কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক (Cashback) এর শরয়ী বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৫১৫৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আপনাদের মাসালা পড়ে জানতে পাড়লাম, ক্যাশব্যাক হালাল কিন্তু আমি বড় একজন আলেমের কাছে ক্যাশব্যাক সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম, সে বল্ল এটা সুদ, সুতরাং এটা হারাম। আমার মনে হচ্ছে সে ঠিক বলেছে।কারন অফার হলে প্রথমেই বলে দিত ৬০০ টাকার পন্য অফারের কারনে ৫০০ টাকা।সেটা না করে তারা ৬০০ টাকা নিয়ে, পরবর্তীতে ১০০ ফেরত দেয় এটা আমার কাছে ভালো মনে হয়নি।পন্য কিনে টাকা পরিশোধের পরে কিছু টাকা ফেরত দেওয়ার, এমন কোন হাদিস থেকে থাকলে, দয়া করে জানাবেন।না হয় দয়া করে এর ব্যাখ্যা দেবেন।
১৮ আগস্ট, ২০২৬
ঢাকা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সুদ হলো, কাউকে ঋণ দিয়ে তার কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা বা অন্য কোনো পার্থিব ফায়দা গ্রহণ করা।
কিন্তু বিক্রেতা যদি নিজে কোনো শর্ত ছাড়া ক্রেতাকে পণ্য ক্রয়ের পর ক্যাশব্যাক (Cashback) বা অন্য কোনো উপহার দেয়, তবে তা কোনোভাবেই সুদ হবে না। কারণ ক্রেতা বিক্রেতাকে কোনো ঋণ দেয়নি; বরং সে পণ্যের মূল্যের বিনিময়ে তার কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি বুঝে পেয়েছে। সুতরাং, বিক্রেতা যে ক্যাশব্যাক বা অন্য কোনো অফার দিচ্ছে, তা কেবলই হাদীয়া বা মূল্যছাড় হিসেবে গণ্য হবে, কোনো ঋণের অতিরিক্ত মুনাফা/সুদ হিসেবে নয়।
আর ক্যাশব্যাক দ্বারা যদি উদ্দেশ্য হয়, ব্যাংক, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং (যেমন: বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) ব্যবহারের কারণে ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত ক্যাশব্যাক/অফারসমূহ, তবে এর ফিকহী হুকুম হলো:
যদিও এ ধরনের ক্যাশব্যাকের ব্যাপারে সমসাময়িক ওলামায়ে কেরামের মধ্যে একাধিক মতামত রয়েছে, তবে আমাদের কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী মত হলো, এ জাতীয় ক্যাশব্যাক বৈধ। কেননা, ব্যাংক বা ওয়ালেট কর্তৃপক্ষ কোনো ঋণের অতিরিক্ত মুনাফা হিসেবে এই ক্যাশব্যাক দিচ্ছে না; বরং এটি তাদের নিজস্ব 'মার্কেটিং কৌশল'। তারা নিজেদের কার্ড বা সার্ভিস ব্যবহার বাড়াতে জনগণকে উৎসাহিত করার জন্য এ জাতীয় অফার দিয়ে থাকে।
অনেকে এখানে প্রশ্ন তুলতে পারেন যে, গ্রাহক ব্যাংকে যে টাকা জমা রাখে, ফিকহের বিচারে তা তো ব্যাংককে দেওয়া ঋণ (করজ)। তাহলে সেই ঋণের সুবাদেই কি এ অফার পাওয়া যাচ্ছে না?
এর জবাবে দুটি মূল পয়েন্ট বিবেচনাযোগ্য:
১. শরীয়তের মূলনীতি হলো, সুদ তখনই হয়, যখন ঋণ দেওয়ার চুক্তির সময়ই পূর্বশর্ত থাকে যে ঋণ পরিশোধের সময় বা ঋণের মেয়াদে অতিরিক্ত কিছু দিতেই হবে। কিন্তু কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া ঋণ পরিশোধের সময় যদি ঋণগ্রহীতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেশি দেয়, তবে তা ফিকহের বিচারে 'সুদ' নয়; বরং তা একটি মুস্তাহাব ও প্রশংসনীয় কাজ। ফিকহের ভাষায় একে ‘হুসনে ক্বদ্বা’ (حُسْنُ الْقَضَاءِ - সুন্দরভাবে ঋণ শোধ) বলা হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহ ও অভ্যাস এমনই ছিল।
হাদীসে এসেছে:
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَوَّاسٍ الْحَنَفِيُّ أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ الأَشْجَعِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: كَانَ لِي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم دَيْنٌ فَقَضَانِي وَزَادَنِي، وَدَخَلْتُ عَلَيْهِ الْمَسْجِدَ فَقَالَ لِي: «صَلِّ رَكْعَتَيْنِ».
অর্থ: জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আমার কিছু পাওনা (ঋণ) ছিল। তিনি আমার সেই ঋণ পরিশোধ করলেন এবং আমাকে পাওনার চেয়ে কিছু বেশিও দিলেন। আমি মসজিদে তাঁর কাছে প্রবেশ করলে তিনি আমাকে বললেন, "তুমি দুই রাকাত সালাত আদায় করে নাও।"
(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৭১৫)
হাদীসের লিংক:https://muslimbangla.com/hadith/8579
বুখারী শরীফের হাদীসের লিংক : https://muslimbangla.com/hadith/2246
এখানে লক্ষণীয় যে, ব্যাংকে টাকা রাখার চুক্তিতে নির্দিষ্ট কোনো ক্যাশব্যাক পাওয়ার আইনগত অধিকার বা শর্ত থাকে না। সারা বছরে যদি ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষ একটি ক্যাশব্যাক অফারও না দেয়, তবে কোনো গ্রাহক তা দাবি করার আইনি অধিকার রাখে না।
২. এই ক্যাশব্যাক ব্যাংকে মূল আমানত বা ঋণ জমা রাখার সাথে সরাসরি সম্পর্কিতই নয়। কারণ, লেনদেনের ঠিক আগমুহূর্তে কেউ যদি ক্যাশব্যাক অফার দেখে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকিয়ে সাথে সাথে পেমেন্ট করে দেয়, যার ফলে ব্যাংক সেই টাকা দিয়ে কোনো ব্যবসায়িক সুবিধা বা ঋণের সুযোগ নেওয়ার সময়ই পায়নি, তা সত্ত্বেও গ্রাহক ক্যাশব্যাক পেয়ে যায়। এ থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, এই অফারের মূল উদ্দেশ্য কেবল তাদের ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেল ব্যবহার করার উৎসাহপ্রাদানের জন্য প্রণোদনা দেওয়া।
অতএব, এটিকে সুদের অন্তর্ভুক্ত করা সঠিক নয়।
ঋণদানের সম্পর্কের বাইরে স্বাভাবিক সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরে দেওয়া উপহার বা সেবামূলক উপকার যা ঋণ না দিলেও দেওয়া হতো, তা গ্রহণ করা শরীয়তে বৈধ।
তথ্যসূত্র:
الجوائز على شراء المنتجات : وإن النوع الأول من هذه الجوائز ما يدعو إلى أساس القرعة ونحوها لم بضاعة مخصوصة أو منتج مخصوص وكثير من المؤسسة الإعلانية عن جوائز يوزعونها على أفضل اختيارة من المبدعين المبدعين بضاعتهم وإختيار المجازين إما عن طريق القرعة أو على أساس أرقام الكوبونات التي تعمل مع البضاعة فمن الرائع بمضاعفة حصل على كوبون فلو وافق رقم كوبونه الرقم للجائزة استحق أن يحوز التعاريف المتخصصة الرقم وإن حكم مثل هذه الجوائز أنها تجوز بشروط…وجميع المساهمين الذين يعتقدون من قبل التعاون مع العملاء على أساس عدد معين من التعاملات مثل الجوائز التي تمنحها شركات الخطوط الجوية (خطوط الطيران) والفنادق الكبيرة على أساس النقاط التي يتم احتسابها في حساب العميل وأخيراً استكمال هذه النقاط إلى عدد معين استحق العميل جائزة معلومة
بحوث في قضايا فقهية معاصرة ج2/ص158
الجوائزُ على بطاقاتٍ الانتمانِ
وهناك نوع آخر من الجوائز، تعطى على استخدام بطاقات الائتمان، والعادة في هذه البطاقات أن حاملها يحصل على نقاط عند كل استخدام له لتلك البطاقة عند شراء بضاعة أو خدمة، وإن هذه النّقاط تُدَّخر في حسابه عند مُصدر البطاقة ؛ فكلَّما بلغت النِّقاط حدّاً معيناً، استحقَّ حامل البطاقة جائزة من قبل المُصدر.
وحكم هذه الجوائز موقوف على معرفة علاقة مصدر البطاقة مع حاملها.
وإن حقيقة هذه العلاقة: أن مُصدر البطاقة يقبل حوالة دَين حامل البطاقة، لصالح التَّاجر الذي يقبل البطاقة؛ فحامل البطاقة محيل والتاجر محتال، والمُصدر محتال عليه، وعلى أساس هذه الحوالة يسدِّد المصدر دَين حامل البطاقة إلى التَّاجر، ثمَّ يرجع على حامل البطاقة.
وعلى هذا، فإن مُصدر البطاقة لا يعدُو تجاه حامل البطاقة من أن يكون محتالاً عليه أوَّلاً، ثمّ مقرضاً له عندما يسدّد دينه إلى التَّاجر، فالجائزة التي يقدمها مصدر البطاقة إلى حاملها هي جائزة من قبل المُقرض إلى المستقرض، فهو تبرُّع محض، لا قمار فيه ولا رباً : أما القمار، فلأن حامل البطاقة لم يعلّق شيئاً من ماله على خطر .
.وأما الرّبا، فإنَّه يتحقق بإعطاء زيادة من المستقرض إلى المقرض، وليس في العكس، فلو أعطى مقرض شيئاً للمستقرض، علاوة على القرض، فإنه تبرع محض لا يلزم منه الرِّبا .
بحوث في قضايا فقهية معاصرة ج2/ص164
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী আবু সাঈদ
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১