চাচা শশুর/সৎ শশুরের সঙ্গে পর্দা ও হারাম স্পর্শের বিধান
প্রশ্নঃ ১৭০১২৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার আব্বা ১৯৯৭ সালে মারা যায় আমার আম্মার সাথে আমার আপন চাচার বিবাহ হয় ইদ্দত পুরা হওয়ার পর আমার বয়স ১০ বছরের মত ২০০৯ সালে আমি বিবাহ করি ২০১৩ সালে আমি সফরে ছিলাম। আম্মা গাজিপুর ১ কাঠা জমি আছে বাড়ি নির্মান এর কাজ ধরে ঐখানে যায় বাড়িতে আমার আহলিয়া এবং দুই বোন ছিল আমার।চাচা আমাদের বাজারে দোকান আছে এবং কৃষি কাজ করে এক ঘরে আহলিয়া এবং বোনরা থাকত অন্য ঘরে আমার চাচা থাকত সকালে আমার আহলিয়াকে ডেকে হাত পা টিপাইতো ১ দুই দিন টিপানোর পর একদিন টিপতে ছিল হাত ধরে টান দিয়ে বলে কাছে এসে টিপ লজ্জা কর কেন। তারপর ছাড়েন বলে হাত ছুটাইয়া আমার আহলিয়া এসে পরে। কি মনে করে বলল তা বলা যায়না।কিছু দিন পর বাড়ি আসলে আমাকে আহলিয়া এভাবে বলল। আমি বললাম আর যেন এভাবে খেদমত না করে।তারপর এক মুফতি সাহেবকে বললাম তিনি বলেছেন সমস্যা হবে না কারণ আপনার চাচার মিরাছ বাপের মত আপনি পাবেন না ওইখানে যদি না হয় তাহলে বিবাহ ছুটবে কেন। এখন প্রশ্ন১? কোন সমস্যা হবে কি বিবাহের। ঐ মুফতি সাহেব বলার কারনে অন্যখানে তাহকিক করি নাই লজ্জায় প্রশ্ন ২। চাচার সাথেকি পর্দা করতে হবে আমার আহলিয়ার। আমার আব্বার আপন ছোট ভাই আমি জানছিলাম পর্দা করতে হবে। উওর দিবেন আশাকরি তাড়াতাড়ি মুফতি সাহেবান হুজুর।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
১. হারাম স্পর্শের কারণে বিবাহের বিধান
প্রশ্নোক্ত বিবরণ মোতাবেক, আপনার চাচা আপনার আহলিয়ার সঙ্গে যে আচরণ করেছেন, তা নিঃসন্দেহে মারাত্মক অন্যায় ও হারাম কাজ হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাওবা-ইস্তিগফার করে আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
তবে এ হারাম স্পর্শের কারণে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। আপনাদের বিবাহ যথারীতি বহাল থাকবে। এতে কোনো ধরনের সংশয় বা সন্দেহের কারণ নেই। কারণ, আপনার চাচা আপনার আহলিয়ার মাহরাম নন। আর কোনো গায়রে মাহরাম নারী-পুরুষের মধ্যে হারাম স্পর্শ সংঘটিত হলেও এর দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবাহের সম্পর্ক ছিন্ন হয় না। অতএব, আপনারা স্বাভাবিকভাবে ঘর-সংসার করতে পারবেন।
২. চাচা শশুর/সৎ শশুরের সঙ্গে পর্দার বিধান
আপনার চাচা আপনার আহলিয়ার মাহরাম নন। তিনি আপনার বাবার আপন ভাই বা পরবর্তীতে আপনার মায়ের স্বামী হলেও আপনার আহলিয়ার জন্য তিনি গায়রে মাহরাম। সুতরাং তাঁর সঙ্গে আপনার আহলিয়ার পর্দা করা আবশ্যক। তাঁর সঙ্গে পর্দাহীনভাবে দেখা-সাক্ষাৎ করা, নির্জনে অবস্থান করা কিংবা এ ধরনের খেদমত করা নাজায়েয।
উল্লেখ্য, প্রশ্নোক্ত ঘটনার অন্যতম কারণ ছিল পর্দার যথাযথ ব্যবস্থা না থাকা। এ ক্ষেত্রে পরিবারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষত একজন স্বামীর দায়িত্ব হলো, তার স্ত্রীকে সম্ভাব্য অনৈতিকতা ও অনিরাপদ পরিবেশ থেকে যথাসম্ভব নিরাপদ রাখা। তাই এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার ব্যাপারে তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মোটকথা: এ ঘটনার কারণে আপনাদের বিবাহের কোনো ক্ষতি হয়নি; বিবাহ বহাল রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য আপনার আহলিয়াকে আপনার চাচার সঙ্গে পূর্ণ পর্দা করতে হবে এবং তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের নির্জনতা বা অনুচিত মেলামেশার সুযোগ রাখা যাবে না।
المستندات الشرعية
** وَحَلَٰٓئِلُ أَبۡنَآئِكُمُ ٱلَّذِينَ مِنۡ أَصۡلَٰبِكُمۡ [النساء: 23]
** صحيح البخاري : 5233، صحيح مسلم : 1341
«لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ»
الصنائع في ترتيب الشرائع (2/ 263):
"معنى قوله تعالى: {وأحل لكم ما وراء ذلكم} [النساء: 24] أي: ما وراء ما حرمه الله تعالى... ويجوز الجمع بين امرأة وبنت زوج كان لها من قبل، أو بين امرأة وزوجة كانت لأبيها وهما واحد؛ لأنه لا رحم بينهما فلم يوجد الجمع بين ذواتي رحم."
(فصل أنواع الجمع بين ذوات الأرحام منه جمع في النكاح، ج:2، ص:263، ط:دارالكتب العلمية)
الدرالمختار :
"و ) حرم الجمع ( وطأ بملك يمين بين امرأتين أيتهما فرضت ذكراً لم تحل للأخرى ) أبداً؛ لحديث مسلم: "لاتنكح المرأة على عمتها"، وهو مشهور يصلح مخصصاً للكتاب، فجاز الجمع بين امرأة وبنت زوجها أو امرأة ابنها أو أمة ثم سيدتها؛ لأنه لو فرضت المرأة أو امرأة الابن أو السيدة ذكراً لم يحرم بخلاف عكسه". (39/3 ط: سعید)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন