ভাগিয়ে বিবাহ করা
প্রশ্নঃ ১৬৬৬৯৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, মেয়েকে (১৩) যদি কোন ছেলে (১৭) পালিয়ে নিয়ে গিয়ে কোর্টে বিবাহ করে। বিবাহের সময় মেয়ের পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিল না এমনকি তারা কিছু জানতোও না। শুধু ছেলে,ছেলের বন্ধু ও মেয়ে এই তিনজন উপস্থিত ছিল।মেয়ে পরিবার পরবর্তীতে জানতে পারে এবং একপর্যায়ে মেনে নেয়। তাদের বিবাহ হয়েছে নাকি পুনরায় বিবাহ দিতে হবে?
২৮ আগস্ট, ২০২৬
কুষ্টিয়া
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় প্রশ্নকারী!
বিবাহ একটি মহৎ ইবাদত। এটা নিছক সামাজিক কোনো রীতিনীতি নয়। নয় কোনো ছেলে খেলাও। যেখানে আমরা জীবনের নূন্যতম বিষয়েও পরিবারের সাথে আলোচনা করে থাকে সেখানে বিবাহের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ, গুরুগম্ভীর ও দূরদৃষ্টি সম্পৃক্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে কিভাবে পরিবারকে না জানিয়ে করার চিন্তা করি বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।
পরিবারের মুরুব্বিদের না জানিয়ে/পালিয়ে বিয়ে করা শরীয়তের নীতি-আদর্শের সম্পূর্ণ খেলাফ। কেননা এখানে আবেগের চেয়ে বাস্তবতা, অভিজ্ঞতা এবং বর-কনের কাফায়াত (বিবাহ প্রত্যাশীদের সমতা) এর পরিমাণ বেশী। এগুলোতে একটি ভুল সিদ্ধান্ত জীবন থেকে ‘‘জীবন’’কে বের করে দিতে পারে।
আরেকটি বিষয় যা না বললেই নয়। তাহলো আমাদের অভিজ্ঞতায় বলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যারা bf/gf বা এজাতীয় কোনো সম্পর্কে জড়িত পড়ে তাদেরই এজাতীয় বিষয়ের সম্মুখীন হতে হয়। অথচ নারীপুরুষের বিবাহপূর্ব যেকোনো সম্পর্ককে শরীয়ত কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। একারণেই পর্দার বিধান দিয়েছে। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, মানুষ হারাম সম্পর্ককে ভালোবাসার ছদ্মাবরণে আপন করে নিয়েছে। এর ফলে যেমনিভাবে ধ্বংস হচ্ছে ব্যক্তিজীবন তেমনি পরিবার, সমাজ ধ্বংস হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে হারাম সম্পর্কের সূচনার মধ্য দিয়ে আসা (যদিও বিয়ে করে বৈধ পদ্ধতিতেই সন্তান গ্রহন করা হয়) আমাদের কোমলমতি সন্তানগুলোও। বাবা মায়ের অবৈধ সম্পর্কে কুপ্রভাব থেকে সন্তানরাও মুক্ত থাকে না। আল্লাহ তায়ালা আমাদের হেফাজত করুন। এর ভয়াবহা উপলব্ধি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহের মৌলিক শর্ত হলো,
(১) ইজাব কবুল (একপক্ষের প্রস্তাব আরেকপক্ষের গ্রহন) বলা।
(২) দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষীর সম্মুখে বিবাহ সম্পন্ন হওয়া এবং উভয়ে একসাথে ইজাব কবুল শ্রবণ করা। উপরোক্ত দুই শর্ত ছাড়া বিবাহ হবে না।
আপনার বর্ণনা থেকে বুঝা যায় ওপরোক্ত অনুষ্ঠানে বরকনে ছাড়াও আরো দুইজন (এক বন্ধু এবং কাজী) উপস্থিত ছিলেন। যদি তাই হয় তাহলে তাহলে উক্ত বিবাহ সহিহ হয়ে গেছে। বিবাহ নবায়ন করার প্রয়োজন নেই।
فى الدر المختار- ( و ) شرط ( حضور ) شاهدين ( حرين ) أو حر وحرتين ( مكلفين سامعين قولهما معا ) (الدر المختار ، كتاب النكاح،-3/9)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১