বাংলা কোরআন পড়ার বিধান
প্রশ্নঃ ১৭১১৪৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কুরআন শরীফের বাংলা উচ্চারণ কেনা এবং বিক্রি করার হুকুম কি❓
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
কোরআন মাজীদের পবিত্রতা, সহীহ তিলাওয়াত এবং এর আসল ইবারত (পাঠ) সংরক্ষণ করার গুরুত্ব ইসলামে অপরিসীম। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনকে আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করেছেন। তাই কোরআনের অর্থ ও মর্ম অনুধাবনের পাশাপাশি এর মূল আরবি শব্দ ও ইবারত হুবহু সংরক্ষণ করা উম্মতের জন্য আবশ্যক। আরবি ব্যতীত অন্য কোনো ভাষার বর্ণমালা দিয়ে মূল কোরআন হুবহু তিলাওয়াত করা অসম্ভব।
আরবি ভাষার এমন অনেক বর্ণ রয়েছে যা বাংলা বর্ণমালায় সঠিকভাবে উচ্চারণ বা প্রকাশ করা যায় না। যেমন: ت (তা) ও ط (ত্বা), هـ (গোল হা) ও ح (বড় হা), ء (হামযাহ) ও ع (আইন), এবং ك (কাফ) ও ق (ক্বাফ)। বাংলায় লিখতে গেলে এই সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো মুছে যায়। ফলে শব্দের অর্থ মারাত্মকভাবে বিকৃত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম।
পবিত্র কোরআন সংরক্ষণের জন্য হযরত উসমান (রা.)-এর যুগে গৃহীত নির্ধারিত লিখনরীতি বা 'রসমু উসমানী' অনুসরণ করা আবশ্যক। উসমানী মাসহাফ ব্যতীত অন্য কোনো তরিকায় কোরআন লেখা ঠিক নয়।
এছাড়া, আরবি লেখার নিয়ম ডান দিক থেকে, আর বাংলা লেখা হয় বাম দিক থেকে। ফলে কেবল বাংলা হরফে কোরআন লিখলে কোরআনের মূল লিখনরীতি ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয়।
শুধুমাত্র বাংলা হরফে লেখা কোরআন: মূল আরবি ইবারত ছাড়া শুধু বাংলা বর্ণে কোরআন লেখা এবং তা কেনাবেচা করা না-জায়েয। কারণ এটি কোরআন বিকৃতির কাজে পরোক্ষ সহযোগিতা করার শামিল।
যদি মূল আরবি ইবারত ঠিক রেখে নিচে বাংলা উচ্চারণ দেওয়া থাকে, তবে এই ধরনের বই বিক্রি করা জায়েয হলেও তা এড়িয়ে চলাই উত্তম ও সতর্কতামূলক। কারণ এটি সাধারণ পাঠকদের ভুল উচ্চারণে তিলাওয়াতে অভ্যস্ত করে তোলে।
যাঁরা আরবিতে কোরআন পড়তে পারেন না, তাঁদের জন্য বিকল্প পথ হিসেবে বাংলা উচ্চারণ দেখে কোরআন তিলাওয়াত করা কোনো সঠিক সমাধান নয়। বরং তাঁদের করণীয় হলো: ধৈর্যের সাথে সময় নিয়ে কোনো যোগ্য শিক্ষকের নিকট থেকে সহীহভাবে আরবি তিলাওয়াত শেখা। শেখার এই চেষ্টা ও কষ্ট করার জন্য আল্লাহ তাআলা তিলাওয়াতকারীকে দ্বিগুণ সওয়াব দান করেন। অনুধাবনের জন্য কোরআনের বাংলা অনুবাদ ও তাফসীর অবশ্যই পড়া যাবে, তবে তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে মূল আরবিই পাঠ করতে হবে।
পবিত্র কোরআনের হুবহু শব্দ ও সুর সংরক্ষণ করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। ভুল উচ্চারণ ও বিকৃতির হাত থেকে আল্লাহ তাআলার কালামকে রক্ষা করতে হলে আমাদের সরাসরি আরবি হরফেই তিলাওয়াত শিখতে হবে এবং বাংলা উচ্চারণে কোরআন লেখা ও পড়ার প্রবণতা থেকে বিরত থাকতে হবে।
(فتح القدیر: ۱/۳۴۸)
فیہ أن اعتاد القراء ة بالفارسیة أو أراد أن یکتب مصحفًا بہا یُمنع وإن فعل في آیةٍ أو آیتین لا․ فإن کتب القرآن وتفسیر کل حرف وترجمتہ جاز․
جواب نمبر: 159632
بسم الله الرحمن الرحيم
Fatwa:713-649/M=7/1439
(۱تا ۳) قرآن کریم کو عربی کے علاوہ کسی اور زبان میں لکھنا اور پڑھنا جائز نہیں، کیوں کہ حروف کے بدلنے سے معانی بدل جاتے ہیں اور دوسری زبانوں میں متبادل حروف نہیں ہیں مثلاً ج، ذ، ظ، ز اور ث، س، ص کے متبادل حروف دیگر زبانوں میں نہیں جو ان کا معنی ادا کرسکیں نیز دوسری زبان میں لکھنے سے عثمانی رسم الخط کی رعایت بھی نہیں ہوپاتی اور عربی حروف کے صفات ومخارج بھی ادا نہیں ہوپاتے، اس لیے برمی زبان میں بھی قرآن لکھنا اور پڑھنا جائز نہیں اور یہ بھی صحیح نہیں کہ قرآن کا عربی متن اوپر لکھا جائے اور نیچے برمی زبان میں قرآن لکھا جائے اور برمی زبان ہی سے تلاوت کی جائے ہاں ترجہ، برمی زبان میں لکھنے پڑھنے میں حرج نہیں بشرطیکہ قرآن کا متن عربی زبان میں ہو اور عربی ہی میں تلاوت کی جائے، برمی زبان میں قرآن لکھنے والے کو سمجھانا چاہیے اور اس کو منع کرنا چاہیے اور برمی زبان میں لکھے ہوئے قرآن کو بند کرکے رکھ دینا چاہئے اس سے تلاوت نہیں کرنی چاہیے۔
واللہ تعالیٰ اعلم
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন