১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করে বেশি দিন অবস্থান করলে নামাযের হুকুম কী?
প্রশ্নঃ ১৭০৭৭৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি বান্দরবান জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। খেদমতের স্থায়ী কার্যালয় হাটহাজারী। দেশের যেকোনো জেলা-থানায় দায়িত্ব পালন করতে হয়। যখন যে জেলায় দায়িত্ব পালন করি সেখানে কতদিন থাকবো তার কোনো সময়সীমা নির্ধারণ থাকেনা। এখন প্রশ্ন হলো আমার নামাজ মুসাফিরের হবে না কি মুক্বিমের?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
মূলনীতি: কোনো ব্যক্তি সফরের দূরত্ব অতিক্রম করে কোনো স্থানে একটানা ১৫ দিন বা তার বেশি অবস্থানের দৃঢ় নিয়ত করলে মুকীম হিসেবে পূর্ণ নামায আদায় করবেন। আর ১৫ দিনের কম অবস্থানের নিয়ত করলে মুসাফির হিসেবে গন্য হবেন এবং কসর নামায আদায় করবেন।
১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করে বেশি থাকা হয়ে গেলে
তবে প্রথমে ১৫ দিনের কম অবস্থানের নিয়ত করলে, পরে কাজের প্রয়োজনে দুই-চার দিন করে মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ দিনের বেশি অবস্থান করলেও তিনি সেখানে মুসাফিরই থাকবেন, যতক্ষণ না তিনি একটানা ১৫ দিন অবস্থানের দৃঢ় নিয়ত করেন।
কারণ, মুকীম হওয়ার জন্য কোনো স্থানে একটানা ১৫ দিন অবস্থানের দৃঢ় নিয়ত করা শর্ত; শুধু অবস্থানের মেয়াদ ১৫ দিনের বেশি হয়ে গেলেই মুকীম হওয়া যায় না।
অতএব প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী, আপনি যেহেতু দেশের বিভিন্ন জেলা-থানায় দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানে কত দিন অবস্থান করবেন, তা আগে থেকে নির্ধারিত থাকে না, তাই কোনো জেলায় গিয়ে ১৫ দিনের কম অবস্থানের নিয়ত করলে কাজের ব্যস্ততার কারণে দুই-চার দিন করে মেয়াদ বাড়াতে বাড়াতে ১৫ দিনের বেশি অবস্থান করলেও আপনি মুসাফির থাকবেন এবং কসর নামায আদায় করবেন।
তবে কোনো জেলায় গিয়ে একটানা ১৫ দিন বা তার বেশি অবস্থানের দৃঢ় নিয়ত করলে সেখানে মুকীম হিসেবে গণ্য হবেন এবং পূর্ণ নামায আদায় করবেন।
الأدلة الشرعية
(فتاویٰ ہندیہ: كتاب الصلوة، الباب الخامس عشر: في صلاة المسافر، ج:1، ص:139، ط: رشيدية)
"ولا يزال على حكم السفر حتى ينوي الإقامة في بلدة أو قرية خمسة عشر يوما أو أكثر، كذا في الهداية".
(البنایۃ شرح ہدایۃ: كتاب الصلاة، باب صلاة المسافر، ج:3، ص:17، ط:دار الكتب العلمية)
"قال: وفرض المسافر في الرباعية ركعتان لا يزيد عليهما..... ولا يزال على حكم السفر حتى ينوي الإقامة في بلدة أو قرية خمسة عشر يوما أو أكثر".
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন