তালাকের নিয়ত ছাড়া কেনায়া শব্দের হুকুম
প্রশ্নঃ ১৬৯৬৪৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি আমার স্ত্রীর সাথে মোবাইলে পারিবারিক ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমার স্ত্রী আমাকে বলেছে' যদি সমস্যা হয় ছেড়ে দিলেই তো হয় । আমি তালাকের নিয়ত ছাড়া ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বলছি যাও ছেড়ে দিলাম ( আমি যাও ছেড়ে দিলাম একথা যে কয় বার বলছি এটা আমার স্মরণ নাই) কি করবো
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
তালাকের শব্দ দুই ধরনের,
১. সরীহ
২.কেনায়া
সরীহ শব্দে সাধারণত নিয়তের প্রয়োজন হয় না; কিন্তু কেনায়া শব্দের ক্ষেত্রে তালাকের নিয়ত থাকলে তালাক সংঘটিত হয়, আর তালাকের নিয়ত না থাকলে তালাক সংঘটিত হয় না।
* অতএব, প্রশ্নে বর্ণিত সুরতে স্ত্রী যখন বলেছে, “যদি সমস্যা হয়, ছেড়ে দিলেই তো হয়”—এর পর আপনি যদি তালাকের নিয়ত ছাড়া শুধু ভয় দেখানো বা ধমক দেওয়ার উদ্দেশ্যে “যাও, ছেড়ে দিলাম” বলে থাকেন, তাহলে আপনার বর্ণনা সত্য হলে তালাক সংঘটিত হয়নি।
আর যদি “যাও, ছেড়ে দিলাম” বলার সময় তালাকের নিয়ত থেকে থাকে, তাহলে এক তালাকে বায়েন পতিত হবে।
* এব্যপারে মিথ্যা বলার ভয়াবহতা:
তালাকের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর বিষয়ে মিথ্যা বলা বা সত্য গোপন করা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, তালাক হওয়ার পরেও যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বলে যে "তালাক হয়নি", তবে সে আল্লাহর নির্ধারিত বিধানের সাথে খেলা করে।
তালাক পতিত হয়ে যাওয়ার পরও যদি স্বামী-স্ত্রী মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নিজেদের সম্পর্ক বজায় রাখে এবং সংসার চালিয়ে যায়, তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে তাদের এই একত্রবাস কোনোভাবেই বৈধ বা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে গণ্য হবে না। ফলে তারা স্থায়ী ও ধারাবাহিক ‘জেনার’ মতো মারাত্মক গোনাহে লিপ্ত বলে বিবেচিত হবে।
দুনিয়ার সামান্য স্বার্থ, অহংকার বা জেদের বশে বৈবাহিক সম্পর্কের পবিত্রতা রক্ষায় মিথ্যা বলা বা ফতোয়ার প্রশ্নে মিথ্যা বলে প্রতারণা করার পরিণতি আখিরাতে অত্যন্ত ভয়াবহ ও অবধারিত আজাবের মুখোমুখি করবে। তাই তালাকের মতো গুরুতর বিষয়ে শতভাগ সততা ও তাকওয়া বজায় রাখা আবশ্যক, কোনোভাবেই মিথ্যাচার করা চলবে না।
(فتاوی شامی: کتاب الطلاق، باب الکنایات، ج:3، ص:300/301/302، ط:ایج ایم سعید)
"(ما لم يوضع له) أي الطلاق (واحتمله) وغيره (ف) الكنايات (لا تطلق بها) قضاء (إلا بنية أو دلالة الحال) وهي حالة مذاكرة الطلاق أو الغضب.
(اللباب في شرح الكتاب: 3 / 44، کتاب الطلاق، ط؛ المکتبۃ العلمیہ)
والكنايات ثلاثة أقسام: قسم منها يصلح جوابا ولا يصلح رداً ولا شتما، وهي ثلاثة ألفاظ: أمرك بيدك، اختاري، اعتدي، ومرادفها، وقسم يصلح جوابا وشتما ولا يصلح رداً، وهي خمسة ألفاظ: خلية، برية، بتة، بائن، حرام، ومرادفها، وقسم يصلح جوابا ورداً ولا يصلح سباً وشتما؛ وهي خمسة أيضا: اخرجي، اذهبي، اغربي، قومي، تقنعي، ومرادفها، ففي حالة الرضا لا يقع الطلاق بشيء منها إلا بالنية، والقول قوله في عدم النية، وفي حالة مذاكرة الطلاق يقع بكل لفظ لا يصلح للرد وهو القسم الأول والثاني، وفي حالة الغضب لا يقع بكل لفظ يصلح للسب والرد وهو القسم الثاني والثالث، ويقع بكل لفظ لا يصلح لهما بل للجواب فقط وهو القسم الأول. كما في الإيضاح.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন