নেই। আমাদের কাছে দামি গিলাফে মোড়ানো কুরআন আছে, কিন্তু তাদের মতো কুরআনের ওপর আমল নেই। সাহাবিরা খেজুর পাতায় মোড়ানো মসজিদে সেজদা দিয়ে যে প্রশান্তি পেতেন, আমরা এসির বাতাসে রাজকীয় গালিচায় সেজদা করেও সেই প্রশান্তি পাই না। কারণ, আমাদের অন্তরে ডুবে গেছে দুনিয়ার মোহে।
হারানো সেই সোনালি দিন
আমাদের করণীয় কী? হারানো সেই সোনালি দিনগুলো যদি আমরা আমাদের জীবনে ফিরিয়ে আনতে চাই, তবে সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.)-এর সেই সরল, অনাড়ম্বর এবং কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক আমলী জীবনকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করার কোনো বিকল্প নেই। নবীজির (ﷺ) সেই ধুলোমাখা কাফেলার পথ ধরে চললেই কেবল মিলবে সত্যিকারের প্রশান্তি ও আখেরাতের মুক্তি। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাদের আলোকিত পথে হাঁটার তাওফিক দান করুন। আমিন।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
হযরত উসমান রাঃ সম্পর্কে উত্থিত আপত্তির স্বরূপ সন্ধানে
হযরত উসমান রাঃ এর উপর স্বজনপ্রীতিমূলক আপত্তি সমূহের তাহকিকঃ হযরত উসমান রাঃ সম্পর্কে স্বজনপ্রীতিমূলক ...
কুরআনে কারীম ও সাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম কিছু দিক কিছু দৃষ্টান্ত
সাহাবায়ে কেরামের তিলাওয়াত কুরআনেরঅন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হক হল অধিক পরিমাণে তিলাওয়াত করা। কোনো কোনো দিক ...
পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ স্বামী-স্ত্রীর সুখময় দাম্পত্য
(আম্মাজান আয়েশা রা.এর পবিত্রতম বিবাহ, পারিবারিক জীবন , রাসূলের বয়স পার্থক্য ও বিরুদ্ধবাদীদের আপত্ত...
টুপি পরিধান করার কোন প্রমাণ কি হাদীস বা আছারে সাহাবায় নেই?
টুপি মুসলিম উম্মাহর ‘ শিআর ’ জাতীয় নিদর্শন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে ...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন