প্রবন্ধ
উপমহাদেশে নামধারী সুন্নী যারা
২১ জুন, ২০২৬
৬৩
০
এই শ্রেণির মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত ও প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী হলো বেরলভী ফেরকা। এরা নবী ﷺ-এর মহব্বতের নামে এমন সব বিশ্বাস ও কর্ম প্রচার করে থাকে, যা ইসলাম ও সাহাবায়ে কেরামের সরলতম আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। মাজারপূজা, জীবিত বা মৃত ব্যক্তিকে গায়েবানা জ্ঞানী ও সাহায্যকারী মনে করা, মীলাদ, কিয়াম, ওরস, গাউস-আযমের আহ্বানসহ বহু বিদ‘আতি প্রথা তারা ‘ইসলামি ভালোবাসা’ নাম দিয়ে চালিয়ে দেয়। এর ফলে সাধারণ মুসলমানেরা বিভ্রান্ত হয়, এবং সুন্নি নামে বিভ্রান্তিকর পথকে ইসলাম ভেবে গ্রহণ করে নেয়।
❖ এই উপমহাদেশে “বেরলভী সুন্নি” কারা? তাদের উৎপত্তী ও ক্রমবিকাশ
বেরলভী ফেরকার সূচনা ঘটে উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে, যখন আহমদ রেজা খান বেরলভী (১৮৫৬–১৯২১) “নবী ﷺ-এর ভালোবাসা” এর নামে এক নতুন ধর্মীয় আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করেন।
ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ— এই উপমহাদেশে "বেরলভী সুন্নি" বা "বেরলভী মক্তবে ফিকর" এমন একটি দল, যারা নিজেদেরকে “আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত” বলে দাবি করে। কিন্তু তাদের বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ডের বহু দিক ইসলামের মূল তাওহীদের আকীদা এবং ছাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে সালেহীনের পথনির্দেশনা থেকে স্পষ্ট বিচ্যুতি বহন করে।
এই মতবাদ মূলত আহমদ রেজা খান বেরলভী (১৮৫৬–১৯২১) এর অনুসারী হওয়ার কারণে “ব্রেলভী” নামে পরিচিত। তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের ব্রেলি শহরের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি "রসুলপ্রেম" বা "নবীজীর মহব্বত" নামে বহু নতুন নতুন বিষয় ধর্মে সংযোজন করেন,
তিনি ফিকহে হানাফি ও সুফিবাদের কাদরিয়া তরিকার অনুসারী ছিলেন, আর কালামশাস্ত্রে আশ‘আরী-মাতুরিদি মত অনুসরণ করতেন।
তাঁর বিখ্যাত ফতোয়ার সংকলন “ফতাওয়া রজভিয়া” (৩০ খণ্ড) এ তার নিজস্ব মতবাদ এবং তার বিরোধীদের প্রতি কড়া ভাষা ব্যবহৃত করেছেন।
যেগুলোকে ইসলামি বিদ্বানগণ বিদআত, (غلوّ) বাড়াবাড়ি এবং শিরকের কাছাকাছি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
❖ বেরলভী (সুন্নী) দল কাদের বলা হয়?
এরা সেইসব মানুষ: যারা আহমদ রেজা খান বেরলভীকে“ইমাম আহলে সুন্নাত”, “মুজাদ্দিদে যমান”, এমনকি কখনো কখনো “গাউসে আযম ছানী” পর্যন্ত মনে করে।
যারা মাজার, ওলী, ও পীরপূজারতাকে দ্বীনের অংশ মনে করে।
যারা মিলাদ, ওরস, গিয়ারোই শরীফ, কাওয়ালি, নজর-নিয়াজ, ও নাত খানি ইত্যাদিকে ইবাদতের মর্যাদা দেয়।
যারা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে ‘আলিমুল গাইব’, ‘নূরের মূর্ত প্রতীক’, ‘হাযির-নাযির’ ও ‘মুখতার-এ-কুল’ (সব কিছুর মালিক) মনে করে।
❖ বেরলভী (সুন্নীদের) মতবাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
ভারতীয় উপমহাদেশে “বেরলভীধারাদ” ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় সুফি খানকাহ, দরবার, নাত মাহফিল এবং মিলাদ প্রথার মাধ্যমে।
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, পীরদের দখল ও গদিনশিনদের প্রভাব সমাজে এদের বিস্তার ঘটায়। ধর্মীয় আবেগ উস্কে দিয়ে তারা প্রতিপক্ষদের—“ওহাবী”, “নবীর দুশমন”, ‘‘আহলে বাইতের দুশমন’’, “কাফের” বলে অভিহিত করে থাকেন।
❖নামধারী সুন্নীদের সংক্ষেপে কিছু ভ্রান্ত আকীদা ও বিশ্বাস
১. নবী ﷺ "হাযির ও নাযির”
২. নবী ﷺ "গায়েবের জ্ঞান রাখেন”
৩. নবী ﷺ "সত্তাগত নূর"
৪. গাউস, কুতুব, ওলিয়াদের কাছে সাহায্য চাওয়া
৫. মাজারে সিজদা, নজর-নিয়াজ, চাদর চড়ানো
৬. ওরস, গিয়ারোই, চেহলাম, মিলাদ
৭. আহমদ রেজা খানকে অতিমাত্রায় সম্মান
৮. নবী ﷺ-কে “মুখতার-ই-কুল” (সব কিছুর মালিক ও কর্তৃত্বসম্পন্ন) মনে করা
৯. নবী ﷺ-কে দুনিয়া ও আখিরাতের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী মনে করা
১০. তাওয়াসসুলে (মধ্যস্থতায়) বাড়াবাড়ি
১১. অলী-আউলিয়াকে মৃত বা জীবিত অবস্থায় সাহায্যদাতা ও সমস্যার সমাধানকারী মনে করা
১২. কবরপূজা ও কবরের অতি-সম্মান তাদের প্রচলিত কাজ
১৩. প্রচলীত মিলাদুন্নবী (ঈদে মিলাদ) কে ফরজ মনে করা
১৪. সুফিবাদ ও “ওয়াহদাতুল উজুদ” এর বিশ্বাস
১৫. পীর-পূজা ও শরীয়তবিরোধী অন্ধ অনুসরণ
১৬. ফতাওয়া রজভিয়ার মধ্যে কুফরিপূর্ণ ও চরমপন্থী বক্তব্য
১৭. নবী ﷺ-এর সৃষ্টির পূর্বত্ব (خلقِ محمدی) নবী ﷺ হলেন আল্লাহর প্রথম সৃষ্টি, এবং তাঁকে আল্লাহ নিজের নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
খৃষ্টধর্ম না পৌলবাদ (৭ম ও শেষ পর্ব)
খৃষ্টধর্ম কি কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী ধর্ম কোন ধর্মের দাওয়াত ও প্রচারের জন্য ধর্মের কার্যকরিতা জরুরি...
বেরলভী মতবাদ : ভিত্তিহীন আকীদা ও ভ্রান্ত ধ্যানধারণা
বেরলভী [1] জামাত যাদেরকে রেজাখানী বা রেজভীও বলা হয় , যারা নিজেদেরকে সুন্নী বা আহলে সুন্নাত বলে পরিচ...
تحریک استشراق کی حقیقت اور استشراقی لٹریچر کے اثرات
تعارف: استشراق( Orientalism ) اور مستشرق کا لغوی و اصطلاحی معنی استشراق عربی زبان کے مادہ( ش۔ر۔ق) سے...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন