সরকারি খরচে হজ করার শরয়ী বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৬৬৩৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রতিবছর ফ্রিতে কিছু লোককে হজ করানো হয় এর হুকুম কি?
২৮ আগস্ট, ২০২৬
Bhulta Hwy
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
বাংলাদেশ সরকার বা যেকোনো সরকার যদি বৈধভাবে অর্জিত ও শরিয়তসম্মত অর্থ থেকে কোনো ব্যক্তিকে বিনামূল্যে হজের খরচ প্রদান করে, তাহলে সেই অর্থ গ্রহণ করে হজ করা জায়েজ। এভাবে আদায় করা হজ সহীহ হবে এবং ফরজ হজের শর্ত পূরণ হলে তা হজ্জাতুল ইসলাম হিসেবেই আদায় হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে স্থায়ী ফতোয়া কমিটিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:
السؤال الثالث من الفتوى رقم (6593)
س3: ما الحكم فيمن يحج من نفقات الحاكم؟ بمعنى: إذا أراد حاكم من الحكام بأن يعطي رعاياه مبلغا من المال وقال لهم: حجوا بهذا المال، فهل يجوز لهم بأن يحجوا به أم لا؟ وإذا حجوا به فهل تسقط عنهم حجة الإسلام؟ مع ذكر الدليل لما تقولون.
ج3: يجوز لهم ذلك، وحجهم صحيح؛ لعموم الأدلة.
অর্থ: কোনো শাসক যদি তার প্রজাদের কিছু অর্থ দিয়ে বলেন, তোমরা এ অর্থ দিয়ে হজ করো—তাহলে তাদের জন্য এ অর্থ দিয়ে হজ করা জায়েজ। আর এভাবে তাদের হজও সহীহ হবে; কারণ এ ব্যাপারে সাধারণ দলিলসমূহ প্রযোজ্য।
[ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ফতোয়া নং: ৬৫৯৩, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ৩৬]
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا
অর্থ: মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য এ ঘরের হজ করা ফরজ, যে সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে।
[সূরা আলে ইমরান: ৯৭]
হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় আছে,
الْفَقِيرُ إذَا حَجَّ مَاشِيًا ثُمَّ أَيْسَرَ لَا حَجَّ عَلَيْهِ هَكَذَا فِي فَتَاوَى قَاضِي خَانْ.
অর্থ: কোনো দরিদ্র ব্যক্তি যদি পায়ে হেঁটে হজ করে, এরপর সে ধনী হয়ে যায়, তাহলে তার ওপর পুনরায় হজ ফরজ হবে না।
[আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, ১/২১৭]
এ থেকে বোঝা যায়, হজের সময় নিজের কাছে সম্পদ না থাকলেও যদি কোনোভাবে শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে হজ আদায় করা হয়, তাহলে সে হজ সহীহ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে সামর্থ্যবান হলেও সাধারণভাবে পুনরায় ফরজ হজ আদায় করতে হয় না।
অতএব, সরকার বা অন্য কোনো ব্যক্তি বৈধভাবে হজের খরচ বহন করলে, সেই অর্থ দিয়ে হজ করা জায়েজ এবং হজও সহীহ হবে।
তবে সরকারি সুযোগ পাওয়ার জন্য মিথ্যা তথ্য দেওয়া, ঘুষ দেওয়া, অবৈধ প্রভাব খাটানো বা অন্যের প্রাপ্য অধিকার নষ্ট করা জায়েজ নয়।
সারকথা: বৈধ অর্থ ও বৈধ সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে বিনামূল্যে হজে গেলে তা জায়েজ, হজ সহীহ এবং ফরজ হজ হিসেবে আদায় হয়ে যাবে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী আবু সাঈদ
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১