তালাকের পর “ইনশাআল্লাহ” বলার সময়সীমা ও এর প্রভাব
প্রশ্নঃ ১৬৫০৯৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, মাননীয় মুফতি সাহেব আমার একটি প্রশ্ন হল যদি কেউ তার স্ত্রীকে শুনিয়ে তিন তালাক দেয়।এরপর স্ত্রীকে না শুনিয়ে নিজে নিজে ইনশাআল্লাহ বলে তাহলে কি স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত হইবে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায়, “আমি আমার স্ত্রীকে তিন তালাক দিলাম” এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে যদি “ইনশাআল্লাহ” উচ্চারণ করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি এভাবে বুঝতে হবে:
“ইনশাআল্লাহ”-টা যদি উচ্চারণ করে একটু জোরে বলেন—অন্তত নিজে এবং একেবারে আশপাশের লোক শুনতে পায়—এতটুকু জোরেও যদি বলে থাকেন, তাহলে “ইনশাআল্লাহ” কার্যকর হবে। এবং তালাক পতিত হবে না। তবে সেটাও তালাক বলার সঙ্গে সঙ্গেই বলতে হবে; মাঝখানে থেমে বা সামান্য বিরতি দিয়ে পরে “ইনশাআল্লাহ” বললে "ইনশাআল্লাহ" কার্যকর হবে না। অর্থাৎ তালাক হয়ে যাবে।
কিন্তু তালাকের বাক্য বলার পর মাঝখানে থেমে বা সামান্য বিরতি দিয়ে “ইনশাআল্লাহ” বললে, কিংবা শুধু মনে মনে “ইনশাআল্লাহ” বললে, তা কার্যকর হবে না। সেক্ষেত্রে স্ত্রীর ওপর তিন তালাকই পতিত হয়ে যাবে, এবং তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে এবং হুরমতে মুগাল্লাযার কারণে ওই স্ত্রী তার জন্য হারাম হয়ে যাবে।
(الدر المختار مع رد المحتار:3/366)
(قال لها: أنت طالق إن شاء الله متصلا) إلا لتنفس أو سعال أو جشاء أو عطاس أو ثقل لسان أو إمساك فم أو فاصل مفيد؛ لتأكيد أو تكميل أو حد أو طلاق، أو نداء كأنت طالق يا زانية أو يا طالق إن شاء الله صح الاستثناء، بزازية وخانية.
(الدر مع الرد: كتاب الطلاق، مطلب في المسائل التي تصح مع الإكراه، ٢٣٦/٣، ط:سعيد)
"(ويقع طلاق كل زوج بالغ عاقل) ولو تقديرا بدائع، ليدخل السكران (ولو عبدا أو مكرها) فإن طلاقه صحيح لا إقراره بالطلاق.وفي البحر أن المراد الإكراه على التلفظ بالطلاق."
(النتف فی الفتاوی للسغدی: كتاب العدة، ٣٥٢/١، ط:مؤسسة الرسالة)
"ولو استثنى فأخفى حتى لم تسمع اذناه فانه ليس باستثناء عند الفقهاء وتطلق امرأته."
(فتاوی عالمگیری: كتاب الطلاق، ج:1، ص:454، ط:دار الفكر)
"إذا قال لامرأته: أنت طالق إن شاء الله - تعالى - متصلا به لم يقع الطلاق."
(فتح القدیر :4/136)
(وإذا قال لامرأته: أنت طالق إن شاء الله إلخ) :وكذا إذا قال: إن لم يشأ الله أو ما شاء الله أو فيما شاء الله أو إلا أن يشاء الله أو إن شاء الجن أو الحائط، وكل من لم يوقف له على مشيئة لم يقع إذا كان متصلا، فلا يفتقر إلى النية.
(البحرالرائق:4/39)
( ولا في أنت طالق إن شاء الله متصلا، وإن ماتت قبل قوله إن شاء الله) أي لا يقع الطلاق لحديث رواه الترمذي، وحسنه مرفوعا: (من حلف على يمين، وقال إن شاء الله لم يحنث.)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
রেফারেন্স উত্তর :
প্রশ্নঃ ৮৬১২. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, নিজের স্ত্রী কে কোনো ব্যাক্তি তালাক দিয়ে বিদায় করে দিল আবার যদি আনতে চান শরিয়াতে নিয়ম কি হবে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
তালাকের কয়েকটি ধরন ও কয়েকটি পর্যায় রয়েছে।
আপনার এই প্রশ্নের উত্তর এককথায় দেয়া সম্ভব নয়।
নিম্নে আমরা তিনটি পর্যায়ে মাসআলা উল্লেখ করছি। আলোচনাগুলো ভালোভাবে পড়ে আপনার প্রশ্নের উত্তর বের করে নিন।
১. নিজের স্ত্রীকে এক طلاق رجعي তালাক রিজঈ দিয়ে থাকে, তাহলে ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে। বিবাহ নবায়ন লাগবে না।
ইদ্দত অতিবাহিত হয়ে গেলে বিবাহ নবায়ন লাগবে।
২. স্ত্রীকে এক অথবা দুই তালাক দিল (তিন তালাক দেয়নি)। তাহলে স্ত্রীকে নতুন মোহর দিয়ে পুনরায় বিবাহ করতে পারবে।
৩. স্ত্রীকে মৌখিক অথবা লিখিতভাবে, একসঙ্গে অথবা ভিন্ন ভিন্নভাবে তিন তালাক দিলে এই স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। স্ত্রী তিন তালাকের ইদ্দত শেষ করার পর অন্যত্র বিবাহ করে নিলে, দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হওয়ার পর ঐ স্বামী তালাক দিলে অথবা মারা গেলে তার ইদ্দত শেষ হওয়ার পর ইচ্ছে করলে পূর্বের স্বামীর সঙ্গে পুনরায় নতুন মোহর ধার্য করে বিবাহ করতে পারবে। এ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো বিকল্প পথ নেই।
فَاِنۡ طَلَّقَہَا فَلَا تَحِلُّ لَہٗ مِنۡۢ بَعۡدُ حَتّٰی تَنۡکِحَ زَوۡجًا غَیۡرَہٗ ؕ فَاِنۡ طَلَّقَہَا فَلَا جُنَاحَ عَلَیۡہِمَاۤ اَنۡ یَّتَرَاجَعَاۤ اِنۡ ظَنَّاۤ اَنۡ یُّقِیۡمَا حُدُوۡدَ اللّٰہِ ؕ وَتِلۡکَ حُدُوۡدُ اللّٰہِ یُبَیِّنُہَا لِقَوۡمٍ یَّعۡلَمُوۡنَ
অতঃপর সে (স্বামী) যদি (তৃতীয়) তালাক দিয়ে দেয় তবে সে (তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী) তার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য কোনও স্বামীকে বিবাহ করবে। অতঃপর যদি সে (দ্বিতীয় স্বামী) তাকে তালাক দিয়ে দেয়, তবে তাদের জন্য এতে কোন গুনাহ নেই যে, তারা (নতুন বিবাহের মাধ্যমে) পুনরায় একে অন্যের কাছে ফিরে আসবে শর্ত হল, তাদের প্রবল ধারণা থাকতে হবে যে, (এবার) তারা আল্লাহর সীমা কায়েম রাখতে পারবে। এসব আল্লাহর স্থিরীকৃত সীমা, যা তিনি জ্ঞানবান লােকদের জন্য স্পষ্টরূপে বর্ণনা করছেন।
—আল বাকারা - ২৩০
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন