সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল মায়িদাহ (المائدة) | খাদ্য পরিবেশিত দস্তরখান

মাদানী

মোট আয়াতঃ ১২০

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَوۡفُوۡا بِالۡعُقُوۡدِ ۬ؕ اُحِلَّتۡ لَکُمۡ بَہِیۡمَۃُ الۡاَنۡعَامِ اِلَّا مَا یُتۡلٰی عَلَیۡکُمۡ غَیۡرَ مُحِلِّی الصَّیۡدِ وَاَنۡتُمۡ حُرُمٌ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَحۡکُمُ مَا یُرِیۡدُ ١

ইয়াআইয়ূহাল্লাযীনা আ-মানূআওফূবিল‘উকূদি উহিল্লাত লাকুম বাহীমাতুল আন‘আ-মি ইল্লা-মা-ইউতলা-‘আলাইকুম গাইরা মুহিলিলসসাইদি ওয়া আনতুম হুরুমুন ইন্নাল্লা-হা ইয়াহকুমুমা-ইউরীদ।

হে মুমিনগণ! তোমরা অঙ্গীকার পূরণ করো। তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে চতুষ্পদ গবাদি পশু (ও তদসদৃশ জন্তু), সেইগুলি ছাড়া যা তোমাদেরকে পড়ে শোনানো হবে, তবে তোমরা যখন ইহরাম অবস্থায় থাকবে, তখন শিকার করাকে বৈধ মনে করো না। আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন আদেশ দান করেন।

তাফসীরঃ

১. ‘বাহীমা’ বলতে যে-কোনও চার পা বিশিষ্ট প্রাণীকে বোঝায়, কিন্তু তার মধ্যে হালাল কেবল গৃহপালিত (বা গবাদি) পশু, অর্থাৎ গরু, উট, ছাগল, ভেড়া অথবা যে-গুলো গবাদি পশুর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেমন হরিণ, নীল গাই ইত্যাদি।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تُحِلُّوۡا شَعَآئِرَ اللّٰہِ وَلَا الشَّہۡرَ الۡحَرَامَ وَلَا الۡہَدۡیَ وَلَا الۡقَلَآئِدَ وَلَاۤ آٰمِّیۡنَ الۡبَیۡتَ الۡحَرَامَ یَبۡتَغُوۡنَ فَضۡلًا مِّنۡ رَّبِّہِمۡ وَرِضۡوَانًا ؕ وَاِذَا حَلَلۡتُمۡ فَاصۡطَادُوۡا ؕ وَلَا یَجۡرِمَنَّکُمۡ شَنَاٰنُ قَوۡمٍ اَنۡ صَدُّوۡکُمۡ عَنِ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ اَنۡ تَعۡتَدُوۡا ۘ وَتَعَاوَنُوۡا عَلَی الۡبِرِّ وَالتَّقۡوٰی ۪ وَلَا تَعَاوَنُوۡا عَلَی الۡاِثۡمِ وَالۡعُدۡوَانِ ۪ وَاتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ ٢

ইয়া আইয়ূহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তুহিললূশা‘আইরাল্লা-হি ওলাশশাহরাল হারা-মা ওয়ালাল হাদইয়া ওয়ালাল কালাইদা ওয়ালাআম্মীনাল বাইতাল হারা-মা ইয়াবতাগূনা ফাদলাম মির রাব্বিহিম ওয়া রিদওয়ানাওঁ ওয়া ইযা-হালালতুম ফাসতা-দূ ওয়ালা-ইয়াজরিমান্নাকুম শানাআ-নুকাওমিন আন সাদ্দূকুম ‘আনিল মাছজিদিল হারা-মি আন তা‘তাদূ । ওয়া তা‘আ-ওয়ানূ‘আলাল বিররি ওয়াত্তাকওয়া- ওয়ালা-তা‘আ-ওয়ানূ‘আলাল ইছমি ওয়াল ‘উদওয়া-নি ওয়াত্তাকুল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা শাদীদুল ‘ইকা-ব।

হে মুমিনগণ! অবমাননা করো না আল্লাহর নিদর্শনাবলীর, না সম্মানিত মাসসমূহের, না সেই সকল প্রাণীর যাদেরকে কুরবানীর জন্য হারামে নিয়ে যাওয়া হয়, না তাদের গলায় পরানো মালার এবং না সেই সব লোকের যারা তাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পবিত্র গৃহ অভিমুখে গমন করে। আর তোমরা যখন ইহরাম খুলে ফেল, তখন শিকার করতে পার। তোমাদেরকে মসজিদুল হারামে (প্রবেশ করতে) বাধা দিয়েছিল, এই কারণে কোনও সম্প্রদায়ের প্রতি তোমাদের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে (তাদের প্রতি) সীমালংঘন করতে প্ররোচিত না করে। তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে। গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করবে না। আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহর শাস্তি অতি কঠিন।

তাফসীরঃ

৫. হুদায়বিয়ার সন্ধির প্রাক্কালে মক্কা মুকাররমার কাফিরগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার সঙ্গীগণকে পবিত্র হারামে প্রবেশ করতে ও উমরা আদায়ে বাধা দিয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই এ কারণে মুসলিমদের মনে প্রচণ্ড দুঃখ ও ক্ষোভ ছিল। সম্ভাবনা ছিল এ দুঃখ ও ক্ষোভের কারণে কোনও মুসলিম শত্রুর প্রতি এমন কোন আচরণ করে বসবে, যা শরীয়ত অনুমোদন করে না। এ আয়াত তাই সাবধান করে দিচ্ছে যে, ইসলামে সব জিনিসের জন্যই সীমারেখা স্থিরীকৃত রয়েছে। শত্রুর সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে সেই সীমারেখা লংঘন করা জায়েয নয়।

حُرِّمَتۡ عَلَیۡکُمُ الۡمَیۡتَۃُ وَالدَّمُ وَلَحۡمُ الۡخِنۡزِیۡرِ وَمَاۤ اُہِلَّ لِغَیۡرِ اللّٰہِ بِہٖ وَالۡمُنۡخَنِقَۃُ وَالۡمَوۡقُوۡذَۃُ وَالۡمُتَرَدِّیَۃُ وَالنَّطِیۡحَۃُ وَمَاۤ اَکَلَ السَّبُعُ اِلَّا مَا ذَکَّیۡتُمۡ ۟ وَمَا ذُبِحَ عَلَی النُّصُبِ وَاَنۡ تَسۡتَقۡسِمُوۡا بِالۡاَزۡلَامِ ؕ ذٰلِکُمۡ فِسۡقٌ ؕ اَلۡیَوۡمَ یَئِسَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ دِیۡنِکُمۡ فَلَا تَخۡشَوۡہُمۡ وَاخۡشَوۡنِ ؕ اَلۡیَوۡمَ اَکۡمَلۡتُ لَکُمۡ دِیۡنَکُمۡ وَاَتۡمَمۡتُ عَلَیۡکُمۡ نِعۡمَتِیۡ وَرَضِیۡتُ لَکُمُ الۡاِسۡلَامَ دِیۡنًا ؕ فَمَنِ اضۡطُرَّ فِیۡ مَخۡمَصَۃٍ غَیۡرَ مُتَجَانِفٍ لِّاِثۡمٍ ۙ فَاِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٣

হুররিমাত ‘আলাইকুমুল মাইতাতুওয়াদ্দামুওয়া লাহমুল খিনঝীরি ওয়ামা-উহিল্লা লিগাইরিল্লাহি বিহী ওয়াল মুনখানিকাতুওয়াল মাওকূযাতুওয়াল মুতারাদ্দিইয়াতুওয়ান্নাতীহাতু ওয়ামা-আকালাছ ছাবু‘উ ইল্লা-মা যাক্কাইতুম ওয়ামা-যুবিহা ‘আলান নুসুবি ওয়া আন তাছতাকছিমূবিলআঝলা-মি যা-লিকুম ফিছকুন আল ইয়াওমা ইয়াইছাল্লাযীনা কাফারূমিন দীনিকুম ফালা-তাখশাওহুম ওয়াখশাওনি আলইয়াওমা আকমালতুলাকুম দীনাকুম ওয়া আত মামতু‘আলাইকুম নি‘মাতী ওয়া রাদীতুলাকুমুল ইছলা-মা দীনান ফামানিদতুররা ফী মাখমাসাতিন গাইরা মুতাজা-নিফিললিইছমিন ফাইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম।

তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশত, সেই পশু যাতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নাম উচ্চারিত হয়েছে, শ্বাসরোধে মৃত জন্তু, প্রহারে মৃত জন্তু, উপর হতে পতনে মৃত জন্তু, অন্য কোনও পশুর শিংয়ের আঘাতে মৃত জন্তু এবং হিংস্র পশুতে খেয়েছে এমন জন্তু, তবে (মরার আগে তোমরা) যা যবাহ করেছ তা ছাড়া এবং সেই জন্তুও (হারাম), যাকে (প্রতিমার জন্য) নিবেদনস্থলে (বেদীতে) বলি দেওয়া হয়। এবং জুয়ার তীর দ্বারা (গোশত ইত্যাদি) বণ্টন করাও (তোমাদের জন্য হারাম)। এসব বিষয় কঠিন গুনাহের কাজ। আজ কাফিরগণ তোমাদের দীনের (পরাস্ত হওয়ার) ব্যাপারে হতাশ হয়ে গেছে। সুতরাং তাদেরকে ভয় করো না। আমাকেই ভয় করো। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের উপর আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য দীন হিসেবে ইসলামকে (চির দিনের জন্য) পছন্দ করে নিলাম। (সুতরাং এ দীনের বিধানাবলী পরিপূর্ণভাবে পালন করো)। হ্যাঁ, কেউ যদি ক্ষুধার তাড়নায় বাধ্য হয়ে যায় (এবং সে কারণে কোন হারাম বস্তু খেয়ে নেয়) আর গুনাহের প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে, তবে আল্লাহ নিশ্চয়ই অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

৬. এটা জাহেলী যুগের একটা রেওয়াজ। তারা যৌথভাবে উট যবাহের পর বিশেষ পন্থার লটারীর মাধ্যমে তার গোশত বণ্টন করত। তারা বিভিন্ন তীরে বিভিন্ন অংশের নাম লিখে তা একটা থলিতে রেখে দিত। তারপর যার নামে যেই অংশ বের হত তাকে সেই পরিমাণ গোশত দেওয়া হত। কোনও কোনও তীরে কিছুই লেখা থাকত না। সেই তীর যার নামে বের হত, সে গোশত থেকে বঞ্চিত হত। এভাবে আরও একটা রীতি ছিল যে, কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হলে তীর দ্বারা তা নির্ণয় করা হত। তীরে যা লেখা থাকত তা পালন করাকে অপরিহার্য মনে করা হত। কুরআন মাজীদের এ আয়াত এই যাবতীয় বিষয়কে অবৈধ ঘোষণা করছে। প্রথম পদ্ধতিটি তো জুয়া, আর দ্বিতীয় পদ্ধতিতে গায়েবী ইলমের দাবী করা হয় কিংবা যুক্তিসঙ্গত কোনও কারণ ছাড়াই কোনও একটা বিষয়কে অবশ্য পালনীয় সাব্যস্ত করা হয়। কেউ কেউ পবিত্র এ আয়াতটির তরজমা করেছেন ‘তীর দ্বারা ভাগ্য নির্ণয় করাও (তোমাদের জন্য হারাম)’। এর দ্বারা দ্বিতীয় পন্থার প্রতি ইশারা করা হয়েছে। আয়াতের শব্দাবলীর ভেতর এ তরজমারও অবকাশ আছে।

یَسۡـَٔلُوۡنَکَ مَاذَاۤ اُحِلَّ لَہُمۡ ؕ قُلۡ اُحِلَّ لَکُمُ الطَّیِّبٰتُ ۙ وَمَا عَلَّمۡتُمۡ مِّنَ الۡجَوَارِحِ مُکَلِّبِیۡنَ تُعَلِّمُوۡنَہُنَّ مِمَّا عَلَّمَکُمُ اللّٰہُ ۫ فَکُلُوۡا مِمَّاۤ اَمۡسَکۡنَ عَلَیۡکُمۡ وَاذۡکُرُوا اسۡمَ اللّٰہِ عَلَیۡہِ ۪ وَاتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ سَرِیۡعُ الۡحِسَابِ ٤

ইয়াছআলূনাকা মা-যা উহিল্লা লাহু ম কুল উহিল্লা লাকুমুততাইয়িবা-তু ওয়ামা-‘আল্লামতুম মিনাল জাওয়া-রিহিমুকালিলবীনা তু‘আলিল মূনাহুন্না মিম্মা-‘আল্লামাকুমুল্লা-হু ফাকুলূমিম্মাআমছাকনা ‘আলাইকুম ওয়াযকুরুছমাল্লা-হি ‘আলাইহি ওয়াত্তাকুল্লাহা ইন্নাল্লা-হা ছারী‘উল হিছা-ব।

লোকে তোমাকে জিজ্ঞেস করে, তাদের জন্য কোন জিনিস হালাল। বলে দাও, তোমাদের জন্য সমস্ত উপাদেয় জিনিস হালাল করা হয়েছে। আর যেই শিকারী পশুকে তোমরা আল্লাহর শেখানো পন্থায় শিখিয়ে শিখিয়ে (শিকার করার জন্য) প্রশিক্ষিত করে তুলেছ, তারা যে জন্তু (শিকার করে) তোমাদের জন্য ধরে আনে, তা থেকে তোমরা খেতে পার। আর তাতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করো এবং আল্লাহকে ভয় করে চলো। আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।

তাফসীরঃ

৮. শিকারী কুকুর, বাজপাখি ইত্যাদির মাধ্যমে হালাল প্রাণী শিকার করে খাওয়া যে সকল শর্ত সাপেক্ষে হালাল, তা বর্ণনা করা হচ্ছে। প্রথম শর্ত হল শিকারী প্রাণীটিকে প্রশিক্ষণ দিয়ে নিতে হবে। তার প্রশিক্ষিত হওয়ার আলামত বলা হয়েছে এই যে, সে যে জন্তু শিকার করবে তা নিজে খাবে না; বরং মনিবের জন্য ধরে আনবে। দ্বিতীয় শর্ত হল, শিকারকারী ব্যক্তি শিকারী কুকুরকে কোনও জন্তুকে লক্ষ্য করে ছাড়ার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করবে অর্থাৎ বিসমিল্লাহ বলবে।

اَلۡیَوۡمَ اُحِلَّ لَکُمُ الطَّیِّبٰتُ ؕ  وَطَعَامُ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ حِلٌّ لَّکُمۡ ۪  وَطَعَامُکُمۡ حِلٌّ لَّہُمۡ ۫  وَالۡمُحۡصَنٰتُ مِنَ الۡمُؤۡمِنٰتِ وَالۡمُحۡصَنٰتُ مِنَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ اِذَاۤ اٰتَیۡتُمُوۡہُنَّ اُجُوۡرَہُنَّ مُحۡصِنِیۡنَ غَیۡرَ مُسٰفِحِیۡنَ وَلَا مُتَّخِذِیۡۤ اَخۡدَانٍ ؕ  وَمَنۡ یَّکۡفُرۡ بِالۡاِیۡمَانِ فَقَدۡ حَبِطَ عَمَلُہٗ ۫  وَہُوَ فِی الۡاٰخِرَۃِ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ ٪ ٥

আলইয়াওমা উহিল্লা লাকুমুততাইয়িবা-তু ওয়া তা‘আ-মুল্লাযীনা ঊতুল কিতা-বা হিল্লুল লাকুম ওয়া তা‘আ-মুকুম হিল্লুল লাহুম ওয়াল মুহসানা-তুমিনাল মু’মিনাতি ওয়াল মুহসানা-তুমিনাল্লাযীনা ঊতুল কিতা-বা মিন কাবলিকুম ইযাআ-তাইতুমূহুন্না উজুরাহুন্না মুহসিনীনা গাইরা মুছা-ফিহীনা ওয়ালা-মুত্তাখিযীআখদা-নিওঁ ওয়া মাইঁ ইয়াকফুর বিলঈমা-নি ফাকাদ হাবিতা ‘আমালুহূ ওয়া হুওয়া ফিল আ-খিরাতি মিনাল খা-ছিরীন।

আজ তোমাদের জন্য উপাদেয় বস্তুসমূহ হালাল করে দেওয়া হল এবং (তোমাদের পূর্বে) যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তাদের খাদ্যদ্রব্যও তোমাদের জন্য হালাল এবং তোমাদের খাদ্যদ্রব্যও তাদের জন্য হালাল। আর মুমিনদের মধ্যকার সচ্চরিত্রা নারী ও তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যকার সচ্চরিত্রা নারীও (তোমাদের পক্ষে হালাল), ১০ যদি তোমরা তাদেরকে বিবাহের হেফাযতে আনার জন্য তাদের মাহর প্রদান কর, (বিবাহ ছাড়া) কেবল ইন্দ্রিয়-বাসনা চরিতার্থ করার বা গোপন প্রণয়িণী বানানোর ইচ্ছা না কর। যে-কেউ ঈমান প্রত্যাখ্যান করবে, তার যাবতীয় কর্ম নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং আখেরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে গণ্য হবে।

তাফসীরঃ

৯. এ স্থলে ‘খাদ্যদ্রব্য’ দ্বারা তাদের যবাহকৃত পশু বোঝানো উদ্দেশ্য। অর্থাৎ ‘আহলে কিতাব’ তথা ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানগণ তাদের যবাহের ক্ষেত্রে যেহেতু ইসলামী শরীয়তে স্থিরীকৃত শর্তাবলীর অনুরূপ শর্ত রক্ষা করত এবং মোটামুটিভাবে আসমানী কিতাবে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে তারা অন্যান্য অমুসলিমদের থেকে স্বতন্ত্র ছিল, তাই তাদের যবাহকৃত পশু মুসলিমদের জন্য হালাল করা হয়েছিল। শর্ত ছিল, তারা শরীয়ত-সম্মত পন্থায় যবাহ করবে এবং যবাহকালে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নাম নেবে না। বর্তমান কালে ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের মধ্যে একটা বড় অংশই নাস্তিক, যারা আল্লাহর অস্তিত্বই স্বীকার করে না। এরূপ লোকের যবাহ বিলকুল হালাল নয়। তাদের মধ্যে অনেক এমনও আছে, যারা নামমাত্র খ্রিস্টান বা ইয়াহুদী। তারা নিজ ধর্মও পালন করে না এবং যবাহের ক্ষেত্রে শরীয়তের শর্তাবলীও রক্ষা করে না। তাদের যবাহ কিছুতেই হালাল নয়। আমার সম্মানিত পিতা হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী (রহ.) তাঁর তাফসীর গ্রন্থ ‘মাআরিফুল কুরআন’ ও ফিকহী প্রবন্ধ-সংকলন ‘জাওয়াহিরুল ফিকহ’-এ এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাছাড়া এ সম্পর্কে ‘আহকামুয যাবাইহ’ নামে আমার একখানি আরবী পুস্তিকাও আছে, যার ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশ করা হয়েছে।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا قُمۡتُمۡ اِلَی الصَّلٰوۃِ فَاغۡسِلُوۡا وُجُوۡہَکُمۡ وَاَیۡدِیَکُمۡ اِلَی الۡمَرَافِقِ وَامۡسَحُوۡا بِرُءُوۡسِکُمۡ وَاَرۡجُلَکُمۡ اِلَی الۡکَعۡبَیۡنِ ؕ وَاِنۡ کُنۡتُمۡ جُنُبًا فَاطَّہَّرُوۡا ؕ وَاِنۡ کُنۡتُمۡ مَّرۡضٰۤی اَوۡ عَلٰی سَفَرٍ اَوۡ جَآءَ اَحَدٌ مِّنۡکُمۡ مِّنَ الۡغَآئِطِ اَوۡ لٰمَسۡتُمُ النِّسَآءَ فَلَمۡ تَجِدُوۡا مَآءً فَتَیَمَّمُوۡا صَعِیۡدًا طَیِّبًا فَامۡسَحُوۡا بِوُجُوۡہِکُمۡ وَاَیۡدِیۡکُمۡ مِّنۡہُ ؕ مَا یُرِیۡدُ اللّٰہُ لِیَجۡعَلَ عَلَیۡکُمۡ مِّنۡ حَرَجٍ وَّلٰکِنۡ یُّرِیۡدُ لِیُطَہِّرَکُمۡ وَلِیُتِمَّ نِعۡمَتَہٗ عَلَیۡکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ ٦

ইয়া আইয়ূহাল্লাযীনা আ-মানূইযা-কুমতুম ইলাসসালা-তি ফাগছিলূউজূহাকুম ওয়া আইদিয়াকুম ইলাল মারা-ফিকিওয়ামছাহূবিরুঊছিকুম ওয়া আরজুলাকুম ইলাল কা‘বাইন ওয়া ইন কুনতুম জুনুবান ফাততাহহারূ ওয়া ইন কুনতুম মারদা-আও ‘আলাছাফারিন আও জাআ আহাদুম মিনকুম মিনাল গাইতিআও লা-মাছতুমুন নিছাআ ফালাম তাজিদূমাআন ফাতাইয়াম্মামূসা‘ঈদান তাইয়িবান ফামছাহূবিউজূহিকুম ওয়া আইদীকুম মিনহু মা-ইউরীদুল্লা-হু লিইয়াজ‘আলা ‘আলাইকুম মিন হারাজিওঁ ওয়ালা-কিইঁ ইউরীদুলিইউতাহহিরাকুম ওয়ালিইউতিম্মা নি‘মাতাহূ‘আলাইকুম লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন।

হে মুমিনগণ! তোমরা যখন নামাযের জন্য উঠবে তখন নিজেদের চেহারা ও কনুই পর্যন্ত নিজেদের হাত ধুয়ে নিবে, নিজেদের মাথাসমূহ মাসেহ করবে এবং টাখনু পর্যন্ত নিজেদের পা (-ও ধুয়ে নেবে)। তোমরা যদি জানাবত অবস্থায় থাক তবে নিজেদের দেহ (গোসলের মাধ্যমে) ভালোভাবে পবিত্র করে নেবে। তোমরা যদি পীড়িত হও বা সফরে থাক কিংবা তোমাদের মধ্যে কেউ শৌচস্থান থেকে আসে অথবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে দৈহিক মিলন করে থাক এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করবে ১১ এবং তা (মাটি) দ্বারা নিজেদের চেহারা ও হাত মাসেহ করবে। আল্লাহ তোমাদের উপর কোনও কষ্ট চাপাতে চান না; বরং তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করতে চান এবং তোমাদের প্রতি স্বীয় নিয়ামত পরিপূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা শুকরগোযার হয়ে যাও।

তাফসীরঃ

১১. ‘শৌচস্থান হতে আসা’ দ্বারা মূলত সেই ছোট নাপাকীর প্রতি ইশারা করা হয়েছে, নামায ইত্যাদি পড়ার জন্য যার কারণে কেবল অযু ওয়াজিব হয়। আর ‘স্ত্রীদের সাথে দৈহিক মিলন’ দ্বারা সেই বড় নাপাকীর প্রতি ইশারা করা হয়েছে, যাকে জানাবাত বলে এবং যার কারণে গোসল ফরয হয়। বোঝানো উদ্দেশ্য যে, যখন পানি পাওয়া না যায় অথবা রোগ-ব্যাধির কারণে পানি ব্যবহার করা সম্ভব না হয়, তখন ছোট-বড় উভয় নাপাকীর ক্ষেত্রেই তায়াম্মুম করা জায়েয এবং উভয় অবস্থায় তায়াম্মুম করার নিয়ম একই।

وَاذۡکُرُوۡا نِعۡمَۃَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ وَمِیۡثَاقَہُ الَّذِیۡ وَاثَقَکُمۡ بِہٖۤ ۙ اِذۡ قُلۡتُمۡ سَمِعۡنَا وَاَطَعۡنَا ۫ وَاتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ ٧

ওয়াযকুরূ নি‘মাতাল্লা-হি ‘আলাইকুম ওয়া মীছা-কাহুল্লাযী ওয়াছাকাকুম বিহী ইযকুলতুম ছামি‘না-ওয়া আতা‘না ওয়াত্তাকুল্লাহা ইন্নাল্লা-হা ‘আলীমুম বিযাতিসসুদূ র।

তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তাঁর সেই প্রতিশ্রুতি স্মরণ কর, যাতে তিনি তোমাদেরকে আবদ্ধ করেছেন যখন তোমরা বলেছিলে, আমরা (আল্লাহর আদেশসমূহ) ভালোভাবে শুনলাম ও আনুগত্য স্বীকার করলাম। এবং আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অন্তরের ভেদ সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে অবগত।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کُوۡنُوۡا قَوّٰمِیۡنَ لِلّٰہِ شُہَدَآءَ بِالۡقِسۡطِ ۫ وَلَا یَجۡرِمَنَّکُمۡ شَنَاٰنُ قَوۡمٍ عَلٰۤی اَلَّا تَعۡدِلُوۡا ؕ اِعۡدِلُوۡا ۟ ہُوَ اَقۡرَبُ لِلتَّقۡوٰی ۫ وَاتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ خَبِیۡرٌۢ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ ٨

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ কূনূ কাওওয়া-মীনা লিলল্লা-হি শুহাদাআ বিলকিছতি ওয়ালা-ইয়াজরিমান্নাকুম শানাআ-নুকাওমিন ‘আলাআল্লা-তা‘দিলূ ই‘দিলূ হুওয়া আকরাবুলিত্তাকওয়া- ওয়াত্তাকুল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা খাবীরুম বিমা-তা‘মালূন।

হে মুমিনগণ! তোমরা হয়ে যাও আল্লাহর (বিধানাবলী পালনের) জন্য সদাপ্রস্তুত (এবং) ইনসাফের সাথে সাক্ষ্যদানকারী এবং কোনও সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে ইনসাফ পরিত্যাগে প্ররোচিত না করে। ইনসাফ অবলম্বন করো। ১২ এ পন্থাই তাকওয়ার বেশি নিকটবর্তী। এবং আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে অবগত।

তাফসীরঃ

১২. ন্যায়-ইনসাফ অর্থে القسط ও العدل শব্দ দুটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। বোঝানো হচ্ছে, সাক্ষ্যদান, বিচার-নিষ্পত্তি ও অন্যান্য আচার-আচরণ হতে হবে সব রকম কমবেশি ও বাড়াবাড়ি-ছাড়াছাড়ির প্রান্তিকতা থেকে মুক্ত একদম পরিমাণ মত মাপাজোখা। এটা বান্দার হক। শত্রু-মিত্র কারও ক্ষেত্রেই এ হক আদায়ে গড়িমসি করার সুযোগ নেই। এমনকি আল্লাহর ঘোর দুশমন কাফের-অমুসলিমও যদি হয়, তার সাথেও ন্যায়-ইনসাফ রক্ষা করা অপরিহার্য। সে আল্লাহর দুশমন এই ভাবনায় তার প্রতি বেইনসাফীর আচরণ করা হলে তা হবে ইসলামী শরীআতের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এবার চিন্তা করুন যারা আল্লাহর বন্ধুজন ও তাঁর প্রিয়পাত্র, সেই মুমিন-মুসলিমের সাথে ইনসাফ রক্ষায় যত্নবান থাকা কতটা গুরত্বপূর্ণ। (-অনুবাদক)

وَعَدَ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ۙ لَہُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّاَجۡرٌ عَظِیۡمٌ ٩

ওয়া‘আদাল্লা-হুল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি লাহুম মাগফিরাতুওঁ ওয়া আজরুন ‘আজীম।

যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, (আখিরাতে) তাদের জন্য রয়েছে মাগফিরাত ও মহা প্রতিদান।
১০

وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَکَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَاۤ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ الۡجَحِیۡمِ ١۰

ওয়াল্লাযীনা কাফারূ ওয়া কাযযাবূবিাআ-য়া-তিনা উলাইকা আসহা-বুল জাহীম।

আর যারা কুফর অবলম্বন করেছে ও আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছে, তারা হবে জাহান্নামবাসী।
১১

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اذۡکُرُوۡا نِعۡمَتَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ اِذۡ ہَمَّ قَوۡمٌ اَنۡ یَّبۡسُطُوۡۤا اِلَیۡکُمۡ اَیۡدِیَہُمۡ فَکَفَّ اَیۡدِیَہُمۡ عَنۡکُمۡ ۚ  وَاتَّقُوا اللّٰہَ ؕ  وَعَلَی اللّٰہِ فَلۡیَتَوَکَّلِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ٪ ١١

ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানুযকুরূনি‘মাতাল্লা-হি ‘আলাইকুম ইযহাম্মা কাওমুন আইঁ ইয়াবছুতূদ্মইলাইকুম আইদিইয়াহুম ফাকাফফা আইদিয়াহুম ‘আনকুম ওয়াত্তাকুল্লা-হা ওয়া‘আলাল্লা-হি ফালইয়াতাওয়াক্কালিল মু’মিনূন।

হে মুমিনগণ! তোমাদের প্রতি আল্লাহর নি‘আমত স্মরণ কর। যখন একদল লোক তোমাদের বিরুদ্ধে হাত বাড়াতে চেয়েছিল, তখন আল্লাহ তোমাদের (ক্ষতিসাধন করা) থেকে তাদের হাত নিবৃক্ত করেছিলেন ১৩ এবং (তার কৃতজ্ঞতা এই যে,) আল্লাহকে ভয় কর আর মুমিনদের তো কেবল আল্লাহরই উপর নির্ভর করা উচিত।

তাফসীরঃ

১৩. এর দ্বারা সেই সকল ঘটনার প্রতি ইশারা করা হয়েছে, যাতে কাফিরগণ মুসলিমদেরকে নির্মূল করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাদের সেসব পরিকল্পনা সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছিলেন। এরূপ ঘটনা বহু। মুফাসসিরগণ এ আয়াতের অধীনে সে রকম কিছু ঘটনা উল্লেখ করেছেন, যেমন মুসলিম শরীফের এক বর্ণনায় আছে, এক যুদ্ধকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসফান নামক স্থানে সাহাবায়ে কিরামকে নিয়ে জোহরের সালাত আদায় করলেন। যখন মুশরিকগণ তা জানতে পারল, তাদের বড় আফসোস হল কেন তারা এই সুযোগ গ্রহণ করল না। তাহলে তো নামায অবস্থায় হামলা চালিয়ে তাদেরকে ধ্বংস করে ফেলা যেত। অতঃপর তারা ঠিক করল, আসরের নামায আদায়কালে তারা অতর্কিত আক্রমণ চালাবে। কিন্তু আসরের ওয়াক্ত হলে আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশে তিনি সালাতুল খাওফ আদায় করলেন, যাতে মুসলিমগণ দু’দলে বিভক্ত হয়ে নামায পড়ে থাকে। একদল শত্রুর মুকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকে (পূর্বে সূরা নিসার (৪ : ১০৪ নং আয়াতে এ নামাযের পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে)। সুতরাং মুশরিকদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায় (রূহুল মাআনী)। আরও ঘটনা জানতে হলে মাআরিফুল কুরআন দেখুন।
১২

وَلَقَدۡ اَخَذَ اللّٰہُ مِیۡثَاقَ بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ۚ وَبَعَثۡنَا مِنۡہُمُ اثۡنَیۡ عَشَرَ نَقِیۡبًا ؕ وَقَالَ اللّٰہُ اِنِّیۡ مَعَکُمۡ ؕ لَئِنۡ اَقَمۡتُمُ الصَّلٰوۃَ وَاٰتَیۡتُمُ الزَّکٰوۃَ وَاٰمَنۡتُمۡ بِرُسُلِیۡ وَعَزَّرۡتُمُوۡہُمۡ وَاَقۡرَضۡتُمُ اللّٰہَ قَرۡضًا حَسَنًا لَّاُکَفِّرَنَّ عَنۡکُمۡ سَیِّاٰتِکُمۡ وَلَاُدۡخِلَنَّکُمۡ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ ۚ فَمَنۡ کَفَرَ بَعۡدَ ذٰلِکَ مِنۡکُمۡ فَقَدۡ ضَلَّ سَوَآءَ السَّبِیۡلِ ١٢

ওয়া লাকাদ আখাযাল্লা-হু মীছা-কা বানী ইসরাঈলা ওয়া বা‘আছনামিনহুমুছনাই ‘আশারা নাকীবাওঁ ওয়া কা-লাল্লা-হু ইন্নী মা‘আকুম লাইন আকামতুমুসসালা-তা ওয়া আ-তাইতুমুঝঝাকা-তা ওয়া আ-মানতুম বিরুছুলী ওয়া আঝঝারতুমূহুম ওয়া আকরাদতুমুল্লা-হা কারদান হাছানাল লাউকাফফিরান্না ‘আনকুম ছাইয়িআ-তিকুম ওয়ালা উদখিলান্নাকুম জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু ফামান কাফারা বা‘দা যা-লিকা মিনকুম ফাকাদ দাল্লা ছাওয়াআছছাবীল।

নিশ্চয়ই আল্লাহ বনী ইসরাঈল থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন এবং তাদের মধ্য হতে বারজন তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করেছিলাম। ১৪ আল্লাহ বলেছিলেন, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি, যদি তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত আদায় কর, আমার রসূলগণের প্রতি ঈমান আন, তাদের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ কর এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান কর, ১৫ তবে অবশ্যই আমি তোমাদের পাপরাশি মোচন করব এবং তোমাদের এমন উদ্যানরাজিতে দাখিল করব, যার তলদেশে নহর প্রবহমান থাকবে। এরপরও তোমাদের মধ্য হতে কেউ কুফর অবলম্বন করলে, প্রকৃতপক্ষে সে সরল পথই হারাবে।

তাফসীরঃ

১৪. বনী ইসরাঈলের বারটি গোত্র ছিল। যখন তাদের থেকে এ প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়, তখন তাদের প্রত্যেক গোত্র-প্রধানকে নিজ-নিজ গোত্রের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করা হয়, যাতে তারা প্রতিশ্রুতি ঠিকভাবে রক্ষা করছে কিনা তার তত্ত্বাবধান করতে পারে।
১৩

فَبِمَا نَقۡضِہِمۡ مِّیۡثَاقَہُمۡ لَعَنّٰہُمۡ وَجَعَلۡنَا قُلُوۡبَہُمۡ قٰسِیَۃً ۚ یُحَرِّفُوۡنَ الۡکَلِمَ عَنۡ مَّوَاضِعِہٖ ۙ وَنَسُوۡا حَظًّا مِّمَّا ذُکِّرُوۡا بِہٖ ۚ وَلَا تَزَالُ تَطَّلِعُ عَلٰی خَآئِنَۃٍ مِّنۡہُمۡ اِلَّا قَلِیۡلًا مِّنۡہُمۡ فَاعۡفُ عَنۡہُمۡ وَاصۡفَحۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یُحِبُّ الۡمُحۡسِنِیۡنَ ١٣

ফাবিমা-নাকদিহিম মীছা-কাহুম লা‘আন্না-হুম ওয়াজা‘আলনা-কুলূবাহুম কা-ছিইয়াতান ইউহাররিফূনাল কালিমা ‘আম মাওয়া-দি‘ইহী ওয়া নাছূহাজ্জাম মিম্মা-যুক্কিরূবিহী ওয়ালা-তাঝা-লুতাত্তালি‘উ ‘আলা-খাইনাতিম মিনহুম ইল্লা-কালীলাম মিনহুম ফা‘ফু‘আনহুম ওয়াসফাহ ইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুল মুহছিনীন।

অতঃপর তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণেই তো আমি তাদেরকে আমার রহমত থেকে বিতাড়িত করি ও তাদের অন্তর কঠিন করে দেই। তারা কথাসমূহকে তার আপন স্থান থেকে সরিয়ে দেয় ১৬ এবং তাদেরকে যে বিষয়ে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তার একটি বড় অংশ ভুলে যায়। (আগামীতে) তুমি তাদের অল্পসংখ্যক ব্যতীত সকলেরই কোনও না কোনও বিশ্বাসঘাতকতার কথা জানতে থাকবে। সুতরাং (এখন) তাদেরকে ক্ষমা কর ও তাদেরকে পাশ কাটিয়ে চল। ১৭ নিশ্চয়ই আল্লাহ ইহসানকারীদের ভালোবাসেন।

তাফসীরঃ

১৬. অর্থাৎ তারা আল্লাহর কালাম তাওরাত গ্রন্থে শাব্দিক ও অর্থগত বিকৃতি সাধন করে। কোথাও এক শব্দের পরিবর্তে অন্য শব্দ এবং এক কথার স্থলে অন্য কথা লিখে দিত এবং কোথাও শব্দগত পরিবর্তন না করে আয়াতের অপব্যাখ্যা করত। বলা বাহুল্য, আল্লাহর কালামে পরিবর্তন অপেক্ষা বড় কোন অপরাধ হতে পারে না। বনী ইসরাঈল তথা ইয়াহুদী ও নাসারা উভয় সম্প্রদায় এ অপরাধে লিপ্ত হয়েছিল। -অনুবাদক
১৪

وَمِنَ الَّذِیۡنَ قَالُوۡۤا اِنَّا نَصٰرٰۤی اَخَذۡنَا مِیۡثَاقَہُمۡ فَنَسُوۡا حَظًّا مِّمَّا ذُکِّرُوۡا بِہٖ ۪ فَاَغۡرَیۡنَا بَیۡنَہُمُ الۡعَدَاوَۃَ وَالۡبَغۡضَآءَ اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ ؕ وَسَوۡفَ یُنَبِّئُہُمُ اللّٰہُ بِمَا کَانُوۡا یَصۡنَعُوۡنَ ١٤

ওয়ামিনাল্লাযীনা কা-লূইন্না-নাসা-রা-আখাযনা-মীছা-কাহুম ফানাছূহাজ্জাম মিম্মাযুক্কিরূবিহী ফাআগরাইনা-বাইনাহুমুল ‘আদা-ওয়াতা ওয়াল বাগদাআ ইলাইয়াওমিল কিয়া-মাতি ওয়া ছাওফা ইউনাব্বিউহুমুল্লা-হু বিমা-কা-নূইয়াসনা‘ঊন।

যারা বলেছিল, আমরা নাসারা, তাদের থেকেও প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম, অতঃপর তাদেরকে যে বিষয়ে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তার একটি বড় অংশ তারা ভুলে যায়। ফলে আমি তাদের মধ্যে কিয়ামত পর্যন্ত (স্থায়ী) শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে দেই। ১৮ অচিরেই আল্লাহ তাদেরকে তারা যা কিছু করত তা জানিয়ে দেবেন।

তাফসীরঃ

১৮. খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারীরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। এক পর্যায়ে তাদের ধর্মীয় মতভেদ তাদের পারস্পরিক শত্রুতা ও গৃহযুদ্ধের রূপ নিয়েছিল। এটা তাদের সেই গৃহযুদ্ধের প্রতিই ইঙ্গিত।
১৫

یٰۤاَہۡلَ الۡکِتٰبِ قَدۡ جَآءَکُمۡ رَسُوۡلُنَا یُبَیِّنُ لَکُمۡ کَثِیۡرًا مِّمَّا کُنۡتُمۡ تُخۡفُوۡنَ مِنَ الۡکِتٰبِ وَیَعۡفُوۡا عَنۡ کَثِیۡرٍ ۬ؕ  قَدۡ جَآءَکُمۡ مِّنَ اللّٰہِ نُوۡرٌ وَّکِتٰبٌ مُّبِیۡنٌ ۙ ١٥

ইয়াআহলাল কিতা-বি কাদ জাআকুম রাছূলুনা-ইউবাইয়িনুলাকুম কাছীরাম মিম্মাকুনতুম তুখফূনা মিনাল কিতা-বি ওয়া ইয়া‘ফূ‘আন কাছীরিন কাদ জাআকুম মিনাল্লাহি নূরুওঁ ওয়া কিতা-বুম মুবীন।

হে কিতাবীগণ! তোমাদের নিকট আমার (এই) রাসূল এসে পড়েছে, যে (তাওরাত ও ইনজীল) গ্রন্থের এমন বহু কথা তোমাদের কাছে প্রকাশ করে, যা তোমরা গোপন কর এবং অনেক বিষয় এড়িয়ে যায়। আল্লাহর পক্ষ হতে তোমাদের কাছে এক জ্যোতি এবং এমন এক কিতাব এসেছে, যা (সত্যকে) সুস্পষ্ট করে। ১৯

তাফসীরঃ

১৯. ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান সম্প্রদায় তাদের আসমানী কিতাবে বর্ণিত অনেকগুলো বিষয় গোপন করে রেখেছিল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা থেকে কেবল সেগুলোই প্রকাশ করে দিয়েছেন, যা দীনী দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকাশ করা জরুরী ছিল। যেগুলো প্রকাশ না করলে কর্ম ও বিশ্বাসগত দিক থেকে দীনী কোনও ক্ষতি ছিল না, অন্যদিকে প্রকাশ করলে তা ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের জন্য বেজায় লাঞ্ছনার কারণ হত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ জাতীয় বিষয়সমূহ এড়িয়ে গেছেন। তিনি সেগুলো প্রকাশ করার কোনও প্রয়োজন বোধ করেননি।
১৬

یَّہۡدِیۡ بِہِ اللّٰہُ مَنِ اتَّبَعَ رِضۡوَانَہٗ سُبُلَ السَّلٰمِ وَیُخۡرِجُہُمۡ مِّنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوۡرِ بِاِذۡنِہٖ وَیَہۡدِیۡہِمۡ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ١٦

ইয়াহদী বিহিল্লা-হু মানিতত্তাবা‘আ রিদওয়া-নাহু ছুবুলাছছালা-মি ওয়া ইউখরিজুহুম মিনাজজু লুমা-তি ইলান নূরি বিইযনিহী ওয়া ইয়াহদীহিম ইলা-সিরা-তিম মুছতাকীম।

যার মাধ্যমে আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করে, তাদেরকে শান্তির পথ দেখান এবং নিজ ইচ্ছায় তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে আসেন এবং তাদেরকে সরল পথের দিশা দেন।
১৭

لَقَدۡ کَفَرَ الَّذِیۡنَ قَالُوۡۤا اِنَّ اللّٰہَ ہُوَ الۡمَسِیۡحُ ابۡنُ مَرۡیَمَ ؕ قُلۡ فَمَنۡ یَّمۡلِکُ مِنَ اللّٰہِ شَیۡئًا اِنۡ اَرَادَ اَنۡ یُّہۡلِکَ الۡمَسِیۡحَ ابۡنَ مَرۡیَمَ وَاُمَّہٗ وَمَنۡ فِی الۡاَرۡضِ جَمِیۡعًا ؕ وَلِلّٰہِ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا ؕ یَخۡلُقُ مَا یَشَآءُ ؕ وَاللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ١٧

লাকাদ কাফারাল্লাযীনা কা-লূ ইন্নাল্লা-হা হুওয়াল মাছীহুবনুমারইয়ামা কুল ফামাইঁ ইয়ামলিকুমিনাল্লা-হিশাইআন ইন আরা-দা আইঁ ইউহলিকাল মাছীহাবনা মারইয়ামা ওয়া উম্মাহূওয়া মান ফিল আরদিজামী‘আওঁ ওয়ালিলল্লা-হি মুলকুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়ামা-বাইনাহুমা ইয়াখলুকুমা-ইয়াশাউ ওয়াল্লা-হু ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

যারা বলে, মারয়াম তনয় মাসীহই আল্লাহ, তারা নিশ্চিত কাফির হয়ে গিয়েছে। (হে নবী! তাদেরকে) বলে দাও, মারয়াম তনয় মাসীহ, তার মা এবং পৃথিবীতে যারা আছে তাদের সকলকে যদি আল্লাহ ধ্বংস করতে চান, তবে কে আছে, যে আল্লাহর বিপরীতে কিছুমাত্র করার ক্ষমতা রাখে? ২০ আকাশমণ্ডল, পৃথিবী ও এতদুভয়ের মাঝখানে যা-কিছু আছে, সে সমুদয়ের মালিকানা কেবল আল্লাহরই। তিনি যা-কিছু চান সৃষ্টি করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে পরিপূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী।

তাফসীরঃ

২০. অর্থাৎ মাসীহ সম্পর্কে তোমাদের এ দাবি মিথ্যা। তার প্রমাণ এই যে, মাসীহ আল্লাহর ক্ষমতাধীন। আল্লাহ চাইলে তাকে, তার মাকে এবং পৃথিবীর সব কিছুকেই ধ্বংস করে দিতে পারেন, যা রোধ করার সাধ্য মাসীহ বা অন্য কারও নেই। তো মাসীহ যখন আর সব সৃষ্টির মতই আল্লাহর ক্ষমতার আওতাধীন ও ধ্বংসশীল, তখন সে নিজে আল্লাহ হয় কি করে? প্রকৃতপক্ষে সে আল্লাহর সৃষ্টি ও তাঁর এক মহান বান্দা ও রাসূল। -অনুবাদক
১৮

وَقَالَتِ الۡیَہُوۡدُ وَالنَّصٰرٰی نَحۡنُ اَبۡنٰٓؤُا اللّٰہِ وَاَحِبَّآؤُہٗ ؕ قُلۡ فَلِمَ یُعَذِّبُکُمۡ بِذُنُوۡبِکُمۡ ؕ بَلۡ اَنۡتُمۡ بَشَرٌ مِّمَّنۡ خَلَقَ ؕ یَغۡفِرُ لِمَنۡ یَّشَآءُ وَیُعَذِّبُ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَلِلّٰہِ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَیۡنَہُمَا ۫ وَاِلَیۡہِ الۡمَصِیۡرُ ١٨

ওয়াকা-লাতিল ইয়াহুদুওয়ান নাসা-রা-নাহনুআবনাউল্লা-হি ওয়া আহিব্বাউহূ কুল ফালিমা ইউ‘আযযিবুকুম বিযুনূবিকুম বাল আনতুম বাশারূম মিম্মান খালাকা ইয়াগফিরু লিমাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইউ‘আযযিবুমাইঁ ইয়াশূউ ওয়া লিলল্লা-হি মুলকুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়ামা-বাইনাহুমা; ওয়া ইলাইহিল মাসীর।

ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানগণ বলে, আমরা আল্লাহর সন্তান ও তার প্রিয়পাত্র। (তাদেরকে) বলে দাও, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের পাপের কারণে শাস্তি দেন কেন? ২১ না, বরং তোমরা আল্লাহর সৃষ্ট অন্যান্য মানুষেরই মত মানুষ। তিনি যাকে চান ক্ষমা করেন এবং যাকে চান শাস্তি দেন। আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মাঝখানে যা-কিছু আছে, সে সমুদয়ের মালিকানা কেবল আল্লাহরই এবং তাঁরই দিকে (সকলের) প্রত্যাবর্তন।

তাফসীরঃ

২১. ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানগণ নিজেরাও স্বীকার করত যে, তারা বিভিন্ন কারণে আল্লাহ তা‘আলার শাস্তির নিশানা হয়ে আছে। এমনকি আখেরাতেও যে তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে সেটাও তাদের অনেকে স্বীকার করত, হোক না তাদের ভাষায় তা অল্পকিছু কালের জন্য। সুতরাং এস্থলে বলা উদ্দেশ্য যে, আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত মানুষকে একই রকম বানিয়েছেন। তাদের মধ্যে বিশেষ কোনও জাতি সম্পর্কে এ দাবী করা যে, তারা আল্লাহর বিশেষ প্রিয়পাত্র এবং তারা তাঁর সাধারণ নিয়মের বাইরে, এটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। আল্লাহ তা‘আলার বিধান সকলের জন্য সমান। তিনি নিজ রহমত বিতরণের জন্য বিশেষ কোনও গোষ্ঠীকে নির্দিষ্ট করে নেননি যে, তাদের বাইরে কেউ তা পাবে না। অবশ্য তিনি নিজ হিকমত অনুযায়ী যাকে চান ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা করেন নিজের ইনসাফ ভিত্তিক বিধান অনুসারে শাস্তি দান করেন।
১৯

یٰۤاَہۡلَ الۡکِتٰبِ قَدۡ جَآءَکُمۡ رَسُوۡلُنَا یُبَیِّنُ لَکُمۡ عَلٰی فَتۡرَۃٍ مِّنَ الرُّسُلِ اَنۡ تَقُوۡلُوۡا مَا جَآءَنَا مِنۡۢ بَشِیۡرٍ وَّلَا نَذِیۡرٍ ۫  فَقَدۡ جَآءَکُمۡ بَشِیۡرٌ وَّنَذِیۡرٌ ؕ  وَاللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ٪ ١٩

ইয়া আহলাল কিতা-বি কাদ জাআকুম রাছূলুনা-ইউবাইয়িনুলাকুম ‘আলা-ফাতরাতিম মিনাররুছুলি আন তাকূলূমা-জাআনা-মিম বাশীরিওঁ ওয়ালা-নাযীরিন ফাকাদ জাআকুম বাশীরুওঁ ওয়া নাযীরুওঁ ওয়াল্লা-হু ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

হে কিতাবীগণ! তোমাদের নিকট এমন এক সময়ে আমার রাসূল (দীনের) ব্যাখ্যা দানের জন্য এসেছে, যখন রাসূলগণের আগমন-ধারা বন্ধ ছিল, যাতে তোমরা বলতে না পার, আমাদের কাছে (জান্নাতের) কোনও সুসংবাদদাতা ও (জাহান্নাম সম্পর্কে) সতর্ককারী আসেনি। এবার তোমাদের কাছে একজন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এসে গেছে। আল্লাহ সর্ববিষয়ে পরিপূর্ণ ক্ষমতাবান।
২০

وَاِذۡ قَالَ مُوۡسٰی لِقَوۡمِہٖ یٰقَوۡمِ اذۡکُرُوۡا نِعۡمَۃَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ اِذۡ جَعَلَ فِیۡکُمۡ اَنۡۢبِیَآءَ وَجَعَلَکُمۡ مُّلُوۡکًا ٭ۖ وَّاٰتٰىکُمۡ مَّا لَمۡ یُؤۡتِ اَحَدًا مِّنَ الۡعٰلَمِیۡنَ ٢۰

ওয়া ইযকা-লা মূছা-লিকাওমিহী ইয়া-কাওমিযকুরূ নি‘মাতাল্লা-হি ‘আলাইকুম ইয জা‘আলা ফীকুম আম্বিইয়াআ ওয়া জা‘আলাকুম মুলূকাওঁ ওয়া আ-তা-কুম মা-লাম ইউ’তি আহাদাম মিনাল ‘আ-লামীন।

এবং (সেই সময়কে স্মরণ কর), যখন মূসা নিজ সম্প্রদায়কে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নি‘আমতের কথা স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে বহু নবী প্রেরণ করেছিলেন, তোমাদেরকে রাজক্ষমতার অধিকারী করেছিলেন এবং বিশ্ব জগতের কাউকে যা দেননি তোমাদেরকে তা দান করেছিলেন।
২১

یٰقَوۡمِ ادۡخُلُوا الۡاَرۡضَ الۡمُقَدَّسَۃَ الَّتِیۡ کَتَبَ اللّٰہُ لَکُمۡ وَلَا تَرۡتَدُّوۡا عَلٰۤی اَدۡبَارِکُمۡ فَتَنۡقَلِبُوۡا خٰسِرِیۡنَ ٢١

ইয়া-কাওমিদ খুলুলআরদাল মুকাদ্দাছাতাল্লাতী কাতাবাল্লা-হুলাকুমওয়ালা-তারতাদ্দু ‘আলাআদবা-রিকুম ফাতানকালিবূখা-ছিরীন।

হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহ তোমাদের জন্য যেই পবিত্র ভূমি নির্দিষ্ট করেছেন, ২২ তাতে প্রবেশ কর এবং নিজেদের পশ্চাদ্দিকে ফিরে যেয়ো না; তা হলে তোমরা উল্টে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।

তাফসীরঃ

২২. ‘পবিত্র ভূমি’ দ্বারা শাম ও ফিলিস্তিন অঞ্চলকে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা নবী-রাসূল পাঠানোর জন্য এ ভূমিকে বেছে নিয়েছিলেন। তাই একে ‘পবিত্র ভূমি’ বলা হয়েছে। এ আয়াতে যে ঘটনার প্রতি ইশারা করা হয়েছে, সংক্ষেপে তা এইরূপ, বনী ইসরাঈলের মূল নিবাস ছিল শাম, বিশেষত ফিলিস্তিন। মিসরে ফির‘আউন তাদেরকে দাস বানিয়ে রেখেছিল। আল্লাহ তা‘আলার হুকুমে যখন ফির‘আউন ও তার বাহিনী ডুবে মরে, তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ফিলিস্তিনে গিয়ে বসবাস করতে আদেশ করেন। এ ফিলিস্তিনে আমালিকা নামক এক কাফির জনগোষ্ঠী বাস করত। সুতরাং সে আদেশের অনিবার্য দাবী ছিল বনী ইসরাঈল ফিলিস্তিনে গিয়ে তাদের সাথে যুদ্ধ করবে। আল্লাহ তা‘আলার ওয়াদা ছিল, সে যুদ্ধে বনী ইসরাঈলই জয়লাভ করবে। কেননা সে ভূখণ্ডটিকে তাদেরই ভাগ্যে লিখে দেওয়া হয়েছে। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম সে আদেশ পালনার্থে ফিলিস্তিন অভিমুখে রওয়ানা হলেন। ফিলিস্তিনের কাছাকাছি পৌঁছতেই বনী ইসরাঈল উপলব্ধি করল, আমালিকা গোষ্ঠীটি অতি শক্তিশালী। মূলত তারা ছিল আদ জাতির বংশধর। গায়ে-গতরে খুব বড়। বনী ইসরাঈল তাদের বিশাল-বিশাল দেহ দেখে ভয় পেয়ে গেল। তারা চিন্তা করল না যে, আল্লাহ তা‘আলার শক্তি আরও বড় এবং তিনি তাদের জয়লাভের ওয়াদাও করে রেখেছেন।
২২

قَالُوۡا یٰمُوۡسٰۤی اِنَّ فِیۡہَا قَوۡمًا جَبَّارِیۡنَ ٭ۖ وَاِنَّا لَنۡ نَّدۡخُلَہَا حَتّٰی یَخۡرُجُوۡا مِنۡہَا ۚ فَاِنۡ یَّخۡرُجُوۡا مِنۡہَا فَاِنَّا دٰخِلُوۡنَ ٢٢

কা-লূইয়া-মূসা ইন্না ফীহা-কাওমান জাব্বা-রীনা ওয়া ইন্না-লান নাদখুলাহা-হাত্তাইয়াখরুজুমিনহা- ফাইয়ঁইয়াখরুজূমিনহা-ফাইন্না-দা-খিলূন।

তারা বলল, হে মূসা! সেখানে তো অতি শক্তিমান এক সম্প্রদায় রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা সেখান থেকে বের না হয়ে যায়, আমরা কিছুতেই সেখানে প্রবেশ করব না। হাঁ, তারা যদি সেখান থেকে বের হয়ে যায় তবে অবশ্যই আমরা (সেখানে) প্রবেশ করব।
২৩

قَالَ رَجُلٰنِ مِنَ الَّذِیۡنَ یَخَافُوۡنَ اَنۡعَمَ اللّٰہُ عَلَیۡہِمَا ادۡخُلُوۡا عَلَیۡہِمُ الۡبَابَ ۚ فَاِذَا دَخَلۡتُمُوۡہُ فَاِنَّکُمۡ غٰلِبُوۡنَ ۬ۚ وَعَلَی اللّٰہِ فَتَوَکَّلُوۡۤا اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ٢٣

কা-লা রাজুলা-নি মিনাল্লাযীনা ইয়াখা-ফূনা আন‘আমাল্লা-হু ‘আলাইহিমাদ খুলূ‘আলাইহিমুল বা-বা ফাইযা-দাখালতুমূহু ফাইন্নাকুম গা-লিবূন ওয়া ‘আলাল্লা-হি ফাতাওয়াক্কালূইন কুনতুম মু’মিনীন।

যারা (আল্লাহকে) ভয় করত, তাদের মধ্যে দু’জন লোক, যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছিলেন, ২৩ বলল, তোমরা তাদের উপর চড়াও হয়ে (নগরের) দরজা দিয়ে প্রবেশ কর। তোমরা যখন তাতে প্রবেশ করবে, তখন তোমরাই বিজয়ী হবে। আল্লাহ তা‘আলার উপরই ভরসা রেখ, যদি তোমরা প্রকৃত মুমিন হও।

তাফসীরঃ

২৩. এ দু’জন ছিলেন হযরত ইউশা (আ.) ও হযরত কালিব (আ.)। তারা প্রতিটি ক্ষেত্রে হযরত মূসা আলাইহিস সালামের প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন। পরবর্তী কালে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে নবুওয়াতও দান করেছিলেন। তারা তাদের কওমকে বললেন, তোমরা আল্লাহর উপর ভরসা করে অগ্রসর হও। আল্লাহ তা‘আলার ওয়াদা অনুসারে তোমরাই জয়যুক্ত হবে।
২৪

قَالُوۡا یٰمُوۡسٰۤی اِنَّا لَنۡ نَّدۡخُلَہَاۤ اَبَدًا مَّا دَامُوۡا فِیۡہَا فَاذۡہَبۡ اَنۡتَ وَرَبُّکَ فَقَاتِلَاۤ اِنَّا ہٰہُنَا قٰعِدُوۡنَ ٢٤

কা-লুইয়া-মূছাইন্না-লান নাদখুলাহাআবাদাম মা-দা-মূফীহা-ফাযহাব আনতা ওয়া রাব্বুকা ফাকা-তিলাইন্না-হা-হুনা-কা-‘ইদূন।

তারা বলতে লাগল, হে মূসা! তারা যতক্ষণ পর্যন্ত সেখানে (সেই দেশে) অবস্থানরত থাকবে, ততক্ষণ আমরা কিছুতেই সেখানে প্রবেশ করব না। আর (তাদের সাথে যুদ্ধ করতে হলে) তুমি ও তোমার রব্ব চলে যাও এবং তাদের সাথে যুদ্ধ কর। আমরা তো এখানেই বসে থাকব।
২৫

قَالَ رَبِّ اِنِّیۡ لَاۤ اَمۡلِکُ اِلَّا نَفۡسِیۡ وَاَخِیۡ فَافۡرُقۡ بَیۡنَنَا وَبَیۡنَ الۡقَوۡمِ الۡفٰسِقِیۡنَ ٢٥

কা-লা রাব্বি ইন্নী লাআমলিকুইল্লা-নাফছী ওয়া আখী ফাফরুক বাইনানা-ওয়া বাইনাল কাওমিল ফা-ছিকীন।

মূসা বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার নিজ সত্তা এবং আমার ভাই ছাড়া আর কারও উপর আমার কর্তৃত্ব নেই। সুতরাং আপনি আমাদের ও ওই অবাধ্য সম্প্রদায়ের মধ্যে ফায়সালা করে দিন।
২৬

قَالَ فَاِنَّہَا مُحَرَّمَۃٌ عَلَیۡہِمۡ اَرۡبَعِیۡنَ سَنَۃً ۚ  یَتِیۡہُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ ؕ  فَلَا تَاۡسَ عَلَی الۡقَوۡمِ الۡفٰسِقِیۡنَ ٪ ٢٦

কা-লা ফাইন্নাহা-মুহাররামাতুন ‘আলাইহিম আরবা‘ঈনা ছানাতাইঁ ইয়াতীহূনা ফিল আরদি ফালা-তা’ছা ‘আলাল কাওমিল ফা-ছিকীন।

আল্লাহ বললেন, তবে সে ভূমি তাদের জন্য চল্লিশ বছর কাল নিষিদ্ধ করে দেওয়া হল। (এ সময়) তারা যমীনে দিকভ্রান্ত হয়ে ঘুরতে থাকবে। ২৪ সুতরাং (হে মূসা!) তুমি অবাধ্য সম্প্রদায়ের জন্য দুঃখ করো না।

তাফসীরঃ

২৪. বনী ইসরাঈলের সে অবাধ্যতার কারণে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে এই শাস্তি দিলেন যে, চল্লিশ বছরের জন্য ফিলিস্তিনে তাদের প্রবেশ স্থগিত করে দেওয়া হল। তারা সিনাই মরুভূমির ছোট্ট একটি এলাকার মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকল; সামনে যাওয়ার কোনও পথও খুঁজে পাচ্ছিল না এবং মিসরেও ফিরে যেতে পারছিল না। হযরত মূসা (আ.), হযরত হারুন (আ.), হযরত ইউশা (আ.) ও হযরত কালিব (আ.) ও তাদের সঙ্গে ছিলেন। তাদেরই বরকত ও দোয়ায় আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রতি বিভিন্ন রকমের নিয়ামত অবতীর্ণ করতে থাকেন, যা সূরা বাকারায় (আয়াত ২ : ৫৭-৬০) বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। রোদ থেকে রক্ষা করার জন্য মেঘের ছায়া দেওয়া হয়, ক্ষুধা নিবারণের জন্য মান্ন ও সালওয়া নাযিল করা হয় এবং তৃষ্ণা মেটানোর জন্য পাথর থেকে বারটি ঝর্নাধারা চালু হয়ে যায়। বনী ইসরাঈলের এই বাস্তুহারা জীবন ছিল তাদের উপর আল্লাহ তা‘আলার এক আযাব, কিন্তু এটাকেই আল্লাহ তা‘আলা উল্লিখিত মহা পুরুষদের পক্ষে আত্মিক প্রশান্তির উপকরণ বানিয়ে দেন। হযরত হারুন (আ.) ও মূসা (আ.) যথাক্রমে এই মরুভূমিতেই ইন্তিকাল করেন। তাদের পর হযরত ইউশা (আ.)কে নবী বানানো হয়। শামের কিছু এলাকা তাঁর নেতৃত্বে এবং কিছু এলাকা হযরত শামুয়েল আলাইহিস সালামের আমলে তালুতের নেতৃত্বে বিজিত হয়। সে ঘটনা সূরা বাকারায় (আয়াত ২ : ২৪৬-২৫২) বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। এভাবে আল্লাহ তা‘আলা এ ভূখণ্ডটি বনী ইসরাঈলকে প্রদান করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণ করেন।
২৭

