প্রতিবন্ধী সন্তানকে বিশেষ প্রয়োজনের কারণে অতিরিক্ত সম্পদ দেওয়ার বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৫১৯৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমরা ৪ ভাই ১ বোন।আমি সবার ছোট। আমি শারীরিক পতিবন্ধি।এজন্য আমার বাবা আমাকে ৩২ শতাংশ জমি দেয়,তাছাড়া আমি তাদের আনুগত্য করি। বাকি ৩ ভাই আমাকে জমি দেয়ার জন্য আমার বাবা-মাকে কোন ভরনপোষণ এর টাকা দেয় না এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে।আমাকে যে জমি দিছে এতে কি আব্বার গুনাহ হবে
১৮ আগস্ট, ২০২৬
ফরিদপুর
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
উত্তর :
সন্তানরা মা-বাবার জীবদ্দশায় তাঁদের সম্পদের উত্তরাধিকারী বা হকদার হয় না। মা-বাবা তাঁদের মালিকানাধীন সম্পদ জীবদ্দশায় যে কোনো বৈধ কাজে ব্যয়, দান-সদকা বা হস্তান্তর করার পূর্ণ অধিকার রাখেন। অনুরূপভাবে, কোনো সন্তানের বিশেষ প্রয়োজন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, অন্যদের তুলনায় মা বাবার প্রতি বেশি আনুগত্য প্রদর্শন, তাদের দেখভাল করা বা অন্য কোনো বাস্তবিক কারণ বিবেচনায় তাকে অন্য সন্তানদের তুলনায় বেশি সম্পদ দেওয়াও বৈধ। তবে অন্য সন্তানদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ক্ষতি করার উদ্দেশ্য না থাকতে হবে।
সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বিবেচনায় আপনার বাবা আপনাকে ৩২ শতাংশ জমি দিয়ে থাকলে, এতে তাঁর কোনো গুনাহ হবে না। বরং আপনার প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এ ধরনের ব্যবস্থা করা যুক্তিসঙ্গত।
অতএব, এ জমি দেওয়ার কারণে অন্য ভাইদের পক্ষ থেকে মা-বাবাকে বাধা দেওয়া, ভরণপোষণ বন্ধ করে দেওয়া কিংবা তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। বিশেষত মা-বাবাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও গুরুতর গুনাহের কাজ। তাঁদের কোনো সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলেও সন্তানের জন্য মা-বাবার প্রতি সম্মান, সদাচরণ ও প্রয়োজনীয় ভরণপোষণ বজায় রাখা অপরিহার্য।
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
وَقَضٰی رَبُّکَ اَلَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّاۤ اِیَّاہُ وَبِالۡوَالِدَیۡنِ اِحۡسَانًا ؕ اِمَّا یَبۡلُغَنَّ عِنۡدَکَ الۡکِبَرَ اَحَدُہُمَاۤ اَوۡ کِلٰہُمَا فَلَا تَقُلۡ لَّہُمَاۤ اُفٍّ وَّلَا تَنۡہَرۡہُمَا وَقُلۡ لَّہُمَا قَوۡلًا کَرِیۡمًا
وَاخۡفِضۡ لَہُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحۡمَۃِ وَقُلۡ رَّبِّ ارۡحَمۡہُمَا کَمَا رَبَّیٰنِیۡ صَغِیۡرًا ؕ
তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না, পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো, পিতা-মাতার কোনও একজন কিংবা উভয়ে যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে উফ্ পর্যন্ত বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো।
এবং তাদের প্রতি মমতাপূর্ণ আচরণের সাথে তাদের সামনে নিজেকে বিনয়াবনত করো এবং দু‘আ করো, হে আমার প্রতিপালক! তারা যেভাবে আমার শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছে, তেমনি আপনিও তাদের প্রতি রহমতের আচরণ করুন।
-সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত ২৩-২৪
** حاشية ابن عابدين = رد المحتار (5/ 696):
«وفي الخانية لا بأس بتفضيل بعض الأولاد في المحبة لأنها عمل القلب، وكذا في العطايا إن لم يقصد به الإضرار، وإن قصده فسوى بينهم يعطي البنت كالابن عند الثاني وعليه الفتوى ولو وهب في صحته كل المال للولد جاز وأثم»
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুহাম্মাদ আশরাফুল আলম
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১