বর্তমানে মুনাফিকের অর্থ
প্রশ্নঃ ১৬৩৭৯৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, হাদিস আছে যে ব্যক্তি ফজর, এশা জামাতে নামাজ আদায় করে সে মোনাফেকি থেকে মুক্ত, নবীজি আমলে মোনাফেক তাদেরকে বলাহতো, যারা মুখে ইসলাম গ্রহণ করেছিল কিন্তু বাস্তবেনা, বর্তমানে আমরা যারা ফজর নামাজ জামাতে পড়তে পারিনা তারা কোন পর্যায়ের মুনাফিক তারা কি হাদিস মোতাবেক মুনাফিক বলে গণ্য হবে নাকি অন্যকোন ব্যাখ্যা
৭ আগস্ট, ২০২৬
Dhaka ১২১২
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
নিফাক বা কপটতা দুই প্রকার :
(১) বিশ্বাসগত নেফাক বা নিফাকে ইতিকাদী: মুখে ঈমানের কথা বলা কিন্তু অন্তরে কুফর (অবিশ্বাস) গোপন রাখা। এরা চিরস্থায়ী জাহান্নামী (নিসা ৪/১৪০, ১৪৫)।
(২) কর্মগত নিফাক (বা নিফাকে আমালি) : কর্মগত বলতে এমন কপটতাকে বোঝায় যেখানে একজন ব্যক্তির অন্তরে ঈমান বা বিশ্বাস ঠিক থাকা সত্ত্বেও তার বাহ্যিক আচরণ বা কাজ মুনাফিকদের মতো হয় এটি 'ছোট নিফাক' (নিফাকে আসগর) হিসেবেও পরিচিত ।
নিম্নে উল্লেখ্য হাদিস এবং তার ব্যাখাটি দেখুন। তাহলে বোধগম্য হবে ইনশাআল্লাহ।
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ( «آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌ» . زَادَ مُسْلِمٌ: «وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ» . ثُمَّ اتَّفَقَا: «إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا اؤتمن خَان»
৫৫। হযরত আবু হুরায়রাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি। ইমাম মুস্লিম বাড়িয়ে বলেছেন, যদিও সে রোযা রাখে, নামায পড়ে এবং ধারণা করে যে, সে মুসলমান। তারপর বর্ণনায় ইমাম বোখারী ও মুসলিম এক, ১। যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, ২। যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে, ৩। যখন কোন আমানত (কথা বা জিনিস) তার কাছে রাখা হয়, সে খেয়ানত করে।
অপর এক হাদীছে আছে, মুনাফিকের আলামত চারটি। ইরশাদ হয়েছে أربع من كن فيه كان منافقا خالصا، ومن كانت فيه خصلة منهن كانت فيه خصلة من النفاق حتى يدعها : إذا اؤتمن خان، وإذا حدث كذب، وإذا عاهد غدر، وإذا خاصم فجر ‘চারটি বিষয় যে ব্যক্তির মধ্যে থাকবে সে একজন খাঁটি মুনাফিক সাব্যস্ত হবে। যার মধ্যে তা থেকে একটি থাকবে তার মধ্যে মুনাফিকীরই একটা খাসলত থাকবে, যাবৎ না সে তা ছেড়ে দেয়। তা হচ্ছে- তার কাছে যখন আমানত রাখা হয় খেয়ানত করে, যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন প্রতিশ্রুতি দেয় তা ভঙ্গ করে আর যখন কলহ বিবাদ করে তখন সীমালঙ্ঘন করে।
মুনাফিকের প্রথম আলামত এ হাদীছে বর্ণিত তিনটি আলামতের প্রথমটি হচ্ছে- إذا حدث كذب (যখন কথা বলে, মিথ্যা বলে)। এর দ্বারা মিথ্যা কথা কত গুরুতর পাপ তা অনুমান করা যায়। কেননা প্রকৃত মুনাফিক হচ্ছে একজন সুবিধাবাদী কাফের। সে অন্তরে তার কুফর ও বেঈমানী গোপন রাখে আর বিভিন্ন স্বার্থ ও সুবিধাভোগের খাতিরে নিজেকে মুসলিম বলে জাহির করে। তার সবচে' বড় মিথ্যাচার হচ্ছে কাফের হয়েও নিজেকে মু'মিন ও মুসলিম বলে প্রকাশ করা। এত বড় বিষয়েও যখন সে মিথ্যা বলতে দ্বিধাবোধ করে না, তখন অন্যান্য ক্ষেত্রে তার মিথ্যা বলাটা তো খুবই স্বাভাবিক। মোটকথা মিথ্যা বলাটা মুনাফিকের স্বভাব। কাজেই একজন মুসলিম ব্যক্তির কোনওক্রমেই মিথ্যা বলা উচিত নয়। যদি কখনও সে মিথ্যা কথা বলে ফেলে, তবে তার নিজ ঈমানের ব্যাপারে চিন্তা করা উচিত যে, তার ঈমান আসলে কোন্ স্তরে আছে।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন এগুলোকে মুনাফিকের আলামত সাব্যস্ত করেছেন, তখন সব যুগের মুনাফিকদের মধ্যেই এগুলো অবশ্যই পাওয়া যাবে। তবে যাদের মধ্যেই এসব চরিত্র দেখা যাবে তাদেরকেই যে মুনাফিক ও বেঈমান সাব্যস্ত করা যাবে, বিষয়টি এমন নয়। কেননা কালপরিক্রমায় মুমিন-মুসলিমদেরও অনেক আখলাকী অধঃপতন ঘটেছে। যেসব খাসলাত কেবল মুনাফিক ও বেঈমানদের মধ্যেই পাওয়া যেত, এখন তার অনেক কিছু মুসলিমদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। যেমন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের যমানায় খাঁটি মুমিনগণ সকলেই জামাতে নামায পড়ত। জামাত ছাড়ত কেবল মুনাফিকগণ। কিন্তু এখন কেবল মুনাফিক নয়; মুমিনদেরও অধিকাংশ লোক জামাতে নামায পড়ছে না। মুনাফিকদের এ আলামতটি এখন মুসলমানদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে । কিন্তু তাই বলে তারাও যে মুনাফিক, এমন নয়। হাদীছে যে কারও মধ্যে এ সবগুলো পাওয়া গেলে তাকে খালেস মুনাফিক বলা হয়েছে তা সেই যমানার কথা। বর্তমানকালে এটা সাধারণভাবে প্রযোজ্য হবে না, যেহেতু মুসলিমগণদের মধ্যেও ব্যাপকভাবে এসব পাওয়া যাচ্ছে। তবে হাঁ, এতে কোনও সন্দেহ নেই যে, যাদের মধ্যে এসব দোষ পাওয়া যাবে তারা মুনাফিক না হলেও পূর্ণাঙ্গ মু'মিনও নয়। তারা ত্রুটিযুক্ত ঈমানওয়ালা। তাই তাদের কর্তব্য পূর্ণাঙ্গ মু'মিন হওয়ার জন্য এসব খাসলাত ছেড়ে দেওয়া এবং এর বিপরীত গুণাবলী তথা আমানত রক্ষা করা, সত্য কথা বলা ও ওয়াদা রক্ষা করার গুণ পরিপূর্ণরূপে অর্জন করা।
মিশকাতুল মাসাবীহ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
হাদীস নংঃ ৫৫
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শফিকুল ইসলাম হাটহাজারী
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
সাম্প্রতিক প্রশ্নোত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১