وَاتۡلُ عَلَیۡہِمۡ نَبَاَ ابۡنَیۡ اٰدَمَ بِالۡحَقِّ ۘ اِذۡ قَرَّبَا قُرۡبَانًا فَتُقُبِّلَ مِنۡ اَحَدِہِمَا وَلَمۡ یُتَقَبَّلۡ مِنَ الۡاٰخَرِ ؕ قَالَ لَاَقۡتُلَنَّکَ ؕ قَالَ اِنَّمَا یَتَقَبَّلُ اللّٰہُ مِنَ الۡمُتَّقِیۡنَ ٢٧

ওয়াতলু‘আলাইহিম নাবাআবনাই আ-দামা বিলহাক্ক । ইযকাররাবা-কুরবা-নান ফাতুকুব্বিলা মিন আহাদিহিমা-ওয়া লাম ইউতাকাব্বাল মিনাল আ-খারি কা-লা লাআকতুলান্নাকা কা-লা ইন্নামা-ইয়াতাকাব্বালুল্লা-হু মিনাল মুত্তাকীন।

এবং (হে নবী!) তাদের সামনে আদমের দু’ পুত্রের বৃত্তান্ত যথাযথভাবে পড়ে শোনাও, যখন তাদের প্রত্যেকে একেকটি কুরবানী পেশ করেছিল এবং তাদের একজনের কুরবানী কবুল হয়েছিল, অন্যজনের কবুল হয়নি। ২৫ সে (দ্বিতীয়জন প্রথমজনকে) বলল, আমি তোমাকে হত্যা করে ফেলব। প্রথমজন বলল, আল্লাহ তো মুত্তাকীদের পক্ষ হতেই (কুরবানী) কবুল করেন।

তাফসীরঃ

২৫. জিহাদের বিধান আসা সত্ত্বে তা থেকে গা বাঁচানোর যে অপরাধে বনী ইসরাঈল লিপ্ত হয়েছিল, পূর্বের আয়াতসমূহে ছিল তার বিবরণ। এবার বলা উদ্দেশ্য যে, কোনও মহৎ উদ্দেশ্যে পরিচালিত জিহাদে হত্যা করা কেবল বৈধই নয়; বরং ওয়াজিব, কিন্তু অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা গুরুতর পাপ। বনী ইসরাঈল জিহাদে যোগদান থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করেছে, অথচ বহু নিরপরাধ লোককে পর্যন্ত হত্যা করতে তাদের এতটুকু প্রাণ কাঁপেনি। প্রসঙ্গক্রমে দুনিয়ায় সর্বপ্রথম যে নরহত্যার ঘটনা ঘটেছিল, তা বর্ণনা করা হয়েছে। কুরআন মাজীদ সে সম্পর্কে কেবল এইটুকু জানিয়েছে যে, হযরত আদম আলাইহিস সালামের দুই পুত্র কিছু কুরবানী পেশ করেছিল। একজনের কুরবানী কবুল হয়, অন্যজনের কবুল হয়নি। এতে দ্বিতীয়জন ভীষণ ক্ষুব্ধ হয় এবং শেষ পর্যন্ত সে তার ভাইকে হত্যা করে। কিন্তু এ কুরবানীর প্রেক্ষাপট কী ছিল, সে সম্পর্কে কুরআন মাজীদ কিছুই বলেনি। তবে মুফাসসিরগণ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি.) ও আরও কতিপয় সাহাবীর বরাতে সে ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। তার সারমর্ম এই যে, হযরত আদম আলাইহিস সালামের দুই পুত্র ছিল। একজনের নাম হাবিল, অন্যজনের কাবীল। বলাবাহুল্য, তখন পৃথিবীতে মানব বসতি বলতে কেবল হযরত আদম আলাইহিস সালামের পরিবারবর্গই ছিল। তার স্ত্রীর গর্ভে প্রতিবার দুটি জমজ সন্তানের জন্ম হত। একটি পুত্র ও একটি কন্যা। তাদের দু’জনের পরস্পরে বিবাহ তো জায়েয ছিল না, কিন্তু এক গর্ভের পুত্রের সাথে অপর গর্ভের কন্যার বিবাহ হালাল ছিল। কাবীলের সাথে যে কন্যার জন্ম হয় সে ছিল রূপসী। কিন্তু জমজ হওয়ার কারণে কাবীলের সাথে তার বিবাহ জায়েয ছিল না। তা সত্ত্বেও কাবীল গোঁ ধরে বসেছিল তাকেই বিবাহ করবে। হাবীলের পক্ষে সে মেয়ে হারাম ছিল না। তাই সে তাকে বিবাহ করতে চাচ্ছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে তা নিষ্পত্তির জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হল যে, তারা উভয়ে কুরবানী পেশ করবে। আল্লাহ তা‘আলা যার কুরবানী কবুল করবেন তার দাবী ন্যায্য মনে করা হবে। সুতরাং উভয়ে কুরবানী পেশ করল। বর্ণনায় আছে যে, হাবীল একটি দুম্বা কুরবানী দিয়েছিল আর কাবীল পেশ করেছিল কিছু কৃষিজাত ফসল। সে কালে কুরবানী কবুল হওয়ার আলামত ছিল এই যে, কুরবানী কবুল হলে আসমান থেকে আগুন এসে তা জ্বালিয়ে দিত। সুতরাং আসমান থেকে আগুন আসল এবং হাবীলের কুরবানী জ্বালিয়ে দিল। এভাবে প্রমাণ হয়ে গেল যে, তার কুরবানী কবুল হয়েছে। কাবীলের কুরবানী যেমনটা তেমন পড়ে থাকল। তার মানে, তার কুরবানী কবুল হয়নি। এ অবস্থায় কাবীলের তো উচিত ছিল সত্য মেনে নেওয়া, কিন্তু তার বিপরীতে সে ঈর্ষাকাতর হল এবং এক পর্যায়ে হাবীলকে হত্যা করতে প্রস্তুত হয়ে গেল।
২৮

لَئِنۡۢ بَسَطۡتَّ اِلَیَّ یَدَکَ لِتَقۡتُلَنِیۡ مَاۤ اَنَا بِبَاسِطٍ یَّدِیَ اِلَیۡکَ لِاَقۡتُلَکَ ۚ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اللّٰہَ رَبَّ الۡعٰلَمِیۡنَ ٢٨

লাইম বাছাততা ইলাইইয়া ইয়াদাকা লিতাক তুলানী মাআনা ব্বিা-ছিতিইঁ ইয়াদিইয়া ইলাইকা লিআকতুলাকা ইন্নীআখা-ফুল্লা-হা রাব্বাল ‘আ-লামীন।

তুমি যদি আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে আমার দিকে হাত বাড়াও, তবুও আমি তোমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তোমার দিকে হাত বাড়াব না। আমি তো আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে ভয় করি।
২৯

اِنِّیۡۤ اُرِیۡدُ اَنۡ تَبُوۡٓاَ بِاِثۡمِیۡ وَاِثۡمِکَ فَتَکُوۡنَ مِنۡ اَصۡحٰبِ النَّارِ ۚ  وَذٰلِکَ جَزٰٓؤُا الظّٰلِمِیۡنَ ۚ ٢٩

ইন্নী উরীদুআন তাবূআ বিইছমী ওয়া ইছমিকা ফাতাকূনা মিন আসহা-বিন্না-রি ওয়া যা-লিকা জাঝাউজ্জা-লিমীন।

আমি চাই, তুমি আমার ও তোমার উভয়ের পাপভার বহন কর ২৬ এবং জাহান্নামীদের মধ্যে গণ্য হও। আর এটাই জালিমদের শাস্তি।

তাফসীরঃ

২৬. যদিও আত্মরক্ষার কোনও উপায় পাওয়া না গেলে আক্রমণকারীকে হত্যা করা জায়েয, কিন্তু এ ক্ষেত্রে হাবীল পরহেজগারী তথা উচ্চতর নৈতিকতামূলক পন্থা অবলম্বন করলেন এবং নিজের সে অধিকার প্রয়োগ হতে বিরত থাকলেন। তিনি বোঝাচ্ছিলেন, আমি আত্মরক্ষার অন্য সব পন্থা অবলম্বন করব, কিন্তু তোমাকে হত্যা করতে কিছুতেই সচেষ্ট হব না। সেই সঙ্গে তাকে জানিয়ে দিলেন যে, তুমি যদি সত্যিই আমাকে হত্যা করে বস, তবে মজলুম হওয়ার কারণে আমার গুনাহসমূহ তো ক্ষমা করা হবে বলে আশা করতে পারি, কিন্তু তোমার উপর যে কেবল নিজের পাপের বোঝা চাপবে তাই নয়; বরং আমাকে হত্যা করার কারণে আমার কিছু পাপ-ভারও তোমার উপর চাপানো হতে পারে। কেননা আখিরাতে জালিমের পক্ষ হতে মজলুমের হক আদায়ের একটা পন্থা হাদীসে এরূপ বর্ণিত হয়েছে যে, জালিমের পুণ্য মজলুমকে দেওয়া হবে। তারপরও যদি হক বাকি থেকে যায়, তবে মজলুমের পাপ জালিমের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হবে (তাফসীরে কাবীর)।
৩০

فَطَوَّعَتۡ لَہٗ نَفۡسُہٗ قَتۡلَ اَخِیۡہِ فَقَتَلَہٗ فَاَصۡبَحَ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ ٣۰

ফাতাওওয়া‘আত লাহূনাফছুহূকাতলা আখীহি ফাকাতালাহূফাআসবাহা মিনাল খা-ছিরীন।

পরিশেষে তার মন তাকে ভ্রাতৃ-হত্যায় প্ররোচিত করল, সুতরাং সে তার ভাইকে হত্যা করে ফেলল এবং অকৃতকার্যদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।
৩১

فَبَعَثَ اللّٰہُ غُرَابًا یَّبۡحَثُ فِی الۡاَرۡضِ لِیُرِیَہٗ کَیۡفَ یُوَارِیۡ سَوۡءَۃَ اَخِیۡہِ ؕ  قَالَ یٰوَیۡلَتٰۤی اَعَجَزۡتُ اَنۡ اَکُوۡنَ مِثۡلَ ہٰذَا الۡغُرَابِ فَاُوَارِیَ سَوۡءَۃَ اَخِیۡ ۚ  فَاَصۡبَحَ مِنَ النّٰدِمِیۡنَ ۚۛۙ ٣١

ফাবা‘আছাল্লা-হু গুরা-বাইঁ ইয়াবহাছুফিল আরদিলিইউরিইয়াহূকাইফা ইউওয়া-রী ছাওআতা আখীহি কা-লা ইয়া-ওয়াইলাতা-আ‘আজাঝতুআন আকূনা মিছলা হা-যাল গুরা-বি ফাউওয়া-রিয়া ছাওআতা আখী ফাআসবাহা মিনান না-দিমীন।

অতঃপর আল্লাহ একটি কাক পাঠালেন, যে তার ভাইয়ের লাশ কিভাবে গোপন করবে তা তাকে দেখানোর লক্ষ্যে মাটি খনন করতে লাগল। ২৭ (এটা দেখে) সে বলে উঠল, হায় আফসোস! আমি কি এই কাকটির মতও হতে পারলাম না, যাতে আমার ভাইয়ের লাশ গোপন করতে পারি! এভাবে পরিশেষে সে অনুতপ্ত হল।

তাফসীরঃ

২৭. কাবীলের দেখা এটাই যেহেতু ছিল মৃত্যুর প্রথম ঘটনা, তাই লাশ দাফনের নিয়ম তার জানা ছিল না। তাই আল্লাহ তা‘আলা একটি কাক পাঠিয়ে দিলেন। কাকটি মাটি খুঁড়ে একটা মৃত কাক দাফন করছিল। এটা দেখে কাবীল কেবল লাশ দাফনের নিয়মই শিখল না, নিজ অজ্ঞতার কারণে লজ্জিতও হল।
৩২

مِنۡ اَجۡلِ ذٰلِکَ ۚۛؔ کَتَبۡنَا عَلٰی بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ اَنَّہٗ مَنۡ قَتَلَ نَفۡسًۢا بِغَیۡرِ نَفۡسٍ اَوۡ فَسَادٍ فِی الۡاَرۡضِ فَکَاَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِیۡعًا ؕ وَمَنۡ اَحۡیَاہَا فَکَاَنَّمَاۤ اَحۡیَا النَّاسَ جَمِیۡعًا ؕ وَلَقَدۡ جَآءَتۡہُمۡ رُسُلُنَا بِالۡبَیِّنٰتِ ۫ ثُمَّ اِنَّ کَثِیۡرًا مِّنۡہُمۡ بَعۡدَ ذٰلِکَ فِی الۡاَرۡضِ لَمُسۡرِفُوۡنَ ٣٢

মিন আজলি যা-লিকা কাতাবনা-‘আলা-বানীইসরাঈলা আন্নাহূ মান কাতালা নাফছান বিগাইরি নাফছিন আও ফাছা-দিন ফিল আরদিফাকআন্নামা-কাতালান্না-ছা জামী‘আওঁ ওয়া মান আহইয়া-হা-ফাকাআন্নামা-আহইয়ান্না-ছা জামী‘আন ওয়া লাকাদ জাআতহুম রুছুলুনা-বিলবাইয়িনা-তি ছুম্মা ইন্না কাছীরাম মিনহুম বা‘দা যা-লিকা ফিল আরদিলামুছরিফূন।

এ কারণেই আমি বনী ইসরাঈলের প্রতি বিধান দিয়েছিলাম, কেউ যদি কাউকে হত্যা করে এবং তা অন্য কাউকে হত্যা করার কারণে কিংবা পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তারের কারণে না হয়, তবে সে যেন সমস্ত মানুষকে হত্যা করল। ২৮ আর যে ব্যক্তি কারও প্রাণ রক্ষা করে, সে যেন সমস্ত মানুষের প্রাণরক্ষা করল। বস্তুত আমার রাসূলগণ তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছে, কিন্তু তারপরও তাদের মধ্যে বহু লোক পৃথিবীতে সীমালংঘনই করে যেতে থাকে।

তাফসীরঃ

২৮. অর্থাৎ কোনও এক ব্যক্তিকে হত্যা করার অপরাধ দুনিয়ার সমস্ত মানুষকে হত্যা করলে যে অপরাধ হয় তার সমতুল্য। কেননা কোনও ব্যক্তি অন্যায় নরহত্যায় কেবল তখনই লিপ্ত হয়, যখন তার অন্তর হতে মানুষের মর্যাদা সম্পর্কিত অনুভূতি লোপ পেয়ে যায়। আর এ অবস্থায় নিজ স্বার্থের খাতিরে সে আরেকজনকেও হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করবে না। এভাবে গোটা মানবতা তার অপরাধপ্রবণ মানসিকতার টার্গেট হয়ে থাকবে। তাছাড়া এ জাতীয় মানসিকতা ব্যাপক আকার ধারণ করলে সমস্ত মানুষই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে। সুতরাং অন্যায় হত্যার শিকার যে-ই হোক না কেন, দুনিয়ার সকল মানুষকে মনে করতে হবে, এ অপরাধ আমাদের সকলেরই প্রতি করা হয়েছে।
৩৩

اِنَّمَا جَزٰٓؤُا الَّذِیۡنَ یُحَارِبُوۡنَ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ وَیَسۡعَوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ فَسَادًا اَنۡ یُّقَتَّلُوۡۤا اَوۡ یُصَلَّبُوۡۤا اَوۡ تُقَطَّعَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَاَرۡجُلُہُمۡ مِّنۡ خِلَافٍ اَوۡ یُنۡفَوۡا مِنَ الۡاَرۡضِ ؕ  ذٰلِکَ لَہُمۡ خِزۡیٌ فِی الدُّنۡیَا وَلَہُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ ۙ ٣٣

ইন্নামা-জাঝাউল্লাযীনা ইউহা রিবূনাল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূওয়া ইয়াছ‘আওনা ফিল আরদি ফাছা-দান আইঁ ইউকাত্তালূআও ইউসাল্লাবূআও তুকাত্তা‘আ আইদীহিম ওয়া আরজুলুহুম মিন খিলা-ফিন আও ইউনফাওঁমিনাল আরদি যা-লিকা লাহুম খিঝইউন ফিদদুনইয়াওয়া লাহুম ফিল আ-খিরাতি ‘আযা-বুন ‘আজীম।

যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি এটাই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত-পা কেটে দেওয়া ২৯ হবে অথবা তাদেরকে দেশ থেকে দূর করে দেওয়া ৩০ হবে। এটা তো তাদের পার্থিব লাঞ্ছনা। আর আখেরাতে তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি।

তাফসীরঃ

২৯. এটা কুরআনী শব্দাবলীর তরজমা। ইমাম আবু হানীফা (রহ.) ‘দেশ থেকে দূর করে দেওয়া’-এর ব্যাখ্যা করেছেন ‘কারাগারে আটকে রাখা’। হযরত উমর (রাযি.) থেকেও এরূপ ব্যাখ্যা বর্ণিত আছে। অন্যান্য ফকীহগণ এর অর্থ করেছেন, দেশ থেকে বিতাড়িত ও নির্বাসিত করা হবে।
৩৪

اِلَّا الَّذِیۡنَ تَابُوۡا مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ تَقۡدِرُوۡا عَلَیۡہِمۡ ۚ  فَاعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٪ ٣٤

ইল্লাল লাযীনা তা-বূমিন কাবলি আন তাকদিরূ ‘আলাইহিম ফা‘লামূ-আন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম।

তবে সেই সকল লোক ব্যতিক্রম, যারা তোমাদের আয়ত্তাধীন আসার আগেই তাওবা করে। ৩১ এরূপ ক্ষেত্রে জেনে রেখ, আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

৩১. অর্থাৎ গ্রেফতার হওয়ার আগেই যদি তারা তাওবা করে নেয় এবং সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে, তবে তাদের উপরিউক্ত শাস্তি মওকুফ হয়ে যাবে। অবশ্য মানুষের হক যেহেতু কেবল তাওবা দ্বারা মাফ হয় না, তাই অর্থ-সম্পদ লুট করে থাকলে তা ফেরত দিতে হবে। যদি কাউকে হত্যা করে থাকে, তবে নি হতের ওয়ারিশগণ চাইলে কিসাসস্বরূপ হত্যার দাবী জানাতে পারবে। তবে তারাও যদি ক্ষমা করে দেয় অথবা কিসাসের পরিবর্তে রক্তপণ নিতে সম্মত হয়ে যায়, তবে তাদের মৃত্যুদ- মওকুফ হতে পারে।
৩৫

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰہَ وَابۡتَغُوۡۤا اِلَیۡہِ الۡوَسِیۡلَۃَ وَجَاہِدُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِہٖ لَعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ ٣٥

ইয়াআইয়ূহাল্লাযীনা আ-মানুততাকুল্লা-হা ওয়াবতাগু ইলাইহিল ওয়াছীলাতা ওয়া জাহিদূফী ছাবীলিহী লা‘আল্লাকুম তুফলিহূন।

হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর পর্যন্ত পৌঁছার জন্য অছিলা সন্ধান কর ৩২ এবং তাঁর পথে জিহাদ কর। ৩৩ আশা করা যায় তোমরা সফলতা লাভ করবে।

তাফসীরঃ

৩২. ‘জিহাদ’-এর শাব্দিক অর্থ চেষ্টা-পরিশ্রম করা। কুরআনী পরিভাষায় এর অর্থ, আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে শত্রুর সঙ্গে লড়াই করা; কিন্তু অনেক সময় দীনের উপর চলার লক্ষ্যে যে-কোন প্রকারের চেষ্টাকেই ‘জিহাদ’ বলা হয়। এখানে উভয় অর্থই বোঝানো উদ্দেশ্য হতে পারে।
৩৬

اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا لَوۡ اَنَّ لَہُمۡ مَّا فِی الۡاَرۡضِ جَمِیۡعًا وَّمِثۡلَہٗ مَعَہٗ لِیَفۡتَدُوۡا بِہٖ مِنۡ عَذَابِ یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ مَا تُقُبِّلَ مِنۡہُمۡ ۚ وَلَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ٣٦

ইন্নাল্লাযীনা কাফারূ লাও আন্না লাহুম মা-ফিল আরদিজামী‘আওঁ ওয়া মিছলাহূমা‘আহূলিইয়াফতাদূবিহী মিন ‘আযা-বি ইয়াওমিল কিয়া-মাতি মা-তুকুব্বিলা মিনহুম ওয়া লাহুম ‘আযা-বুন আলীম।

নিশ্চয়ই যারা কুফর অবলম্বন করেছে, পৃথিবীতে যা-কিছু আছে সবই যদি তাদের থাকত এবং তার সমপরিমাণ আরও থাকত, যাতে কিয়ামতের দিন শাস্তি হতে রক্ষা পারওয়ার জন্য মুক্তিপণ হিসেবে তা পেশ করতে পারে, তবুও তাদের থেকে তা গৃহীত হত না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাময় শাস্তি।
৩৭

یُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ یَّخۡرُجُوۡا مِنَ النَّارِ وَمَا ہُمۡ بِخٰرِجِیۡنَ مِنۡہَا ۫ وَلَہُمۡ عَذَابٌ مُّقِیۡمٌ ٣٧

ইউরীদূ না আইঁ ইয়াখরুজুমিনান্না-রি ওয়ামা-হুম বিখা-রিজীনা মিনহা- ওয়া লাহুম ‘আযা-বুম মুকীম।

তারা আগুন থেকে বের হতে চাইবে, অথচ তারা তা থেকে বের হতে পারবে না। তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি।
৩৮

وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَۃُ فَاقۡطَعُوۡۤا اَیۡدِیَہُمَا جَزَآءًۢ بِمَا کَسَبَا نَکَالًا مِّنَ اللّٰہِ ؕ وَاللّٰہُ عَزِیۡزٌ حَکِیۡمٌ ٣٨

ওয়াছছা-রিকুওয়াছছা-রিকাতুফাকতাউআউদিয়াহুমা-জাঝাআম বিমা-কাছাবা-নাকালাম মিনাল্লা-হি ওয়াল্লা-হু ‘আঝীঝুন হাকীম।

যে পুরুষ ও যে নারী চুরি করে, তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও, যাতে তারা নিজেদের কৃতকর্মের প্রতিফল পায় (এবং) আল্লাহর পক্ষ হতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। ৩৪ আল্লাহ ক্ষমতাবান, প্রজ্ঞাময়।

তাফসীরঃ

৩৪. অর্থাৎ হাত কেটে দেওয়াটা চোরাই মালের বদলা নয়, বরং চুরি করার সাজা এবং এটা এমনই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, যা দেখে অন্যরাও সাবধান হয়ে যাবে, কেউ চুরি করার সাহস করবে না। ফলে মানুষের অর্থ-সম্পদ নিরাপদ থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর হাকীম (প্রজ্ঞাময়) গুণটির উল্লেখ দ্বারা ইঙ্গিত করছেন, আপাতদৃষ্টিতে এ দ- কঠিন মনে হলেও মানুষের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের জন্য এরচেয়ে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেই। তাই তিনি তাঁর অপার হিকমতের দৃষ্টিতেই এ বিধান দিয়েছেন। এতে জুলুমের কোন অবকাশ নেই। -অনুবাদক
৩৯

فَمَنۡ تَابَ مِنۡۢ بَعۡدِ ظُلۡمِہٖ وَاَصۡلَحَ فَاِنَّ اللّٰہَ یَتُوۡبُ عَلَیۡہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٣٩

ফামান তা-বা মিম বা‘দি জু লমিহী ওয়া আসলাহা ফাইন্নাল্লা-হা ইয়াতূবু‘আলাইহি ইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম।

অতঃপর যে ব্যক্তি নিজ সীমালংঘনমূলক কার্যক্রম থেকে তাওবা করবে ৩৫ এবং নিজেকে সংশোধন করে নেবে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

৩৫. পূর্বে ডাকাতির শাস্তির ক্ষেত্রে তাওবার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তাওবার ফল তো এই ছিল যে, গ্রেফতার হওয়ার আগে তাওবা করলে হদ্দ (শরীয়ত নির্ধারিত শাস্তি) থেকে মুক্তি লাভ হয়, কিন্তু এখানে সে রকম কোনও কথা বলা হয়নি। সুতরাং ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুসারে তাওবা দ্বারা চুরির শাস্তি মওকুফ হয় না, চাই গ্রেফতার হওয়ার আগেই তাওবা করুক না কেন! এখানে এতটুকুই বলা হয়েছে যে, এ তাওবার আছর প্রকাশ পাবে কেবল আখেরাতে। অর্থাৎ তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। এর জন্যও আয়াতে দুটি শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। ক. আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করতে হবে এবং খ. নিজেকে সংশোধন করতে হবে। যার যার মাল চুরি করেছে, তাদেরকে তা ফেরত দেওয়াও জরুরী। অবশ্য তারা মাফ করলে ভিন্ন কথা।
৪০

اَلَمۡ تَعۡلَمۡ اَنَّ اللّٰہَ لَہٗ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ یُعَذِّبُ مَنۡ یَّشَآءُ وَیَغۡفِرُ لِمَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَاللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ٤۰

আলাম তা‘লাম আন্নাল্লা-হা লাহূমুলকুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ইউ‘আযযিবু মাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইয়াগফিরু লিমাইঁ ইয়াশাউ ওয়াল্লা-হু ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

তুমি কি জান না, আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর রাজত্ব কেবল আল্লাহরই? তিনি যাকে চান শাস্তি দেন এবং যাকে চান ক্ষমা করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।
৪১

یٰۤاَیُّہَا الرَّسُوۡلُ لَا یَحۡزُنۡکَ الَّذِیۡنَ یُسَارِعُوۡنَ فِی الۡکُفۡرِ مِنَ الَّذِیۡنَ قَالُوۡۤا اٰمَنَّا بِاَفۡوَاہِہِمۡ وَلَمۡ تُؤۡمِنۡ قُلُوۡبُہُمۡ ۚۛ وَمِنَ الَّذِیۡنَ ہَادُوۡا ۚۛ سَمّٰعُوۡنَ لِلۡکَذِبِ سَمّٰعُوۡنَ لِقَوۡمٍ اٰخَرِیۡنَ ۙ لَمۡ یَاۡتُوۡکَ ؕ یُحَرِّفُوۡنَ الۡکَلِمَ مِنۡۢ بَعۡدِ مَوَاضِعِہٖ ۚ یَقُوۡلُوۡنَ اِنۡ اُوۡتِیۡتُمۡ ہٰذَا فَخُذُوۡہُ وَاِنۡ لَّمۡ تُؤۡتَوۡہُ فَاحۡذَرُوۡا ؕ وَمَنۡ یُّرِدِ اللّٰہُ فِتۡنَتَہٗ فَلَنۡ تَمۡلِکَ لَہٗ مِنَ اللّٰہِ شَیۡئًا ؕ اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ لَمۡ یُرِدِ اللّٰہُ اَنۡ یُّطَہِّرَ قُلُوۡبَہُمۡ ؕ لَہُمۡ فِی الدُّنۡیَا خِزۡیٌ ۚۖ وَّلَہُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ ٤١

ইয়াআইয়ুহাররাছূলুলা-ইয়াহঝুনকাল্লাযীনা ইউছা-রি‘ঊনা ফিল কুফরি মিনাল্লাযীনা কালূ আ-মান্না-বিআফওয়া-হিহিম ওয়া লাম তু’মিন কুলূবুহুম ওয়া মিনাল্লাযীনা হা-দু ছাম্মা-‘ঊনা লিলকাযিবি ছাম্মা-‘ঊনা লিকাওমিন আ-খারীনা লাম ইয়া’তূকা ইউহাররিফূনাল কালিমা মিম বা‘দি মাওয়া-দি‘ইহী ইয়াকূলূনা ইন ঊতীতুম হা-যাফাখুযূহু ওয়া ইল্লাম তু’তাওহু ফাহযারূ ওয়া মাইঁ ইউরিদিল্লা-হু ফিতনাতাহূফালান তামলিকা লাহূমিনাল্লা-হি শাইআন উলাইকাল্লাযীনা লাম ইউরিদিল্লা-হু আইঁ ইউতাহহিরা কুলূবাহুম লাহুম ফিদ দুনইয়া-খিঝইউওঁ ওয়া লাহুম ফিল আ-খিরাতি ‘আযা-বুন আজীম।

হে রাসূল! যারা কুফরীর দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে তারা যেন তোমাকে দুঃখ না দেয় ৩৬ অর্থাৎ সেই সব লোক, যারা মুখে তো বলে, ঈমান এনেছি, কিন্তু তাদের অন্তর ঈমান আনেনি এবং সেই সকল লোক, যারা (প্রকাশ্যে) ইয়াহুদী ধর্ম অবলম্বন করেছে। তারা অত্যধিক মিথ্যা শ্রবণকারী ৩৭ (এবং তোমার কথাবার্তা) এমন এক দল লোকের পক্ষে শোনে, যারা তোমার কাছে আসেনি, ৩৮ যারা (আল্লাহর কিতাবের) শব্দাবলীর স্থান স্থির হয়ে যাওয়ার পরও তাতে বিকৃতি সাধন করে। তারা বলে, তোমাদেরকে এই হুকুম দেওয়া হলে তা গ্রহণ করো, আর যদি এটা দেওয়া না হয়, তবে বেঁচে থেক। আল্লাহ যাকে ফিতনায় ফেলার ইচ্ছা করেন, তাকে আল্লাহ থেকে বাঁচানোর জন্য তোমার কোনও ক্ষমতা কক্ষনো কাজে আসবে না। এরা তারা, (নাফরমানীর কারণে) আল্লাহ যাদের অন্তর পবিত্র করার ইচ্ছা করেননি। ৩৯ তাদের জন্য দুনিয়ায় রয়েছে লাঞ্ছনা এবং তাদের জন্য আখিরাতে আছে মহা শাস্তি।

