বাচ্চাদের দুষ্টামি কমানোর কুরআনী আমল
প্রশ্নঃ ১৭১১৬১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার ছেলের বয়স ৪ বছর। ও বরাবরই চঞ্চল, কিন্তু ইদানীং খুব দুষ্টুমি করছে—সবার গায়ে হাত তোলে, প্রচণ্ড রাগ দেখায়, রেগে গিয়ে জিনিসপত্র ভেঙে ফেলে এবং একটা কথাও শোনে না। অবাধ্য সন্তানকে ভালো ও শান্ত করার জন্য শরিয়ত অনুযায়ী কী কী করা যায়? আমাকে একটু পথ দেখাবেন আমি কী করব? আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে ওর কপালে হাত রেখে 'আশ-শাহীদু' (বা ইয়া শাহীদু) পড়ি। আর কী কী আমল বা উপায় অবলম্বন করলে ও ভালো হবে এবং ওর রাগ কমবে? উত্তরের আশায় থাকলাম, দয়া করে জানাবেন
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
৪ বছর বয়সে শিশুরা নিজেদের অনুভূতি পুরোপুরি প্রকাশ করতে না পেরে অনেক সময় জেদ, রাগ, ভাঙচুর বা হাত তোলার মতো আচরণ করে। দোয়া হলো মুমিনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। নবী কারিম ﷺ হাসান ও হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে কোলে নিয়ে বা তাদের মাথায় হাত রেখে শয়তান ও বদনজর থেকে রক্ষার জন্য এই দোয়া পড়ে ফুঁ দিতেন। আপনি এক ছেলের জন্য এভাবে পড়তে পারেন:
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ
অর্থ: "আমি তোমাকে আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের আশ্রয়ে সমর্পণ করছি সব ধরনের শয়তান, ক্ষতিকর কীট-পতঙ্গ এবং অনিষ্টকারী বদনজর থেকে"।-বুখারি, ৩৩৭১
এটি প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় শিশুর মাথায় হাত রেখে পড়ে ফুঁ দিন।
সুরা আল-ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি এবং শেষ তিন সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস পড়ে শিশুর শরীরে বা পানিতে ফুঁ দিয়ে তা পান করাতে পারেন।
নামাজের পর এই কোরআনিক দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়ুন:
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
অর্থ: "হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্য থেকে আমাদের চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য অনুসরণযোগ্য করুন"।-সূরা ফুরকান, ৭৪
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاء
অর্থ: "হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সালাত কায়েমকারী বানান এবং আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও; হে আমাদের প্রতিপালক! আমার দোয়া কবুল করুন"। -সূরা ইবরাহীম, ৪০
রাসুলুল্লাহ ﷺ শিশুদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«مَنْ لَا يَرْحَمْ لَا يُرْحَمْ»
অর্থ: "যে দয়া করে না, সে দয়া পায় না"। -বুখারি, ৬০১৩
শিশুকে প্রতিদিন জড়িয়ে ধরা, কপালে চুম্বন করা এবং ভালোবাসা প্রকাশ করা তার মানসিক অস্থিরতা দূর করতে সাহায্য করে।
৪ বছরের অবুঝ শিশুকে মারধর করলে বা অতিরিক্ত রাগারাগি করলে শিশুর ভেতরের জেদ ও আক্রমণাত্মক আচরণ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। শিশু যখন তীব্র রেগে যায় বা ভাঙচুর শুরু করে, তখন সাথে সাথে পালটা রাগ বা চিৎকার না করে তাকে শক্তভাবে কিন্তু নরম স্পর্শে জড়িয়ে ধরে রাখুন অথবা তাকে আঘাত পাওয়া থেকে নিরাপদ রাখুন।
বর্তমান সময়ে শিশুদের অতিরিক্ত রাগ ও ভাঙচুরের একটি প্রধান কারণ মোবাইল ফোন ও মারমুখী কার্টুন দেখা। এগুলো থেকে শিশুকে পুরোপুরি দূরে রাখুন বা সীমিত করুন।
শিশু যখন শান্ত থাকে বা কোনো ভালো কাজ করে, তখন তার প্রশংসা করুন এবং তাকে ছোটখাটো উপহার দিন।
শিশুরা বড়দের আচরণ অনুকরণ করে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচি বা রাগারাগি প
রিহার করা অত্যন্ত জরুরি।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন