তালাকের ভয় দেখিয়ে স্ত্রীকে শাসন নয়
প্রশ্নঃ ১৬৫১৮২. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার সামী আমাকে সবসময় তালাক দেওয়া ও ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখায় তার জন্য একটা পরামর্শ দিন।
১৮ আগস্ট, ২০২৬
ঢাকা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
তালাক শরীয়তের একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। যদিও প্রয়োজনের ক্ষেত্রে তালাক বৈধ, তবুও অপ্রয়োজনে তালাক দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। হাদীসে এসেছে, “আল্লাহর নিকট হালাল বিষয়সমূহের মধ্যে তালাকের চেয়ে অধিক ঘৃণিত কোনো বিষয় নেই।
এ মর্মে একটি প্রসিদ্ধ হাদীস বর্ণিত হয়েছে,
أَبْغَضُ الْحَلَالِ إِلَى اللَّهِ الطَّلَاقُ
“আল্লাহর কাছে হালাল কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম হালাল হলো তালাক।” (সুনানে আবূ দাউদ, ২১৭৮)
* তাই স্ত্রীকে ভয় দেখানো, রাগের সময় ধমক দেওয়া, দুষ্টুমি করা কিংবা নিজের কথা মানানোর জন্য বারবার তালাকের ভয় বা ধমক দেওয়া যেমন, “তালাক দিয়ে দেব”, “তোমাকে ছেড়ে দেব” এ ধরনের কথা বলা একজন সচেতন ও দায়িত্বশীল স্বামীর জন্য অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। দাম্পত্য জীবনে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তালাকের ভয় না দেখিয়ে ধৈর্য, ভালোবাসা, পারস্পরিক আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টা করা উচিত।
* রাসূলুল্লাহ ﷺ তালাকের ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা প্রদান করে বলেছেন,
ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ، وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: النِّكَاحُ، وَالطَّلَاقُ، وَالرَّجْعَةُ
“তিনটি বিষয় এমন যেগুলো গুরুত্বসহকারে বললেও কার্যকর হয় এবং ঠাট্টা করে বললেও কার্যকর হয়: বিবাহ, তালাক ও রুজু।” (সুনানে আবূ দাউদ, ২১৯৪)
অতএব, তালাকের শব্দ নিয়ে মশকরা, দুষ্টুমি বা ভয় দেখানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। স্বামীর উচিত রাগের সময়ও নিজের মুখকে সংযত রাখা এবং তালাকের শব্দ উচ্চারণের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকা।
* আল্লাহ তায়ালা স্বামীদের উদ্দেশে বলেন,
وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
“তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে উত্তমভাবে জীবনযাপন করো।” (সূরা আন-নিসা, ১৯)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي
“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম। আর আমি আমার স্ত্রীদের জন্য খুবই উত্তম।” (জামে‘ তিরমিযী, ৩৮৯৫)
* সুতরাং স্ত্রীকে শাসন করার নামে তাকে বারবার তালাকের ভয় দেখানো, অপমান করা বা মানসিক কষ্ট দেওয়া যাবে না।
* তাই স্বামীর প্রতি বিশেষ পরামর্শ হলো: স্ত্রীকে নিজের কথা মানানোর জন্য কখনো তালাককে ভয় দেখানোর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবেন না। রাগের সময় নিজেকে সংযত রাখুন, নীরব থাকুন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করুন। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তালাকের হুমকি না দিয়ে দুজন মিলে আলোচনা, পরামর্শ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করুন।
* তালাকের কোনো শব্দ মুখ থেকে বের হয়ে গেলে বিষয়টি হালকা করে দেখা যাবে না। কারণ স্পষ্ট তালাকের শব্দ উচ্চারণের পর “আমি তো শুধু ভয় দেখানোর জন্য বলেছি” এ কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। আর কিনায়া বা ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ হলে নিয়ত ও পরিস্থিতির ওপর শরয়ি হুকুম নির্ভর করবে। তাই এমন কোনো শব্দ উচ্চারিত হলে ঠিক কী শব্দ, কতবার এবং কোন পরিস্থিতিতে বলা হয়েছে তা হুবহু জানিয়ে নির্ভরযোগ্য ফাতাওয়া বিভাগ বা মুফতী সাহেবের কাছ থেকে মাসআলা জেনে নিতে হবে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ
“যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে, সে নিজের ওপরই জুলুম করে।” (সূরা আত-তালাক, ১)
এই আয়াত আমাদের জন্য তালাকের বিধানকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গ্রহণ করার শিক্ষা দেয়। তাই স্বামীর উচিত রাগের সময় নিজেকে সংযত রাখা এবং স্ত্রীকে শাসন বা নিজের কথা মানানোর জন্য কখনো তালাককে ভয় দেখানোর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করা।
* স্ত্রীর প্রতি পরামর্শ হলো: স্বামী বারবার তালাকের ভয় দেখালে রাগের প্রতিক্রিয়ায় ঝগড়া বা পাল্টা কঠোর কথা না বলে শান্ত থাকুন। স্বামীর সঙ্গে সুযোগ বুঝে সুন্দরভাবে কথা বলে বোঝান যে, এ ধরনের কথা আপনাকে কষ্ট ও আতঙ্কের মধ্যে ফেলে। দাম্পত্য জীবনের সমস্যা হলে দুজন মিলে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করুন। প্রয়োজন হলে উভয় পরিবারের বিশ্বস্ত ও বিচক্ষণ ব্যক্তি বা নির্ভরযোগ্য আলেমের মাধ্যমে মীমাংসা করুন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
আব্দুল কাইয়ুম
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১