তাফসীরঃ

৩৬. এখান থেকে ৫০নং পর্যন্ত আয়াতগুলি বিশেষ কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছে। ঘটনাগুলো ইয়াহুদীদের কিছু মামলা সংক্রান্ত। তারা তাদের কিছু কলহ-বিবাদ সংক্রান্ত মামলা এই আশায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদালতে রুজু করেছিল যে, তিনি তাদের পছন্দমত রায় প্রদান করবেন। একটি ঘটনার বিবরণে প্রকাশ যে, খায়বারের দু’জন বিবাহিত নর-নারী, যারা ইয়াহুদী ছিল, ব্যভিচার করেছিল। তাওরাতে এর শাস্তি ছিল পাথর মেরে হত্যা করা। বর্তমানে প্রচলিত তাওরাতেও এ বিধানের উল্লেখ রয়েছে (দেখুন দ্বিতীয় বিবরণ, ২২, ২৩, ২৪)। কিন্তু ইয়াহুদীরা সে শাস্তির পরিবর্তে নিজেদের পক্ষ হতে চাবুক মারা ও মুখে কালি মাখানোর শাস্তি স্থির করে নিয়েছিল। সম্ভবত সে শাস্তিকেও তারা আরও হালকা করতে চাচ্ছিল। তারা লক্ষ্য করেছিল, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শরীয়তে প্রদত্ত বহু বিধান তাওরাতের বিধান অপেক্ষা সহজ। তাই তারা চিন্তা করেছিল, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি সে ব্যভিচার সম্পর্কে ফায়সালা দান করেন, তবে তা সম্ভবত হালকা হবে এবং তাতে করে অপরাধীদ্বয় মৃত্যুদ- থেকে রেহাই পাবে। সেমতে খায়বারের ইয়াহুদীগণ মদীনা মুনাওয়ারায় বসবাসকারী কিছু ইয়াহুদীকে, যাদের মধ্যে কতিপয় মুনাফিকও ছিল, সেই অপরাধীদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পাঠালো। তবে সাবধান করে দিল, তিনি রজম (পাথর নিক্ষেপে হত্যা) ছাড়া অন্য কোনও ফায়সালা দিলে সেটাই গ্রহণ করবে। যদি রজমের ফায়সালা দেন তবে কিছুতেই গ্রহণ করবে না। সেমতে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উপস্থিত হল। আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, রজমই তাদের একমাত্র শাস্তি। এটা শুনে তারা হতভম্ব হয়ে গেল। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তাওরাতে এ অপরাধের কী শাস্তি লেখা আছে? প্রথম তারা লুকানোর চেষ্টা করল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি যখন তাদের বড় আলেম ইবনে সূরিয়াকে জিজ্ঞেস করলেন এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম, যিনি ইতঃপূর্বে একজন বড় ইয়াহুদী আলেম ছিলেন এবং ইয়াহুদী ধর্ম ছেড়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাদের গোমর ফাঁক করে দিলেন, তখন তারা মানতে বাধ্য হল। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযি.) তাওরাতের যে আয়াতে রজমের বিধান বর্ণিত হয়েছে তাও পড়ে শুনিয়ে দিলেন। তিনি আরও বললেন, তাওরাতের বিধান তো এটাই ছিল, কিন্তু এটা প্রয়োগ করা হত কেবল আমাদের মধ্যে যারা গরীব ছিল তাদের উপর। কোনও ধনী বা গণ্যমান্য লোক এ অপরাধ করলে তাকে কেবল চাবুক মারা হত। কালক্রমে সকলের ক্ষেত্রেই রজমের শাস্তি পরিত্যাগ করা হয়। এ রকমের আরও একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা সামনে ৪৫নং টীকায় আসছে।
৪২

سَمّٰعُوۡنَ لِلۡکَذِبِ اَکّٰلُوۡنَ لِلسُّحۡتِ ؕ فَاِنۡ جَآءُوۡکَ فَاحۡکُمۡ بَیۡنَہُمۡ اَوۡ اَعۡرِضۡ عَنۡہُمۡ ۚ وَاِنۡ تُعۡرِضۡ عَنۡہُمۡ فَلَنۡ یَّضُرُّوۡکَ شَیۡئًا ؕ وَاِنۡ حَکَمۡتَ فَاحۡکُمۡ بَیۡنَہُمۡ بِالۡقِسۡطِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یُحِبُّ الۡمُقۡسِطِیۡنَ ٤٢

ছাম্মা-‘ঊনা লিলকাযিবি আক্কা-লূনা লিছছূহতি ফাইন জাঊকা ফাহকুম বাইনাহুম আও আ‘রিদ‘আনহুম ওয়া ইন তু‘রিদআনহুম ফালাইঁ ইয়াদুররূকা শাইআওঁ ওয়া ইন হাকামতা ফাহকুম বাইনাহুম বিল কিছতি ইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুল মুকছিতীন।

তারা অতি আগ্রহের সাথে মিথ্যা শোনে এবং প্রাণভরে হারাম খায়। ৪০ সুতরাং যদি তোমার কাছে আসে, তবে (চাইলে) তাদের মধ্যে ফায়সালা কর কিংবা (চাইলে) তাদেরকে উপেক্ষা কর। ৪১ তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে তারা তোমার কোনও ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি ফায়সালা কর, তবে তাদের মধ্যে ইনসাফের সাথে ফায়সালা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন।

তাফসীরঃ

৪০. যে সকল ইয়াহুদী মীমাংসার জন্য এসেছিল, তাদের সঙ্গে যদিও শান্তি চুক্তি সম্পাদিত ছিল, কিন্তু তারা ইসলামী রাষ্ট্রের নিয়মতান্ত্রিক নাগরিক ছিল না। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এখতিয়ার দেওয়া হয় যে, চাইলে তিনি তাদের মধ্যে মীমাংসা করতেও পারেন এবং নাও করতে পারেন। নয়ত যে সকল অমুসলিম ইসলামী রাষ্ট্রের নিয়মতান্ত্রিক নাগরিক, রাষ্ট্রের সাধারণ আইন-কানুনের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যেও শরীয়ত অনুযায়ী মীমাংসা দান জরুরী, যেমন সামনে আসছে। অবশ্য তাদের বিশেষ ধর্মীয় বিষয়াবলী তথা বিবাহ, তালাক, উত্তরাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে তাদের ধর্মীয় বিধান অনুসারে তাদের জজের দ্বারাই রায় দেওয়ানো চাই।
৪৩

وَکَیۡفَ یُحَکِّمُوۡنَکَ وَعِنۡدَہُمُ التَّوۡرٰىۃُ فِیۡہَا حُکۡمُ اللّٰہِ ثُمَّ یَتَوَلَّوۡنَ مِنۡۢ بَعۡدِ ذٰلِکَ ؕ  وَمَاۤ اُولٰٓئِکَ بِالۡمُؤۡمِنِیۡنَ ٪ ٤٣

ওয়া কাইফা ইউহাক্কিমূনাকা ওয়া ‘ইনদাহুমুততাওরা-তুফীহা-হুকমুল্লা-হি ছুম্মা ইয়াতাওয়াল্লাওনা মিম বা‘দি যা-লিকা ওয়ামা-উলাইকা বিলমু’মিনীন।

তারা কিভাবে তোমার থেকে ফায়সালা নিতে চায়, যখন তাদের কাছে তাওরাত রয়েছে, যার ভেতর আল্লাহর ফায়সালা লিপিবদ্ধ আছে? অতঃপর তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়। ৪২ প্রকৃতপক্ষে তারা মুমিন নয়।

তাফসীরঃ

৪২. এর এক অর্থ হতে পারে, তারা তাওরাতের বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আবার এ অর্থও হতে পারে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বিচারপ্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তিনি যে রায় প্রদান করেন, তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
৪৪

اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنَا التَّوۡرٰىۃَ فِیۡہَا ہُدًی وَّنُوۡرٌ ۚ یَحۡکُمُ بِہَا النَّبِیُّوۡنَ الَّذِیۡنَ اَسۡلَمُوۡا لِلَّذِیۡنَ ہَادُوۡا وَالرَّبّٰنِیُّوۡنَ وَالۡاَحۡبَارُ بِمَا اسۡتُحۡفِظُوۡا مِنۡ کِتٰبِ اللّٰہِ وَکَانُوۡا عَلَیۡہِ شُہَدَآءَ ۚ فَلَا تَخۡشَوُا النَّاسَ وَاخۡشَوۡنِ وَلَا تَشۡتَرُوۡا بِاٰیٰتِیۡ ثَمَنًا قَلِیۡلًا ؕ وَمَنۡ لَّمۡ یَحۡکُمۡ بِمَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡکٰفِرُوۡنَ ٤٤

ইন্নাআনঝালনাততাওরা-তা ফীহা-হুদাওঁ ওয়া নূরুইঁ ইয়াহকুমুবিহান্নাবিইয়ূনাল্লাযীনা আছলামূলিল্লাযীনা হা-দূওয়া রাব্বা-নিইয়ূনা ওয়াল আহবা-রু বিমাছ তুহফিজু মিন কিতাবিল্লা-হি ওয়া কা-নূআলাইহি শুহাদাআ ফালা-তাখশাউন্না-ছা ওয়াখশাওনি ওয়ালাতাশতারূ বিআ-য়াতী ছামানান কালীলান ওয়া মাল্লাম ইয়াহকুম বিমাআনঝালাল্লা-হু ফাউলাইকা হুমুল কা-ফিরূন।

নিশ্চয়ই আমি তাওরাত নাযিল করেছিলাম; তাতে ছিল হিদায়াত ও আলো। সমস্ত নবী, যারা ছিল (আল্লাহর) অনুগত, ইয়াহুদীদের বিষয়াবলীতে সেই অনুসারেই ফায়সালা দিত এবং সমস্ত আল্লাহওয়ালা ও আলেমগণও (তদানুসারেই ফায়সালা করত)। কেননা তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের রক্ষক বানানো হয়েছিল এবং তারা ছিল তার সাক্ষী। সুতরাং (হে ইয়াহুদীগণ!) তোমরা মানুষকে ভয় করো না। আমাকেই ভয় করো এবং তুচ্ছ মূল্য গ্রহণের খাতিরে আমার আয়াতসমূহকে সওদা বানিয়ো না। যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুসারে ফায়সালা করে না, তারাই কাফির।
৪৫

وَکَتَبۡنَا عَلَیۡہِمۡ فِیۡہَاۤ اَنَّ النَّفۡسَ بِالنَّفۡسِ ۙ وَالۡعَیۡنَ بِالۡعَیۡنِ وَالۡاَنۡفَ بِالۡاَنۡفِ وَالۡاُذُنَ بِالۡاُذُنِ وَالسِّنَّ بِالسِّنِّ ۙ وَالۡجُرُوۡحَ قِصَاصٌ ؕ فَمَنۡ تَصَدَّقَ بِہٖ فَہُوَ کَفَّارَۃٌ لَّہٗ ؕ وَمَنۡ لَّمۡ یَحۡکُمۡ بِمَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الظّٰلِمُوۡنَ ٤٥

ওয়া কাতাবনা-‘আলাইহিম ফীহাআন্নান্নাফছা বিন্নাফছি ওয়াল‘আইনা বিলা‘আইনি ওয়াল আনফা বিলআনফি ওয়ালউযুনা বিলউযুনি ওয়াছছিন্না বিছছিন্নি ওয়াল জুরূহা কিসা-সুন ফামান তাসাদ্দাকা বিহী ফাহুওয়া কাফফা-রাতুল্লা-হূ ওয়া মাল্লাম ইয়াহকুম বিমাআনঝালাল্লা-হু ফাউলাইকা হুমুজ্জা-লিমূন।

এবং আমি তাতে (তাওরাতে) তাদের জন্য বিধান লিখে দিয়েছিলাম যে, প্রাণের বদলে প্রাণ, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান ও দাঁতের বদলে দাঁত। আর জখমেও (অনুরূপ) বদলা নেওয়া হবে। অবশ্য যে ব্যক্তি তা (অর্থাৎ বদল) ক্ষমা করে দেবে, তার জন্য তা (গুনাহের) কাফফারা হয়ে যাবে। যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুসারে বিচার করে না, তারা জালিম। ৪৩

তাফসীরঃ

৪৩. আলোচ্য আয়াতসমূহ যে সকল ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছিল, তার মধ্যে দ্বিতীয় ঘটনা এই যে, মদীনা মুনাওয়ারায় ইয়াহুদীদের দু’টি গোত্র বাস করত বনু নাযীর ও বনু কুরায়জা। বনু কুরায়জা অপেক্ষা বনু নাযীর বেশী ধনী ছিল। উভয় গোত্র ইয়াহুদী হওয়া সত্ত্বেও বনু নাযীর বনু কুরায়জার আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছিল। তারা এই অন্যায় আইন তৈরি করেছিল যে, বনু নাযীরের কেউ যদি বনু কুরায়জার কাউকে হত্যা করে, তবে ‘প্রাণের বদলে প্রাণ’ এই নিয়ম অনুযায়ী হত্যাকারী থেকে কিসাস গ্রহণ করা যাবে না। বরং রক্তপণস্বরূপ সে সত্তর ওয়াসাক খেজুর দেবে। (ওয়াসাক এক রকমের পরিমাপ। এক ওয়াসাকে প্রায় পাঁচ মণ দশ সের হয়।) পক্ষান্তরে বনু কুরায়জার কেউ বনু নাযীরের কাউকে হত্যা করলে, কিসাসস্বরূপ হত্যাকারীকে হত্যা তো করা হবেই, সেই সঙ্গে তার থেকে রক্তপণও নেওয়া হবে এবং তাও দ্বিগুণ। মদীনা মুনাওয়ারায় যখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভাগমন হয়, তখন এ জাতীয় একটি ঘটনা ঘটে। বনু কুরায়জার এক ব্যক্তি বনু নাযীরের এক ব্যক্তিকে হত্যা করে বসল। পূর্ব নিয়ম অনুসারে যখন বনু নাযীর কিসাস ও রক্তপণ উভয়ের দাবী করল, তখন বনু কুরায়জার লোক সে অন্যায় নিয়মের প্রতিবাদ করল এবং তারা প্রস্তাব দিল, এ বিষয়ে ফায়সালার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদালতে মামলা রুজু করা হোক। কেননা এতটুকু কথা তারাও জানত যে, তাঁর দীন ন্যায়নীতির দীন। বনু কুরায়জার পীড়াপীড়ির কারণে শেষ পর্যন্ত বনু নাযীর তাতে রাজি হল। তবে এ কাজে তারা কিছুসংখ্যক মুনাফিককে নিযুক্ত করল। তাদেরকে বলে দিল, তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মতামত জানবে। যদি তাঁর রায় বনু নাযীরের অনুকূল হয়, তবে তাঁকে দিয়ে বিচার করাবে। অন্যথায় নয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, তাওরাতে তো স্পষ্টভাবে বিধান দেওয়া হয়েছে যে, প্রাণের বদলে প্রাণ নেওয়া হবে। এ হিসেবে বনু নাযীরের দাবী সম্পূর্ণ জুলুম ও তাওরাত বিরোধী।
৪৬

وَقَفَّیۡنَا عَلٰۤی اٰثَارِہِمۡ بِعِیۡسَی ابۡنِ مَرۡیَمَ مُصَدِّقًا لِّمَا بَیۡنَ یَدَیۡہِ مِنَ التَّوۡرٰىۃِ ۪  وَاٰتَیۡنٰہُ الۡاِنۡجِیۡلَ فِیۡہِ ہُدًی وَّنُوۡرٌ ۙ  وَّمُصَدِّقًا لِّمَا بَیۡنَ یَدَیۡہِ مِنَ التَّوۡرٰىۃِ وَہُدًی وَّمَوۡعِظَۃً لِّلۡمُتَّقِیۡنَ ؕ ٤٦

ওয়া কাফফাইনা ‘আলাআ-ছা-রিহিম বি‘ঈছাবনি মারইয়ামা মুসাদ্দিকাল লিমা-বাইনা ইয়াদাইহি মিনাততাওরা-তি ওয়া আ-তাইনা-হুল ইনজীলা ফিহি হুদাওঁ ওয়া নূরুওঁ ওয়া মুসাদ্দিকাললিমা-বাইনা ইয়াদাইহি মিনাততাওরা-তি ওয়া হুদাওঁ ওয়া মাও‘ইজাতাল লিল মুত্তাকীন।

আমি তাদের (নবীগণের) পর মারয়ামের পুত্র ঈসাকে তার পূর্ববর্তী কিতাব অর্থাৎ তাওরাতের সমর্থকরূপে পাঠিয়েছিলাম এবং আমি তাকে ইনজিল দিয়েছিলাম, যাতে ছিল হিদায়াত ও আলো এবং (তা দিয়েছিলাম) তার পূর্ববর্তী কিতাব তাওরাতের সমর্থক এবং মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত ও উপদেশরূপে।
৪৭

وَلۡیَحۡکُمۡ اَہۡلُ الۡاِنۡجِیۡلِ بِمَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ فِیۡہِ ؕ وَمَنۡ لَّمۡ یَحۡکُمۡ بِمَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡفٰسِقُوۡنَ ٤٧

ওয়াল ইয়াহকুম আহলুল ইনজীলি বিমাআনঝালাল্লা-হু ফীহি ওয়া মাল্লাম ইয়াহকুম বিমাআনঝালাল্লা-হু ফাউলাইকা হুমুলফা-ছিকূন।

ইনজীল অনুসারীগণ যেন আল্লাহ তাতে যা নাযিল করেছেন, সে অনুসারে বিচার করে। যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুসারে বিচার করে না, তারাই ফাসিক।
৪৮

وَاَنۡزَلۡنَاۤ اِلَیۡکَ الۡکِتٰبَ بِالۡحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَیۡنَ یَدَیۡہِ مِنَ الۡکِتٰبِ وَمُہَیۡمِنًا عَلَیۡہِ فَاحۡکُمۡ بَیۡنَہُمۡ بِمَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ وَلَا تَتَّبِعۡ اَہۡوَآءَہُمۡ عَمَّا جَآءَکَ مِنَ الۡحَقِّ ؕ  لِکُلٍّ جَعَلۡنَا مِنۡکُمۡ شِرۡعَۃً وَّمِنۡہَاجًا ؕ  وَلَوۡ شَآءَ اللّٰہُ لَجَعَلَکُمۡ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً وَّلٰکِنۡ لِّیَبۡلُوَکُمۡ فِیۡ مَاۤ اٰتٰىکُمۡ فَاسۡتَبِقُوا الۡخَیۡرٰتِ ؕ  اِلَی اللّٰہِ مَرۡجِعُکُمۡ جَمِیۡعًا فَیُنَبِّئُکُمۡ بِمَا کُنۡتُمۡ فِیۡہِ تَخۡتَلِفُوۡنَ ۙ ٤٨

ওয়া আনঝালনাইলাইকাল কিতা-বা বিলহাক্কি মুসাদ্দিকাল লিমা-বাইনা ইয়াদাইহি মিনাল কিতা-বি ওয়া মুহাইমিনান ‘আলাইহি ফাহকুম বাইনাহুম বিমাআনঝালাল্লা-হু ওয়ালা-তাত্তাবি‘ আহওয়াআহুম ‘আম্মা-জাআকা মিনাল হাক্কি লিকুল্লিন জা‘আলনা মিনকুম শির‘আতাওঁ ওয়া মিনহা-জাওঁ ওয়া লাও শাআল্লা-হু লাজা‘আলাকুম উম্মাতাওঁ ওয়াহিদাতাওঁ ওয়ালা-কিল লিইয়াবলুওয়াকুম ফী মা আ-তা-কুম ফাছতাবিকুল খাইরা-তি ইলাল্লা-হি মারজি‘উকুম জামী‘আন ফাইউনাব্বিউকুম বিমা-কুনতুম ফীহি তাখতালিফূন।

এবং (হে রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আমি তোমার প্রতিও সত্যসম্বলিত কিতাব নাযিল করেছি, তার পূর্বের কিতাবসমূহের সমর্থক ও সংরক্ষকরূপে। সুতরাং তাদের মধ্যে সেই বিধান অনুসারেই বিচার কর, যা আল্লাহ নাযিল করেছেন। আর তোমার নিকট যে সত্য এসেছে তা ছেড়ে তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না। তোমাদের মধ্যে প্রত্যেক (উম্মত)-এর জন্য আমি এক (পৃথক) শরীয়ত ও পথ নির্ধারণ করেছি। ৪৪ আল্লাহ চাইলে তোমাদের সকলকে একই উম্মত বানিয়ে দিতেন। কিন্তু (পৃথক শরীয়ত এজন্য দিয়েছেন) যাতে তিনি তোমাদেরকে যা-কিছু দিয়েছেন, তা দ্বারা তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন। সুতরাং তোমরা সৎকর্মে প্রতিযোগিতা কর। তোমাদের সকলকে আল্লাহরই দিকে ফিরে যেতে হবে। অতঃপর যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করছিলে সে সম্পর্কে তিনি তোমাদেরকে অবহিত করবেন।

তাফসীরঃ

৪৪. ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানগণ যে সকল কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করত, তার একটি ছিল এই যে, ইসলামে ইবাদতের পদ্ধতি এবং অন্যান্য কিছু বিধান হযরত মূসা (আ.) ও ঈসা (আ.)-এর শরীয়ত থেকে আলাদা ছিল। তাদের পক্ষে এই সকল নতুন বিধান অনুসারে কাজ করা কঠিন মনে হয়েছিল। এ আয়াত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আল্লাহ তা‘আলা নিজ হিকমত অনুসারে নবীগণকে পৃথক-পৃথক শরীয়ত দিয়েছেন। তার এক কারণ তো এই যে, প্রত্যেক কালের চাহিদা ও দাবি আলাদা হয়ে থাকে। কিন্তু একটি কারণ এ-ও যে, এর দ্বারা পরিষ্কার করে দেওয়া উদ্দেশ্য ইবাদতের বিশেষ কোনও পদ্ধতি ও কানুন সত্তাগতভাবে পবিত্রতা ও মর্যাদার অধিকারী নয়। তার যা-কিছু মর্যাদা, তা কেবল আল্লাহ তা‘আলার হুকুমেরই কারণে। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা যে কালে যে বিধান দান করেন, সে কালে সেই বিধানই মর্যাদাপূর্ণ। অথচ বাস্তবে ঘটছে এই যে, যারা কোনও এক নিয়মে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তারা সেই নিয়মকে সত্তাগতভাবেই পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ মনে করে বসে। অতঃপর যখন কোন নতুন নবী নতুন শরীয়ত নিয়ে আসেন, তখন তাদেরকে পরীক্ষা করা হয়, তারা পুরানো নিয়মকে সত্তাগতভাবে পবিত্র মনে করে নতুন নিয়মকে অস্বীকার করে, না মৌলিকভাবে আল্লাহ তা‘আলার হুকুমকেই পবিত্রতা ও মর্যাদার ধারক মনে করে নতুন বিধানকে মনে-প্রাণে স্বীকার করে নেয়। সামনে যে বলা হয়েছে, ‘কিন্তু (তোমাদেরকে পৃথক শরীয়ত এই জন্য দিয়েছি) যাতে তিনি তোমাদেরকে যা-কিছু দিয়েছেন, তা দ্বারা তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন’ তার মতলব এটাই।
৪৯

وَاَنِ احۡکُمۡ بَیۡنَہُمۡ بِمَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ وَلَا تَتَّبِعۡ اَہۡوَآءَہُمۡ وَاحۡذَرۡہُمۡ اَنۡ یَّفۡتِنُوۡکَ عَنۡۢ بَعۡضِ مَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ اِلَیۡکَ ؕ فَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَاعۡلَمۡ اَنَّمَا یُرِیۡدُ اللّٰہُ اَنۡ یُّصِیۡبَہُمۡ بِبَعۡضِ ذُنُوۡبِہِمۡ ؕ وَاِنَّ کَثِیۡرًا مِّنَ النَّاسِ لَفٰسِقُوۡنَ ٤٩

ওয়া আনিহকুম বাইনাহুম বিমাআনঝালাল্লা-হু ওয়ালা তাত্তাবি‘ আহওয়াআহুম ওয়াহযারহুম আইয়াঁফতিনূকা ‘আম বা‘দিমাআনঝালাল্লাহু ইলাইকা ফাইন তাওয়াল্লাও ফা‘লাম আন্নামা-ইউরীদুল্লা-হু আইঁ ইউসীবাহুম ব্বিা‘দিযুনূবিহিম ওয়া ইন্না কাছীরাম মিনান্না-ছি লাফা-ছিকূ ন।

এবং (আমি আদেশ করছি যে,) তুমি মানুষের মধ্যে সেই বিধান অনুসারেই বিচার করবে, ৪৫ যা আল্লাহ নাযিল করেছেন এবং তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করবে না। তাদের ব্যাপারে সাবধান থেক, পাছে তারা তোমাকে এমন কোন বিধান থেকে বিচ্যুত করে, যা আল্লাহ তোমার প্রতি নাযিল করেছেন। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রেখ, আল্লাহ তাদের কোনও কোনও পাপের কারণে তাদেরকে বিপদাপন্ন করার ইচ্ছা করেছেন। ৪৬ তাদের মধ্যে অনেকেই ফাসিক।

তাফসীরঃ

৪৫. ‘কোনও কোনও পাপ’ বলা হয়েছে এ কারণে যে, সাধারণভাবে সব গুনাহের শাস্তি তো আখেরাতেই দেওয়া হবে, কিন্তু আল্লাহ ও রাসূল হতে মুখ ফেরানোর শাস্তি দুনিয়াতেও দেওয়া হয়। সুতরাং অঙ্গীকার ভঙ্গ ও ষড়যন্ত্র করার কারণে তাদেরকে দুনিয়াতেই নির্বাসন ও মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি ভোগ করতে হয়েছে।
৫০

اَفَحُکۡمَ الۡجَاہِلِیَّۃِ یَبۡغُوۡنَ ؕ  وَمَنۡ اَحۡسَنُ مِنَ اللّٰہِ حُکۡمًا لِّقَوۡمٍ یُّوۡقِنُوۡنَ ٪ ٥۰

আফা হুকমাল জা-হিলিইয়াতি ইয়াবগূনা ওয়া মান আহছানূমিনাল্লা-হি হুকমাল লিকাওমিইঁ ইঊকিনূন।

তবে কি তারা জাহেলী যুগের ফায়সালা চায়? যারা নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে, তাদের জন্য আল্লাহ অপেক্ষা উত্তম ফায়সালা দানকারী কে হতে পারে?
৫১

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّخِذُوا الۡیَہُوۡدَ وَالنَّصٰرٰۤی اَوۡلِیَآءَ ۘؔ بَعۡضُہُمۡ اَوۡلِیَآءُ بَعۡضٍ ؕ وَمَنۡ یَّتَوَلَّہُمۡ مِّنۡکُمۡ فَاِنَّہٗ مِنۡہُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ ٥١

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তাত্তাখিযুল ইয়াহূদা ওয়ান্নাসা-রাআওলিয়াআ ।বা‘দুহুম আওলিয়াউ বা‘দিওঁ ওয়া মাইঁ ইয়াতাওয়াল্লাহুম মিনকুম ফাইন্নাহূমিনহুম ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াহদিল কাওমাজ্জা-লিমীন।

হে মুমিনগণ! ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। ৪৭ তারা নিজেরাই একে অন্যের বন্ধু! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাদেরকে বন্ধু বানাবে, সে তাদেরই মধ্যে গণ্য হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিমদেরকে হিদায়াত দান করেন না।

তাফসীরঃ

৪৭. এ আয়াতের ব্যাখ্যা এবং অমুসলিমদের সাথে সম্পর্কের সীমারেখা সম্পর্কে সূরা আলে ইমরানের আয়াত নং ৩ : ২৮-এর টীকা দেখুন।
৫২

فَتَرَی الَّذِیۡنَ فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ مَّرَضٌ یُّسَارِعُوۡنَ فِیۡہِمۡ یَقُوۡلُوۡنَ نَخۡشٰۤی اَنۡ تُصِیۡبَنَا دَآئِرَۃٌ ؕ  فَعَسَی اللّٰہُ اَنۡ یَّاۡتِیَ بِالۡفَتۡحِ اَوۡ اَمۡرٍ مِّنۡ عِنۡدِہٖ فَیُصۡبِحُوۡا عَلٰی مَاۤ اَسَرُّوۡا فِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ نٰدِمِیۡنَ ؕ ٥٢

ফাতারাল্লাযীনা ফী কুলূবিহিম মারাদুইঁ ইউছা-রি‘ঊনা ফীহিম ইয়াকূলূনা নাখশাআন তুসীবানা-দাইরাতুন ফা‘আছাল্লা-হু আইঁ ইয়া‘তিয়া বিল ফাতহিআও আমরিম মিন ‘ইনদিহী ফাইউসবিহু‘আলা-মাআছাররূফীআনফুছিহিম না-দিমীন।

সুতরাং যাদের অন্তরে (মুনাফেকীর) ব্যাধি আছে, তুমি তাদেরকে দেখতে পাচ্ছ যে, তারা অতি দ্রুত তাদের মধ্যে ঢুকে পড়ছে। তারা বলছে, আমাদের আশঙ্কা হয়, আমরা কোনও মুসিবতের পাকে পড়ে যাব। ৪৮ (কিন্তু) এটা দূরে নয় যে, আল্লাহ (মুসলিমদেরকে) বিজয় দান করবেন অথবা নিজের পক্ষ হতে অন্য কিছু ঘটাবেন, ৪৯ ফলে তখন তারা নিজেদের অন্তরে যা গোপন রেখেছিল, তজ্জন্য অনুতপ্ত হবে।

তাফসীরঃ

৪৮. ‘অন্য কিছু ঘটানো’ দ্বারা সম্ভবত ওহী দ্বারা তাদের গোমর ফাঁক করে দেওয়া এবং পরিণামে সর্বসমক্ষে তাদের লাঞ্ছিত হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
৫৩

وَیَقُوۡلُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَہٰۤؤُلَآءِ الَّذِیۡنَ اَقۡسَمُوۡا بِاللّٰہِ جَہۡدَ اَیۡمَانِہِمۡ ۙ اِنَّہُمۡ لَمَعَکُمۡ ؕ حَبِطَتۡ اَعۡمَالُہُمۡ فَاَصۡبَحُوۡا خٰسِرِیۡنَ ٥٣

ওয়া ইয়াকূলুল্লাযীনা আ-মানূআহাউলাইল্লাযীনা আকছামূবিল্লা-হি জাহদা আইমানিহিম ইন্নাহুম লামা‘আকুম হাবিতাত আ‘মা-লুহুম ফাআসবাহূখা-ছিরীন।

এবং (তখন) মুমিনগণ (পরস্পরে) বলবে, এরাই কি তারা, যারা জোরদারভাবে আল্লাহর নামে কসম করে বলত যে, তারা অবশ্যই তোমাদের সাথে। তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে গেছে এবং তারা অকৃতকার্য হয়েছে।
৫৪

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَنۡ یَّرۡتَدَّ مِنۡکُمۡ عَنۡ دِیۡنِہٖ فَسَوۡفَ یَاۡتِی اللّٰہُ بِقَوۡمٍ یُّحِبُّہُمۡ وَیُحِبُّوۡنَہٗۤ ۙ اَذِلَّۃٍ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ اَعِزَّۃٍ عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ ۫ یُجَاہِدُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ وَلَا یَخَافُوۡنَ لَوۡمَۃَ لَآئِمٍ ؕ ذٰلِکَ فَضۡلُ اللّٰہِ یُؤۡتِیۡہِ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَاللّٰہُ وَاسِعٌ عَلِیۡمٌ ٥٤

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ মাইঁ ইয়ারতাদ্দা মিনকুম ‘আন দীনিহী ফাছাওফা ইয়া‘তিল্লা-হু বিকাওমিইঁ ইউহিব্বুহুম ওয়া ইউহিববূনাহূ আযিল্লাতিন ‘আলাল মু’মিনীনা আ‘ইঝঝাতিন ‘আলাল কা-ফিরীনা ইউজা-হিদূ না ফী ছাবীলিল্লা-হি ওয়ালা ইয়াখা-ফূনা লাওমাতা লাইমিন যা-লিকা ফাদলুল্লা-হি ইউ’তীহি মাইঁ ইয়াশাউ ওয়াল্লা-হু ওয়া-ছি‘উন ‘আলীম।

হে মুমিনগণ! তোমাদের মধ্য হতে কেউ যদি নিজ দীন থেকে ফিরে যায়, তবে আল্লাহ এমন লোক সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি ভালোবাসবেন এবং তারাও তাকে ভালোবাসবে। তারা মুমিনদের প্রতি কোমল এবং কাফিরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোনও নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করবে না। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, যা তিনি যাকে ইচ্ছা করেন দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।
৫৫

اِنَّمَا وَلِیُّکُمُ اللّٰہُ وَرَسُوۡلُہٗ وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوا الَّذِیۡنَ یُقِیۡمُوۡنَ الصَّلٰوۃَ وَیُؤۡتُوۡنَ الزَّکٰوۃَ وَہُمۡ رٰکِعُوۡنَ ٥٥

ইন্নামা-ওয়ালিইইয়ুকুমুল্লা-হুওয়ারাছূলুহূওয়াল্লাযীনা আ-মানূল্লাযীনা ইউকীমূনাসসালাতা ওয়া ইউ’তূনাঝঝাকা-তা ওয়া হুম রা-কি‘ঊন।

(হে মুসলিমগণ!) তোমাদের বন্ধু তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ, যারা (আল্লাহর সামনে) বিনীত হয়ে সালাত আদায় করে ও যাকাত দেয়।
৫৬

وَمَنۡ یَّتَوَلَّ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا فَاِنَّ حِزۡبَ اللّٰہِ ہُمُ الۡغٰلِبُوۡنَ ٪ ٥٦

ওয়া মাইঁ ইয়াতাওয়াল্লাল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূওয়াল্লাযীনা আ-মানূফাইন্না হিঝবাল্লা-হি হুমুল গা-লিবূন।

কেউ আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণকে বন্ধু বানালে (সে আল্লাহর দলভুক্ত হয়ে যাবে) আল্লাহর দলই তো বিজয়ী হবে।
৫৭

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّخِذُوا الَّذِیۡنَ اتَّخَذُوۡا دِیۡنَکُمۡ ہُزُوًا وَّلَعِبًا مِّنَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ وَالۡکُفَّارَ اَوۡلِیَآءَ ۚ وَاتَّقُوا اللّٰہَ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ٥٧

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তাত্তাখিযুল্লাযীনাত্তাখাযূদীনাকুম হুঝুওয়াওঁ ওয়া লা‘ইবাম মিনাল্লাযীনা ঊতুল কিতা-বা মিন কাবলিকুম ওয়াল কুফফা-রা আওলিয়াআ ওয়াত্তাকুল্লা-হা ইন কুনতুম মু‘মিনীন।

হে মুমিনগণ! তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে যারা তোমাদের দীনকে কৌতুক ও ক্রীড়ার বস্তু বানায়, তাদেরকে ও কাফেরদেরকে বন্ধু বানিয়ো না। তোমরা প্রকৃত মুমিন হলে আল্লাহকেই ভয় করো। ৫০

তাফসীরঃ

৫০. অর্থাৎ ইয়াহুদী-নাসারা-পৌত্তলিক প্রভৃতি অমুসলিমকে তোমরা যতই আপন মনে কর না কেন, প্রকৃতপক্ষে তারা কখনও তোমাদের আপন নয়। তারা তোমাদেরকে শত্রুই ভাবে এবং সেই মত আচরণই তারা তোমাদের সাথে করে। তারা তোমাদের ধর্ম নিয়ে ঠাট্টা করে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে ব্যাঙ্গ করে। যারা সরাসরি তা করে না তারাও পরোক্ষভাবে তাতে মদদ যোগায় ও তাতে খুশী হয়। কাজেই যে ব্যক্তি নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করে, যার অন্তরে ঈমানী চেতনা ও আল্লাহর ভয় আছে সে তাদের সাথে দোস্তী করতে পারে না কিছুতেই। তবে হ্যাঁ, আগে থেকেই তাদের সাথে শত্রুতামূলক আচরণও কাম্য নয় এবং আচার-আচরণে মানবিকতাবোধ এবং ন্যায়-ইনসাফকে বিসর্জন দেওয়াও ইসলামের শিক্ষা নয়। সর্বাবস্থায় সতর্কতা অবলম্বন ও ইনসাফপূর্ণ ব্যবহারই বাঞ্ছনীয়। (-অনুবাদক)
৫৮

وَاِذَا نَادَیۡتُمۡ اِلَی الصَّلٰوۃِ اتَّخَذُوۡہَا ہُزُوًا وَّلَعِبًا ؕ ذٰلِکَ بِاَنَّہُمۡ قَوۡمٌ لَّا یَعۡقِلُوۡنَ ٥٨

ওয়া ইযা-না-দাইতুম ইলাস সালা-তিত তাখাযূহা-হুঝুওয়াওঁ ওয়া লা‘ইবান যা-লিকা বিআন্নাহুম কাওমুল লা-ইয়া‘কিলূন।

এবং তোমরা যখন (মানুষকে) নামাযের জন্য ডাক, তখন তারা তাকে (সে ডাককে) কৌতুক ও ক্রীড়ার লক্ষ্যবস্তু বানায়। এসব (আচরণ) এ কারণে যে, তারা এমন এক সম্প্রদায়, যাদের বোধশক্তি নেই।
৫৯

قُلۡ یٰۤاَہۡلَ الۡکِتٰبِ ہَلۡ تَنۡقِمُوۡنَ مِنَّاۤ اِلَّاۤ اَنۡ اٰمَنَّا بِاللّٰہِ وَمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡنَا وَمَاۤ اُنۡزِلَ مِنۡ قَبۡلُ ۙ وَاَنَّ اَکۡثَرَکُمۡ فٰسِقُوۡنَ ٥٩

কুল ইয়াআহলাল কিতা-বি হাল তানকিমূনা মিন্নাইল্লা আন আ-মান্না-বিল্লা-হি ওয়ামাউনঝিলা ইলাইনা-ওয়ামা উনঝিলা মিন কাবলু ওয়া আন্না আকছারাকুম ফাছিকূ ন।

বল, হে কিতাবীগণ! তোমরা কি আমাদের কেবল এ বিষয়টাকেই খারাপ মনে করছ যে, আমরা আল্লাহর প্রতি এবং আমাদের উপর যা নাযিল করা হয়েছে এবং যা পূর্বে নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি ঈমান এনেছি, যখন তোমাদের অধিকাংশই অবাধ্য?
৬০

قُلۡ ہَلۡ اُنَبِّئُکُمۡ بِشَرٍّ مِّنۡ ذٰلِکَ مَثُوۡبَۃً عِنۡدَ اللّٰہِ ؕ مَنۡ لَّعَنَہُ اللّٰہُ وَغَضِبَ عَلَیۡہِ وَجَعَلَ مِنۡہُمُ الۡقِرَدَۃَ وَالۡخَنَازِیۡرَ وَعَبَدَ الطَّاغُوۡتَ ؕ اُولٰٓئِکَ شَرٌّ مَّکَانًا وَّاَضَلُّ عَنۡ سَوَآءِ السَّبِیۡلِ ٦۰

কুল হাল উনাব্বিউকুম বিশাররিম মিন যা-লিকা মাছূবাতান ইনদাল্লা-হি মাল্লা‘আনাহুল্লাহু ওয়া গাদিবা ‘আলাইহি ওয়াজা‘আলা মিনহুমুল কিরাদাতা ওয়াল খানা-ঝীরা ওয়া ‘আবাদাততা-গূতা উলাইকা শাররুম মাকা-নাওঁ ওয়া আদাল্লু‘আন ছাওয়াইছছাবীল।

(হে নবী! তাদেরকে) বল, আমি কি তোমাদেরকে জানিয়ে দেব, (তোমরা যে বিষয়কে খারাপ মনে করছ) আল্লাহর কাছে তার চেয়ে মন্দ পরিণাম কার হবে? (তারা) ওই সকল লোক, যাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন, যাদের প্রতি ক্রোধ বর্ষণ করেছেন, যাদের মধ্যে কতককে বানর ও শূকর বানিয়ে দিয়েছেন এবং যারা শয়তানের পূজা করেছে। তারাই নিকৃষ্ট ঠিকানার অধিকারী এবং তারা সরল পথ থেকে অত্যধিক বিচ্যুত।
৬১

وَاِذَا جَآءُوۡکُمۡ قَالُوۡۤا اٰمَنَّا وَقَدۡ دَّخَلُوۡا بِالۡکُفۡرِ وَہُمۡ قَدۡ خَرَجُوۡا بِہٖ ؕ وَاللّٰہُ اَعۡلَمُ بِمَا کَانُوۡا یَکۡتُمُوۡنَ ٦١

ওয়া ইযা- জাঊকুম কা-লূআ-মান্না-ওয়া কাদ দাখালূবিলকুফরি ওয়া হুম কাদ খারাজু বিহী ওয়াল্লা-হু আ‘লামূবিমা-কা-নূইয়াকতুমূন।

তারা যখন তোমাদের কাছে আসে তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি, অথচ তারা কুফর নিয়েই এসেছিল এবং কুফর নিয়েই বের হয়ে গিয়েছে। তারা যা-কিছু গোপন করছে আল্লাহ তা ভালো করেই জানেন।
৬২

وَتَرٰی کَثِیۡرًا مِّنۡہُمۡ یُسَارِعُوۡنَ فِی الۡاِثۡمِ وَالۡعُدۡوَانِ وَاَکۡلِہِمُ السُّحۡتَ ؕ لَبِئۡسَ مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ٦٢

ওয়া তারা-কাছীরাম মিনহুম ইউছা-রি‘উনা ফিল ইছমি ওয়াল ‘উদওয়া-নি ওয়া আকলিহিমুছছুহতা লাবি’ছা মা-কা-নূইয়া‘মালূন।

তাদের অনেককেই তুমি দেখবে, তারা পাপ, জুলুম ও অবৈধ ভক্ষণের দিকে দ্রুত অগ্রসর হয়। নিশ্চয়ই তারা যা-কিছু করছে তা অতি মন্দ।
৬৩

لَوۡلَا یَنۡہٰہُمُ الرَّبّٰنِیُّوۡنَ وَالۡاَحۡبَارُ عَنۡ قَوۡلِہِمُ الۡاِثۡمَ وَاَکۡلِہِمُ السُّحۡتَ ؕ لَبِئۡسَ مَا کَانُوۡا یَصۡنَعُوۡنَ ٦٣

লাওলা-ইয়ানহা-হুমুর রাব্বা-নিইয়ূনা ওয়াল আহবা-রু ‘আন কাওলিহিমুল ইছমা ওয়া আকলিহিমুছছুহতা লাবি’ছা মা-কা-নূইয়াসনা‘ঊন।

তাদের মাশায়েখ ও উলামা তাদেরকে গুনাহের কথা বলতে ও হারাম খেতে নিষেধ করছে না কেন? বস্তুত তাদের এ কর্মপন্থা অতি মন্দ!
৬৪

وَقَالَتِ الۡیَہُوۡدُ یَدُ اللّٰہِ مَغۡلُوۡلَۃٌ ؕ غُلَّتۡ اَیۡدِیۡہِمۡ وَلُعِنُوۡا بِمَا قَالُوۡا ۘ بَلۡ یَدٰہُ مَبۡسُوۡطَتٰنِ ۙ یُنۡفِقُ کَیۡفَ یَشَآءُ ؕ وَلَیَزِیۡدَنَّ کَثِیۡرًا مِّنۡہُمۡ مَّاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ مِنۡ رَّبِّکَ طُغۡیَانًا وَّکُفۡرًا ؕ وَاَلۡقَیۡنَا بَیۡنَہُمُ الۡعَدَاوَۃَ وَالۡبَغۡضَآءَ اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ ؕ کُلَّمَاۤ اَوۡقَدُوۡا نَارًا لِّلۡحَرۡبِ اَطۡفَاَہَا اللّٰہُ ۙ وَیَسۡعَوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ فَسَادًا ؕ وَاللّٰہُ لَا یُحِبُّ الۡمُفۡسِدِیۡنَ ٦٤

ওয়াকা-লাতিল ইয়াহূদুইয়াদুল্লা-হি মাগলূলাতুন গুল্লাত আইদীহিম ওয়া লু‘ইনূবিমা-কালূ । বাল ইয়াদা-হু মাবছূতাতা-নি ইউনফিকুকাইফা ইয়াশাউ ওয়ালাইয়াঝীদান্না কাছীরাম মিনহুম মাউনঝিলা ইলাইকা মির রাব্বিকা তুগইয়া-নাওঁ ওয়াকুফরাওঁ ওয়া আলকাইনা-বাইনাহুমুল ‘আদা-ওয়াতা ওয়াল বাগদাআ ইলাইয়াওমিল কিয়া-মাতি কুল্লামাআওকাদূনা-রাল লিলহারবি আতফাআহাল্লা-হু ওয়া ইয়াছ‘আওনা ফিল আরদিফাছা-দাওঁ ওয়াল্লা-হু লা-ইউহিব্বুল মুফছিদীন।

ইয়াহুদীগণ বলে, আল্লাহর হাত বাঁধা। ৫১ হাত বাঁধা তো তাদেরই। তারা যে কথা বলেছে, সে কারণে তাদের উপর লানত বর্ষিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর উভয় হাত প্রসারিত। তিনি যেভাবে চান ব্যয় করেন এবং (হে নবী!) তোমার প্রতি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে যে ওহী নাযিল করা হয়েছে, তা তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও কুফরীতে বৃদ্ধি সাধন করবেই এবং আমি তাদের মধ্যে কিয়ামত পর্যন্ত (স্থায়ী) শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে দিয়েছি। তারা যখনই যুদ্ধের আগুন জ্বালায়, আল্লাহ তা নিভিয়ে দেন। ৫২ তারা পৃথিবীতে অশান্তি বিস্তার করে বেড়ায়, অথচ আল্লাহ অশান্তি বিস্তারকারীদেরকে পছন্দ করেন না।

তাফসীরঃ

৫১. ইয়াহুদীরা ইসলাম ও মুসলিমদের শত্রুদের সাথে মিলিত হয়ে যে সকল ষড়যন্ত্র করত, সে দিকে ইশারা করা হয়েছে। তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে কখনও যুদ্ধ করবে না এ মর্মে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল, তাই প্রকাশ্যে যুদ্ধ না করলেও পর্দার অন্তরালে চেষ্টা চালাত যাতে মুসলিমদের উপর শত্রুগণ আক্রমণ চালায় এবং তাতে মুসলিমগণ পরাস্ত হয়। তারা এভাবে একের পর এক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু প্রতিবারই আল্লাহ তা‘আলা সে ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিতে থাকেন।
৬৫

وَلَوۡ اَنَّ اَہۡلَ الۡکِتٰبِ اٰمَنُوۡا وَاتَّقَوۡا لَکَفَّرۡنَا عَنۡہُمۡ سَیِّاٰتِہِمۡ وَلَاَدۡخَلۡنٰہُمۡ جَنّٰتِ النَّعِیۡمِ ٦٥

ওয়ালাও আন্না আহলাল কিতা-বি আ-মানূওয়াত্তাকাও লাকাফফারনা-‘আনহুম ছাইয়িআতিহিম ওয়ালা আদখালনা-হুম জান্না-তিন না‘ঈম।

কিতাবীগণ যদি ঈমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে অবশ্যই আমি তাদের পাপকর্মসমূহ ক্ষমা করে দিতাম এবং অবশ্যই তাদেরকে সুখণ্ডশান্তির উদ্যানসমূহে প্রবেশ করাতাম।
৬৬

وَلَوۡ اَنَّہُمۡ اَقَامُوا التَّوۡرٰىۃَ وَالۡاِنۡجِیۡلَ وَمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡہِمۡ مِّنۡ رَّبِّہِمۡ لَاَکَلُوۡا مِنۡ فَوۡقِہِمۡ وَمِنۡ تَحۡتِ اَرۡجُلِہِمۡ ؕ  مِنۡہُمۡ اُمَّۃٌ مُّقۡتَصِدَۃٌ ؕ  وَکَثِیۡرٌ مِّنۡہُمۡ سَآءَ مَا یَعۡمَلُوۡنَ ٪ ٦٦

ওয়া লাও আন্নাহুম আকা-মুত তাওরা-তা ওয়াল ইনজিলা ওয়ামাউনঝিলা ইলাইহিম মির রাব্বিহিম লাআকালূমিন ফাওকিহিম ওয়া মিন তাহতি আরজুলিহিম মিনহুম উম্মাতুম মুকতাসিদাতুওঁ ওয়াকাছিরুম মিনহুম ছাআ মা-ইয়া‘মালূন।

যদি তারা তাওরাত, ইনজীল এবং (এবার) তাদের প্রতি তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে যে কিতাব নাযিল করা হয়েছে, তার যথাযথ অনুসরণ করত, তবে তারা তাদের উপর ও তাদের নিচ, সকল দিক থেকে (আল্লাহ প্রদত্ত রিযিক) খেতে পেত। (যদিও) তাদের মধ্যে একটি দল সরল পথের অনুসারী। কিন্তু তাদের অধিকাংশই এমন, যাদের কার্যকলাপ মন্দ।
৬৭

یٰۤاَیُّہَا الرَّسُوۡلُ بَلِّغۡ مَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ مِنۡ رَّبِّکَ ؕ وَاِنۡ لَّمۡ تَفۡعَلۡ فَمَا بَلَّغۡتَ رِسَالَتَہٗ ؕ وَاللّٰہُ یَعۡصِمُکَ مِنَ النَّاسِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الۡکٰفِرِیۡنَ ٦٧

ইয়াআইয়ুহার রাছূলুবালিলগ মা উনযিলা ইলাইকা মির রাব্বিকা ওয়া ইল্লাম তাফ‘আল ফামা-বাল্লাগতা রিছা-লাতাহূ ওয়াল্লা-হু ইয়া‘সিমুকা মিনান্না-ছি ইন্নাল্লা-হা লাইয়াহদিল কাওমাল কা-ফিরীন।

হে রাসূল! তোমার প্রতি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা কিছু নাযিল করা হয়েছে, তা প্রচার কর। যদি (তা) না কর, তবে (তার অর্থ হবে) তুমি আল্লাহর বার্তা পৌঁছালে না। আল্লাহ তোমাকে মানুষের (ষড়যন্ত্র) থেকে রক্ষা করবেন। আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না। ৫৩

তাফসীরঃ

৫৩. অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আয়াত। এতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর সর্বাপেক্ষা মর্যাদাপূর্ণ ‘অভিধা’ ‘রাসূল’ শব্দ দ্বারা সম্বোধন করে তাঁর পদমর্যাদাগত দায়িত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে এবং সে দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে যত্নবান থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপর তাঁকে আশ্বস্ত করা হযেছে যে, এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যত বড় বাধাই আসুক বিরোধী শক্তি যত হুমকি-ধমকিই দিক কিংবা ষড়যন্ত্রের পথ অবলম্বন করুক, আল্লাহ তা‘আলার সাহায্য সর্বাবস্থায় তাঁর সঙ্গে থাকবে। কাজেই তিনি যেন নির্ভীক চিত্তে ও আপোসহীনভাবে আপন দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর থাকেন। সবশেষে দেওয়া হয়েছে হতাশামুক্তির দাওয়াই। জানানো হয়েছে, রাসূলের কাজ কেবল দাওয়াত দেওয়া, হিদায়াত দান আল্লাহর কাজ। কাজেই কেউ যদি দাওয়াতে সাড়া না দেয় এবং আপাতদৃষ্টিতে দাওয়াতের সুফল চোখে না পড়ে, তাতে হতাশার কোন কারণ নেই। পূর্ণোদ্যমে প্রচারকার্য চালিয়ে যেতে হবে। দায়িত্ব পালন করাটাই আসল সফলতা। সুতরাং (ক) মূল্যবোধ ও দায়িত্ব সচেতনতা, (খ) দায়িত্ব পালনে নির্ভীক ও আপোসহীন থাকা এবং (গ) কোন রকম হতাশাকে প্রশ্রয় না দেওয়া এ তিনটিই ছিল তাঁর দাওয়াতী কাজের প্রাণবস্তু। ওফাত পর্যন্ত তিনি এভাবেই দায়িত্ব পালন করে গেছেন, বিদায় হজ্জে লক্ষাধিক সাহাবী সমস্বরে যার সাক্ষ্য দিয়েছেন। -অনুবাদক
৬৮

قُلۡ یٰۤاَہۡلَ الۡکِتٰبِ لَسۡتُمۡ عَلٰی شَیۡءٍ حَتّٰی تُقِیۡمُوا التَّوۡرٰىۃَ وَالۡاِنۡجِیۡلَ وَمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکُمۡ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ ؕ وَلَیَزِیۡدَنَّ کَثِیۡرًا مِّنۡہُمۡ مَّاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ مِنۡ رَّبِّکَ طُغۡیَانًا وَّکُفۡرًا ۚ فَلَا تَاۡسَ عَلَی الۡقَوۡمِ الۡکٰفِرِیۡنَ ٦٨

কুল ইয়াআহলাল কিতা-বি লাছতুম ‘আলা-শাইয়িন হাত্তা-তুকীমুত তাওরা-তা ওয়াল ইনজীলা ওয়ামাউনঝিলা ইলাইকুম মির রাব্বিকুম ওয়ালাইয়াঝীদান্না কাছীরাম মিনহুম মাউনঝিলা ইলাইকা মির রাব্বিকা তুগইয়া-নাওঁ ওয়া কুফরান ফালা-তা’ছা ‘আলাল কাওমিল কা-ফিরীন।

বলে দাও, হে কিতাবীগণ! তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত তাওরাত ও ইনজীল এবং (এখন) যে কিতাব তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে, তার যথাযথ অনুসরণ না করবে, ততক্ষণ তোমাদের কোনও ভিত্তি নেই, (যার উপর তোমরা দাঁড়াতে পার) এবং (হে রাসূল!) তোমার প্রতি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে যে ওহী নাযিল করা হয়েছে, তা তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও অবিশ্বাসই বৃদ্ধি করবে। সুতরাং তুমি কাফির সম্প্রদায়ের জন্য দুঃখ করো না।
৬৯

اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَالَّذِیۡنَ ہَادُوۡا وَالصّٰبِـُٔوۡنَ وَالنَّصٰرٰی مَنۡ اٰمَنَ بِاللّٰہِ وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ وَلَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ ٦٩

ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূওয়াল্লাযীনা হা-দূওয়াসসা-বিঊনা ওয়ান্নাসা-রা-মান আ-মানা বিল্লা-হি ওয়াল ইয়াওমিল আ-খিরি ওয়া ‘আমিলা সা-লিহান ফালা-খাওফুন‘আলাইহিম ওয়ালা-হুম ইয়াহঝানূন।

সত্য কথা হচ্ছে মুসলিম, ইয়াহুদী, সাবী ও খ্রিস্টানদের মধ্যে যারাই আল্লাহ ও শেষ দিবসে ঈমান আনবে এবং সৎকর্ম করবে, তাদের কোনও ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না। ৫৪

তাফসীরঃ

৫৪. সূরা বাকারার ২ : ৬২ নং আয়াতে এই একই বিষয় গত হয়েছে। সেখানকার টীকা দ্রষ্টব্য।
৭০

لَقَدۡ اَخَذۡنَا مِیۡثَاقَ بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ وَاَرۡسَلۡنَاۤ اِلَیۡہِمۡ رُسُلًا ؕ  کُلَّمَا جَآءَہُمۡ رَسُوۡلٌۢ بِمَا لَا تَہۡوٰۤی اَنۡفُسُہُمۡ ۙ  فَرِیۡقًا کَذَّبُوۡا وَفَرِیۡقًا یَّقۡتُلُوۡنَ ٭ ٧۰

লাকাদ আখাযনা-মীছা-কা বানীইছরাঈলা ওয়া আরছালনাইলাইহিম রুছুলান কুল্লামা-জাআহুম রাছূলুম বিমা-লা-তাহওয়াআনফুছুহুম ফারীকান কাযযাবূওয়া ফারীকাইঁ ইয়াকতুলূন।

আমি বনী ইসরাঈলের নিকট হতে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম এবং তাদের কাছে রাসূল পাঠিয়েছিলাম। যখনই কোনও রাসূল তাদের কাছে এমন কোনও বিষয় নিয়ে আসত, যা তাদের মনঃপুত নয়, তখনই কতক (রাসূল)কে তারা মিথ্যাবাদী বলেছে এবং কতককে হত্যা করতে থেকেছে।
৭১

وَحَسِبُوۡۤا اَلَّا تَکُوۡنَ فِتۡنَۃٌ فَعَمُوۡا وَصَمُّوۡا ثُمَّ تَابَ اللّٰہُ عَلَیۡہِمۡ ثُمَّ عَمُوۡا وَصَمُّوۡا کَثِیۡرٌ مِّنۡہُمۡ ؕ وَاللّٰہُ بَصِیۡرٌۢ بِمَا یَعۡمَلُوۡنَ ٧١

ওয়া হাছিবূআল্লা-তাকূনা ফিতনাতুন ফা‘আমূওয়া সাম্মূছু ম্মা তা-বাল্লা-হু ‘আলাইহিম ছু ম্মা ‘আমূওয়া সাম্মূকাছীরুম মিনহুম ওয়াল্লা-হু বাসীরুম বিমা-ইয়া‘মালূন।

তারা মনে করেছিল, কোনও শাস্তি হবে না। ফলে তারা অন্ধ ও বধির হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করেছিলেন। পুনরায় তাদের অনেকে অন্ধ ও বধির হয়ে গেছে। আল্লাহ তাদের যাবতীয় কাজ ভালোভাবেই দেখছেন।
৭২

لَقَدۡ کَفَرَ الَّذِیۡنَ قَالُوۡۤا اِنَّ اللّٰہَ ہُوَ الۡمَسِیۡحُ ابۡنُ مَرۡیَمَ ؕ وَقَالَ الۡمَسِیۡحُ یٰبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ اعۡبُدُوا اللّٰہَ رَبِّیۡ وَرَبَّکُمۡ ؕ اِنَّہٗ مَنۡ یُّشۡرِکۡ بِاللّٰہِ فَقَدۡ حَرَّمَ اللّٰہُ عَلَیۡہِ الۡجَنَّۃَ وَمَاۡوٰىہُ النَّارُ ؕ وَمَا لِلظّٰلِمِیۡنَ مِنۡ اَنۡصَارٍ ٧٢

লাকাদ কাফারাল্লাযীনা কা-লূইন্নাল্লা-হা হুওয়াল মাছীহুবনুমারইয়ামা ওয়া কা-লাল মাছীহু ইয়া-বানীইছরাঈলা‘বুদুল্লা-হা রাববী ওয়া রাব্বাকুম ইন্নাহূমাইঁ ইউশরিক বিল্লাহি ফাকাদ হাররামাল্লা-হু ‘আলাইহিল জান্নাতা ওয়া মা’ওয়াহুন্না-রু ওয়ামা-লিজ্জালিমীনা মিন আনসা-র।

যারা বলে, মারয়ামের পুত্র মাসীহই আল্লাহ; নিশ্চয়ই তারা কাফির হয়ে গিয়েছে। অথচ মাসীহ বলেছিল, হে বনী ইসরাঈল! আল্লাহর ইবাদত কর, যিনি আমারও প্রতিপালক ৫৫ এবং তোমাদেরও প্রতিপালক। নিশ্চয়ই, যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে (কাউকে) শরীক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। তার ঠিকানা জাহান্নাম। আর জালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই।

তাফসীরঃ

৫৫. অর্থাৎ আমিও তোমাদেরই মত আল্লাহর বান্দা। সুতরাং তোমরা আমার ও তোমাদের সৃষ্টিকর্তা ও মালিকের ইবাদত কর। এভাবে হযরত ঈসা (আ.) নিজেকে আল্লাহর বান্দা ও আল্লাহকে নিজের স্রষ্টা ও প্রতিপালক বলে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁরই ইবাদতের দিকে মানুষকে দাওয়াত দিয়েছেন। প্রচলিত ইনজীলে হাজারও বিকৃতি সত্ত্বেও এ কথাই পাওয়া যায়। তিনি নিজেকে কখনও আল্লাহ বলে প্রচার করেননি এবং নিজের ইবাদত করার জন্যও মানুষকে দাওয়াত দেননি। এর দ্বারা তাঁর ঈশ্বরত্ব সম্পর্কে বর্তমান খৃস্টানদের ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়। (-অনুবাদক)
৭৩

لَقَدۡ کَفَرَ الَّذِیۡنَ قَالُوۡۤا اِنَّ اللّٰہَ ثَالِثُ ثَلٰثَۃٍ ۘ وَمَا مِنۡ اِلٰہٍ اِلَّاۤ اِلٰہٌ وَّاحِدٌ ؕ وَاِنۡ لَّمۡ یَنۡتَہُوۡا عَمَّا یَقُوۡلُوۡنَ لَیَمَسَّنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ٧٣

লাকাদ কাফারাল্লাযীনা কা-লূইন্নাল্লা-হা ছা-লিছু ছালা-ছাহ । ওয়ামা-মিন ইলাহিন ইল্লাইলা-হুওঁ ওয়া-হিদুওঁ ওয়া ইল্লাম ইয়ানতাহূ‘আম্মা-ইয়াকূ লূনা লাইয়ামাছছান্নাল্লাযীনা কাফারূমিনহুম ‘আযা-বুন আলীম।

এবং তারাও নিশ্চয় কাফির হয়ে গিয়েছে, যারা বলে, ‘আল্লাহ তিনজনের মধ্যে তৃতীয় জন।’ ৫৬ অথচ এক ইলাহ ব্যতীত কোনও ইলাহ নেই। তারা যদি তাদের এ কথা থেকে বিরত না হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা কুফরীতে লিপ্ত হয়েছে, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি স্পর্শ করবে।

তাফসীরঃ

৫৬. এর দ্বারা খ্রিস্টানদের ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। ‘ত্রিত্ববাদ’-এর অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ তিন সত্তা (Persons) অর্থাৎ পিতা, পুত্র (মাসীহ) ও পবিত্র আত্মা (রূহুল কুদস)-এর সমষ্টির নাম। তাদের এক দলের মতে তৃতীয়জন হলেন মারয়াম আলাইহাস সালাম। তাদের বক্তব্য হল, এই তিনজন মিলে একজন। তিনের সমষ্টি ‘এক’ কিভাবে? এই হেঁয়ালীর কোনও যুক্তিসঙ্গত উত্তর কারও কাছে নেই। তাদের ধর্মতত্ত্ববিদগণ (Theologians) বিষয়টাকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। কেউ বলেছেন, হযরত মাসীহ আলাইহিস সালাম কেবল ঈশ্বর ছিলেন, মানুষ ছিলেন না। ৭২নং আয়াতে তাদের এ বিশ্বাসকে কুফুর সাব্যস্ত করা হয়েছে। কেউ বলেছেন, ঈশ্বর যেই তিন সত্তার সমষ্টি তার একজন হলেন পিতা অর্থাৎ আল্লাহ, আর দ্বিতীয়জন পুত্র, যিনি মূলত আল্লাহ তা‘আলারই একটি গুণ, যা মানব অস্তিত্বে মিশে গিয়ে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের আকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করেছে। সুতরাং তিনি যেমন মানুষ ছিলেন, তেমনি মৌলিকত্বের দিক থেকে ঈশ্বরও ছিলেন। ৭৩ নং আয়াতে এ বিশ্বাসকে খণ্ডন করা হয়েছে। খ্রিস্টানদের এসব ‘আকীদা-বিশ্বাসের ব্যাখ্যা এবং তার রদ ও জবাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য এই লেখক (আল্লামা তাকী উসমানী)এর রচিত ‘ঈসাইয়্যাত কিয়া হ্যায়’ শীর্ষক গ্রন্থখানি পড়া যেতে পারে। (যা বাংলায়, খৃস্টধর্মের স্বরূপ, নামে অনূদিত ও প্রকাশিত হয়েছে)।
৭৪

اَفَلَا یَتُوۡبُوۡنَ اِلَی اللّٰہِ وَیَسۡتَغۡفِرُوۡنَہٗ ؕ وَاللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٧٤

আফালা-ইয়াতূবূনা ইলাল্লা-হি ওয়া ইয়াছতাগফিরূনাহু ওয়াল্লা-হু গাফূরুর রাহীম।

তারপরও কি তারা ক্ষমার জন্য আল্লাহর দিকে রুজু করবে না এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে না? অথচ আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
৭৫

مَا الۡمَسِیۡحُ ابۡنُ مَرۡیَمَ اِلَّا رَسُوۡلٌ ۚ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلِہِ الرُّسُلُ ؕ وَاُمُّہٗ صِدِّیۡقَۃٌ ؕ کَانَا یَاۡکُلٰنِ الطَّعَامَ ؕ اُنۡظُرۡ کَیۡفَ نُبَیِّنُ لَہُمُ الۡاٰیٰتِ ثُمَّ انۡظُرۡ اَنّٰی یُؤۡفَکُوۡنَ ٧٥

মাল মাছীহুবনুমারইয়ামা ইল্লা-রাছূলুন কাদ খালাত মিন কাবলিহিররুছুলু ওয়া উম্মুহূসিদ্দীকাতুন কা-না-ইয়া’কুলা-নিততা‘আ-মা উনজু র কাইফা নুবাইয়িনু লাহুমুল আ-য়া-তি ছুম্মানজু র আন্না-ইউ‘ফাকূন।

মাসীহ ইবনে মারয়াম তো একজন রাসূলই ছিলেন, (তার বেশি কিছু নয়)। তার পূর্বেও বহু রাসূল গত হয়েছে। তার মা ছিল সিদ্দীকা। তারা উভয়ে খাবার খেত। ৫৭ দেখ, আমি তাদের সামনে নিদর্শনাবলী কেমন সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করছি। তারপর এটাও দেখ যে, তাদেরকে উল্টোমুখে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে! ৫৮

তাফসীরঃ

৫৭. কুরআন মাজীদ এস্থলে কর্মবাচ্য ক্রিয়াপদ ব্যবহার করেছে। তাই তরজমা এরূপ করা হয়নি যে, ‘তাঁরা উল্টোমুখে কোথায় যাচ্ছে?’ বরং অর্থ করা হয়েছে, ‘তাদেরকে উল্টোমুখে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে?’ এর দ্বারা ইশারা করা উদ্দেশ্য যে, তাদের ইন্দ্রিয় চাহিদা ও ব্যক্তিস্বার্থই তাদেরকে উল্টো দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
৭৬

قُلۡ اَتَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ مَا لَا یَمۡلِکُ لَکُمۡ ضَرًّا وَّلَا نَفۡعًا ؕ وَاللّٰہُ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡعَلِیۡمُ ٧٦

কুল আতা‘বুদূ না মিন দূ নিল্লা-হি মা-লা-ইয়ামলিকুলাকুম দাররাওঁ ওয়ালা-নাফ‘আওঁ ওয়াল্লা-হু হুওয়াছ ছামী‘উল ‘আলীম।

(হে নবী! তাদেরকে) বলে দাও, তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া এমন সৃষ্টির ইবাদত করছ, যা তোমাদের কোনও উপকার করার ক্ষমতা রাখে না এবং অপকার করারও না, ৫৯ যখন আল্লাহই সবকিছুর শ্রোতা ও সকল বিষয়ের জ্ঞাতা?

তাফসীরঃ

৫৯. হযরত মাসীহ আলাইহিস সালাম যদিও আল্লাহ তা‘আলার মনোনীত নবী ছিলেন, কিন্তু কারও উপকার বা অপকার করার নিজস্ব শক্তি তাঁরও ছিল না। সে শক্তি আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারও নেই। তিনি কারও কোনও উপকার করে থাকলে তা কেবল আল্লাহ তা‘আলার হুকুম ও তাঁর ইচ্ছায় করতে পারতেন।
৭৭

قُلۡ یٰۤاَہۡلَ الۡکِتٰبِ لَا تَغۡلُوۡا فِیۡ دِیۡنِکُمۡ غَیۡرَ الۡحَقِّ وَلَا تَتَّبِعُوۡۤا اَہۡوَآءَ قَوۡمٍ قَدۡ ضَلُّوۡا مِنۡ قَبۡلُ وَاَضَلُّوۡا کَثِیۡرًا وَّضَلُّوۡا عَنۡ سَوَآءِ السَّبِیۡلِ ٪ ٧٧

কুলইয়াআহলাল কিতা-বি লা-তাগলূ ফী দীনিকুমগায়রালহাক্কি ওয়ালাতাত্তাবি‘ঊআহওয়াআ কাওমিন কাদ দাললূমিন কাবলুওয়া আদাললূ কাছীরাওঁ ওয়া দাললূ‘আন ছাওয়াইছছাবীল।

(এবং তাদেরকে এটাও) বলে দাও যে, হে কিতাবীগণ! নিজেদের দীন নিয়ে অন্যায় বাড়াবাড়ি করো না ৬০ এবং এমন সব লোকের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না, পূর্বে যারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অপর বহু লোককেও পথভ্রষ্ট করেছে এবং তারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।

তাফসীরঃ

৬০. ‘গুলূ’ (বাড়াবাড়ি) করার অর্থ কোনও কাজে তার যথাযথ মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়া। খ্রিস্টানদের বাড়াবাড়ি তো এই যে, তারা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে মাত্রাতিরিক্ত সম্মান করে। এমনকি তারা তাকে ঈশ্বর সাব্যস্ত করেছে। আর ইয়াহুদীদের বাড়াবাড়ি হল, আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রতি যে মহব্বত প্রকাশ করেছিলেন, তার ভিত্তিতে তারা মনে করে বসেছে, দুনিয়ায় অন্য সব মানুষ কিছুই নয়; কেবল তারাই আল্লাহর প্রিয়পাত্র। আর সে হিসেবে তাদের যা-ইচ্ছা তাই করার অধিকার আছে। তাতে আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রতি নারাজ হবেন না। তাছাড়া তাদের একটি দল হযরত উজায়ের আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা‘আলার পুত্র সাব্যস্ত করেছিল।
৭৮

لُعِنَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡۢ بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ عَلٰی لِسَانِ دَاوٗدَ وَعِیۡسَی ابۡنِ مَرۡیَمَ ؕ ذٰلِکَ بِمَا عَصَوۡا وَّکَانُوۡا یَعۡتَدُوۡنَ ٧٨

লু‘ইনাল্লাযীনা কাফারূ মিম বানীইছরাঈূলা ‘আলা-লিছা-নি দা-ঊদা ওয়া ‘ঈছাবনি মারইয়ামা যা-লিকা বিমা-‘আসাওঁ ওয়া কা-নূইয়া‘তাদূ ন।

বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফুরী করেছিল, তাদের প্রতি দাঊদ ও ঈসা ইবনে মারয়ামের যবানীতে লানত বর্ষিত হয়েছিল। ৬১ তা এ কারণে যে, তারা অবাধ্যতা করেছিল এবং তারা সীমালংঘন করত।

তাফসীরঃ

৬১. অর্থাৎ যে লানতের উল্লেখ যবুর ও ইনজিল উভয় গ্রন্থে ছিল, যা যথাক্রমে হযরত দাঊদ আলাইহিস সালাম ও ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি নাযিল হয়েছিল।
৭৯

کَانُوۡا لَا یَتَنَاہَوۡنَ عَنۡ مُّنۡکَرٍ فَعَلُوۡہُ ؕ لَبِئۡسَ مَا کَانُوۡا یَفۡعَلُوۡنَ ٧٩

কা-নূলা-ইয়াতানাহাওনা ‘আম মুনকারিন ফা‘আলূহু লাবি’ছা মা-কা-নূইয়াফ‘আলূন।

তারা যেসব অসৎ কাজ করত, তাতে একে অন্যকে নিষেধ করত না। বস্তুত তাদের কর্মপন্থা ছিল অতি মন্দ।
৮০

تَرٰی کَثِیۡرًا مِّنۡہُمۡ یَتَوَلَّوۡنَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ؕ لَبِئۡسَ مَا قَدَّمَتۡ لَہُمۡ اَنۡفُسُہُمۡ اَنۡ سَخِطَ اللّٰہُ عَلَیۡہِمۡ وَفِی الۡعَذَابِ ہُمۡ خٰلِدُوۡنَ ٨۰

তারা-কাছীরাম মিনহুম ইয়াতাওয়াল্লাওনাল্লাযীনা কাফারূ লাবি’ছা মা-কাদ্দামাত লাহুম আনফুছুহুম আন ছাখিতাল্লা-হু ‘আলাইহিম ওয়া ফিল ‘আযা-বি হুম খা-লিদূ ন।

তুমি তাদের অনেককেই দেখছ, কাফিরদেরকে নিজেদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করে। ৬২ নিশ্চয়ই তারা নিজেদের জন্য যা সামনে পাঠিয়েছে, তা অতি মন্দ কেননা (সে কারণে) আল্লাহ তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তারা সর্বদা শাস্তির ভেতর থাকবে।

তাফসীরঃ

৬২. এর দ্বারা সেই সকল ইয়াহুদীর প্রতি ইশারা করা হয়েছে, যারা মদীনা মুনাওয়ারায় বসবাস করত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে চুক্তিবদ্ধও ছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা পর্দার অন্তরালে মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব বজায় রেখে চলত এবং তাদের সাথে মিলে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নানা রকম ষড়যন্ত্র করত। এমনকি তাদের সহানুভূতি অর্জনের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত বলে দিত যে, মুসলিমদের ধর্ম অপেক্ষা তাদের ধর্মই উত্তম।
৮১

وَلَوۡ کَانُوۡا یُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَالنَّبِیِّ وَمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡہِ مَا اتَّخَذُوۡہُمۡ اَوۡلِیَآءَ وَلٰکِنَّ کَثِیۡرًا مِّنۡہُمۡ فٰسِقُوۡنَ ٨١

ওয়া লাও কা-নূইউ’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়ান্নাবিইয়ি ওয়ামাউনঝিলা ইলাইহি মাত্তাখাযূহুম আওলিয়াআ ওয়ালা-কিন্না কাছীরাম মিনহুম ফা-ছিকূন।

তারা যদি আল্লাহ, নবী এবং তার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তাতে ঈমান রাখত, তবে তাদেরকে (মূর্তিপূজারীদেরকে) বন্ধু বানাত না। কিন্তু (প্রকৃত ব্যাপার হল) তাদের অধিকাংশই অবাধ্য।
৮২

لَتَجِدَنَّ اَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَۃً لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوا الۡیَہُوۡدَ وَالَّذِیۡنَ اَشۡرَکُوۡا ۚ وَلَتَجِدَنَّ اَقۡرَبَہُمۡ مَّوَدَّۃً لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوا الَّذِیۡنَ قَالُوۡۤا اِنَّا نَصٰرٰی ؕ ذٰلِکَ بِاَنَّ مِنۡہُمۡ قِسِّیۡسِیۡنَ وَرُہۡبَانًا وَّاَنَّہُمۡ لَا یَسۡتَکۡبِرُوۡنَ ٨٢

লাতাজিদান্না আশাদ্দান্না-ছি ‘আদা-ওয়াতাল লিলল্লাযীনা আ-মানুল ইয়াহূদাওয়াল্লাযীনা আশরাকূ ওয়ালাতাজিদান্না আকরাবাহুম মাওয়াদ্দাতাল লিলল্লাযীনা আ-মানুল্লাযীনা কালূইন্না-নাসা-রা- যা-লিকা বিআন্না মিনহুম কিছছীছীনা ওয়া রুহবা-নাওঁ ওয়া আন্নাহুম লা-ইয়াছতাকবিরূনা।

তুমি অবশ্যই মুসলিমদের প্রতি শত্রুতায় মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা কঠোর পাবে ইয়াহূদীদেরকে এবং সেই সমস্ত লোককে, যারা (প্রকাশ্যে) শিরক করে এবং তুমি মানুষের মধ্যে মুসলিমদের সাথে বন্ধুত্বে সর্বাপেক্ষা নিকটবর্তী পাবে তাদেরকে, যারা নিজেদেরকে নাসারা বলে। এর কারণ এই যে, তাদের মধ্যে অনেক ইলম-অনুরাগী এবং সংসার-বিরাগী দরবেশ রয়েছে। ৬৩ আরও এক কারণ হল যে, তারা অহংকার করে না।

তাফসীরঃ

৬৩. অর্থাৎ খ্রিস্টানদের মধ্যে বহু লোক দুনিয়ার মোহ থেকে মুক্ত। তাই তাদের অন্তরে সত্য গ্রহণের মানসিকতা বেশি। অন্ততপক্ষে মুসলিমদের প্রতি তাদের শত্রুতা অতটা উগ্র পর্যায়ের নয়। কারণ দুনিয়ার মোহ এমনই এক জিনিস, যা মানুষকে সত্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখে। এর বিপরীতে ইয়াহুদী ও মুশরিকদের ভেতর দুনিয়ার মোহ বড় বেশি। তাই তারা প্রকৃত সত্যসন্ধানীর কর্মপন্থা অবলম্বন করে না। কুরআন মাজীদ খ্রিস্টানদের অপেক্ষাকৃত কোমলমনা হওয়ার আরও একটি কারণ বলেছে এই যে, তারা অহংকার করে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষের অহংবোধও সত্য গ্রহণের পথে বাধা হয়ে থাকে। খ্রিস্টানগণকে যে বন্ধুত্বে মুসলিমদের নিকটবর্তী বলা হয়েছে, তারই একটা ফল ছিল এই যে, মক্কার মুশরিকদের সর্বাত্মক জুলুমে যখন মুসলিমদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে, তখন বহু মুসলিম হাবশায় চলে যায় এবং বাদশাহ নাজাশীর আশ্রয় গ্রহণ করে। নাজাশী তো বটেই, হাবশার জনগণও তখন তাদের সাথে অত্যন্ত সম্মানজনক ও সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ করেছিল। মক্কার মুশরিকগণ নাজাশীর কাছে একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে আবেদন জানিয়েছিল, তিনি যেন তাঁর দেশ থেকে মুসলিম শরণার্থীদেরকে বের করে দেন ও তাদেরকে মক্কা মুকাররমায় ফেরত পাঠান, যাতে মুশরিকগণ তাদের উপর আরও নির্যাতন চালাতে পারে। নাজাশী তখন মুসলিমদেরকে ডেকে তাদের বক্তব্য শুনেছিলেন। তাতে তাঁর কাছে ইসলামের সত্যতা পরিষ্কার হয়ে যায়। ফলে তিনি যে মুশরিকদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তাই নয়; বরং তারা যে উপহার-উপঢৌকন পেশ করেছিল, তাও ফেরত দিয়েছিলেন। প্রকাশ থাকে যে, এ স্থলে কেবল সেই সকল খ্রিস্টানদেরকেই মুসলিমদের বন্ধুমনস্ক বলা হয়েছে, যারা নিজ ধর্মের প্রকৃত অনুসারী এবং সেমতে দুনিয়ার মোহ থেকে দূরে থাকে আর অহংকার-অহমিকা থেকে অন্তরকে মুক্ত রাখে। বলাবাহুল্য, এর অর্থ এ নয় যে, সব যুগের খ্রিস্টানরাই এ রকম হবে। সুতরাং ইতিহাসে এ রকম বহু উদাহরণ রয়েছে, যাতে খ্রিস্টান জাতি মুসলিম উম্মাহর সাথে নিকৃষ্টতম আচরণ করেছে।
৮৩

وَاِذَا سَمِعُوۡا مَاۤ اُنۡزِلَ اِلَی الرَّسُوۡلِ تَرٰۤی اَعۡیُنَہُمۡ تَفِیۡضُ مِنَ الدَّمۡعِ مِمَّا عَرَفُوۡا مِنَ الۡحَقِّ ۚ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَاۤ اٰمَنَّا فَاکۡتُبۡنَا مَعَ الشّٰہِدِیۡنَ ٨٣

ওয়া ইযা-ছামি‘ঊ মাউনঝিলা ইলার রাছূলি তারাআ‘ইউনাহুম তাফীদুমিনাদ দাম‘ই মিম্মা‘আরাফূমিনাল হাক্কি ইয়াকূলূনা রাব্বানাআ-মান্না-ফাকতুবনা-মা‘আশশা-হিদীন।

এবং রাসূলের প্রতি যে কালাম নাযিল হয়েছে তারা যখন তা শোনে, তখন দেখবে তাদের চোখসমূহকে তা থেকে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে ৬৪ যেহেতু তারা সত্য চিনে ফেলেছে। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি। সুতরাং সাক্ষ্যদাতাদের সাথে আমাদের নামও লিখে নিন।

তাফসীরঃ

৬৪. হাবশা থেকে মুসলিম শরণার্থীদেরকে বহিষ্কারের দাবী জানানোর জন্য মক্কার মুশরিকগণ যখন নাজাশীর কাছে একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিল, তখন বাদশাহ মুসলিমদেরকে তার দরবারে ডেকে তাদের বক্তব্য শুনতে চেয়েছিলেন। তখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচাত ভাই হযরত জাফর বিন আবু তালিব (রাযি.) এক হৃদয়গ্রাহী ও সারগর্ভ বক্তৃতা দিয়েছিলেন। তাতে বাদশাহর অন্তরে মুসলিমদের প্রতি মহব্বত ও মর্যাদাবোধ বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে তিনি বুঝে ফেলেন, তাওরাত ও ইনজীলে যেই সর্বশেষ নবীর ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই সেই নবী। সুতরাং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনা মুনাওয়ারায় শুভাগমন করেন, তখন নাজাশী তার উলামা ও দরবেশদের একটি প্রতিনিধি দলকে তাঁর খেদমতে প্রেরণ করেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সামনে সূরা ইয়াসীন তিলাওয়াত করেন। তা শুনে তাদের চোখ থেকে অশ্রুধারা নেমে আসল। তারা বলে উঠল, হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি যে কালাম নাযিল হয়েছিল, তার সাথে এ কালামের কতই না মিল। অনন্তর প্রতিনিধি দলটির সকলেই ইসলাম গ্রহণ করল। তারা যখন নাজাশীর কাছে ফিরে গেল, সব শুনে নাজাশী নিজেও ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিলেন। আলোচ্য আয়াতসমূহে সে ঘটনার দিকেই ইশারা করা হয়েছে।
৮৪

وَمَا لَنَا لَا نُؤۡمِنُ بِاللّٰہِ وَمَا جَآءَنَا مِنَ الۡحَقِّ ۙ وَنَطۡمَعُ اَنۡ یُّدۡخِلَنَا رَبُّنَا مَعَ الۡقَوۡمِ الصّٰلِحِیۡنَ ٨٤

ওয়ামা-লানা-লা-নু’মিনুবিল্লা-হি ওয়ামা-জাআনা-মিনাল হাক্কি ওয়া নাতমা‘উ আইঁ ইউদখিলানা-রাব্বুনা-মা‘আল কাওমিসসা-লিহীন।

আর আমরা আল্লাহ এবং যে সত্য আমাদের প্রতি নাযিল হয়েছে, তাতে কেন ঈমান আনব না, অথচ আমরা প্রত্যাশা করি, আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করবেন?
৮৫

فَاَثَابَہُمُ اللّٰہُ بِمَا قَالُوۡا جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ؕ وَذٰلِکَ جَزَآءُ الۡمُحۡسِنِیۡنَ ٨٥

ফাআছাবাহুমুল্লা-হু বিমা-কা-লূজান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা- ওয়া যা-লিকা জাঝাউল মুহছিনীন।

সুতরাং তাদের এ কথার কারণে আল্লাহ তাদেরকে এমন সব উদ্যান দান করবেন, যার তলদেশে নহর প্রবহমান থাকবে। তাতে তারা সর্বদা থাকবে। এটাই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান।
৮৬

وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَکَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَاۤ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ الۡجَحِیۡمِ ٪ ٨٦

ওয়াল্লাযীনা কাফারূওয়া কাযযাবূবিআ-য়া-তিনাউলাইকা আসহা-বুল জাহীম।

আর যারা কুফর অবলম্বন করেছে ও আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে, তারা জাহান্নামবাসী।
৮৭

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تُحَرِّمُوۡا طَیِّبٰتِ مَاۤ اَحَلَّ اللّٰہُ لَکُمۡ وَلَا تَعۡتَدُوۡا ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یُحِبُّ الۡمُعۡتَدِیۡنَ ٨٧

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তুহাররিমূতাইয়িবা-তি মাআহাল্লাল্লা-হু লাকুম ওয়ালা-তা‘তাদূ ইন্নাল্লা-হা লা-ইউহিব্বুল মু‘তাদীন।

হে মুমিনগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য যে সকল উৎকৃষ্ট বস্তু হালাল করেছেন, তাকে হারাম সাব্যস্ত করো না এবং সীমালংঘন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালংঘনকারীদের ভালোবাসেন না। ৬৫

তাফসীরঃ

৬৫. যেমন হারাম বস্তুকে হালাল মনে করা গুনাহ, তেমনি আল্লাহ তা‘আলা যে সকল বস্তু হালাল করেছেন তাকে হারাম সাব্যস্ত করাও অতি বড় গুনাহ। মক্কার মুশরিকগণ ও ইয়াহুদীরা এ রকম বহু জিনিস নিজেদের প্রতি হারাম করে রেখেছিল। ইনশাআল্লাহ সূরা আনআমে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
৮৮

وَکُلُوۡا مِمَّا رَزَقَکُمُ اللّٰہُ حَلٰلًا طَیِّبًا ۪ وَّاتَّقُوا اللّٰہَ الَّذِیۡۤ اَنۡتُمۡ بِہٖ مُؤۡمِنُوۡنَ ٨٨

ওয়াকুলূমিম্মা- রাঝাকাকুমুল্লা-হু হালা-লান তাইয়িবাওঁ ওয়াত্তাকুল্লা-হাল্লাযীআনতুম বিহী মু’মিনূন।

আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছেন, তা থেকে হালাল, উৎকৃষ্ট বস্তু খাও এবং যেই আল্লাহর প্রতি তোমরা ঈমান রাখ তাকে ভয় করে চলো।
৮৯

لَا یُؤَاخِذُکُمُ اللّٰہُ بِاللَّغۡوِ فِیۡۤ اَیۡمَانِکُمۡ وَلٰکِنۡ یُّؤَاخِذُکُمۡ بِمَا عَقَّدۡتُّمُ الۡاَیۡمَانَ ۚ فَکَفَّارَتُہٗۤ اِطۡعَامُ عَشَرَۃِ مَسٰکِیۡنَ مِنۡ اَوۡسَطِ مَا تُطۡعِمُوۡنَ اَہۡلِیۡکُمۡ اَوۡ کِسۡوَتُہُمۡ اَوۡ تَحۡرِیۡرُ رَقَبَۃٍ ؕ فَمَنۡ لَّمۡ یَجِدۡ فَصِیَامُ ثَلٰثَۃِ اَیَّامٍ ؕ ذٰلِکَ کَفَّارَۃُ اَیۡمَانِکُمۡ اِذَا حَلَفۡتُمۡ ؕ وَاحۡفَظُوۡۤا اَیۡمَانَکُمۡ ؕ کَذٰلِکَ یُبَیِّنُ اللّٰہُ لَکُمۡ اٰیٰتِہٖ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ ٨٩

লা-ইউআ-খিযুকুমুল্লা-হু বিল লাগবিফীআইমা-নিকুম ওয়ালা-কিইঁ ইউআ-খিযুকুম বিমা‘আককাততুমুল আইমা-না ফাকাফফা-রাতুহূইত‘আ-মু‘আশারাতি মাছা-কীনা মিন আওছাতিমা-তুত‘ইমূনা আহলীকুম আও কিছওয়াতুহুম আও তাহরীরু রাকাবাতিন ফামাল্লাম ইয়াজিদ ফাসিয়া-মুছালা-ছাতি আইয়া-মিন যা-লিকা কাফফা-রাতুআইমানিকুম ইযা-হালাফতুম ওয়াহফাজূআইমা-নাকুম; কাযা-লিকা ইউবাইয়িনুল্লা-হু লাকুম আ-য়া-তিহী লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন।

আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের নিরর্থক শপথের জন্য পাকড়াও করবেন না। ৬৬ কিন্তু তোমরা যে শপথ পরিপক্কভাবে করে থাক, ৬৭ সেজন্য তিনি তোমাদেরকে পাকড়াও করবেন। সুতরাং তার কাফফারা হল, দশজন মিসকীনকে মধ্যম ধরনের খাবার দেবে, যা তোমরা তোমাদের পরিবারবর্গকে খাইয়ে থাক। অথবা তাদেরকে বস্ত্র দান করবে কিংবা একজন গোলাম আযাদ করবে। তবে কারও কাছে যদি (এসব জিনিসের মধ্য হতে কিছুই) না থাকে, সে তিন দিন রোযা রাখবে। এটা তোমাদের শপথের কাফফারা যখন তোমরা শপথ করবে (এবং তারপর তা ভেঙ্গে ফেলবে)। তোমরা নিজেদের শপথকে রক্ষা করো। ৬৮ এভাবেই আল্লাহ তোমাদের সামনে নিজ আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা আদায় কর।

তাফসীরঃ

৬৬. নিরর্থক (লাগব) শপথ বলতে এমন সব কসমকে বোঝানো হয়, যা কসমের উদ্দেশ্য ছাড়া কেবল কথার মুদ্রা বা বাকরীতি হিসেবে উচ্চারিত হয়ে থাকে। এমনিভাবে অতীতের কোনও বিষয়কে সত্য মনে করে যে কসম করা হয় এবং পরে প্রকাশ পায়, আসলে তা সত্য ছিল না, তার ধারণা ভুল ছিল, সেটাও নিরর্থক শপথের অন্তর্ভুক্ত। এ জাতীয় কসমে কোনও গুনাহ হয় না এবং এর জন্য কাফফারাও ওয়াজিব হয় না। তবে নিপ্রয়োজনে কসম করা কোন ভালো কাজ নয়। সুতরাং প্রত্যেক মুসলিমের এ ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
৯০

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنَّمَا الۡخَمۡرُ وَالۡمَیۡسِرُ وَالۡاَنۡصَابُ وَالۡاَزۡلَامُ رِجۡسٌ مِّنۡ عَمَلِ الشَّیۡطٰنِ فَاجۡتَنِبُوۡہُ لَعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ ٩۰

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূইন্নামাল খামরু ওয়াল মাইছিরু ওয়াল আনসা-বুওয়াল আঝলা-মুরিজছুম মিন ‘আমালিশ শাইতা-নি ফাজতানিবূহু লা‘আল্লাকুম তুফলিহূন।

হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমার বেদি ৬৯ ও জুয়ার তীর অপবিত্র, শয়তানী কাজ। সুতরাং এসব পরিহার কর, যাতে তোমরা সফলতা অর্জন কর।

তাফসীরঃ

৬৯. প্রতিমার বেদি দ্বারা দেবতার উদ্দেশ্যে পশু বলিদানের সেই স্থানকে বোঝানো হয়েছে, যা প্রতিমাদের সামনে তৈরি করা হত। পৌত্তলিকগণ প্রতিমাদের নামে সেখানে পশু ইত্যাদি উৎসর্গ করত। আর জুয়ার তীর বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা এ সূরারই শুরুতে ৩নং আয়াতের ব্যাখ্যায় ৬নং টীকায় গত হয়েছে। সেখানে দ্রষ্টব্য।
৯১

اِنَّمَا یُرِیۡدُ الشَّیۡطٰنُ اَنۡ یُّوۡقِعَ بَیۡنَکُمُ الۡعَدَاوَۃَ وَالۡبَغۡضَآءَ فِی الۡخَمۡرِ وَالۡمَیۡسِرِ وَیَصُدَّکُمۡ عَنۡ ذِکۡرِ اللّٰہِ وَعَنِ الصَّلٰوۃِ ۚ فَہَلۡ اَنۡتُمۡ مُّنۡتَہُوۡنَ ٩١

ইন্নামা-ইউরীদুশশাইতা-নুআইঁ ইউকি‘আ বাইনাকুমুল ‘আদা-ওয়াতা ওয়াল বাগদাআ ফিল খামরি ওয়াল মাইছিরি ওয়া ইয়াসুদ্দাকুম ‘আন যিকরিল্লা-হি ওয়া ‘আনিসসালা-তি ফাহাল আনতুম মুনতাহূন।

শয়তান তো মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষের বীজই বপণ করতে চায় এবং চায় তোমাদেরকে আল্লাহর যিকির ও নামায থেকে বিরত রাখতে। সুতরাং, তোমরা কি (ওসব জিনিস থেকে) নিবৃত্ত হবে?
৯২

وَاَطِیۡعُوا اللّٰہَ وَاَطِیۡعُوا الرَّسُوۡلَ وَاحۡذَرُوۡا ۚ فَاِنۡ تَوَلَّیۡتُمۡ فَاعۡلَمُوۡۤا اَنَّمَا عَلٰی رَسُوۡلِنَا الۡبَلٰغُ الۡمُبِیۡنُ ٩٢

ওয়া আতী‘উল্লা-হা ওয়া আতী‘উর রাছূলা ওয়াহযারূ ফাইন তাওয়াল্লাইতুম ফা‘লামুআন্নামা-‘আলা-রাছূলিনাল বালা-গুল মুবীন।

তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো ও রাসূলের আনুগত্য করো এবং (অবাধ্যতা) পরিহার করে চলো। তোমরা যদি (এ আদেশ থেকে) বিমুখ হও, তবে জেনে রেখ, আমার রাসূলের দায়িত্ব কেবল সুস্পষ্টরূপে (আল্লাহর হুকুম) প্রচার করা।
৯৩

لَیۡسَ عَلَی الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ جُنَاحٌ فِیۡمَا طَعِمُوۡۤا اِذَا مَا اتَّقَوۡا وَّاٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ثُمَّ اتَّقَوۡا وَّاٰمَنُوۡا ثُمَّ اتَّقَوۡا وَّاَحۡسَنُوۡا ؕ  وَاللّٰہُ یُحِبُّ الۡمُحۡسِنِیۡنَ ٪ ٩٣

লাইছা ‘আলাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি জুনা-হুন ফীমা-তা‘ইমূইযামাত্তাকাও ওয়া আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ছুম্মাত্তাকাও ওয়া আ-মানূছু ম্মাত্তাকাও ওয়া আহছানূ ওয়াল্লা-হু ইউহিব্বুল মুহছিনীন।

যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারা (পূর্বে) যা-কিছু খেয়েছে তার কারণে তাদের কোনও গুনাহ নেই ৭০ যদি তারা (আগামীতে গুনাহ হতে) বেঁচে থাকে, ঈমান রাখে ও সৎকর্মে রত থাকে এবং (আগামীতে যেসব জিনিস নিষেধ করা হয় তা থেকে) বেঁচে থাকে ও ঈমানে প্রতিষ্ঠিত থাকে, আর তারপরও তাকওয়া ও ইহসান অবলম্বন করে। ৭১ আল্লাহ ইহসান অবলম্বনকারীদের ভালোবাসেন।

তাফসীরঃ

৭০. ‘ইহসান’ এর আভিধানিক অর্থ ভালো কাজ করা। সে হিসেবে শব্দটি যে-কোনও সৎকর্মকে বোঝায়। কিন্তু এক সহীহ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘ইহসান’-এর ব্যাখ্যা দান করেছেন যে, মানুষ এভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন সে তাঁকে দেখছে অথবা অন্ততপক্ষে এই ভাবনার সাথে করবে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে দেখছেন। সারকথা, মানুষ তার প্রতিটি কাজে আল্লাহ তা‘আলার সামনে থাকার ধারণাকে অন্তরে জাগ্রত রাখবে।
৯৪

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَیَبۡلُوَنَّکُمُ اللّٰہُ بِشَیۡءٍ مِّنَ الصَّیۡدِ تَنَالُہٗۤ اَیۡدِیۡکُمۡ وَرِمَاحُکُمۡ لِیَعۡلَمَ اللّٰہُ مَنۡ یَّخَافُہٗ بِالۡغَیۡبِ ۚ فَمَنِ اعۡتَدٰی بَعۡدَ ذٰلِکَ فَلَہٗ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ٩٤

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলাইয়াবলুওয়ান্নাকুমুল্লা-হু বিশাইইম মিনাসসাইদি তানা-লুহূ আইদীকুম ওয়া রিমা-হুকুম লিইয়া‘লামাল্লা-হু মাইঁ ইয়াখা-ফুহু বিলগাইবি ফামানি‘তাদাবা‘দা যা-লিকা ফালাহু ‘আযা-বুন আলীম।

হে মুমিনগণ! আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের হাত ও বর্শার নাগালে আসা শিকারের কিছু প্রাণী দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করবেন, ৭২ যাতে তিনি জেনে নেন যে, কে তাকে না দেখেও ভয় করে। সুতরাং এরপরও কেউ সীমালংঘন করলে সে যন্ত্রণাময় শাস্তির উপযুক্ত হবে।

তাফসীরঃ

৭২. যেমন সামনের আয়াতে আসছে, কেউ যখন হজ্জ বা উমরার ইহরাম বেঁধে নেয়, তখন তার জন্য স্থলের প্রাণী শিকার করা হারাম হয়ে যায়। আরবের মরুভূমিতে শিকার করার মত কোনও প্রাণী মিলে যাওয়া মুসাফিরদের পক্ষে এক বিরাট নিয়ামত ছিল। এ আয়াতে বলা হয়েছে যে, যারা ইহরাম বাঁধে তাদের পরীক্ষার্থে আল্লাহ তা‘আলা কিছু প্রাণীকে তাদের খুব কাছে, একদম বর্শার নাগালের মধ্যে পৌঁছে দেবেন। এভাবে তাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে যে, তারা আল্লাহ তা‘আলার আদেশ পালনার্থে এ নিয়ামত পরিহার করে কি না। এর দ্বারা জানা গেল, মানুষের ঈমানের প্রকৃত যাচাই হয় তখনই, যখন তার অন্তর কোনও অবৈধ কাজের জন্য উদ্বেলিত হয়ে ওঠে; কিন্তু আল্লাহর ভয়ে সে নিজেকে তা থেকে নিবৃত্ত রাখে।
৯৫

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَقۡتُلُوا الصَّیۡدَ وَاَنۡتُمۡ حُرُمٌ ؕ وَمَنۡ قَتَلَہٗ مِنۡکُمۡ مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآءٌ مِّثۡلُ مَا قَتَلَ مِنَ النَّعَمِ یَحۡکُمُ بِہٖ ذَوَا عَدۡلٍ مِّنۡکُمۡ ہَدۡیًۢا بٰلِغَ الۡکَعۡبَۃِ اَوۡ کَفَّارَۃٌ طَعَامُ مَسٰکِیۡنَ اَوۡ عَدۡلُ ذٰلِکَ صِیَامًا لِّیَذُوۡقَ وَبَالَ اَمۡرِہٖ ؕ عَفَا اللّٰہُ عَمَّا سَلَفَ ؕ وَمَنۡ عَادَ فَیَنۡتَقِمُ اللّٰہُ مِنۡہُ ؕ وَاللّٰہُ عَزِیۡزٌ ذُو انۡتِقَامٍ ٩٥

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ লা-তাকতুলুসসাইদাওয়া আনতুম হুরুমুওঁ ওয়ামান কাতালাহূমিনকুম মুতা‘আম্মিদান ফাজাঝাউম মিছলুমা-কাতালা মিনান না‘আমি ইয়াহকুমুবিহী যাওয়া-‘আদলিম মিনকুম হাদইয়াম বা-লিগাল কা‘বাতি আও কাফফা-রাতুন তা‘আ-মুমাছা-কীনা আও ‘আদলুযা-লিকা সিয়া-মাল লিইয়াযূকা ওয়াবা-লা আমরিহী ‘আফাল্লা-হু ‘আম্মা-ছালাফা ওয়ামান ‘আ-দা ফাইয়ানতাকিমুল্লা-হু মিনহু ওয়াল্লা-হু ‘আঝীঝুন যুনতিকা-ম।

হে মুমিনগণ! তোমরা যখন ইহরাম অবস্থায় থাক তখন কোনও শিকারকে হত্যা করো না। তোমাদের মধ্যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তা হত্যা করলে তার বিনিময় দেওয়া ওয়াজিব (যার নিয়ম এই যে,) সে যে প্রাণী হত্যা করেছে তার সমতুল্য গৃহপালিত কোনও জন্তুকে যার ফায়সালা করবে তোমাদের মধ্যে দু’জন ন্যায়বান লোক, কাবায় পৌঁছানো হবে কুরবানীরূপে। অথবা (তার মূল্য পরিমাণ) কাফফারা আদায় করা হবে মিসকীনদেরকে খানা খাওয়ানোর দ্বারা অথবা তার সমসংখ্যক রোযা রাখতে হবে। ৭৩ যেন সে ব্যক্তি তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করে। পূর্বে যা-কিছু হয়েছে আল্লাহ তা ক্ষমা করে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি পুনরায় তা করবে আল্লাহ তাকে শাস্তি দান করবেন। আল্লাহ ক্ষমতাবান, শাস্তিদাতা।

তাফসীরঃ

৭৩. কেউ যদি ইহরাম অবস্থায় শিকার করার গুনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তবে তার কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) কী হবে এ আয়াতে তা বর্ণিত হয়েছে। তার সারমর্ম এই যে, শিকারকৃত প্রাণীটি হালাল হলে সেই এলাকার দু’জন অভিজ্ঞ ও দীনদার লোক দ্বারা তার মূল্য নিরূপণ করতে হবে। তারপর সেই মূল্যের কোনও গৃহপালিত পশু, যেমন গরু, মহিষ, ছাগল ইত্যাদি ‘হারাম’ এলাকার ভেতর কুরবানী করা হবে। অথবা সেই মূল্য গরীবদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হবে। শিকারকৃত প্রাণীটি যদি হালাল না হয়, যেমন নেকড়ে ইত্যাদি, তবে তার মূল্য একটি ছাগলের মূল্য অপেক্ষা বেশি গণ্য হবে না। যদি কারও কুরবানী দেওয়ার বা তার মূল্য গরীবদের মধ্যে বণ্টন করার সামর্থ্য না থাকে, তবে সে রোযা রাখবে। রোযার হিসাব করা হবে এভাবে যে, একটি রোযাকে পৌনে দু’সের গমের মূল্য বরাবর ধরা হবে। সে হিসেবে শিকারকৃত পশুটির নিরূপিত মূল্যে যে-ক’টি রোযা আসে, তাই রাখতে হবে। আয়াতের এ ব্যাখ্যা ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মাযহাব অনুযায়ী। তাঁর মতে ‘সে যে প্রাণী হত্যা করেছে তার সমতুল্য গৃহপালিত কোনও জন্তু’-এর ব্যাখ্যা এই যে, প্রথমে শিকারকৃত প্রাণীটির মূল্য নিরূপণ করা হবে, তারপর সেই মূল্যের কোনও গৃহপালিত পশু হারামের ভেতর নিয়ে যবাহ করতে হবে। এ মাসআলা বিস্তারিতভাবে ফিকহী গ্রন্থাবলীতে বর্ণিত রয়েছে।
৯৬

اُحِلَّ لَکُمۡ صَیۡدُ الۡبَحۡرِ وَطَعَامُہٗ مَتَاعًا لَّکُمۡ وَلِلسَّیَّارَۃِ ۚ وَحُرِّمَ عَلَیۡکُمۡ صَیۡدُ الۡبَرِّ مَا دُمۡتُمۡ حُرُمًا ؕ وَاتَّقُوا اللّٰہَ الَّذِیۡۤ اِلَیۡہِ تُحۡشَرُوۡنَ ٩٦

উহিল্লা লাকুম সাইদুল বাহরি ওয়া তা‘আ-মুহূমাতা-‘আল্লাকুম ওয়া লিছছাইয়ি-রাতি ওয়া হুররিমা ‘আলাইকুম সাইদুল বাররি মা-দুমতুম হুরুমাওঁ ওয়াত্তাকুল্লা-হাল্লাযীইলাইহি তুহশারূন।

তোমাদের জন্য সমুদ্রের শিকার ও তার খাদ্য হালাল করা হয়েছে, যাতে তা তোমাদের ও কাফেলার জন্য ভোগের উপকরণ হয়। আর তোমরা যতক্ষণ ইহরাম অবস্থায় থাক, তোমাদের জন্য স্থলের শিকার হারাম করা হয়েছে এবং আল্লাহকে ভয় করে চলো, যার কাছে তোমাদের সকলকে নিয়ে একত্র করা হবে।
৯৭

جَعَلَ اللّٰہُ الۡکَعۡبَۃَ الۡبَیۡتَ الۡحَرَامَ قِیٰمًا لِّلنَّاسِ وَالشَّہۡرَ الۡحَرَامَ وَالۡہَدۡیَ وَالۡقَلَآئِدَ ؕ ذٰلِکَ لِتَعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اللّٰہَ یَعۡلَمُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ وَاَنَّ اللّٰہَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ٩٧

জা‘আলাল্লা-হুল কা‘বাতাল বাইতাল হারা-মা কিয়া-মাল লিন্না-ছি ওয়াশশাহরাল হারা-মা ওয়াল হাদইয়া ওয়াল কালাইদা যা-লিকা লিতা‘লামূআন্নাল্লা-হা ইয়া‘লামুমাফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদিওয়াআন্নাল্লা-হা বিকুল্লি শাইয়িন ‘আলীম।

আল্লাহ কাবাকে যা অতি মর্যাদাপূর্ণ ঘর, মানুষের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার মাধ্যম বানিয়েছেন। তাছাড়া মর্যাদাপূর্ণ মাসসমূহ, নজরানার পশু এবং (তাদের গলার) মালাসমূহকেও (নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার মাধ্যম বানিয়েছেন), তা এজন্য ৭৪ যাতে তোমরা জানতে পার আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন এবং আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।

তাফসীরঃ

৭৪. কাবা শরীফ ও মর্যাদাপূর্ণ মাসসমূহ যে শান্তি ও নিরাপত্তার ‘কারণ’, সেটা স্পষ্ট। যেহেতু এর ভেতর যুদ্ধ করা হারাম। যে পশু নজরানা হিসেবে হারামে নিয়ে যাওয়া হত, তার গলায় মালা পরিয়ে দেওয়া হত, যাতে দর্শক বুঝতে পারে এ পশু হারামে যাচ্ছে। ফলে কাফির, মুশরিক এমনকি দস্যুরাও তার পেছনে লাগত না। কাবা শরীফ যে নিরাপত্তার কারণ, মুফাসসিরগণ তার আরেকটি ব্যাখ্যা করেছেন এই যে, যত দিন কাবা শরীফ বিদ্যমান থাকবে, ততদিন কিয়ামত হবে না। এক সময় কাবা শরীফকে তুলে নেওয়া হবে এবং তারপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
৯৮

اِعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اللّٰہَ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ وَاَنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ؕ ٩٨

ই‘লামূআন্নাল্লা-হা শাদীদুল ‘ইকা-বি ওয়া আন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম।

জেনে রেখ, আল্লাহ শাস্তি দানে কঠোর এবং এটাও জেনে রেখ যে, তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
৯৯

مَا عَلَی الرَّسُوۡلِ اِلَّا الۡبَلٰغُ ؕ وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ مَا تُبۡدُوۡنَ وَمَا تَکۡتُمُوۡنَ ٩٩

মা-‘আলাররাছূলি ইল্লাল বালা-গু ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামুমা-তুবদূ না ওয়ামা-তাকতুমূন।

তাবলীগ (প্রচার কার্য) ছাড়া রাসূলের অন্য কোনও দায়িত্ব নেই। আর তোমরা যা-কিছু প্রকাশ্যে কর এবং যা-কিছু গোপন কর, সবই আল্লাহ জানেন।
১০০

قُلۡ لَّا یَسۡتَوِی الۡخَبِیۡثُ وَالطَّیِّبُ وَلَوۡ اَعۡجَبَکَ کَثۡرَۃُ الۡخَبِیۡثِ ۚ  فَاتَّقُوا اللّٰہَ یٰۤاُولِی الۡاَلۡبَابِ لَعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ ٪ ١۰۰

কুল্লা-ইয়াছতাবীল খাবীছুওয়াত্তাইয়িবুওয়ালাও আ‘জাবাকা কাছরাতুল খাবীছি ফাত্তাকুল্লা-হা ইয়াঊলিল আলবা-বি লা‘আল্লাকুম তুফলিহূন।

(হে রাসূল! মানুষকে) বলে দাও, অপবিত্র ও পবিত্র বস্তু সমান হয় না, যদিও অপবিত্র বস্তুর আধিক্য তোমাকে মুগ্ধ করে। ৭৫ সুতরাং হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ, আল্লাহকে ভয় করে চলো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।

তাফসীরঃ

৭৫. এ আয়াত জানাচ্ছে, পৃথিবীতে অনেক সময় কোনও কোন নাপাক বা হারাম বস্তু এতটা ব্যাপকভাবে চালু হয়ে যায় যে, সেটা সময়ের ফ্যাশনরূপে গণ্য হয় এবং ফ্যাশন-পূজারী মানুষের কাছে তার কদর হয়ে যায়। মুসলিমদেরকে সতর্ক করা হয়েছে, কেবল সাধারণ রেওয়াজের কারণে যেন তারা কোনও জিনিস গ্রহণ না করে; বরং আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশনা অনুসারে সে জিনিস পবিত্র ও বৈধ কি না, আগে যেন সেটা যাচাই করে দেখে।
১০১

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَسۡـَٔلُوۡا عَنۡ اَشۡیَآءَ اِنۡ تُبۡدَ لَکُمۡ تَسُؤۡکُمۡ ۚ وَاِنۡ تَسۡـَٔلُوۡا عَنۡہَا حِیۡنَ یُنَزَّلُ الۡقُرۡاٰنُ تُبۡدَ لَکُمۡ ؕ عَفَا اللّٰہُ عَنۡہَا ؕ وَاللّٰہُ غَفُوۡرٌ حَلِیۡمٌ ١۰١

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তাছআলূ‘আন আশইয়াআ ইনতুবদালাকুম তাছু’কুম ওয়া ইন তাছআলূ‘আনহা-হীনা ইউনাঝঝালুল কুরআ-নুতুবদালাকুম ‘আফাল্লা-হু ‘আনহা- ওয়াল্লা-হু গাফূরুন হালীম।

হে মুমিনগণ! তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা প্রকাশ করা হলে তোমাদের কাছে অপ্রীতিকর মনে হবে। তোমরা যদি এমন সময়ে সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস কর, যখন কুরআন নাযিল হয়, তবে তা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হবে। ৭৬ (অবশ্য) আল্লাহ ইতঃপূর্বে যা হয়েছে তা ক্ষমা করে দিয়েছেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

৭৬. আয়াতের মর্ম এই যে, যেসব বিষয়ের বিশেষ কোনও প্রয়োজন নেই, প্রথমত তার অনুসন্ধানে লিপ্ত হওয়া একটা নিরর্থক কাজ। দ্বিতীয়ত আল্লাহ তা‘আলা অনেক সময় কোনও কোনও বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আদেশ দান করেন। সেই আদেশ অনুসারে মোটামুটিভাবে কাজ করলেই যথেষ্ট হয়ে যায়। সে বিষয়ে বিস্তারিতভাবে কিছু জানানোর দরকার হলে খোদ কুরআন মাজীদ তা জানিয়ে দিত কিংবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসের মাধ্যমে তা সম্পন্ন করা হত। তা যখন করা হয়নি তখন এর চুলচেরা বিশ্লেষণের পেছনে পড়ার কোনও দরকার নেই। সেই সঙ্গে এটাও বলে দেওয়া হয়েছে যে, কুরআন নাযিলের সময় এ সম্পর্কে কোন কঠিন জবাব এসে গেলে তোমাদের নিজেদের পক্ষেই সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এ আয়াতের শানে নুযুল সম্পর্কে একটা ঘটনা বর্ণিত আছে। তা এই যে, যখন হজ্জের বিধান আসল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা মানুষকে জানিয়ে দিলেন, তখন এক সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! হজ্জ কি সারা জীবনে একবার ফরয না প্রতি বছর? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ প্রশ্নে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন। কেননা কোন বিধান সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে বার বার পালনের স্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত তা একবার করার দ্বারাই হুকুম তামিল হয়ে যায়। এটাই নিয়ম (নামায, রোযা ও যাকাত সম্পর্কে সে রকমের নির্দেশনা রয়েছে)। সে অনুযায়ী এস্থলে প্রশ্নের কোনও দরকার ছিল না। সুতরাং তিনি সাহাবীকে বললেন, আমি যদি বলে দিতাম, হাঁ প্রতি বছর আদায় করা ফরয, তবে বাস্তবিকই তা সকলের উপর প্রতি বছর ফরয হয়ে যেত।
১০২

قَدۡ سَاَلَہَا قَوۡمٌ مِّنۡ قَبۡلِکُمۡ ثُمَّ اَصۡبَحُوۡا بِہَا کٰفِرِیۡنَ ١۰٢

কাদ ছাআলাহা-কাওমুম মিন কাবলিকুম ছুম্মা আসবাহূবিহা-কা-ফিরীন।

তোমাদের পূর্বে একটি জাতি এ জাতীয় প্রশ্ন করেছিল, অতঃপর (তার যে উত্তর দেওয়া হয়েছে,) তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ৭৭

তাফসীরঃ

৭৭. খুব সম্ভব এর দ্বারা ইয়াহুদীদের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। তারাই শরীয়তের বিধানে এরূপ অহেতুক খোড়াখুড়ি করত। তারপর তাদের সে কর্মপন্থার কারণে যখন নিয়মাবলী বেড়ে যেত, তখন তা রক্ষা করতে অক্ষম হয়ে যেত এবং অনেক সময় সরাসরি তা পালন করতে অস্বীকৃতি জানাত।
১০৩

مَا جَعَلَ اللّٰہُ مِنۡۢ بَحِیۡرَۃٍ وَّلَا سَآئِبَۃٍ وَّلَا وَصِیۡلَۃٍ وَّلَا حَامٍ ۙ وَّلٰکِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ عَلَی اللّٰہِ الۡکَذِبَ ؕ وَاَکۡثَرُہُمۡ لَا یَعۡقِلُوۡنَ ١۰٣

মা-জা‘আলাল্লা-হু মিম বাহীরাতিওঁ ওয়ালা-ছায়িবাতিওঁ ওয়ালা-ওয়াসীলাতিওঁ ওয়ালাহা-মিওঁ ওয়ালা-কিন্নাল্লাযীনা কাফারূইয়াফতারূনা ‘আলাল্লা-হিল কাযিবা ওয়া আকছারুহুম লা-ইয়া‘কিলূন।

আল্লাহ কোনও প্রাণীকে না বাহীরা সাব্যস্ত করেছেন, না সাইবা, না ওয়াসীলা ও না হামী, ৭৮ কিন্তু যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে এবং তাদের অধিকাংশেই সঠিক বোঝে না।

তাফসীরঃ

৭৮. এসব বিভিন্ন পশুর নাম, যা জাহিলী যুগের মুশরিকগণ স্থির করে নিয়েছিল। ‘বাহীরা’ বলত সেই পশুকে, কান চিড়ে যাকে দেব-দেবীর নামে উৎসর্গ করত। ‘সাইবা’ সেই পশু, যাকে দেব-দেবীর নামে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিত। তারা এসব পশুকে কোনও রকমের কাজে লাগানো নাজায়েয মনে করত। ‘ওয়াসীলা’ বলা হত এমন উটনীকে, যা পর পর কয়েকটি মাদী বাচ্চা জন্ম দেয়, মাঝখানে কোনও নর বাচ্চা না জন্মায়। এমন উটনীকেও প্রতিমার নামে ছেড়ে দেওয়া হত। আর হামী হল সেই নর উট, যা নির্দিষ্ট একটা সংখ্যা পরিমাণ পাল দেওয়ার কাজ করেছে। এরূপ উটকেও প্রতিমার নামে ছেড়ে দেওয়া হত।
১০৪

وَاِذَا قِیۡلَ لَہُمۡ تَعَالَوۡا اِلٰی مَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰہُ وَاِلَی الرَّسُوۡلِ قَالُوۡا حَسۡبُنَا مَا وَجَدۡنَا عَلَیۡہِ اٰبَآءَنَا ؕ اَوَلَوۡ کَانَ اٰبَآؤُہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ شَیۡئًا وَّلَا یَہۡتَدُوۡنَ ١۰٤

ওয়া ইযা-কীলা লাহুম তা‘আ-লাও ইলা-মাআনঝালাল্লাহু ওয়া ইলাররাছূলি কা-লূ হাছবুনা-মা-ওয়াজাদনা- ‘আলাইহি আ-বাআনা- আওয়া লাও কা-না আ-বাউহুম লা-ইয়া‘লামূনা শাইআওঁ ওয়ালা-ইয়াহতাদূ ন।

যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যে বাণী নাযিল করেছেন তার দিকে ও রাসূলের দিকে চলে এসো। তখন তারা বলে, আমরা যার (অর্থাৎ যে দীনের) উপর আমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছি, তাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আচ্ছা! তাদের বাপ-দাদা যদি এমন হয় যে, তাদের কোনও জ্ঞানও নেই এবং হিদায়াতও নেই, তবু (তারা তাদের অনুগমন করতে থাকবে)?
১০৫

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا عَلَیۡکُمۡ اَنۡفُسَکُمۡ ۚ لَا یَضُرُّکُمۡ مَّنۡ ضَلَّ اِذَا اہۡتَدَیۡتُمۡ ؕ اِلَی اللّٰہِ مَرۡجِعُکُمۡ جَمِیۡعًا فَیُنَبِّئُکُمۡ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ١۰٥

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ‘আলাইকুম আনফুছাকুম লা-ইয়াদুররুকুম মান দাল্লা ইযাহ তাদাইতুম ইলাল্লা-হি মারজি‘উকুম জামী‘আন ফাইউনাব্বিউকুম বিমা-কুনতুম তা‘মালূন।

হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের চিন্তা কর। তোমরা সঠিক পথে থাকলে যারা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে, তারা তোমাদের কোনও ক্ষতি করতে পারবে না। ৭৯ আল্লাহরই কাছে তোমাদের সকলকে ফিরে যেতে হবে। তখন তিনি তোমাদেরকে অবহিত করবেন, তোমরা কী কাজ করতে।

তাফসীরঃ

৭৯. পূর্বে কাফিরদের যেসব ভ্রষ্টতা বর্ণিত হয়েছে, তার কারণে মুসলিমগণ এই ভেবে দুঃখবোধ করতেন যে, নিজেদের বিভ্রান্তি সম্পর্কে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি এসে যাওয়া এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক বারবার সমঝানোর পরও তারা তাদের পথভ্রষ্টতা পরিত্যাগ করছে না! এ আয়াত তাদেরকে সান্তনা দিচ্ছে যে, তাবলীগের দায়িত্ব পালনের পর তাদের গোমরাহীর কারণে তোমাদের বেশি দুঃখিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। এখন তোমাদের উচিত নিজেদের ইসলাহ ও সংশোধনের ফিকির করা। কুরআন মাজীদের এ কথাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যারা সর্বদা অন্যের সমালোচনা করে এবং অতি আগ্রহে অন্যের ছিদ্রান্বেষণে লিপ্ত থাকে, অথচ নিজের দিকে ফিরে তাকানোর ফুরসত পায় না। অন্যের তুচ্ছ তুচ্ছ দোষও বড় করে দেখে, অথচ আপন বড়-বড় অন্যায়ের প্রতি নজর পড়ে না, তাদের জন্য এ আয়াতে অতি বড় উপদেশ রয়েছে। তাদের বলা হচ্ছে, তোমাদের সমালোচনা যদি সহীহও হয় এবং সত্যিই অন্য লোক গোমরাহীতে লিপ্ত থাকে, তবুও তোমাদের জবাব তো দিতে হবে নিজ আমলেরই। তাই আপনার চিন্তা কর; অন্যের সমালোচনা করার ধান্ধায় থেক না। তাছাড়া সমাজে যখন দুষ্কৃতি ব্যাপক হয়ে যায়, তখন সংশোধনের সর্বোত্তম দাওয়াই এটাই যে, প্রত্যেকে অন্যের কাজের দিকে না তাকিয়ে আত্মসংশোধনের ফিকির করবে। ব্যক্তিবর্গের মধ্যে আত্মসংশোধনের চিন্তা জাগ্রত হলে এক প্রদীপ থেকে আরেক প্রদীপ জ্বলতে থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে গোটা সমাজের সংশোধন হয়ে যাবে।
১০৬

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا شَہَادَۃُ بَیۡنِکُمۡ اِذَا حَضَرَ اَحَدَکُمُ الۡمَوۡتُ حِیۡنَ الۡوَصِیَّۃِ اثۡنٰنِ ذَوَا عَدۡلٍ مِّنۡکُمۡ اَوۡ اٰخَرٰنِ مِنۡ غَیۡرِکُمۡ اِنۡ اَنۡتُمۡ ضَرَبۡتُمۡ فِی الۡاَرۡضِ فَاَصَابَتۡکُمۡ مُّصِیۡبَۃُ الۡمَوۡتِ ؕ تَحۡبِسُوۡنَہُمَا مِنۡۢ بَعۡدِ الصَّلٰوۃِ فَیُقۡسِمٰنِ بِاللّٰہِ اِنِ ارۡتَبۡتُمۡ لَا نَشۡتَرِیۡ بِہٖ ثَمَنًا وَّلَوۡ کَانَ ذَا قُرۡبٰی ۙ وَلَا نَکۡتُمُ شَہَادَۃَ ۙ اللّٰہِ اِنَّاۤ اِذًا لَّمِنَ الۡاٰثِمِیۡنَ ١۰٦

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূশাহা-দাতুবাইনিকুম ইযা-হাদারা আহাদাকুমুল মাওতু হীনাল ওয়াসিইইয়াতিছনা-নি যাওয়া-‘আদলিম মিনকুম আও আ-খারা-নি মিন গাইরিকুম ইন আনতুম দারাবতুম ফিল আরদিফাআসা-বাতকুম মুসীবাতুল মাওতি তাহবিছূনাহুমামিম বা‘দিস সালা-তি ফাইউকছিমা-নি বিল্লা-হি ইনিরতাবতুম লা-নাশতারী বিহী ছামানওঁ ওয়া লাও কা-না যা- কুরবা- ওয়ালা-নাকতুমুশাহা-দাতাল্লা-হি ইন্নাইযাল্লা মিনাল আ-ছিমীন।

হে মুমিনগণ! ৮০ যখন তোমাদের কারও মৃত্যুক্ষণ উপস্থিত হয়, তখন ওসিয়ত করার সময় তোমাদের মধ্যে সাক্ষী থাকবে তোমাদের মধ্য হতে দু’জন ন্যায়নিষ্ঠ লোক অথবা তোমাদের ছাড়া অন্যদের (অর্থাৎ অমুসলিদের) মধ্য হতে দু’জন, যদি তোমরা যমীনে সফরে থাক এবং সে অবস্থায় তোমাদের মৃত্যুর মুসিবত এসে যায়। অতঃপর তোমাদের কোনও সন্দেহ দেখা দিলে তোমরা সে দু’জনকে নামাযের পর আটকাতে পার। তারা আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলবে, আমরা এই সাক্ষ্যের বিনিময়ে কোনও আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে চাই না, যদিও সে কোনও আত্মীয় হয় এবং আমরা আল্লাহর সাক্ষ্য গোপন করব না। ৮১ করলে আমরা গুনাহগারদের মধ্যে গণ্য হব।

তাফসীরঃ

৮০. একটি বিশেষ ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ আয়াত নাযিল হয়েছে। ঘটনাটি এই বুদায়ল নামক এক মুসলিম ব্যবসা উপলক্ষে শাম গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে ছিল তামীম ও আদী নামক দু’জন খ্রিস্টান। সেখানে পৌঁছার পর বুদায়ল অসুস্থ হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তাঁর অনুমান হয়ে যায় যে, তিনি আর বাঁচবেন না। সুতরাং তিনি সঙ্গীদ্বয়কে ওসিয়ত করলেন, তারা যেন তাঁর মালামাল তার ওয়ারিশদের কাছে পৌঁছিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে তিনি এই সতর্কতা অবলম্বন করলেন যে, মালামালের একটা তালিকা তৈরি করে গোপনে সেই মালের মধ্যেই রেখে দিলেন। সে তালিকা সম্পর্কে সঙ্গীদ্বয়ের কোনও খবর ছিল না। তারা বুদায়লের ওয়ারিশদের কাছে তার মালপত্র পৌঁছিয়ে দিল। তার ভেতর সোনার গিল্টি করা একটা রুপার পেয়ালা ছিল, যার মূল্য ছিল এক হাজার দিরহাম। সেই পেয়ালাটি বের করে তারা নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছিল। ওয়ারিশগণ যখন বুদায়লের লেখা তালিকাটি হাতে পেল, তখন সেই পেয়ালাটির কথা জানতে পারল। সুতরাং তারা তামীম ও আদীর কাছে সেটি দাবী করল। তারা কসম খেযে বলল, মালামাল থেকে তারা কোনও জিনিস সরায়নি বা গোপন করেনি। কিন্তু কিছুদিন পর ওয়ারিশগণ জানতে পারল, তারা মক্কা মুকাররমায় এক স্বর্ণকারের কাছে পেয়ালাটি বিক্রি করে দিয়েছে। এর ভিত্তিতে যখন তামীম ও আদীকে চাপ দেওয়া হল, তখন তারা কথা ঘুরিয়ে দিল। বলল, আমরা আসলে পেয়ালাটি তার কাছ থেকে কিনে নিয়েছিলাম, কিন্তু ক্রয় সম্পর্কে যেহেতু আমাদের কোনও সাক্ষ্য-প্রমাণ ছিল না, তাই আমরা প্রথমে তার উল্লেখ সমীচীন মনে করিনি। এবার তারা যখন ক্রয় করার দাবীদার হল, তখন নিয়ম অনুসারে সাক্ষী পেশ করা তাদের জন্য অপরিহার্য ছিল, কিন্তু তারা তা পেশ করতে পারল না। ফলে বুদায়লের নিকটাত্মীয়দের মধ্যে থেকে দু’জন কসম করল যে, বুদায়ল পেয়ালটির মালিক ছিল, আর এ দুই খ্রিস্টান ক্রয়ের মিথ্যা দাবী করছে। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়ারিশদের পক্ষে রায় দিলেন। সে অনুযায়ী তামীম ও আদী পেয়ালাটির মূল্য আদায় করতে বাধ্য হল। ফায়সালাটি এই আয়াতের আলোকেই নিষ্পন্ন হয়েছে। আয়াতে এ রকম পরিস্থিতির জন্য একটা সাধারণ বিধানও বাতলে দেওয়া হয়েছে।
১০৭

فَاِنۡ عُثِرَ عَلٰۤی اَنَّہُمَا اسۡتَحَقَّاۤ اِثۡمًا فَاٰخَرٰنِ یَقُوۡمٰنِ مَقَامَہُمَا مِنَ الَّذِیۡنَ اسۡتَحَقَّ عَلَیۡہِمُ الۡاَوۡلَیٰنِ فَیُقۡسِمٰنِ بِاللّٰہِ لَشَہَادَتُنَاۤ اَحَقُّ مِنۡ شَہَادَتِہِمَا وَمَا اعۡتَدَیۡنَاۤ ۫ۖ اِنَّاۤ اِذًا لَّمِنَ الظّٰلِمِیۡنَ ١۰٧

ফাইন ‘উছিরা ‘আলাআন্নাহুমাছ তাহাক্কা ইছমান ফাআ-খারা-নি ইয়াকূমা-নি মাকামাহুমা-মিনাল্লাযীনাছতাহাক্কা ‘আলাইহিমুল আওলাইয়া-নি ফাইউকছিমা-নি বিল্লা-হি লাশাহা-দাতুনাআহাককুমিন শাহা-দাতিহিমা-ওয়া মা‘তাদাইনা ইন্নাইযাল্লা মিনাজ্জা-লিমীন।

তারপর যদি জানা যায়, তারা (মিথ্যা বলে) নিশ্চিত গুনাহে লিপ্ত হয়েছে, তবে যাদের বিপরীতে এই প্রথম ব্যক্তিদ্বয় গুনাহে লিপ্ত হয়েছে, তাদের মধ্য হতে দু’ ব্যক্তি এদের স্থানে (সাক্ষ্যদানের জন্য) দাঁড়াবে। ৮২ তারা আল্লাহর নামে কসম করে বলবে, ওই প্রথম ব্যক্তিদ্বয় অপেক্ষা আমাদের সাক্ষ্যই বেশি সত্য এবং (এই সাক্ষ্যদানে) আমরা সীমালংঘন করিনি। তা করলে আমরা জালিমদের মধ্যে গণ্য হব।

তাফসীরঃ

৮২. এ তরজমা করা হয়েছে ইমাম রাযী (রহ.)-এর গৃহীত ব্যাখ্যার ভিত্তিতে। এ হিসেবে الاوليان-এর দ্বারা প্রথম দুই সাক্ষীকে বোঝানো হয়েছে, যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিল। কিরাআত (অর্থাৎ কুরআনের পাঠরীতি)-এর ইমাম হাফস (রহ.)-এর পাঠ অনুসারে যদি আয়াতের গঠনপ্রণালী চিন্তা করা যায়, তবে এই ব্যাখ্যাই বেশি সঠিক মনে হয়। হাফস (রহ.) استحق ক্রিয়াপদটিকে কর্তৃবাচ্যরূপে পড়েছেন। অপর এক ব্যাখ্যায় الاوليان শব্দটিকে ওয়ারিশদের বিশেষণ ধরা হয়েছে, কিন্তু বাক্যের গঠন প্রণালী হিসেবে তার কারণ অতি অস্পষ্ট। কেননা তখন استحق ক্রিয়াপদটির ‘কর্তা’ খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। দেখুন রূহুল মাআনী; আল-বাহরুল মুহীত ও আত-তাফসীরুল কাবীর। অবশ্য استحق ক্রিয়াপদটি কর্মবাচ্যরূপে পড়া হলে সে তাফসীর সঠিক হয়।
১০৮

ذٰلِکَ اَدۡنٰۤی اَنۡ یَّاۡتُوۡا بِالشَّہَادَۃِ عَلٰی وَجۡہِہَاۤ اَوۡ یَخَافُوۡۤا اَنۡ تُرَدَّ اَیۡمَانٌۢ بَعۡدَ اَیۡمَانِہِمۡ ؕ  وَاتَّقُوا اللّٰہَ وَاسۡمَعُوۡا ؕ  وَاللّٰہُ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الۡفٰسِقِیۡنَ ٪ ١۰٨

যা-লিকা আদনা-আইঁ ইয়া’তূবিশশাহা-দাতি ‘আলা-ওয়াজহিহাআও ইয়াখা-ফূআন তুরাদ্দা আইমা-নুম বা‘দা আইমা-নিহিম ওয়াত্তাকুল্লা-হা ওয়াছমা‘ঊ ওয়াল্লা-হু লাইয়াহদিল কাওমাল ফা-ছিকীন।

এ পদ্ধতিতে বেশি আশা থাকে যে, লোকে (প্রথমেই) সঠিক সাক্ষ্য দেবে অথবা ভয় করবে যে, (মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে) তাদের শপথের পর পুনরায় অন্য শপথ নেওয়া হবে (যা আমাদের রদ করবে) এবং আল্লাহকে ভয় কর আর (তার পক্ষ হতে যা-কিছু বলা হয়েছে, তা কবুল করার নিয়তে) শোন। আল্লাহ অবাধ্যদেরকে হিদায়াত দান করেন না।
১০৯

یَوۡمَ یَجۡمَعُ اللّٰہُ الرُّسُلَ فَیَقُوۡلُ مَاذَاۤ اُجِبۡتُمۡ ؕ قَالُوۡا لَا عِلۡمَ لَنَا ؕ اِنَّکَ اَنۡتَ عَلَّامُ الۡغُیُوۡبِ ١۰٩

ইয়াওমা ইয়াজমা‘উল্লা-হুর রুছুলা ফাইয়াকূলুমা-যাউজিবতুম কা-লূলা-‘ইলমা লানা- ইন্নাকা আনতা ‘আল্লা-মুল গুয়ূব।

(সেই দিনকে স্মরণ কর), যে দিন আল্লাহ রাসূলগণকে একত্র করবেন এবং বলবেন, তোমাদেরকে কী জবাব দেওয়া হয়েছিল? তারা বলবে, আমাদের কিছু জানা নেই। যাবতীয় গুপ্ত বিষয়ের পরিপূর্ণ জ্ঞান তো আপনারই কাছে। ৮৩

তাফসীরঃ

৮৩. কুরআন মাজীদের এটা এক বিশেষ রীতি যে, সে যখন বিধি-বিধান বর্ণনা করে, তখন তার অনুসরণে উদ্বুদ্ধ ও আখেরাতের চিন্তা জাগ্রত করার লক্ষ্যে আখেরাতের কোনও বিষয়ও উল্লেখ করে দেয় কিংবা পূর্ববর্তী জাতিসমূহের আনুগত্য বা অবাধ্যতার বিষয়টা তুলে ধরে। সুতরাং এ স্থলেও ওসিয়ত সম্পর্কিত উল্লিখিত বিধানাবলী বর্ণনা করার পর এবার আখেরাতের কিছু দৃশ্য তুলে ধরা হচ্ছে। আর একটু আগেই যেহেতু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ভ্রান্ত আকীদা-বিশ্বাস সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, তাই আখেরাতে খোদ ঈসা আলাইহিস সালামের সঙ্গে আল্লাহ তা‘আলার যে কথোপকথন হবে বিশেষভাবে তা এস্থলে উল্লেখ করা হচ্ছে। প্রথম আয়াতে সমস্ত নবীকে লক্ষ্য করে আল্লাহ তা‘আলার একটি প্রশ্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি তাদেরকে প্রশ্ন করবেন, তাদের উম্মতগণ তাদের দাওয়াতের কী জবাব দিয়েছিল? এর উত্তরে তারা যে নিজেদের অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তার অর্থ হল, আমরা দুনিয়ায় তো তাদের বাহ্য অবস্থার ভিত্তিতে ফায়সালা করতে আদিষ্ট ছিলাম। সুতরাং কেউ নিজের ঈমানের দাবী করলে আমরা তাকে মুমিন গণ্য করতাম। কিন্তু তাদের অন্তরে কী ছিল, তা জানার কোনও উপায় আমাদের ছিল না। আজ তো ফায়সালা হবে অন্তরের অবস্থা অনুযায়ী। কাজেই আজ আমরা কারও সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারব না। কেননা অন্তরের গুপ্ত অবস্থা সম্পর্কে কেবল আপনিই অবগত। অবশ্য নবীগণের থেকে যখন মানুষের বাহ্যিক কার্যকলাপ সম্পর্কে সাক্ষ্য চাওয়া হবে, তখন তারা সে সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রদান করবেন, যা সূরা নিসা (৪ : ১৪), সূরা নাহল (১ ৬ : ৮৯) ইত্যাদিতে বর্ণিত হয়েছে।
১১০

اِذۡ قَالَ اللّٰہُ یٰعِیۡسَی ابۡنَ مَرۡیَمَ اذۡکُرۡ نِعۡمَتِیۡ عَلَیۡکَ وَعَلٰی وَالِدَتِکَ ۘ اِذۡ اَیَّدۡتُّکَ بِرُوۡحِ الۡقُدُسِ ۟ تُکَلِّمُ النَّاسَ فِی الۡمَہۡدِ وَکَہۡلًا ۚ وَاِذۡ عَلَّمۡتُکَ الۡکِتٰبَ وَالۡحِکۡمَۃَ وَالتَّوۡرٰىۃَ وَالۡاِنۡجِیۡلَ ۚ وَاِذۡ تَخۡلُقُ مِنَ الطِّیۡنِ کَہَیۡـَٔۃِ الطَّیۡرِ بِاِذۡنِیۡ فَتَنۡفُخُ فِیۡہَا فَتَکُوۡنُ طَیۡرًۢا بِاِذۡنِیۡ وَتُبۡرِیٴُ الۡاَکۡمَہَ وَالۡاَبۡرَصَ بِاِذۡنِیۡ ۚ وَاِذۡ تُخۡرِجُ الۡمَوۡتٰی بِاِذۡنِیۡ ۚ وَاِذۡ کَفَفۡتُ بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ عَنۡکَ اِذۡ جِئۡتَہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ فَقَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡہُمۡ اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ ١١۰

ইযকা-লাল্লা-হু ইয়া-‘ঈছাব না মারইয়ামাযকুর নি‘মাতী ‘আলাইকা ওয়া ‘আলা-ওয়ালিদাতিক । ইযআইঁ ইয়াত্তুকা বিরুহিল কুদুছি তুকালিলমুন না-ছা ফিল মাহদি ওয়া কাহলাওঁ ওয়া ইয‘আল্লামতুকাল কিতা-বা ওয়াল হিকমাতা ওয়াত্তাওরা-তা ওয়াল ইনজীলা ওয়া ইযতাখলুকুমিনাততীনি কাহাইআতিততাইরি বিইযনী ফাতানফুখু ফীহা-ফাতাকূনুতাইরাম বিইযনী ওয়াতুবরিউল আকমাহা ওয়াল আবরাসা বিইযনী ওয়া ইযতুখরিজুল মাওতা-বিইযনী ওয়া ইযকাফাফতুবানীইছরাঈলা ‘আনকা ইযজি’তাহুম বিলবাইয়িনা-তি ফাকা-লাল্লাযীনা কাফারূমিনহুম ইন হা-যা ইল্লাছিহরুম মুবীন।

(এটা ঘটবে সেই দিন) যখন আল্লাহ বলবেন, হে মারয়ামের পুত্র ঈসা! আমি তোমার ও তোমার মায়ের উপর যে অনুগ্রহ করেছিলাম, তা স্মরণ কর যখন আমি রূহুল কুদসের মাধ্যমে তোমার সাহায্য করেছিলাম। ৮৪ তুমি দোলনায় (থাকা অবস্থায়) মানুষের সাথে কথা বলতে এবং পরিণত বয়সেও এবং যখন আমি তোমাকে কিতাব ও হিকমত এবং তাওরাত ও ইনজীলের শিক্ষা দিয়েছিলাম এবং যখন আমার হুকুমে তুমি কাদা দ্বারা পাখির মত আকৃতি তৈরি করতে, তারপর তাতে ফুঁ দিতে, ফলে তা আমার হুকুমে (সত্যিকারের) পাখি হয়ে যেত এবং তুমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে আমার হুকুমে নিরাময় করতে এবং যখন আমার হুকুমে তুমি মৃতকে (জীবিতরূপে) বের করে আনতে এবং যখন আমি বনী ইসরাঈলকে তোমার থেকে নিরস্ত করেছিলাম যখন তুমি তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছিলে, আর তাদের মধ্যে যারা কাফির ছিল তারা বলেছিল এটা স্পষ্ট যাদু ছাড়া কিছুই নয়।

তাফসীরঃ

৮৪. সূরা বাকারায় ( ২ : ৮৭) এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সেখানে দ্রষ্টব্য।
১১১

وَاِذۡ اَوۡحَیۡتُ اِلَی الۡحَوَارِیّٖنَ اَنۡ اٰمِنُوۡا بِیۡ وَبِرَسُوۡلِیۡ ۚ قَالُوۡۤا اٰمَنَّا وَاشۡہَدۡ بِاَنَّنَا مُسۡلِمُوۡنَ ١١١

ওয়া ইযআওহাইতুইলাল হাওয়া-রিইয়ীনা আন আ-মিনূবী ওয়াবিরাছূলী কা-লূআমান্না-ওয়াশহাদ বিআন্নানা-মুছলিমূন।

যখন আমি হাওয়ারীদেরকে প্রেরণা দেই যে, তোমরা আমার প্রতি ও আমার রাসূলের প্রতি ঈমান আন, তখন তারা বলল, আমরা ঈমান আনলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা অনুগত।
১১২

اِذۡ قَالَ الۡحَوَارِیُّوۡنَ یٰعِیۡسَی ابۡنَ مَرۡیَمَ ہَلۡ یَسۡتَطِیۡعُ رَبُّکَ اَنۡ یُّنَزِّلَ عَلَیۡنَا مَآئِدَۃً مِّنَ السَّمَآءِ ؕ قَالَ اتَّقُوا اللّٰہَ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ١١٢

ইযকা-লাল হাওয়া-রিইয়ূনা ইয়া-‘ঈছাবনা মারইয়ামা হাল ইয়াছতাতী‘উ রাব্বুকা আইঁ ইউনাঝঝিলা ‘আলাইনা-মাইদাতাম মিনাছছামাই কা-লাত তাকুল্লা-হা ইন কুনতুম মু’মিনীন।

(এবং তাদের এ ঘটনার বর্ণনাও শোন যে,) যখন হাওয়ারীগণ বলেছিল, হে ঈসা ইবনে মারয়াম! আপনার প্রতিপালক কি আমাদের জন্য আসমান থেকে (খাদ্যের) একটা খাঞ্চা অবতীর্ণ করতে সক্ষম? ঈসা বলল, আল্লাহকে ভয় কর যদি তোমরা মুমিন হও। ৮৫

তাফসীরঃ

৮৫. অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার কাছে কোনও রকম মুজিযার ফরমায়েশ করা একজন মুমিনের পক্ষে কিছুতেই সমীচীন নয়। কেননা সাধারণভাবে এরূপ ফরমায়েশ তো কাফিররাই করত। অবশ্য তারা যখন স্পষ্ট করে দিল যে, ফরমায়েশের কারণ অবিশ্বাস নয়, বরং আল্লাহ তা‘আলার নি‘আমত দেখে পরিপূর্ণ প্রশান্তি লাভ ও তার শোকর আদায় করা, তখন ঈসা আলাইহিস সালাম দোয়া করলেন।
১১৩

قَالُوۡا نُرِیۡدُ اَنۡ نَّاۡکُلَ مِنۡہَا وَتَطۡمَئِنَّ قُلُوۡبُنَا وَنَعۡلَمَ اَنۡ قَدۡ صَدَقۡتَنَا وَنَکُوۡنَ عَلَیۡہَا مِنَ الشّٰہِدِیۡنَ ١١٣

কা-লূনুরীদুআন না’কুলা মিনহা-ওয়া তাতমাইন্না কুলূবুনা-ওয়া না‘লামা আন কাদ সাদাকতানা-ওয়া নাকূনা ‘আলাইহা-মিনাশশা-হিদীন।

তারা বলল, আমরা চাই যে, তা থেকে খাব এবং আমাদের অন্তর পরিপূর্ণ প্রশান্তি লাভ করবে এবং আমরা (পূর্বাপেক্ষা অধিক প্রত্যয়ের সাথে) জানতে পারব যে, আপনি আমাদেরকে যা-কিছু বলেছেন তা সত্য, আর আমরা এ বিষয়ে সাক্ষ্যদাতাদের অন্তর্ভুক্ত হব।
১১৪

قَالَ عِیۡسَی ابۡنُ مَرۡیَمَ اللّٰہُمَّ رَبَّنَاۤ اَنۡزِلۡ عَلَیۡنَا مَآئِدَۃً مِّنَ السَّمَآءِ تَکُوۡنُ لَنَا عِیۡدًا لِّاَوَّلِنَا وَاٰخِرِنَا وَاٰیَۃً مِّنۡکَ ۚ وَارۡزُقۡنَا وَاَنۡتَ خَیۡرُ الرّٰزِقِیۡنَ ١١٤

কা-লা ‘ঈছাবনুমারইয়ামাল্লা-হুম্মা রাব্বানাআনঝিল ‘আলাইনা-মাইদাতাম মিনাছছামাই তাকূনুলানা-‘ঈদাল লিআওওয়ালিনা-ওয়া আ-খিরিনা-ওয়া আ-ইয়াতাম মিনকা ওয়ারঝুকনা-ওয়া আনতা খাইরুর রা-ঝিকীন।

(সুতরাং) ঈসা ইবনে মারয়াম বলল, হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য আসমান থেকে একটি খাঞ্চা অবতীর্ণ করুন, যা হবে আমাদের এবং আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য আনন্দ উদযাপনের কারণ এবং আপনার পক্ষ হতে একটি নিদর্শন। আমাদেরকে (এ নি‘আমত) অবশ্যই প্রদান করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা।
১১৫

قَالَ اللّٰہُ اِنِّیۡ مُنَزِّلُہَا عَلَیۡکُمۡ ۚ  فَمَنۡ یَّکۡفُرۡ بَعۡدُ مِنۡکُمۡ فَاِنِّیۡۤ اُعَذِّبُہٗ عَذَابًا لَّاۤ اُعَذِّبُہٗۤ اَحَدًا مِّنَ الۡعٰلَمِیۡنَ ٪ ١١٥

কা-লাল্লা-হু ইন্নী মুনাঝঝিলুহুা-‘আলাইকুম ফামাইঁ ইয়াকফুর বা‘দুমিনকুম ফাইন্নীউ‘আযযিবুহু ‘আযা-বাল লাউ‘আযযিবুহু-আহাদাম মিনাল ‘আ-লামীন।

আল্লাহ বললেন, আমি অবশ্যই তোমাদের প্রতি সে খাঞ্চা অবতীর্ণ করব, কিন্তু তারপর তোমাদের মধ্যে যে-কেউ কুফুরী করবে আমি তাকে এমন শাস্তি দেব, যে শাস্তি বিশ্ব জগতের অন্য কাউকে দেব না। ৮৬

তাফসীরঃ

৮৬. অতঃপর আসমান থেকে সে রকম খাঞ্চা অবতীর্ণ করা হয়েছিল কি না সে সম্পর্কে কুরআন মাজীদে কিছুই বলা হয়নি। তিরমিযী শরীফে আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাযি.)-এর উক্তি বর্ণিত হয়েছে যে, খাঞ্চা অবতীর্ণ করা হয়েছিল। (তাতে ছিল রুটি ও গোশত। আদেশ করা হয়েছিল, কেউ যেন তা থেকে আগামীকালের জন্য সঞ্চয় করে না রাখে ও খেয়ানত না করে। কিন্তু তারা সে আদেশ অমান্য করে। ফলে তাদেরকে বানর ও শূকর বানিয়ে দেওয়া হয়) এভাবে তাদেরকে দুনিয়াতেই কঠিন শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।
১১৬

وَاِذۡ قَالَ اللّٰہُ یٰعِیۡسَی ابۡنَ مَرۡیَمَ ءَاَنۡتَ قُلۡتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُوۡنِیۡ وَاُمِّیَ اِلٰہَیۡنِ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ؕ قَالَ سُبۡحٰنَکَ مَا یَکُوۡنُ لِیۡۤ اَنۡ اَقُوۡلَ مَا لَیۡسَ لِیۡ ٭ بِحَقٍّ ؕ؃ اِنۡ کُنۡتُ قُلۡتُہٗ فَقَدۡ عَلِمۡتَہٗ ؕ تَعۡلَمُ مَا فِیۡ نَفۡسِیۡ وَلَاۤ اَعۡلَمُ مَا فِیۡ نَفۡسِکَ ؕ اِنَّکَ اَنۡتَ عَلَّامُ الۡغُیُوۡبِ ١١٦

ওয়া ইযকা-লাল্লা-হু ইয়া-‘ঈছাবনা মারইয়ামা আআনতা কুলতা লিন্না-ছিততাখিযূনী ওয়া উম্মিয়া ইলা-হাইনি মিন দূ নিল্লা-হি কা-লা ছুবহা-নাকা মা-ইয়াকূনুলীআন আকূলা মা-লাইছা লী বিহাক্কিন ইন কুনতুকু লতুহূফাকাদ ‘আলিমতাহূ তা‘লামুমাফী নাফছী ওয়ালাআ‘লামুমা-ফী নাফছিকা ইন্নাকা আনতা ‘আল্লা-মুল গুয়ূব।

এবং (সেই সময়ের বর্ণনাও শোন,) যখন আল্লাহ বলবেন, হে ঈসা ইবনে মারয়াম! তুমিই কি মানুষকে বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত আমাকে ও আমার মা’ কে মাবুদরূপে গ্রহণ কর? ৮৭ সে বলবে, আমি তো আপনার সত্তাকে (শিরক থেকে) পবিত্র মনে করি। যে কথা বলার কোনও অধিকার নেই, সে কথা বলার সাধ্য আমার ছিল না। আমি এরূপ বলে থাকলে আপনি অবশ্যই তা জানতেন। আমার অন্তরে যা গোপন আছে আপনি তা জানেন, কিন্তু আপনার গুপ্ত বিষয় আমি জানি না। নিশ্চয়ই যাবতীয় গুপ্ত বিষয়ে আপনি সম্যক জ্ঞাত।

তাফসীরঃ

৮৭. খ্রিস্টানদের মধ্যে একদল তো হযরত মারয়াম আলাইহাস সালামকে তিন খোদার একজন সাব্যস্ত করত: তাঁর পূজা করত, কিন্তু অন্যান্য দল তাকে তিন খোদার একজন না বললেও গির্জায় তার ছবি টানিয়ে যেভাবে তার পূজা করত, তা তাকে খোদা সাব্যস্ত করারই নামান্তর ছিল। সে কারণেই এ প্রশ্ন করা হয়েছে।
১১৭

مَا قُلۡتُ لَہُمۡ اِلَّا مَاۤ اَمَرۡتَنِیۡ بِہٖۤ اَنِ اعۡبُدُوا اللّٰہَ رَبِّیۡ وَرَبَّکُمۡ ۚ وَکُنۡتُ عَلَیۡہِمۡ شَہِیۡدًا مَّا دُمۡتُ فِیۡہِمۡ ۚ فَلَمَّا تَوَفَّیۡتَنِیۡ کُنۡتَ اَنۡتَ الرَّقِیۡبَ عَلَیۡہِمۡ ؕ وَاَنۡتَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ شَہِیۡدٌ ١١٧

মা-কুলতুলাহুম ইল্লা-মাআমারতানী বিহীআনি‘বুদুল্লা-হা রাববী ওয়া রাব্বাকুম ওয়া কুনতু‘আলাইহিম শাহীদাম মা-দুমতুফীহিম ফালাম্মা-তাওয়াফফাইতানী কুনতা আনতার রাকীবা ‘আলাইহিম ওয়া আনতা ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন শাহীদ।

আপনি আমাকে যে বিষয়ের আদেশ করেছিলেন তা ছাড়া অন্য কিছু আমি তাদেরকে বলিনি। তা এই যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, যিনি আমারও প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক এবং যত দিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম, তত দিন আমি তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত ছিলাম। তারপর আপনি যখন আমাকে তুলে নিয়েছেন তখন আপনি স্বয়ং তাদের তত্ত্বাবধায়ক থেকেছেন। বস্তুত আপনি সব কিছুর সাক্ষী।
১১৮

اِنۡ تُعَذِّبۡہُمۡ فَاِنَّہُمۡ عِبَادُکَ ۚ وَاِنۡ تَغۡفِرۡ لَہُمۡ فَاِنَّکَ اَنۡتَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ١١٨

ইন তু‘আযযিবহুম ফাইন্নাহুম ‘ইবা-দুকা ওয়া ইন তাগফির লাহুম ফাইন্নাকা আনতাল ‘আঝীঝুল হাকীম।

যদি আপনি তাদেরকে শাস্তি দেন, তবে তারা তো আপনারই বান্দা। আর যদি তাদেরকে ক্ষমা করেন, তবে নিশ্চয়ই আপনিই মহাপরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।
১১৯

قَالَ اللّٰہُ ہٰذَا یَوۡمُ یَنۡفَعُ الصّٰدِقِیۡنَ صِدۡقُہُمۡ ؕ لَہُمۡ جَنّٰتٌ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَاۤ اَبَدًا ؕ رَضِیَ اللّٰہُ عَنۡہُمۡ وَرَضُوۡا عَنۡہُ ؕ ذٰلِکَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ ١١٩

কা-লাল্লা-হু হা-যা-ইয়াওমুইয়ানফা‘উস সা-দিকীনা সিদকুহুম লাহুম জান্না-তুন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহাআবাদার রাদিয়াল্লা-হু ‘আনহুম ওয়া রাদূ ‘আনহু যা-লিকাল ফাওঝুল ‘আজীম।

আল্লাহ বলবেন, এটা সেই দিন, যে দিন সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যতা উপকৃত করবে। তাদের জন্য রয়েছে এমন সব উদ্যান, যার তলদেশে নহর প্রবহমান। তাতে তারা সর্বদা থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটাই মহা সাফল্য।
১২০

لِلّٰہِ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا فِیۡہِنَّ ؕ  وَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ٪ ١٢۰

লিল্লা-হি মুলকুছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়া মা- ফীহিন্না ওয়া হুওয়া ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।

আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী এবং এ দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে, তার রাজত্ব কেবল আল্লাহরই। তিনি সবকিছুর উপর পরিপূর্ণ ক্ষমতাবান।