মানুষ কার ইচ্ছায় গুনাহ করে?
প্রশ্নঃ ১৬৭৭৫৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সুরা মুদ্দাস্সিরের ৫৬ নং আয়াত,সুরা দাহরের ৩০ নং আয়াত,সুরা তাকবীরের ২৯ নং আয়াত । এই আয়াত গুলোর অর্থ পড়লে আমার মনে হয় যে আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া আমাদের কোনো ইচ্ছাই হয় না, তাই আমরা যে পাপ কাজের ইচ্ছা করি সেটা নিশ্চয় আল্লাহর ইচ্ছা?
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ওয়েস্ট বেঙ্গল ৭৪৩৩৩৬
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
আমরা যে পাপ কাজের ইচ্ছা করি সেটি আল্লাহর সন্তুষ্টি বা পছন্দ নয়। তবে মহাবিশ্বের নিয়ম অনুযায়ী, আল্লাহর দেওয়া ‘অনুমতি’ বা ‘সৃষ্টিগত ইচ্ছা’ ছাড়া কোনো কিছুই বাস্তবে ঘটা সম্ভব নয়।
ইসলামী আকীদা (বিশ্বাস) অনুযায়ী আল্লাহর ইচ্ছা দুই প্রকার। এটি ভালোভাবে বুঝলে আপনার মনের এই দ্বিধা পুরোপুরি দূর হয়ে যাবে।
আল্লাহর ইচ্ছা দুই প্রকার
১. সৃষ্টিগত ইচ্ছা (ইরাদা কাওনিয়্যাহ):
এর মানে হলো অনুমতি দেওয়া। আল্লাহ মানুষকে ভালো ও মন্দ—উভয় কাজ করার স্বাধীনতা দিয়েছেন। আপনি যখন কোনো পাপ করার ইচ্ছা করেন, আল্লাহ আপনাকে জোর করে থামিয়ে দেন না। তিনি আপনার ইচ্ছাটিকে বাস্তবে ঘটার ‘অনুমতি’ দেন মাত্র। আল্লাহ অনুমতি না দিলে মহাবিশ্বে একটি পাতাও নড়তে পারে না।
২. পছন্দগত ইচ্ছা বা সন্তুষ্টি (ইরাদা শারইয়্যাহ):
এর মানে হলো আল্লাহ কোন কাজটি ভালোবাসেন বা পছন্দ করেন। আল্লাহ কেবল ভালো কাজ, ইবাদত এবং পুণ্য পছন্দ করেন। তিনি কোনোভাবেই পাপ, অন্যায় বা কুফর (অবিশ্বাস) পছন্দ করেন না।
একটি সহজ উদাহরণ: একজন শিক্ষক তার ক্লাসের ছাত্রদের পরীক্ষার খাতায় যা খুশি লেখার স্বাধীনতা (অনুমতি) দিলেন। কোনো ছাত্র যদি ভুল উত্তর লেখে, তবে শিক্ষকের দেওয়া স্বাধীনতার কারণেই সে তা লিখতে পেরেছে। কিন্তু শিক্ষক কি চান ছাত্রটি ভুল লিখুক? একদমই না। শিক্ষক চান সে সঠিক উত্তর লিখুক। ঠিক একইভাবে, আল্লাহ পাপ করার সুযোগ বা ক্ষমতা আমাদের দিয়েছেন, কিন্তু পাপ করাটা তিনি পছন্দ করেন না।
আয়াতগুলোর আসল অর্থ কী?
আপনি যে তিনটি আয়াত উল্লেখ করেছেন (সূরা মুদ্দাসসির: ৫৬, সূরা ইনসান: ৩০, এবং সূরা তাকবীর: ২৯), সেগুলোর মূল উদ্দেশ্য মানুষকে অহংকার থেকে দূরে রাখা।
মানুষের সীমাবদ্ধতা:
এই আয়াতগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা নিজেদের ক্ষমতায় আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে গিয়ে কিছুই করতে পারি না।
ভালো কাজের তাওফিক:
আমরা যে ভালো কাজ করার বা হেদায়েত পাওয়ার ইচ্ছা করি, সেটাও আল্লাহর দয়া এবং তাওফিক (সুযোগ) ছাড়া সম্ভব নয়।
অহংকার দূর করা:
মানুষ যেন ভালো কাজ করে অহংকার না করে যে "এটা আমার একার ক্ষমতায় হয়েছে", সেজন্যই বলা হয়েছে—সব ইচ্ছার উপরে আল্লাহর ইচ্ছা।
৩. ইচ্ছা এবং দায় কার?
আল্লাহ মানুষকে একটি ‘সীমিত স্বাধীনতা’ বা ‘বাছাই করার ক্ষমতা’ (Free Will) দিয়েছেন।
সেই ইচ্ছা ও চেষ্টা ব্যয় করে মানুষ পাপ বা পুণ্য করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যখন সে সিদ্ধান্ত নেয় তখন বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য আল্লাহ কেবল ক্ষমতা ও সুযোগ তৈরি করেন।
যেহেতু পাপের ইচ্ছা এবং সিদ্ধান্তটি আপনার নিজের, তাই এর ভালো বা মন্দ ফলাফলের দায়ও সম্পূর্ণ আপনার। আল্লাহ কাউকেই জোর করে পাপ করান না।
তাই সংক্ষেপে বলা যায়, পাপ কাজের উৎস এবং সিদ্ধান্ত আপনার নিজের, কিন্তু সেটি ঘটার অনুমতি ও ক্ষমতা আল্লাহর তরফ থেকে আসে। মানুষের এই স্বাধীনতার কারণেই পরকালে বিচার, পুরস্কার এবং শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১